আমার প্রিয় পোস্ট

শেকড়ের টানে,স্মৃতির না'য়ে

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ ভোর ৪:২৭

শেয়ারঃ
0 1 0

গ্রামের বাড়িতে গেলাম। ২ বছর পর। পেট্রোল পোড়া গন্ধের বাসে চড়ে,সিটের মাঝে 'দ' হয়ে বসে,অনেকদিন পর। যাওয়া হতো না,দাদা অসুস্থ,দাদীও,যেতে হলো,বাবাকে নিয়ে,এক পূর্বপুরুষকে নিয়ে আরেক পুরুষের সাক্ষাতে। গৌরিপুর বাসস্ট্যান্ডটা বদলে গেছে,জনাকীর্ণ বাজার ছেড়ে বেশ দূরে সরে গেছে। রাস্তা দিয়ে আসার পথে গন্ধ পেলাম। গ্রামের গন্ধ,মাটির গন্ধ। বাজারের দিকে বাড়িঘর উঠে গেছে কিছু পাকা বাড়ি,পয়সাওয়ালা লোকজনের কাজ,১টা ৩ তলা হোটেলও দেখলাম,কোন এক কোটিপতি দারোগার মহল,বাবা জানালো। তাও গন্ধটা যায়নি,মাটির গন্ধ,শেকড়ের। বাজারের দিন,শনিবার,সকালে তেমন কেউ নেই। ২ জায়গায় হাঁক দিয়ে বাবাকে ডাকলো,রিকশা থেকে বাবা ইশারায় দেখিয়ে জোর গলায় বললো,ভাইস্তা তোমাগো,হাত নাড়লো না চেনা চাচারা,সালাম দেয়ার সময় হলোনা,চলন্ত রিকশায় ছুটন্ত আমার।

ব্রিজটা পার হতেই খেপা গরু ১টা রাস্তার মাঝখান দিয়ে তেড়ে এসে শিং নেড়ে গেল,রিকশাওয়ালা গরুর মালিককে কি একটা বলতেই মালিক দ্বিগুণ তেজে তেড়ে এলো,বাবা হাসে,আবেদ আলী,কাঠগোঁয়ার,এক স্কুলে পড়তো,রোজ ২-৪ টা মারামারি করতোই,গরু আর মালিক একরকমই। আমিও হাসি,গরু দেখে,অথবা মাটির গন্ধে,খোলা হাওয়ায়। রাস্তাটা হাসপাতালের পরেও পাকা হয়েছে অনেকদূর,বাড়িতেও বিদ্যুত গেছে,দেখলাম। আইল ধরে হাঁটি রিকশা থেকে নেমে,বাবা হাত তুলে দেখায়,ঐ ক্ষেতটা আমার,আর এই ডানদিকেরটা। বাকিগুলি? ভাগ হয়ে গেছে। ভালো লাগেনা। ভাগ কেন হবে? হবেই,সম্পর্ক ভাগ হয়,মানুষ হয়,আর জমি! বাড়িতে ঢোকার আগে পাশের বাড়ির ২ চাচাকে সালাম করতে হয়। ভাইসাব,ছেড়া কত বড় হইসে,ঐদিন দেখসি আবুডা! ইন্ঞ্জিনিয়ারিং পাশ দিসে এইবার,বাবার জবাবে বিস্ময় আরেকটু বাড়ে,নাগালের বাইরেই চলে গেলো কিনা,ভাবে হয়তো।

