আমার প্রিয় পোস্ট

সন্তানের সিজার বনাম নর্মাল ডেলিভারী; বাস্তবতার প্রেক্ষিত

১৫ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৪২

শেয়ারঃ
0 0 0


গতকাল ও আজ সকালে আমাদের বাসার পাশে দুই জন মহিলা দু'টি সন্তানের জন্ম দিলেন। দু'টোই খুব সাধারণ পরিবেশে কোন ছুরি কাঁচির সাহায্য ছাড়াই, যাকে বলা হয় নর্মাল ডেলিভারী। মা ও বাচ্চা দুটোই সুস্থ্য আছে।

যে প্রসঙ্গে এই ঘটনার অবতারণা তা হল এদের দুইজনাই নেহায়েৎ দরিদ্র পরিবারের। কনসিভ করা থেকে ডেলিভারী অবধি কোন স্পেশালিস্ট এর শরনাপন্ন হবার সৌভাগ্য হয়নি; কপালে দামী দামী ব্রান্ডের পুষ্টিকর খাবারও জোটেনি; সৌভাগ্য হয়নি দু দন্ড বসে জিরিয়ে নেবার। তাহলে সংসার সামলাবে কে? এর পরেও এদের সন্তান প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই জন্ম নেয়; বড় হয়।

এই দুই মা'য়ের একজনের মা (তাঁকে আমরা ভাবী ডাকি) আবার অন্যের বাড়ীতে কাজ করেন। তাঁকেও দেখেছি, ফি বছর একটা করে সন্তানের জন্ম দিতে। জন্মের সময় বাচ্চাগুলো এতই দুবলা পাতলা হত যে মনে হত এই বুঝি ধরলেই মরে যাবে। কিছুদিন পরে দেখা যায় সেই বাচ্চা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে আর রাস্তার ধুলা ঘাঁটছে। সবাই ভাবি, হায় হায় না জানি কোন রোগে ধরে ! কিন্তু এখন সেই ছেলে গুলো সবাই এক একটা দশাসই শরীরের যুবক। যাদের শক্তির কাছে আমরা কিছুই না।

আমার এই লেখার পেছনের উদ্দেশ্য পরিস্কার।

আমরা যারা মোটামুটি অবস্থা সম্পন্ন হতে বিত্তশীল; তাদের ঘরে সন্তান আগমনের বাতাস বইলেই প্রথম খবর কানে যায় গাইনোকলজিস্টের। তিনি সব টেস্ট করে একটা প্রেসক্রিপশান, একটা ডায়েট চার্ট আর কমপ্লিট বেড রেস্ট এর পরামর্শ দিয়ে কত সাবধানে থাকতে হবে নচেৎ সন্তানের কি কি ক্ষতি হতে পারে তা সবিস্তারে বর্ননা করে সম্ভাব্য দম্পতিকে বিদায় করেন। এর পরের ঘটনা সবাই জানি। নিয়মিত ডাক্তারের কাছে চেকআপ, আল্ট্রাসাউন্ড ইত্যাদি ইত্যাদি। তারপরে আসে সেই মহেন্দ্রক্ষন। সন্তান আসবে দুনিয়ায়। ডাক্তার এবার জানান (প্রায় সব ক্ষেত্রেই) কি ভাবে সিজার করা লাগবে, কত খরচা হবে, স্টিচ না কসমেটিক কোনটা ভাল হবে, নরমাল ডেলিভারী তে সন্তানের কি কি সমস্যা হতে পারে.. সিজারে কি কি সুবিধা আরও কত কি।

এরপর জন্ম নেয় সন্তান। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মের বাত্যায় ঘটিয়ে। এবং তারপর শুরু হয় শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে ধর্ণা দেয়া। তিনি জানান, শিশুর সিজার ডেলিভারী হওয়ার কারণে রেজিস্ট্যান্স পাওয়ার কম বিধায় কোন কোন সমস্যা কত দিন চলতে পারে, কি ভাবে তাকে শীত গ্রীষ্ম, রোদ ধূলো থেকে দূরে রাখতে হবে তার বিস্তারিত উপদেশ। হাঁচি হলে উমুক ঔষধ, কাশি হলে তমূক এ্যান্টিবায়োটিক, দূর্বল বোধ হলে কত সী'জ এর ভিটামিন আর কত বলব।

