আমার প্রিয় পোস্ট
- বিবিসির অসাধারণ একটি ডকুমেন্টারিঃ সেরা সাই-ফাইও হার মানবে - বিডি আইডল
- উইকিপিডিয়াতে লেখা সাজাবার সহজ উপায়-(পর্ব-১) - সাদাচোখ
- প্রিয় খাবারের তালিকা, উগ্র রসনা বিলাস - সাঈফ শেরিফ
- ব্যক্তিগত কথা: শুদ্ধতা - জ্বিনের বাদশা
- প্রমিত বাংলা বানান রীতিঃ সচরাচর সমস্যা করে এমন শব্দের একটি সম্ভার! - ম্যাভেরিক
- আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারের পতন ও ফাইনান্সিয়ালাইজেশানের সংকট - দিনমজুর
- ০: একটি স্বর্গীয় পরিভ্রমণের গল্প (সম্পূর্ণ) - ম্যাভেরিক
- ইজরায়েলের জবানবন্দী:: তেলআবিবে বিপন্ন মানবতা আর আত্মরক্ষার অধিকার !! - মেহরাব শাহরিয়ার
- অগুনিত মেহেরের গল্প। - সৌম্য
- ট্রেকিং, ব্যাগ পেকিং আর হাইকিং, এডভেঞ্চারের সাথে মিশে যান প্রকৃতির সাথে - সৌম্য
- ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৫০ (যা চেয়েছি, যা পাবো না --সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ) - আবদুর রাজ্জাক শিপন
- ব্লগারস ব্লাড ব্যাংকঃ ১২৯ ব্লগারের তথ্য (আপডেট পোস্ট) - ফিউজিটিভ
- যুক্তরাষ্ট্রে ফান্ডিং নিয়ে পড়তে আসুন -২ (GRE)। - কুম্ভকর্ণ
- হার-জিত - আশরাফ মাহমুদ
- একদিন এক বাদলা দিনে। - কোলাহল
- বৃষ্টিমুখর দিনরাত্রি - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- ফিরে দেখা ইতিহাস : ভাষা আন্দোলনের দিনপন্জী (১৯৪৭-৫৬)। উৎসর্গ - সকল ভাষাশহীদকে - মিরাজ
- টানেলের শেষেও শুধু অন্ধকারের গান - সন্ধ্যাবাতি
- কখনও স্মৃতি পাহারা দেবার সময় আসে - মাহবুব মোর্শেদ
- সন্ধ্যা ৪ - মাহবুব মোর্শেদ
- সাংবাদিকতার গায়ে 'হলুদ' - ফয়সল
- আজ শ্রাবনের আমন্ত্রনে... - আস্তমেয়ে
- গুগল কথন - ৪ : ব্রিন আর পেইজের কথা - রাগিব
- হারিকেন - দ্য ডিভাইন উইন্ড (৩) - তানভীর
- ঢাকা, মৃতের শহর । । ঢাকা, সিটি অব দ্যা ডেড । । টাইম ম্যাগাজিন। সোমবার, মে ৩, ১৯৭১ - এহহামিদা
- ৭১ এর সকল বীর সেনানীর পক্ষ থেকে: ২০০৭ এর প্রজন্মের Xদফা দাবী - জ্বিনের বাদশা
- : আমাদের ক, খ, গ, ঘ, এবং ঙ : - নজমুল আলবাব
- জরুরি অবস্থার অগল্প - হিমু
মানুষ
১৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:০৭
রাত বাজে ১১টা ৩০, দাঁড়িয়ে আছি সিলেট শহরে, সৌদিয়া বাস কাউন্টারের আশপাশে ঘুরঘুর করছি। এই সময়ে এখানে ঘুরঘুর করার কথা না, কর্মফল ভোগ করছি বলা যায়, বন্ধুদের সাথে মাধবকুণ্ড গিয়েছিলাম, পথে বিশাল ঝগড়া করে সিলেট শহরে নেমেই আলাদা হয়ে গেছি। ৩ জন গেছে একদিকে, এই বান্দা অন্যদিকে, নিজেই সিলেট ঘুরবো এমন একটা জেদ। ব্যাপারটা ঠিক কতখানি মূর্খের মত হয়েছে সেটা টের পেলাম আধা ঘণ্টা পরেই, যখন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে একটা হোটেলে ঢুকে শুনলাম রুম খালি নেই, এবং তার ১৫ মিনিট পরে আরো এক হোটেলওয়ালা একই বুলি ঝাড়লো। আমার বরাবরই সন্দেহ ছিল আমার চেহারায় একটা চোর চোর ভাব আছে, দু'টো হোটেলওয়ালা একই ভঙ্গিতে খেদিয়ে দেয়াতে মোটামুটি নিঃসন্দেহ হয়ে গেছি। কিন্তু এই নো দাইসেলফে কোন উপকার হচ্ছে না, এক ম্যানেজারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম কোন হোটেলে রুম পাওয়া যেতে পারে, জবাবে যে হোটেলটা দেখিয়ে দিল সেটার এক রাতের ভাড়া ৮০০ টাকা, ওখানে থাকলে ঢাকা ফিরতে হবে হেঁটে, নয়তো শাহজালালের মাজারে গিয়ে ভিক্ষা করে।
কাজেই এখন বাস কাউন্টারের আশপাশে ঘুরে ঘুরে ভাবছি রাতটা থাকবো নাকি ঢাকার বাস ধরবো, নাকি শাহজালালের মাজারেই রাত পার করার চেষ্টা করবো। একবার এগোই একবার পিছাই, এরমাঝেই মোবাইল বের করে দেখে ফেলেছি ১২টা বাজে প্রায়। এমন সময় দেখি কানে মোবাইল নিয়ে কথা বলতে বলতে এক ছেলে বের হচ্ছে, বয়স আমার চেয়ে কিছু বেশিই হবে, ফর্সা, চেহারা দেখে ভরসা হলো যে কিছু জিজ্ঞেস করলে ধাতানি দেবে না। আস্তে আস্তে এগিয়ে গিয়ে পাকড়াও করলাম, জানালাম যে মাধবকুণ্ড গিয়েছিলাম, ফিরতে রাত হয়ে গেছে, কোন হোটেলে রুম পাচ্ছি না। একা মাধবকুণ্ডে গিয়েছিলাম সেটা বিশ্বাস করা মুশকিল, কি ভাবলো কে জানে, তবে খানিক চিন্তাভাবনা করে জানালো, তা পরিচিত হোটেল আছে একটা, ভালই মোটামুটি, কম ভাড়াতেই থাকতে পারবো। সেদিকেই নাকি যাচ্ছে, চাইলে আমাকে নামিয়ে একটা ব্যবস্থা করে দিতে পারে। মনে মনে ভাবলাম, নিলে