আমার প্রিয় পোস্ট
- বাঙ্গালি দের হিন্দি কথা!!!!!!!!!! - লাবনি
- শাবাশ নতুন ভারত! - অরুন্ধতি রায় - ত্রিভুজ
- Elmina Castle...Where thousands of African slaves died. - প্রীটি সোনিয়া
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের অসাধারন কিছু ছবি - সু-শান্ত
- আমি নাস্তিক। - পুতুল
- ইসলামে বিবাহ এবং বাল্যবিবাহে আজকের চোখে- - অপ বাক
- সতত জনম; মূল: মৃণাল সেন - ফাহমিদুল হক
- অর্থনীতির সহজ পাঠঃ বিষয়- বিদেশি বিনিয়োগ - দিনমজুর
- বাঙালি মুসলমানরাই সবচেয়ে লিবারেল? - ফাহমিদুল হক
- 'মকছুদোল মো'মেনীন ও নারী শিক্ষা বা বেহেশতের কুঞ্জী' বইটি কি নিষিদ্ধ হওয়া উচিত নয়? - মুজিব মেহদী
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - একটি অহেতুক বিতর্কের জবাব - সু-শান্ত
- ব্ল্যাক হোলের সাথে ম্যানহোলের এবং হোয়াইট হোলের সাথে সুড়ঙ্গমুখের মিল আছে- সত্যি কথা কিন্তু! - অনিশ্চিত
- ব্লগারদের মিলন মেলার কিছু ছবি !!! - সুখী মানুষ
- ত্রিশ লক্ষ শহীদ : মিথ নাকি বাস্তবতা ? - লাইটহাউজ
- ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতির বইয়ে নবীর ছবি!! - মুকুট
- পরীক্ষাগারে বিগ ব্যাং: উত্তর মিলবে অনেক প্রশ্নের - অনিশ্চিত
- বিদেশী সাহায্য ছাড়া কি বাংলাদেশ চলতে পারে? - ফাহমিদুল হক
- বিবর্তন বাদঃ প্রজাতির জন্ম? - উৎস
- বঙ্গবন্ধু কি সত্যিই দালালদের ক্ষমা করেছিলেন? আসুন নতুন করে ট্রুথ কমিশন গঠনের দাবি জানাই - শওকত হোসেন মাসুম
- রিফ্যুজি ক্যাম্পের শিশুরা : ১৯৭১ - অমি রহমান পিয়াল
- সৃষ্টিকর্তার সন্ধানে (প্রথম পর্ব) - ত্রিভুজ
- আঙ্গুলের প্রতীকী ভাষা - সাইমুম
- আমেরিকার চামচামি এবং আমাদের মানসিকতা! - মানবী
বাজার নেই তাই সাহায্য আবার কি?
২১ শে নভেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:৩৩
আমাদের দেশের বাড়ি ছিল পটুয়াখালি জেলার কাছিপাড়া গ্রামে। গ্রামের সাথে আমাদের সম্পর্ক শেষ হয়ে যায় ১৯৭৮ সালে, আমার জন্মেরও আগে। গ্রামের অনেক গল্প শুনেছি, ভেবেছি একবার ঘুরে আসব। ঢাকা গেলেও গ্রামের দিকে আর যাব যাব করেও আর যাওয়া হয় না। এখন মনে হচ্ছে আর গিয়ে কি হবে, আছে কি কিছু বেঁচে? আমার এখানে বসে সমবেদনা জানানো ছাড়া কিছু করার নেই মনে হয়।
কিন্তু আজকে সকালে খবরের কাগজে একটা খবর পড়ে মনে হল আমাদেরও অনেক কিছু করার ছিল হয়ত। ভারত সরকার প্রাথমিক ত্রাণের জন্য মাত্র ৪ কোটি টাকা বা ১ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। সাথে কোনো প্রতিশ্রুতি নেই চপারের, নেই জাহাজ পাঠানোর উদ্যোগ। প্রণব মুখার্জি পার্লামেন্টে সমবেদনা জানিয়েছেন। সাহায্যের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। কিছু শুকনো কথায় কি চিঁড়ে ভেজে?