এই হল দুই ধরনের মায়ের সন্তান জন্মদান ও তাদের মানূষ করবার মাঝে তফাৎ। প্রথমোক্ত সন্তান এত কম পুষ্টি পাওয়া মায়ের গর্ভে জন্ম নিয়েও তার জন্মের স্বাভাবিকতা, বালাই প্রতিরোধের ক্ষমতা আর আমাদের আদরের দুলাল দের রোগে ভুগে কষ্টকর এক শৈশব অতিবাহিত করা।

এর পরে কি একবারের জন্যও মনে হবেনা, আমাদের ডাক্তারেরা আমাদেরকে অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক দিশায় পরিচালিত করেন না। সমস্ত সৃষ্টিকূলের সিজার দরকার পড়েনা, মানব কূলেরও ক'দিন আগেও পড়তনা; তাহলে আজ এই প্রবণতা কেন। কেন শুধু অবস্থাসম্পন্ন ঘরের সন্তান ছুরি কাঁচি দিয়ে কেটে পৃথিবীতে আনতে হবে,মায়েদের নিতে হবে নয় মাসের বেড রেস্ট আর সমস্ত সংসার সামলে, শত কায়িক শ্রম করেও হত দরিদ্র মায়েদের ছুরি কাঁচির নিচে যাওয়ার দরকার হয়না।

আমার এক ডাক্তার বন্ধু একবার বলেছিল," আমাদের দেশের মায়েদের গড় উচ্চতা কম, তাদের গর্ভাশয় তুলনামূলক ছোট, তাই সন্তানের নর্মাল ডেলিভারী কঠিন।" আমি হেসে তাকে বলেছিলাম, আমার মা ছিলেন ৪ ফুট ১০ ইঞ্চি, তিনি তিনটে সন্তান নর্মাল ভাবে জন্ম দিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন একজন ব্যস্ততম ব্যাংকার। বেড রেস্টের সুযোগ হয়নি। আমার নানী আরও খাটো, তিনি আট সন্তানের মা, সব নর্মাল জন্ম। যে দুই মায়ের কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম, আমার বন্ধুর কথার প্রেক্ষিতেই বলি, "তাঁরাও ৫ ফুটের অনেক খাটো।

 

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:০৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৫ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৪৭
বিডি আইডল বলেছেন: অনেকগুলো বিষয় আছে:

১. ডাক্তাররা ৫০-৬০% ক্ষেত্রেই শুধুমাত্র ব্যাবসায়িক কারণে সিজারিয়ানে যায়
২. আমাদের মেয়েরা ছোটবেলা থেকেই (এখনকার সময়ে) বাজে খাদ্যাভাস এবং পরিশ্রম না করে বড় হয়, শারিরীক সক্ষমতা কম থাকে
৩. শেষ প‌্যারায় যে উচ্চতার কথা বলেছেন সেটাও অনেক ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা
৪. বিভিন্ন জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর বহুমূখী ব্যবহার
৫. দেরী করে বাচ্চা নেয়া
১৫ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৫১

লেখক বলেছেন: অবশ্যই ২,৩,৪,৫ নং বিষয়গুলো বড় ফ্যাক্টর তবে ১ নং টাই হয়ত প্রধান।

২. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:১৮
নুশেরা বলেছেন: অনেক ভাবনা কম্পাইল করলেন। বিডি আইডলের পর্যবেক্ষণও ভাল। ভাগ্যকে ধন্যবাদ দিই; ছূরি-কাঁচির খরচ, যন্ত্রণা, আফটার-ইফেক্টস কিছুতেই আমার ভুগতে হয়নি।
১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩৩

লেখক বলেছেন: আপনি অনেক ভাগ্যবান। আপনার সৌজন্যে একটা ইমেজ এ্যাড করলাম লেখায়।

৩. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:১৯
শিবলী বলেছেন: অতিশয় ভাল লিখেছেন।
আপনার সাথে আমি একমত।

আর বিডি আইডলের মত বলব
--২. আমাদের মেয়েরা ছোটবেলা থেকেই (এখনকার সময়ে) বাজে খাদ্যাভাস এবং পরিশ্রম না করে বড় হয়, শারিরীক সক্ষমতা কম থাকে।



১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩৪

লেখক বলেছেন: এ থেকে উত্তরণের পথ কি নেই?

