somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... মুম্বাই হামলা-- কাদের লাভ কাদের ক্ষতি?
যাই হোক,ঘটনা চলতে থাকুক, এই সুযোগে আইসেন আমরা দেখি এই হামলাতে কাদের লাভ হইসে আর কাদের ক্ষতি। পয়লা লাভবান,আমেরিকা। এইবারে তারা সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের নামে ভারতে বেশ একটা ঘাঁটি গাড়তে পারবে বিনা কষ্টে,আর ভারতে প্রভাববিস্তার মানে উপমহাদেশ হাতের মুঠোয়। পরবর্তী লাভবান,ইসরায়েল। এই ঘৃণিত দেশটা এর আগে তাদের মিত্র আমেরিকার পশ্চাতেও লাথি দিয়েছে বেশ কয়েকবার,আর দুনিয়ার কোথাও হামলা হলে যারা মুখ খোলে না সেই ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তীব্র ভাষায় টেরোরিস্টদের শায়েস্তা করতে সর্বাত্মক সহযোগীতার আশ্বাস দিয়াছেন,এই সুযোগে তাহারাও হয়তো এতদন্ঞ্চলে লেন্ঞ্জা প্রবেশ করাইবেন।

এরপর কাদের লাভ? বিজেপি,শিবসেনা আর আরএসএসের। সামনে নির্বাচন,আর এখন তারা উগ্র হিন্দুত্ববাদ আর মুসলিম বিদ্বেষ ছড়ানোর একটা সুবর্ণসুযোগ পেয়ে গেল,বুশ কিন্তু ৯/১১ দেখায়াই আবার ক্ষমতায় আসছিলো। এর মাঝেই হেডিং গুলা খিয়াল করেন সিএনএন আর বিবিসিতে,মুম্বাই ৯/১১!!! সাথে প্রতিক্রিয়া জানানোর ভাষাগুলাও দেখার মত,সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ,ডেকান মুজাহিদীন,আমরা বিশ্বকে নিরাপদ করবো,সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইতে আমরা ইন্ডিয়ার সাথে আছি,ইত্যাদি ইত্যাদি। কেন জানি টুইন টাওয়ার হামলার পরবর্তী কনসিকোয়েন্সগুলা মনে পড়ে যাচ্ছে।

আচ্ছা,দেখা যাক আলটিমেটলি ক্ষতি হবে কাদের। কাদের আর? পয়লা বাম্বুটা যাবে ইনডিয়ার মুসলিমদের উপর দিয়ে,এরপর যাবে পাকিদের উপর (যদিও সেইটা খারাপ না,হেহেহে),এরপরে অন্য প্রতিবেশীদের উপর। যদি জিগান,আমার তাতে কি, তাইলে বলি, মারামারি চলতাসে হোটেল ২টায়,এর মাঝেই জনাব মনোমোহন সিঙ্গি প্রতিবেশী দেশগুলির প্রতি সন্দেহ এবং কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করিয়াছেন। যেহেতু ২ দিন পরে পরেই তেনারা তাহাদের অভ্যন্তরীন বাম্বু খাওয়ার জন্য এই নিরীহ ভেতো বাংলাদেশীদের দায়ী করিয়া থাকেন,কাজেই তাহার এই কঠোর প্রতিবেশীসুলভ হুমকিতে একজন বাংলাদেশী হিসাবে আমার বুকে কাঁপন জাগিবে,তাতে আর আশ্চর্য কি?

[পুরাটাই কন্সপিরেসি থিওরি,আর হাতে আজকে সময়ও নেই,পরে হয়তো ফ্যাক্টে আসা যাবে।]

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/deathmetalblog/28875099 http://www.somewhereinblog.net/blog/deathmetalblog/28875099 2008-11-27 21:54:30
মুশফিকের লড়াইতে শেষ উইকেটে ৫৬,আশরাফুল কি শিখছে কিছু? মুশফিকুর রহিম আর মাহবুবুল আলমের ব্যাটিংয়ের ভিডিও দেখিয়ে নিশ্চিতভাবেই আশরাফুল এবং ইমরুল কায়েস কে ব্যাটিংয়ের স্বরে-অ স্বরে-আ শেখানো যাবে।

২-৩ দিন আগেই প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাথে তর্কাতর্কির সময় আশরাফুল বড় গলায় বলেছিল,পয়সা খরচ করে কেন প্রবাসীরা তাদের খেলা দেখতে আসে,কেউ তো তাদের আসতে বলেনি। উক্তিটা শুনে অনেকটাই আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের কথা মনে পড়ে গেল,যে আমরা চুরি করি,তোমাদের দেখতে বলেছে কে, ঘরে গিয়ে চোখে হাত চাপা দিয়ে রাখলেই পারো। হায় আশরা-ফুল,কাদের টাকায় তোমাদের বিদেশে পাঠানো হয় বা বছরে কোটি টাকা দেয়া হয়, সেটা কি কখনো ভাবো?এই একটা উক্তির জন্যই আশরাফুলের বড় ধরণের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শাস্তি হতে পারতো,এতগুলো মানুষের
আবেগকে অপমান করার সাহস শুধুমাত্র শিক্ষাবন্ঞ্চিত মূর্খের পক্ষেই থাকা সম্ভব। কিন্তু এই দেশে শ্যুটার আসিফকেও পুলিশে পেটায়,কাজেই আশরাফুলের কিছু হয়নি। বরং নির্লজ্জ ব্যাটিং করে আজকেও ১ রান করে (৯ বল খেলে) মরকেলের বলে কট অ্যান্ড বোল্ড। নিশ্চিত আজকেও দাঁত কেলিয়ে খিঁচিয়ে জানাবে,আসলে ব্যাটিং আর ফর্ম ঠিকই আছে,শুধু বলটা জায়গামত লাগছে না। যদিও শেষ ১০টা টেস্টে তার ব্যাটিং দেখলে বলতে ইচ্ছা হয়,হে মহারাজ,আর কতকাল তোমার ব্যাটে বল লাগিবার পানে বুভুক্ষু দৃষ্টিতে তাকাইয়া থাকবো,রাত পোহাবার কত দেরি পান্ঞ্জেরী?

এতো গেলো একজনের কথা,কিন্তু বাকিদের কথাও বলার মত না। ইমরুল কায়েস যে একজন ওপেনিং ব্যাটসম্যান,সেটা তার বালকসুলভ ব্যাটিং দেখে বোঝার উপায় নেই। বাকি ব্যাটসম্যানরাও,এমনকি ৬৭ রান করা জুনায়েদও,দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের শর্ট বল আর বাউন্সের সামনে যেভাবে কুঁকড়ে যাচ্ছিলো আর একটা পুল বা হুকও না খেলে বল ছেড়ে গা বাঁচানোর ধান্দায় ছিলো,তাতে মনে হলো শুধু ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল উইকেট বানালেই হবে না,অবিলম্বে মানসিক
বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলিয়ে তাদের সাহসও বাড়ানো দরকার।

বাউন্সি উইকেটে শর্ট বল কিভাবে খেলতে হয়,সেটা জানা গেল ১৯৪ রানে ৯ উইকেট যাবার পরে,যখন মুশফিকুর রহিম আর মাহবুবুল আলম ক্রিজে,আর গ্রায়েম স্মিথ ব্যাটিংয়ের শ্যাডো শুরু করে দিয়েছেন স্লিপে দাঁড়িয়ে। দক্ষিন আফ্রিকার গতিদানবদের বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে এই উইকেটেই হয়ে গেল ইনিংসের সর্বোচ্চ ৫৬ রানের পার্টনারশিপ,যেটা শেষ উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চও বটে। একের পর এক শর্ট বলে পুল আর হুক করে মুশফিকুর বাকিদের দেখালো কিভাবে সমান বাউন্সের ফাস্ট পিচে সত্যিকারের ফাস্ট বোলারদের খেলতে হয়। ব্যাপারটার মহিমা পরিষ্কার হচ্ছে না বোধহয়,তাহলে একটা উদাহরণ দেয়া যাক,ডেল স্টেইনের মাত্র ৩ ওভারে রান উঠেছে এই সময় ৩০,যার মাঝে রয়েছে ১টা ৬ আর ৪টা ৪ আর ৩টা ২। ১টা বল বাদে সব ক'টাই ছিল শর্ট বলে পুল আর হুক থেকে। সাহসী ব্যাটিং,দেখেও আনন্দ। তারচেয়েও বড় আনন্দ স্টেইনের আস্ফালন,এনটিনির ক্যাচ ছেড়ে দেঁতো হাসি দিয়ে সেটা থামানোর চেষ্টা,মরকেলের হতাশায় শূন্যে লাথি ছোঁড়া আর স্মিথের গোমড়া মুখ দেখা,যে আনন্দ ক'দিন আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও মুশফিক আমাদের দিয়েছিল।

অবশেষে,২৫০ রানে,এনটিনি পায়ে টান পড়ায় মাঠ ছেড়ে যাওয়ায় তার বদলে বল করতে আসা মন্ডে জন্ডেকির বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরত আসা মুশফিকুরের আউট হবার মাধ্যমে শেষ হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। মুশফিকের ৮৪ বলে খেলা ৬৫ রানের ইনিংসে ৯টি চার,২ টি ৬। তবে এরপরেও আশরাফুল বা টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা কিছু শিখবে,এমন আশা করতে পারছি না বেশি একটা,যার মুখ বড় সে কাজে প্রায়ই বড় হয়না,গুরুজনরা তাই বলে থাকেন।

যারা মাহবুবুল আলমের অবদানটা এখনো বুঝতে পারেননি,তাদের জন্য বলি,৫৬ রানের পার্টনারশিপে এই বোলারের অবদান মাত্র ১,কিন্তু ২৮টি বল ঠেকিয়ে দলের রানটাকে ২৫০ এ নেয়াই যেত না এই সহায়তাটুকু না পেলে। আহা,কবে যে অন্যরা এই ঠেকানোটা অন্তত শিখবে!

[শেষ খবর,দক্ষিন আফ্রিকা ১৭/১। আরো একটা যেতে পারতো,কিন্তু আমলার বিরুদ্ধে নিশ্চিত কট বিহাইন্ডের আবেদন আম্পায়ার প্যাঁচা মুখ করে প্রত্যাখ্যান করলেও রিপ্লেতে সেটা আউটই দেখা গেছে। ছোট দলের এটাও এক সমস্যা,সব সিদ্ধান্তই তাদের বিপক্ষেই যায়।]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/deathmetalblog/28874607 http://www.somewhereinblog.net/blog/deathmetalblog/28874607 2008-11-26 22:05:36
দিনলিপি ১০: ঈর্ষা এবং ক্রোধ
কথা হলো ঠিক কি কারণে ঠমকপূর্ণ এলাকাগুলোতে গেলে একজন আধা বেকারের দুনিয়া ধ্বংস করার মত ক্রোধের উন্মেষ ঘটতে পারে। জবাবটা নিন্দুকরা দেয়ার আগেই বলে দিই,ঈর্ষা,বুঝলেন,বিশুদ্ধ ঈর্ষা। মানে কিনা সুযোগ পেলে এই আধা বেকারও সেই একই ক্ষুরে মাথা মুড়াতো আর বাপের পয়সায় সুন্দরী বগলদাবা করে ঘুরতো সন্দেহ নেই,কিন্তু সুযোগ যখন নেই তখন একটা দামী ল্যান্ড রোভার কি একটা দামী বাঘা টাইপ কেলে কুত্তা বা তারচেয়েও দামী পুতুলসুন্দরী কোলে বসিয়ে সাঁ করে চাকা ঘুরিয়ে হর্ন বাজিয়ে ছুটে যাওয়া সেটওয়েট জেল ডিজুস নন্দনকে যে কেলে কুত্তা দিয়েই খাওয়াতে ইচ্ছা করবে তাতে আর বিচিত্র কি?

