আমার প্রিয় পোস্ট
- বিবিসির অসাধারণ একটি ডকুমেন্টারিঃ সেরা সাই-ফাইও হার মানবে - বিডি আইডল
- উইকিপিডিয়াতে লেখা সাজাবার সহজ উপায়-(পর্ব-১) - সাদাচোখ
- প্রিয় খাবারের তালিকা, উগ্র রসনা বিলাস - সাঈফ শেরিফ
- ব্যক্তিগত কথা: শুদ্ধতা - জ্বিনের বাদশা
- প্রমিত বাংলা বানান রীতিঃ সচরাচর সমস্যা করে এমন শব্দের একটি সম্ভার! - ম্যাভেরিক
- আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারের পতন ও ফাইনান্সিয়ালাইজেশানের সংকট - দিনমজুর
- ০: একটি স্বর্গীয় পরিভ্রমণের গল্প (সম্পূর্ণ) - ম্যাভেরিক
- ইজরায়েলের জবানবন্দী:: তেলআবিবে বিপন্ন মানবতা আর আত্মরক্ষার অধিকার !! - মেহরাব শাহরিয়ার
- অগুনিত মেহেরের গল্প। - সৌম্য
- ট্রেকিং, ব্যাগ পেকিং আর হাইকিং, এডভেঞ্চারের সাথে মিশে যান প্রকৃতির সাথে - সৌম্য
- ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৫০ (যা চেয়েছি, যা পাবো না --সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ) - আবদুর রাজ্জাক শিপন
- ব্লগারস ব্লাড ব্যাংকঃ ১২৯ ব্লগারের তথ্য (আপডেট পোস্ট) - ফিউজিটিভ
- যুক্তরাষ্ট্রে ফান্ডিং নিয়ে পড়তে আসুন -২ (GRE)। - কুম্ভকর্ণ
- হার-জিত - আশরাফ মাহমুদ
- একদিন এক বাদলা দিনে। - কোলাহল
- বৃষ্টিমুখর দিনরাত্রি - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- ফিরে দেখা ইতিহাস : ভাষা আন্দোলনের দিনপন্জী (১৯৪৭-৫৬)। উৎসর্গ - সকল ভাষাশহীদকে - মিরাজ
- টানেলের শেষেও শুধু অন্ধকারের গান - সন্ধ্যাবাতি
- কখনও স্মৃতি পাহারা দেবার সময় আসে - মাহবুব মোর্শেদ
- সন্ধ্যা ৪ - মাহবুব মোর্শেদ
- সাংবাদিকতার গায়ে 'হলুদ' - ফয়সল
- আজ শ্রাবনের আমন্ত্রনে... - আস্তমেয়ে
- গুগল কথন - ৪ : ব্রিন আর পেইজের কথা - রাগিব
- হারিকেন - দ্য ডিভাইন উইন্ড (৩) - তানভীর
- ঢাকা, মৃতের শহর । । ঢাকা, সিটি অব দ্যা ডেড । । টাইম ম্যাগাজিন। সোমবার, মে ৩, ১৯৭১ - এহহামিদা
- ৭১ এর সকল বীর সেনানীর পক্ষ থেকে: ২০০৭ এর প্রজন্মের Xদফা দাবী - জ্বিনের বাদশা
- : আমাদের ক, খ, গ, ঘ, এবং ঙ : - নজমুল আলবাব
- জরুরি অবস্থার অগল্প - হিমু
তবুও ঈদ.............
