‘কিং খান (শাহরুখ)লাইভ ইন ঢাকা’ উপলক্ষে আগামী ৬ ডিসেম্বর শাহরুখ খানের ম্যানেজমেন্ট ও প্রোডাকশন টিম আসবে। এর এক দিন পর চার্টার্ড বিমানে চড়ে সঙ্গীত ও ৪৮ জনের নৃত্যদল ঢাকায় এসে পৌঁছবেন।৯তারিখে ঢাকায় আসবেন শাহরুখ খান আর থাকবেন ১১তারিখ পর্যন্ত।
টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে ৫ হাজার টাকা ও ১০ হাজার টাকা।
@আমার প্রশ্ন হচ্ছেঃ- কত পরিমান টিকিট বিক্রি হবে এই অনুষ্ঠানে? যদি ধরি ১০,০০০(দশ হাজার) আর গড় টিকিটের দাম ৭৫০০/= তাহলে টাকার পরিমান কত হবে? এই বিপুল পরিমান টাকা বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে যাবে সামান্য কয়েক ঘন্টার নাচন কুর্দনে!
যে দেশের অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বাস করে, যে দেশে হাজার হাজার মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যায়, যে দেশে মানুষ আর কুকুরে ডাষ্টবিন থেকে খাবার কাড়াকাড়ি করে খায়, যে দেশের মানুষ সামান্য প্রাকৃতিক দূর্যোগে বিদেশী সাহায্যের মুখাপেক্ষি হয়ে অপেক্ষা করে রিলিফের আশায় সর্বাপরি যে দেশে হাজার হাজার বেকারের অভিশাপ-সে দেশে এই বাদশাহী রঙ্গমঞ্চে কোটি কোটি টাকার আলোর রোশনায় ছড়াবার আদৌ কোনো যৌক্তিকতা আছে কি?
কয়েক মুহুর্তের আনন্দ স্রোতে ভেসে বাংলাদেশের কৃষক শ্রমিকের রক্তে উপার্জিত টাকা বিদেশী বেনিয়াদের হাতে তুলে দিয়ে আসলে আমরা কোন আভিজাত্যের শিখরে চড়তে চাইছি??
বলিউডের বাদশাহ্কে নিয়ে আমাদের এই উন্মাদনার কি কোনো প্রয়োজন আছে?আমাদের মত এই গরীব দেশে কি দরকার সেই যাদুগর বাদশাহ্র? তিনি যে দেশের বাদশাহ্-থাকুন না সে দেশেই!! আমাদের যা আছে-সে টুকুই ঘষে মেজে আমরা না হয় পিতলকেই সোনা বলে মেনে নিলাম,তাতে তো দোষের কিছু নেই।
আমাদের মত অবস্থানে থেকে পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে যদি এই আয়োজন হতো তাহলে এতোক্ষনে নিশ্চয় চারিদিকে প্রতিবাদের ঝর উঠে যেত। এই কোটি টাকার উৎসবের বিরোধিতা করে মিছিল সমাবেশ শুরু হয়ে যেতো এমনকি ভারতের মত দেশ প্রেমিক জনগন যদি আমরা হতাম তাহলে হয়ত এতক্ষনে আত্মাহুতি দেবার মত ঘোষনাও শোনা যেত। কিন্তু আমরা এমনি হুজুগে মাতাল জাতি-শাহ্রুখ খানের কনসার্ট! শুনেই কাপড় খুলে নাচতে শুরু করে দিয়েছি।একবার ও ভেবে দেখছিনা যে এই কন্সার্টের মধ্য দিয়ে আমাদের কোনো লাভ নেই-মাত্র কয়েক ঘন্টার নাচন কুর্দনের মাধ্যমে আমরা আমাদের বিপুল পরিমানের টাকা তথাকথিত বাদশাহ্র কোষাগরে পাচার করে দিচ্ছি। অথচ-প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা আমরা বিভিন্ন দেশ ও দাতা গোষ্ঠির কাছ থেকে চড়া সুদে ঋন নিচ্ছি। সরকারী কোষাগারে ট্যাক্স-কর বা ভ্যাট দিতে গেলে আমাদের কতই না কষ্ট হয়,কর ফাঁকি দিতে জুড়ি নেই বাংলাদেশী ব্যাবসায়ী ও চাকুরী জীবিদের।
আর সেই আমরাই-দুহাতে টাকা উড়িয়ে বিশ্ববাসীকে দেখাতে চলেছি, আমরা কত ভালবাসি বলিউড কিং শাহরুখ খানকে। হায়রে বাঙ্গালী, দু বেলা ভাত জোটে না-চায়ের নেশা বড়!!!javascript:void(1);
তাই আসুন-সমাজের স্বচেতন নাগরিক হিসাবে ঐ বাদশাহী আয়োজনের প্রতিবাদ জানাই-প্রতিরোধ যদি করতে না পারি,তাহলে ঘৃনা তো জানাতে পারব? ধিক্কার জানাই তাদের,যারা এই দেশের গনমানুষের ঘাম রক্তে কামানো টাকা বিদেশীদের হাতে তুলে দেবার জন্য উদ্দোগী হয়ে আয়োজন করেছে রাজকিয় জলসার।javascript:void(1);
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