ঘটনার সূত্রপাত দুপুরবেলার একটু আগে থেকে।একটা সরকারী অফিসে অকাজে ফাউ ঘুর্ণি দিতে হলো একটা,তারপর ফার্মগেট,যেটাকে ঢাকার জাহান্নাম বলা যায়,সেখান থেকে বারিধারা যাত্রা দিয়ে মেজাজ টঙে ওঠার পালা শুরু। কাওরানবাজার পার হয়ে বাংলা মটরে রোদের মাঝে ৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার পরে কাঁঠাল বোঝাই একটা বাস পাওয়া গেল,সেটাতে ছেলে-মেয়ে-বুড়ো সবাই সমঅধিকারের মন্ত্রে বলীয়ান হয়ে একজন আরেকজনের ঘাড়ে চেপে দাঁড়িয়ে আছে,বরাবরের মতই উদাস দৃষ্টি। এমন নির্বিকার থাকা কত জন্মের সাধনার ধন জানি না, নিজে এখনো হতে পারিনি, খালি উসখুস করি ভিড়ের মাঝে আর হাতের টিকিট দিয়ে কপালের ঘাম মুছি। সাথে ঢাকাবাসীর সহ্যক্ষমতারও প্রশংসা করি,আফ্রিকার শান্তি মিশনে যে বাঙ্গালির এত সুনাম সেতো আর এমনি এমনি নয়; ঢাকার যাতায়াতে হাফ কমান্ডো ট্রেইনিং হয়ে যাবার কথা।

নতুনবাজার আমেরিকান অ্যাম্বেসি পার হয়ে বাস নদ্দা বাজারে নামিয়ে দিয়ে ঢেকুর ঢুকুর করে চলে যায়। এবার গন্তব্যে যেতে হবে। বাপস,৭ ফিট উঁচু বিশাল দেয়াল। কে হে মহারাজা তুমি অন্দরে কিরণ ছড়াইছো? তোমার রাজকন্যা কি অসূর্যস্পশ্যা? এদিকে একটা গেট থাকার কথা,পাই না। এইবারে সামলাও,পুরো ১ কিলো হেঁটে নতুনবাজার যাও,আবার গেট ঘুরে ১ কিলো হেঁটে এদিকেই ফিরে এসো। বিরস বদনে রওনা করি, আশপাশে তাকাতে থাকি ফাঁকফোকড় আছে নাকি গলে যাবার। নেই,মহারাজারা তাহাদের দূর্গপ্রাকারে ফোঁকড় রাখে না,পাছে হার্মাদ ঢুকে পড়ে। বিশেষ করে,ভুখা হার্মাদ বড় ভয়াবহ,খালি চোখে আঙ্গুল দিয়ে মহারাজদের বিবেকের দৈন্য দেখিয়ে দেয় আর লেক্সাস টয়োটার ঝাঁককে ব্যঙ্গ করে কিনা।

মাঝে মাঝে ২-১ টা গাছ দেখা যায়,ফুটপাথের কংক্রিট বাঁচিয়েও দেয়াল ঘেঁষে কিভাবে যেন টিকে গেছে। দেয়ালের এপাশের জীবন অহর্নিশ দেখি,১টা পাম্পার নিয়ে বসে থাকা রিকশা মিস্ত্রি,ক্যানভাস বা চট বিছিয়ে পোকামাকড়ের ঘরবসতি,মুড়ি-চানাচুরের ঝাঁকা। ভোঁ-ভাঁ কানফাটানো হর্নে সিটিবাস আর ধুমধাম বডি থাবড়ানো লোকাল বাসের হেলপারের চিৎকার। ২-১টা গাছের গায়ে দেখি গজাল পোঁতা,পা লাগিয়ে লোকজন দেয়াল পার হচ্ছে,বৃক্ষ তার শরীরে যন্ত্রণা নিয়ে মানবজাতিকে তরিয়ে যাচ্ছে। নতুনবাজারের কাছে এসে দেয়াল ঘুরে ঢুকে রিকশার খোঁজে তাকাই। কপাল ভালো হবার কথা না,একটা রিকশাও নেই,হাঁটো এবার। খানিক হেঁটে বামে তাকাই,৮ নম্বর বাড়ি। সর্বনাশের কথা,যেতে হবে ৮৭ নম্বরে। পিছন থেকে বিকট হর্ন শুনে লাফিয়ে সরে যাই,বিড়বিড় করে অশ্রাব্য গালি দিই,গাড়ি থাকলেই কেন যে অকারণে হর্ন বাজায় লোকজন কে জানে! দেখো,আমার একটা গাড়ি আছে,ওহে পদসম্বলধারী,দূরে দূরে থাকো,নাকি? নাকি শুধু অহেতুক ঈর্ষা,ঐ চোখা জুলফির পাশের রঙিন চুলো হরিণী আমার পাশে নেই বলে? তা কেউ তো মানা করেনি,হয়ে যাও এমন একটা গাড়ির মালিক,যেভাবে হয়েছে সেটওয়েটের বাপ,পিষে দাও সামনের সবকিছু,দেখাও সারভাইভ্যাল অভ দ্য ফিটেস্ট এর সার্থক প্রয়োগ,কে মানা করছে?

মানা কেউ করেনা,তবে মানতেও পারিনা,যেমন হয়তো ভাল স্কুলে,বা একেবারেই স্কুলে পড়তে না পারা বংশানুক্রমিক রাস্তার ছেলেগুলো মানতে পারেনা আমার রিকশাতে চড়া। অক্ষমের ক্রোধ? হলিউডের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া কোন ডাউনটাউন তরুণও হয়তো জোরে জোরেই গালি দিয়ে বসে বিশাল প্রাসাদপ্রতীম বাড়িতে দেয়ালঘেরা নক্ষত্রদের,আবার হয়তো তারই অটোগ্রাফ নিতে লাইন ধরে মারপিট বাঁধায়; ঠিক যেমন মাঝে মাঝে আমি বা আমরাও একটা চাকরির খোঁজে বিনয়বিগলিত স্যার স্যার বলে মাথা নুইয়ে ডিগ্রি পানিতে ভাসিয়ে দিই গাড়িওয়ালা অসভ্য শোষকের সামনে। তবে ডাউনটাউনের তরুণরা,গীনসবার্গের বীট জেনারেশন ধনিক শ্রেণীর শ্রাদ্ধ করে কবিতাকে বেছে নিতে পারে এক জীবন কাটিয়ে দেয়ার সাধনা হিসেবে,আমি কিন্তু দু'টো পয়সা আর একটা বউ নিয়ে গাড়ি চড়ার স্বপ্নে আমার কবিতাকেই বিলিয়ে দিতে পারি অনায়াসে। গুরু গীনসবার্গ,কবিতা পড়িয়েছো,মানুষ করতে পারোনি।

সামনে থেকে আসা একটা ক্লুগার হর্ন দেয়, আবারো চিন্তা ভাঙে, আবারো রক্তচক্ষু করে গালি দিই,আফসোস,কলিকাল,ড্রাইভারের কানেও পৌঁছে না গায়েও আঁচ লাগেনা,ধুলো খাইয়ে চলে যায় পাশ দিয়ে। গুলশান বনানী ধানমন্ডিতে এই ধুলো বারবার খেয়েও ঠিক অভ্যস্ত হতে পারিনি এখনো,গায়ে যখন পানি ছিটিয়ে চলে যায় তখন ইচ্ছা হয় সবক'টাকে ধরে পশ্চাতে বাঁশ ঢোকাই। হিংসা,হিংসা,সবই হিংসা। এখন যেমন টোকাইগুলোর সাথে আমিও হেলভেশিয়ার ঠাণ্ডা হাওয়ার মোলায়েম আলোর দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকি,সেই লোকজনের সাথে এক কাতারে মিশে যাই,আমার পকেটের বাসভাড়াটা যাদের এক বেলার জীবন। তবে ওখানে ঢুকতে পারলেই চোখে কালো চশমা পরে আমিও প্রেমিকার মুখ ছাড়া কিছুই দেখবো না কসম কেটে বলা যায়। কিন্তু আপাতত পকেট খালি,কাজেই আইইউবি নামের তথাকথিত ভার্সিটি থেকে মাজাঘষা চকচকে ছোঁড়াছুঁড়িগুলোর ঢঙ্গী হাসাহাসি ঢলাঢলি দেখে আরো দু'টো গালি দিয়ে নিই। একটু করুণাও বোধ করি,সারাটা জীবন ব্যাটারা গাড়ি হাঁকিয়েই গেলি,চিপার মাঝে এক দালানে কি যে বিদ্যা অর্জন করলি নিজেরাই জানিস না। খোলা আকাশের নিচে আড্ডা নেই,ঠাণ্ডা হাওয়াতে মগজে কিছু সমীকরণ আর ব্যবসাবিদ্যা ঢুকতেই পারে তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংজ্ঞাতে ওরকম শিক্ষা দেয়ার কথা ছিল কিনা জানা নেই। যাকগে,মরুক,তুমি বাপ এসির হাওয়া খেতে পারোনা তাই ঈর্ষা হয়েছে,এখন আঙ্গুর ফল টক আর গাছের মালিক চোর,না?

৮৭ নম্বরে পৌঁছে যাই,নিচে দাঁড়িয়ে ফোন দিই,বড় ভাই জানায়,আসছে। অস্বস্তি বোধ করি একটু,একে জামাকাপড়ের অবস্থা সুবিধার না,তার উপর ৩ বার বাস বদলে ধুলো খেয়ে চেহারাটাও খোলতাই হয়েছে,পাশের রেস্টুরেন্টে দল বেঁধে ঢোকা হাস্যোজ্জ্বল ডিজুসদের সামনে কেমন যেন বেমানান। আবার গালি দিই,মুখ খারাপ হয়ে যাচ্ছে আজকাল, এভাবে দেখার কি আছে রে? স্কলাস্টিকার সামনে দিয়ে যেতে হয় রোজ,সেখানকার মোটাসোটা বার্গার মুখে আরো ২টা বার্গার হাতে ধরা নাদুস পোলাপান গুলোও দোকানের বাইরে দাঁড়ানো টোকাইদের দিকে এমন কৌতুক আর কৌতুহল মেশানো চোখেই তাকায়,ভাবখানা,আমাদের স্বর্গরাজ্যে এ কোন উৎপাত প্রবেশিলো প্রভো? ঠিক তখন,রাস্তার ছেলেগুলোর কি আমার মতই গুঁড়িয়ে দিতে ইচ্ছা করে সামনের ঐ দালানটা, আগুনে জ্বালিয়ে দিতে ইচ্ছা করে রূপালি রঙের গাড়িটা,সেই গাড়িটা যার আরোহিনীর মেকআপের পয়সায় তার সারামাসের খোরাকি হয়ে যাবে,যে কিনা ডার্টি পিপল বলে তার বাড়ানো হাতের সামনে কাচটা তুলে দেয়?নাকি পরক্ষণেই আমার মতই ঐ রূপালি গাড়িটায় একদিন আমিও চড়বো আর নিয়ন আলোয় তার হাত ধরে অভিসারে বেড়োব ধাঁচের বস্তাপচা চিন্তায় আচ্ছন্ন হয় মন?

