বেশ কিছুদিন ধরেই ফেলানী হত্যার বিষয়টি নিয়ে গরম হয়েছিলো সামু ব্লগ।ভিনদেশী বন্দুকধারীর গুলিতে একটি নিরিহ মেয়ে মারা যাবার পর যে প্রতিক্রিয়া ব্লগে দেখা গিয়ে ছিলো তা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে।আমরা আমাদের সমাজ ব্যাবস্থা-দেশ ও দেশের মানুষকে নিয়ে কতটা ভাবি তার উদাহরন ছিলো ফেলানীর জন্য আন্দোলন। কিন্তু দুঃখ জনক হলো-আমাদেরই দেশের একশ্রেনীর তথাকথিত ফতোয়াবাজদের ফতোয়ার শিকার শরীয়তপুরের হেনা আক্তার যখন দুররার আঘাতে প্রান হারালো-আমরা নীরব দর্শক বনে গেলাম।আমাদের রক্ত হীম শীতল বরফ হয়ে গেলো।প্রতিবাদের ভাষা আমাদের মুখ দিয়ে আর বের হলো না-আমরা বোবা কালা সেজে দেখলাম এক হতভাগীনির করুন মৃত্যু! ঘটনার বিবরন থেকে যা জানা গেলো তা আধুনিক সভ্য সমাজে ভাবতেও গা শিউরে ওঠে।একটি নাবালিকা মেয়ে-যে মেয়েটি ধর্ষনের শিকার।অথচ-প্রভাবশালী গ্রাম্য মাতব্বর ও ফতোয়াবাজেরা ঐ ধর্ষনের দায়ে ধর্ষিতা মেয়েটিকেই দায়ী করে ১০১টি দোররা মারার হুকুম জারি করে দিলো?কি নির্মম!! হাজার হাজার বছর আগে সভ্যতার আলো যখন মানুষের অন্তরে প্রবেশ করেনি এ ধরনের ঘটনা তখন ছিলো নারীর প্রতি পুরুষের বৈষম্যমুলক আচরন।কিন্তু এখন এই একবিংশ শতাব্দীতে যখন জ্ঞ্যান বিজ্ঞান এগিয়ে গেছে অনেকদুর-সমগ্র বিশ্ব মানবাধীকার প্রতিষ্ঠাতে বদ্ধপরিকর-মানুষের আচার আচরন বদলে গেছে আধুনিকতার ছোঁয়ায়।নারীমুক্তির বুলি যখন দেশে দেশে উচ্চারিত হচ্ছে-ঠিক সে সময়ে একটি সভ্য সমাজে কিভাবে এমন নিষ্ঠুর হত্যাকান্ড সংগঠিত হতে পারে? আমরা কি শুধুই দর্শক হয়ে রইব আর হেনার মত মেয়েরা একের পর এক ফতোয়াবাজির অবৈধ আদেশে প্রান দিতে থাকবে? ফেলানি হত্যার প্রতিবাদে সমগ্র দেশের জনগন যেভাবে গর্জে উঠেছিলো-ঘৃনা জানিয়েছিলো হত্যাকারিদের।ঠিক সেইভাবে আমরা কি পারিনা জঘন্য ফতোয়াবাজির শিকার হেনা মেয়েটির হত্যাকারিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে? পারিনা কি সমস্ত ফতোয়াবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে? না-কি আমরা কেবল বিদেশীদের বিরুদ্ধেই তর্জন গর্জন করে যাব শুধু সস্তা বাহ্বা কুড়াবার জন্য? অন্যায় সব সময় ই অন্যায়।তা সে দেশে হোক বা বিদেশে।আমাদের সমাজকে বদলানোর দায়িত্ব তো আমাদেরই নিতে হবে!! প্রমান দিতে হবে আমরা যেমন ফেলানি হত্যার উপযুক্ত বিচার চাই তেমনি অবৈধ জঘন্য ফতোয়াবাজদের হাতে হেনা হত্যারও বিচার চাই।
খবরে প্রকাশ- শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ফতোয়াবাজির শিকার হেনা আক্তার হত্যার প্রধান আসামি পাঁচ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি। তবে পুলিশ বলছে, তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ফতোয়া দিয়ে দোররা মারার পর গত সোমবার চামটা গ্রামের দরবেশ খানের কিশোরী মেয়ে হেনার মৃত্যু হয়। পরদিন পুলিশ এতে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা এখন কারাগারে রয়েছে।
তবে মামলার প্রধান আসামি মাহবুব হোসেন, ফতোয়াদানকারী মাদ্রাসা শিক্ষক শাইদুর রহমান এবং চামটা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইদ্রিস শেখসহ অন্য ১৪ আসামি এখনো পলাতক।
নড়িয়া থানার ওসি আবুল খায়ের ফকির শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের বলেন, "আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের তিনটি দল ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে।"
হেনার স্বজনদের বক্তব্য অনুযায়ী, চাচাতো ভাই মাহবুব হোসেনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ফতোয়ার শিকার হয় ওই কিশোরী। স্থানীয় সালিশে মাঝিবাড়ি মসজিদের ইমাম মো. মফিজ উদ্দিন, চামটা আবুল বাশার উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক শাইদুর রহমান ১০১ দোররা মারার সিদ্ধান্ত দেয়। এর মধ্যে মফিজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ২৪ জানুয়ারি দোররা মারার পর হেনা অসুস্থ হয়ে পড়ে। সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়। পরদিন মাহবুবকে প্রধান আসামি করে ১৮ জনের বিরুদ্ধে নড়িয়া থানায় হত্যা মামলা করেন দরবেশ খান।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ১:৪২