সোজা কথায় বললে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী হিসাবে, এবছরের সবথেকে বড় আঞ্চলিক বিপর্যয়ে অনেক কিছুই করা সম্ভব ভারতের পক্ষে। মিলিটারি হেলিকপ্টার পাঠানো সম্ভব দূর প্রান্তবর্তী গ্রামগুলোতে। বড় জাহাজভর্তি ত্রাণসামগ্রী পৌছে দেওয়া সম্ভব উপকূলবর্তী অঞ্চলে।
এর পাশে দেখা যাক আগে ২০০৫ এ পাকিস্তানে ভূমিকম্পের পরে ভারত সরকার কিভাবে সাহায্য করেছিল। ততক্ষণাত ২৫ মিলিয়ন ডলার ত্রাণের ব্যবস্থা ছাড়াও মিলিটারি চপার আর উদ্ধারকারী বাহিনীও পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। পরে গিয়েছিল আটা, শুকনো খাবার আর টিনের চালা। মজার কথা তখন ভারতীয় কাশ্মীরেও ভূমিকম্প হয়েছিল। ওই একি বছরে হারিকেন ক্যাটরিনার জন্য ভারত সরকার ৫ মিলিয়ন ডলারের সাহায্য আমেরিকায় (যাদের মাথাপিছু আয় ৩০ হাজার ডলারেরও বেশী) গিয়েছিল দুটো বড় ক্যারিয়ার বিমান সহ। আমেরিকা থেকে ত্রাণ বিতরণের জন্য জাহাজ আসবে এক সপ্তাহ পরে। এদিকে ভারতীয় যে জাহাজগুলো বঙ্গোপসাগরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, হয়ত এক দিনের মধ্যে তারা ত্রাণ বিতরণে যোগদান করতে পারত।
আরো আগে সুনামির সময়েও ভারত ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। তা সত্ত্বেও শ্রীলংকা আর ইন্দোনেশিয়াতে ত্রাণ পাঠানো হয়েছিল। শ্রীলংকায় তো বটেই, এমনকি ইন্দোনেশিয়াতেও ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ আর চপার হেলিকপ্টার ত্রাণের কাজ করেছিল।
আর এ বছরেই শুধুমাত্র বন্যাদুর্গত উগান্ডার জন্য ভারত সরকার ১০ মিলিয়ন ডলারের ত্রাণ পাঠিয়েছে। পাঠিয়েছে জাহাজ আর লোকবল। হয়ত উগান্ডার মার্কেটে ভারতীয় আগ্রহের কথা ভেবেই এই সাহায্য।
পুঁজীবাদী দুনিয়ায় সাহায্য হল একরকম বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপন মানে, অলিখিত ভাবে বলা - "দেখ, আমরা তোমাদের বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছি, তাই তোমরা আমাদের জিনিস আরো বেশী করে কিনবে।" এই সিস্টেমে সাহায্য তাদেরই পাঠানো উচিত, যাদের ভবিষ্যতে ক্রয়ক্ষমতা হবে এবং একই ব্র্যান্ডের জিনিস আরও বেশী করে কিনতে আগ্রহী হবে। আর বাজার না থাকলে সাহায্য করে কি লাভ? তাই সাহায্য যাবে বড়লোকেদের কাছে, গরিবদের কাছে নয়। চিনের পথে হেঁটে বাজার ধরতে গিয়ে এখন ভারতও একই নীতিতে চলছে। তাই এটা কোনো আক্সিডেন্ট নয় যে ভারতের মত এশিয়ার আরেক উন্নয়নশীল দেশ চিনও মাত্র ১ মিলিয়ন ডলারের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে ধন্যবাদ ব্যাপারটাকে ভারতীয়দের দৃষ্টিগোচর করার জন্য। তবে, ধ্বংসস্তুপে বসে থাকা বাংলাদেশের দিকে শুকনো মুখে বন্ধুত্ত্বের ঠান্ডা হাত বাড়িয়ে দেওয়া দেখে মনে হয় কোথাও একটা ভুল হচ্ছে যেন। ঠিক কোনখানে আমি জানি না, কিন্তু ভুল নিশ্চয় হচ্ছে। সময় গেলে এই ভুলের খেসারত না দিতে হয়। সাহায্য যাওয়া উচিত মানবিকতার খাতিরে, বাজারের খাতিরে নয়। প্রাচ্যের সভ্যতার দীর্ঘদিনের এই নীতির উলটো পথে হেঁটে কতদিন চলতে পারা যায় - দেখা যাক।
(ছবি - সি-এন-এন/এ-পি)
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): বাংলাদেশ ;
নাভদ বলেছেন:
অসাধারন প্রকাশ..