বড় ভাই যখন কাগজপত্রগুলো হাতে দিচ্ছিলো,ঠিক তখনো ভাবছিলাম আমরা এক কদমও এগোইনি,খুব পুরানো সেই ভাবসম্প্রসারণের মতই যাদের পেছনে ফেলে আমরা সামনে চলে যাচ্ছি তারা আমাদের পেছনে টানছে। উপরে,আরো উপরে উঠে যাচ্ছে একদল,সাথে যারা ছিল তাদের লাথি মেরে,ল্যাং মেরে ফেলে দিয়ে। নীতি,দূরের বিষয়,অভিজাত এলাকায় বাড়িগাড়ি করতে ওসব ভাবলে চলে না। আমার ছেলে আমেরিকা যাবে,আমার মেয়ে রঙিন আলোয় ডিনার করবে,বউ করবে মালয়েশিয়াতে ট্রুলি এশিয়ান শপিং আর আমি রঙিন পানি খেয়ে মজুরের পয়সা মেরে বিদেশি ডেলিগেটকে সোসাইটি গার্লের স্মার্টনেস দেখিয়ে ব্যবসা বাগাবো,একটাই তো জীবন,মেরেকেটে ধুম ফূর্তি করে যাও,রেডিও ফুর্তি জিন্দাবাদ।

বোধ করি একটা পল্টনি ভাব এসে গেছিলো চেহারায়,বড় ভাই দেখলাম অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। তাড়াতাড়ি কাগজগুলো নিয়ে ধন্যবাদ দিই,তারপর বের হবার রাস্তা খুঁজি। পাওয়া গেছে রে,বাড়িটার সামনে দেয়ালে দু'টো ফোঁকড়,ছেঁড়া জামা পরা দুটো দেবদূত অনেক কষ্টে পার হয়ে এলো। আহ,ঐ মুখ দু'টো একটু ধুয়ে মুছে দিলে জনসন বেবিগুলোও হিংসা করতো। হাত বাড়িয়ে ধরতে ইচ্ছা করে, মেকি সভ্যতা ভেতর থেকে বাধা দেয়,ন্যাকামির সময় নেই,দৌড়া ব্যাটা। পেছনে তাকাই,গাড়িটার সামনে ক'টা স্মার্টি ছেলেমেয়ে জটলা পাকাচ্ছে। টপকাবো? ভাববে কি? আবার তাকাই। দুত্তোর,ব্যাগটা আড় করে ঘাড়ে ঝুলিয়ে ফোঁকড় দু'টোয় পা ঠেকিয়ে উঠে পড়ি। বাহ,এখনো নষ্ট হইনি,এখনো ৭ ফিট দেয়ালে একটানে উঠে যেতে পারি। দেয়াল থেকে লাফিয়ে নামি অপর পারে,চেনা জগতে,ধুলোর মাঝে। পেছন থেকে কে যেন কি বলে উঠেছিলো,শুনি নি,কে যায় শুনতে?

এই লেক্সাস সভ্যতার আমি খেতা পুড়ি।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/deathmetalblog/28867938 http://www.somewhereinblog.net/blog/deathmetalblog/28867938 2008-11-12 01:47:31
আর সেই বেসুরো বেতাল আলাপ শেষ করার আগে হিসেবের শূন্য খাতা দেখে শূন্য চোখে বৃষ্টি খুঁজেছিলাম।
যে লিরিক,
অথবা যে গান,
নাকি যে কবিতা লেখার জন্য
অনেক দিনের দিনমজুরের ফেলে দেয়া কলম হাতে
আর পুরোনো থালার মাছে ভাতে
নাচিয়ে কবির ছন্দ নাচে
ঈর্ষাধুসর স্বপ্ন চোখে
শব্দ বোনার জাল নিয়েছি,
সেইখানে সেই দিনের শেষে
ডাইনী রঙের ভর বিকেলে
আমার গিটার পাঁচ তারেতে
ধাতব রঙের সুর মিশেলে
রক্তভাঙার হাট নিয়েছি।
তাই শেষ পর্যন্ত,ঠিক শেষ পর্যন্ত,
যখন অর্থপূর্ণ ছন্দে একদম ব্যর্থ ভেবে এলোমেলো কথা ছুঁড়ে দিতে চাই,
ভোর পাঁচটা সাত মিনিটে রাতের টিকটিকির সাথে
আর কামড়ে লাল করে দেয়া অনু পোকার সাথে
আর মগজে ঘুরে যাওয়া সিগন্যাল বাতির কীটের সাথে
কথোপকথন।
তাই শেষ পর্যন্ত,ঠিক শেষ পর্যন্ত,
কবিদের ঈর্ষা করে,
তাদের চোদ্দপুরুষের বাপান্ত করে,
যেমন হয়তো কোন একজন হয়ে ওঠার ব্যর্থতায় শাপান্ত করে গদ্যকুমির,
আমার ঘরের ধুলোমাখা ছবির সাথে
বেসুরো বচন।
আর শেষ পর্যন্ত,একদমই শেষ পর্যন্ত,
ঠিকঠাক সীমানা পর্যন্ত,
আসুরিক শব্দফ্রেমে,
যারা মাপা কথায় ছেড়ে দেয়
ঠাসবুনোটের অ্যাটমবোমা,
হিংসার ছাঁচে বন্দী করে এলোমেলো পথে আমার
পাথর শবাসন।

[ব্লগে অনেকে কবিতা লেখেন, তাদের মাঝে কারো কারো কবিতা নিয়ে সুনির্দিষ্ট ভাবনাচিন্তা আছে, পড়াশোনা আছে,আমার কোনটাই নেই। কবিতার ফরম্যাট বা ছন্দ বুঝি না,ভেতরের ভাবও না,বোঝার চেষ্টা করেছি কখনো এমনো না, যেকোন কিছুর গভীরে যেতে বরাবরই একটা আপত্তি। আমার কাছে যা মোহময় তাই কবিতা; তাই কারো লেখা কবিতা ভাল, বা সমষ্টিগত মোহগ্রস্থ হলেই সেখানে গিয়ে হুম-হাম করে আসি, বেশি কথা বলার সাহস পাই না,যদি ধরা পড়ে যাই এ বাবদে আমি ক(বিতা)-অক্ষর গোমাংস! তো,অনেককে লিখতে দেখে নিজেরও খায়েশ হলো নিজের এলোমেলো ভাবনাকে ছাঁচে ফেলি কোন একটা। লিখতে গিয়ে দেখলাম,ইঁদুর দিয়ে রেলগাড়ি টানা চলে না,কবিতার গাড়ি টানতে নিদেনপক্ষে ডিজেল ইন্ঞ্জিন দরকার। তাতে সমস্যা নেই, বাঙালি বেসুরো গলা নিয়ে গাইতে ভীত নয়; কাজেই যা খুশি লিখলাম,সাথে আসল কবিগুলোর উপর কিন্ঞ্চিৎ মনের ঝালও ঝেড়ে দিলাম। নিজেদের লেখার ক্ষমতাটা আমাদেরও একটু ধার দিলেই পারতো ওরা!
ব্লগার লোকালটক একবার অপকবি খেদানোর আন্দোলনে নেমেছিলেন, নিজের লেখাটা পড়ে বুঝতে পারছি,ঠিক কাদের খেদানোর জন্য বেচারার সেই প্রাণান্ত প্রচেষ্টা ছিল। লেখাটা পড়ে কেউ মনিটর আছাড় দিয়ে ভাঙলে,এই কীবোর্ডচালক দায়ী থাকবে না।]

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/deathmetalblog/28866153 http://www.somewhereinblog.net/blog/deathmetalblog/28866153 2008-11-08 01:21:27
আবার প্রার্থনা শর্ত মেনে অনন্ত ধারাতে চলতে হয়, অসীমতক সমষ্টি কত সেটা না জেনেই।

এত প্যাঁচানোর কারণটা খুব সরল- বন্ধুবিদায়। ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়ে গেছে কয়দিন পরে পরে কেউ একজন বিদায় হবে আড্ডা থেকে আর সেটা নিয়ে প্যানপ্যান করে কিছু একটা লিখবো। বন্ধুমহলে (হয়তো সব মহলেই) ছিঁচকাদুনে বা ন্যাকা বলে কুখ্যাতি আরেকটু বাড়বে। বা এভাবেই যাবে সবাই,এমনো না যে দুনিয়ার বাইরে কোথাও যাচ্ছে বা যোগাযোগ হবে না, কিন্তু তারপরেও অদ্ভুত একটা অনুভূতি যেটা লিখিয়ে ছাড়ে সেটা হলো যে দিন শেষ হয়ে এলো, আমাদের ঘুড়ি ওড়ানোর বেলা গোধুলির দিকে হেঁটে চললো। মনে হয় যে কয়েক বছর পরে দেখা হলেই আর হুংকার দিয়ে ঘাড়ে হাত দিয়ে 'আরে মামা খবর কি' বলে উচ্ছ্বসিত হতে পারবো না অথবা ৩ টাকার চা এর বিল নিয়ে হইচই করতে পারবো না। ঠিক যেন বন্ধুর বিদায় না, একটা সময়ের বিদায়; যে সময়টাকে আমরা গড়ে তুলেছিলাম অনেক বেশি জীবন আর লাগামছাড়া কণ্ঠ দিয়ে। বন্ধুত্ব আমাদের সোনালি আঁশের প্রতিনিধি, তার বুড়োকালের জন্য একটা এলিজি লেখাই যায়।

বলছিলাম চৌধুরীর কথা, যাকে আমরা বলি চৌধুরী বংশের প্রতিষ্ঠাতা। কেন বলি সেটা অনেকে ভুলেই গেছে, তবে পিছনের ইতিহাস হলো তার বংশে সে-ই প্রথম চৌধুরী। আমাদের সকল কুকর্মের সঙ্গী ও সাক্ষী, আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অংশগ্রহণকারী, এবং যাকে আমরা বলি "কট খাওয়া"র অগ্রপথিক, তারও উড়ে যাবার সময় হয়ে গেছে। চেষ্টা করছিলো অনেকদিন থেকেই, তারপরেও যতবারই কেউ বলে চলে যাচ্ছি কেমন যেন একটা ধাক্কা খাই। এই যুগে ফালতু আবেগের দাম নেই, ব্যাপারটা বোঝা উচিত আর সেজন্যই কংগ্রাটস জানাই, কিন্তু মনে হয় সুতোটা ছিঁড়ে যাচ্ছে কোথাও। ঈর্ষা নয়, কোন এক ধরণের স্বার্থপরতা, অতীতকে ধরে রাখার। এই অনুভূতি হয়েছিল যেদিন কলেজের টেবিল টেনিসের টেবিলটা ছেড়ে আসি, হয়েছিল যেদিন ভার্সিটির ক্যাফেটেরিয়া থেকে শেষবারের মত দল বেঁধে বের হয়ে আসি, হয়েছিল যেদিন মোটকার সাথে ধানমন্ডি লেকের পাশে হাত মিলিয়ে সামনে হাঁটা ধরি, হয়েছিল যেদিন মতিউরের বিদেশের অ্যাডমিশন লেটারটা দেখি। এই স্বার্থপর অনুভূতি আমার অচেনা কিছু না, কিন্তু এই দেজা ভুঁ থেকে বের হতে পারি না; চক্রের মত বাকি জীবন বারবারই মুখোমুখি হতে হবে, কোনদিন হয়তো নিজের কাছে নিজেকেও।

