somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... মনুষ্যত্বহীন মানুষ যন্ত্রের গল্প ২য় পর্ব জীবনের এই কুৎসিত গল্পটা কাউকে জানাব না বলেই ভেবেছিলাম। হয়তো আমারও একদিন মৃত্যু হবে এশহরের কোনএকদল সৌখিন মানুষ শিকারীর হাতে। আমার নিরাপদ মৃত্যুর দাবী আমাকে বাধ্য করে এই গল্প সবাইকে জানাতে।

প্রথম পর্বের লিংকটি দেওয়া আছে নিচে , ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি বেশি দেরি হয়ে গেল ২য় পর্ব লিখতে।
Click This Link


রাসেলকে মারছে অনেকের মত আমিও দেখছি। মানুষ মারার উৎসব অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই অনেক মানুষ জুটে গেল। মাথা নিচু হয়ে রাসেল মার সহ্য করছে শুধু মাথাটা রক্ষা করতে চাইছে। প্রাণ যাক মাথাটা যেন ঠিক থাকে। কিছু করার নেই দুজনই স্বাস্থ্যবান যুবকের এই মানুষ মারার খেলা দেখা ছাড়া কী করতে পারি আমি। এরই মধ্যে রাসেলের ছোট ভাইটা মার ফেরাতে দিয়ে জ্ঞান হারালো । আমি কিছু বলতে চাইলাম কিন্তু যান্ত্রিক মনোবল অথবা কাপুরুষতার জন্যই হয়ত আমার কন্ঠ আমার মনের আবেদনে সাড়া দেয়নি।

রাসেলে মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে প্রচন্ড ভয়াবহ অবস্থা হঠাৎ করে আমি বলে ফেলাম ছেলেটা মারা যাবে এবার ছেড়ে দিন। গাড়ি থেকে দুটি মেয়ে নেমে আশেপাশের মানুষজনদের বলতে শুরু করল। রাসেল নাকি তার ব্যাগ নিয়ে পালাতে চাইছিল। আমি প্রতিবাদ করতে চাইলাম। কিন্তু কেউ আমার কথা শুনতে চাইছে না । আশেপাশের সকলে সুন্দরীদের কথা শুনে সিদ্ধান্ত জানাছিল। এক একজন এক একরকম শাস্তির কথা বলতে শুরু করল। কেউ বলল গাড়ি নিচে দিয়ে দিন। কেউ বলল আগুন লাগিয়ে দিন। যে যার মত পারছে লাথি দিচ্ছে। যুবকরা এখন অবসর গাড়িতে সেবা নিচ্ছে দরজা খুলে। মেয়ে দুটি তাদের নরম শরীরের পরশ দিচ্ছে। একজন একটু হাতে ব্যাথা পেয়েছে হয়ত না নিয়ে ব্যস্ত তার বান্ধবীরা ।

আমি এটাকে সুযোগ বুঝে একটু নিচু স্বরে গিয়ে তাদেরকে বললাম। ভাই ছেলেটাকে বাঁচান মানুষজন মেরে ফেলবে। আর ও তো আপনাদের ব্যাগ নিয়ে পালাতে চায়নি। আমি এখানে ছিলাম । কথা নেই আর কোন শব্দ আমি ব্যবহার করিনি। গাড়ি থেকে নেমে একজন মেয়ে এসে আমাকে সজোরে থাপ্পর মারল। খুব শহরে ভাষায় বলতে শুরু করল "তুই ওদেরই লোক, তোকে প্রথম থেকেই দেখছি। কোন কথা নেই ছেলে দুটি আবারও রিচার্জ হয়ে আমাকে মারতে আসতে চাইল। একটা মেয়ে বাধা দিল। থাপ্পর দেওয়া মেয়েটা আশেপাশের লোকজনদের বলতে শুরু করল যে আমার নাকি যোগাযোগ আছে রাসেলের সাথে । আমরা একটা চক্র। এভাবেই ছিনতাই করি। লোকজন আমার দিকে জড় হতে শুরু করল আমি ভদ্র ভাষায় আশেপাশের সবাইকে বুঝাতে চাইলাম। ভাই আমি ওর সাথের লোক নই , ছেলেটাকে মারা যাবে শুধু এতটুকুই বলতে চেয়েছি।
এরই মধ্যে সুন্দরীদের আটসাট কাপড়ে ঢাকা দেহের চোখু স্বাদ নেওয়া মানুষগুলো আমার কথা শুনছে না।

