আদালত প্রতিবেদক,
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন অবৈধ পন্থায় প্রত্যক্ষভাবে অর্জিত অর্থ সিঙ্গাপুরের সিটি ব্যাংকে জমা করেছেন। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে তারেক রহমান ভিসা কার্ডের মাধ্যমে ৭৯ লাখ ৫৪২ মার্কিন ডলার তুলে ব্যয় করেছেন। এতেই প্রমাণিত হয়, তারেক রহমান বিদেশে অর্থ পাচারের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। অর্থের উৎস অবৈধ জানা সত্ত্বেও সজ্ঞানে ওই অর্থ বিদেশি ব্যাংকে জমা করে বিভিন্নভাবে ব্যয় করে তিনি অপরাধ করেছেন। তারেক ও মামুনের বিরুদ্ধে দায়ের করা অর্থ পাচার মামলার অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) এ কথা বলা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করে। মহানগর হাকিম কণিকা বিশ্বাস তা গ্রহণ করে মামলাটি সিনিয়র বিশেষ জজ ও মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। গত সোমবার বিকেলে এ অভিযোগপত্রের অনুমোদন দেয় দুদক।
গত বছরের ২৬ অক্টোবর ক্যান্টনমেন্ট থানায় দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম মামলাটি দায়ের করেন। আট মাস ধরে তদন্ত করে তারেক ও মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হলো।
এতে অভিযোগ করা হয়, তারেক রহমান ও গিয়াস উদ্দিন আল মামুন ২০০৩ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পথে ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা সিঙ্গাপুরে পাচার করেছেন। এতে বলা হয়, টঙ্গীর বিসিক শিল্প এলাকায় একটি ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কার্যাদেশ প্রাপ্তির জন্য নির্মাণ কম্পানি তৎপর হলে মামুন তাঁর বন্ধু তারেক রহমানের মাধ্যমে কম্পানির চেয়ারম্যান বেগম খাদিজা ইসলামের কাছে অর্থ দাবি করেন। তারেক রহমানের দাবিতে গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের মাধ্যমে খাদিজা ইসলাম সিঙ্গাপুরের ওভার-সি চায়নিজ ব্যাংকিং করপোরেশন লিমিটেডের হিসাব থেকে সাড়ে সাত লাখ মার্কিন ডলার সিটি ব্যাংকে মামুনের অ্যাকাউন্টে (নম্বর ১৫৮০৫২) জমা করেন ২০০৩ সালের ১ আগস্টে।
মামুন ওই হিসাব থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ৫৪ হাজার ৫৪২ মার্কিন ডলার ব্যয় করেন বলে তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়। গিয়াস উদ্দিন আল মামুন ও তারেক ভিসা কার্ডের মাধ্যমে এ টাকা ব্যয় করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সিঙ্গাপুরের সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল স্কয়ার শাখায় ইউরো, মার্কিন ডলার ও ব্রিটিশ পাউন্ড মিলিয়ে বাংলাদেশি মুদ্রায় মোট ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা ক্যান্টনমেন্টের সোনালী ব্যাংকের করপোরেট শাখার মাধ্যমে গিয়াস উদ্দিন আল মামুন জমা করেন। মামুনের বিরুদ্ধে লন্ডনের ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংকে হিসাব খুলে ছয় কোটি ৫৭ লাখ টাকা পাচার করার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়েছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে হিসেবে তারেক রহমান অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন কম্পানি ও সংস্থাকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের মাধ্যমে বিদেশি মুদ্রায় অর্থ আদায় করান। একই সঙ্গে তারেক রহমান নিজেকে আড়াল রাখার প্রয়াসে মামুনের সিঙ্গাপুরের ব্যাংক হিসাবে সেই অর্থ গ্রহণ করেন। ওই হিসাব থেকে তারেক রহমান টাকা তোলেন সাপ্লিমেন্টারি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে। ২০০৭ সালে সম্পদের হিসাব দিতে বলার পর তারেক দুদকের কাছে যে হিসাব জমা দেন, তাতে মামুনের সিঙ্গাপুরস্থ ব্যাংক হিসাবের ওই ক্রেডিট কার্ডের কথা উল্লেখ রয়েছে। দুদক ওই ক্রেডিট কার্ড ও সম্পদের তদন্ত করতে গিয়ে বিদেশে টাকা পাচারের বিষয়টি উদ্ঘাটন করে।
অভিযোগপত্রে গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, বাংলাদেশের হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছ থেকে ২০০৩ সালের ১৬ জানুয়ারি ১১ লাখ ৬৭ হাজার মার্কিন ডলার মামুনের সিঙ্গাপুরের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে। নির্মাণ কনস্ট্রাকশনের চেয়ারম্যান খাদিজা ইসলামের কাছ থেকে সাড়ে সাত লাখ মার্কিন ডলার জমা হয়েছে। মেয়ার সাইরি নামে একজনের কাছ থেকে ২০০৩ সালেই চার লাখ ২০ হাজার এবং মেরিনা জামানের কাছ থেকে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার জমা হয়েছে। অন্যান্য অর্থ বিভিন্ন জনের কাছ থেকে মামুনের হিসাবে জমা হয়েছে ২০০৩ সালের বিভিন্ন সময়ে। টাকা পাচারের অপকৌশল হিসেবে তারেক রহমান নিজ নামে ব্যাংক হিসাব না খুলে মামুনের নামে বিদেশি ব্যাংকে হিসাব খোলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। দুজনই ২০০৭ সালে দুদকে সম্পদ বিবরণীতে বিদেশি ব্যাংকে টাকা থাকার বিষয়টি গোপন করেন।void(1);
মামলার অভিযোগপত্র দাখিলতারেক ও মামুন অবৈধ অর্থ জমা করেন সিঙ্গাপুরের ব্যাংকে
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।