যাওয়ার আগে অবধারিত একটা শেষ বাঁশ দেয়ার চেষ্টা করা হয়, তবে চৌধুরী মনে হয় ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় ঠেকে শিখেছে,ফোন করতে জানায়, এত বেশি ব্যস্ত যে কোন কিছুরই সময় পাচ্ছেনা। কথা বেশি বাড়াই না। ২ দিন পরে ফ্লাইট হলে সময় থাকারও কথা না, তারপরেও একবার মনে করে দেই পরের দিন পারলে চলে আসতে। চেষ্টা করবে,জানায়,ভরসা পাই না,সবসময় কট খাওয়া চৌধুরী এবার হয়তো আমাদেরই কট দিয়ে দেবে।

রুমে ফিরে পিসি ছেড়ে বসি। এলোমেলো ড্রাইভগুলো খোঁজাখুঁজি করি মন ভালো করার কোন গানের আশায়। কাজের মাঝে কাজ হয়। একটা ভিডিও পাই, সেন্ট মার্টিন্স লেখা, এডিটেড বাই রাসেল। ছাড়বো না ভেবেও ছেড়ে দেই। একটা হাহাকার করা সুরের সাথে পর্দায় একগাদা মন খারাপ করা মুখ ভেসে আসে, অতীতচারীর জন্য সবই অবশ্য কষ্টের। সাজিদ, রাহাত, মাহফুজ, স্বপন, মোটকা, রুকন, চৌধুরী, দুলা, রিপন, সুফল, সুরা, আদু, সুপন, নূরা পাগলা- এককালের অনেকগুলো প্রিয় মুখ। ভাবার চেষ্টা করি কে কোথায়। আছে,এখনো অনেকেই নাগালের মাঝে আছে। দায়িত্বশীল প্রকৌশলী একেকজন, দম ফেলার অবসর নেই। ক্যারিয়ারের দৌড়ে বাকি সব হারিয়ে যাচ্ছে। বড় লক্ষ্যের দিকে দৌড়াচ্ছে কেউ কেউ। আমার মত ভ্যাগাবন্ডও যে ২-১ টা নেই তাও না, কিন্তু সংখ্যা
কমছে। খুঁজে নিচ্ছে যে যার ঠিকানা, শূন্য করে যাচ্ছে কথা বলার টেবিল।

যাক, মনমেজাজ বিগড়ে লাভ নেই। যাদের যাবার তারা যাবেই, আসলে সবারই যাবার কথা। রাসেলকে ফোন দেই আসতে। গাঁইগুই করে শেষমেশ রাজি হয়। গল্প হয়- অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ। চৌধুরী কেন দাওয়াত খাওয়াবে না সেটা নিয়ে গবেষণা চলে; হাফিজের শ্বশুরবাড়ি আর মামাতো চাচাতো শালীদের নিয়েও খানিক গবেষণা চলে। কিন্তু ঘুরেফিরে সেই ভবিষ্যৎ - কোথায় যাবো কি করবো। ঘুরেফিরে সেই বন্ধুমহলের খবর। আজব এক চক্র, কেউই থাকবে না, তারপরেও ঘুরেফিরে
চক্রে ফিরতে হয়; মায়া কাটাতে পারি না। রাতে মোটকার সাথে কথা, ফিনল্যান্ড ঘুরতে যাবে জাহাজে করে। ফ্রি টিকেট পেয়ে গেছে, ভয়টা হলো জাহাজে যা দাম খাবারের হাড়িপাতিল না নিয়ে উঠলে ২ দিন না খেয়েই থাকতে হবে। অভয় দেই, এমন তো না খেয়েই ক্ষ্যাপার মত ঘুরেছে কত জায়গায়; এখন গেলে সমস্যা কোথায়? দিন হয়তো বদলেই যাচ্ছে, আমিই হয়তো দিন বদলের গান শুনতে পাচ্ছিনা, সোনালি আঁশের দিন গুনে হেলায় ফেলে দিচ্ছি সময়কে।

আমি দিন গুনতে থাকি, তবে এই বেলার জন্য অনেক বেশি কথা গোনা হয়ে গেছে; শুধু প্রার্থনাটুকু ছাড়া। যতবার কেউ দূরে যায়, আমি প্রার্থনা করি। ছোট্ট একটা প্রার্থনা- ভাল থাকবে, ভাল থাকবি, ভাল থাকবেন। আমি হয়তো ভাল নেই কিন্তু আমি শুনতে চাই আমরা ভালো আছি। চৌধুরী, অনেক দূরে ভাল থাকবি, যেমন আমরা ভালো আছি তার চেয়ে অনেক অনেক ভাল।

[যতিচিহ্ণ ঠিকমত দিই না বলে লেখা পড়তে অনেকেরই কষ্ট হয়,ব্লগার আশরাফ মাহমুদ অনেকদিন থেকেই অনুযোগ করছিলেন। চিরকালীন অলস আমি সেটা শুনি শুনি করেও শুনছিলাম না। আশরাফ ভাই নিজেই এবার এগিয়ে এসে পুরো লেখাটা পড়ে যতিচিহ্ণ ঠিক করে দিলেন,সেটাই এখানে বসালাম। আমার সব বন্ধুরাই এমন,যতবার আমার গাফিলতির জন্য পথে বসে পড়েছি,হাতে ধরে আমাকে আবার তুলে দিয়েছে জীবনের রাস্তায়। আশরাফ ভাইকে ধন্যবাদ,কথাটা আরেকবার মনে করিয়ে দেয়ার জন্য।]
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/deathmetalblog/28862836 http://www.somewhereinblog.net/blog/deathmetalblog/28862836 2008-11-01 02:57:25
দিনলিপি ৮: ইলশেগুঁড়িতে ৫০০ টাকার পথিক
বেশি ভাবের কথা ভেবে লাভ নেই,উঠতেই হয়। নাস্তা করতে করতেই দেখি বৃষ্টির তোড় বেড়েছে,বাসস্ট্যান্ডে যেতে যেতেই ভিজে যাবো। ছাতা একটা চরম অপছন্দের জিনিস,দেখলেই মনে হয় এটা দিয়ে ষাঁড় খেপানো যাবে,তাও নিতে হয়। বাস কাউন্টারে গিয়ে মেজাজ আরো খারাপ হয়,বাস আসতেই মানুষ হুড়মুড় করে উঠে যাচ্ছে,মারামারিতে জুত করতে পারছি না ছাতাটা হাতে থাকায়।ফাল্গুনের বাসটা আসতে দেখে তাড়াতাড়ি টাকা দিয়ে টিকিট নিয়ে লাফিয়ে উঠে পড়ি,পিছন থেকে টিকিটওয়ালা হইহই করে ওঠে,যতদূর মালুম হয় এক বাসের টিকিটম্যানকে টাকা দিয়ে আরেক বাসের টিকিট নিয়ে ফেলেছি। নেমে যাবার প্রশ্নই আসেনা,ও ব্যাটা মিটমাট করুক,এত ভদ্রলোক এখনো হইনি। ভিতরে বেশি ভিড় নেই,বসার জায়গা পেয়ে যাই,এতক্ষণে বাইরে দেখার সুযোগ হয়,আহ,বৃষ্টি,বৃষ্টি,বৃষ্টি,সুখ না থাকলে কি আর দেখা হয়?

অফিসে ঢুকতে গিয়ে ভাবছি আজকে কি অজুহাত দেব দেরি করার,রুমে ঢুকে বেশ একটা ফুর্তি এসে গেল,সব ফাঁকা,খালি এক সিনিয়র বসে আছে। বস নেই,সাথে যে ২টা কাজ করে ঐ ২টাও নেই,দুবাইয়ের ভিসা তুলতে গেছে। সিনিয়র সোয়েটার গায়ে দিয়েও শীতে কাবু,ভাগ্য ভালো টিশার্টের উপর শার্ট পরে গেছি,তাও মনে হচ্ছে জমে যাবো। সাথের ২টা নেই,সুযোগ পেয়ে নেটে বসি,টুকটাক কাজ করি,আবার নেট,আবার কাজ। সময় কাটে,৫টা বাজে,ছটফট করি,শেষে বের হয়েই যাই। খিলক্ষেত এসে বাসে উঠতে গিয়েই মনে পড়ে,পকেটে একটা ৫০০ টাকার নোট, সকালে ভাংতি পাইনি বাসায়। বাস কাউন্টারে কয়েক টাকা ভাড়ার জন্য ৫০০ টাকার নোট দিলে নিশ্চিৎ ঝাড়ি খাবো,তাই একটা উপায় হাতড়াই মনে মনে। একটা ১০ নম্বর সিটিং সার্ভিস আসতে উপরওয়ালার নাম নিয়ে উঠে পড়ি। কন্ডাকটর ভাড়া চাইতে কাচুমাচু মউখে বলি,৫০০ টাকার নোট। বলে ভাংতি নাই। মধ্যবাড্ডা কত? ৭ টাকা।ভাংতি তো আছে ৬ টাকা! ক্যাচাল করে না,এখনো এরা কর্পোরেট হয়ে ওঠেনি যে মৃতপ্রায় রোগীর কাছ থেকে টাকা নেয়ার আগে অপারেশনে হাত দেবেনা,নিয়ে নেয় ৬ টাকাই। স্বস্তির শ্বাস ফেলে আবার জাঁকিয়ে বসি ভাঙা সিটে।

মধ্যবাড্ডা,মধ্যবাড্ডা,শুনে চমক ভাঙে। নেমে যাই, রিকশাতে করে বাকিটা যেতে হবে,বাসায় গিয়ে ভাড়া দেব। একজন দয়া করে রাজি হয়ে যায়,১৫ টাকা। তাই সই। তবে আজকে কপালে কিছু দুর্ভোগ লেখা ছিল,ব্রিজটা পার হবার সময়েই মহিলা আরোহীধারী তরুণ এক রিকশাওয়ালা মহা আনন্দে সামনে দিয়ে একটা ইউটার্ন নিল,বাঁচাতে গিয়ে আমারটার চাকা টাল। লাও এইবার সামলাও। সমাধান অবশ্য বের হয়,আরেক রিকশাওয়ালার কাছ থেকেই ১০ টাকা নিয়ে ভাড়া মেটাই,এবার সোজা বাসার সামনে এক মোবাইলের দোকান থেকে ৫০ টাকার কার্ড কিনে ভাঙতি টাকা। না,হবে না,এইবার রিকশাওয়ালার কাছে ৫০ টাকার ভাঙতি নেই। বৃষ্টির খেতা পুড়ি,শালার রবীন্দ্রনাথকে কোনদিন অফিস কাচারী করতে হয়নি বলেই অত মধুর মধুর গান বের হয়,এইরকম ২ দিন বৃষ্টির মাঝে ঢাকার জ্যাম ঠেঙালে হেভি মেটাল গান লিখতো বুড়ো,কোন সন্দেহ নেই। এসি গাড়িতে বসে থাকলে আমিও কি বৃষ্টিতে ২-১টা প্রেমের কবিতা লিখতাম না?

