somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার মা,

০৪ ঠা জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ওগো দয়াময়, নিখিলের প্রভু, হে খোদা রহমান,
হেলায় কেন কেড়ে নিলে তুমি আমার মায়ের প্রাণ!?
আমারওতো ইচ্ছে করে মাকে “মা, মা” বলে ডাকতে,
মা’র পদতলে আমার ঐ বেহেশতটায় থাকতে।
ইচ্ছে করে গভীর আবেগে জড়িয়ে ধরতে মা’কে,
দুঃখের দিনে মনটা আমার কাছে পেতে চায় তাকে।
কত কিছুই ইচ্ছে করে, পারিনা কিছুই করতে,
ইচ্ছে হলেও পারিনা আমি মা’কে জড়িয়ে ধরতে।
কি দুঃসহ! কি ভয়ানক! এই মা’কে ছাড়া বেঁচে থাকা,
এত ব্যথা মোর ঢাকবো কি দিয়ে! যায়না যে তা ঢাকা।
ভাগ্যলিখন তুমিই তো লিখো, হে প্রভু দয়াময়,
কেন তবে এ নিষ্ঠুরতা! কোন পাপের বিনিময়!!
ঘরে ফিরে আর পারিনা এখন, “মা, মা” বলে ডাকতে,
যে ঘরে মা নেই, ইচ্ছে করেনা ক্ষণ সেথা থাকতে।
মাঝে মাঝেই খুব ইচ্ছে করে, চেঁচিয়ে ডাকি মা’কে,
ইচ্ছে করে পরপার থেকে ছিনতাই করি তাঁকে!
ইচ্ছে করে মাঝে মাঝে খুব, চিৎকার করে কাঁদি,
ইচ্ছে করে চোখের পানিতে, ভাসাই সাগর-নদী।

মা' অতি আপন জন। মাকে নিয়ে কত সিনেমা কত গান। প্রত্যকে ধর্মে মায়ের গুরুত্ব বুঝানো হয়েছে। ইসলাম ধর্মে মায়ের পায়ের নীচে সন্তানের জান্নাত। মা- যদি পাগল ও হয় তবুও তার ক্ষেত্রে উফ! সব্দটি করতে নিষেধ করা হয়েছে। যে মায়ের এত গুরুত্ব। সেই মায়ের জন্য বিশেষ দিন ক্ষন কেন? মাকে নিয়ে এত স্যালিবিরেশন কেন? মায়ের দিকে একবার ভালবাসার দৃষ্টি নিয়ে তাকালে মকবুল হজ্জের সওয়াব পাওয়া যায়। মকবুল অর্থ বুঝানো হয়েছে যে হজ্জ কবুল হয়েছে। আমার মত যাদের মা নেই তারাই অনুভব করবেন- নতুন নতুন অনেক রিলেশন হবে, কিন্তু মা- সন্তানের রিলেশন আর হবে না। তাই মাকে নিয়ে আমার যে অব্যক্ত কথা--
'মা' শব্দটি নিয়ে একটা কবিতা লেখার স্বাদ আমার অনেক দিনের। কত কাগজ, কত কালি নষ্ট করেছি। কিন্তু আজও সে কবিতা লেখা হয়নি আমার। তোমার মুখের একটি ছবি আঁকার ইচ্ছে আমার অনেক দিনের। কত চেষ্টা, কত ক্যানভাস, কত রঙ তুলি নষ্ট করেছি, কিন্তু আজও সে ছবি আমার আঁকা হয় নি। এ আমার অক্ষমতা।

তোমায় কত ভাল বাসি তা আজ মর্মে মর্মে উপলিব্ধি করছি। তুমি জানতে কি? তোমার অজান্তে অপলক চোখে চেয়ে থাকতাম তোমার মুখের দিকে। কখনো অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম তোমার মুখে একটু হাসি দেখার জন্য। বিশেষ করে তোমার অসুস্থতার পর। যদি একটু হাসতে, তোমার সে হাসি দেখতে দেখতে আবার তা মিলিয়ে যেত। কিন্তু তবুও সে হাসির ধ্বনি আমার কানে বাজতে থাকত বহুক্ষন।