২৮ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:০৯
২০ বছরের পুরানো রুটিনটা ফসকে যাবার ভয়ে একেকবারে ২-৩টা সিঁড়ি টপকে নামছি। সিঁড়িতে রেলিং নেই, পড়ে গেলে ঘাড় না হোক ঠ্যাং ভাঙবেই, কিন্তু আপাতত সেটা ভাবার সময় নেই, ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে গেছে। আম্মার প্রথম কয়েকটা ডাকে উঠিনি, শেষমেশ ঝাঁটাপেটা করার হুমকি শুনে লাফিয়ে উঠে কোনরকমে ঝপাঝপ গায়ে পানি দিয়ে সেমাই মুখে দিয়েই জায়নামায বগলদাবা করে একলাফে দরজার বাইরে, আজকে নামাযটা ধরতে পারলে হয়। এই দৌড়াদৌড়ি নতুন কিছু না, নিত্যকার চিত্র, বাসার লোকজন অভ্যস্ত। আব্বা আগেই চলে গেছেন নামায ধরতে, এমনিতে তিনিও এই দৌড়ের সঙ্গী থাকেন, এবার কিভাবে কিভাবে যেন পার হয়ে গেছেন।
বাসায় লোকজন বলতে অবশ্য আমরা ৩ জনই, তবে রুটিনের কথা বলতে গেলে আরো অনেকের কথা চলে আসে। এই যেমন দৌড়াতে দৌড়াতেই টের পাচ্ছি, মানুষের শেকড় আসলে অনেক জায়গাতে ছড়িয়ে যায়, যত সময় যায় ততই গভীরে চলে যায়, টেনে তুলতে গেলে মনে হয় আত্মা ছিঁড়ে বের করা হচ্ছে। নিজের মানুষ, ঘরের মানুষ, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, দিন দিন শেকড় শুধু ছড়াতেই
থাকে। সেই একদম ৬ বছর বয়স থেকে, ঢাকাতে ঈদ করলেই, ঈদের সকালে বড় রাস্তায় নামায পড়ে প্রথম নাস্তা করা হয় পাড়াতো বন্ধু কাদিরের বাসায়, নিজের বাসারও আগে। এই নিয়মের ব্যতিক্রম কখনোই হয়নি, এবারো সেটা রক্ষার জন্যই এই ছোটাছুটি। সেই ৫ বছর বয়সে, পাশের বাসার দেয়ালের উপর বসা যে ছেলেটা প্রথম জিজ্ঞেস করেছিল--তোমার নাম কি, সেখান থেকেই প্রথম
বন্ধুত্বের সংজ্ঞা শেখা শুরু। ২১ বছর পার হয়ে গেছে, আমরা এখন যার যার পেশা আর পরিবার নিয়ে ব্যস্ত মানুষ, দু'জনেই বদলে গেছি অনেক, বদলে গেছে আমাদের চারপাশের মানুষগুলো, হারিয়েও গেছে অনেকে, বলয় থেকে, পৃথিবী থেকেও, কিন্তু বদলায়নি আমাদের ঈদের সকাল, সম্ভবত বন্ধুত্বের চেহারাও একই আছে। কবি সুকান্ত বেঁচেছিলেন ২১ বছর, বন্ধুত্বের আর ঈদের সকালে সেই একই বাড়িতে প্রথম সেমাই খাবার ২১ বছর পার হয়ে গেল, জীবনের অর্জনের খাতায় মনে হয় বড় করে এটা লেখাই যায়।
এবারের ঈদে অবশ্য তেমন কিছু করার নেই, বন্ধুবান্ধবরা তেমন কেউ নেই। ২ বছর আগেও ঈদের আগের রাত থেকে ঈদের পরের রাত পর্যম্ত মোটামুটি ১০ জনের একটা দল বের হয়ে যেতাম ঢাকা চক্কর দিতে, হিসেব করে দেখলাম এবার আছি মাত্র ৩ জন, বাকি সবাই পেশাগত কাজে হয় ঢাকার বাইরে নয়তো দেশেরই বাইরে, আগামী বছর সম্ভবত কেউই আর ঢাকাতে থাকবে না। দেশের বাড়িতে গেলেও ম্যালা লোকজন, কিন্তু আস্তে আস্তে সেখানেও কমে আসছে, বয়স্করা অনেকেই পৃথিবীর মায়া কাটিয়েছেন যারা পুরো পরিবারকে বেঁধে রাখতেন এক সুতোয়, ভাই-বোনরা একেকজন একেক দেশে একেক শহরে। মানুষ না থাকলে আর শেকড় কোথায়, সেজন্যই আর এই বাস-ট্রেনের হুজ্জোত পার হয়ে যাবার উৎসাহ পেলাম না, এভাবেই বোধহয় ধীরে ধীরে শেকড় উপড়ে আসে।
তো এই ভাসমান শহরে ভাসমান আমার ধান্দা ছিল বাসায় এসে একটা ঘুম দেয়ার, কোরবানির কাজে আমাকে পাওয়া যাবেনা এটা বাবা ধরেই নিয়েছেন। একবার বলেছিলেন বটে গরুটা দেখতে যাবো কিনা, জবাব দিলাম, দুনিয়া সব গরুই হাম্বা হাম্বা করে ডাকে, দেখার কি আছে? তোরে দিয়া কিছু হবে না, এই ধরণের কিছু একটা বলে এরপর আর এ নিয়ে উচ্চবাচ্য করেননি। মানসিক বার্ধক্য মনে হয় ধরেই ফেলেছে, নয়তো একপাল লোকজনের সামনে দাঁত কেলিয়ে সামাজিকতা করতে হবেনা এই সম্ভাবনায় মনে মনে খুশি হয়ে যাবো কেন?