বুড়োকে গালি দেয়াটা কোন সমাধান না,দিলেও বুড়ো শুনবে না,কাজেই এক প্যাকেট বিস্কুট কিনে টাকা ভাঙাতে হয়। হিসাব করে দেখি,১৬ টাকার বদলে খরচ করতে হলো ৮৯ টাকা,নিট লস ৭৩ টাকা,৫০০ টাকার ধাক আছে,স্বীকার করতে হয়। বাসায় ঢুকে কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়েই পড়ি। আধো ঘুম ধরে আসার সময় মনে পড়ে,৪ দিন টিউশনি থেকে উধাও, যেতে হবে। আমি কেন জমিদার হইলাম না,ভাবতে ভাবতে এক লাথিতে কাঁথা সরিয়ে বের হই,ছাতাটাকে বগলে নিয়েই,আকাশ হুমকি দিয়ে চলেছে কিন্তু মেটালিক এই শহরে নীপবনের আর কি দাম?

ছাত্রকে পড়িয়ে বের হই,বলা ভালো,চাপাবাজি করে বের হই। শহর যেন একটু থমকানো,বৃষ্টির কারণে যতটা না,হিম বাতাসে তার চেয়েও বেশি,মৌচাক মোড়টার নিস্তব্ধতা কানে বাজে। ১টা ১০ নম্বরে ঠেলাগুতা দিয়ে উঠে পড়ি,আজকে আর ভিড়টা খারাপ লাগেনা,হিমের দিনে মানুষের চেয়ে আরামদায়ক উষ্ঞতা আর কে দেবে,হলোই বা একটু ঠাসাঠাসি। স্বস্তিটা অবশ্য উবে যায় কন্ডাকটরের হুংকারে,আমার ঠিক পেছনেই দাঁড়িয়ে থাকা চেংড়া টাইপ এক ছোকরাকে শাসাচ্ছে,পরের স্টপেই নামবি,নাইলে পিটায়া লাশ বানামু,পকেট মারলে অন্যখানে মার। বলে কি ব্যাটা? তাড়াতাড়ি সবেধন সম্বল মোবাইলটা চেপে ধরি পকেটে,যদিও ১২০০ টাকা কিন্তু তাই বা কোন ব্যাটা দেয়? ছোকরা বুঝানোর চেষ্টা করছে সে অতিশয় ভালো মানুষ,কিন্তু কন্ডাকটর নিঃসন্দেহ,ঝানু লোক,লাইনের সব চোর পকেটমার তার চেনা বলেই দাবী করে,এদিকে আমি আরেকটু সরে দাঁড়াই। ছোকরা নেমে যায় পরের স্টপেজেই,নামি আমরাও তার পরের স্টপে,বাড়িতে সবারই ফেরা লাগে,হোম,সুইট হোম,যেই বলে থাকুক,বড় সত্যি কথা,সব বাড়িই অস্থায়ী,তাও আমরা শুধুই ফিরতে চাই।

বাস থেকে নেমে কুঁকড়ে যাই,বাপরে বাপ,আজকে শীতই পড়ে গেছে। তাড়াতাড়ি ঘরে ঢুকি,আবার শুরু হয়ে যায় টিপটিপ। একটু জিভে ছোঁয়াতে ইচ্ছে করে বৃষ্টির পানিটা,দেখতে ইচ্ছে করে আসলেই আকাশের টকটক গন্ধটাকে বৃষ্টিটা মিষ্টি করে দিতে পারলো কিনা। হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি চাখার ইচ্ছাটাকে আর বাড়তে দিতে ইচ্ছা করে না,সুকুমার রায় থাকলে হয়তো পারতেন,আবোলতাবোল বকে গিয়ে ভেতরের শিশুটাকে বের করে আনতে। অনেক বেশি বড় হয়ে গেছি,পাগলা হাওয়ার বাদল দিন আর পাগল করে না,গা এলিয়ে ভেজার চেয়ে ফাইল আর ব্যাগ বাঁচাতেই বেশি ব্যস্ত হই,ঠাণ্ডা লাগার ভয়ে কাবু হয়ে ঘরের কোণে কুনোব্যাং হয়ে শুয়ে পড়ি।

রিকশার হুড খুলে দিয়ে স্কুলবালক আর চিৎকার করে না,কিশোরীর হাতে কদমফুলও আমার চোখে আর রঙ লাগায় না,কাচের জানালার ওপাশে ইটের শরীর নিয়ে শুধুই বসে থাকি একশ' গ্রীষ্মের তৃষ্ঞা নিয়ে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/deathmetalblog/28860337 http://www.somewhereinblog.net/blog/deathmetalblog/28860337 2008-10-27 02:42:30
সম্পৃক্ত দ্রবণ,সম্পৃক্ত জীবন
যাই হোক,দ্রবণে ফিরে যেতে হচ্ছে। শব্দটা যখন মাথায় চলেই এল,এর শানে নুযুল আর উৎস সন্ধান করাও জরুরী। মাথা চুলকাই,সূত্রমতই চুলকানো বাড়ে। ইংরেজিতে পড়তাম তখন,ভাষাটায় দক্ষতা নেই একেবারেই, কাজেই সব সংজ্ঞা ব্যাখ্যা তত্ত্বের একটা বাংলা ব্যাখ্যা বুঝে নিতে হতো কোন সদয় সহপাঠীর কাছ থেকে,সেরকমই কোন একটা সংজ্ঞা মনে করার জন্য মনমাথা হাতড়াই।মোটামুটি মনে পড়ে,সংজ্ঞা না,উদাহরণ। পানিতে চিনি মেশানো নিয়ে। মানে কিনা,একগ্লাস পানিতে চিনি মেশাচ্ছি,যতক্ষণ আরো চিনি মেশানো যাবে,সেটা অসম্পৃক্ত দ্রবণ। তারপর এমন এক অবস্থা চলে আসে,যখন আর এককণা চিনি পড়লেও সেটা থেকে চিনির অধঃক্ষেপ পড়ে যাবে,সেই অবস্থাটাই সুপার স্যাচুরেটেড, অনেকটা চিনির কণার পুলসিরাতের হাল আরকি।(পরীক্ষাতেও এইভাবেই লিখেছিলাম,গ্রেডটা আর মনে করতে চাইনা)।

তত্ত্বটা মনে পড়ায় স্বস্তি পাই,যাক এখনো মগজে মানুষের কিছু অংশ অবশিষ্ট আছে,গর্দভ প্রজাতিকে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে নিজেদের দল ভারি করার জন্য।তত্ত্ব মাথায় ঢোকার পর,কার্যকারণও যেন একটু একটু করে ঢুকতে শুরু করেছে। বসে আছি রিকশায়,চিরচেনা সেই মৌচাক মোড়ে, ডানে রিকশা বামে প্লাস্টিক সামনে ফাল্গুন পিছে সিএনজি,সবাই মহাব্যস্ত তবে একদম ডেডলকে আটকা,প্রাণপণে হর্ন আর গালাগালি চলেছে আর সিগন্যালে ট্রাফিক লালন সাঁইয়ের ভাব ধরে দাঁড়িয়ে আছে। স্যাচুরেটেড,সুপার স্যাচুরেটড,পিঁপড়াটাও গলে যাবার উপায় নেই।

পিঁপড়া নিয়ে অবশ্য না,ঠিক এই মুহূর্তে আমার চিন্তা মৌচাকের মোড়টা এই রিকশা আদৌ আজকে পার হতে পারবে কিনা। বসে বসে দেখার মতও কিছু নেই,গ্রামীন বাংলালিংক নেসলে লেমু রাঁধুনি ইত্যাদি ইত্যাদি দেখে দেখে মুখস্থ হয়ে গেছে,মোবাইলের ছোট্ট স্টার দেয়া বিশেষ শর্ত থেকে শুরু করে নেসলের দুধের উপাদান সবই মাথায় বসে গেছে। ফাল্গুন বাসটার ভিতরে থাকলে কিছু সুন্দরী দেখা যেত,যদিও সন্ধ্যার বাসের ভেতরটায় এত বেশি গাদাগাদি আর অফিসফেরত মানুষগুলো এত বেশি অবসন্ন বিষন্নতায় সম্পৃক্ত হয়ে থাকে যে হলিউডের নায়িকা বাসের ভেতরে ঢুকে পড়লেও মনে হয় কেউ একবারের বেশি তাকাবে না।ঢাকার মানুষগুলোর জীবনটাও স্যাচুরেটেড,দৌড় আর দৌড় আর দৌড়,অর্থ বিত্ত সাফল্য বা ভোগবাদীতা অথবা কিছুই না,তারপরেও দৌড়। অর্থহীন
আনন্দ,অর্থহীন হাসি,চাকরি ব্যবসা ঘোরা শপিং ফাস্টফুড ডেটিং বিলিয়ার্ড আর সবশেষে দ্রবণের অধঃক্ষেপের মতই বিছানায় পরে ভোঁস ভোঁস করে ঘুমানো বউ বা কোলবালিশ বা বান্ধবীর সাথে।

আবোলতাবোল ভাবি আর এইবারে ডানবাম বাদ দিয়ে উপর নিচেও তাকাই। তাকানোর বিশেষ জায়গা রাখেনি কেউ,সম্পৃক্ত শহরের দালানকোঠাও তাল রেখে উপরে নিচে গজিয়ে গেছে,কংক্রিটের জঙ্গলে আকাশ আর পাখি এখন পথ খুঁজে পায়না। ধোঁয়ায় ধুলোটে রাতের আকাশে সপ্তর্ষিমণ্ডল খুঁজি,কোথায় কি? সবচেয়ে উঁচু দালানটার উপরে উঠে একদিন ধোঁয়ার মেঘ ভেদ করে দেখতে খুব ইচ্ছা করে,ঘোলাটে চাঁদটা আসলেই জীবনানন্দের মনে মরিবার সাধ জাগাতো কিনা জানতে ইচ্ছা করে। ধুলোঢাকা চাঁদটা ভূতের কাছেও ভুতুড়ে লাগবে সন্দেহ নেই,ঢাকার উজাগড় মানুষকে চন্দ্রাহত করেনা,স্যাচুরেটেড জোছনায় শুধু একদানা অধঃক্ষেপই বাড়িয়ে যায়।

জ্যাম ছুটেছে,সিগন্যাল পার হয়ে সিদ্ধেশ্বরীর গলিতে ঢুকি।কোচিং সেন্টারগুলো থেকে পিলপিল করে দেশের ভবিষ্যৎরা বের হচ্ছে,দলে দলে,আবার জোড়ায় জোড়ায়ও।পড়াশোনায় না হোক বয়সের আগেই পেকে ওঠার ব্যাপারে অন্তত এরা মূল্যবান অবদান রেখে চলেছে সন্দেহ নেই,রাধা-কৃষ্ঞের যুগে কোচিং সেন্টার থাকলে বেচারি রাধাকে সাপের মাথার মণি চেপে ধরে অভিসারে বের হতে হতো না। প্রেমও মনে হয় স্যাচুরেটেড হয়ে যাচ্ছে,কে যে কয়জনের সাথে আছে বুঝে ওঠা মুশকিল,৩-৪ টা সিমের ক্রস কানেকশনে রাতের পর রাত পার,শেষমেশ সবাইকেই অধঃক্ষিপ্ত আর কাউকে ক্ষিপ্ত করে আবারো নতুন কোন এলিমেন্টে ভালবাসার রসায়ন খোঁজা।