বাড়িতে ঢুকি। শুনশান বাড়ি। অনেক ছোট লাগে আগের চেয়ে। মোড়লবাড়ির সীমানা ছোট হয়ে এসেছে,ভাগ,বিক্রি,বিবাদ,দখল। আমিও হয়ে গেছি অনেকটা বড়,হাঁটি হাঁটি পা পা কালের বিশাল উঠানটা খুব ছোট লাগে,চেপে আসা। দাদীর জ্বর,চলাফেরা কম,দাদা শয্যায়,চিনতে পারেন অবশ্য। লোকজন নেই,বুড়োবুড়ি,শুনশান। চারপাশের গাছপালা কমে এসেছে,বাঁশঝাড় খালি প্রায়,চুরি হয় অনেক,পাশের বাড়ির লোকজন জানালো। জলপাই গাছটা বিক্রি হয়ে গেছে,শেকড় ডালপাতা সহ,লিচু গাছটা আছে এখনো। জলপাই পাড়ার বাঁশের কোঠারিটার কোন সন্ধান পাইনা,গাছের সাথে কি সবই নিয়ে গেছে মিনিমাগনায়? যে কোদালটা ছোটবেলায় কাঁধে নিয়ে ঘুরতাম,সেটা কোথায়? ইজিচেয়ারটা কে নিলো? উঠানের বেলিফুলের গাছটা শুকনো,মরা,পানি পায়না কতদিন কে জানে,ফুল ধরেনা অনেকদিনই। মৃত আর অর্ধমৃত গাছের ছায়া নিয়ে ছেলেবেলার বিশাল উঠানে দাঁড়িয়ে থাকি,মোড়লবাড়ির একমাত্র উত্তরাধিকারী,অধোমুখে। নিস্তব্ধতায়। পাখিগুলো কোথায়? মরা গাছেও তো ২-৪ টা পাতা আছে,২-১টা কাক এলেও তো পারে। বেড়ার রান্নাঘরটায় উঁকি দিই,ছোট্ট রাজন একদিন তার উলের টুপিটা এখানকার ১টা চুলাতেই বিসর্জন দিয়েছিল,লাকড়ির চুলায় অল্প অল্প তুষ দিয়ে ফুঁ দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে চোখ লাল করে ফেলতো যে শিশু,সে কি এখনো বসে আছে চুলাটার পাশে,লাল সোয়েটার গায়ে? শূন্য চুলা ধাক্কা দেয় চোখে,শুধু পাশে বসা বিড়ালটার থাবা চাটা দেখে মনে পড়ে এমনি কোন সকালে ছুঁড়ে দেয়া মাছের কাঁটা খেয়ে অলস হাই তোলা বিড়ালগুলোর কথা। আচ্ছা,বাবার না ১টা পোষা কুকুর ছিল,বাবা এলেই দাওয়ায় শুয়ে থাকতো? গেল কই সেটা? জিজ্ঞেস করতে গিয়ে থেমে যাই,সব কিছুর মতই নিশ্চয়ই চলে গেছে,কি হবে আর টেনে? উঠানে ফিরে আসি। মরা গাছ,আর ১টা চুলা,ঘুম থেকে উঠেই দাদীর পাশে বসে যেতাম চুলার আগুন নিতে। নেভানো চুলা,জ্বলে না মনে হয় আর। পুকুরপাড়ে দাঁড়াই,পানি কম,শীতকাল। পাড়ের কাঁঠালগাছটাও মরা মরা,কাঁঠাল কি হয়? পাশে দাঁড়ানো বাবা জানালো,হয়তো হয়,নেবার আগেই কেউ নিয়ে যায়। অনেক গাছ ছিলো পুকুরপাড়ে,নেই ১টাও,দেখার লোক নেই। পুকুরপাড়ের সামনে খড়ের গাদাটা কই? জমিই করানো হয়না,খড় আসবে কোথা থেকে? পাশের জমিটা চলে গেছে,তার পাশেরটা,তার পাশেরটাও,বিক্রি-বাট্টা,ভাগ। যা আছে,তাও তো খালি,শুনে বাবার উত্তর,বর্গা দেয়া যায়,মরা গাছগুলো সাফ করে,কিন্তু আসা তো হয়না।

সীমানায় দাঁড়িয়ে তাকিয়ে থাকি,দূরে,কু ঝিক ঝিক রেলের ধোঁয়ার দিকে,লাল সোয়েটারের পরিপাটি চুলের ছোট্ট ছেলেটা ছোট্ট হাত-পা নিয়ে যেভাবে তাকাতো,ধানকাটা মাঠের দিগন্তে। রান্নাঘরের পিঠার ধোঁয়া নাকে আসে,পায়েসের গন্ধ,টিউবওয়েল চাপার শব্দ,কাঠ চেড়ার আওয়াজ,গরুর ডাক,উঠানে ছড়িয়ে পড়া মুরগির বাচ্চাগুলোর চি চি,ফুফুদের হাসাহাসি,৩-৪টা অলস বিড়াল,আর সবার মাঝে ঘুরে বেড়ানো লাল সোয়েটারের ছোট্ট ছেলে।
বাবার ডাকে চটকা ভাঙে,লাল সোয়েটার না,জিন্স আর জাম্পারের শহুরে আমার। দিগন্তের ধানক্ষেত থেকে আবারো নিঝুম বাড়ির দিকে চোখ ফেরাই--সীমানা তো অনেক ছোট হয়ে গেছে,আর জমিগুলি না বেচলেও তো চলে। বাবার আশাবাদী কণ্ঠ,তুই না চাইলে বেচবো কেন? ধর গাছপালা খানিকটা সাফ করে,আর বর্গা দিয়ে----

