somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বন্ধুর জন্য প্রার্থনা

০৪ ঠা আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার বন্ধু মোটকা মাশুক দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এখন,এটা বড় কোন খবর না যে ঢোল পিটিয়ে লিখতে হবে,এমন কোন শোকসংবাদ না যে এলিজি লিখতে হবে,সত্যি বলতে কি এই ধরণের লেখা দেখলে মোটকার খেপে যাওয়াটাই হবে স্বাভাবিক কারণ জীবিত মানুষ নিজের নামে শোকগ্রস্থ প্যানপেনে লেখা দেখতে পছন্দ করে না,অন্তত,আমি বা আমরা করি না,যারা মোটকার সাথে ছিলাম বা মোটকা যাদের সাথে ছিল। জীবনটাকে তুড়ি মেরে দেখার একটা ইচ্ছা ছিল আমাদের আর ভার্সিটি জীবনে সেই ইচ্ছাটা একেবারে বাস্তবায়ন করিনি তাও না,আমি পুরোপুরি না পারি,আমার অন্য সাথীরা অনেকটাই পেরেছে।

তো,আজকে এই লেখাটা লেখার কথা ছিল না,কথা ছিল আরো হয়তো ২০-২৫ বছর বা তারো পরে কোন গেটটুগেদারে আন্ডাবাচ্চাসহ বন্ধুবান্ধবদের দেখে স্মৃতিকথায় তাদের জন্য লিখবো। তাও কেন লিখছি? লিখছি কারণ হঠাৎ করে মাথায় চলে এসেছে যে ২০-২৫ বছর বা আগামী ১৮ অগাস্টের মাঝে কোন পার্থক্য নেই,দূরে চলে যাওয়া মাত্রই শুরু হল,আর সেটা হাবলের সূত্রমতই শুধু সরতেই থাকবে গ্যালাক্সির মত, আমরা, বন্ধুরা, কেউই আর ঠিক আগের মতই তুড়িমারা জীবনে ফিরে যেতে পারবো না। জানা ছিল মোটকা বাইরে যাবে,দেশের বিনবেতনের চাকরিতে বিরক্ত। জানা ছিল ভিসা হয়ে গেছে,কিন্তু জানা ছিলনা সময়টা এত কাছে। কবে ফ্লাইট,কথাচ্ছলে জিজ্ঞেস করতে জানালো,১৮ তারিখ। অনেকদিন,সত্যি বলতে কি,বুয়েট ছাড়ার দিনটার পর থেকে এমন ধাক্কা দেয়া ২-১ টা শব্দ মনে হয় শুনিনি। মোটকা যাচ্ছে বলেই এই শোক তা না,মোটকা শুধু মনে করিয়ে দিয়ে গেল এটাই শুরু,আস্তে আস্তে সবাই যাবে,দেশে থেকেও দূরে,কেউ দেশ থেকেই দূরে।

মোটকার পরিচয়টা দেয়া দরকার কিনা বুঝতে পারছি না,আলাদা করে নিজের বন্ধুদের কাউকে পরিচয় করিয়ে দিতে আমি নিজে বা বন্ধুমহল ঠিক স্বস্তি বোধ করি না। এটাও জানি না যে আমরা নিজেদের কি ঠিক কোন চোখে দেখি,কাঠখোট্টা কথাগুলোর মাঝে কোথাও এক জায়গায় ইস্পাতের বন্ধন কবে হয়ে গিয়েছে সেটাও ভাবার সময় বা সুযোগ আমাদের কারো হয়নি। তারপরেও কাছে ছিলাম,কাছেই আছি,বিপদ বা কষ্ট,আনন্দ বা হাসি,হাত বাড়ানোর মানুষগুলো কখনো সরে যায়নি। রশিদ হলের ৩০১১ এর আড্ডা বা পাগলামি ছাড়িয়েও শেকড়টা চলে গিয়েছিল আরো অনেকদূর। জীবনের অন্ধকারতম মুহূর্তগুলোতে যখন পৃথিবী আর বেঁচে থাকার অর্থ নিয়ে নিজের মাঝে প্রশ্ন উঠে গেছে,এই হাসিমুখগুলোর দিকে তাকিয়ে আর তীক্ষ্ণ রসিকতাবাণে জীবনটাকে নতুন করে দেখতে শিখেছি। সেই ভরা মজলিশ খালি হয়ে যাবার সূচনা যখন দেখি,তখন হয়তো ছোট্ট ২-১টা এলিজি লিখলে মোটকা বা আর কেউই কিছু মনে করবে না।