ছাত্রের বাসায় ঢুকি,একঘেয়ে সেই পুরানো পড়া, ঘ্যানঘ্যান,ছুঁড়ে ফেলতে ইচ্ছা করে সবকিছু। ছেলেটা নিরীহ, ঝাড়ি দিয়ে লাভ নেই,মোটের উপর কিছু পয়সা তো দিচ্ছে। ফিরতি পথে জ্যাম কম,কিন্তু মানুষের কমতি নেই। একটা বাস এলেই ঝাঁপিয়ে পড়ছে মোড়ের সবকয়টা লোক,রিকশাবিলাসের দিকে কারো আগ্রহ নেই,রিকশাওয়ালারা এখন নবাব,বিড়ির সুখটানে মধ্যবিত্তকে উপেক্ষা করা এখন ডালভাত। একঘেয়ে বাড়ি ফেরা বাসের চাপাচাপিতে,নেমে পড়ি একটু আগেই। শান্ত
একটা রাস্তায় ঢুকে পড়ি,মধ্যরাতের বাউল হতে ইচ্ছা করে একবারের জন্য হলেও। সাহস পাই না শুধু পালাতে,স্বীকার করি বা না করি কংক্রিটের কঠিন বন্ধনে নিজেও আটকা পড়েছি কখন যেন। সংসারছাড়া বাউলের দুরন্ত প্রকৃতির দিকে ঈর্ষাভরা চোখে তাকিয়ে থাকাই শুধু নিয়তি,লালনের ভাস্কর্য দেখে মডার্নিজমের চর্চা করলেও অন্তরে লালন হয়ে ঘর ছাড়ার ভাগ্য সবার হয়না। শিরোনামহীনের একটা গানে কয়দিন ধরেই অবসেসড হয়ে আছি,জ্বালাচ্ছে,মাথা থাকে তাড়াতে পারছি না,বেজেই চলেছে,অন্ধকার গলি দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে গুনগুন করে উঠি --"আমি তাকিয়ে রই,নীল আদিগন্ত,মানুষ ভরা খোলা প্রান্তরে,আর চেয়ে দেখি,তোর খোলা চুলে,ভেসে যায় আমারি স্বপ্নগুলো,নিশ্চুপ আঁধারে।"

নিস্তব্ধ অন্ধকারে কেউ কি আমার সাথে হাঁটতে আসবে,একবারের জন্য হলেও সম্পৃক্ত দ্রবণ থেকে বাষ্পকণা হয়ে উড়ে যাবার জন্য?

[লেখাটা লেখার সময়েও মনে হচ্ছিলো,সুপার স্যাচুরেটেড হয়ে গেছি,খামোকাই একটা বাড়তি অখাদ্য লেখা দিয়ে হয়তো অধঃক্ষেপ ফেলে দিলাম বিরক্তির দ্রবণে]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/deathmetalblog/28858449 http://www.somewhereinblog.net/blog/deathmetalblog/28858449 2008-10-23 02:36:50
মুশফিক ও মেহরাবের ৫১ ওভার: ফিনিক্স পাখির এক দিন
এমন স্কোরকার্ড আমাদের জন্য নতুন কিছু না,অনেক সময় এরচেয়ে কম রানেও বাংলাদেশের ৪-৫ টা উইকেট চলে যায়। যেটা নতুন, সেটা হলো এই ৪৪ রান এসেছে ৪৩ ওভারে,টেস্ট ক্রিকেটের ১৩১ বছরের ইতিহাসেই এমন ঘটনা আর আছে বলে জানা নেই, জেফরি বয়কট জানলে নিশ্চয়ই রাজিন তামিম আশরাফুলকে গুরু মানতো! তো সেই থেকে মুশফিক আর মেহরাব (জুনিয়র নামটা এখন মেহরাব হোসেনের নাম থেকে সরিয়ে দেয়া উচিত,কারণ আগের সেই মেহরাবের ছায়াও এখন আর এই দলে নেই) এর সংগ্রাম শুরু। প্রথম দিকে এটা তাদের সংগ্রামই বলা যায়, আস্তে আস্তে যেটা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের
সংগ্রাম।যতভাবে সম্ভব,নিউজিল্যান্ডের বোলার আর ফিল্ডাররা মিলে চেষ্টা করে গেছে এই জুটি ভাঙার,তাদের ব্যাটসম্যানরাও নির্ঘাত মনে মনে প্রস্তুতি নিয়েছিল চা-বিরতির পরেই ব্যাটিংয়ে নামার। কিন্তু শুরু থেকেই সত্যিকারের টেস্ট ব্যাটিং কেমন হতে পারে তার একটা নমুনা দেখতে শুরু করে তারা। মেইডেন ওভার,এক রান,দুই রান,বাজে বল পেলেই আবার বাউন্ডারি। মুশফিকুর রহিম একদম গুরুসিনহা বা নভজ্যোৎ সিধুর মতই শিট অ্যাংকর,বেশ স্লো,কিন্তু
একমাথা ধরে রাখা,অন্যদিকে মেহরাব হোসেনের স্ট্রাইক রেট একটু হলেও বেশি,মাঝে মাঝে ভাল বলকেও শায়েস্তা করতে দেখা গেছে তাকে।

যাই হোক,টেস্ট ক্রিকেট,খেলা চলুক,গেলাম জুম্মা পড়তে, এসে ভাবছি,গেছে এতক্ষণে আরো ২-১টা। টিভি খুলে অবাক,এখনো ২ জন ঠুকঠাক করে যাচ্ছে,হেলাফেলা করে বসলাম। সময় যায়,আমি পত্রিকা পড়ি,নেটে বসি,ঘুরোঘুরি করি,উইকেট পড়ে না। ভাত খাওয়া শেষ,তাও পড়ে না। আমারই অস্বস্তি লাগা শুরু হলো,ঘটনা কি,যায় না কেন,নিউজিল্যান্ডের বোলার আর কোচের গোমড়া মুখ দেখে তাদেরও যে একই প্রশ্ন সেটা বুঝতে অসুবিধা হচ্ছিল না,৩৫ ডিগ্রির গরমে এমন ফাউ দৌড়াতে কারই বা ভাল লাগে,বিশেষ করে তারা যদি ১০ ডিগ্রির আরামদায়ক হাওয়া থেকে আসে?<img src=" style="border:0;" />এর মাঝে মুশফিক আর মেহরাব কিছুটা মারতেও শুরু করেছে,পার্টনারশিপে ৫০ হয়ে গেছে,শট বেরোচ্ছে। শুধু ঠেকানো নয়,দেখা যাচ্ছে বাইরে বা একটু লাইন-লেংথের বাইরে বল পেলেই ক্লাসিক কিছু ক্রিকেট শট। দারুণ একটা সুইপ করলো মুশফিক,পরেই একটা স্কয়ার ড্রাইভ মেহরাবের,কিছু পরেই আরেকটা সুইপে চার। আসছে ফ্লিক,কভার ড্রাইভ,লফটেড অন আর অফ ড্রাইভ,স্কয়্যার কাট,তবে পুল আর হুক নয়,সাবধানী খেলা।

একসময় মেহরাবের ৫০ হয়ে যায়,নিউজিল্যান্ডের বোলার ফিল্ডারদের ক্লান্তি বাড়ে,ভেট্টোরির কপালে বিরক্তির ভাঁজ বাড়ে,আর বাইরে তাকিয়ে হাতিচুবানো গরম দেখে আমার হাসি বাড়ে, যা ব্যাটারা দৌড়া আরো। ততক্ষণে মজা পেয়ে গেছি, ঝিমানো ঠেকানো ক্রিকেটের মাঝেও যে একটা মজা আছে সেটা দেখা যাচ্ছে। ঠিক কোন বলটা ছাড়তে হবে, কোনটা মারতে হবে,সেটা সঠিকভাবে বিচার করে যখন কেউ খেলে,তখন আসলেই টেস্টক্রিকেট দেখা একটা আনন্দের ব্যাপার,যদি সত্যিকারের ক্রিকেটকে ভালোবাসা যায়। সন্দেহ নেই,সেটা দিয়েছে আজকে ২ ব্যাটসম্যান। শেষদিকে এসে রানের গতিও একটু বেড়েছে, দেখা গেছে আরো কিছু চমৎকার শট। ৮০ ওভার শেষ হতেই ভেট্টোরি নতুন বল নিয়ে নিল,আশা,কাইল মিলস আর ইয়ান ও'ব্রায়েন যেমন সকালে আতংক জাগিয়েছিল,এবারো হয়তো সেটা পারবে। গুড়ে বালি,যে ব্রায়েন আগের ২ স্পেলে ১১ ওভারে মাত্র ৮ রান দিয়েছিল,দিন শেষে সেটা হলো ১৭ ওভারে ২৫,৩য় স্পেলের প্রথম ওভারেই বাউন্ডারি খেয়ে যেটার শুরু। ৩য় স্লিপের উপর দিয়ে মেহরাবের মারা বাউন্ডারিটা একটু ঝুঁকিপূর্ণ হলেও দেখার মত,আর শেষদিকে এসেও বাংলাদেশ আর খোলসে ঢোকেনি,একই ওভারে পরপর ২টা বাউন্ডারি মেরে মুশফিকের ৫০ পূর্ণ করাটা সেটারই প্রমাণ। ভেট্টোরিকে ড্যান্সিং ডাউন দ্য উইকেটে এসে অনড্রাইভে বা একটু আগেই এক পা এগিয়ে মিলসকে অফড্রাইভে যে বাউন্ডারি দু'টো মেহরাব মেরেছে,দেখলে নেভিল কার্ডাসও নিশ্চিৎ নড়েচড়ে বসে টেস্ট ব্যাটিংয়ের সৌন্দর্য্যের উপর ২-১টা লাইন লিখে ফেলতেন।

তো,দিন শেষে যখন খেলোয়াররা সবাই মাঠ ছাড়ছেন, দৃশ্যটা এমন,স্কোরবোর্ডে বাংলাদেশের রান ১৮৩,উইকেট সেই ৪টাই রয়ে গেছে,দুর্লভ একটা দৃশ্য হিসেবে হাসিমুখে বাংলাদেশের ২ ব্যাটসম্যান,আর বোনাস হলো ত্যক্ত-বিরক্ত নিউজিল্যান্ডের খেলোয়ারদের মুখ। অন্যের কষ্টে নাকি আনন্দিত হতে নেই,কিন্তু ভেট্টোরির
চেহারা দেখে যে আনন্দ পেয়েছি সেটার তুলনা নেই,আহা,৫১ ওভার অথবা ২১৫ মিনিট এই গরমে দৌড়াতে বেচারাদের না জানি কত কষ্টই গেছে,তাও আবার কোন উইকেট ছাড়া!<img src=" style="border:0;" /> ৫১ ওভারের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে মুশফিকের ৫৯ রান,১৪৫ বলে,৯টা ৪,১টা ৬,আর মেহরাবের ৭৯ রান,১৬৪ বলে,১০টি ৪। ৯৪ ওভারে ১৮৩/৪,অথবা ৫১ ওভারে ১৩৯ রানের পার্টনারশিপ,ইমপ্রেসিভ কিছু মনে হয়না আপাতচোখে,কিন্তু পুনরুত্থানের যে গল্প এখানে লেখা হয়েছে সেটা এই খেলা যারা দেখেছে তারাই বুঝবে, সাথে টেস্ট ব্যাটিংটা বাড়তি পাওনা, আরো বোনাস হলো ৫ম উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান,আগের রেকর্ডটা ছিল আশরাফুল আর বুলবুলের সেই কলম্বো টেস্টে। যদিও অতীত ইতিহাস বলে,কাল সকালেই ঝটপট উইকেট পড়ে বাংলাদেশ ২৫০ এর আগেই অলআউট হয়ে যেতে পারে,কিন্তু তাতে এই দু'জনের লড়াই ম্লান হয়না। কাজেই,তুলে রাখলাম ব্লগে,সাথে অভিনন্দন জানিয়ে রাখলাম মুশফিক আর মেহরাবকে।