বাবা সোৎসাহে বলে চলে,আমি আনমনে মাথা নাড়ি,না বেচলেও চলে। একদিন তো ফিরতেই হবে উত্তরাধিকার চাইতে,একা,পূর্বপুরুষের পাশে,সাড়ে তিন হাতের ভাগ নিতে,আজ,বা কাল,অথবা কয়েকদিন পর। না বেচলেও চলে।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): এলোমেলো ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি  বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ ভোর ৪:৩৬
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: ভালো লাগলো , সবাই ফিরে যেতে চায় ।
কিন্তু শহরে আসলে কারও কিছু আর মনে থাকে না , তোমারও থাকবে না
১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ ভোর ৫:৪১

লেখক বলেছেন: মেহরাব,চাই বা না চাই,ফিরতে হবেই শেকড়ে,১টা যখন আছে মাটির সাথে।

২. ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ ভোর ৫:৩৭
ৃৃমম বলেছেন: ভালো লাগলো। বিভিন্ন বাস্তব কারণে দাদাবাড়ীর চেয়ে নানাবাড়ির সাথে আমার নস্টালজিক টান বেশী (ওটা আমার জন্ম শহরে বলেই কি?)।
১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ ভোর ৫:৪৪

লেখক বলেছেন: ৃৃমম,ভালো লেগেছে জেনে আমার আরো বেশি ভালো লাগলো। নানার বাড়ির দিকে আমার টানটাও একটু বেশি,স্বীকার করি,কারণ ঐ শহরেরই মেডিক্যাল কলেজের কোন ১টা বেডে আমার জন্ম।

৩. ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ ভোর ৬:০১
বিহংগ বলেছেন: খুব ভালো লাগলো আপনার লিখা পড়ে।
৪. ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ ভোর ৬:০৩
বিহংগ বলেছেন: ফারহান ভাই, আপনার, নতুন ভারসন কেমন লাগছে।
১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ ভোর ৬:০৭

লেখক বলেছেন: বিহংগ ভাই, ভাল ফিচার তো অনেক,কিন্তু বেশ কিছু বাগ,আশা করি ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু দেখতে ভালো না,স্বীকার করাই লাগে। একে পেজ লোডিংয়ের সময় কটকটা একটা রং,আর ফন্টগুলি গোদা চেহারার,এইদিকে কলাম গুলি চাপা,১টা প্রতিবন্ধী চেহারা হয়েছে। :(

৫. ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ ভোর ৬:০৫
বিহংগ বলেছেন: ৭১ এর বুড়ি, আর সাধারন মানুষের কিছু গল্প"
অসাধারন লিখা ।অনেক অনেক দিন মনে থাকবে।
১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ ভোর ৬:১১

লেখক বলেছেন: আপনাকে কি বলে কৃতজ্ঞতা জানাবো জানি না,আমার মত সামান্য মানুষের লেখা কেউ পড়ে সেটাই তো আমার বিশাল পাওয়া। অনেক ধন্যবাদ।

৬. ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ ভোর ৬:২১
লাল দরজা বলেছেন: লেখাটা পড়লাম। চমতকার বর্ণনা আপনার। ভিজ্যুয়াল গদ্য ধরন। :) এক প্রখ্যাত অংকের মাষ্টার শেষ বয়সে এসে গদ্য লেখা শুরু করে ছেন। তার একটা গদ্য সংকলন পড়ে ছিলাম, "তীর্থ আমার গ্রাম" ভীষন হৃদয় ছোয়া লেখা। ভদ্র লোকের নাম মিজান রহমান, থাকেন কানাডায়। বাংলাদেশের কেউ তাকে লেখক হিসেবে হয়তো চিনে না।
আপনার আক্ষেপ একদিন হয়ত ফিরবেন। সাড়ে তিন হাত হলেও জমিন হয়ত আজ হোক কাল হোক আপনাকে বুকে নেবে। যাদের ভীটা মাটি কিছুই নাই, তারা কোথায় ফিরবে বলেন। আমি এমন লেখা পড়লে কষ্ট পাই এই ভেবে, আপনার ত তাও ফিরবার মতো একটা ছোট্ট উঠান আছে। স্মৃতি হোচট খাবার একটা মাটির চুলা আছে। খাখা দুপুরে কোন কর্কশ কাককে নিমন্ত্রন করে বসতে বলার স্মৃতি শুকনো একটা শাখা আছে। মানুষের স্মৃতির ঘরে ধুলো জমে, তবুও জীর্ন একটা ভীটা থাকে। চরুক না ঘুঘু তবু ফিরে যাওয়া যায়। আমার স্মৃতির ভীটা জলে ডুবেছে সেই কবে। যার উপর দিয়ে সিটি মেরে জাহাজ চলে যায়, আমার আর কোন দিন ফেরা হবেনা। জীবনেও না, মরনেও না!
১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৭:২৯

