somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপসংষ্ক্বৃতির বিরুদ্ধ প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীদের মানব বন্ধন

২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গতকাল ইষ্ট ওয়েষ্ট ইউনিভার্সিটির সামনে মাহাখালী গুলশান সংযোগ সড়কের উপর বিভিন্ন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীরা চলমান অপসংষ্ক্বৃতি ও আমাদের ঐতিহ্য ও বিশ্বাস পরিপন্থি মিডিয়া আগ্রাসনের বিরিদ্ধে মানব বন্ধনের আযোজন করে।

তাদের প্রকাশিত লিফলেট


আসুন আমরা সবাই মিলে রক্ষা করি আমাদের ঐতিহ্য, সংষ্কৃতি ও বিশ্বাস
অস্হিরতা, হতাশা ও বঞ্চনার শিকার তরুন সমাজ। চাকরির অনিশ্চয়তা, সামাজিক অবক্ষয় ও নিরাপত্তাহীনতা, অর্থনৈতিক দূরবস্হা ও রাজনৈতিক অস্হিতিশীলতায় যুব সমাজ অতিষ্ঠ ও ক্ষিপ্ত। রাষ্ট্র, সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি সবই আজ কিছু অসাধু স্বার্থান্বেশী মানুষের করায়ত্বে, যাদের অপশাসন ও লুটপাট অব্যাহত। ধ্বংস ও অবনতির এই তলানী থেকে রাষ্ট্র ও সমাজকে উন্নতি ও সম্মৃদ্ধির শীর্ষে তুলে জনগনের মুক্তি কেবল তারুন্যের হাত ধরেই সম্ভব।

তাইতো এই যুব সমাজকে ঘীরে দেশী-বিদেশী নানা অসাধু মহল তৎপর। যুবকদের চিন্তা চেতনায় ও শারীরিকভাবে বিকল করার সব ধরনের অপপ্রয়াস চলছে এবং প্রতিনিয়ত এর পরিধি প্রসারিত হচ্ছে।


তরুনদের দেশ গড়া ও উন্নতির শীর্ষে ওঠার যোগ্য কারিগর রুপে তৈরী করার পরিবর্তে তাদের কাছে সহজলোভ্য করা হচ্ছে নেশাদ্রব্য ও অস্ত্রের আস্তানা। ফলশ্রুতিতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক কার্যকলাপে যুব সমাজের অসম্পৃক্ততা সামাজিক অস্হিতিশীলতা বৃদ্ধি করছে।


এছাড়াও যুব সমাজকে কুয়োর ব্যাঙ্গ বানিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে তাদের ধ্যান- জ্ঞান শুধুমাত্র ব্যস্ত রাখা হচ্ছে গান, সিনেমা, নাটক, খেলাধুলা, ফেসবুক, পার্টি এবং বাজে আড্ডায়।


ঐতিহ্যগত ভাবেই গান মানুষকে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরনা, সাহস ও ঐক্যের আহবান করে। কিন্তু দুঃখের বিষয় ইদানিংকার গান আমাদের হতাশা, বিরহ এবং অশ্লীল ভিডিও ছাড়া কিছুই দেয় না। তাইতো ডিজুস সাহস পায় সেই ভয়ংকর আহবানে " বন্ধু, আড্ডা, গান...... এখানেই হারিয়ে যাও''।

সিনেমা, নাটক সংষ্কৃতির শক্তিশালী হাতিয়ার, যদিও ইদানিং এসব শুধুই কিছু মানুষের অর্থনৈতিক ভাবে সাবলম্বী হওয়ার সহজ উপায় মাত্র। এর থেকেও ভয়ংকর ব্যাপার হলো সস্তা মজার আড়ালে যে চিন্তাগুলো নাটক, সিনেমার মাধ্যমে সমাজে বিস্ফোরন ঘটানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী ও তার অনুসারীদের কথা না বললেই নয়। অধুনিকতা ও সৃজনশীলতার নামে এবং রসিকতার ছলে সমাজে 'লিভটুগেদার' এর চিন্তা তারা বিলি করে বেড়াচ্ছে। তার পরিনাম কি ভয়াবহ হবে আমরা কি তা ভেবে দেখেছি। অনৈতিক এই সম্পর্ক স্হাপনের কারনে পারিবারিক অবিশ্বাস, অশান্তি এবং সংসার ভঙ্গের পরিনতি বরণ করতে হবে
আমাদের, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যোও ভয়ংকর। এছাড়া মোবাইল ফোনের অপপ্রয়োগের দীক্ষা এবং অশ্লীল ভাষা ফ্যাশনে পরিনত করার এজেন্ডা বাস্তবায়িত হচ্ছে এসব সিনেমা-নাটকের মাধ্যমে।

এভাবেই প্রতিনিয়ত বিভিন্ন অসভ্য সংষ্কৃতি সুন্দর মোড়কে ও আকর্ষণীয় উপস্হাপনার মাধ্যমে পরিচিতি পাচ্ছে। তাই তরুন সমাজকে সচেতন ও সক্রীয় থাকতে হবে এসব অপসংষ্কৃতি রোধে।

তরুনরাই পারে চিন্তার মাধ্যমে ভাল ও খারাপের পার্থক্য নিরূপন করতে এবং সত্যের পথ অবলম্বন করতে। একমাত্র সত্যের পথই হতাশা ও অস্হিরতা নিরসনকল্পে উন্নতির পথ। তারুন্য এক অদম্য শক্তি যা সত্যের পথে চলতে গিয়ে কখনো ভয় পায় না এবং যার উত্থানে বিজয়ের স্বাদ অবধারিত। ইতিহাসের যত চড়াই=উৎরাই তার সবই তারুন্যের হাত ধরে। তরুনরাই সমাজের উন্নতি, অগ্রযাত্রা ও মুক্তির প্রধান কান্ডারী।


সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:২৭
৭৭টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×