somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুশফিকের লড়াইতে শেষ উইকেটে ৫৬,আশরাফুল কি শিখছে কিছু?

২৬ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে লিখতে গেলে মুশকিল,আগের দিন প্রশংসা করে কিছু লিখলে পরেরদিনই সেটা গিলে ফেলা লাগে। তবে আমরা বেহায়া জাতি,খালেদা-হাসিনা-এরশাদকেই ২ দিন পরে পরে ক্ষমা করে দেই,বেচারা ক্রিকেটারদের আর কি করতে পারি? কাজেই আবারো বসতে হলো। যদিও একটা টেস্টের প্রথম দিনে ২৫০ রানে অলআউট সেটা লেখার মত বিষয় না,বরং বিষয় হলো ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং শেখানো শেষ উইকেট জুটির ব্যাটিং,যেখানে
মুশফিকুর রহিম আর মাহবুবুল আলমের ব্যাটিংয়ের ভিডিও দেখিয়ে নিশ্চিতভাবেই আশরাফুল এবং ইমরুল কায়েস কে ব্যাটিংয়ের স্বরে-অ স্বরে-আ শেখানো যাবে।

২-৩ দিন আগেই প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাথে তর্কাতর্কির সময় আশরাফুল বড় গলায় বলেছিল,পয়সা খরচ করে কেন প্রবাসীরা তাদের খেলা দেখতে আসে,কেউ তো তাদের আসতে বলেনি। উক্তিটা শুনে অনেকটাই আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের কথা মনে পড়ে গেল,যে আমরা চুরি করি,তোমাদের দেখতে বলেছে কে, ঘরে গিয়ে চোখে হাত চাপা দিয়ে রাখলেই পারো। হায় আশরা-ফুল,কাদের টাকায় তোমাদের বিদেশে পাঠানো হয় বা বছরে কোটি টাকা দেয়া হয়, সেটা কি কখনো ভাবো?এই একটা উক্তির জন্যই আশরাফুলের বড় ধরণের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শাস্তি হতে পারতো,এতগুলো মানুষের
আবেগকে অপমান করার সাহস শুধুমাত্র শিক্ষাবন্ঞ্চিত মূর্খের পক্ষেই থাকা সম্ভব। কিন্তু এই দেশে শ্যুটার আসিফকেও পুলিশে পেটায়,কাজেই আশরাফুলের কিছু হয়নি। বরং নির্লজ্জ ব্যাটিং করে আজকেও ১ রান করে (৯ বল খেলে) মরকেলের বলে কট অ্যান্ড বোল্ড। নিশ্চিত আজকেও দাঁত কেলিয়ে খিঁচিয়ে জানাবে,আসলে ব্যাটিং আর ফর্ম ঠিকই আছে,শুধু বলটা জায়গামত লাগছে না। যদিও শেষ ১০টা টেস্টে তার ব্যাটিং দেখলে বলতে ইচ্ছা হয়,হে মহারাজ,আর কতকাল তোমার ব্যাটে বল লাগিবার পানে বুভুক্ষু দৃষ্টিতে তাকাইয়া থাকবো,রাত পোহাবার কত দেরি পান্ঞ্জেরী?

এতো গেলো একজনের কথা,কিন্তু বাকিদের কথাও বলার মত না। ইমরুল কায়েস যে একজন ওপেনিং ব্যাটসম্যান,সেটা তার বালকসুলভ ব্যাটিং দেখে বোঝার উপায় নেই। বাকি ব্যাটসম্যানরাও,এমনকি ৬৭ রান করা জুনায়েদও,দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের শর্ট বল আর বাউন্সের সামনে যেভাবে কুঁকড়ে যাচ্ছিলো আর একটা পুল বা হুকও না খেলে বল ছেড়ে গা বাঁচানোর ধান্দায় ছিলো,তাতে মনে হলো শুধু ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল উইকেট বানালেই হবে না,অবিলম্বে মানসিক
বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলিয়ে তাদের সাহসও বাড়ানো দরকার।

বাউন্সি উইকেটে শর্ট বল কিভাবে খেলতে হয়,সেটা জানা গেল ১৯৪ রানে ৯ উইকেট যাবার পরে,যখন মুশফিকুর রহিম আর মাহবুবুল আলম ক্রিজে,আর গ্রায়েম স্মিথ ব্যাটিংয়ের শ্যাডো শুরু করে দিয়েছেন স্লিপে দাঁড়িয়ে। দক্ষিন আফ্রিকার গতিদানবদের বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে এই উইকেটেই হয়ে গেল ইনিংসের সর্বোচ্চ ৫৬ রানের পার্টনারশিপ,যেটা শেষ উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চও বটে। একের পর এক শর্ট বলে পুল আর হুক করে মুশফিকুর বাকিদের দেখালো কিভাবে সমান বাউন্সের ফাস্ট পিচে সত্যিকারের ফাস্ট বোলারদের খেলতে হয়। ব্যাপারটার মহিমা পরিষ্কার হচ্ছে না বোধহয়,তাহলে একটা উদাহরণ দেয়া যাক,ডেল স্টেইনের মাত্র ৩ ওভারে রান উঠেছে এই সময় ৩০,যার মাঝে রয়েছে ১টা ৬ আর ৪টা ৪ আর ৩টা ২। ১টা বল বাদে সব ক'টাই ছিল শর্ট বলে পুল আর হুক থেকে। সাহসী ব্যাটিং,দেখেও আনন্দ। তারচেয়েও বড় আনন্দ স্টেইনের আস্ফালন,এনটিনির ক্যাচ ছেড়ে দেঁতো হাসি দিয়ে সেটা থামানোর চেষ্টা,মরকেলের হতাশায় শূন্যে লাথি ছোঁড়া আর স্মিথের গোমড়া মুখ দেখা,যে আনন্দ ক'দিন আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও মুশফিক আমাদের দিয়েছিল।

অবশেষে,২৫০ রানে,এনটিনি পায়ে টান পড়ায় মাঠ ছেড়ে যাওয়ায় তার বদলে বল করতে আসা মন্ডে জন্ডেকির বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরত আসা মুশফিকুরের আউট হবার মাধ্যমে শেষ হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। মুশফিকের ৮৪ বলে খেলা ৬৫ রানের ইনিংসে ৯টি চার,২ টি ৬। তবে এরপরেও আশরাফুল বা টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা কিছু শিখবে,এমন আশা করতে পারছি না বেশি একটা,যার মুখ বড় সে কাজে প্রায়ই বড় হয়না,গুরুজনরা তাই বলে থাকেন।

যারা মাহবুবুল আলমের অবদানটা এখনো বুঝতে পারেননি,তাদের জন্য বলি,৫৬ রানের পার্টনারশিপে এই বোলারের অবদান মাত্র ১,কিন্তু ২৮টি বল ঠেকিয়ে দলের রানটাকে ২৫০ এ নেয়াই যেত না এই সহায়তাটুকু না পেলে। আহা,কবে যে অন্যরা এই ঠেকানোটা অন্তত শিখবে!

[শেষ খবর,দক্ষিন আফ্রিকা ১৭/১। আরো একটা যেতে পারতো,কিন্তু আমলার বিরুদ্ধে নিশ্চিত কট বিহাইন্ডের আবেদন আম্পায়ার প্যাঁচা মুখ করে প্রত্যাখ্যান করলেও রিপ্লেতে সেটা আউটই দেখা গেছে। ছোট দলের এটাও এক সমস্যা,সব সিদ্ধান্তই তাদের বিপক্ষেই যায়।]
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৪২
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×