
কিছু বিডিআর ও বহিরাগত ব্যক্তির যোগসাজেশে বাংলাদেশ আর্মির কিছু উচ্চপদস্থ অফিসারের হত্যার পর কয়েকদিন হয়ে গেল। অত্যন্ত ঘৃণ্য এই হত্যার পরে ক্রমেই বিভিন্ন নিউস মিডিয়া দাবী জানাচ্ছে যে বিডিআর আর ডিএডি তৌহিদুল আলম ছিলেন এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম হোতা। ডেইলি স্টারের ভাষ্যমতে - তিনি ৩০০০ বিডিআর জওয়ানের এই "বিদ্রোহে"র শুরুতে দরবার হলে উস্কানিমূলক কথাবার্তা শুরু করেন। পরে এই ব্যক্তিই সরকারের সাথে আলোচনায় বিদ্রোহীদের নেতৃত্ব দেন। আরো একই পত্রিকার আরো একটি খবরে জানা যাচ্ছে যে ইনি এখন পুলিশের হেপাজতে। মজার কথা হল, তার কাছ থেকে কি কি জানা গেছে তা নিয়ে কোনো বাংলাদেশের পত্রপত্রিকায় কোনো সংবাদ পেলাম না।
গত কয়েকদিন ধরে কিছু কাল্পনিক খবর পরিবেশন করে চলেছে বেশ কিছু ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম। খবরে অধিকাংশ সময়েই হলুদ সাংবাদিকতার ট্রেডমার্ক "গোপন সূত্র" বা "বিশ্বস্ত সূত্র" থেকে পাওয়া বিভিন্ন খবরে পাকিস্তান, আই-এস-আই সহ বাংলাদেশের উগ্রপন্থী কিছু সংগঠনকে দায়ী করা হয়।
আজকের আনন্দবাজারে তৌহিদ আলমকে নিয়ে অনেক কিছু বেরিয়েছে। সবথেকে ইন্টারেস্টিং হল - "পুলিশ জানতে পেরেছে, বিডিআরের মাঝারি স্তরের অফিসার তৌহিদ কিশোর বয়সেই জামাতে ইসলামির ছাত্র শাখা ‘ছাত্র শিবির’-এর সদস্য হয়। পরে এই সংগঠনের স্থানীয় স্তরের নেতাও হয়। নির্বাচনের সমেয়ও সে জামাতের হেয় কাজ করত।"
শুধু তাই নয়, এবার গোপন বা বিশ্বস্ত সূত্রের উল্লেখ না করে সরাসরি বাংলাদেশের এক ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে -
"বাণিজ্যমন্ত্রী কর্নেল (অব) ফারুখ আজ বলেছেন, বিদ্রোহ চলার সমেয় ও তা শেষ হওয়ার পরে তৌহিদের মোবাইলে বহু এসএমএস আসে। সেই সব এসএমএসের বক্তব্য এবং প্রেরকের পরিচয় সরকারের হাতে এসেছে। এই তথ্য থেকে বিদ্রোহে ইন্ধনদাতাদের পরিচয় অনেকটাই স্পষ্ট হেয়ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।"
ঘটনা হল, এইসব উদ্ধৃতিগুলো যদি আনন্দবাজারেই আসতে পারে তাহলে বাংলাদেশের মিডিয়াতে আসছে না কেন? তৌহিদ আলমকে ধরার পরে জেরায় কি কি জানা গেছে তা নিয়ে কোনো প্রতিবেদন নেই কেন?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

