আমার প্রিয় পোস্ট
- বিবিসির অসাধারণ একটি ডকুমেন্টারিঃ সেরা সাই-ফাইও হার মানবে - বিডি আইডল
- উইকিপিডিয়াতে লেখা সাজাবার সহজ উপায়-(পর্ব-১) - সাদাচোখ
- প্রিয় খাবারের তালিকা, উগ্র রসনা বিলাস - সাঈফ শেরিফ
- ব্যক্তিগত কথা: শুদ্ধতা - জ্বিনের বাদশা
- প্রমিত বাংলা বানান রীতিঃ সচরাচর সমস্যা করে এমন শব্দের একটি সম্ভার! - ম্যাভেরিক
- আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারের পতন ও ফাইনান্সিয়ালাইজেশানের সংকট - দিনমজুর
- ০: একটি স্বর্গীয় পরিভ্রমণের গল্প (সম্পূর্ণ) - ম্যাভেরিক
- ইজরায়েলের জবানবন্দী:: তেলআবিবে বিপন্ন মানবতা আর আত্মরক্ষার অধিকার !! - মেহরাব শাহরিয়ার
- অগুনিত মেহেরের গল্প। - সৌম্য
- ট্রেকিং, ব্যাগ পেকিং আর হাইকিং, এডভেঞ্চারের সাথে মিশে যান প্রকৃতির সাথে - সৌম্য
- ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৫০ (যা চেয়েছি, যা পাবো না --সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ) - আবদুর রাজ্জাক শিপন
- ব্লগারস ব্লাড ব্যাংকঃ ১২৯ ব্লগারের তথ্য (আপডেট পোস্ট) - ফিউজিটিভ
- যুক্তরাষ্ট্রে ফান্ডিং নিয়ে পড়তে আসুন -২ (GRE)। - কুম্ভকর্ণ
- হার-জিত - আশরাফ মাহমুদ
- একদিন এক বাদলা দিনে। - কোলাহল
- বৃষ্টিমুখর দিনরাত্রি - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- ফিরে দেখা ইতিহাস : ভাষা আন্দোলনের দিনপন্জী (১৯৪৭-৫৬)। উৎসর্গ - সকল ভাষাশহীদকে - মিরাজ
- টানেলের শেষেও শুধু অন্ধকারের গান - সন্ধ্যাবাতি
- কখনও স্মৃতি পাহারা দেবার সময় আসে - মাহবুব মোর্শেদ
- সন্ধ্যা ৪ - মাহবুব মোর্শেদ
- সাংবাদিকতার গায়ে 'হলুদ' - ফয়সল
- আজ শ্রাবনের আমন্ত্রনে... - আস্তমেয়ে
- গুগল কথন - ৪ : ব্রিন আর পেইজের কথা - রাগিব
- হারিকেন - দ্য ডিভাইন উইন্ড (৩) - তানভীর
- ঢাকা, মৃতের শহর । । ঢাকা, সিটি অব দ্যা ডেড । । টাইম ম্যাগাজিন। সোমবার, মে ৩, ১৯৭১ - এহহামিদা
- ৭১ এর সকল বীর সেনানীর পক্ষ থেকে: ২০০৭ এর প্রজন্মের Xদফা দাবী - জ্বিনের বাদশা
- : আমাদের ক, খ, গ, ঘ, এবং ঙ : - নজমুল আলবাব
- জরুরি অবস্থার অগল্প - হিমু
মুশফিক ও মেহরাবের ৫১ ওভার: ফিনিক্স পাখির এক দিন
১৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:৫৩
কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করে,তোমার কাছে একটা বিলাসী ছুটির দিন মানে কি,আমি বলবো,একটু বেলা করে ঘুম থেকে উঠে পরোটা-ভাজি দিয়ে নাস্তা করে বাসার আলোকিত ঘরটায় বড় বিছানাটাতে হেলান দিয়ে বসা,তারপর ঘরের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ ২১" রঙিন টিভিটাতে চোখ রাখা,আর সেখানে নিজের প্রিয় ব্যাটসম্যানের ঠ্যাঙানো আর প্রতিপক্ষের বোলার-ফিল্ডারদের দাঁত-মুখ খিঁচিয়ে মাথা চাপড়ানো আর আহাজারি দেখা।