তো নেবে মোবাইলটা, বড়জোর কয়টা টাকা, তা এখানে থাকলেও কেউ না কেউ নেবে, উঠেই পড়ি। আল্লাহর নামে রওনা দিলাম। পথে জানলাম, নাম তামীম, সিলেটের বেশ বনেদী পরিবারের ছেলে, অনেকেই নাকি চেনে। ব্যবসা-বাণিজ্য করেন, ঢাকায়ও আছে, প্রায়ই আসা হয়। গল্প করতে করতেই হোটেলে পৌঁছে গেলাম, তালতলা এলাকায়, ম্যানেজার বেশ খাতির করে অর্ধেক ভাড়ায় রুম দিয়ে দিল, যাওয়ার সময় ফোন নম্বর দিয়ে বলে গেলেন কোন সমস্যা হলেই যেন তখনই জানাই। ধন্যবাদ কিভাবে দেয়া যায় ভাবতে ভাবতেই হাওয়া, আমি আসন্ন বিপদ থেকে রক্ষা পেয়ে উপরওয়ালার শুকরিয়া করে ঘুম, একদিনের জন্য অনেক বেশিই হয়ে গেছে।
তামীম ভাইয়ের কল্যাণে মহাঝামেলা থেকে রক্ষা পেয়ে পরদিন জোশ বেড়ে গেল, একা একাই জাফলং আর সিলেট ঘুরে বীরদর্পে ঢাকা ফিরলাম। অবাক ব্যাপার, ফেরার দিনই আবার ফোন করে খোঁজ নিলেন ভদ্রলোক, মা তাঁকে জানালেন, তাঁর এই মহাবেকুব পুত্রকে বিপদের সময় সাহায্য করার জন্য তাঁর কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। আমি নিজে চুপ থাকলাম, কখনো কখনো ধন্যবাদ দিলে অমর্যাদাই করা হয়, কিছু ঋণ শোধ করার ক্ষমতা বিধাতা মানুষকে দেননি।
অতীত থেকে একটু বর্তমানে ফিরি। গতকালকের কথা, সারাদিন অফিস করে বাসায় ফিরেছি, নতুন চাকরি, চরম খাটুনি, সাথে সারাদিন এর-ওর সাথে খ্যাচম্যাচ লেগেই আছে, প্রায় বিধ্বস্ত অবস্থা। ফিরে শুনলাম, সকালবেলা বাবা অফিসের দিকে গিয়ে এখনো ফেরেননি। সেটা মাঝে মাঝেই হয়, মাথা ঘামানোর অবস্থা নেই, কিন্তু ৭টার পরেও না ফেরায় দুশ্চিন্তা শুরু করতেই হলো। এরমাঝেই হঠাৎ মোবাইলে ফোন, বাবার নম্বর থেকে, ধরতেই একটা অপরিচিত গলা শুধালো, আপনার নাম অমুক? বললাম হ্যাঁ, আবার প্রশ্ন, এটা যার নম্বর তিনি কে? বললাম আমার বাবা। সাথে সাথেই জানালেন, বাবাকে কাকরাইলের ইসলামী ব্যাঙ্ক হাসপাতালে নেয়া হয়েছে, মৌচাকের কাছে নাকি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন, সম্ভবত হিট স্ট্রোক জাতীয় কিছু, তিনিসহ আরো ২জন নিয়ে এসেছেন, আমি এখনি যেন যাই। মাথাটা ওলোটপালট হয়ে গেল, অনুরোধ করলাম তিনি যেন কষ্ট করে অপেক্ষা করেন, এখুনি রওনা হচ্ছি। অসহনীয় উদ্বেগ নিয়ে জ্যামের মাঝে এক ঘণ্টা লাগিয়ে হাসপাতালে পৌঁছালাম, জরুরী বিভাগে গিয়ে দেখি একজন দাড়িওয়ালা লোকের সাথে এক ভদ্রমহিলা, সাথে আমাদের বয়সী একটা ছেলে। বাবাকে দেখালেন, অক্সিজেন দিয়ে রাখা, তখনো জ্ঞান ফেরেনি, ডাক্তার জানিয়েছেন সিটিস্ক্যান করাতে হবে ব্রেম হ্যামারেজ হয়েছে কিনা দেখার জন্য, আমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন তারা, বললেই করা হবে।
কথা বলারও সময় নেই, সাথে সাথে ডাক্তারের সাথে কথা বলে স্ক্যানিং মেশিনে ঢোকানো হলো উপরে নিয়ে, এর মাঝেই জানলাম দাড়িওয়ালা ভদ্রলোকের নাম রকিবুল ইসলাম, ভদ্রমহিলার নাম শানু, আর ছেলেটা পদ্মা ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের একজন কর্মচারী। কেউই কাউকে চেনেন না, মৌচাক মোড়ে বাবাকে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যেতে দেখে প্রথমে রকিব ভাই ধরে পদ্মাতে নিয়ে আসেন, শানু আপা এসেছিলেন তাঁর বাবার পরীক্ষা করাতে, একা রকিব ভাই সামলাতে পারছেন না দেখে নিজের বাবাকে বিদায় করে শানু আপা এগিয়ে আসেন, এরপর থেকেই আছেন। পদ্মার ঐ ছেলেটাকে নিয়ে ৩ জন এসেছেন হাসপাতালে, জরুরী বিভাগে ভর্তি করেছেন ছোটাছুটি করে, অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনেছেন, ডাক্তার আর কর্মচারীদের বলেকয়ে অক্সিজেন আর স্যালাইন দেবার ব্যবস্থা করেছেন, এবং বাবার মোবাইল থেকে ১০-১৫টা জায়গায় ফোন করে অবশেষে আমাকে খুঁজে পেয়েছেন, এবং এরপরেও আছেন আমাদের সাথে।
কথা শুনতে শুনতেই সিটিস্ক্যানের ফলাফল পাওয়া গেল, ভাল খবর হলো রক্তক্ষরণ হয়নি, তবে জরুরীবিভাগের চ্যাঙরা ডাক্তার ঝুঁকিতে নেই, পাঠালেন উপরে বুড়ো ডাক্তারের কাছে। আবার স্ট্রেচার নিয়ে ছোটা, ফর্ম পূরণ করা, আমি নিজেকে ঠাণ্ডা মাথার মানুষ দাবী করতে পারি না, রকিব ভাই একাই সব করলেন, শানু আপা তখন মায়ের সাথে। বুড়ো ডাক্তার জানালেন, একদিন হাসপাতালে রাখলে ভাল হয়, ওষুধপত্র দিয়ে দিচ্ছেন। ভর্তি করাতে গিয়ে শুনি, সিট নেই, হাতেপায়ে ধরেও লাভ হলো না। আমার হতভম্ব মুখ দেখে আবারো রকিব ভাই ছোটাছুটি করে অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করলেন, বুড়োর কাছ থেকে বারাকাহ জেনারেল হাসপাতালে একটা কেবিন দেয়ার চিঠিও লেখালেন। সব নিয়ে যখন আমরা রাজারবাগের পথে, রাত তখন সাড়ে দশটা।