তারপরেও ঈদ উপলক্ষে কিছু একটা করা দরকার, কি করা যায় ভাবতে গিয়ে দেখলাম ঈদ এলে একটু বিপদেই পড়ে যাই এই করা বা না করা নিয়ে। টিভি দেখা বাদ দিয়েছি ম্যালাদিন, ঈদের অনুষ্ঠান দেখার তো প্রশ্নই আসেনা, যতবার টিভি ছাড়ি বস্তাপচা বিজ্ঞাপন ছাড়া কিছুই পাই না, আর কপালজোরে মাঝে মাঝে পাই তারচেয়েও বস্তাপচা নিম্নরুচির হাসির নাটকের নামে কিছু ভাঁড়ামি। আজকাল সাথে যোগ হয়েছে কিছু গানের অনুষ্ঠান যেখানে মিলা টাইপের কয়েকটা সং এসে হুল্লোড় করে আর তারকাকথন জাতীয় কিছু একটা যেগুলোতে সেজেগুজে এসে নেকু নেকু গলায় তারকারা তাদের ঈদ কিভাবে
কাটলো সেটার মুখস্ত বর্ণনা দেন, সাথে বয়ান করেন এবারের ঈদে তারা অস্কার পাবার মত কত দুর্ধর্ষ একেকটা কাজ কত কষ্ট করে করলেন। নিশ্চিতভাবে বলা যায়, সেই দুর্ধর্ষ কাজ দেখলে দুর্ধর্ষতম দস্যু মোহনেরও পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হবার সমূহ সম্ভাবনা আছে।
রাস্তাঘাটে বের হওয়াও আজকে মুশকিল, গরুর গন্ধে ক'দিন ধরেই নাক জ্বলে যাচ্ছে, কেন যেন এটায় কখনোই অভ্যস্ত হতে পারিনি, কোরবানির পরে নাড়িভুড়ি আর গোবরের সুবাস বাড়তি পাওনা। লোকজনের ফূর্তির অভাব নেই, গতবার ঢাকাতে ঈদের দিনেও ট্রাফিক জ্যাম দেখে বুঝেছি দিনকাল আসলেই বদলে গেছে। ঢাকার নারীকূল সম্ভবত আজকাল ঈদের ৩ দিন আগে থেকেই পার্লারে গমন শুরু করে, অন্তত তাদের প্লাস্টার করা মুখমন্ডল আর ইস্ত্রি করা কেশরাজি দেখে সেটাই মনে হয়, আর চাক্ষুষ প্রমাণ দেখলাম গত পরশু। অফিসের পাশেই একটা বিউটি পার্লার আছে, অফিসের পর এক বন্ধুকে আসতে বলে দাঁড়িয়ে ছিলাম ৩০ মিনিট প্রায়, এর মাঝে সেখানে যারা ঢুকেছেন তাদের মাঝে সবচেয়ে কমবয়সীজন হবেন ১৩-১৪ বছরের, সবচেয়ে বয়স্কজন নির্ঘাত ৫০। গাড়ি থেকে নেমে যেমন কেউ
কেউ এসেছেন, তেমনি কাউকে কাউকে দেখে বুঝতে বাধ্য যে কোন পোশাকবালিকাও এই উপলক্ষে একটু সেজে নিতে চায়। চোখ ধাঁধানো বিজ্ঞাপন আর ডিজুসের যুগ এমনই জিনিস, একবার হুজুগটা শুধু ধরিয়ে দিতে হয়, হুজুগে মানুষ এরপর নিজেকে বিক্রি করে হলেও পণ্য আর সেবা কিনবেই কিনবে।
তাই বলে ভাবার কারণ নেই ঈদের এই দিনেও নিরানন্দের কথা বলে সবার আনন্দ মাটি করতে হাজির হয়েছি, বলা যায় খাঁটি খানিকটা আনন্দের খোঁজেই বান্দার আগমন, যেমনটা পাই সকালের ঐ প্রথম সেমাই খেয়ে অথবা বছরে ঐ ২টা দিনই মা-বাবাকে সালাম করে। বন্ধুবান্ধব বিশেষ এখন না থাকলেও যে ৩-৪ জন আছে তাদের নিয়েই শহরের অলিগলিতে ঢুঁ মারবো আজ না হলেও কাল-পরশু, হানা দেব এর-ওর বাড়িতে কিছু খানাখাদ্যের লোভেও। অমুকের বাড়ির সেমাইটা খাঁটি দুধের, তমুকের মা চটপটিটা ভাল রাঁধেন, এর বাড়ির পায়েসটা বেশ, ওর বাড়িতে গেলে গরুর ভুনা বরাদ্দ, মাথায় থাকেই এগুলো। পুরানো মুখগুলোর সাথে দেখা হবে এ সুযোগে, যারা আমাদের হাঁটি হাঁটি পা পা থেকে বড় হয়ে উঠতে দেখেছেন। আনন্দ আর আশীর্বাদে এই একটা দিন হবে আমাদের জন্য মঙ্গলময়, পাওয়ার খাতায় কম বলে ধরি না সেটাকেও।ঈদের নামাযে আর রাস্তায় ঝিকমিকে পোশাকের ফুটফুটে শিশুগুলোকে দেখে স্বর্গের আনন্দের রূপটা পৃথিবীতেই দেখি, এ-ও বা কম কি?