এককালে অন্য দেশের ব্যাটিং দেখে এই শখটা মেটাতে হতো,বাংলাদেশ জোরেশোরে খেলা শুরু হবার পরে নিজের দেশের খেলা দেখেই সেই শখ মেটানোর চেষ্টা করি। সুযোগ যে খুব একটা আসে তা না,বেশিরভাগ সময়েই আমাদের স্কোরকার্ডের এমন হাল থাকে যে তাতে ছুটির বিলাসী ভাবটা কেটে গিয়ে নিজের মাঝে কেমন একটা জঙ্গী ভাব চলে আসে আর নূরা পাগলার কায়দায় দা-কুড়াল বা নিদেনপক্ষে একটা বাঁশ নিয়ে মাঠে গিয়ে ব্যাটসম্যান গুলোকে তাড়া করার ইচ্ছাটাই প্রবল হয়ে ওঠে।আজকের দিনটাও সেভাবেই শুরু হয়েছিল, রাতে দেরিতে ঘুমিয়েছি, উঠেছি সাড়ে বারোটায়,আমার মত নবাবপুত্তুরকে তারপরেও মা নাস্তা দিয়েছে। সেটা নিয়ে টিভির সামনে বসামাত্র দেখলাম,ভেট্টোরির মোটামুটি মানের একটা বলে আমাদের আশকারা-পাওয়া-ফুল ব্যাটপ্যাডে সিলি পয়েন্টে অত্যন্ত সিলি ভাবে ক্যাচ দিয়ে সন্ন্যাসীর মত উদাস মুখ করে প্যাভিলিয়নের দিকে হাঁটা ধরেছে। আরেকবার মনে হলো, একে প্রতিদিন বিছুটি পাতা দিয়ে একবার করে পেটানো দরকার,যতই বয়স বাড়ুক তার ক্রিকেট সেন্স গজাবে না। স্কোরবোর্ডে রান তখন ৪৪/৪।
এমন স্কোরকার্ড আমাদের জন্য নতুন কিছু না,অনেক সময় এরচেয়ে কম রানেও বাংলাদেশের ৪-৫ টা উইকেট চলে যায়। যেটা নতুন, সেটা হলো এই ৪৪ রান এসেছে ৪৩ ওভারে,টেস্ট ক্রিকেটের ১৩১ বছরের ইতিহাসেই এমন ঘটনা আর আছে বলে জানা নেই, জেফরি বয়কট জানলে নিশ্চয়ই রাজিন তামিম আশরাফুলকে গুরু মানতো! তো সেই থেকে মুশফিক আর মেহরাব (জুনিয়র নামটা এখন মেহরাব হোসেনের নাম থেকে সরিয়ে দেয়া উচিত,কারণ আগের সেই মেহরাবের ছায়াও এখন আর এই দলে নেই) এর সংগ্রাম শুরু। প্রথম দিকে এটা তাদের সংগ্রামই বলা যায়, আস্তে আস্তে যেটা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের
সংগ্রাম।যতভাবে সম্ভব,নিউজিল্যান্ডের বোলার আর ফিল্ডাররা মিলে চেষ্টা করে গেছে এই জুটি ভাঙার,তাদের ব্যাটসম্যানরাও নির্ঘাত মনে মনে প্রস্তুতি নিয়েছিল চা-বিরতির পরেই ব্যাটিংয়ে নামার। কিন্তু শুরু থেকেই সত্যিকারের টেস্ট ব্যাটিং কেমন হতে পারে তার একটা নমুনা দেখতে শুরু করে তারা। মেইডেন ওভার,এক রান,দুই রান,বাজে বল পেলেই আবার বাউন্ডারি। মুশফিকুর রহিম একদম গুরুসিনহা বা নভজ্যোৎ সিধুর মতই শিট অ্যাংকর,বেশ স্লো,কিন্তু
একমাথা ধরে রাখা,অন্যদিকে মেহরাব হোসেনের স্ট্রাইক রেট একটু হলেও বেশি,মাঝে মাঝে ভাল বলকেও শায়েস্তা করতে দেখা গেছে তাকে।
যাই হোক,টেস্ট ক্রিকেট,খেলা চলুক,গেলাম জুম্মা পড়তে, এসে ভাবছি,গেছে এতক্ষণে আরো ২-১টা। টিভি খুলে অবাক,এখনো ২ জন ঠুকঠাক করে যাচ্ছে,হেলাফেলা করে বসলাম। সময় যায়,আমি পত্রিকা পড়ি,নেটে বসি,ঘুরোঘুরি করি,উইকেট পড়ে না। ভাত খাওয়া শেষ,তাও পড়ে না। আমারই অস্বস্তি লাগা শুরু হলো,ঘটনা কি,যায় না কেন,নিউজিল্যান্ডের বোলার আর কোচের গোমড়া মুখ দেখে তাদেরও যে একই প্রশ্ন সেটা বুঝতে অসুবিধা হচ্ছিল না,৩৫ ডিগ্রির গরমে এমন ফাউ দৌড়াতে কারই বা ভাল লাগে,বিশেষ করে তারা যদি ১০ ডিগ্রির আরামদায়ক হাওয়া থেকে আসে?