বারাকাহ হাসপাতালে যেতে যেতেই বাবার জ্ঞান ফিরলো, কথাও বললেন। সেখানে গিয়ে দেখি, ওটাকে হাসপাতাল না বলে খোঁয়াড় বলাই ভাল, অব্যবস্থাপনা আর নোংরামির চূড়ান্ত উদাহরণ। কেবিন দেখে মনে হলো, এখানে থাকলে সুস্থ মানুষ অসুস্থ হয়ে যাবে। এরমাঝেই জরুরী বিভাগের ডাক্তার দেখে বললেন, জ্ঞান যখন ফিরেছে আর মস্তিষ্কে যেহেতু রক্তক্ষরণ হয়নি, বাড়ি নিয়ে যেতে পারি, এমনিতেও এখানে আর তেমন কোন সেবা পাবো না। পরামর্শের জন্য তাকালাম ২ হিতৈষীর দিকে, দু'জনই বাড়ি নেবার জন্য মত দিলেন। এরমাঝেই এক আত্মীয় চলে এসেছেন, বাসায় নেবার জন্য লোক পাচ্ছি, ২ জন বিদায় চাইলেন। এবারও আর ধন্যবাদ বা কৃতজ্ঞতা জানানোর চেষ্টা করলাম না, এমন মানুষদের ধন্যবাদ জানানোর মত মানুষ এখনো হয়ে উঠতে পারিনি।
কথা অনেক বাড়িয়ে ফেলেছি, ২-১টা কথা বলেই ইতি টানি। মায়ের কাছে জানলাম, রকিব ভাই বিকম পাশ করেছেন, আগে কোন একটা ওষুধ কোম্পানিতে ছিলেন, বিদেশ যাবার চেষ্টা করে টাকাপয়সা অনেক গেছে, এখন কিছু করেন না, ছোটখাটো কিছু করা যায় কিনা চেষ্টা করছেন। আমার কুটিল মনে প্রশ্ন জাগলো, বাবার পকেটে মোবাইল ছিল, সাড়ে আট হাজার টাকা ছিল, একজন মানুষ যার টাকার প্রয়োজন, কিভাবে সবকিছুকে উপেক্ষা করে, এমনকি অজ্ঞান বা মৃতপ্রায় রোগী বহনে কত বেশি ঝুঁকি সেটা জেনেও এভাবে না খেয়ে না ঘুমিয়ে একজন অপরিচিত মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে কিভাবে? শানু আপার কথা ভেবে মনে হলো, যেখানে সবাই শুধু দায়িত্ব এড়াতে চায়, একজন সাধারণ মানুষ তখন অতিমানবী হয়ে ওঠেন কোন শক্তিতে? খানিক পরে হাল ছেড়ে দিলাম, আমার মত ক্ষুদ্র নিচুমনের মানুষের পক্ষে সত্যিকারের মানুষের কাছাকাছি হয়ে ওঠা কখনোই হবেনা। রাস্তায় পড়ে থাকা মানুষ দেখে যে উটকো ঝামেলা ভেবে ঝটপট কেটে পড়ি, সে কিভাবে খাঁটি মানুষের মন বুঝবে?
মাঝে মাঝেই জীবনের দিকে আর মানুষের দিকে হতাশ হয়ে মানুষের দিকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলি, এমন একটা পেশায় আছি যেখানে প্রতিনিয়তই মানুষের নীচতা, শঠতা, ভণ্ডামি দেখতে হয়, পৃথিবীতে মানুষ নামের জীবটার খুব অভাব বোধ করি তখন। তামীম ভাই, রকিব ভাই, শানু আপা, আর নাম না জানা পদ্মার সেই কর্মী-- আপনাদের যদি জীবনরক্ষার কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই, সে হবে আপনাদের অনেক বেশি ছোট করা, বরং কৃতজ্ঞতা জানাই এই ক্ষুদ্র মানুষের নিজেকে ভাল মানুষ ভাবার অহংকার ভেঙে দেয়ার জন্য, নিজের ক্ষুদ্রতা আরেকবার দেখে নেবার সুযোগ দেয়ার জন্য, আর মানুষকে বিশ্বাস করে ঠকে যাওয়াও ভাল সেটা আরো একবার ভাবানোর জন্য, ধরার বুকে স্রষ্টার করুণাধারা বারবার অনুভব করানোর জন্য।
স্রষ্টার পৃথিবীর আনাচেকানাচে যেসব "মানুষ" আমাদের প্রতিদিন মানুষ হতে শেখাচ্ছেন, তাঁদের প্রতি এই অধমের নতমস্তকে অভিবাদন এবং কৃতজ্ঞতা।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): নিত্য জীবন ক্ষিপ্ত ভাবনা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: নিত্য জীবন ক্ষিপ্ত ভাবনা বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
প্রণব আচার্য্য বলেছেন:
++
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, শুধু ব্যক্তিগত কৃতজ্ঞতা ঐ মানুষগুলোর দিকে।
সোহায়লা রিদওয়ান বলেছেন:
'' স্রষ্টার পৃথিবীর আনাচেকানাচে যেসব "মানুষ" আমাদের প্রতিদিন মানুষ হতে শেখাচ্ছেন, তাঁদের প্রতি এই অধমের নতমস্তকে অভিবাদন এবং কৃতজ্ঞতা।''
লেখক বলেছেন: সামনাসামনি ওটা বলে আর তাঁদের ছোট করতে পারিনি।
তানজীব আহমেদ বলেছেন:
মানুষ মানুষের জন্য....
লেখক বলেছেন: অনেকবারই প্রমাণ পেয়েছি।
চাষী বলেছেন:
এখোনো অনেক ভালমানুষ আছে।
লেখক বলেছেন: অনেক দেখেছি।
জনৈক আরাফাত বলেছেন:
চমৎকার যে দু'টি উদাহরণ দিলে, আসলে আমাদের মানুষ হিসাবে আমাদের এটি সাধারণ প্রত্যাশা হওয়া উচিৎ ছিলো। কিন্তু, আমরা মূল থেকে এত বেশি দূরে সরে এসেছি যে, এই সাধারণ দায়িত্বগুলো-ই বাড়তি নজর এনে দিলো! তাদের জন্য শুভকামনা। আংকল কেমন আছেন এখন?