আমি অস্থির হয়ে উঠলাম আমরা নিরাপত্তার জন্য। সবাই আমার দিকে তাকাছে। কয়েক মুহূর্তের জন্য বুঝতে পারছিলাম আমি শেষ । এবার মানুষ মারার উৎসবে আমার জীবন।

আমার ভদ্র এবং কথিত ভদ্র পোষকই যেন একটু সহায় হল একজন এসে বলল কি দরকার এই হকার ফকারের জন্য যাওয়ার। যান যান ................
হয়তো প্রাণ বাচ্চানোর জন্য এরকম একটা সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। আমি তাড়াতাড়ি সরে পড়লাম নিজের জীবনের মায়া।

রাস্তা ক্রস করে একটা রিকশা নিলাম সোজা বাসায় যাব। ভাবলাম বাঁচা গেল সত্যিতো কি দরকার এই অপরিচিত ছেলের জন্য এত একটা ঝুকি নেওয়ার।

তারপরও কেন জানি নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছিল। আমি স্বার্থপর, কাপুরুষ কাদতে ইচ্ছা করছিল। বড্ড অসহায় লাগছিল নিজেকে। অর্ধেক রাস্তা থেকেই সিদ্ধান্ত পাল্টিয়ে ফেরত আসলাম । সিদ্ধান্ত নিলাম আমি যাব। আসার পথে আমার এক বন্ধুকে ফোন দিলাম সংক্ষেপে বলার পর সে বলল আসছে।

ফিরে গিয়ে দেখি রাসেলের নিথর দেহ পড়ে আছে, কয়েকজন দেখছে। ছোট ভাইটা জ্ঞান ফিরেছে। সে চিৎকার করছে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য। এরই মধ্যে ওরা চলে গেছে। আর এখন উপস্থিত সকলের জানা হয়ে গেছে রাসেল ছিনতাইকারী। আমি রাসেলের গায়ে হাত দিয়ে দেখতে চাইলাম প্রাণ আছে কিনা।

রাসেল জীবিত! তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। কয়েকজন বাধা দিচ্ছে। বলল শালা ছিনতাইকারী রাস্তায় পড়ে মরুক। সহয়তা চাইছি কেউ সাড়া দেয়না। আমি অপেক্ষায় আছি আমার বন্ধু আসার পর হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাব।

অপেক্ষা, অপেক্ষা, অপেক্ষা বড্ড ক্লান্তিকর। বার বার মনে হচ্ছিল অপেক্ষা ক্লান্তি নেই, নেই মৃত্যু। আমি অপেক্ষায় আছি রাসেলকে নিয়ে যাব হাসপাতালে। একবার ও ভাবতে ইচ্ছে হচ্ছে না রাসেল মারা যাবে।

আর কতক্ষণ লাগবে তানভীর আসছেনা কেন?
এতটুকু রাস্তা আসতে কত সময় লাগে?
রাসেলের ভাইটি বার বার বলছে আমার ভাইরে বাচান। আমি তার বুকে হাত বুলিয়ে দিয়ে চিৎকার করছি সাহায্যের জন্য, কেউ আসছে না। খুব কাছ থেকে মানুষের মৃত্যু দেখছি।

প্রিয় ব্লগার আজ আর লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে না। আগামীতে আশা করি লিখব রাসেলকে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া, হাসপাতালের বাণিজ্যিক মনোভাব, রোগীসহ রিকশা ভিআইপি সড়কে চলাতে না দেওয়া, আমার থানা ফেরত গল্প এবং স্যালুট ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dhakabd/28861977 http://www.somewhereinblog.net/blog/dhakabd/28861977 2008-10-30 12:26:18
মনুষ্যত্বহীন মানুষ যন্ত্রের গল্প
ঢাকা শহর বদলে যাচ্ছে বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবনধারা। আরবান কনসেপ্টের আড়ালে মানুষের মধ্যে বাড়ছে দূরুত্ব আর প্রাইভেট গাড়ি নির্ভর জীবনযাত্রা শহরের মানুষগুলোর জীবনের একাকীত্বকে আরোও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ক্রমেই মানুষগুলোর জীবন আমি আর তুমির মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। এ শহরের সকল কিছু আজ বিক্রয়যোগ্য প্রেম, ভালবাসা, অনুভূতি সবই এখানে টাকার অংকে মাপা যায়। আর এই হিসেব মেলানোর জন্য গজিয়ে ওঠেছে গুটিকয়েক অর্থনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবি, পরিকল্পনাবিদ। যেন অল্প কিছু মানুষের লিঃ কোম্পানী হয়ে পড়ছে প্রিয় শহর।



