somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্বকাপ ড্র: কারা পড়লো মৃত্যুকূপে?

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হয়ে গেল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসব গুলোর একটা, বিশ্বকাপ ফুটবলের ড্র। অনুষ্ঠান নিয়ে বেশি কিছু বলার নেই, শার্লিজ থেরনের হাস্যমুখও দর্শকসারিতে থাকা উদ্বিগ্ন কোচদের মুখে বিন্দুমাত্র হাসি আনতে না পারাই বলে দেয় মূল খেলার চেয়ে উৎকণ্ঠার কোন অংশে কমতি ছিল না এখানেও। বরং দেখে নিই কেমন হলো দলগুলোর বিন্যাস।

আপাতত বলা যায় সবচেয়ে সহজ গ্রুপে পড়েছে ইতালি--- প্যারাগুয়ে, নিউজিল্যান্ড আর প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলা স্লোভাকিয়াকে পেয়ে যে কোন ফুটবল পরাশক্তিরই খুশি হয়ে যাবার কথা। যদিও দক্ষিন আমেরিকার বাছাইপর্বে প্যারাগুয়ে ২ এ ছিল, কিন্তু ল্যাটিন ধারার সাথে একেবারেই বেমানান বিরক্তিকর রকমের রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলা এই দলটির বিশ্বকাপের সাফল্য ২য় রাউন্ড পর্যন্তই। কনফেডারেশনস
কাপে নিয়মিত ৪-৫ টা গোল খেয়ে আসা নিউজিল্যান্ড এই বিশ্বকাপের জোকার টিম হবার দৌড়ে বেশ উপরেই আছে, আর নবাগত স্লোভাকিয়া কোন চমক দেখাতে না পারলে এখান থেকে ইতালি আর প্যারাগুয়ের পরের রাউন্ডে যাত্রা খুব কঠিন হবার কথা নয়।

ইতালির উল্টো অবস্থা ব্রাজিলের। গত কয়েকবারই মোটামুটি সহজ গ্রুপে পড়া ব্রাজিলের এবারের গ্রুপ প্রতিপক্ষ ইউরোপিয়ান পরাশক্তি পর্তুগাল, আফ্রিকান জায়ান্ট আইভরি কোস্ট আর ৪৩ বছর পরে বিশ্বকাপ খেলা উত্তর কোরিয়া। ক্রিস্টিয়ান রোনালদো, রিকার্দো কার্ভালহো, ন্যানির মত তারকাসমৃদ্ধ পর্তুগাল আর দিদিয়ের দ্রগবা, কোলো তোরে, সলোমন কালুর মত আফ্রিকান দানবদের সমন্বয়ে গঠিত আইভরি কোস্টের সাথে ব্রাজিল, সব মিলিয়ে এটাকে অনায়াসেই "গ্রুপ অভ ডেথ" বলা যায়। উত্তর কোরিয়া একেবারেই ব্ল্যাক হোলের থেকে উদয় হয়েছে, তারপরেও এই গ্রুপে তাদের বিশেষ কোন সুযোগ নেই বলেই মনে হয়, আর বর্তমান ফর্মের ব্রাজিলেরও পরের পর্বে না ওঠা অঘটনই হবে, কিন্তু "গ্রুপ অভ ডেথ" এ তো অঘটনই স্বাভাবিক ঘটনা।

ব্রাজিলের তুলনায় তাদের ল্যাটিন শত্রু আর্জেন্টিনা বরং অনেক বেশি নির্ভার, অন্তত নাইজেরিয়া, গ্রীস আর দক্ষিন কোরিয়ার পক্ষে বড় কোন অঘটন ঘটানো সম্ভব নয়, যদি আর্জেন্টিনা নিজেরাই চরমতম বাজে না খেলে। একইভাবে সি গ্রুপে ইংল্যান্ডও খুশি হবে বলেই ধরে নেয়া যায়, ৩ দলের মাঝে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ইউএসএ কেই ধরা যায়, যদিও রাশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপে আসা স্লোভেনিয়া আর মিশরের সাথে "যুদ্ধ" জিতে আসা আলজেরিয়ার কাছ থেকে ২-১টা অঘটন দেখতে মন্দ লাগবে না।

