somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বার্মার সাথে আমাদের ভূ-রাজনৈতীক কৌশল কি হওয়া উচিৎ?

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৪:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সর্বাত্নক যুদ্ধের জন্য বার্মিজ জান্তার পাতানো ফাঁদে পা না দিয়ে আমাদের ভিন্ন কৌশল নিয়ে ভাবতে হবে।

যেকোন দেশকে দাবানোর জন্য দুই একটি প্রতিষ্ঠিত শক্তিই যথেষ্ট। অথচ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সব কয়টি সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিই বার্মাকে সমর্থন দিচ্ছে। দেশগুলি দেখুন, চীন, রাশিয়া, ভারত, জাপান, ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র (যুক্তরাষ্ট্র-থাইল্যান্ডের সামরিক মহড়ায় মিয়ানমারকে আমন্ত্রণ) ইত্যাদি। আমাদের প্রতিবেশী কিছু দূর্বল দেশগুলির কথা না হ্য় বাদই দিলাম। দিনে দিনে এটা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে আর কারা কারা বার্মার পক্ষে আছে।

বার্মায় শতাধীক বিচ্ছিন্ন গ্রুপ জান্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে চললেও রহিংগা ইস্যুতে সকলেই এক। এইজন্য রহিংগাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নিয়ে গোটা বর্মিজ মূলুকে নিজেদের অবস্হান আরও পাকাপোক্ত করার চেষ্টা করে আসছে বার্মিজ জান্তা অনেকদিন ধরে।

বার্মা আমাদেরকে সর্বাত্বক যুদ্ধের জন্য পদে পদে উস্কানী দিলেও বাংলাদেশ ওদের ফাঁদে পা না দিয়ে নিজেকে সংবরত রেখেছে। কারন বাংলাদেশ জানে একটা সর্বাত্নক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পরিনাম কি হতে পারে।

সৌদি আরব ইয়েমেনে অনর্থক একটা যুদ্ধে জড়িয়ে কি পরিমান আর্থিক বিপর্যয়ের সন্মূখীন তা ঐ দেশে যারা আপনার পরিচিত তাদের কাছ থেকে জেনে নিন। সোভিয়েত ইউনিয়ন এক আফগান যুদ্ধে জড়িয়েই শেষ পর্যন্ত খতম। যুক্তরাস্ট্র আফগানিস্তানে যুদ্ধে জড়িয়ে যে শিক্ষা পেয়েছে তাতে করে সে গোটা বিশ্ব থেকে নিজেকে ক্রমশ: গুটিয়ে নিয়ে আসছে। চীন ভিয়েতনাম যুদ্ধে কায়দামত শিক্ষা পেয়ে আর কোন যুদ্ধে সরাসরি জড়ানো চিন্তা বাদ দিয়েছে।

রোহিংগা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপ উপর দিয়ে উপর দিয়ে হলেও তা ইতিমধ্যেই জান্তার জন্য ভয়ানক দূ:চিন্তার কারন হয়ে দাড়িয়েছে। কারন এক পর্যায়ে তাদেরকে নামমাত্র হলেও বিচারের মূখোমূখি হতে হবে। এইজন্য বাংলাদেশের সংগে একটি সর্বাত্নক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে তারা খুবই উদগ্রিব। কারন এই যুদ্ধটা তাদের জন্য একটা রক্ষাকবচ হবে।

হতাশ হয়েন না, আমাদের আগে জানা দরকার ওদের পিছনে কারা কারা আছে এবং কোন কোন স্বার্থে তারা জড়িত। তাদের শক্তিমত্ত্বা ও দূর্বলতা আমাদের চিহ্নিত করতে এবং আমাদেরটাও সেইভাবে সনাক্ত করতে হবে। লক্ষাধিক সৈন্য, হাজার খানেক ট্যাংক ও শতাধিক যুদ্ধবিমান নিয়ে কোন দেশকে আক্রমন করার দ্বিত্বীয় মহাযুদ্ধীয় ধারনা বর্তমানে ক্রমান্বয় অচল হয়ে আসছে। যে সব দেশ সবধরনের যুদ্ধাস্ত্র তৈরীতে সক্ষম এবং আর্থিক শক্তিতে ও বলিয়ান সেই সকল দেশসমূহ ছাড়া অন্যরা এই পদ্ধতি আর অবলম্বন করে যুদ্ধে যায় না।