[একটা দুরাশা হিসেবে যোগ করে রাখি,যেকোন উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ হলো ১৯১ রানের,৬ষ্ঠ উইকেটে,অংশীদার ছিলেন আশরাফুল আর মুশফিক। রেকর্ডটা এবার ভাঙলে ভালই হতো,রান গুলো বড় দরকার]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/deathmetalblog/28856220 http://www.somewhereinblog.net/blog/deathmetalblog/28856220 2008-10-18 01:53:42
দিনলিপি ৭: জননী ও মানিক মেজাজের দোষেও হতে পারে,চার-পাঁচটা চ্যানেলের মডেলবাজি দেখে সপ্রমাণ সিদ্ধান্তে চলে এলাম যে লাক্সসুন্দরী হবার মূল শর্ত হলো সৌন্দর্যের বালাই না থাকা আর নাটকে অভিনয়ের যোগ্যতা হলো অভিনয়ের 'অ'-ও না জেনে মডেল হয়ে যাওয়া আর দর্শক হবার চাবিকাঠি হলো নিজের রুচি হিন্দি সিরিয়াল দেখার পর্যায়ে নামিয়ে আনা।

এমন যুগান্তকারী হাইপোথিসিস সগর্বে ঘোষণা করার পরে আর জনসমক্ষে থাকা চলে না,কাজেই পাশের ঘরে গিয়ে অন্যদিনে মন দেবার চেষ্টা করি। কপালের ফের বা বুদ্ধির দোষ যেকোনটা হতে পারে,হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাসটাই আগে ধরে বিতৃষ্ণার ষোলকলা পূর্ণ হলো। কয়েকপাতা কষ্ট করে পড়ে লেখক না প্রকাশক কাকে জুতাপেটা করা উচিত সেটা ভাবতে ভাবতে বইটা ছুঁড়ে ফেলে টেবিল থেকে মানিকের গোবদা বইটা তুলে নিই,ঐতিহ্য প্রকাশনীর ঝকঝকে বাঁধাইও যেটাকে
গত সাতদিনে আমার হাতে ওঠাতে পারেনি।

ছুটির মাঝে মানিক হাতে নেয়া যে ঠিক না সেটা 'জননী' উপন্যাসটায় নাক ডুবানোর একটু পরেই টের পেলাম। একটা সময় এক বন্ধুর কাছে অনুযোগ
করেছিলাম যে আধুনিক সাহিত্যিকদের হ্যাপি এন্ডিং বা হ্যাপি ইনসিডেন্টের ব্যাপারে এত অনাগ্রহ কেন,আর কেনই বা খালি দুঃখ দুঃখ রুক্ষ্ম ভাব নিয়ে লেখে তারা। তো সেই বন্ধুর জবাব ছিল যে ভাই জীবনটাই তো আনহ্যাপি,আর সিন্ডারেলার যুগ শেষ হয়ে গেছে,আধুনিক সাহিত্য আর ছেলেভুলানো রূপকথা শোনাতে
চায় না বরং জীবনটাকেই সামনে টেনে আনতে চায়। আর বাস্তবে যদিও মাঝে মাঝে খুশির ঝিলিক দেখা যায় কিন্তু সেটা এতই স্বল্পস্থায়ী ওটাকে টেনে এনে মরীচিকা দেখিয়ে লাভ নেই। তর্ক সেখানে থামেনি,বাস্তবেও অখুশি তাই বলে গল্পেও অসুখী থাকাই লাগবে কিনা সেটা নিয়ে ঘাড় বাঁকা করে অনেকক্ষণ তর্ক করেছিলাম,সবাই জানে আমার সময়ের অভাব নেই,কিন্তু তাতে মানিকের কিছু যায়-আসে না কারণ ভদ্রলোক বাস্তবটা লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হলেও দেখিয়ে ছাড়বেন বলে প্রতিজ্ঞা করে মনে হয় কলম নিয়ে বসতেন।

যাই হোক,মানিক আলোচনা করার জন্য লিখছি না,পড়ছিলাম জননী,অথবা পড়ছিলাম না,শুধু মনটা ঘোরাবার চেষ্টা করছিলাম,মাঝ থেকে সেটার মাঝে ঢুকে গেলাম। কষ্ট ব্যাপারটার এক অদ্ভুত ক্ষমতা আছে,নিজের সাথে জড়িয়ে নেয় খুব সহজে,আনন্দ তো সবার জোটে না তাই হয়তো আনন্দের সাথে একাত্ম হতে সময় লেগে যায়,বা হয়েও ওঠে না। শ্যামা নামের মেয়েটা যখন মানিকের উপন্যাসে আস্তে আস্তে উঠে আসতে থাকে তখন তাকে বুঝে উঠতে আমার খুব বেশি সময় লাগে না,তার দুঃখ,তার ছোট ছোট সংসারকেন্দ্রিক ভাবনা,একটা একটা করে পয়সা জমিয়ে সন্তানের দুধের খরচ যোগানো আর দু'টো একটা করে টাকা জমিয়ে নিজের একটা দোতলা বাড়ির স্বপ্ন,আমার মায়ের স্বপ্ন আর সাধনাগুলোও কি এরচেয়ে খুব আলাদা ছিল? অবিমিশ্র কোন নায়কোচিত চরিত্র
না,মানিকের আর সব চরিত্রের মতই দোষে-গুণে মিশিয়ে আমাদের একজন,কিন্তু তার দোষগুলো কেন গায়ে লাগে না আমার? হয়তো মনে হয় নিজের সন্তানের চিন্তাই একজন মা সবার আগে করবে আর তার জন্য সবকিছু বিসর্জন দেয়া একজন মায়ের জন্য খুব স্বাভাবিক ব্যাপার? হবেও বা!

গল্প এগোয়,আমিও ডুবতে থাকি। শ্যামার ছেলে বিধান বড় হয়,সাথে আমিও। কমবেশি গল্প তো একই। হয়তো শ্যামা আশ্রয় নিয়েছিল আত্মীয় বাড়ি,হয়তো আমার মা কে নিতে হয়নি,কিন্তু রাজরাণীর মত গর্বিতা মাকে ঠিক কতটা আনন্দ বিসর্জন দিতে হয়েছিল অভাবের সংসারে ছেলেকে মানুষ করতে? ঠিক কতগুলো বিনিদ্র রাত কাটাতে হয়েছিল ছেলের পাশে রাত জেগে? মনে হয় বিধানের মত এত বড় হতে পারিনি,সে তো তার মা কে উদ্ধার করেছিল অন্যের সংসার
থেকে,আমার মা এখনো অপেক্ষায় থাকে তার ছেলে কবে বিশাল কিছু করে ফেলবে,না,রোজগার করবার জন্য নয়,ছেলে আমার বড় হয়েছে তাই বলবার জন্য। আর কবে বড় হবো নাদের আলী,সময় তো কাটে না!

আরো ডুবতে থাকি আর ভাসতে থাকি। ঘুমের মাঝে মা একবার যেন বলছিল বিরিশিরি ঘুরে একদিনে মুখটা কালো হয়ে গেছে(আমি কালো ছিলাম না

কবে?),কিন্তু ঘুম থেকে ওঠার পরে একবারের জন্যও আমার গোমড়া মুখের কারণ জানতে চায়নি,মহিলা শক্ত প্রতিপক্ষ,ভাঙবে না এভাবে। এইটুকুতে হবে না,হুঁ হুঁ মাইজী আমিও তোমার ছেলে,কথা বলছি না এত সহজে,পেয়েছো কি? আগে মানিকের ভল্যুমটা শেষ করি বরং,জননী কখন যেন শেষ হয়ে গেছে,দিবারাত্রির কাব্যে ঢুকে দেখি। পছন্দ হলো না বেশি,বড় বেশি কচমচ আর উপদেশ,আরে ব্যাটা এত দর্শন শুনতে চেয়েছে কে,আমি তো উপন্যাস
পড়তে বসেছি,নাকি? এভাবে পড়া ঝামেলা, আরেকটু চেপে বসতে হবে, আরেকটা বালিশ মাথার নিচে দিয়ে,টিভি চ্যানেলের অশ্লীল হইহুল্লোড়ের মাঝে মন দেয়াও মুশকিল,ব্যাধিই সংক্রামক স্বাস্থ্য নয়,প্রমথ চৌধুরী ভুক্তভোগী নিশ্চিত।

পড়তে পড়তে সময় যায়,দিবারাত্রির দার্শনিকতা থেকে অতসী মামীর মানবিকতায় অথবা ২-১টা শরচ্চন্দর মার্কা নেকী গল্পে,মেজাজটা খারাপ হতে না হতেই 'সর্পিল' পড়ে শিউরে উঠি,এও তো মানিকেরই সৃষ্টি, লোকটা মানুষের মনের কত কোণের খবরই না রাখতো।ঝড়ে পড়া কড়িকাঠের সাথেই কৌতুহলটাকে চাপা দিয়ে মাঝে উঠে মুখ গোমড়া করে খেয়ে আসি মায়ের ডাকে,পেট কি আর রাগ মানে,খাওয়াবে আর কে? ফিরে আসি,মুখ গুঁজি,বইয়ের সাথে বিকাল
যায়,সন্ধ্যা যায়,শতবর্ষী মানিক হারিয়ে দেয় নবযৌবনাসাথী ফারুকীদের ফালতুমি আর ফাতরামিকে,গম্ভীর বচনের সাথে ঝিঁঝিঁপোকা রাত নামে মফস্বল শহরের আলোর মাঝে,টিউবলাইটের রোশনীর মাঝেও বিভ্রান্ত হই পদ্মানদীর টিমটিমে প্রদীপে।বই শেষ হয়,আবার ঘুরে আসি জননীর শেষ পৃষ্ঠায়,যেখানে প্রায় অপ্রকৃতস্থ শ্যামার কোলে স্পন্দিত হয় নতুন এক প্রাণ,ধুকপুকে বুকে আরেকবার মনে করিয়ে দেয় জগজ্জননীর প্রবল শক্তি।

নাহ্,সকালে উঠেই মায়ের সাথে খাতির করে ফেলতে হবে,প্রবল প্রতিপক্ষের সাথে যুদ্ধবিগ্রহে ক্ষতির পাল্লাই ভারি,সন্ধি করলে আখেরে কিছু লাভ হতেও পারে।

শালার মানিক,তলোয়ার দিয়ে ইমোশনের দরজায় গুঁতোগুতি করে!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/deathmetalblog/28854407 http://www.somewhereinblog.net/blog/deathmetalblog/28854407 2008-10-14 01:03:56
ব্লগার মেহরাব শাহরিয়ারের বাবার জন্য এই মুহূর্তে B+ রক্তের প্রয়োজন,অনুগ্রহ করে সাড়া দিন
মেহরাবের সেল নম্বর: 01719-271608

