ডঃ ইউনুসের কথা আমি প্রথম জানি জাফর ইকবালের আমেরিকার অভিক্ষতা নিয়ে কোন একটি লেখাতে। এরপর আমার এক স্কুল বন্ধুর কাছে (যে কিনা এই ব্লগের একজন ব্লগারও) এ বিষয়ে আরো বই পড়ে ভালোভাবে জানতে পারি। এরপর থেকে আমিও অক্টোবর সময়টা টেনসনে কাটাতাম ইউনুস সাহেব নোবেল পাবেন কি না তা নিয়ে।
যেদিন ইউনুস সাহেব নোবেল পেলেন আমি অফিসে আমার সেই বাল্যবন্ধুর থেকে এস এম এস এর মাধ্যমে জানতে পারি। জানামাত্র আমি চিৎকার শুরু করি এবং সবাইকে বলতে থাকি। আরিল্ডকে যখন বলেছিলাম আরিল্ড জবাব দিয়েছিল, তুমি ৭ মিনিট লেট। সে সময় আমার মনে আছে অফিসে সবাইকে খাইয়েছিলাম এই খুশীতে।
২০০৭ সালের জুনে আমি আমার সেই সময়কার টিমের সাথে দ্বিতীয়বারের মত নরওয়ে যাই ট্রেনিং এ। ইন্ডিয়া বেইসড আমাদের এক প্রতিদ্বন্দী টিমও ছিল সংগে। আমাদের ক্লায়েন্ট ডিনার পার্টির আয়োজন করেন আমাদের সম্মানে। সেখানে অনেক কথার মাঝে ইউনুস প্রসংগ উঠে আসে। আমি খুব বড় গলায় তার কথা বলছিলাম আর আমার ইন্ডিয়ান বান্ধুবী নাক বাকা করে বলছিলেন, কই এমন কিছু তো শুনিনি। তো ডিনারের মাঝে একসময় ওয়াইন গ্লাসে টুং টুং শব্দ উঠল। আমরা চুপ করে মনোযোগ দিচ্ছিলাম কেউ কিছু বলবে তা শুনার জন্য। ক্লায়েন্ট কোম্পানীর ফাউন্ডার আমাদের ধন্যবাদ দিয়ে বক্তব্য দেয়ার এক ফাঁকে ইউনুস প্রসংগে টেনে আনলেন এবং বাংলাদেশের অনেক প্রশংসা করলেন। সবাই খুব হাততালি দিচ্ছিল, আমাদের ছয় জনের দিকে এমনভাবে তাকাচ্ছিল যেন আমরা সবাই এক একটা বাচ্চা ইউনুস। গর্বে আমাদের সবার বুক এক ফুট ফুলে উঠেছিল। আড়চোখে দেখলাম আমার সেই ইন্ডিয়ান বান্ধুবী মুখ কালো করে খাবি খাচ্ছেন।
ডঃ ইউনুসের কাছে আমার অনেক ঋণ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