যখন কোন কারনে আমার মন খারাপ থাকে তখন একা ওই আকাশের দিকে চেয়ে বসে থাকি। আর তোমার হাসি মাখা মুখ খানি চোখের সামনে ভাসাতে চেষ্টা করি। ভাবতে ভাবতে কখন যে আমার সব টুকু মন্দ লাগা হারিয়ে যায়, তা- নিজেও জানি না।

মা, যখন তুমি খুব ব্যস্ত থাকতে, খুব মনোযোগ দিয়ে তোমায় লক্ষ্য করতাম। তোমার চলা, বলা, তোমার কর্মক্লান্ত- ঘর্মাক্ত মুখ, সব সব কিছুকে আমার মনে হয় কোনো নিপুন কারিগরের কর্মলীলা। কলেজ থেকে ফিরতে দেরী হলে চেঁচামেচি করে ঘরের সবাইকে অস্থির করে তুলতে। ঠিক তেমনি অফিসে পৌঁছানো মাত্র ফোন না দিলে কত কৈফিয়ত যে দিতে হত। আজ কারো কাছে আমার সে কৈফিয়ত দিতে হয় না। যেন আঁচলে ঢেকে রেখেই তুমি আমাদের মানুষ করেছ।

আট ছেলে-মেয়ে ও কাজের লোক সহ ১০-১২ জনের এক বিশাল সংসার ছিল তোমার। সারাদিন একটানা খানুনির পরও যখন তুমি রাত জেগে জেগে তাহাজ্জ্বত পড়তে। তা দেখে -সত্যই অবাক হতাম।

চলার পথে যখন কোন কষ্ট, দুঃখ বা অশান্তি বোধ করি তখন শুধু তোমাকে পাশে রাখতে ইচ্ছা করে। মনে হয়, শুধু তোমার হাতের স্পর্শ আমার সব টুকু যন্ত্রণা, কষ্ট ধুয়ে মুছে ছাফ করে দিবে।

তুমি যখন আমার উপর রাগ করতে তখন মনে হত আমার গোটা পৃথিবী যেন শূণ্য হয়ে যেত। কিছুক্ষন রাগ করে থাকলে সুযোগ খুঁজতাম কখন তুমি পান খাবে। পান খেলে তোমাকে অন্যরকম মনে হত। তাই তখন যে কোন আবদার তুমি মেনে নিতে । তুমি জান না মা, তোমায় কত ভাল বাসি। শুধু তুমি চাওনি বলে জীবনের সবচেয়ে বেশী পছন্দের যিনিষটি আমি গ্রহণ করিনি । খুব বেশী অনুভব করি তুমি ছাড়া পৃথি বী আমার অর্থহীন। তোমার মুখ, হাসি আর একটু স্নে হে র পরশ ব্যাস। একুটুই ছিল আমার পরম সম্পদ।
কিন্তু কোথায় পাব বল সেই পরম স্নেহের পরশ?


তুমি যখন আমার উপর রাগ করতে তখন মনে হত আমার গোটা পৃথিবী যেন শূণ্য হয়ে যেত। কিছুক্ষন রাগ করে থাকলে সুযোগ খুঁজতাম কখন তুমি পান খাবে। পান খেলে তোমাকে অন্যরকম মনে হত। তাই তখন যে কোন আবদার তুমি মেনে নিতে । তুমি জান না মা, তোমায় কত ভাল বাসি। শুধু তুমি চাওনি বলে জীবনের সবচেয়ে বেশী পছন্দের যিনিষটি আমি গ্রহণ করিনি । খুব বেশী অনুভব করি তুমি ছাড়া পৃথি বী আমার অর্থহীন। তোমার মুখ, হাসি আর একটু স্নে হে র পরশ ব্যাস। একুটুই ছিল আমার পরম সম্পদ।
কিন্তু কোথায় পাব বল সেই পরম স্নেহের পরশ?
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০১৬ বিকাল ৪:৪৭
১২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×