এত আনন্দের মাঝেও তবুও অস্বস্তির কাঁটা কোথায় খচখচ করে, এড়িয়ে যেতে চাই। দেখতে চাই না ধবধবে সাদা নয়তো সূচারু নকশী পান্ঞ্জাবীর পাশে ছেঁড়া ফতুয়ার মলিন চাউনি, অথবা টুকটুকে শিশুর পাশে অবাক চোখে তাকানো ধুলিমাখা দেবদূত। আমাদের আনন্দ যেন ঠিক ওদের জন্য না, আমাদের জগতে ওদের প্রবেশাধিকার নেই। এটাই দুনিয়ার নিয়ম, আমরাও তো কত জায়গায় পা দিতে পারি না, এমন হাতেম তাই হলে চলে নাকি, ভেবেও ঠিক এড়ানো যায় না। ওদের জন্য আজকে শুধুই ২ টুকরো মাংস খাবার দিন। যেখানে দিনরাত গর্জন করে পাজেরো আর বিএমডব্লু, সেই তিলোত্তমা নগরেও বেশিরভাগ লোকে বছরে এক দিন মাংস খায়, হঠাৎ ভাবলে মনে হয় কোন এক দূর নরকের গল্প পড়ছি। সমস্যা হলো, নরকটা আমাদের হাতের নাগালে, অথবা আমরাই নিজের হাতে এই নরক গড়ে তুলেছি অনেক যত্নে। এই নরক থেকেই প্রতি ঈদে উত্তাল নদী পার হতে গিয়ে অতল জলের নীচে চলে যায় অনেক জীবন, কয়েকটা ছাগল আর টিভি চ্যানেলের নাকিকান্না আর ডিপফ্রিজে ঢুকে যাওয়া একটা তদন্ত রিপোর্ট দিয়ে যেসব জীবনের দাম নির্ধারণ করি আমরা। এসব জীবনের দামে ঈদ করেন আমাদের বড়বাবুরা, তাদের সিঙ্গাপুরের ঈদ শপিংয়ের দাম দিতে গিয়ে মেঘনার অতলে লক্ষ মানুষের কবর হলেই কার কি? এই গল্প লেখা হয় প্রতিদিন প্রতিবেলা, এই গল্প পড়ে আমরা একটু আনমনা হই, এই গল্প পড়ে আমরা ছোট একটা শ্বাস ফেলি, এরপরে গল্পটা ডাস্টবিনে ফেলে আমরা কাঁধটা ঝেড়ে সামনে পা বাড়াই। এভাবে পেছনে তাকালে চলে না, এভাবে পেছনে তাকানো যায় না, এভাবে তাকালে আনন্দ করা যায় না। আমাদের এই আনন্দনগরের বাসিন্দাদের কাছে এসব দুঃখী গল্পের কাগজে কিংবা আন্তর্জালে খানিক বাহবা কুড়ানো ছাড়া আর কোন মূল্য নেই, এ শহরের বাসিন্দারা নিরন্তর উড়ছে অলৌকিক এক সুখের ফানুসের পেছনে। আসুন, আমরা আজ আনন্দ করি, আজ আমাদের ঈদের দিন, আসুন, আজ আমরা সব কিছু ভুলে অতিপ্রাকৃত সেই ফানুস জ্বালাই।
যত যাই হোক, আজ তো ঈদের দিন, নষ্ট মানুষের পাপে পিষ্ট এই নষ্ট শহরের খুশির দিন।
সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ঈদ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: নিত্য জীবন ক্ষিপ্ত ভাবনা বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৫৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: ঈদ মোবারক।
ম্যাভেরিক বলেছেন:
হ্যাঁ, স্থান ও কাল যা-ই হোক, আনন্দ হোক অনাবীল।
লেখক বলেছেন: তাই হোক।
----------------অসাধারণ
লেখক বলেছেন: অবাক লাগে, তাই না? অথচ এটাও এই শহরের গল্প।
লেখক বলেছেন: ঈদ মোবারক আপনাকেও। আনন্দে কাটুক দিন।
ব্রাইটসেন্ট্রাল বলেছেন:
ঈদ মোবারক ফারহান!+
লেখক বলেছেন: ঈদ মোবারক আপনাকেও। ভাল গেল দিনটা?