লেখক বলেছেন: লাল দরজা,আপনার কথাগুলি পড়ে অনেকক্ষণ স্তব্ধ হয়ে থাকলাম,কি-ই বা বলতে পারি! শুধু এইটুকু বলার আছে,ছোট্ট ১টা ভিটা জলের তলে গেলেও বিশাল বাংলাদেশ আপনাকে বুকে নেবার জন্য বুক পেতে আছে,কোন একদিন,ফিরবেন,ফিরতেই হবে এই মাটিতে।

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৭:৩২

লেখক বলেছেন: আর মিজান রহমানের সংকলনটা পড়ার কি কোন ব্যবস্থা আছে? জানালে কৃতজ্ঞ থাকবো।

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:১৫

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ,উম্মু আবদুল্লাহ।

৮. ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:১৭
সিহাব চৌধুরী বলেছেন: আমারও স্মৃতি আছে কিছু --

দাদা বাড়ির পুকুর পাড়,

কিছু খেত ,

আলপথে মৃদু পায়ে হেটে যাওয়া,

শীতের ভোর বেলায় পিঠা --মাটির চুলোর-- পাশে বসে বসে তাপ পোহানোতে মাতৃ মমতা বোধ করা ,

"সিহাইব্যা, রাইতে বিছানায় মুইত্যা দিবি কইলাম" -- গ্রাম্য ডানপিটে বন্ধুদের নিষেধ সত্তেও শঙ্কিত পার্থিব মস্তিস্কের সাথে লড়াই করে জয়ী, enchanted অপার্থিব হৃদয়ের নিঝুম ঝুপ থেকে কয়েকটি বাস্তবিক জোনাক নিয়ে হাতের মুঠোয় আন্ধার রাতে মহাবিশ্ব দখল ,


---------------------- অনেক নাড়িয়ে দেয়া স্মৃতিকে পাগলাটে করে তুল্লেন ফারহান দাউদ --- চোখটা একটু ঘোলা হল কি? নাহ মনের ভুল, মনে হয় । অনেক ধন্যবাদ ।
১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:৫০

লেখক বলেছেন: সিহাব,শেকড়টা এখনো আছে? মাঝে মাঝে তাহলে বোধহয় ফিরে যাওয়া ভালো,চোখের সাথে মনটাও একটু প্রাচীন কুয়াশাতে ঢেকে নিয়ে।

৯. ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:১৯
সিহাব চৌধুরী বলেছেন: hat off @ লাল দরজার কমেন্টে ।
১০. ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৪০
ফারজানা১৬ বলেছেন:
আপনার লেখা,
লাল দরজা আর সিহাবের কমেন্ট……
নিজ গ্রামের কথা মনে পড়ছে!
আমার দাদার বাড়ির দাওয়ায় বসে দেখা যায় আমার দাদার কবর…
আবার নানার বাড়ির জানালা খুললেই উঠানের পাশে নানার কবর......
এখন শীতে দু’জনের কবরের উপরেই শিশির জমে নরম হয়ে থাকবে মাটি! ……দাদা, নানা আর আমার শেকড়ের টান……
সুন্দর লেখাটার জন্যে ধন্যবাদ।
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ ভোর ৫:৩০

লেখক বলেছেন: ফারজানা১৬,আপনার স্মৃতির দরজা একটু খুলতে পারলাম,এটা তো অনেক বড় পাওয়া আমার। পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

১১. ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:১৬
অজানা অচেনা বলেছেন: লিখাটা পড়ে আমার গ্রামের বাড়িতে ছুটে গেল মন। আমাদের বাড়িতে প্রায়ই যাওয়া হয়-মাস দুয়েকের মধ্যে একবার। তবে এইবার জুলাইয়ের পর আর যাওয়া হয়নি। খুব মুখিয়ে আছি কবে ঈদের পরদিন আসবে, কবে বাড়ি যাব।

আমার গ্রামের সাথে নাড়ির টানটি অন্যরকম। কারনটাও বেশ অবাক করার মতন- আমার জন্মই হয়েছে ঐ কাচা বাড়িটিতে-এখনো যে বাড়িতেই যাই-সেই বাড়িটির একটি ঘরে, এক ধাত্রীর হাতে।

এই একি গ্রামেই আমার জন্ম, আমার মায়ের জন্ম, আমার বাবারও। আবার আমার নানার, নানির, আর আমার দাদির ও!!!তাই বুঝতেই পারছেন-কেমন নাড়ির টান।

নানার বাড়ি এতো কাছে-ডাক দিলেই শুনা যায়। আর এতো বেশী আত্নীয় -প্রত্যেকে প্রত্যেকের, একদম জগাখিচুড়ি অবস্থা। একি সাথে একজন হতে পারে আমার মামা, চাচা, ফুপা, খালু, আবার হয়তো তালই ও! তাই আমার গ্রামের প্রত্যেক মানুষ, আর এই গ্রামের প্রতিটি উপাদানই আমার কাছে অনেক অনেক বেশী কিছু।