৪. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:২২
বিডি আইডল বলেছেন: ধন্যবাদ নুশেরা আপু। বাইরে আসার পর তো দেখেছি এখানে ডাক্তাররা কি করে। সেদির এক বন্ধুর বাচ্চা হবে। ২ দিন ধরে লেবার পেইন নিয়ে স্ত্রী অপেক্ষায়, ব্যাথার চোটে ডাক্তারের হাত-পায়ে ধরছে সিজারের জন্য...তাও করেনি। ডাক্তাররা বলছিল শুধুমাত্র মা বা সন্তানের ঝুকি দেখলেই আমরা সিজার করবো..পরে স্বাভাবিক ডেলিভারি হয়।
১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩৭

লেখক বলেছেন: আমার লেখার মূল বিষয় কিন্তু সেটাই।

৫. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩১
নুশেরা বলেছেন: @বিডি আইডল-- বিদেশে এর উল্টো একটা দিকও আছে, ক্ষেত্রবিশেষে চরম। সিজারিয়ানের হার কম হলে হেলথ ইন্সুরেন্স কোম্পানী থেকে চিকিৎসকের প্রাপ্তিযোগ ঘটার একটা ব্যাপারও থাকে। সেক্ষেত্রে জোর করে নরমাল ডেলিভারী ঘটাতে গিয়ে ফরসেপ, ভ্যাকুয়াম ইত্যাদির মাধ্যমে বাচ্চার মাথায় ভয়ংকর চাপ ফেলা; থার্ড ডিগ্রী টিয়ার করে প্রসূতিকে সিজারিয়ানের চেয়েও বেশী যন্ত্রণায় ফেলা-- এই ব্যাপারগুলো ঘটার কথা আগে জানা ছিলনা। অস্ট্রেলিয়ায় আমার পরিচিত দুই ভুক্তভোগীকে দেখে বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছি। একজনের বাচ্চার মস্তিষ্ক আজীবনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত (এখন রিটার্টেড); আরেকজন মহিলা দশ বছর ধরে ফিজিও থেরাপি নিয়ে চলেছৈন। অবশ্য এগুলো ১-২% এর বেশী হবে না।
১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৪৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার তথ্যের জন্য। আমার এ বিষয়ে তেমন ধারনা ছিলনা। তবে আমি আমাদের দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে লিখেছি।

যদ্দুর জানি বিদেশে ডক্তারদের জবাবদিহিতাও একটা বড় ব্যাপার। এ দেশে তো তেমন সুযোগ নেই।

৬. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৪৫
মামু বলেছেন: আমার এক ছুটু কালের দুস্তের বউ এর বাচ্চা হইব, জিগাইলাম কুন রাস্তা ধরবা?
কইল ডাইরেকট সিজারিয়ান, বিকল্প কিচু চিন্তা করি না।

কইলা ক্যান?
কইল আমরা সেনাবাহীনির লুক হিসাবে সিএমএইচ এ ফিরি সিজরিয়ান পামু.... আরর কুনু কতা নাই.... বউ আরাম পাইব...

কইলাম বউটারে পঙ্গু বানাইস না.....

আমারে কয় তোর তো বউ নাই, বউ এর বালবাসা কারে কয় তুই বুজবি ক্যামনে? বউ আমারে পুরা ষুখ দিতে পারব... কইয়া দাত কেলাইয়া হাছল...