এর মাঝে মুশফিক আর মেহরাব কিছুটা মারতেও শুরু করেছে,পার্টনারশিপে ৫০ হয়ে গেছে,শট বেরোচ্ছে। শুধু ঠেকানো নয়,দেখা যাচ্ছে বাইরে বা একটু লাইন-লেংথের বাইরে বল পেলেই ক্লাসিক কিছু ক্রিকেট শট। দারুণ একটা সুইপ করলো মুশফিক,পরেই একটা স্কয়ার ড্রাইভ মেহরাবের,কিছু পরেই আরেকটা সুইপে চার। আসছে ফ্লিক,কভার ড্রাইভ,লফটেড অন আর অফ ড্রাইভ,স্কয়্যার কাট,তবে পুল আর হুক নয়,সাবধানী খেলা।
একসময় মেহরাবের ৫০ হয়ে যায়,নিউজিল্যান্ডের বোলার ফিল্ডারদের ক্লান্তি বাড়ে,ভেট্টোরির কপালে বিরক্তির ভাঁজ বাড়ে,আর বাইরে তাকিয়ে হাতিচুবানো গরম দেখে আমার হাসি বাড়ে, যা ব্যাটারা দৌড়া আরো। ততক্ষণে মজা পেয়ে গেছি, ঝিমানো ঠেকানো ক্রিকেটের মাঝেও যে একটা মজা আছে সেটা দেখা যাচ্ছে। ঠিক কোন বলটা ছাড়তে হবে, কোনটা মারতে হবে,সেটা সঠিকভাবে বিচার করে যখন কেউ খেলে,তখন আসলেই টেস্টক্রিকেট দেখা একটা আনন্দের ব্যাপার,যদি সত্যিকারের ক্রিকেটকে ভালোবাসা যায়। সন্দেহ নেই,সেটা দিয়েছে আজকে ২ ব্যাটসম্যান। শেষদিকে এসে রানের গতিও একটু বেড়েছে, দেখা গেছে আরো কিছু চমৎকার শট। ৮০ ওভার শেষ হতেই ভেট্টোরি নতুন বল নিয়ে নিল,আশা,কাইল মিলস আর ইয়ান ও'ব্রায়েন যেমন সকালে আতংক জাগিয়েছিল,এবারো হয়তো সেটা পারবে। গুড়ে বালি,যে ব্রায়েন আগের ২ স্পেলে ১১ ওভারে মাত্র ৮ রান দিয়েছিল,দিন শেষে সেটা হলো ১৭ ওভারে ২৫,৩য় স্পেলের প্রথম ওভারেই বাউন্ডারি খেয়ে যেটার শুরু। ৩য় স্লিপের উপর দিয়ে মেহরাবের মারা বাউন্ডারিটা একটু ঝুঁকিপূর্ণ হলেও দেখার মত,আর শেষদিকে এসেও বাংলাদেশ আর খোলসে ঢোকেনি,একই ওভারে পরপর ২টা বাউন্ডারি মেরে মুশফিকের ৫০ পূর্ণ করাটা সেটারই প্রমাণ। ভেট্টোরিকে ড্যান্সিং ডাউন দ্য উইকেটে এসে অনড্রাইভে বা একটু আগেই এক পা এগিয়ে মিলসকে অফড্রাইভে যে বাউন্ডারি দু'টো মেহরাব মেরেছে,দেখলে নেভিল কার্ডাসও নিশ্চিৎ নড়েচড়ে বসে টেস্ট ব্যাটিংয়ের সৌন্দর্য্যের উপর ২-১টা লাইন লিখে ফেলতেন।
