somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাংবাদিকতার গায়ে 'হলুদ'

২৩ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ৯:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিবাহপূর্ব গায়ে হলুদ মানেই সুখকর একটা কিছু। খা খা দুপুরের বিষন্নতা বোঝাতেও লাগে হলুদ রং। আবার প্রকট হলুদাভ বিকেলের আলো মুখে পড়লে বিনে আয়োজনে অনেকেই পেয়ে যান 'হলুদ সুন্দর কন্যা' খেতাব। হলুদ না থাকলে প্রকাশনা জগত কখনই ফোর কালারের বাহার দেখতো না। ব্যতিক্রম কেবল সাংবাদিকতা। এর গায়ে হলুদ ছোপ পড়লে আর রক্ষে নেই। জাত কূল আর থাকে না। বিশ্বাসের আসন টলোমলো, এথিক্স অস্তমিত। হাজারো মশলার ভীড়ে খাবারের মতো হারিয়ে যায় খবরের মৌলিক ফেভার। চাঞ্চল্যের আতিশয্যে বস্তুনিষ্ঠতা ছাড়িয়ে সবার উপরে সত্য হয়ে দাঁড়ায় 'কাটতি'। রঙিন মোড়কের ভারে মূল খবরের ত্রাহি দশা। মূলত খবরের এই অতিরঞ্জিত রূপটাই 'হলুদ সাংবাদিকতা'। কিন্তু হলুদ এলো কোত্থেকে? উত্তর পেতে ফিরে যেতে হবে প্রায় ১২০ বছর আগে। সেই সময়কার একটি জনপ্রিয় কমিক চরিত্র থেকেই জন্ম হলুদ সাংবাদিকতা তথা 'ইয়েলো জার্নালিজম'-এর।

সময়কাল ১৮৯৫-১৮৯৮। তখন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে দুটো পত্রিকা দারুণ চলছে। একটি জোসেফ পুলিতজারের 'নিউইয়র্ক ওয়ার্ল্ড'। অন্যটি উইলিয়াম র‌্যান্ডল্ফ হার্স্টের 'নিউইয়র্ক জার্নাল'। ওয়ার্ল্ড বেশ ক'বছর এক নম্বর অবস্থানেই ছিল। তবে জার্নালের দাপটে ক্রমশ ওটার কাটতি কমতে শুরু করে। এক পর্যায়ে বেশি বেতনের প্রস্তাব পেয়ে হার্স্টের জার্নালে একে একে যোগ দিতে শুরু করে ওয়ার্ল্ড-এর কর্মীরা। উপায়ান্তর না দেখে প্রথমে পত্রিকার দাম কমান পুলিত্জার। তাতেও খুব একটা লাভ হলো না। শুরু হলো সংবাদকে আকর্ষর্ণীয় ও উত্তেজনায় টইটম্বুর করে উপস্থাপনের এক মরণপন লড়াই। শহরে প্রচণ্ড গরম? পুলিত্জার তার ওয়ার্ল্ড-এ ছাপলেন, 'যেভাবে শিশুরা পুড়ছে!', 'ছাদ থেকে খসে পড়ছে শিশুর পোড়া লাশ' ইত্যাদি। অন্যদিকে ওয়ার্ল্ড-এর অনুকরণে ছোটখাট দুর্ঘটনাতেও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের গন্ধ খুঁজতে লাগলো হার্স্টের জার্নাল। দুটো পত্রিকার কাটতি হু হু করে বাড়লেও ব্যাপারটাকে ভাল চোখে দেখলো না নিউইয়র্কের নীতিনির্ধারকরা।

অন্যদিকে হার্স্ট তার জার্নালের সাময়িকিতে চালু করলেন আনকোরা এক কমিক। তাতে আপাদমস্তক হলুদ কাপড়ে ঢাকা টেকো মাথার এক টোকাইকে দেখা গেল নিউইয়র্ক দাপিয়ে বেড়াতে। যে কিনা মাঝে মাঝেই তার লম্বা আলখাল্লায় অদ্ভুত সব বার্তা বয়ে বেড়ায়। ভীষণ জনপ্রিয় হয়ে গেল সেই কমিক চরিত্রÑ'ইয়েলো কিড' তথা হলুদ বালক। কিন্তু কিছুদিন না পেরোতেই জার্নালের দেখাদেখি পুলিত্জারও তার ওয়ার্ল্ডে হুবহু একই কমিক ছাপতে শুরু করলেন। দুটো পত্রিকার প্রতিযোগিতা এবার পরিষ্কার ধরা পড়লো পাঠকের চোখে। তবু কাটতি কমে না। শেষে সহ্য করতে না পেরে তলানিতে পড়ে থাকা নিউইয়র্ক প্রেস নামের একটি পত্রিকা বলে বসলো, 'পত্রিকা দুটো ঐ কমিক চরিত্র ইয়েলো কিডের মতোই আচরণ শুরু করেছে। ওদের কাজকর্ম পুরোপুরি ইয়েলো কিড জার্নালিজম'। ব্যস, মুখে মুখে চালু হয়ে গেল খেতাবখানা। কমিক চরিত্রের নাম দিয়েই পাঠক বুঝতে শুরু করলো পত্রিকার চরিত্র। ইয়েলো কিড-এর কিড শব্দটা কাটা পড়লো কালের সম্পাদনায়। রয়ে গেল শুধু হলুদ।

এতদিনেও 'হলুদ সাংবাদিকতা'র সংজ্ঞা পাল্টায়নি। তবে নিত্য নতুন কৌশল আসায় ধরা পড়ার চান্স বেশ কমে গেছে। আর ধরা পড়লেই বা কী! হলুদ সাংবাদিকতার আসল জনক জোসেফ পুলিত্জারই তো কালের বিচারে বেকসুর খালাস। কেননা, তিনিই চালু করেছেন সাংবাদিকতায় সেরা পুরস্কার। তার নামে এখনও বিশ্বসেরা প্রতিবেদক পাচ্ছেন পুলিত্জার মেডেল এবং অবশ্যই তাকে হতে হবে 'হলুদ' বিবর্জিত!
১৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×