সেই নাড়ির টানে ফিরে আসতে হয়-কথাটা একটা স্মৃতি মনে করিয়ে দিল। আমার দাদি-যার জন্ম হয়েছিল এই অজ পাড়া গায়ে, তিনিই শেষ বয়সে গিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন সুদূর মালয়েশিয়ায়, যেখানে নাতিদের দেখতে গিয়েছিলেন।
কিন্তু ঐ যে নাড়ির টান- আবার ফিরিয়ে আনল এই একি গ্রামে। একই শিকড়ের কাছে-সাড়ে তিন হাত মাটিতে হলেও।

এই কথা গুলোই ভাবছিলাম বলব।

লাল দরজার কমেন্টের পর বলাটা কি ঠিক হলো?

ক্ষমা করে দিন, লাল দরজা, এবং ফারহান দাউদ ভাই-
অনেক বেশি বলে ফেললাম।
ভাল থাকবেন,প্রত্যেকেই। ঈদ মোবারক।
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৭:২২

লেখক বলেছেন: অজানা অচেনা,এখানে লিখে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলবো,অনেক অনেকের অভিজ্ঞতার ভাগ নেয়া,প্রত্যেকের ভিন্ন প্রকাশ। আমার সামান্য লেখাতে সবাই তাদের অসম্ভব সুন্দর যে কথাগুলো মন্তব্য কলামে রেখে যান,লেখার চেয়েও অনেক বেশি মূল্যবান সেগুলি। এইযে আপনার স্মৃতির পর্দা তুলে আমাদের জন্য আপনার জগতের একটা অংশ রেখে গেলেন,তার জন্য ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবোনা,অনেক কৃতজ্ঞতা। আপনার কথা শুনে তো মনে হচ্ছে আস্ত গ্রামটাই আপনাদের দখলে,এমন হইচইয়ের মাঝে যেতে তো আমারই মন টানছে:)

১২. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ ভোর ৪:১৬
বিহংগ বলেছেন: সুপ্রিয়, আপনাকে ঈদ শুভেচ্ছা।
১৩. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৭:২৪
জলসাধক বলেছেন: চমৎকার গ্রন্থনা।
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:২৭

লেখক বলেছেন: জলসাধক,অনেক ধন্যবাদ।

১৪. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৮:২১
লাল দরজা বলেছেন: চাটগাঁতে আলম খোরশেদ আর মাহিয়া আবরারের একটা প্রতিষ্ঠান আছে নাম "বিশদ বাংলা" ওরা এক সময় কানাডা প্রবাসী ছিল। আলম খোরশেদ মিজান রহমানের একটা বইও প্রকাশ করেছিল "লাল নদী" নামে। শুনেছি বিশদ বাংলা নিয়ে নাকি ওরা ভালই করছে, আমার কাছে এ মুহূর্তে কোন যোগাযোগ নাম্বার নেই একবার একটা কার্ড দিয়ে ছিল কই হারিয়েছে কে জানে। ইমেইলটা খুজে পরে জানিয়ে যাবো।

ফারহান, ভাই আবারও এক দীর্ঘ্য শ্বাস অলমোষ্ট ফেলতে যেয়েও ফেললাম না :) ভালো থাকবেন। শুভেচ্ছা, ঈদ বড়দিন আর নতুন বছরের শুভাগমনে। ভালো থাকবেন।
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:০৭

লেখক বলেছেন: লাল দরজা,অনেক ধন্যবাদ জানানোর জন্য,বাংলাবাজারে সময় করে ঢুঁ দিয়ে দেখা লাগবে। আপনাকেও ঈদ মোবারক,সাথে বড়দিন আর নতুন বছরের অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

১৫. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৮:৫০
ৃৃমম বলেছেন: ফারহান, যতোদুর মনে পড়ছে, মিজানুর রহমানের কিছু সুন্দর লেখা পড়েছি পরবাস ম্যাগাজিনের বিভিন্ন সংখ্যায়। কোন এক ছুটির দিনে হাতে সময় নিয়ে পুরনো সংখ্যাগুলো আর্কাইভ থেকে
(http://www.parabaas.com/)একটু খুঁজলেই পেয়ে যাবেন। সর্বশেষ ওনার যে লেখাটা পড়েছিলাম সেটা ছিলো খুব মজার-বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাধিক্য নিয়ে।
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:১২