প্রিয় ব্লগার
এই গল্প একজন রাসেলের। রাসেল পরিচয় সে একজন হকার । শহরের বিভিন্ন স্থানে সে সবব্জী বিক্রি করে। প্রতিদিনের মত আজো সে ফুটপাতের ধারে তার পণ্যের প্রসরা সাজিয়ে বসেছে। কিন্তু একটা কালো রঙের প্রাইভেট কার রাসেলের বাসার স্থান ও পুরো ফুটপাত জুড় পার্কিং করতে চায়। দৈত্য সুলভ প্রাইভেটকার বিকট হর্ণ ব্যবহার করে জায়গা দখল করতে চাইছে। প্রাইভেট কারটির পার্কিংয়ে রাসেলের মৃদু আপত্তি । কারণ গাড়িটি একটু দূরে পাকিং করলে গাড়ির কোন সমস্যা হবার নয় আর এই ফুটপাত গাড়ি পার্কিংয়ে জায়গাও নয়। এই মৃদু অপত্তি রাসেলের জন্য কাল হয়ে দাড়ায়। দৈত্যকার গাড়ি থেকে নেমে আসে দুইজন স্বাস্থ্যবান ছেলে। নিমিশেই তারা রাসেলের সব মালামাল রাস্তায় ছুড়ে ফেলে। টেলিভিশনের রেসলিং দেখে-শেখা মারের অনুকরনে তারা রাসেলকে মারছে । অনেক লোক দেখছে এই মানুষ মারার খেলা। দৈতকার গাড়ির জানালা একটু নামিয়ে সুন্দরী কন্যাদ্বয় বার বার দেখছিল তাদের নায়কদ্বয়ের রেসলিং।
নায়কদ্বয়ের এই বীরত্বকে বার বার উৎসাহ দিয়ে চলছে তাদের বিচিত্র অঙ্গভঙ্গিতে।

অসহায় রাসেলের ছোটভাইটা বার বার আকুতি জানচ্ছে আশেপাশের মানুষগুলোর কাছে ভাইকে বাচাঁনোর জন্য। মানুষগুলোর নিরবতা, চোখের সামনে ভাইয়ের নিশ্চিত মৃত্যু ভাবনাটা হয়ত এই শহর আর শহরের মানুষের প্রতি অবিশ্বাসই জন্ম দিচ্ছিল.............. ।

তার আকুতি কী কোনভাবে ভাইয়ের মৃত্যু রুখতে পারবেনা?

মহা প্রতাপশালী এই নগর ক্ষমতাবান পুত্রদের কাছে অসহায় শতশত মানুষের মনুষ্যত্ব, বিবেকের বন্দীত্ব আর রূপসী কন্যাদ্বয়ের বেহালীপনা নিয়ে আশা করি আগামী সংখ্যায় লিখব........................................


আর এই নিয়ে আমার আন্দোলনের শুরু, শুরু আগামীর নতুন স্বপ্নের । আমার বিশ্বাস এই গল্পের বাস্তবতা বিশ্লেষণ করে আপনারা সবাই একমত হবে আমার সাথে। আর আমাদের গুটি কয়েক মানুষের স্বপ্নের আন্দোলন নিশ্চয় রূপ নিবে, হাজারো মানুষের অধিকার আদায়ে দাবীতে।
আসুন গল্পের শুরু,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