কইলাম তাইলে জিবনে কুনু দিন বিয়া করতে পানলে তোর উত্তর দিমু... সেই পর্যন্ত উত্তর আলমিরাতে তুইলা রাকলাম....
১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৪৯

লেখক বলেছেন: :)। অদ্ভুৎ যুক্তি আপনার বন্ধুর।

৭. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৫৪
মিছে মন্ডল বলেছেন: "শিশুর সিজার ডেলিভারী হওয়ার কারণে রেজিস্ট্যান্স পাওয়ার কম " এটা নেহায়তই একটি ভুল ধারণা। যদি কোন শিশু চিকিৎসক এটা বলে থাকেন তাহলে আমি বলবো মিথ্যা বলেছেন।তবে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হবার অনেক কারন, তার মধ্যে সবথেকে প্রধান হল আজকালকার মা'দের বুকের দুধ না খাওয়ানো। কিছুতেই কাউকে বুঝানো যায়না যে ৫ মাস বয়স পর্যন্ত যে কোন স্বাভাবিক শিশুর জন্য মায়ের বুকের দুধই যথেষ্ট।অনেক পরিবারই তা মানেন না এবং বাহিরের খাবার খাওয়ান, যা পরবর্তীতে শিশুর জন্য বিপদ ডেকে আনে।এছাড়া আরও কিছু ব্যপার আছে যা শুধু ব্লগে লিখে বুঝানো সম্ভব না।

দ্বিতীয়ত, আজকাল সিজারিয়ানের হার বৃদ্ধির অনেক কারন। এর মাঝে অবশ্যই প্রধান অবসটেট্রিসিয়ানদের ব্যবসায়িক মনভাব। একটি সিজার করতে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট প্রয়োজন, যেখানে নরমাল ডেলীভারি করতে অনেক বেশী সময়ের প্রয়োজন। তাছাড়া নরমাল ডেলীভারি অনেক কষ্টকর একটি ব্যপার মায়ের জন্য;এজন্য আমি দেখছি আজকাল অধিকাংশ মা'রাই সেই কষ্ট করতে ইচ্ছুক নন। আর মায়ের উচ্চতা অনেক বড় একটি সমস্যা ।অবশ্য আমার মনে হয়না লেখক আপনাকে সেটা বঝানো যাবে।

@নুশেরা আপু, জোর করে নরমাল ডেলীভারি করানো কিংবা এপিসিওটমি দেয়া এগুলো সিজারিয়ান থেকে অনেক ঝামেলাপূর্ন ও কষ্টকর ।এসম্পর্কে যদি সে জানতো তাহলে এভাবে লিখতো না।যাই হোক ইচ্ছে আছে নিরাপদ মাতৃত্ব সম্পর্কে পরবর্তীতে সম্পূর্ন একটি পোস্ট দেয়ার।
৮. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৫৮
মিছে মন্ডল বলেছেন: "মামু বলেছেন: বউ আমারে পুরা ষুখ দিতে পারব... কইয়া দাত কেলাইয়া হাছল...
লেখক বলেছেন: :)। অদ্ভুৎ যুক্তি আপনার বন্ধুর।"

লেখক, আপনার কাছে যতোই অদ্ভুত লাগুক, আমাদের দেশের অনেক ছেলেদেরই মনভাব এরকম; আর এটা আমার কর্মক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলা।
৯. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:০৬
মিছে মন্ডল বলেছেন: ফরসেপ বা ভ্যাকুয়াম ব্যবহার করে বাচ্চাকে সারা জীবনের জন্য সেরিব্রাল পলসির প্যাসেন্ট বানিয়ে ফেলা,সোজা কথায় প্রতিবন্ধি বানিয়ে ফেলা অথবা এপিসিয়টমি করার যন্ত্রনা কিংবা জোর করে নরমাল ডেলীভারি করাতে গিয়ে মায়ের থার্ড ডিগ্রী পেরিনিয়াল টিয়ার করে ফেলা অথবা ভেসিকো-ভ্যাজাইনাল/ ভেসিকো-রেক্টাল ফিস্টুলা করে সেই মা'কে চিরজীবনের জন্য ভোগানো সম্পর্কে আপনার বিন্দুমাত্র ধারনা না থাকায় আপনি সব দোষ ওই নন্দঘোষ চিকিৎসকের ঘারে দিয়েছেন। আর এখন তো এটা একটা ফ্যাসন হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের চিকিৎসকদের সকল কিছুর জন্য একমাত্র দায়ী করা।
১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:২৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য।

