somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশ-মায়ানমার
প্রাথমিক পর্যায়ের চারটি ডকুমেন্ট পড়েছি ও তার ভিত্তিতে কিছু কিছু বিষয় সবার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করি। প্রথমত বাংলাদেশের মিডিয়াতে যতটা অঞ্চল বিরোধপূর্ণ বলে জানানো হচ্ছে, বাংলাদেশ কোর্টে কার্যত ততটা অঞ্চলের দাবী জানায়নি। উল্লেখ্য যে মায়ানমারও তাদের পুরোনো দাবী থেকে সরে কিছুটা কম অঞ্চল দাবী জানিয়েছে - দুয়ের ফলে বিরোধপূর্ণ অঞ্চল আয়তনে অনেক কমে গেছে। মায়ানমারের পুরোনো দাবী ছিল লম্বরেখার সাথে ২৪৩ ডিগ্রি রেখা বরাবর(ছবিতে হাল্কা নীল রেখা), যা এখন হয়েছে লম্বরেখার সাথে ২৩০ ডিগ্রি(মোটা নীল রেখা) রেখা বরাবর। একইভাবে বাংলাদেশের পুরোনো দাবী ছিল মোটা লাল রেখা বরাবর - অর্থাৎ ১৮০ ডিগ্রিতে, যা এখন হয়েছে ২১৫ ডিগ্রিতে - হাল্কা লাল রঙের রেখায়। এই অবস্থান পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ ও মায়ানমার - উভয়েরই মামলা জেতার সম্ভাবনা কিছুটা বেড়েছে। একই সাথে বাংলাদেশ জানিয়েছে তাদের আগের দাবীর যে ভিত্তি - সেই ১৯৭৪ সালের বাংলাদেশের সমুদ্র-আইনের বেশ কিছু অংশ ১৯৮২ সালের আন্তর্জাতিক আইনের সাথে মেলে না। তাই তারা তাদের দাবী কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে। দুঃখের বিষয়, এই পরিবর্তনের কথা সরকার পার্লামেন্ট বা জনগণকে জানায়নি - ফলে এখনও পত্রপত্রিকায় সমুদ্রসীমা বিষয়ক যে লেখা আসে তাতে বাংলাদেশের দাবী বলতে পুরোনো সীমাই দেখানো হয় ও পুরোনো যুক্তিই লেখা হয়ে আসছে।

কিছুদিন আগে পত্রপত্রিকায় একটি লেখা এসেছিল যে সুগত হাজরা নামে একজন গবেষক দাবী করেছেন যে দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ তলিয়ে গেছে। বাংলাদেশের প্রদত্ত ডকুমেন্টেও সেরকমই লেখা আছে।
“when a patch of sedimentary mud near the Bangladesh-India boundary known as South Talpatty emerged above the waterline in 1971 following a massive cyclone. No sooner had the feature emerged, however, than waves and storms began to wash it back into the sea. By 1990, satellite imagery showed that it had disappeared completely.”
ডকুমেন্টের সাথে লাগানো ছবিতে দেওয়া আছে ১৯৭৩ ও ১৯৯০ সালের ওই দ্বীপের ছবি। এর মানে বোঝা যাচ্ছে, দ্বীপটি যে তলিয়ে গেছে, তা বিভিন্ন সরকারের পক্ষে জানানো সম্ভব ছিল ১৯৯০ থেকেই - কিন্তু তা জনগণকে জানানো হয়নি।

সচলায়তনে আরো বিস্তারে লেখা আছে। কোর্টের পৃষ্ঠায় দেখুন মামলার হালহকিকত।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/29450181 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/29450181 2011-09-18 06:51:36
ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ ও তারপর
টসে জিতে ব্যাটিং না নেওয়া নিয়ে বাংলাদেশ ক্যাপ্টেন সাকিবের অনেক সমালোচনা হয়েছে। টস নিয়ে ফিল্ডিং নেবার ফলে আমার মনে হয় বাংলাদেশ কিছুটা সুবিধাই পেয়েছে। একই মাঠে গতবছর বাংলাদেশ ২৯৬ রান ডিফেন্ড করতে পারে নি, শিশিরে বোলারদের গ্রিপ সমস্যায় ফেলেছিল। ভারতের বোলারদের এই সমস্যার কোনো প্রকোপ পড়েছে বলে মনে হয়নি, শিশিরও মাত্রাতিরিক্ত পড়েনি। তাও যেটুকু ছিল, স্লো পিচকে কিছুটা ব্যাটিং সহায়ক করে তুলতে সাহায্য করেছে। তাই রাতের দিকে বল পড়ে ব্যাটে ঠিকঠাক এসেছে।