বিশ্বকাপে কোন স্বাগতিক দলই কখনো প্রথম রাউন্ডে বাদ পড়েনি, কিন্তু ফ্রান্স, মেক্সিকো আর উরুগুয়ের সাথে এ গ্রুপে থাকা চরম বাজে ফর্মের দক্ষিন আফ্রিকা সেটাই হয়তো প্রথমবারের মত ঘটিয়ে দিতে পারে। ইতিহাসের ধারা রাখতে দক্ষিন আফ্রিকার ব্রাজিলিয়ান কোচ কার্লোস আলবার্তো পারেইরাকে অনেকদূরই যেতে হবে, সন্দেহ নেই। তবে কষ্ট করতে হবে না স্পেনের কোচকে, ভয়াবহ ফুটবল খেলে বাছাই পর্বে ১০ ম্যাচের সবক'টিতেই জয় পাওয়া স্পেনের কাছে হন্ডুরাস, চিলি আর সুইজারল্যান্ডকে শিশুতোষ দল মনে হওয়াই স্বাভাবিক। বাছাইপর্বের শেষদিকের ফর্ম ধরে রাখতে পারলে, স্পেনের সাথে এখান থেকে ২য় রাউন্ডে চিলি একটা জায়গা করে নিতেও পারে।

জার্মানির গ্রুপটাও সম্ভবত "গ্রুপ অভ ডেথ" এর জন্য নাম জমা দিতে পারে। সদ্য এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনে যোগ দেয়া অস্ট্রেলিয়া গত বিশ্বকাপে যথেষ্টই সমীহ জাগানো খেলা দেখিয়েছে, যেমন অনেক বড় দলের আতংক হয়ে দেখা দিতে পারে মাইকেল এসিয়েনের ঘানা-ও। সার্বিয়া নতুন দল, সুযোগ থাকছে তাদেরও। এদিকে হল্যান্ডের গ্রুপটাও একেবারে সোজা না, নিজের মহাদেশে ক্যামেরুন আর বাছাইপর্বে ভাল খেলা বরাবরের জায়ান্টকিলার ডেনমার্ক পরের রাউন্ডের দাবীদার, সব মিলিয়ে জাপানের সম্ভাবনা এখানে কমই।

তবে, এতসব হিসাব-নিকাশ শুধুই আড্ডার টেবিল গরম করার জন্য, বিশ্বকাপ ফুটবল, বা বলা ভালো, ফুটবল খেলাটাই কবে হিসাব মেনে চলেছে? হিসাব মানলে তো আর ১৯৫০ এ ফুটবল পরাশক্তি ইংল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হারে না, প্রথমবার বিশ্বকাপে আসা উত্তর কোরিয়া কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে পারে না ১৯৬৬ তে, ১৯৯০ এ রজার মিলার ক্যামেরুনের কাছে হোঁচট খায় না আর্জেন্টিনা, সেনেগাল ফ্রান্সকে বাড়ির টিকেট ধরিয়ে দেয় না। অঘটনের সংখ্যা বলে শেষ করা যায় না, আর সেটাই এই খেলার সৌন্দর্য্য, শেষ কথা বলে কোন কিছু ফুটবলে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত নেই।

ফুটবল পাগলরা, আসুন আমরা সেই মুহূর্তগুলোর অপেক্ষায় থাকি, আর ততক্ষণ আড্ডার টেবিল গরম করে ফেলি ফুটবল নিয়ে।

ফুটবলের জয় হোক।

[খবরে দেখলাম, বাংলাদেশ ৪-১ গোলে ভূটানকে হারিয়েছে, স্বস্তি পেলাম, খানিকটা খুশিও। মনে হয়, বেইজ্জতি এইবার একটু কম হবে। শুভকামনা ওদের জন্যও।]
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১৭
২২টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×