"আর মায়ের উচ্চতা অনেক বড় একটি সমস্যা ।অবশ্য আমার মনে হয়না লেখক আপনাকে সেটা বঝানো যাবে।"

আমি কিছুটা হলেও এ সম্বন্ধে ওয়াকিফহাল। তবে এটাকে জেনারালাইজড্ করে সব খাটোর ক্ষেত্রেই বলা মনে হয় যায়না। এখানে অন্যান্য ফ্যাক্টর গুলোও ভাববার মত।

"লেখক, আপনার কাছে যতোই অদ্ভুত লাগুক, আমাদের দেশের অনেক ছেলেদেরই মনভাব এরকম; আর এটা আমার কর্মক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলা। "

আমি স্বীকার করি ও জানি। আমি ওরকম মানসিকতার প্রতি একটা বাঁকা হাসি দিয়েছি মাত্র।

".....আপনার বিন্দুমাত্র ধারনা না থাকায় আপনি সব দোষ ওই নন্দঘোষ চিকিৎসকের ঘারে দিয়েছেন।"

চিকিৎসকেরা সেবার মহান ব্রত নিয়ে পেশা জীবন শুরু করেন। তার পরের ঘটনা মনে হয় আমার চেয়ে ভাল আপনি জানেন। আর নন্দঘোষের সংখ্যা খুবই কম। দম্পতি সার্জিক্যাল ডেলিভারী না চাইলেও নানা বুঝ দিয়ে সিজার করতে মোটিভেট করেন অধিকাংশ গাইনোকলোজিস্ট। কারন সময় বাঁচানো এবং পয়সা কামানো।

আপনি এটা বুকে হাত রেখে অস্বীকার করতে পারেন?

১০. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:১১
মামু বলেছেন: বাংলাদেছের ডাকতুররা না জাইন্যা ফেরেছতা...
১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:২৬

লেখক বলেছেন: :)

১১. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ২:০১
বিডি আইডল বলেছেন: মামু বলেছেন: বাংলাদেছের ডাকতুররা না জাইন্যা ফেরেছতা...

হ...১০০% জ্ঞাণী কথা এইডা
১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:২৭

লেখক বলেছেন: হ...১০০% জ্ঞাণী কথা এইডা

১২. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ২:১৭
আতিকুল হক বলেছেন: অপ্রয়োজনে সিজারিয়ান নয় - এটার সাথে একমত। এক্ষেত্রে চিকিৎসক এবং রোগী দুপক্ষেরই সচেতনতা দরকার। ডাক্তারদের একটু বেশি দরকার কারন তারা রোগীদের অনেকক্ষেত্রেই প্রভাবিত করতে পারেন সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে।

কিন্তু লেখাটা পড়ে মনে হল, প্রসুতি মায়ের যত্ন নেয়ার গুরুত্বটা লেখায় উপেক্ষিত হয়েছে। এটার সাথে একমত নই।
১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৩৪

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। এই বিষয়ে আরও লেখা উচিৎ ছিল কিন্তু আকার বড় হয়ে যাবার ভয়ে ডিটেইল স্কীপ করেছিলাম ।

আমি প্রসূতি মায়ের যত্ন নিতে হবেনা তা মনে করিনা। অবশ্যই যত্ন দরকার। কিন্তু অতি যত্ন নিতে গিয়ে আমরা যে স্বাভাবিকতা নষ্ট করে ফেলি, তা যেন না হয় সেটা বোঝাতে চেয়েছি। আমি তো বলছিনা প্রসূতি লাফ ঝাঁপ করে করা লাগে এমন কাজ চালিয়ে যাক, কিন্তু অতি সাবধান হতে গিয়ে যেন শরীরের আভ্যন্তরীন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক গতির বিঘ্ন না ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার।


"চিকিৎসক এবং রোগী দুপক্ষেরই সচেতনতা দরকার"

চিকিৎসকের বেশী দরকার সততা।

১৩. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ২:৪১
সুখী মানুষ বলেছেন: ডাক্তার খুব ব্যাস্ত হয়ে বউকে বলতেছে....
: "বউ আজ সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছিলো"
: কী?
: আর একটু হলেই বাচ্চাটা নর্মাল ডেলিভারী হয়ে যাইতো !