লেখক বলেছেন: ৃৃমম,দেখা যাচ্ছে মিজান রহমান নামটা প্রবাসীদের কাছে বেশ পরিচিত,অথচ আমরা অনেকেই জানি না। এটা দেখে,আর এখানে প্রবাসীদের অসাধারণ সব লেখা দেখে,একটা প্রশ্ন জাগছে,আমাদের প্রবাসী লেখকরা কি ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে,অবহেলার শিকার হচ্ছেন? উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছেন? আপনারা ভালো বলতে পারবেন,প্রবাসীরাই। লেখার অনুরোধ থাকলো আপনাদের কাছে।

১৬. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:০৯
সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: দাদুবাড়িতে এবার যখন গেলাম চার বছর পরে, তখন আশ্চর্য রকমের নস্টালজিক লাগছিল। গভীর রাত পর্যন্ত চুলার পাশে বসে গল্প করলাম, উঠোনে মোড়া নিয়ে বসে স্বচ্ছ আকাশ দেখলাম, লেপের ওমে বসে সকালে পিঠা খেলাম, খড়ের গাদার উপর চড়ে বসলাম, ক্ষেত থেকে মূলা শাক তুললাম ভেজা ঘাসে পা ডুবিয়ে। আমার খুব প্রিয় একটা জায়গা আছে দাদুবাড়িতে। বাড়ির পিছনে আনারস ক্ষেতটা পাড় হলে তারপর বাঁশঝাড় দিয়ে ঘেরাও করা ছোট্ট একটুকরো জায়গা। তার সামনেই শান্ত ঝিল। কচুরী পানা ভরা ঝিল। খুব ভোরে, সেই আগের মত, ফজরের নামাযের পরে একা একা গিয়ে অনেক্ষন বসেছিলাম সেখানে। ঝিলের পানিতে সূর্য ওঠা দেখলাম। সূর্যের আলো কুয়াশাকে একটু একটু করে কাটছিল। আবার শেষ বিকেলে, কনে দেখা আলোতেও একা একা হাঁটতে বের হয়ে কাটা ধানের ক্ষেত দেখতে বড় ভালো লাগে। একটা অপার্থিব আলো ছড়িয়ে থাকে। এবার তো এক চাচা আমাকে পেয়ে তার সাথে ধান গাছের চারা লাগাতে লাগিয়ে দিলেন! আমার শেকড়ই তো, এক টুকরো জমিও বিক্রি করতে দিব না, যদিও আছেই খুব অল্প। জমির সাথে মানুষ, ইতিহাস, সব কিছু যে জড়িয়ে আছে! জমির চেয়েও আমার মানুষগুলোকে দেখে বেশি অবাক লাগে। ওদের শরীরে আমার রক্ত! আর মাঝে মাঝে মাটির রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় ভাবি, এই মাটি আমার বাবাকে কোলে করে বড় করেছে। খুব অদ্ভূত একটা অনুভূতি... বছরের পর বছর না গেলেও শেকড়ের টান ঠিক টের পাওয়া যায়। লেখাটা খুব গোছালো, সুন্দর আর কাব্যিক হয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ পাঠকই দেখেন, খুব পারসোনাল লেভেলে লেখাটা পড়ে সুখ পাচ্ছে। এখানেই এই লেখাটার স্বার্থকতা! অসম্ভব ভালো লেগেছে!
১৭. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৩৩
ফারহান দাউদ বলেছেন: সন্ধ্যাবাতি,ঈর্ষা হচ্ছে,খুব। আমার পিঠা খাওয়া হয়নি,চুলার ধারে আগুন পোহানোও না,স্বাগত জানাবার কেউ ছিলোনা,ভগ্নস্তুপ ছাড়া। রাতের আকাশে ধ্রুবতারাও দেখা হয়নি,দিনেমানে চলে এসেছি,এই শুনশান রূপ গায়ে লাগছিলো খুব। আমার মাটি আছে,মানুষ নেই। কোন একদিন হয়তো ফিরবো,পাথরে প্রাণ দিতে,কে জানে। পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
১৮. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:০২
দেবদারু বলেছেন: দারুন উপস্থাপন! ভালো লাগলো খুব........
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৩০

লেখক বলেছেন: দেবদারু ভাই,আপনারা পড়াতে আমার আরো বেশি ভালো লাগলো:)

১৯. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:১৮
মুকুল বলেছেন: ভালো লাগলো।

ঈদ মোবারক :)
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৩৩

লেখক বলেছেন: মুকুল ভাই,কৃতজ্ঞতা। আপনাকেও ঈদ মোবারক। গরু খাওয়ার দাওয়াত দিবেন না?:)

২০. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৩৫
মুকুল বলেছেন: আমার দখিনা দুয়ার খোলা :)
২১. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৪৩
তানজিলা হক বলেছেন: শেকড়কে কেউ উপরে ফহেলতে পারে না।আর যে ফেলে তার আত্বার মৃত্যু অনিবার্য।খুব ভালো লাগলো পোস্টা পড়ে।
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:১৩