জানজাবিদ বলেছেন:
ঈদ আছে বলেই গরীব দুঃখী কিছু মানুষের কয়েকটা দিন একটু ভাল কাটে।...................সুন্দর কিছু পর্যবেক্ষণের জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: একই সাথে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় বৈষম্য কি ভয়াবহভাবে বেড়ে চলেছে এখানে, দুঃসময়ের বার্তা এসব। একদিকে লাখ টাকার শাড়ি আর গরু, আরেকদিকে শতকরা ৭০ ভাগ লোকের দু'বেলা খাওয়া নিয়ে টানাটানি।
লেখক বলেছেন: মাঝে মাঝে মনে হয় চোখ থাকা বেশ কষ্টের, না দেখতে চাওয়া অনেক কিছু দেখতে হয়।
মেহবুবা বলেছেন:
ঈদ এবং অন্যান্য আরো কিছু আনুষঙ্গিক বিষয়ের মধ্য দিয়ে আমরা নিজেদের মানুষ হিসেবে দেখতে পারি । আপনার লেখার মধ্যে ঈদের দিনের বৈচিত্রের ছড়াছড়ি ।
লেখক বলেছেন: কতটা মানুষ হয়েছি তাই ভাবি, শেষমেশ তো চোখ ফিরিয়ে সেই নিজের আনন্দই খুঁজি।
লেখক বলেছেন: ঐভাবেই আরকি, অয়েলস্কিনের উপর পানি, এর বেশি আর কি করতে পারি?
ত্রেয়া বলেছেন:
তাই তো,,কিন্তু এই নরকের গল্পের দায়ভারও তো আমাদেরই।আবার এই ডিজুস জুগের সূচনার পেছনেও আছি আমরা...সুতরাং আনন্দ না করে উপায় কি......একটু কৈশরের সময়কার ঈদগুলো মনে পরে মনে হয় সেগুলো যেন আরো বেশি ঈদময় ছিল।এখন যেন সব উৎসবই পন্যের প্লাস্টারময়...সবকিছুতেই শুধু বাহ্যিক দেখ দেখানির কচকচানি।আন্তরিকতার একটা অভাব পুরো নগর জুড়েই।
তবুও তো ঈদ...ঈদ মোবারক আপনাকে।
লেখক বলেছেন: সবখানেই মেকি মেকি, শুধু দেখনদারির প্রতিযোগিতা, প্রাণ কোথায়? তবুও ঈদ, তবুও আপনাকে ঈদ মোবারক।
লেখক বলেছেন: কি আর করবেন ভাই, আপনারে কষ্ট দেয়ার জন্য খুবই দুঃখিত। বরং একটা ঈদ মোবারক নিয়া যান।
জনৈক আরাফাত বলেছেন:
ইদ মোবারক, তারপরও। ভাবছিলাম ঘুমায়া সারাদিন পার করে দেবো। কিন্তু পারলাম আর কই? বিকেলে যেতেই হলো মিরপুর। ফিরলাম কিছু আগে।
লেখক বলেছেন: কাজকর্মে গেলেন নাকি আড্ডা মারতে? আমি ঘুমায়াই পার করসি।
আকাশচারী বলেছেন:
হাম্বা মোবারক। গরু কেমন খাইলেন ?