লেখক বলেছেন: আমরা মনে হয় পাথরমানব হয়ে গেছি, তারমাঝেও সত্যিই কিছু মানুষ রয়ে গেছেন।
আব্বা এখন মোটামুটি সুস্থ।
ক্ষুদ্রতার উর্দ্ধে উঠার চেষ্টাকে অনেক আবার বোকামি ভেবে হাসাহাসি করে -- তখন খুব খারাপ লাগে।
~~
+++++++
লেখক বলেছেন: বোকা মানুষ না থাকলে এতদিনে পৃথিবী অচল হয়ে যেত, বেঁচে থাক তারা।
ভেবে ভেবে বলি বলেছেন:
ছোট্ট একটি অনুরোধ--- আপনিও সবসময় চেষ্টা রাখবেন এভাবেই মানুষের বিপদে এগিয়ে আসার, তাহলেই তামিম ভাই, রকিব ভাই বা শানু আপার মত মানুষগুলোর প্রতি আপনার ঋণ কিছুটা হলেও শোধ হবে।
লেখক বলেছেন: স্রষ্টার শিক্ষা, প্রায়ই ভুলে যাই, এইসব মানুষেরা মনে করিয়ে দেন।
দন্ডিত বলেছেন:
প্রিয়তে নিলাম, পরে পরব। আপাতত মাথা ব্যাপক গরম আছে।
লেখক বলেছেন: মাথা গরমের কারণ কি?
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, সত্যিকারের মানুষ।
বেঁচে আছি, খারাপ না। আপনি তো উধাও হয়ে গেলেন।
এমন মানুষের দেখা মাঝে মাঝে মিলে, সবসময় শ্রদ্ধাবোধ কাজ করে এমন মানুষগুলির জন্য।
আমরা মনে হয় এখনো অমানুষ হয়ে যাইনি।
লেখক বলেছেন: অন্তত মানুষ কাকে বলে সেটা এখনো দেখিয়ে দেবার মানুষ আছে।
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
এমন সব মানুয়েরা আছে বলেই পৃথিবীটা এখনো আনন্দময় মনে হয়.....
লেখক বলেছেন: বেঁচে থাকার মত মনে হয়।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
আবদুল্লাহ আল মনসুর বলেছেন:
পৃথিবীতে এখনো সত্যিকারের প্রকৃত মানুষ দেখা যায়..
লেখক বলেছেন: যায়, অবশ্যই যায়।
এডভোকেট বলেছেন:
ভাল মানুষ , ভাল মানুষের খোজ পায়।
লেখক বলেছেন: অথবা মানুষ হবার চেষ্টা করতে চাই।
আহমেদ রাকিব বলেছেন:
খুবই চমৎকার একটা পোষ্ট। অনেক ভাল লাগলো ফারহান ভাই।
লেখক বলেছেন: কালকে থেকে একটা অদ্ভুত অনুভূতির মাঝে আছি। টাকা না হোক, অন্তত মোবাইলটা যদি কেউ নিয়ে যেত, বাবার খবর জানতেই পারতাম না কোনকালে।
অদ্রোহ বলেছেন:
বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর ।এই কুটিল দুনিয়ায় এমন মানুষরা আছে বলেই তো আমরা তাদের ওপর বিশ্বাস করে বেঁচে আছি ।
লেখক বলেছেন: কোথাও না কোথাও কাউকে থাকতে হবে যাদের জন্য স্রষ্টা পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রাখেন।
অ্যামাটার বলেছেন:
মিক্স...,হয়ত বীতশ্রুদ্ধ হয়েপড়েছি, বিশ্বাসও হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের উপর থেকে ধীরে ধীরে, যেদিকেও তাকাই, কেবলই অবিশ্বাস আর সন্দিগ্ধ দৃষ্টি, স্বার্থপরতায় ভরপুর;
তবু কারো নিঃস্বার্থ হাত বাড়ানোয় নতুন করে বিশ্বার স্থাপন করতে ইচ্ছে হয়!
লেখক বলেছেন: বিশ্বাস তো করতে হয় কখনো কখনো।
কিংকর্তব্যবিমূঢ় বলেছেন:
এইরকম মানুষদের কথা শুনলে মন ভালো হয়ে যায় ... এখনো আশা আছে ভাবতে ইচ্ছা করে ...খুব ভালো লাগলো পড়ে ...
তোমার বাবা এখন কেমন আছেন?
লেখক বলেছেন: মাঝে মাঝেই যখন সবকিছু ছেড়ে পালাতে ইচ্ছা করে তখনই এমন কিছু ঘটে যার জন্য আবার টিকে থাকতে চাই।
এখন মোটামুটি সুস্থ, সামান্য ওষুধপত্র চলছে, তবে ঐ হাসপাতালে রাখলে সুস্থ থাকতো কিনা সন্দেহ। কয়েনের উল্টা পিঠটাও দেখানোর ইচ্ছা ছিল, কিন্তু এদের সাথে ঐগুলিরে আর টানতে ইচ্ছা করলো না।
আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন:
লেখাটা অসম্ভব ভালো লাগলো।'শেষ পর্যন্ত মানুষই মানুষের গা ঘেঁষিয়া বসিয়া থাকে'!
[একটা অনুরোধ করি। সম্ভব হলে এই লেখাটির প্রিন্ট নিয়ে- 'তামীম ভাই, রকিব ভাই, শানু আপা, আর নাম না জানা পদ্মার সেই কর্মী'- এই চারজন মানুষের কাছে পৌঁছে দিন। সবসময় ধন্যবাদ জানানো যায় না বটে, তবে এই ধরনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ তাদেরকে নিজেদের কাছেই সম্মানিত করে তুলবে-- এই সম্মান তাদের প্রাপ্য।]
লেখক বলেছেন: 'শেষ পর্যন্ত মানুষই মানুষের গা ঘেঁষিয়া বসিয়া থাকে'!
এরপরে তো আর কিছু বলার নেই। প্রযুক্তির একটা সুবিধা পাচ্ছি, আজকাল মোবাইলের গুণে সহজে কেউ হারায় না। তামীম ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ আছে, বাকিদেরও যোগাযোগের উপায় আছে, এর মাঝেই তাদের সাথে কথা বলেছি, ভবিষ্যতেও এমন মানুষদের পাশে থাকার ইচ্ছা আছে।
লেখক বলেছেন: হুম।
তৃনভোজী বলেছেন:
মারাত্মক লাগল লেখাটা। দুই লাইন বেশি বুঝলে মাফ করবেন বস, আহমাদ মোস্তফা কামাল এর লাইনে কথাটা কই...একবার ফোন কইরা হইলেও উনাদের ভাল-মন্দ জিগাইয়েন। দে উইল ফিল ভেলুড।
লেখক বলেছেন: যোগাযোগ আছে তামীম ভাইয়ের সাথে, বাকিদের সাথেও কথা বলেছি, ভবিষ্যতেও নিয়মিত যোগাযোগ থাকবে আশা রাখি।
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন:
মানুষের উপর থেকে বিশ্বাস হারানো আসলেই বড়ো ধরনের অন্যায়। লেখাটা ইদানিংয়ের সকল লেখার চেয়ে বেশি ভালো। অনেক অনেক ভালো! পড়ে এই গভীর রাতে মন ভালো হয়ে গেলো!