তো,দিন শেষে যখন খেলোয়াররা সবাই মাঠ ছাড়ছেন, দৃশ্যটা এমন,স্কোরবোর্ডে বাংলাদেশের রান ১৮৩,উইকেট সেই ৪টাই রয়ে গেছে,দুর্লভ একটা দৃশ্য হিসেবে হাসিমুখে বাংলাদেশের ২ ব্যাটসম্যান,আর বোনাস হলো ত্যক্ত-বিরক্ত নিউজিল্যান্ডের খেলোয়ারদের মুখ। অন্যের কষ্টে নাকি আনন্দিত হতে নেই,কিন্তু ভেট্টোরির
চেহারা দেখে যে আনন্দ পেয়েছি সেটার তুলনা নেই,আহা,৫১ ওভার অথবা ২১৫ মিনিট এই গরমে দৌড়াতে বেচারাদের না জানি কত কষ্টই গেছে,তাও আবার কোন উইকেট ছাড়া!
৫১ ওভারের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে মুশফিকের ৫৯ রান,১৪৫ বলে,৯টা ৪,১টা ৬,আর মেহরাবের ৭৯ রান,১৬৪ বলে,১০টি ৪। ৯৪ ওভারে ১৮৩/৪,অথবা ৫১ ওভারে ১৩৯ রানের পার্টনারশিপ,ইমপ্রেসিভ কিছু মনে হয়না আপাতচোখে,কিন্তু পুনরুত্থানের যে গল্প এখানে লেখা হয়েছে সেটা এই খেলা যারা দেখেছে তারাই বুঝবে, সাথে টেস্ট ব্যাটিংটা বাড়তি পাওনা, আরো বোনাস হলো ৫ম উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান,আগের রেকর্ডটা ছিল আশরাফুল আর বুলবুলের সেই কলম্বো টেস্টে। যদিও অতীত ইতিহাস বলে,কাল সকালেই ঝটপট উইকেট পড়ে বাংলাদেশ ২৫০ এর আগেই অলআউট হয়ে যেতে পারে,কিন্তু তাতে এই দু'জনের লড়াই ম্লান হয়না। কাজেই,তুলে রাখলাম ব্লগে,সাথে অভিনন্দন জানিয়ে রাখলাম মুশফিক আর মেহরাবকে।
[একটা দুরাশা হিসেবে যোগ করে রাখি,যেকোন উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ হলো ১৯১ রানের,৬ষ্ঠ উইকেটে,অংশীদার ছিলেন আশরাফুল আর মুশফিক। রেকর্ডটা এবার ভাঙলে ভালই হতো,রান গুলো বড় দরকার]
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): খেলাধুলা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: খেলাধুলা বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:১৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
অ্যামাটার বলেছেন:
অনেক হেরেছি...আর হারতে চাইনা...শেষবিকেলের মিষ্টি রৌদ্রের আবহটুকু কালও দিনভর অব্যহত থাকুক...এই থাকল শুভ কামনা...