চিন্তা করেন অবস্থা।

আল্লাহর কাছে হাজার শুকরানা যে, নরমালি ই দুনিয়াতে এসেছি এবং ধুলিমাখা আঙ্গিনায় পথে ঘাটেই বড় হয়েছি।
১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৩৫

লেখক বলেছেন: আর একটু হলেই বাচ্চাটা নর্মাল ডেলিভারী হয়ে যাইতো !

ভীষণ কঠিন এক বাস্তবতা।

১৪. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ২:৪৬
নির্বাক হাসান বলেছেন: মন্ডল ছাহেব এখনি ডাক্তারী লাইন ভালো ধইরা ফেলছে

সেবার নামে ডাকাতি শুধু বাংলাদেশেই সম্ভব।
১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৩৬

লেখক বলেছেন: নির্বাকের বাক ফুটেছে দেখি।

১৫. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ২:৪৮
প্রীটি সোনিয়া বলেছেন: খুব ভাল লিখেছেন....আজকাল তো সিজার ছাড়া কোন কথাই শুনি না।
বাচ্চা হওয়া মানেই সিজার...ছুরি কাঁচি...:|
১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৩৭

লেখক বলেছেন: "সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে আজীবনের পঙ্গুত্ব বরণ"

দোআ করি, এই দুরাবস্থা কোন মায়ের না হয়।

১৬. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:০৪
মিছে মন্ডল বলেছেন: @লেখক -"আমি কিছুটা হলেও এ সম্বন্ধে ওয়াকিফহাল। তবে এটাকে জেনারালাইজড্ করে সব খাটোর ক্ষেত্রেই বলা মনে হয় যায়না। এখানে অন্যান্য ফ্যাক্টর গুলোও ভাববার মত।" ভাই মেডিকেল সাইন্স আবেগ দিয়ে নয়, গবেষণা দিয়ে চলে ; আপনি মানুন না না মানুন মেয়ে দের উচ্চতা একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। হাই রিস্ক মাদার বলে একটি ক্যাটাগরি আছে যেখানে অনেকগুলো পয়েন্ট আছে তার মাঝে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট।আর এটা সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

"দম্পতি সার্জিক্যাল ডেলিভারী না চাইলেও নানা বুঝ দিয়ে সিজার করতে মোটিভেট করেন অধিকাংশ গাইনোকলোজিস্ট। কারন সময় বাঁচানো এবং পয়সা কামানো।

আপনি এটা বুকে হাত রেখে অস্বীকার করতে পারেন?"

আমি আমার মন্তব্যের প্রথমেই কিন্তু এটা স্বীকার করে নিয়েছি, আপনি মনে হয় খেয়াল করেন নি। তারপরও সেই লাইনটি আবার তুলে দিচ্ছি "আজকাল সিজারিয়ানের হার বৃদ্ধির অনেক কারন। এর মাঝে অবশ্যই প্রধান অবসটেট্রিসিয়ানদের ব্যবসায়িক মনভাব"

এবং আর একটি কথা বলে রাখি, অধিকাংশ চিকিৎসকই কিন্তু আজকাল নিজেদের ক্ষেত্রেও সিজারিয়ানই করান।

১৭. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:১৬
মিছে মন্ডল বলেছেন: "@প্রীটি সোনিয়া বলেছেনঃচ্চা হওয়া মানেই সিজার...ছুরি কাঁচি...:|"
নরমাল ডেলীভারি করাতে যে ছুরি কাঁচি লাগেনা তা আপনাকে কে বললো?এপিসিয়টমির নাম শুনেছেন? না শুনে থাকলে এখানে ক্লিক করুন episiotomy
ছবি দেখুন
১৮. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:২৩
ডালটন বলেছেন: ধন্যবাদ আবার কিছু বলার জন্য। দেখুন সত্যিকারে কোন কেসটা রিস্কি এবং সিজার ছাড়া গতি নেই তা ডাক্তারেরাই বলতে পারেন।