ঢাকা শহরটা যেন আজ মানুষের জন্য নয় । গাড়ি জন্য এ শহর । এ শহর নিয়ে শুধু তখনই হতাশ হই যখন দেখি শহরের মানুষগুলো থেকেও শহরে চলাচলকারী প্রাইভেট গাড়িকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। সবাই কে পরিকল্পিতভাবে বানানো হচ্ছে প্রাইভেট গাড়ির দাস। শহরের বাড়িগুলোতে একটা শিশুর খেলার জন্য জায়গা নেই, জায়গা নেই জীবনের অপরিহার্য একটা গাছ লাগানোর জায়গা, কিন্তু কর্তৃপক্ষ সোচ্চার গাড়ি জায়গা ( পাকিং প্লেস) তৈরি জন্য। প্রতিটি বাড়ীতে পাকিং প্লেস তৈরিতে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ১০টাকার বিনিময়ে মতিঝিলের সারাদিনের জন্য গাড়ি পাকিং করতে দেওয়া হয় । অনেক রাস্তায়, ফুটপাতে প্রাইভেট কারকে পাকিং করতে দেওয়া হয়। দেওয়া হয় না শুধু হকার বসতে। একটা হকার একটা গাড়ি থেকে কম জায়গা নেয়, কিন্তু তার এই ব্যবসার ঘিরেই অনেকগুলো প্রাণের স্পন্দ নির্ভরশীল। সংবিধান, গণতন্ত্র, আইন কিসের অধিকারে ধনীর গাড়ি ১০ টাকায় / বিনামূল্যে সারাদিন রাস্তায় পার্কিং সুবিধা পায়। প্রতিটি হাকারও সারাদিনে ১০ টাকা কেন ৫০টাকা দিতে রাজি। শুধুমাত্র অল্প একটু জায়গা প্রয়োজন তার ব্যবসার জন্য। পাশাপাশি তার এই পন্যের উপর নির্ভর ঢাকার একটি বিরাট জনগোষ্ঠী। যেখানের যানজটের কথা বলে হকার বসতে দেওয়া হয় না সেখানে কিভাবে প্রাইভেট কার পাকিং দেওয়া হয় বিনামূল্যে। তখন কি রাস্তা সংকুচিত হয় না?

যে শহরে প্রতিদিন হাজারো মানুষ না খেয়ে ঘুমাতে যায় সেই শহরে প্রতিবছর হাজার কোটি টাকা ভর্তুকী দেওয়া হয় প্রাইভেট কারে পিছনে। আর এই প্রাইভেট কার ব্যবহার করছে গুটি কয়েক লোক যা ঢাকা শহরের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৯শতাংশ। ৯শতাংশ মানুষের সুবিধা নিশ্চিত করতে ঢাকা শহরের রাস্তা অর্ধেকের বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তাদের জন্য। বাকি রাস্তায় চলি আমরা সবাই ৮১শতাংশ লোক ।

কী সমাধান ? কেউ বলে ২৫% রাস্তা দরকার । এত ঘনবসতি পূর্ণ দেশে কী ২৫% রাস্তা তৈরি সম্ভব? তাহলে মানুষ থাকবে কোথায়? পৃথিবীর অনেক শহরে ৩০% রাস্তা থাকার পরও যানজট । আবার ৬% থেকে কম রাস্তা নিয়েও যাতায়াত ব্যবস্থায় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে অনেক শহর। যে শহরে রাস্তা কম সে শহরে কীভাবে গুটি কয়েক ব্যক্তির যাতায়াত সুবিধাকে প্রাধান্যই প্রধান হয়। ঘর বাড়ী, অফিস আদালত সবকিছূ ভেঙ্গে রাস্তা তৈরি সম্ভব নয়। তাই ঢাকার পরিবহন পরিকল্পনার সিন্ধান্ত নিতে হবে ৬% রাস্তাকে ঘিরেই। এই সীমাবদ্ধতার মাঝেও কর্মের সুযোগ করে দিতে হবে হকার রাসেলের মত হাজারো ব্যক্তিকে । নিয়ন্ত্রণ করতে গুটি কয়েক ব্যক্তির বাহন। অধিক পরিমাণ পাবলিক পরিবহণ, রিকশা, সাইকেল, পথচারীবান্ধব ফুটপাত তৈরি করতে হবে। পরিকল্পনায় প্রাধান্য পাবে মানুষ গাড়ি নয়।

আসুন আমরা সচেতন হই। এ শহর নিয়ে হাজার অভাব অভিযোগের মধ্যেও যেন আমরা না ভুলি এ শহর আমাদের । এ নিয়ে শহর ঘিরে প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি সিদ্ধান্ত আমাদের নগর জীবনে প্রভাব ফেলে। তাই শহর বিষয়ে আমার এগিয়ে আসি। এগিয়ে আসি এ শহরে প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণে। এগিয়ে আসি দূষণমুক্ত ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে।



বিঃ দ্রঃ মহা প্রতাপশালী এই নগর ক্ষমতাবান পুত্রদের কাছে অসহায় শতশত মানুষের মনুষ্যত্ব, বিবেকের বন্দীত্ব আর রূপসী কন্যাদ্বয়ের বেহালীপনা নিয়ে আশা করি আগামী সংখ্যায় লিখব........................................
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dhakabd/28825964 http://www.somewhereinblog.net/blog/dhakabd/28825964 2008-07-31 14:49:29