ওহুদের প্রান্তরে শহীদদের কবর, মদীনা মুনাওয়ারা। দক্ষিন প্রান্ত থেকে তোলা হয়েছে। সম্মুখেই দেখা যাচ্ছে সাইয়্যেদুস্ শুহাদা বা শহীদের নেতা হামজা রাদিয়াল্লাহু 'আনহুসহ বেশ ক'জন বিশিষ্ট শহীদ সাহাবীর কবর।
এঁদের মধ্যে আবূ জাবের আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহুও আছেন, যাঁকে তাঁর শাহাদাতের ৬৪ বছর পর কুপ খনন করা অথবা প্রবল বর্ষণের কারণে কবর থেকে তোলার প্রয়োজন হয়েছিল। ইতিহাস সেদিন দেখেছিল ৬৪ বছর পরও এ শহীদের লাশ তরতাজা এবং তিনি তাঁর মাথার ক্ষতস্থানে একটা হাত দিয়ে রেখেছিলেন। কেউ একজন হাতটা সরিয়ে দিতে চাইলে ক্ষতস্থান থেকে দরদর করে রক্ত প্রবাহিত হতে শুরু করেছিল; পাঠক! শাহাদাতের ৬৪ বছর পর!! আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ সত্য বলেছেন: ((আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয় তাদেরকে মৃত বলো না, বরং তারা জীবিত; কিন্তু তোমরা উপলব্ধি করতে পার না।)) [সূরা আল-বাকারাহ: ১৫৪]
ছবি লিংক।
হাদীস:
মৃতের জন্য আর্তনাদ ও বিলাপহীন ক্রন্দন বৈধ
আনাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বর্ণনা করেন যে,
"রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় পুত্র ইব্রাহীমের কাছে গেলেন। তখন তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছিলেন। (এ দৃশ্য দেখে) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের চোখ দিয়ে অশ্রুধারা প্রবাহিত হতে লাগল। তাঁকে আব্দুর রহমান বিন 'আওফ জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনিও কাঁদছেন? তিনি বললেন: হে ইবনে 'আওফ! এটা দয়া-মায়া। অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার কেঁদে ভরলেন এবং বললেন: চোখ অশ্রু ঝরায়, অন্তর শোকাকুল এবং আমরা আল্লাহকে সন্তুষ্টকারী কথা ছাড়া অন্য কিছু বলব না। হে ইব্রাহীম! আমরা তোমার বিরহে শোকার্ত!"
[বুখারী: ১৩০৩, মুসলিম: ২৩১৫]
উল্লেখ্য- মৃতের জন্য চিৎকার করে, বুক চাপড়িয়ে, আর্তনাদ করে, বিলাপ করে কান্না করা নিষেধ আছে ইসলামে। তেমনি নিষেধ আছে প্রিয়জনের মৃত্যু ঘটলে আল্লাহকে দোষারোপ করা বা এমন বলা যে, "আল্লাহ্ আর কাউকে দেখলো না"! (নাউযুবিল্লাহ=আমরা এ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।)
হাদীস লিংক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