লেখক বলেছেন: আপনারেও হাম্বা মোবারক। খাইলাম অল্পস্বল্প, খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে আমার দিলচসপী একটু কম। ![]()
সোহায়লা রিদওয়ান বলেছেন:
আমার ঈদ কিঞ্চিৎ অন্যরকম হয় । আপনার লেখার কিছু কিছু সুর এর সাথে মেলে ... শেষ টুকু ভিন্ন রকম ভালো লেগেছে..... অতি প্রাকৃত ফানুস টা বোঝার চেষ্টা করছি!ঈদ মুবারক ফারহান ভাই।
লেখক বলেছেন: আমিও বোঝার চেষ্টা করছি। ঈদ মুবারক।
লেখক বলেছেন: দেখলাম।
লেখক বলেছেন: আমরা নাহয় বুড়া হইসি, তোমাদের তো এত নিরামিষ কাটার কথা না। ঈদ মুবারক।
দন্ডিত বলেছেন:
আমার ঈদ যায় ঘুমাইয়া। পুলপানরে সন্ধ্যার আগে পাওন যায় না। টানা চতুর্থবারের মত আমি আমদের গরু খাবার প্লেটে আসার আগপর্যন্ত দর্শন থিকা বিরত থাকলাম।কালকে এক জলপাই বন্ধু ন্যাংটা ৯৫ কিনা আমাদের মুভ এন পিকে খায়াইতে নিয়া গেছিল।
কে কয় আনন্দ নাই। পেটে লাথি না মারলে আনন্দ জমে না। প্লাস্টিক মনুষ্য আকৃতির আনন্দমানব/মানবী দেখলাম অনেক।
আইসক্রীম টা পুরা খাইতে পারি নাই। পুলাপাইন গাইল দিছে ভাব মারতেছি কইয়া।
ইদানিং খুব অল্পতেই বমি আসে।
লেখক বলেছেন: সেইটাই, অন্যেরটা কাইড়া না খাইলে আনন্দ হয় না। এক গুলশানে যে পরিমাণ টাকা উড়ে এক বেলায় ঐ দিয়া মনে হয় ঢাকা শহর পুরাটারে এক বেলা খাওয়ানি যাইতে পারে।
লেখক বলেছেন: ঈদ মোবারক।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ঈদ মোবারক।
দূরন্ত বলেছেন:
ঈদ মোবারক
লেখক বলেছেন: ঈদ মোবারক। ভাল আছেন তো?
অ্যামাটার বলেছেন:
আমার এখনকার ঈদও মোটামুটি এ'রকমই, গতানুগতিক। এরপর আর ঢাকায় করব না।
লেখক বলেছেন: বয়সের সাথে আসলে আনন্দ কমে, আর পরিচিতরা ছড়িয়ে যায়। তবে পরের ঈদ কই করবো জানি না, ভবিষ্যতের কথা কে বলতে পারে?
ফেরারী পাখি বলেছেন:
এত সুন্দর করে লিখিস যে কি বলবো। খুঁটিনাটি যাই লিখিস না কেন---মুগ্ধ হয়ে পড়ি। মাঝে মাঝে তোর লেখার গভীরতা উপলব্ধি করি। হয়তো তোর সব ভাবনার সাথে একমত হতে পারিনা। তবু তোর লেখার বেশীরভাগ উপাত্ত উপকরণ আমাকে ভাবায়।নাগরিক জীবনে অনেক আয়োজন করে আনন্দিত হবার সকল প্রচেষ্টাগুলোর মধ্যে আজকের লেখাটা কাঁটার মত খচ খচ করে বিঁধে রইল। বাস্তবতার এই কাঁটাটা উপড়ে ফেলার কোন উপায়ই নেই।
ঈদ মোবারক।
লেখক বলেছেন: সবকিছুতে একমত হয়ে গেলে তো বিপদ, দ্বিমত হবার জন্যই তো ব্লগ।
ঈদ মোবারক, ভাল কাটলো?