তাঁদের সাথে যোগাযোগ রেখো, যতটা পারো। সেটা তাদের এবং তোমারও ভালো লাগবে।
লেখক বলেছেন: ২ দিন ধরে আমি শুধু ভাবছি মানুষের উপরে ওঠার আর নিচে নামার কোন সীমা নেই, আসলেই বিচিত্র একটা জাত।
মুনিয়া বলেছেন:
অদ্ভুত ভাল লাগে যখন এমন কিছুর সামনে পড়ি- যেটা অনেক আগেই শেষ ভেবেছিলাম!
লেখক বলেছেন: জীবন সম্পর্কে নতুন করে চিন্তা করতে হয় এমন অবস্থায়।
অপরিচিত_আবির বলেছেন:
কেন দেখা হয় না এসব মানুষদের সাথে? ... কেন পারি না আয়নায় দেখা লোকটাকেও এরকম মানুষ বানাতে? ...
লেখক বলেছেন: কি দিয়েছি সেটার হিসাব করি না, শুধু হিসাব করি কি পেয়েছি। যেদিন এইসব লোকদের মত ভাবতে পারবো সেইদিন হয়তো উত্তরণ হতেও পারে।
হাসজারু বলেছেন:
এঁরা আছেন বলেই পৃথিবীটাকে মাঝে মাঝে খুব মায়াময় বলে মনে হয়। ভাল লাগল লেখাটা।
লেখক বলেছেন: বেঁচে থাকা আমাদের এদের জন্যই।
জানজাবিদ বলেছেন:
ফারহান ইজ ব্যাক!.............সেই তীব্র প্রকাশ ভঙ্গী আবার যেন ফিরে পেলাম। কিছু কিছু মানুষের মহত্ত্ব যে কত বিশাল হতে পারে তা নিজে না দেখলে বা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে না গেলে বিশ্বাস হয়না।
লেখক বলেছেন: এমন কিছুর দরকার আছে, তাতে মানুষ হতে না পারি, অমানুষ হওয়া থেকে হয়তো বেঁচে যাবো।
পারভেজ বলেছেন:
আমাদের বিখ্যাত মানুষের প্রয়োজন নেই।দরকার তামীম ভাই, রকিব ভাই, শানু আপা মতো কিছু সাধারণ 'মানুষ'।
খুব ভালো লাগলো পোস্ট টা।
দরকারী।
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, অস্তিত্বের জন্য আমাদের এমন কিছু সাধারণ মানুষই দরকার।
আশিক মাহমুদ বলেছেন:
পোস্টটা পইড়া মনটা ভাল হয়ে গেল।আংকেল ভাল তো?
আর কি নিয়া ঝগড়া করছিলি? হাস্যকর কিছু নিশ্চয়ই?
লেখক বলেছেন: এখন মোটামুটি সুস্থ।
পুরাই হাস্যকর, ঐখানে কই থাকবো সেইটা নিয়া, ঐ কাহিনী আরেকদিন। ![]()
বড় বিলাই বলেছেন:
এরাই সত্যিকারের মানুষ।
লেখক বলেছেন: ঠিক।
ঈশান৭২৮৫ বলেছেন:
আসলেই আমরা বোধহয় পাথরমানব হয়ে গেছি। এইসব মানুষদের দেখে নিজেদের দায়িত্বের কথা বুঝতে পারলাম। আজ আমার সামনে কেউ পড়ে থাকলেও আমরা শুধু তামাশা দেখেই চলে যাই, মনে করি অন্য কেউ দেখবে ব্যাপারটা। কি দরকার ঝামেলায় যাওয়া। এইসব মানুষেরাই প্রকৃত মানুষ যারা এইসব কাজকে ঝামেলা না মনে করে নিজ দায়িত্ব মনে করে। অভিবাদন তাদেরকে।
লেখক বলেছেন: এইটাই কথা, আমরা কাউকে পড়ে থাকতে দেখলে তার টাকা হয়তো মেরে দেব না কিন্তু হাজার ঝামেলার কথা ভেবে ধরে হাসপাতালে কি নিয়ে যাবো?
ফ্রুলিংক্স বলেছেন:
প্রথমেই শ্রদ্ধা উনাদের প্রতি। সময়ের সাথে সাথে এইসব মানুষের সংখ্যা বাড়াতে হবে। না হলে যে সবই নষ্টদের অধিকারে চলে যাবে।আমরা মনে হয় খুব বেশী নিরাশাবাদী হয়ে গেছি। দেশে থাকতে আহত কয়েকজনকে নিয়ে দৌড়াদৌড়ির অভিক্ষতা আছে।
এখন ভাবতে ভালো লাগে।
লেখক বলেছেন: অবস্থা দেখে মাঝে মাঝে নৈরাশ্য আসে না সেটা বলবো না, কিন্তু মানুষই আবার আশাবাদী করে।
যাই হোক বিপদ কাটছে দেইখা শান্তি লাগলো। আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন।
লেখক বলেছেন: কোথাও কোথাও স্তম্ভ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে এরা, আমরা জানিও না।
এখন ভালই আছি, কি হতে পারতো সেটা আর ভাবছি না, খালি আল্লাহর শুকরিয়া।
লেখক বলেছেন: নাহ, ঐটা মৌচাক মোড়েরটা।
আমড়া কাঠের ঢেকি বলেছেন:
মাঝে মাঝে এরকম মানুষের দেখা পাওয়া যায়। কিন্তু নিজের ভেতরটা এমনভাবে পচে গেছে কি বলবো, কারো ভালোমানুষী দেখলে প্রথমেই অস্বাভাবিক ঠেকে...... হায়রে অমানুষ!আংকেল তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুন.....