লেখক বলেছেন: ফেলতে পারেনা,এইবার গিয়ে বুঝেছি,মনে হয় বুড়ো হয়ে যাচ্ছি কম বয়সেই। পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

২২. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৫০
মিরাজ বলেছেন:
শেকড়টাকে শক্ত করে ধরে রাখতে চেষ্টা করছি। আমার গ্রামের বাড়িতে ৩ বছর আগে যেয়ে একই রকম অনুভূতি হয়েছিল।

তারপর অনেক কিছু বদলাবার চেষ্টা করছি।

ভালো লাগল পড়ে ।
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:১৫

লেখক বলেছেন: মিরাজ ভাই,এবার গিয়ে আমারো মনে হলো,কিছু বদলাতে হবে,ফিরি বা না ফিরি,হারাতে দেয়া চলবে না ঠিকানাটা।

২৩. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৫৬
কালপুরুষ বলেছেন: চমৎকার লিখেছেন। শেকড়ের টান কেউ ভুলতে পারেনা। ফেলে আসা গ্রাম, স্মৃতি, শৈশবের দিনগুলি। সবই যেন মায়ের সাথে সন্তানের যেমন নাড়ির টান তেমনই এক অদৃশ্য টান, অনুভূতিকে যখন তখন নাড়া দেয়- সচল রাখে।
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:২১

লেখক বলেছেন: কালপুরুষদা,অনেক ধন্যবাদ। এবার বেশি নাড়া খেয়েছি,কেন জানি না,হয়তো প্রায় জনশূন্য বাড়িটা দেখেই।

২৪. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:২১
ফারজানা১৬ বলেছেন:
আপনাকে ঈদের অনেক শুভেচ্ছা।
((((আব্বু ছোট থাকতে বলত- কারো সাথে ঝগড়া থাকলে ঈদের আগের দিন অবশ্যই মিটমাট করে নিতে হয়। এহহেম, ব্লগে একদম প্রথম দিকে আপনার সাথে মনে হয় একটু তর্ক হয়ে গিয়েছিল! আশা করি ভুলে গেছেন… ঃ-) ))))
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:৪২

লেখক বলেছেন: মতের অমিলটাকে ঠিক ঝগড়া ধরিনা,আর প্রথম দিকে যা ছিলো সেটা একটা বাজে পরিস্থিতিতে ভুল বোঝাবুঝি। আমিও আশা রাখবো সেটা ভুলে গেছেন:) ঈদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

২৫. ২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১:০৯
অজানা অচেনা বলেছেন: সবাই দেখছি শিকড়ের স্মৃতি বয়ে বেড়ায়-যত দূরেই থাকুক না কেন।
অনেক ভাল লাগল আপনার জবাব পড়ে।
আমার গ্রামটা ভার্চুয়ালি দেখার ব্যবস্থা করে দিতে পারি, যদি চান।
২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ২:০৪

লেখক বলেছেন: অজানা অচেনা,এককথায় জবাব দিলাম,দেখতে চাই।

২৬. ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ ভোর ৪:০৯
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: অনেক দেরীতে পড়লাম। ভাল লাগল।
২৮ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ ভোর ৪:৫৯

লেখক বলেছেন: মোসতফা মনির সৌরভ,অনেক ধন্যবাদ পড়ার জন্য।

২৭. ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ১০:২৩
অজানা অচেনা বলেছেন: ২দিন আগে ফিরলাম আমার গ্রাম থেকে- এই সময়টাকে মনে হয় আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। ফেরার সময় কর্ণফুলী ব্রীজ পার হলেই মনটা খারাপ হয়ে যায়-এইতো চলে এলাম ইট কাঠ পাথরের শহরে-যেখানে উন্নয়নের ছোঁয়ায় মুছে গেছে প্রাণ।

আমার গ্রামের কিছু ছেলেপুলেরা একটি ওয়েবসাইট খুলেছে। যদিও চলছে অনেকদিন থেকে, ঈদের পরদিন অফিসিয়াল লন্চিং করল, যেখানে জীবনে কম্পিউটার না দেখা গ্রাম্য ছেলেপুলেরাও প্রজেক্টারে ওয়েবসাইটটা দেখতে পেল।

সেই সাইটটাই বলছিলাম-ভার্চুয়ালি দেখতে পারেন আমার গ্রাম। আর কখনও সময় পেলে চলে আসতে পারেন ফিজিকালি। আমন্ত্রন + নিমন্ত্রন রইল।