চৌধুরীকে জিজ্ঞেস করলাম,এখনো আছিস? জানালো,আছে,তবে অবস্থা সুবিধার না। বুঝলাম,পাখির মন উড়ু উড়ু। হাফিজের খবর কি? উড়বে,শিগগিরি। দুলা? আছে আরো কিছুদিন,টেকার ইচ্ছা,তবে খুব ব্যস্ত। মোটা রুকন? শেষ পর্যন্ত চেষ্টা আছে মামা থাকার,দেখি কি হয়। নেতা গবুর খবর কি? কাগজপত্র অ্যাম্বেসিতে,চলে যাবে যে কোনদিন। বিপি রাসেল চাকরি ছাড়বে আরেকটা,আপাতত বিভ্রান্ত। সুপন উড়বে,মতিউরও,আজ অথবা কাল। টাক্কুও মনে হয় টিকবে না,রাহাত হয়তো কিছুদিন থাকবে। মনির,হামিদ আর রেজা চাকরি নিয়ে সারাদেশ ঘুরছে,রিপনের মত তাদেরো আপাতত দেশে থাকার ইচ্ছা,প্রিয়মুখগুলো কতদিন দেখিনা,আরো কতদিন দেখবোনা কে জানে!

সবার খবর নিয়ে মেসেন্ঞ্জারে আবার মোটকাকে গুঁতো দেই। খ্যাঁক করে ওঠে,কি সমস্যা? জানালাম,পকেট খালি,যাবার আগে তার বাপের পয়সায় আমাদের গরিবদের একটা খানাদানার ব্যবস্থা হবে কিনা। জবাব এল,ক্যান বিদেশে যাইতে যে পয়সা লাগতাসে তাতে কি কমতি পড়লো? উত্তর দিলাম,তা পড়ে নাই,তবে ওদের ভোগে না লাগায়া আমাদেরো কিছু ভাগ দে। বিবেচনা করা হবে,আশ্বাস পাই। এরপর কুঁই কুঁই করে জানায়,দেশ ছাড়তে ভয়,ভাল লাগে না। ভবিষ্যৎ হয়তো ওখানে ভাল, কিন্তু ভরা মজলিশ ছেড়ে যেতে ইচ্ছা করছে না।

আরেকবার দীর্ঘশ্বাস ফেলি,সেই ভরা মজলিশের কথা। একটা সময়ের কথা,ফিরে না আসা গল্পের কথা,নিজের ঘুম নষ্ট করে আমাকে পরীক্ষায় পাশ করানোর জন্য গজগজ করতে করতে পড়ানোর কথা,ভেঙে পড়ার মুহূর্তে অট্টহাসিতে ঘর কাঁপিয়ে জীবনকে আরো একবার দেখে নেয়ার সাহস দেখানোর কথা।

মোটকা,আর আরো সব বন্ধুরা,এই দুর্বল মানুষ কখনোই তোদের বলতে পারেনি নিজের জীবনের জন্য সে কতখানি ঋণী সবার কাছে,মনে হয়,সামনে দাঁড়িয়ে বলার সাহস কোনদিন হবেও না,তাই লিখে দিলাম এখানেই। ভাল থাকবি সবাই,কাছে,দূরে,চোখের আড়ালে বা সামনে।

পুনশ্চ: এই লেখা মোটকাকে দেখানো যাবে না,প্রথমত,বজ্জাতটার ভাব বেড়ে যাবে,দ্বিতীয়ত,এই চরম ন্যাকামি লেখা দেখে টিটকারি দিয়ে বাকি জীবন নরক করে ছাড়বে।:)
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০০৮ রাত ৩:০৫
৫৯টি মন্তব্য ৫৯টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×