লেখক বলেছেন: সততা আর সহানুভূতিটাই স্বাভাবিক হওয়া উচিত, কিন্তু যখনসেটা অস্বাভাবিক লাগে তখনই নিজের দিকে একবার ফিরে দেখা লাগে।
লেখক বলেছেন: হাসপাতালগুলির সার্ভিস নিয়া আরেক পোস্ট হইতে পারে, ভাল মানুষগুলির সাথে ঐ অমানুষগুলিরে আর টানলাম না।
এখন ভালই আছে।
মুনশিয়ানা বলেছেন:
ই ব্যাঙ্ক হাসপাতালের দৃশ্যটা যেন চোখের সামনে দেখতে পেলাম, ফারহান। ষ্ট্রেচারো শোয়ানো একজন অসুস্থ মানুষ, আর তাকে আগলে রেখে দাড়িয়ে আছেন মানুষ সদৃশ কিছু এনজেল...আমার ধারনা হাসপাতালে ঢুকে এমন একটা দৃশ্যই আপনি দেখেছিলেন। পুরো পোষ্টটা পড়ে মনটা খুব ভাল হয়ে গেল, যেন এক ধরনের স্বস্তিবোধ...
আমি নিশ্চিত ফারহান, এই দুনিয়ার কোথাও না কোথাও, কেউ না কেউ কৃতজ্ঞ চিত্তে আপনার কথাও স্মরন করে কৃতজ্ঞতা জানায়--- তার নিজের ক্ষুদ্রতা আরেকবার দেখে নেবার সুযোগ দেয়ার জন্য, মানুষকে বিশ্বাস করে ঠকে যাওয়াও ভাল, তাকে সেটা আরো একবার ভাবানোর জন্য, আর ধরার বুকে স্রষ্টার করুণাধারা বারবার অনুভব করানোর জন্য।
হাসপাতালের সেই এনজেলদের ভুমিকায়, তাদের দলে আপনি নিজেও তো কখনো- কোনদিন ছিলেন নিশ্চয়ই...!!
লেখক বলেছেন: কখনো যদি তার ধারেকাছেও কেউ হতে পারি, নিজের জীবনটা খানিক কাজে লেগেছে মনে করবো।
জুল ভার্ন বলেছেন:
"স্রষ্টার পৃথিবীর আনাচেকানাচে যেসব "মানুষ" আমাদের প্রতিদিন মানুষ হতে শেখাচ্ছেন, তাঁদের প্রতি এই অধমের নতমস্তকে অভিবাদন এবং কৃতজ্ঞতা।"- আমিও তাঁদেরকে জানাই আমার শ্রদ্ধাবনত কৃতজ্ঞতা এবং সালাম। লেখক বলেছেন: সবাইকে।
দন্ডিত বলেছেন:
আপনি নাকি আমিন ভাইকে বলছেন যে আপনি লেখার সাবজেক্ট পাইতেছেন না। আমিন ভাই কইল বাংলাদেশের সবকিছুর সমালোচনা আপনি একবার কইরা ফেলছেনআমিন ভাইয়ের জিআরই তো শেষ আশা করি তারা এই লেখা পড়ছেন।
অনেক অনেক সুন্দর লেখা।
যা পড়ে নিজের দিকে তাকিয়ে আতিঁপাতিঁ করে খুজতে বাধ্য হলাম কোন মনুষ্যত্বের অবশিষ্টাংশ কোনদিন প্রয়োগ করেছি কি না।
লেখক বলেছেন: হাহাহাহা, তা আমার স্বভাব খারাপ, চাঁদের উল্টা দিকটাই আগে দেখি। তবে কিছু লোকজন সবসময়ই ব্রাইট সাইড অভ মুন দেখায়া যায়, যাতে একটু মানুষ হই।
নির্ঝরিনী বলেছেন:
চারিদিকে এতো হতাশার খবর শুনে শুনে যখন নিজেও হতাশ তখন এমন খবরে মনটা সত্যিই ভালোলাগায় ভরে যায়!!!!! আশাবাদী করে তোলে।এমন মানুষ আছেন বলেইতো দেশটা এখনো টিকে আছে...তাদের প্রতি রইলো শতসহস্র সালাম এবং শ্রদ্ধা...
লেখক বলেছেন: আশাবাদী হতে শিখি ঝড়ের মাঝেও।
সুবিদ্ বলেছেন:
মানুষের উপর শ্রদ্ধা হারানোকে পাপ বলেছেন রবি ঠাকুর.....তোমার লেখা পড়ে বিশ্বাসটা বেড়ে গেল আরো......সাথে এল ভয়....উল্টো অভিজ্ঞতা হলে আমরা আবার অন্যরকম ভেবে বসব না তো???
প্রোফাইলে লিখেছ "মাথা একটু গরম"----একটু ঠান্ডা করে ফেল ভাইয়া.....আর নতুন চাকরির জন্য শুভেচ্ছা.....
লেখক বলেছেন: এমন সব অভিজ্ঞতার বিপরীতে বাজে অভিজ্ঞতা আমার অনেক বেশি, কিন্তউ এমন ২-১টাই কি যথেষ্ট না?
চেষ্টা করছি শেখার, দেখা যাক কতদূর কি পারি। ![]()
লেখক বলেছেন: আগেই পড়সি তো!
বোহেমিয়ান কথকতা বলেছেন:
চমৎকার লেখা ফারহান ভাই স্রষ্টার পৃথিবীর আনাচেকানাচে যেসব "মানুষ" আমাদের প্রতিদিন মানুষ হতে শেখাচ্ছেন, তাঁদের প্রতি এই অধমের নতমস্তকে অভিবাদন এবং কৃতজ্ঞতা।
লেখক বলেছেন: এদের জন্যই টিকে আছি।
বোহেমিয়ান কথকতা বলেছেন:
*এমন সব অভিজ্ঞতার বিপরীতে বাজে অভিজ্ঞতা আমার অনেক বেশি, কিন্তউ এমন ২-১টাই কি যথেষ্ট না? *এদের জন্যই টিকে আছি।
*আশাবাদী হতে শিখি ঝড়ের মাঝেও
তখন তাড়াহুড়ায় প্রিয়তে নেয়া হয় নাই । প্রিয়ায়িত। কমেণ্ট গুলাও আমার মন ছুঁয়ে গেছে ।
লেখক বলেছেন: সবচেয়ে বড় কথা হলো, নিজেকে আর কখনোই একা মনে হবে না।
ড়ৎশড় বলেছেন:
প্রিয় ফারহান ভাইয়া,আমি প্রথমেই ক্ষমা চাচ্ছি এত দেরীতে লিখাটি পড়ার জন্য।ব্লগ ঠিকমত কয়েকদিন আসতে পারিনি তাই এত চমৎকার একটা লেখা এত দেরীতে পড়ার দুর্ভাগ্য হলো।ভাইয়া আজকাল জীবনে চলতে চলতে প্রায়ই একটা কথা মুখ দিয়ে বের হয়ে আসে, "আমরা আর মানুষ নাই"।আপনি আসলেও ভাগ্যবান কিছু "মানুষের" দেখা পেয়েছেন তাই।
আর শুধু নিজের ক্ষুদ্র মনের কথা ভেবে লজ্জা পায়েননা,আমরা বেশিরভাগই আজকাল ক্ষুদ্রমন নিয়ে রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়াচ্ছি।বেঁচে আছে শুধু ওই দু একজন মানুষ।
লেখক বলেছেন: নিজেকে আমি ভাগ্যবানই ভাবি, নিজে অমানুষ হলেও মানুষের দেখা পেয়েছি বলে।
লেখক বলেছেন: চাকরির যা বেতন ঐ দিয়া পার্টি দিতে গেলে ৩ মাসের বেতন অ্যাডভান্স নিতে হইবো, আগে তো ৩ মাস টিকি। ![]()
রুবেল শাহ বলেছেন:
স্রষ্টার পৃথিবীর আনাচেকানাচে যেসব "মানুষ" আমাদের প্রতিদিন মানুষ হতে শেখাচ্ছেন, তাঁদের প্রতি এই অধমের নতমস্তকে অভিবাদন এবং কৃতজ্ঞতা।'' অসাধারণ লেখা ..................