লেখক বলেছেন: তাই হোক।
লেখক বলেছেন: কালকেও হইতে পারে এমন,বলা যায়না,তবে আজকেরটা ভাল গেসে,ঐটাই মজা নেই।
বিডি আইডল বলেছেন:
চমৎকার লিখেছেন..কাল কি হবে সে আতংকে আজকের এই দারুন সময়টা উপভোগ না করা বোকামী হবে
লেখক বলেছেন: নগদ যা পাও হাত পেতে নাও,বাকির খাতা শূন্য থাক।
লেখক বলেছেন: দোয়া করেন বেশি কইরা।
সকালবেলাটা যদি বিছা কাডাইতে পারে তাইলেই হইলো।
মজা পেলাম আপনার লেখার ধরনটায়।
ধন্যবাদা।
লেখক বলেছেন: "হালার কতবার গাইল পারছি উইকেটে পারলে ঘুমাইয়া থাক"--ব্যাপক বুদ্ধি,আজকে নিউজিল্যান্ড টের পাইসে![]()
লেখক বলেছেন: কপাল আরকি,কি করবেন![]()
বিবেক সত্যি বলেছেন:
ঠিক আছে.. নগদের ওপর আপাতত সন্তুষ্টি নিয়েই থাকি.. :-) গালি দিলেও ওরা আমাদের.. প্রশংসা করলেও ওরা আমাদের-ই ...
লেখক বলেছেন: এইটাই কথা,আর আছেই বা কারা?
আশার আলো বলেছেন:
.....স্কোরকার্ডের এমন হাল থাকে যে তাতে ছুটির বিলাসী ভাবটা কেটে গিয়ে নিজের মাঝে কেমন একটা জঙ্গী ভাব চলে আসে আর নূরা পাগলার কায়দায় দা-কুড়াল বা নিদেনপক্ষে একটা বাঁশ নিয়ে মাঠে গিয়ে ব্যাটসম্যান গুলোকে তাড়া করার ইচ্ছাটাই প্রবল হয়ে ওঠে।সহমত।
+
লেখক বলেছেন: মেজাজ মাঝে মাঝে এমন খারাপ হয়! আশরাফুলরেও আজকে বাঁশপেটা করতে ইচ্ছা করতাসিলো।
কুঙ্গ থাঙ বলেছেন:
হারজিৎ যাই হোক অসুবিধা নাই, মেজাজ ফুরফুরা মুশফিক মেহরাবের খেলা দেখে।
লেখক বলেছেন: সেইটাই কথা,আজকে মেজাজ খুশ।
-------------------
হাহাহা, এরকম আমারো হইছে কিন্তু।
৯২/৯৩ ওভারের দিকে আমি লোকজনরে কইতেছিলাম যে, আমাগো ব্যাটসম্যানগো আবার "বিফোর দ্য ব্রেক সিনড্রোম" আছে বইলা শুনছি। আর ওই সময়ের "ব্রেক" মানে তো হইলো প্রথম দিনের 'স্টাম্পস' হয়ে যাওয়া আরকি। মানে ধরেন ৯৩.৫ ওভারের সময়েও আমি ভাবলাম অগো বিচ্ছেদের এখনো চান্স যায় নাই। তাছাড়া, ৯০ ওভারের পরে যেহেতু খেলা গড়াইছে.....কুফা কি জানি একটা হয়...! কিন্তু দেখি এই দৃশ্যে কোন কুফা নাই!
আর শেষ অরা পর্যন্ত আছে বইলাই তো এতো রাতে আপনের লেখা পড়তেছি মশার কামড় খায়া খায়া...
লেখক বলেছেন: লান্ঞ্চের ২ বল আগে,টি এর আগে,নাইলে দিনের শেষ বলে উইকেট যাইবই,আজকেও ব্যাপক টেনশনে ছিলাম,শেষে যখন উইকেট পড়লো না,ব্যাপক একটা লাফ দিসি![]()
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
মুশফিক-মেহরাব জুটিকে খ-টা-স স্যালুট !
একটু হইলেও তারা আশরাফুলদের দেখায়ে দিছে টেস্ট ক্রিকেট ক্যামনে খেলতে হয় ।
জনাব, খেলার পাতায় লেখেন না কেন ?