এখন যুগ হচ্ছে শত্রুর কোন টার্গেট ঠিক করে অতর্কিত হামলা করে সেটি ধ্বংস করে ফেলা, শত্রুকে নিকটে আসতে না দিয়ে দুরবর্তী স্হানেই তাদের প্রতিরোধ করা, তাদের সাপ্লাই লাইন কেটা ফেলা, তাদের রসদপত্র অতর্কিত আক্রমনে ধংস বা অকেজো করে ফেলা, তাদের গোপন কর্মসূচী গুলি ফাইন্ড-আউট করে কমান্ডো আক্রমনে নস্যাৎ করে ফেলা ইত্যাদি। এই কাজগুলি সম্পন্ন হবে স্পেশাল বাহিনী দ্বারা যারা উচ্চ প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত এবং অত্যাধিক যন্ত্রপাতী দ্বারা সজ্জ্বিত (মিশনের ধরন বুঝে)। আর এর জন্য দরকার হবে অতি আধুনিক যন্ত্রপাতী, যোগাযোগ কৌশল সমৃদ্ধ উচ্চ প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত গোয়েন্দাবাহিনী।

এক্ষেত্রে স্হানীয় মানুষদের কৌশলে জান্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যেতে পারে। অর্থাৎ প্রচলিত-অপ্রচলিত সবধরনের যুদ্ধকৌশল ব্যবহার করে ক্রমান্বয়ে তাদের দূর্বল করে ফেলতে হবে। এটি একটু সময়স্বাপেক্ষ হলেও কার্যকরী। সর্বাত্নক যুদ্ধ হলে কয়েক সপ্তাহের খরচই বাংলাদেশকে দেউলিয়া করে ফেলতে যথেষ্ট। সুতরং এটি পরিত্যজ্য।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৪:৫৫
১২টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের পুরো দেশের ইয়াবা-সিম্বল কে, শেখ হাসিনা জানেন না?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৪ শে মে, ২০১৮ রাত ৯:৩১



ইয়াবা শব্দটা শুনলে আপনার মনে কোন লোকটির চেহারা ভেসে উঠে, বা কোন নামটি আসে? যদি ১৭ কোটী মানুষের মনে একই লোকের চেহারা আসে, একই নাম আসে, তাকে ধরতে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনাবৃত যশ

লিখেছেন বৃষ্টি বিন্দু, ২৪ শে মে, ২০১৮ রাত ১০:০৯



অনাবৃত যশ
~~~~~~~~

যশ খ্যাতি চাইনা
চাই মহিমান্বিত শান্তি,
বাঁধহারা লিখনি
তুলে ধরে ভ্রান্তি।

লিখনির বাঁকে বাঁকে
অশ্লীলতার ছোপ,
আঁধারে মিশে যাওয়া
অশনির তোপ।

বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে
পাঠককূল মুগ্ধ,
মুগ্ধতায় রকমফের
কবে হবে শুদ্ধ?

কবিতার প্রতি চয়নে
নারীকুল অনাবৃত,
এটাই নাকি প্রেমময়
ভালোবাসা অমৃত!

বেবুঝ নাকি অবুঝ!
বুঝবে কবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি সাজানো বাগান চাই

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৪ শে মে, ২০১৮ রাত ১১:১৮



শাহেদ আজ একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলল।
সে চাকরি ছেড়ে দিবে। আর না, অনেক হয়েছে। গত পাঁচ বছর ধরে সে একটানা চাকরি করে যাচ্ছে। প্রতিদিন মনে মনে সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোটগল্পঃ টেডিবিয়ার

লিখেছেন অপু তানভীর, ২৫ শে মে, ২০১৮ বিকাল ৩:৩৪

অপু খানিকটা সময় অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো নিথির দিকে । টেডিবিয়ারটা প্রায় নিথির সমান লম্বা । দুই হাত দিয়ে সেটা চেপে ধরতে ওর কষ্টই হচ্ছে তবুও চেপে ধরে আছে ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনারা যারা সেফ হওয়ার অপেক্ষায়....

লিখেছেন প্রান্তর পাতা, ২৫ শে মে, ২০১৮ বিকাল ৪:১৪



Somewhere in blog এ ব্লগিং শুরু করার পর সবাইকে প্রথম যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়, তা হলো, ব্লগে সেফ হওয়া।
আমি এই ব্লগে কমবয়সীদের মধ্যে সবার আগে সেফ হয়েছি, তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×