লেখক বলেছেন: আসলেই বদলে গেছে। ঈদ এখন অনেক বেশি ব্যক্তিগত, অনেক বেশি দেখানোর খেলা।
ঈদ মোবারক।
ঈশান৭২৮৫ বলেছেন:
ভাই, ঈদ মোবারক। সামুর সাম্প্রতিক কিছু কর্মকান্ডে ব্লগেই আসি না। তবে আপনার পোস্ট দেখে কমেন্ট না করে থাকতে পারলাম না। বয়সের সাথে সাথে আসলেই ঈদ বদলে গেছে। দেশের বাড়িতে ঈদ করি বলে বন্ধুবান্ধব ছাড়াই একা একা ঈদ করি। এবার কাজিনরাও কেউ নাই। তাই খুবই বাজে ঈদ কাটালাম। ভালো লাগল আপনার লেখা পড়ে।
অন্তত তাদের প্লাস্টার করা মুখমন্ডল আর ইস্ত্রি করা কেশরাজি দেখে সেটাই মনে হয়, আর চাক্ষুষ প্রমাণ দেখলাম গত পরশু
এই লাইনটা দারুন পছন্দ হইছে।
লেখক বলেছেন: এমনিতে দেশের বাড়িতে ঈদ করলে খারাপ লাগে না, তাও কিছু লোকজন পাওয়া যায়। বুয়েটে যতদিন ছিলাম ঢাকার ঈদও খারাপ ছিলনা, এখন তো বন্ধুবান্ধব বেশিরভাগই বাইরে।
সামুর কর্ম তারা করসে, তোমাগোটা তোমরা করবা, ছেড়ে দেয়া কোন সমাধান না।
হেহেহে, তোমাগো জেনারেশন, প্লাস্টারের মাজেজা তোমরা ভাল বুঝবা। ![]()
ঈদ মোবারক।
বোহেমিয়ান কথকতা বলেছেন:
হাহা!! আপনে বুড়া হয়া গেছেন!! আমিও ঐ পথে আছি! ঈদ এখন অনেক বেশি ব্যক্তিগত, অনেক বেশি দেখানোর খেলা।
অনেক বড় একটা সত্যি কথা বলে ফেললেন
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, তোমরা এখন র্যাগ কর্নারের মালিক, বুড়া তো বটেই।
![]()
অপরিচিত_আবির বলেছেন:
আপনার মতো অবস্থা এইবার আমারও। তবুও আপনার আব্বাতো আপনাকে হাটে যাবার একটা ডাক দিয়েছিলেন, আমার পিতা আর সেই এনার্জিটুকু নষ্ট করেন নি। এই কোরবানিতে খাওয়া ছাড়া আর কিছু করেছি বলে মনে পড়ছে না। বন্ধু বান্ভকে পেয়েছি ঈদের পরদিন, কারণ বেশিরভাগই ঈদ করেছে গ্রামের বাড়িতে ... কাজেই ঈদের দিন কেটেছে চমৎকার ... আমি আর আমার পুরনো কম্পিউটার
লেখক বলেছেন: হলে ঈদ করলা নাকি? ঈদের সকালে ঝিমাইসি, রাতে পোলাপানের সাথে আড্ডা দিসি, যে ২-৩ জন ছিল। আজকে অবশ্য সকালে ঘুমায়া বিকাল থেকে ২ বাসায় আড্ডা হইসে, যার বাসায় হল্লা করলাম তার বাড়িওয়ালা নোটিশ না দিলেই হয় এখন।![]()
লেখক বলেছেন: এমনিতেই লোকজন এই ঈদে ব্যস্ত বেশি থাকে, আর ঈদ এলেই বাংলাদেশে ধনী-গরীবের বৈষম্যটা এত বেশি প্রকট হয়ে ধরা পড়ে, সারা বছর চোখ বুজে থাকলেও এই সময়ে এটা বাড়াবাড়ি হয়ে চোখের সামনে নাচতে থাকে।
সীমান্ত আহমেদ বলেছেন:
amar to valoi gelo office e bose corporate eid.
লেখক বলেছেন: পয়সা পাইলে খাটতে এত খারাপ লাগে না, তবে ঈদের দিন তো ছুটি পাইসো। আমি আমার মোবাইলই অফ করে দিসি ৩ দিন।
রোবোট বলেছেন:
পোলাপাইন মানুষ হৈলোনা। একটা উপদেশ দেই। সামাজিক কাজে অংশ নাও। বাবার কাজকর্মে পাশে থাকো। ১০-১৫ বছর পরে বুঝবা কেন বললাম।
স্লো কম্পিউটারে +- দেখিনা। ১টা + বেশী ধরে নাও।
লেখক বলেছেন: একটু বেশি আলসে হয়ে গেছি, তবে এখন টুকটাক গা লাগাই বাসায়, তা-ও খুব কম, বেশি আদরে থাকলে যা হয় আরকি। ![]()
ঈদ মোবারক।
আবু সালেহ বলেছেন:
ফারহান ভাই...
ঈদের সময় এইটা কি করলেন???
আপনার পোস্টের সাইজ দেইখা ভয় পাইছি...পড়মু কেমনে তাই চিন্তা করতাছি...
চিন্তা শেষ কইরা নেই...তারপর অন্য কথা......
লেখক বলেছেন: করতে থাকেন, আপাতত ঈদ মোবারক।
লেখক বলেছেন: দেরি না, ৩ দিন পর্যন্ত কোরবানি করা যায়।
আপনাকেও ঈদ মোবারক। ![]()
আইরিন সুলতানা বলেছেন:
তবু্ও ঈদ ..........!