শুভেচ্ছা রইল
লেখক বলেছেন: ভাল আছেন নাকি ভাই? ![]()
শাফ্ক্বাত বলেছেন:
ফারহান আমি লগাউট করে আবার লগিন করলাম। কমেন্ট করার লোভ সামলাতে পারলাম না।নিজেকে খালি প্রশ্নই করছি, আমার মেয়েকে কি আমি ওনাদের মত হতে শেখাবো, না-কি ঝামেলা এড়ানোর জন্য গা-বাঁচিয়ে চলতে শেখাবো?
সুবিধাবাদীদের সমাজে স্রোতের বিপরীতে এতটা নিঃস্বার্থ পরোপকারী হওয়া পোষায়?
দ্যাখেন, সেই "পোষানো" নিয়েই কিন্তু ভেবেই চলছি। এতটাই স্বার্থপর আমি।
লেখক বলেছেন: সম্ভবত পোষায় না। তামীম ভাইয়েরটা জানি না, খুবই বড় পরিবারের ছেলে, তবে বাকি ২ জনেরই করুণ অধ্যায় আছে জীবনের। অন্তত রকিব ভাইয়ের জন্য কিছু করতে পারলে ভাল লাগতো, কিন্তু নিজেই হাফ বেকার, কোন কিছুই করার ক্ষমতা নেই।
মানুষ এমনটা না করলে তবে মানুষ কেন ??
তারপরও অবাক হই !! আমি কি পারতাম এমন মানুষ হতে ? জানিনা ....
তবে কি আমরা অমানুষ হয়ে যাচ্ছি ?
এখনও অনেক মানুষ বেঁচে আছে । এদেরকে দিয়েই ভরসা পাই !!
অফটপিক : লেখাটা কমেন্টসহ প্রিন্ট করে সেই তিনজন কে পাঠানোর ব্যবস্থা কর
লেখক বলেছেন: আমরা তো স্বার্থপর, অন্যদের স্বার্থহীন বোকামি দেখলে তো অবাক হবোই।
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
"স্রষ্টার পৃথিবীর আনাচেকানাচে যেসব "মানুষ" আমাদের প্রতিদিন মানুষ হতে শেখাচ্ছেন, তাঁদের প্রতি এই অধমের নতমস্তকে অভিবাদন এবং কৃতজ্ঞতা।"
এমন মানুষরা আছে বলেই এখনও মানুষের পৃথিবী পুরোপুরি অবাসযোগ্য হয়ে যায়নি ।
লেখার মাঝে একটা দুঃখের টোন আছে, তারপরও ভালো লাগলো, ভালোমানুষদের কাহিনী !
লেখক বলেছেন: ভালমানুষদের শেষটা কতটা ভাল হয় আমি নিশ্চিত না, তারপরেও ভালমানুষরাই পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রাখে নিজেদের নিঃশেষ করে।
নিম গাছ বলেছেন:
পড়লাম ভাল লাগলো। আপনার বাবার সুস্থ্যতা কামনা করি।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
আপনার সাথে আমার অনেক কিছুতেই মেলে না। কারণ আমরা কার্বনকপি না।
তবু আপনাকে ধন্যবাদ আইরিন সুলতানার সাথে যে অবিচার হয়েছে সেখানে সময়োপযোগী কথা বলার জন্যে।
তথাকথিত সুশীল না হয়ে মেরুদন্ডী মানুষ হওয়া অনেক সম্মানের। স্যালুট অন্তত এ মুহূর্তে
লেখক বলেছেন: সবসময় কারো সাথে মিলবে এমন আশা করা ঠিক না, মানুষ পৃথিবীর সবচেয়ে বিচিত্র জীব, তাই না? কিন্তু যখন মানুষের কথা বলার সময় আসে, তখন মানুষকে তো এক কাতারেই দাঁড়ানো লাগে, সেখানে মিল-অমিল খোঁজার সুযোগ তো আসে না। ঐদিন আপনার স্ট্যান্ড দেখে শ্রদ্ধা জেগেছে, সেজন্য স্যালুট জানিয়ে আসা হয়নি, ঐ অক্ষমতা মেনে নিয়ে এখানেই সেটা জানাচ্ছি।
লেখক বলেছেন: আমি ভাগ্যবান।
ধন্যবাদ ।।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।
শেরিফ আল সায়ার বলেছেন:
"মানুষ" শব্দটাই তো আমাদের মত প্রানীগুলো আলাদা করে দিয়েছে। আর মানুষ-অমানুষ বিভেদ তৈরী করে ফেলেছি আমরাই।
আমরাই নিজেদের এতো নিচে নামিয়ে ফেলেছি যে সামনে মহান কোন মানুষ দেখলেই মুখ দিয়ে বেরিয়ে পড়ে, এরাই তো মানুষ।
এধরনের নিঃস্বার্থ মানুষদের জন্যই পৃথিবীটা এখন টিকে আছে। না হলে কবেই গোল পৃথিবী গোল্লাতেই মিশে যেত।
ভালো থাকবেন ফারহান ভাই।
লেখক বলেছেন: মানুষ আছে বলেই আমরা ভাল থাকি, বেঁচে থাকি।
আপনিও ভাল থাকবেন।
এরশাদ বাদশা বলেছেন:
মুরুরব্বীদের প্রায়ই বলতে শুনি, পৃথিবীতে ভালো মানুষের সংখ্যা এখনো খারাপের চাইতে বেশি। যেদিন একটা ভালো মানুষও পৃথিবীতে থাকবেনা, সেদিন নাকি কেয়ামত হয়ে যাবে। এটা একটা বিশ্বাস, অন্ধ বিশ্বাসও হতে পারে। তবে মাঝে মাঝে অন্ধ হতেও ইচ্ছে করে। আংকেল এখন কেমন আছেন ফারহান ভাই?