ডাক্তারের হাতে একজন তার জীবনের ভার ছেড়ে দিতে কুন্ঠা বোধ করেনা। রোগে ডাক্তারই বড় ভরসা। একজন ডাক্তারের তাই উচিত সেই বিশ্বাসের মূল্য রাখা। আমাদের ডাক্তার রা সেই মূল্য কতটুকু রাখছেন?

আমি সবার কথা বলবনা। এমন অনেক ডাক্তার দেখেছি যাঁরা রুগী দেখে ফিস তো নেনই নি উল্টে তার বাড়ী ফোর ভাড়াটাও হাতে গুঁজে দিয়েছেন। সবাই তেমন আশা করে পারিনা তবে আমি যা জানিনা তা নিয়ে আমাকে বিপথে চালনা করা ডাক্তারদের কথাই বলেছি।

আতিকুল হক বলেছেন "চিকিৎসক এবং রোগী দুপক্ষেরই সচেতনতা দরকার"।

আমি বলেছি: চিকিৎসকের বেশী দরকার সততা।
১৯. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৮
মিছে মন্ডল বলেছেন: সততা শুধু চিকিৎসক না সবারই দরকার, সকল ক্ষেত্রেই। কিন্তু আপনি কোথাও ১০০% সততা পাবেন না। তারপরও বলি, আমি চিকিৎসকদের মাঝে চরম ভাবে অসৎ মানুষ কমই দেখেছি। তবে ২/১ জন এমন আছে যে আমার নিজেরই রাগ সামলানো কঠিন হয়। আর দূঃখের বিষয় হলো গাইনী ও অবস এর মাঝেই এদের পরিমান বেশী। আমার মনে আছে , আমি ইন্টার্ণী শেষ করার পর প্রথম যেখানে কাজ করতে যাই সেখানে বিএসএমএমইউ এর একজন মহিলা গাইনী কন্সাল্টেন্টের সাথে ওটি রুমে ঝগড়া করেছি তার অনৈতিকতার জন্য। সে এক বিশাল ইতিহাস। যাই হোক, আশা করি সবাই ই তার নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সততা বজায় রাখবে।
১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:২৯

লেখক বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আমাদের সবারই সে চেষ্টা করা উচিত। আশা রাখি ভবিষ্যতে এমন আরো কোন বিষয়ে জমিয়ে আলাপ হবে।

২০. ১৭ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:২৮
মিছে মন্ডল বলেছেন: "লেখক বলেছেন: আশা রাখি ভবিষ্যতে এমন আরো কোন বিষয়ে জমিয়ে আলাপ হবে"
অবশ্যই, নাহলে ব্লগে আসা কেন???
১৭ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৫৬

লেখক বলেছেন: জ্বি, নিশ্চয়ই। আমাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা অন্যের সাথে শেয়ারের মাধ্যমেই কাটানো সম্ভব। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনি ভাল থাকুন।

২১. ১৭ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩৬
মুনিয়া বলেছেন: হুমম। ভাল লিখেছেন।
১৭ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৫৬

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।

২২. ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৪৫
পরোপকারী বলেছেন:
সুন্দর একটি পোষ্টের জন্য লেখক কে ধন্যবাদ।
তারপরে ধন্যবাদ মিছে মন্ডল কে, বিস্তারিত র্বণনা করার জন্য।

"আশা রাখি ভবিষ্যতে এমন আরো কোন বিষয়ে জমিয়ে আলাপ হবে"।
আমরা তাই কামনা করি।
১১ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:১৭

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। এতদিন পরে এই পোস্ট টা দেখার জন্য।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৫১৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমি মানুষের পায়ের কাছে
কুকুর হয়ে বসে থাকি,
তার ভেতরের কুকুরটাকে দেখবো বলে।

রক্তের গ্রুপঃ এ+

রাজশাহীতেই আছি।...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