somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তবুও ঈদ মোবারক

১২ ই অক্টোবর, ২০০৭ রাত ৩:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার ছোটবেলার এক প্রিয় মানুষরে কোন এক রোজার ঈদের দিন হারাইছি । তখন থিকাই ঈদ জিনিসটা ঠিক আনন্দ নিয়ে আসে না আমার কাছে । ছোটবেলার সেই শোক কাটায় ওঠা গেলেও কেমন যেন ঈদের আনন্দ আর আমার মধ্যে একটা পর্দা পইড়া গেছে । সকালে কোন একটা পুরনো একটা পাঞ্জাবি পাজামা পরেই নামাজটা শেষ করে সারাদিনের জন্য ঘুম ।

তো এই কৈরাই যাইতেছিল ঈদের দিনগুলা । সকালে নামাজ তারপর সারাদিন ঘুম । কি এক দুর্বিপাকে আয়া পড়লাম জার্মানিতে । আইলাম তো আইলাম তাও একটা ছোট্ট শহরে । দ্রশহর নিজেই গায়ে গতরে ছোট বৈলা কমিউনিটিও ছোট । প্রথম যেইবার ঈদ আইলো তখন আমি এখানে একেবারে নতুন । ঈদের সময় আসনের পর বুঝলাম এইখানে ঈদ কবে হইবো সেইটা নিয়া তুর্কাই আর আরবগো সবসময় দুইটা মত থাকে । আর তার কোনটাই চাদ নির্ভর মত না । আর আমরা নিজেরা চাদ দেইখা ঈদ করুম সেইটাও সম্ভব না । শীতকালে মেঘের কারনে চাদ দেখা যায় না এখানে । তো বাঙ্গালিগো মইধ্যে সৌদি সমর্থক গোষ্ঠি বলবান হওয়ায় সৌদিগো সাথেই ঈদ করা হইতো ।

তো যা কৈতে ছিলাম । নতুন আইছি বৈদেশে । ভাবচক্কর বুঝি না তেমন একটা । দেশী ভাইরা জানাইলো ঈদের নামাজ পড়তে যাইতে হইবো ট্রেনে কৈরা পাশের শহরে । আরব মসজিদে । সকালে বাসে কৈরা হাউপটবানহফ । তারপর ট্রেন ধৈরা মসজিদ । মসজিদ আসলে আমরা আদর কৈরা ডাকতাম । কুলটুর সেন্টার বা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিলো ঐটা । ঐ ঈদের কয়েকদিন পরই জার্মান সরকার সন্ত্রাসবাদের সাথে যোগাযোগ থাকায় ঐ সেন্টার বন কৈরা দেয় । এরপর থিকা আরবরা ওগো কারো গ্যারেজে প্রলেতারিয়েত স্টাইলে নামাজের আয়োজন করে । লাদেন কাগুর লগে যোগাযোগের কারনে সৌদিগো থুইয়া এখন আমাগো পাল্লাটা তুর্কাইগো দিকেই ঝুকে বেশী । কিন্তু পাল্লা তুর্কাইগো দিকে ঝুকলেও ঈদের আগের রাইতটাতেই আসলে আমাগো ঝগড়াঝাটি কৈরা ডিসাইড করতে হয় কাগো কুলটুর সেন্টারে যামু । কুন সেন্টারে মামুগো নজর কম । কুনখানে গেলে টেররিস্টগো লগে এক কাতারে নামাজ পড়তে হইবো না ।

যাউগ্গা কাহিনীতে আসি । সেই ঈদে সকাল বেলা সকাল সকাল উইঠা বাসের জন্য হাটা দিলাম । হাইটা ১ থিকা দেড় মিনিট দুরত্বে বাসস্টপেজ । নতুন আইছি বৈলা তখনো জানতাম না এইখানে সকালের প্রথম বাসগুলা আর রাইতের শেষ বাসগুলার টাইম একটু এদিক ওদিক হয় । কপালে ছিলো বৈলা সেইদিন বাস আইলো আগে আগে । চক্ষের সামনে দিয়া দেখলাম ড্রাইভার মামু (পরে জানছি হালায় শহরের সবচেয়ে খতরনাক মামু) বাস লয়া আগে আয়া আগে চইলা গেলো । দৌড়ায় ধরতে পারলাম না । এরপরের বাস ধৈরা করলাম ট্রেন মিস । পুরা আনুশেহর নামাজ আমার হইলো না আমার টাইপ অবস্থা । নামাজ মিস কৈরা যথারীতি শুকনা মুখে সারাদিন ক্লাস কৈরা তারপর সন্ধায় সবার সাথে আড্ডা । আর সেই সাথে অমানুষিক স্কেলে রান্না বান্না খাওয়া দাওয়া ।

আমাগো এই কন্টিনেন্টাল ইউরোপে বাঙ্গালিগো ঈদের চেহারা মোটামুটি এইরকমই । সারাদিন কামলা দিয়া রাইতের বেলা বেদম খাওয়া দাওয়ার সাথে আড্ডা । ঈদ কপাল জোরে উইকএন্ডে পড়লে রান্নাআড্ডার দৈর্ঘ্য এক বেলা বাড়ে । অনেক সময় ঈদের খাওন দাওন আড্ডাটা উইকএন্ডের দিকেই বাধ্য হইয়া ঠেলতে হয় ।

এখন যেই শহরে থাকি সেইখানে সবেধন নীলমনি আমি একাই বাঙ্গালি মুসলমান হিসেবে বিরাজ করি । এদিককার বাঙ্গালি কমিউনিটির লুকজন কমতে কমতে এতো কমছে যে কাইলকা আমারে একাই নামাজ পড়তে হাটা দিতে হইবো সকাল সকাল । রাইত বাজে অনেক । এখনো পর্যন্ত জানি না কৈ নামাজ পড়ুম - তুর্কাইগো কুলটুর সেন্টারে নাকি কোন আরবের বাসার গ্যারেজে । আগের বার পন্ত এর ওর সাথে ঝগড়া ঝাটি তর্ক বিতর্ক করছি কোথায় নামাজ পড়া হইবো এই নিয়া । তারপর যাই হোক একটা ডিসিশন নিয়া রওনা দিছি সকালবেলা একসাথে । এইবার সেই ঝগড়া করার লুকও নাই । তো না থাকুক । অসুবিধা নাই । সকালে বাইরামু । গেট থিকা একটু সামনে যামু । বাসার দিকে ফিরমু ।ঘুমন্ত পড়শিগো জানলার দিকে তাকামু । তারপর চিক্কুর পাইড়া কমু - ঐ শালারা , উঠ ঘুম থিকা । আইজকা ঈদ । ঈদ মোবারক ।
----------------------------------------------
হাউপটবানহফ – শহরের মূল ট্রেইন স্টেশন ।
কুলটুর - কালচার


দ্রষ্টব্য: লেখাটা প্রায় একই সময়ে সচলায়তনে প্রকাশিত ।
৩৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×