লেখক বলেছেন: বিশ্বাস নিয়েই তো বেঁচে থাকতে হয়, তাই আছি, মাঝে মাঝে সেটার প্রমাণ পেলে ভাল লাগে।
এখন সুস্থ আছেন।
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
অনেক ধকল গেলো তাহলে..........।
তবে চিনলে মানুষ।
বন্ধুদের সাথে রাগ করে একা একা ঘোরাটা ঠিক করো নাই ফারহান.......পথেঘাটে কত বিপদ হতে পারতো।
তোমার আব্বাকে যারা সাহায্য করেছেন.......তারা অনেক ভালো মনের মানুষ তাতে কোন সন্দেহ নাই।
আমি মনে করি পৃথিবীতে ভালো মানুষের সংখ্যা বেশী।
কোন মানুষ খারাপ থাকেনা.........পরিবেশ ,পরিস্থিতিতে হয়ে ওঠে।
হৃদয়ে বিশ্বাসটুকু ধরে রাখি.......ভালো কিছুর জন্য।
সবসময়কার শুভকামনা।
তোমার বাবার জন্য প্রার্থনা রইলো।
সবাই ভালো থেকো ফারহান।
লেখক বলেছেন: মানুষ আছে বলেই তো ভরসা পাই, হয়তো ভালগুলো লিখছি কিন্তু ডার্ক সাইড অভ দ্য মুন দেখার অভিজ্ঞতাও অনেক, তবে সেটা অন্যদের দেখাতে চাই না। সবাই মানুষের উপর বিশ্বাস রাখুক।
ভাল থাকবেন।
লেখক বলেছেন: যাক তাও তো কিছু লেখা হলো। ![]()
লিপিকার বলেছেন:
+++
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। ![]()
মাহবুবা আখতার বলেছেন:
কি মনে করে লেখাটা পড়ে কমেন্ট করতে ঢুকলাম। এখন কোন কথা মনে পড়ছে না।আল্লাহ উনাদের সবসময় ভালো রাখুন। অন্তত যারা স্বেচ্ছায় বিনা স্বার্থে অন্যদের উপকার করে তাদের বেশিদিন সুস্থ্য সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার মূল্য অনেক। কথাগুলো পড়ে লজ্জা লাগে, কোনদিন তো এগিয়ে গিয়ে মানুষের উপকার করি না.... ভবিষ্যতে যেন করতে পারি এদের মত, নিজের জন্যও এই কামনাটা মনে এল... অনেক ভালো একটা লেখা লিখেছেন, + - দিয়ে এই ঘটনাগুলোর মূল্যায়ন চলে না..... তবু + দিলাম।
লেখক বলেছেন: এমন মানুষদের কাছাকাছিও যদি কখনো হতে পারতাম, বেঁচে থাকার একটা অর্থ থাকতো।
মু্ক্ত মানব বলেছেন:
আপনার বাবার সুস্থ্যতা কামনা করছি।মানুষেরা চিরকাল প্বথিবীকে বাসযোগ্য রাখুন-মানুষের শুভবোধের ওপরে আমাদের বিশ্বাস জাগ্রত রাখুন- এই প্রত্যাশা।
শুভেচ্ছা নিন।
লেখক বলেছেন: বাবা এখন মোটামুটি সুস্থ।
আপনাকে অনেক অনেকদিন পরে দেখলাম, কেমন আছেন?
রোবোট বলেছেন:
আরেকবার প্রমাণ পাইলাম, তোমার মাথা গরম। যাই হোক পরে আবার বুঝতে পারো কাজগুলো ঠিক হয় নাই। এইটাই আশার কথা। মানুষের মধ্যে ভালো দিক আছে। সাধারণত আমরা সেটা জানিনা, বুঝিনা। হঠাৎ হঠাৎ টের পাই।
আমি মানুষকে ভালো জানতে চাই ও জানি। হঠাৎ দুই প্রিয় মানুষে ক্যাচাল হলে বিপদে পড়ে যাই। সেটা ব্লগেও সত্যি। কথাটা মনে রেখো।
বহুদিন পোস্ট নাই তোমার। খবর কি বলোতো?
দেশে আসছি। হয়তো যোগাযোগ হবে।
লেখক বলেছেন: বৈপরীত্য মানুষের সবচেয়ে স্বাভাবিক ব্যাপার, আমার মাঝে সেইটা আরেকটু বেশি। দেশে আসলে একটু আওয়াজ দিয়েন কষ্ট করে, চলে আসবো।
রোবোট বলেছেন:
চাকরি কি আছে? নাহ ছাড়সো? ছাড়লে দেখা হবার আগে পিঠে ছালা বাইন্ধা রাইখো।
লেখক বলেছেন: ছাড়ি নাই, ২ মাস টিকে আছি, যদিও প্রতিদিন সকালে একবার করে ভাবি আজকেই শেষ, কিন্তু হয় না, এই আরকি। ![]()
ব্লগার রা কি এমন লেখা পড়েন না/পড়তে চান না?মনে বার বার এ কথাটাই ঘুরে ফিরে আসছে।
এমন অনেক লেখা চাই,বার বার,অনেক বার।ব্লগার রা দিতে পারবেন?!!
চামড়া দিয়ে ঢাকা কিছু খাঁচা যেনো বহন না করি আমরা,মানুষ বলে ডাকা হয় তো আমাদের?!!সেই মানটুকু রাখার চেষ্টা আর ১ বার শুরু করি।
লেখক বলেছেন: এদের দেখেই আমরা মানুষ হবার চেষ্টা করি।
নকীবুল বারী বলেছেন:
চমৎকার-হৃদয়গ্রাহী.........
লেখক বলেছেন: নকীব, অনেকদিন পরে দেখলাম, আজকাল কোথায় আছো?
আমিই জিনিয়া বলেছেন:
আপনি ভাগ্যবান,ঘোর বিপদে কাউকে পাশে পেয়েছেন।আপনি ভাগ্যবান কারণ সত্যিকারের মানুষ দেখেছেন।
লেখক বলেছেন: নিঃসন্দেহে ভাগ্যবান।
স্বপ্নশহর বলেছেন:
বিপদেই সত্যিকারের মানুষের পরিচয়। আপনি ভাগ্যবান কারণ সত্যিকারের মানুষ দেখেছেন।
লেখক বলেছেন: অনেকবারই।
টক দঐ বলেছেন:
ভাল মনমানসিকতার মানুষ আল্লাহ দুনিয়াতে কমই দিছেন। ভালো লাগলো। +।
লেখক বলেছেন: খুব যখন বিশ্বাস হারিয়ে ফেলি, ঐ দিনের কথা মনে করি, আরো একবার বিশ্বাস ফিরে পাবার জন্য।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...





















