আমার প্রিয় পোস্ট

তোমার ফিরে না আসা বার্ষিকী আজ

০৪ ঠা জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৮

শেয়ারঃ
0 0 0

তুমি ফিরে না আসা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আমার এ লেখা। একটি বছর যে কথাটি আমার একবার ও বলা হয় নি। সে শব্দটি নিয়ে একটা কবিতা লেখার স্বাদ আমার অনেক দিনের। কত কাগজ, কত কালি নষ্ট করেছি। কিন্তু আজও সে কবিতা লেখা হয়নি আমার। তোমার মুখের একটি ছবি আঁকার ইচ্ছে আমার অনেক দিনের। কত চেষ্টা, কত ক্যানভাস, কত রঙ তুলি নষ্ট করেছি, কিন্তু আজও সে ছবি আমার আঁকা হয় নি। এ আমার অক্ষমতা।

তোমায় কত ভাল বাসি তা আজ মর্মে মর্মে উপলিব্ধি করছি। তুমি জানতে কি? তোমার অজান্তে অপলক চেয়ে থাকতাম তোমার মুখের দিকে। কখনো অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম তোমার মুখে একটু হাসি দেখার জন্য। বিশেষ করে তোমার অসুস্থতার পর। যদি একটু হাসতে, তোমার সে হাসি দেখতে দেখতে আবার তা মিলিয়ে যেত। কিন্তু তবুও সে হাসির ধ্বনি আমার কানে বাজতে থাকত বহুক্ষন।

যখন কোন কারনে আমার মন খারাপ থাকে তখন একা ওই আকাশের দিকে চেয়ে বসে থাকি। আর তোমার হাসি মাখা মুখ খানি চোখের সামনে ভাসাতে চেষ্টা করি। ভাবতে ভাবতে কখন যে আমার সব টুকু মন্দ লাগা হারিয়ে যায়, তা- নিজেও জানি না।

মা, যখন তুমি খুব ব্যস্ত থাকতে, খুব মনোযোগ দিয়ে তোমায় লক্ষ্য করতাম। তোমার চলা, বলা, তোমার কর্মক্লান্ত- ঘর্মাক্ত মুখ, সব সব কিছুকে আমার মনে হয় কোনো নিপুন কারিগরের কর্মলীলা। যে কথাগুলো মনে পড়ছে আজ ভীষনভাবে- তুমি আমাকে টিউব ওয়েল চেপে পানি তুলতে দিতে না। এতে নাকি হাত শক্ত হয়ে যায়। ধান শুকানোর জন্য কড়া রোদের মধ্যে তুমি যখন তা বার বার উল্টিয়ে দিতে, আমার খুব ইচ্ছা হত তোমাকে সাহায্য করতে। কিন্তু দিতে না কারন তোমার মেয়ের গায়ের রং কালো হয়ে যাবে বলে। কলেজ থেকে ফিরতে দেরী হলে চেঁচামেচি করে ঘরের সবাইকে অস্থির করে তুলতে। ঠিক তেমনি অফিসে পৌঁছানো মাত্র ফোন না দিলে কত কৈফিয়ত যে দিতে হত। আজ কারো কাছে আমার সে কৈফিয়ত দিতে হয় না। যেন আঁচলে ঢেকে রেখেই তুমি আমাদের মানুষ করেছ।

আট ছেলে-মেয়ে ও কাজের লোক সহ ১০-১২ জনের এক বিশাল সংসার ছিল তোমার। সারাদিন এক টানা খানুনির পরও যখন তুমি রাত জেগে জেগে তাহাজ্জ্বত পড়তে। তা দেখে -সত্যই অবাক হতাম।

চলার পথে যখন কোন কষ্ট, দুঃখ বা অশান্তি বোধ করি তখন শুধু তোমাকে পাশে রাখতে ইচ্ছা করে। মনে হয়, শুধু তোমার হাতের স্পর্শ আমার সব টুকু যন্ত্রণা, কষ্ট ধুয়ে মুছে ছাফ করে দিবে।

তুমি যখন আমার উপর রাগ করতে তখন মনে হত আমার গোটা পৃথিবী যেন শূণ্য হয়ে যেত। কিছুক্ষন রাগ করে থাকলে সুযোগ খুঁজতাম কখন তুমি পান খাবে। পান খেলে তোমাকে অন্যরকম মনে হত। তাই তখন যে কোন আবদার তুমি মেনে নিতে । তুমি জান না মা, তোমায় কত ভাল বাসি। শুধু তুমি চাওনি বলে জীবনের সবচেয়ে বেশী পছন্দের যিনিষটি আমি গ্রহণ করিনি । খুব বেশী অনুভব করি তুমি ছাড়া পৃথি বী আমার অর্থহীন। তোমার মুখ, হাসি আর একটু স্নে হে র পরশ ব্যাস। একুটুই ছিল আমার পরম সম্পদ।
কিন্তু কোথায় পাব বল সেই পরম স্নেহের পরশ?

 

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১:২৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

৪. ০৬ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১২:১২
েজবীন বলেছেন: সহমর্মিতা .........

লেখাটা একদম মন ছুয়েঁ গেল
৫. ০৬ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১২:১৯
সাইফুর বলেছেন: মন খারাপ হলো লেখাটা পড়ে :(
৭. ১০ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১:৫০
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: তা এই দিনে কি করলে, শুনি?

লেখাটা দারুন! আবারও প্রিয়তে!
৮. ১৪ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১০:০৫
ইলা বলেছেন: বিশেষ কোন দিন ক্ষন নয়, প্রতিদিন প্রতিক্ষন মায়ের কথা মনে পড়ে। প্রতি ওয়াক্তে নামাজ শেষে `মা' -র জন্য দোয়া করি।
৯. ২৮ শে জুন, ২০০৯ সকাল ১১:১০
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: নতুন পোস্ট কবে নাযিল হবে, জানতে পারি?
১১. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:১৬
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: সুখে থাকো! সূর্য্য কোথঅ ডোবে কেউ জানে না, সূর্য্য কেন মেঘের আড়াল হয় কেউ জানে না। হয়তো তার উত্তরও কোনোদিন কেউ পায় না! তবু ধরনী সুখে থাক!
২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:০৫

লেখক বলেছেন: কী ব্যাপার? হঠাৎ এতো দোয়া দুরুদ কেন?

১২. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৪৬
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: নতুন জীবন কেমন কাটছে? জানি না কেন এতো জানতে ইচ্ছে করে!

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯০১২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই