ওগো দয়াময়, নিখিলের প্রভু, হে খোদা রহমান,
হেলায় কেন কেড়ে নিলে তুমি আমার মায়ের প্রাণ!?
আমারওতো ইচ্ছে করে মাকে “মা, মা” বলে ডাকতে,
মা’র পদতলে আমার ঐ বেহেশতটায় থাকতে।
ইচ্ছে করে গভীর আবেগে জড়িয়ে ধরতে মা’কে,
দুঃখের দিনে মনটা আমার কাছে পেতে চায় তাকে।
কত কিছুই ইচ্ছে করে, পারিনা কিছুই করতে,
ইচ্ছে হলেও পারিনা আমি মা’কে জড়িয়ে ধরতে।
কি দুঃসহ! কি ভয়ানক! এই মা’কে ছাড়া বেঁচে থাকা,
এত ব্যথা মোর ঢাকবো কি দিয়ে! যায়না যে তা ঢাকা।
ভাগ্যলিখন তুমিই তো লিখো, হে প্রভু দয়াময়,
কেন তবে এ নিষ্ঠুরতা! কোন পাপের বিনিময়!!
ঘরে ফিরে আর পারিনা এখন, “মা, মা” বলে ডাকতে,
যে ঘরে মা নেই, ইচ্ছে করেনা ক্ষণ সেথা থাকতে।
মাঝে মাঝেই খুব ইচ্ছে করে, চেঁচিয়ে ডাকি মা’কে,
ইচ্ছে করে পরপার থেকে ছিনতাই করি তাঁকে!
ইচ্ছে করে মাঝে মাঝে খুব, চিৎকার করে কাঁদি,
ইচ্ছে করে চোখের পানিতে, ভাসাই সাগর-নদী।
মা' অতি আপন জন। মাকে নিয়ে কত সিনেমা কত গান। প্রত্যকে ধর্মে মায়ের গুরুত্ব বুঝানো হয়েছে। ইসলাম ধর্মে মায়ের পায়ের নীচে সন্তানের জান্নাত। মা- যদি পাগল ও হয় তবুও তার ক্ষেত্রে উফ! সব্দটি করতে নিষেধ করা হয়েছে। যে মায়ের এত গুরুত্ব। সেই মায়ের জন্য বিশেষ দিন ক্ষন কেন? মাকে নিয়ে এত স্যালিবিরেশন কেন? মায়ের দিকে একবার ভালবাসার দৃষ্টি নিয়ে তাকালে মকবুল হজ্জের সওয়াব পাওয়া যায়। মকবুল অর্থ বুঝানো হয়েছে যে হজ্জ কবুল হয়েছে। আমার মত যাদের মা নেই তারাই অনুভব করবেন- নতুন নতুন অনেক রিলেশন হবে, কিন্তু মা- সন্তানের রিলেশন আর হবে না। তাই মাকে নিয়ে আমার যে অব্যক্ত কথা--
'মা' শব্দটি নিয়ে একটা কবিতা লেখার স্বাদ আমার অনেক দিনের। কত কাগজ, কত কালি নষ্ট করেছি। কিন্তু আজও সে কবিতা লেখা হয়নি আমার। তোমার মুখের একটি ছবি আঁকার ইচ্ছে আমার অনেক দিনের। কত চেষ্টা, কত ক্যানভাস, কত রঙ তুলি নষ্ট করেছি, কিন্তু আজও সে ছবি আমার আঁকা হয় নি। এ আমার অক্ষমতা।
তোমায় কত ভাল বাসি তা আজ মর্মে মর্মে উপলিব্ধি করছি। তুমি জানতে কি? তোমার অজান্তে অপলক চোখে চেয়ে থাকতাম তোমার মুখের দিকে। কখনো অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম তোমার মুখে একটু হাসি দেখার জন্য। বিশেষ করে তোমার অসুস্থতার পর। যদি একটু হাসতে, তোমার সে হাসি দেখতে দেখতে আবার তা মিলিয়ে যেত। কিন্তু তবুও সে হাসির ধ্বনি আমার কানে বাজতে থাকত বহুক্ষন।