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:২৮

লেখক বলেছেন: অজানা অচেনা,দেখলাম। অবাক,এবং মুগ্ধ,আপনাদের ছেলেপুলেদের আইডিয়া এবং নিজের জন্মস্থানের দিকে ভালোবাসা দেখে। নিজের গ্রাম নিয়ে ওয়েবসাইট খোলা,নিজের গ্রামকে এভাবে প্রমোট করার,এবং সবার করে নেয়ার ধারণাটা বাংলাদেশেই কি এই প্রথম? জানতে ইচ্ছা করছে কিসের জন্য এত ভালোবাসা। আমন্ত্রণ মাথায় থাকলো,মনেও,বেঁচে থাকলে,কোনদিন চলেও আসতে পারি:)

২৮. ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৪০
অজানা অচেনা বলেছেন: শুধু আপনার মন্তব্য পড়ার জন্যই আবার ঢুকলাম এই ব্লগপাড়ায়। আমিও আপনার মন্তব্য পড়ে মুগ্ধ।
..এই কি প্রথম? হুম, হতে পারে। তবে প্রচার বিমুখ এই ছেলেপুলেরা সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাপারটা এখনও ব্যাখ্যা করেনি।
তবে কিসের জন্য এতো ভালবাসা-সেটা ঐ গ্রামে ফিজিকালি গেলে বুঝা যাবে। আর আমার মত ঐ গ্রামের বেশির ভাগ মানুষেরই একই অবস্থা-আত্নীয় স্বজন সব একই গ্রামের হয়ে একেবারে জগাখিচুড়ি। তাই শেকড় আর নাড়ি সব এক সূত্রে গেঁথে গিয়ে একাকার হয়ে গেছে।এটাও একটা কারণ হতে পারে।

আবারও অনেক ধন্যবাদ ভার্চুয়ালি ভিসিট করার জন্য। এবং আবারও
আমন্ত্রণ এবং নিমন্ত্রণ।
২৯. ০৩ রা জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৮:৩০
মিরাজ বলেছেন: @ অজানা অচেনা
মুগ্ধ হলাম আপনার গ্রামের ছেলেপুলেদের ওয়েবসাইটের আইডিয়াটি দেখে । এটি আলাদা করে একটা পোষ্টের দাবী রাখে ।
৩০. ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ৯:৩৯
অজানা অচেনা বলেছেন: মিরাজের মন্তব্যটা এতদিন পর পড়লাম!! সত্যি বলছেন? চেষ্টা করব, ব্লগে এখন অনেকটা অনিয়মিত। তাই কিছুই পোস্ট করা হয়না।
৩১. ২২ শে মে, ২০০৮ রাত ৯:৩০
শফিউল আলম ইমন বলেছেন: এই লেখাটি আগে পড়েছি এবং যতটুকু মনে আছে কমেন্ট ও করেছি কিন্তু আমার কমেন্টটি উধাও:(

যাইহোক, তোমার লেখা সবসময় চমৎকার, অসাধারন হয়। আমি আনিসুল হকের লেখা পড়ি এমনকি এখন প্রথম আলো পড়ি না তাও আনিসুল হক/ জাফর ইকবালের কলাম পড়তে ঢু মারি।
তোমার লেখার ধরণ আমার কাছে আনিসুল হকের লেখার মত মনে হয়।

আমার দেশের বাড়ী নাই। মানে যেখানে দাদার বাড়ী সেখানেই বাপের বাড়ী হয়তো আমারও। চাঁটগার বেশীরভাগ মানুষই এমনই। যেখানে থাকে সেখান থেকে অন্যকোথাও যাবে না।
দেশে গেলে তো অবশ্যই তোমাকে চাঁটগা আসতে হবে নাইলে খবর আছে। তবে, কথা হইলো গিয়া আমি কবে দেশে আসুম সেটাই জানি না। হা হা হা।
২৩ শে মে, ২০০৮ রাত ১:০৭

লেখক বলেছেন: দেশে তো ফিরবাই,যাবা আর কই? যাক চাটগাঁয়ে থাকা-খাওয়ার ১টা বন্দোবস্ত হইল:)

৩২. ২৭ শে মে, ২০০৯ সকাল ৯:১৬
শূন্য আরণ্যক বলেছেন: মনটা খারাপ হলো লেখাটা পড়ে ।
২৮ শে মে, ২০০৯ রাত ১০:১১

লেখক বলেছেন: বাড়ির জমিজমা মনে হয় ধরা রাখতে পারবো না,শেষ পর্যন্ত মনে হয় বিক্রিই করে দিতে হবে অল্প যা কিছু আছে,লোকজনের অভাবে এমনিতেও বেশিরভাগ বেহাত হয়ে গেছে।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৭৫৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
খুব সাধারণ মানুষ ..এখনো বেকার,পড়ছি পুরকৌশল এ। মাথা একটু গরম,একটু বোকাও,তবে মানুষটা মনে হয় আমি খারাপ না।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