জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
।। ইত্তেফাক রিপোর্ট ।।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের উপ-সহকারি পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ রমনা মডেল থানায় এই মামলা দায়ের করেন। অন্য আসামিরা হলেন সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক, তারেক রহমানের ফুফাতো ভাই মমিনুর রহমান, রাজধানীর বড় মগবাজারের অধিবাসী সৈয়দ আহমেদ ওরফে সায়ীদ আহমেদ, গিয়াসউদ্দিন আহমেদ ও শরফুদ্দিন আহমেদ।
এ নিয়ে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে তিনটি করে মামলা দায়ের করল দুদক। তবে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর নামে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে আসামি করা হয়নি। মামলার বিবরণে বলা হয়, বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সোনালী ব্যাংক, রমনা শাখায় প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল নামে একটি চলতি হিসাব খুলেন। এই হিসাবে ১৯৯১ সালের ৯ জুন তৎকালীন কুয়েতের আমীর ১২ লাখ ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার অর্থাৎ ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২১৬ টাকা প্রদান করেন। এই অনুদানের টাকা এতিমখানায় প্রদান না করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট গঠন করেন। এমনকি এতিম তহবিল পরিচালনার জন্য দেশের প্রচলিত এতিমখানা বা ট্রাস্টের নীতিমালা অনুসরণ না করেই এই ট্রাস্ট গঠন করা হয়। ট্রাস্টের প্রধান ছিলেন তারেক রহমান এবং সদস্য ছিলেন আরাফাত রহমান কোকো ও মমিনুর রহমান। ট্রাস্টের ঠিকানা হচ্ছে ৬, শহীদ মইনুল রোড, ঢাকা সেনানিবাস, ঢাকা।
ট্রাস্টের নামে জমি ক্রয়: ১৯৯৩ সালের ১৩ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে থাকা অর্থ থেকে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকার একটি চেক বগুড়ায় একটি এতিমখানা স্থাপনের নামে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অনুকূলে প্রদান করা হয়। এই চেকটি ১৫ নভেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে সোনালী ব্যাংক, গুলশান নিউ নর্থ সার্কেল শাখায় জমা করা হয়। পরে ৪ ডিসেম্বর একটি চেকের মাধ্যমে এই হিসাব থেকে নগদ ৪ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়, যা দিয়ে বগুড়ায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে ২ দশমিক ৭৯ একর জমি ক্রয় করা হয়।
টাকা এফডিআর হিসাবে স্থানান্তর: অবশিষ্ট টাকা ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এতিমখানার কোন কাজে লাগানো হয়নি। এমনকি ট্রাস্টের নামে কোন অফিসও খোলা হয়নি। দীর্ঘ ১৩ বছরে এই টাকার কোন অডিট পর্যন্ত হয়নি। ২০০৬ সালের ৪ ডিসেম্বরে অবশিষ্ট টাকা সুদাসলে ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৯ হাজার ৭৫৭ টাকায় দাঁড়ায়। অবশিষ্ট টাকা পরে আত্মসাতের লৰ্যে তারেক রহমান ও মমিনুর রহমানের মাধ্যমে ৬টি চেকে উত্তোলন করা হয় এবং প্রাইম ব্যাংক, গুলশান শাখায় এফডিআর হিসাবে রাখা হয়।
যেভাবে টাকাগুলো ব্যক্তিগত একাউন্টে চলে যায়
২০০৬ সালের ৪ ডিসেম্বর ৫০ লাখ টাকার একটি চেক নগদায়ন করে বিএনপির সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হকের ব্যক্তিগত নামে একটি এফডিআর খোলা হয়। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই এই এফডিআরটি নগদায়ন করে ট্রাস্টের নামে সুদসহ ৫০ লাখ ৬৮ হাজার ৪৫০ টাকার একটি নতুন এফডিআর খোলা হয়। পরবর্তীতে ট্রাস্টের নামে ৮০ লাখ টাকার আরেকটি এফডিআর খোলা হয়। ২০০৬ সালের ২৮ মার্চ ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই দুইটি এফডিআর পরিচালনার জন্য জনৈক এম এস রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। বতর্মানে এই দুইটি এফডিআর প্রাইম ব্যাংক, গুলশান শাখায় চলমান আছে।
২০০৬ সালের ২৭ জুন ট্রাস্টের নামে প্রাইম ব্যাংক, গুলশান শাখায় এক কোটি টাকার একটি এফডিআর খোলা হয়। অবশিষ্ট এক কোটি টাকা দিয়ে ২০০৬ সালের ১৫ জুন কাজী সালিমুল হক তার ব্যক্তিগত নামে একটি এফডিআর খোলেন। এই দুইটি এফডিআর পরিচালনার জন্য তাকে ক্ষমতা প্রদান করা হয়।
এই দুইটি এফডিআরের টাকা প্রাইম ব্যাংক, গুলশান শাখা থেকে আন্তঃব্যাংক ক্রেডিট এ্যাডভাইসের মাধ্যমে প্রাইম ব্যাংক, নিউ ইস্কাটন শাখায় সুদসহ স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু ট্রাস্টের নামে এফডিআর না করে একটি এফডিআরের টাকা দিয়ে কাজী সালিমুল হক ও সৈয়দ আহমেদের যৌথ নামে এবং অপর এফডিআরের টাকা দিয়ে গিয়াসউদ্দিনের নামে নতুন এফডিআর খোলা হয়। পরে কাজী সালিমুল হক ও সৈয়দ আহমেদের এফডিআরের টাকা দিয়ে গিয়াসউদ্দিনের নামে আরো একটি নতুন এফডিআর খোলা হয়। অথচ দীর্ঘ সময় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের কোন হিসাব নিকাশ করা হয়নি। এমনকি কোন প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে অডিটও করা হয়নি। এভাবে খালেদা জিয়া তার পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় টাকা আত্মসাতের ব্যবস্থা করেন।
গিয়াসউদ্দিনের এফডিআরে থাকা সুদসহ ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা নিজ নামে ৬টি পে-অর্ডারের মাধ্যমে একই ব্যাংকে জনৈক শরফুদ্দিন আহমদের হিসাবে জমা করা হয়। পরে শরফুদ্দিন আহমদের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে এই টাকা উত্তোলন করে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাৎ করেন।
void(1);
তথ্য সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, ৪ জুলাই, ২০০৮
যে বাড়ীর জন্য হরতাল-সেই বাড়ীতে বসেই দুর্নীতির মহোৎসব করেছেন খালেদা-তারেক!
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
১৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।