লেখক বলেছেন: খেলার পাতায় ম্যালা কুতুবরা লেখে,আমাদের জায়গা কই?![]()
আজকে শেষ ২ ওভারেও কায়দায় পায়া ৩টা ৪ মারসে পোলাপান,খেলার তখন ৯০ ওভার পার,এইটাও একটা দেখার মত ব্যাপার। পরেরটা পরে,আজকের স্যালুট আজকে![]()
সলিল বলেছেন:
অভিনন্দন মেহরাব-মুশফিককে।
বাদবাকিদেরও শুভবুদ্ধির (নাকি টেস্টবুদ্ধির ?) উদয় হোক এই কামনা করি। পোস্টে +
লেখক বলেছেন: আশরাফুলের যে কবে বুদ্ধির উদয় হইবো সেইটাই মাঝে মাঝে ভাবি,খেলে তো ম্যালাদিন হইল।
ত্রিভুজ বলেছেন:
ভাল লিখছো.. আমি অবশ্য খেলা দেখছি না... ভাল লাগে না আর। শুধু অনলাইনে স্কোরকার্ড দেখি...
লেখক বলেছেন: ব্যস্ত থাকলে খেলা ফলো করা কঠিন,তবে ছুটির দিনে ভাল টেস্ট ক্রিকেট এক মজার জিনিস,বিশেষ করে যদি অপোনেন্টের বোলাররা দৌড়ের উপর থাকে(ভাবে মনে হয় কালকে আমাদের পোলাগুলা দৌড়ের উপর থাকবো)।
আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন:
"টিভি খুলে অবাক,এখনো ২ জন ঠুকঠাক করে যাচ্ছে,হেলাফেলা করে বসলাম। সময় যায়,আমি পত্রিকা পড়ি,নেটে বসি,ঘুরোঘুরি করি,উইকেট পড়ে না। ভাত খাওয়া শেষ,তাও পড়ে না। আমারই অস্বস্তি লাগা শুরু হলো,ঘটনা কি,যায় না কেন,নিউজিল্যান্ডের বোলার আর কোচের গোমড়া মুখ দেখে তাদেরও যে একই প্রশ্ন সেটা বুঝতে অসুবিধা হচ্ছিল না"
দারুণ মজা পেলাম এই অংশটুকু পড়ে। ভুল বললাম, শুধু এই অংশ নয়, পুরো লেখাটাই দারুণ মনকাড়া। আজকের খেলার মতোই! আমিও ক্রিকেটপাগল মানুষ। কিন্তু বিষয়টা নিয়ে এত সুন্দর করে লেখা যায়, ভাবতেই পারিনি।
[অফটপিক : আপনার শরীরের অবস্থা কি? মেহরাবের বাবা সুস্থ হয়েছেন?]
লেখক বলেছেন: প্রথম স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখি ১৯৯৬তে,২ বছর আগে পর্যন্তও বাংলাদেশে কোন দল এলেই স্টেডিয়ামে যেতাম,এমনই ক্রিকেটপাগল আমি। লেখাটা দিয়ে কষ্ট সার্থক মনে হচ্ছে,এতজন খেলাপাগলকে একসাথে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। এখনো মনে হয়,স্টেডিয়ামের গন্ধ পাই,কবে যে আবার খেলা দেখার সময় পাবো!
মেহরাবের বাবা এখন মোটামুটি সুস্থ,বাসায় আছেন বিশ্রামে। আমিও কাজকর্ম করা শুরু করেছি,অনেক ধন্যবাদ খোঁজ নেবার জন্য।
লেখক বলেছেন: ঐটাই,আশা রাখা আরকি,যদি অঘটন হিসাবে ভাল একটা রান হয়েই যায়! যাই হোক,আজকে মজা পাইসি,সন্দেহ নাই।