যখন কোন কারনে আমার মন খারাপ থাকে তখন একা ওই আকাশের দিকে চেয়ে বসে থাকি। আর তোমার হাসি মাখা মুখ খানি চোখের সামনে ভাসাতে চেষ্টা করি। ভাবতে ভাবতে কখন যে আমার সব টুকু মন্দ লাগা হারিয়ে যায়, তা- নিজেও জানি না।
মা, যখন তুমি খুব ব্যস্ত থাকতে, খুব মনোযোগ দিয়ে তোমায় লক্ষ্য করতাম। তোমার চলা, বলা, তোমার কর্মক্লান্ত- ঘর্মাক্ত মুখ, সব সব কিছুকে আমার মনে হয় কোনো নিপুন কারিগরের কর্মলীলা। কলেজ থেকে ফিরতে দেরী হলে চেঁচামেচি করে ঘরের সবাইকে অস্থির করে তুলতে। ঠিক তেমনি অফিসে পৌঁছানো মাত্র ফোন না দিলে কত কৈফিয়ত যে দিতে হত। আজ কারো কাছে আমার সে কৈফিয়ত দিতে হয় না। যেন আঁচলে ঢেকে রেখেই তুমি আমাদের মানুষ করেছ।
আট ছেলে-মেয়ে ও কাজের লোক সহ ১০-১২ জনের এক বিশাল সংসার ছিল তোমার। সারাদিন একটানা খানুনির পরও যখন তুমি রাত জেগে জেগে তাহাজ্জ্বত পড়তে। তা দেখে -সত্যই অবাক হতাম।
চলার পথে যখন কোন কষ্ট, দুঃখ বা অশান্তি বোধ করি তখন শুধু তোমাকে পাশে রাখতে ইচ্ছা করে। মনে হয়, শুধু তোমার হাতের স্পর্শ আমার সব টুকু যন্ত্রণা, কষ্ট ধুয়ে মুছে ছাফ করে দিবে।
তুমি যখন আমার উপর রাগ করতে তখন মনে হত আমার গোটা পৃথিবী যেন শূণ্য হয়ে যেত। কিছুক্ষন রাগ করে থাকলে সুযোগ খুঁজতাম কখন তুমি পান খাবে। পান খেলে তোমাকে অন্যরকম মনে হত। তাই তখন যে কোন আবদার তুমি মেনে নিতে । তুমি জান না মা, তোমায় কত ভাল বাসি। শুধু তুমি চাওনি বলে জীবনের সবচেয়ে বেশী পছন্দের যিনিষটি আমি গ্রহণ করিনি । খুব বেশী অনুভব করি তুমি ছাড়া পৃথি বী আমার অর্থহীন। তোমার মুখ, হাসি আর একটু স্নে হে র পরশ ব্যাস। একুটুই ছিল আমার পরম সম্পদ।
কিন্তু কোথায় পাব বল সেই পরম স্নেহের পরশ?
তুমি যখন আমার উপর রাগ করতে তখন মনে হত আমার গোটা পৃথিবী যেন শূণ্য হয়ে যেত। কিছুক্ষন রাগ করে থাকলে সুযোগ খুঁজতাম কখন তুমি পান খাবে। পান খেলে তোমাকে অন্যরকম মনে হত। তাই তখন যে কোন আবদার তুমি মেনে নিতে । তুমি জান না মা, তোমায় কত ভাল বাসি। শুধু তুমি চাওনি বলে জীবনের সবচেয়ে বেশী পছন্দের যিনিষটি আমি গ্রহণ করিনি । খুব বেশী অনুভব করি তুমি ছাড়া পৃথি বী আমার অর্থহীন। তোমার মুখ, হাসি আর একটু স্নে হে র পরশ ব্যাস। একুটুই ছিল আমার পরম সম্পদ।
কিন্তু কোথায় পাব বল সেই পরম স্নেহের পরশ?
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০১৬ বিকাল ৪:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