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/deathmetalblog/28852435 http://www.somewhereinblog.net/blog/deathmetalblog/28852435 2008-10-08 20:59:34
দিনলিপি ৬: ঈদের বাজারে ওভারব্রিজের ভেড়া
ব্রিজটাতে অন্য সময় আমার মতই কিছু হাওয়া প্রত্যাশী বেকার লোকজন থাকে,কিন্তু আজকে ঠিক এই সময়ে তেমন কাউকে দেখা যাচ্ছে না,শুধু বস্তাখানেক শপিং করে যাওয়া মোটাসোটা ছানাপোনাসহ দুয়েকজন মহিলার পার হবার জন্যই ওভারব্রিজটা ব্যবহৃত হচ্ছে,এই পরিমাণ জিনিস নিয়ে নিচ দিয়ে রাস্তা পার হওয়া বিপজ্জনক বটে। হাওয়া খেতে খেতেই নিচের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করি,খালি বাস আসার কোন লক্ষণ নেই,চারদিক থেকেই অধৈর্য্য গাড়ি আর বাসের হর্নে এই রাতের রাস্তা অস্থির,মাঝ দিয়ে রিকশার টুংটাং গিট্টু আর দানবীয় ট্রাকের পিষে যাওয়ার ইচ্ছাকে দমন করতে ট্রাফিক পুলিশের লাঠিবাজি আর দাঁত খিঁচুনি,সব মিলে পারশিয়ান নট সিচুয়েশন,খোলে কার বাবার সাধ্য! এরই মাঝে,বা বলা চলে,উপরে,দাঁড়িয়ে আমি,মৌনী সাধুর মত কি আছে দুনিয়াতে ভাব ধরার চেষ্টায় আছি।অন্য ওভারব্রিজগুলোর মত বর্জ্য পদার্থের গন্ধ নেই বলে আর নিজের স্বাস্থ্যটা সাধুদের কাছাকাছি চলে গেছে বলে মৃদুমন্দ হাওয়াতে নিজেকে কৈলাসের চূড়ায় ভাবাটা খুব একটা কঠিনও ছিল না,তবে কিনা, নিচের আইল্যান্ডে শুয়ে থাকা হাভাতে কংকালসার মানুষগুলোকে উপেক্ষা করা গেলেও হাইহিল চেগিয়ে হেঁটে যাওয়া রঙচঙে আঁটোসাঁটো ললিপপদের উপেক্ষা করতে হলে সাধনার অনেক উচ্চস্তরে আরোহণ করতে হবে, বিশেষ করে যখন তাঁরা প্রতিজ্ঞাই করে বসেছে পোশাকের
বাহারে না হোক স্বল্পতায় আর চুলের দৈর্ঘ্যে না হোক উৎকট রঙে হলেও সবার নজর তাদের দিকে ফিরিয়েই ছাড়বে।

কাজেই পারছি না। অবশ্য রংঢং দেখার জন্য মার্কেটের ভেতরে ঢোকাই উচিত ছিল,কিন্তু খোদা জানেন কাজটা আমি পছন্দ করি না, একগাদা লোকের অর্থহীন অর্থের ছড়াছড়ি দেখলে নিজেকে কেমন জানি মিসকিন মিসকিন লাগে,তারপরেও টিউশনি করে ফেরার পথে ভেবেছিলাম নিজের দীনহীন বেশ নিয়েই ঢুকে পড়বো। কিন্তু ওভারব্রিজের গোড়ায় দাঁড়িয়েই মানুষের কোলাহল ছুটোছুটি টুংটাং ধুমধাম ঘামের আর খাবারের গন্ধ আর নিচের ভিখারি আর টোকাই আর কাগজকুড়ানো বাচ্চাটা আর মৌচাকের ভেতরের গরম হাওয়াটা এমন ধাক্কা মারলো যে বেশি না ভেবেই একছুটে আমার আপাত কৈলাসে উঠে গেলাম, উপর থেকে মজা দেখা সবসময়ই ভালো যেমন আমাদের উপরওয়ালারা আমাদের লাগিয়ে দিয়ে মজা দেখেন আর দৈ মেরে খান।

তো আমি আধো আঁধারে ডুবে আছি,যদিও দৈ খাবার সামর্থ্য আপাতত নেই,বরং আরেকবার অপ্সরাদের দিকে নজর দেয়া যাক। নিচে দুই সুন্দরী দু'হাতে বেড় দিয়ে অনেকগুলো প্যাকেট নিয়ে রিকশা খুঁজছে,মাবুদ সাক্ষী রিকশাওয়ালাদের প্রাণে দয়ামায়া নেই,তাদের করুণ মিনতি দেখে আমারই ইচ্ছা হচ্ছে নেমে ব্যাগগুলো বাড়ি দিয়ে আসি কিন্তু চালকরা সিটের উপর পা তুলে যেভাবে বিড়িতে টান দিয়ে ঊর্ধ্বমুখী চেয়ে আছে,এখন উর্বশী-রম্ভা নেমে এলেও তাদের ধ্যান ভাঙানো যাবে এমন বোধ হয় না, পুরাণের যুগে রিকশা থাকলে নিশ্চিতভাবেই এদের তপস্যা ভঙ্গ করার জন্য ইন্দ্রকে নতুন কর্মপরিকল্পনা সাজাতে হতো।

দাঁড়িয়ে মজা দেখি,মানুষের মাঝে একটা ভয়ংকর প্রতিহিংসাপরায়ণ কেউ আছে,ঈর্ষাপরায়ণ একটা দানব সবসময় বেরিয়ে আসার জন্য খোঁচাখুঁচি করে,বড় বেশি স্যাডিস্ট,শুধু কষ্ট দেখে আনন্দ পেতে চায়,শুধুই নিজের অপ্রাপ্তিকে অন্যের ধ্বংস দিয়ে ঢেকে দিতে চায় টাকা থাকলে নিশ্চিত আমার অবস্থান উল্টো মেরুতে হতো,সেটা জানার পরেও আইল্যান্ডের ঘুমন্ত মানুষগুলোকে নির্মম পরিহাস করে ঝুড়ি ঝুড়ি কাপড় কিনে হাজার হাজার টাকা একবেলায় উড়িয়ে যাওয়া মানুষগুলোকে অভিশাপ দিতে ইচ্ছা করে। নিশ্চিতভাবেই আইল্যান্ডের লোকটা আমাকেও অভিশাপ দেয় যখন ঈদের দিনে ধোয়া পান্ঞ্জাবি পরে আমি নামাজ পরতে যাই,নিশ্চিতভাবেই আমি রাস্তার কাগজকুড়ানো শিশুটার নীরব অভিশাপে ভস্ম হয়ে যাই যখন ঈদের দিনে ঘন দুধের সেমাই খেয়ে গ্রীলড চিকেনের সন্ধানে বের
হই। অভিশাপ আমাদের পায়ে পায়ে ঘোরে,সমস্যা হলো,সেটা মাপার জন্য কোন যন্ত্র এখনো বের হয়নি,নয়তো নিজের শাপমিটার দেখে আমরা অনেক আগেই আত্মহত্যা করে যেতাম।

অনেকক্ষণ হলো দাঁড়িয়ে আছি,হয়তো ১০টা বাজে,মোবাইলটা বের না করেও বুঝতে পারি। নেমে যাওয়া দরকার,নয়তো আমাকেও ছিনতাইকারী ভেবে বসা বিচিত্র কিছু না,নিজের চেহারার উপর বিশেষ ভরসা কোনকালেই ছিল না। নামার পথে সিঁড়িতে আরো ভিক্ষুক, নানা বয়সের,বুড়ো,শিশু। হয়তো পাপ ভিক্ষা করা,কিন্তু বাড়ানো হাতগুলো এখনো তো ঝাঁপিয়ে পড়েনি পাশ দিয়ে নির্লজ্জের মত গাড়ি হাঁকিয়ে যাওয়া কারো উপর,যারা কিনা গুলশানের ৪২০০ টাকার ইফতার প্যাকেজ দেখে বিজ্ঞ মতামত দিয়ে যাচ্ছে হুম প্রাইসটা রিজনেবল। এখনো তারা আগুন ধরিয়ে দেয়নি কারো বাড়িতে যারা লাখ টাকার ঈদের শপিং করে চলেছে
আমাদেরই টাকা মেরে,আর বলে যাচ্ছে নাহ এবারের কেনাকাটা মনমতো হলো না,আমার ক্লাসমেট কিনেছে ১০ হাজার দিয়ে,আমাকে কিন্তু আরেকটা কিনে দিতে হবে,ঐটার দাম খুব কম কিন্তু,মাত্র ২৫ হাজার। ঝুড়িটাকে বিছানা বানানো বাজারের মুটে এখনো দাবী তোলেনি আলীশান ঘুষের বাড়িগুলোর ইট খুলে তার ঝাঁকা ভরে দেয়ার,বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলের মজুররা এখনো শুধু নিজেকেই মশাল বানাতে চেয়েছে,কিন্তু সেই মশাল দিয়ে যাদের পোড়ানোর কথা ছিল সেই রক্তচোষা আমলা ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদ কারোরই বিবেকের সলতেতে এতটুকুও শিখা জ্বলেনি। তারা খাবারের মূল্য তেলের মূল্য প্রতিদিনের বাঁচার মূল্য বাড়িয়ে দিয়ে নিজেদের ঘরে রঙিন আলো জ্বালিয়ে ঈদ করবে,তাদের মেয়ের জুতো আসবে প্যারিস থেকে লেহেঙ্গা আসবে ভারত থেকে সালোয়ার কামিজ আসবে পাকিস্তান থেকে,তাদের ছেলের কেডস আসবে নাইকি বা অ্যাডিডাস থেকে গাড়ি আসবে বিএমডব্লিউ এর দোকান থেকে,তাদের হার্টের সার্জারি হবে মাউন্ট এলিজাবেথে আর সেখান থেকে এসে তারা স্কচ হুইস্কি দিয়ে ঢাকা ক্লাব অথবা হয়তো গুলশান ক্লাবে ফ্যাশন শো দিয়ে আমাদের সংস্কৃতি উদ্ধার করে জনগণের পশ্চাতে বাঁশ ঢোকাবেন ঈদের রাতে,শেরাটনের মাতাল সন্ধ্যায় ভবিষ্যৎ সুনাগরিকরা ডিজে পার্টি করে দেশ গড়ার প্রত্যয় নেবে আর ব্লাডি পুওর পিপলদের গুষ্ঠী মারবে ভদকার আর হেরোইনের টানে,আর আমরা ঈদ করবো কোরবানীর ভেড়ার মত পরের বার,আবারো পরের বার এবং তারও পরের বার পৌনপুনিক কোরবানী হবার আশাবাদ নিয়ে।

বৃত্তের শেষ বলে আসলেই কিছু নেই,গুরু আসিমভের ভাবের ডায়ালগের মর্ম উদ্ধার করতে করতে একটা ১০ নম্বর সিটিং সার্ভিসে উঠে পড়ি,যাক ঝিমিয়ে হলেও অন্তত হেঁটে বাড়ি ফেরা লাগবে না,সূর্যমুখর ব্যস্ত শহরে এগুলোই ভেড়াদের ছোট ছোট শান্তিবৃষ্টি।]]>