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ,তবুও। ঈদ মোবারক।
কখনো মেঘ, কখনো বৃষ্টি বলেছেন:
হু
লেখক বলেছেন: হুম।
লেখক বলেছেন: আগের মত ব্লগ ফলো করি না রে ভাই, মনোনয়ন দিতে গেলে লেখকদের প্রতি অবিচার হয়ে যাবে।
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন:
যত যাই হোক, আজ তো ঈদের দিন, নষ্ট মানুষের পাপে পিষ্ট এই নষ্ট শহরের খুশির দিন।[/siবাসী ঈদ মোবারক
লেখক বলেছেন: অনেকদিন পরে দেখে আনন্দ পেলাম, পুরানো মুখগুলোকে দেখলে ঈদের আনন্দ বোধ হয়। ![]()
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
এক বাড়িতে ২১ বছর ঈদের সেমাই খেয়েছেন। জলদী গ্রিনিজ রেকর্ডস বুকের কর্তৃপক্ষকে খবর দিন...অনেক কিছুই চারপাশে....অনেক না পাওয়া, অনেক না দেখার ভান...তারপরেও আনন্দের ঈদ......
লেখক বলেছেন: হুম, রুটিনটা গড়বড় হয় না, বরাবরের মত জায়নামাযটাও ফেলে এসেছি। ![]()
আনন্দটা বের করে নেয়ার চেষ্টা করি আরকি।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও।![]()
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
অনেক শুভকামনা.........তোমার লেখাতে অনেকদিন পর আসলাম।
আমাজন এর লেখাটা অর্ধেক পড়েছি.........।
পড়বো সময় করে।
অনেক ভালো থেকো,
ভালো যা তাই হোক।
.........টিভিতে ৮দিন ধরে কত সব অনুষ্ঠান।
এ্যাড এর যন্ত্রনায় একটা নাটক ও দেখা হয় নাই।
শুভেচ্ছা সবসময়কার।
লেখক বলেছেন: ঈদের সময় আমি টিভি বয়কট করি, অন্য সময় যদিও বা ২-৪ মিনিট দেখা হয়। বেশিরভাগ সময় থাকে বিজ্ঞাপন নাহলে ঈদে কি কি অনুষ্ঠান আছে সেইগুলোর বিজ্ঞাপন, কতক্ষণ আর ধৈর্য্য থাকে?
ঈদ কেমন করলেন?
রুদমী বলেছেন:
ভাইয়া দারুন লাগলো আপনার ঈদের বর্ননা। অনেকেই বলে ঈদ গুলো নাকি তাদের জন্য ফিকে হয়ে যাচ্ছে। আমার কাছে কিন্তু এখনো স্পেশালই লাগে।উৎসাহ ও কমে যায়নি একটুও। ইভেন আমার বাসাই আমার উৎসাহ দেখে বলে বারাবারি করতেসি ২১বছর ধে একই বাসায় ঈদের সেমাই খাচ্ছেন, অবাক করার মতই!!
ভালো থাকবেন।
লেখক বলেছেন: এই একটা জিনিসই এখনো বদলায়নি, আর একটা হলো স্কুলের কয়েক বন্ধু মিলে ঈদের আগের দইন থেকে পরের দিন পর্যন্ত ঘুরাঘুরি, সেটা অবশ্য সম্ভবত আগামী বছর থেকে আর হবে না, আমি ছাড়া সবাই-ই দেশের বাইরে চলে যাবার কথা। সময়!
প্রতীক্ষা বলেছেন:
এরপরে গল্পটা ডাস্টবিনে ফেলে আমরা কাঁধটা ঝেড়ে সামনে পা বাড়াই। এভাবে পেছনে তাকালে চলে না, এভাবে পেছনে তাকানো যায় না,এভাবে তাকালে আনন্দ করা যায় না।
এ শহরের বাসিন্দারা নিরন্তর উড়ছে অলৌকিক এক সুখের ফানুসের পেছনে।
লেখক বলেছেন: যে ফানুসের নাগাল আসলে কখনোই আমরা আর পাবো না। উঁচু থেকে উঁচু, আরো উঁচুতে গিয়ে একদিন ধপাস করে পড়ে গিয়ে মনেহবে জীবনে এত কিছুর কোন দরকার ছিল না।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...





