লেখক বলেছেন: তবে,এই ২ জনের ব্যাটিং বাদে বাকি পুরাটাই সেই বাংলাদেশ,দুশ্চিন্তার। জুনায়েদ গেসে শূন্যতে,ক্রিকইনফোতে পড়লাম,রান পাওয়ার আগেই তামিম আর রাজিন সহজ ২টা লাইফ পাইসে,মানে ঐ ২টা লাইফ না পাইলে,বাংলাদেশ হইত ০/৩,তখন নতুন বলে এই ২ জনও কি করতো কে জানে! আবার তামিম এরপরেও লাইফ পাইসে,আর ৪৩ ওভারে ৪৪ কোন গৌরবের বিষয় না। আশরাফুলের শিশুতোষ আউট তো নিজেই দেখলাম,তার উপরে দলে নাই বোলার,নিউজিল্যান্ডও ঐরকম দৌড়ানি একটা দিবে ধরে নেয়া যায়। কাজেই,একমাত্র আশা কালকে যদি ভাল একটা রান হয়,যদিও অতীত রেকর্ড আশা জাগায় না,তাও,এই ২ জনের রিকভারিটা আজকে চরম হইসে,ধরে রাখবে এই আশায় আছি।
ল্যাপটপ বলেছেন:
বাংলাদেশ ভাল দল , কিন্তু নিজেরা আত্মবিশ্বাস নেই বলে জানেনা যে তারা কি । এজন্যেই খারাপ লাগে আর খেলা এজন্যেই দেখিনা ।
লেখক বলেছেন: আছেই তো এরা,করবো আর কি? এদের খেলাই দেখি,অন্য দলের টা দেখতে নাইলে উৎসাহ পাই না।
হেরা একটু বালা করলে প্রশংসার শেষ নাই।
আর খারাপ করলে টয়লেটে ফ্ল্যাশ পর্যন্ত করে দেই হেই দলরে।
আগে আমগো চরিত্র পাল্টাইতে হইবো।
বুঝতে হইবো আমরা এখনও নিয়মিত জয়ীর দল না।
লেখক বলেছেন: এইটাই হইলো কথা,জাতীয় চরিত্রেই প্রফেশনালিজমের অভাব আছে।
লেখক বলেছেন: তা বটে,কিন্তু আজকে সকালেই উল্টা ছবি দেখা গেল,আশংকা সত্যি করে মাত্র ২৮.২ ওভারে ৬২ রানে পরের ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ ২৪৫ রানে অলআউট। ঐরকম একটা পার্টনারশিপ দেখার পরেও নাইম যেভাবে ডাউন দ্য উইকেট মারতে এসে স্টাম্পড হলো,দেখে ইচ্ছা হয়েছিল স্ট্যাম্পটা পশ্চাদ্দেশে দিয়ে দিই![]()
লেখক বলেছেন: প্রত্যাশিত,ব্যাপার না,তবে কালকের ব্যাটিংটার ভিডিও রোজ একবার কইরা দেখানি দরকার বাকিগুলারে।
নিবেদীতা বলেছেন:
কেমন আছেন?
লেখক বলেছেন: খারাপ না,অসুখ থেকে উঠলাম,এখন ভালই লাগছে
আপনার দিনকাল কেমন যায়?
নিবেদীতা বলেছেন:
দিন তো চলেই যায় খারাপ আর ভাল দিয়ে
লেখক বলেছেন: হুম।
হুমায়ূন সাধু বলেছেন:
শানাইয়া যান.... আমারা আছি... শান দিতে
লেখক বলেছেন: বাংলাদেশ ১৮৪/৮ দিন শেষে,সাকিব ৭১ করে আউট হইলো,বলা যায় লড়াইয়ে রাখলো,বাংলাদেশের লিড এখন ২৫৮ রানের,আর ২০-৩০টা রান হইলে কিসু আশা এখনো আছে।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
অনেক দিন হইল খেলা দেখা ছাইড়া দিসি। আজাইরা নিজের মেজাজ খারাপ করার কি দরকার!! কিন্তু এখনও মনে পড়ে প্রথম টেস্টে বুলবুলের সেঞ্চুরিতে চোখে আনন্দে পানি আসছিল।
লেখক বলেছেন: সেইটা একটা ইনিংস আছিলো। তবে এই টেস্টে মনে হয় শেষ রক্ষা হইলো না,নিউজিল্যান্ডই শেষ অব্দি বাজি মারবো মনে হয়।
ফ্রুলিংক্স বলেছেন:
শেষ ভালো যার.....(শূন্যস্হান)। আমাদের শেষ যে কবে ভালো হবে ...
লেখক বলেছেন: শেষমেশ হতাশাতেই শেষ হইলো আরকি,কিন্তু লড়াই কইরা মরে বীর। এইভাবে নিয়মিত লড়তে পারলে একদিন সব ভালো হবেই।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