মদন বলেছেন:
যুক্তির কথা
অলস বলেছেন:
দুঃখ!
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
দরকার নাই ওদের সাহায্য। না খেয়ে মরে যাব, তবুও ভিক্ষা নিব না। বাংলাদেশ সরকার কারও কাছে সাহায্যের আবেদন করে নাই। ভাল লেখা। ধন্যবাদ। ৫
ভারতের প্রতিবেশি দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই সম্ভবত সবথেকে বেশি ভারতের বানিজ্য দেলদেন হয় যা কিনা অন্য সকল দেশের সাথে বাংলাদেশের বানিজ্য ভারসাম্যে প্রতিকূল ।
মজার বিষয় হলো ভারতের জন্য বাংলাদেশের বাজার দখল করার বিষয় নয় যা কিনা এমনিতেই(বাংলাদেশের বাজার) ভারতের উপর নিরংকুশ ভাবে নির্ভরশীল ।
তাই দখলে থাকা বাজারের প্রতি তুচ্ছতাচ্ছিল্য দেখানো ভারতের বৈদেশিক বানিজ্যনীতির স্বাভাবিক প্রবনতা ।
বিষয়টির দিকে দৃষ্টি আর্কষন জন্য ৫
দিগন্ত বলেছেন:
"মজার বিষয় হলো ভারতের জন্য বাংলাদেশের বাজার দখল করার বিষয় নয়" - সেটাই ঘটনা। "তাই দখলে থাকা বাজারের প্রতি তুচ্ছতাচ্ছিল্য দেখানো ভারতের বৈদেশিক বানিজ্যনীতির স্বাভাবিক প্রবনতা ।" - কিন্তু আমার ব্যক্তিগত মতামত আলাদা। সাহায্য কেন বাণিজ্যনীতির হাত ধরে আসবে? সাহায্য তো মানবিকতার খাতিরে আসার কথা।
অন্যরকম বলেছেন:
"তাই দখলে থাকা বাজারের প্রতি তুচ্ছতাচ্ছিল্য দেখানো ভারতের বৈদেশিক বানিজ্যনীতির স্বাভাবিক প্রবনতা ।" -@দিগুদা, পুজিবাদে সাহায্য মানবিকতার খাতিরে বোধ হয় এখন আর আসে না! মানবিকতার অপমৃত্যূ হয়েছে পুঁজিবাদে!
দিগন্ত বলেছেন:
"বিষয় অবশ্যই বাজার দখল" - হ্যাঁ, সেটাই লক্ষ্য, নাকি সবই উপলক্ষ্য।
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন:
দারুণ বিশ্লেষণ।
নাজিম উদদীন বলেছেন:
পুঁজি অন্ধ। সাহায্য, মানবিকতা এগুলো ছেলেভুলানো বুলি, প্রয়োজনে ব্যবহার করে।
রাশেদ বলেছেন:
৫
লেখক বলেছেন:
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
+++++


















৫+প্রিয় পোস্ট