বাংলাদেশের বোলিং এ রুবেল-কেই আমার সবথেকে ভাল লেগেছে - ওর হাতে স্লো বাউন্সার, স্লোয়ার, ইয়র্কার - তিনটে কাজের জিনিসই আছে, পেসও যথেষ্ট। স্পিনাররা আশাতীত শর্ট বল ফেলেছে, তারা তার খেসারতও দিয়েছে। আরেক পেসার শফিউল (রবি শাস্ত্রীর সইফুল) জোরে বল করতে গিয়ে প্রায়ই হাফভলি দিয়েছে, যে ভুলটা পরে শ্রীসান্থও করেছে। ফলে দুজনেই ওভারপিছু দশের ওপর রান দিয়েছে। এই পিচে পেসারদের কিভাবে বল করা উচিত তা দেখিয়েছে মুনাফ - স্লোয়ার আর লেগকাটার/অফব্রেককে মূল অস্ত্র করে চারটি উইকেট পেয়ে গেছে মুনাফ। শেহবাগের ব্যাটিং নিয়ে বলার নতুন কিছু নেই - তাও এবারের ইনিংসটা অনেক সংযমী। চমৎকার লেগেছে ভিরাট কোহলির ব্যাটিং। সিঙ্গলস নিয়ে খেলে, কিন্তু দরকারে মারতেও পারেন কোহলি। গত এক-দু’বছরে ভারতের সেরা আবিষ্কার।

এরপরে পরের ম্যাচ। ভারতের উচিত শ্রীসান্থের জায়গায় কোনো স্পিনার খেলানো - সেটা চাওলা বা অশ্বিন - যে হোক না কেন। কেভিন পিটারসনেরা কিন্তু এরকম বোলিং পেলে ছেড়ে কথা বলবে না। এমনিতে হরভজনের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সাফল্যের খতিয়ান দেখে মনে হয় অশ্বিন বেটার চয়েস, আবার দলে স্পিন ভারসাম্য দিতে লেগস্পিনার চাওলাকে দরকার পড়বে। ব্যাটিং-এ আপাতত কোনো এক্সপেরিমেন্টের দরকার পড়বে না।

বাংলাদেশ ব্যাট ভাল করলেও বেশ কিছু প্রশ্ন আছে ব্যাটিং নিয়ে। প্রথমত, লোয়ার অর্ডার হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল, যদিও আলাদা কোন চাপ ছিল না তাদের ওপর। নাঈম আর মাহমুদুল্লাহকে অবশ্য এক ম্যাচ দেখেই ছেঁটে ফেলা অনুচিত হবে - তবে তাদের একটু বেশী দায়িত্ব নেওয়া উচিত। টপ অর্ডার ঠিকই আছে - ইমরুলের কাছ থেকে এই খেলাটাই আশা রাখব - তামিম আর সাকিবের কাছ থেকে বড় ইনিংস দেখার অপেক্ষায় আছি। কিন্তু বোলিং নিয়ে আমি একটা সাহসী সিদ্ধান্তের জন্য অনুরোধ রাখব।

১৯৯২ সালে নিউজিল্যান্ড ঘরের মাঠে স্লো পিচ তৈরী করেছিল ও চারজন স্লো-মিডিয়াম পেসার বল করাত। বোলিং ওপেন করার জন্য যেহেতু একজন পেসার ছিল, অন্যপ্রান্তে ওপেন করত দীপক পটেল - যে কিনা স্পিনার। সাকিবের সাম্প্রতিক সাক্ষাতকারে মনে হল সে শফিউলকে প্রথম কয়েক ওভারে বল করানোর জন্যই দলে রেখেছে - যেটা খুব একটা কাজের নয়। রাজ্জাক যদি ছয় ওভারের পর থেকে বল করতেই পারে কেন প্রথম ওভার থেকেই নয় - সেক্ষেত্রে শফিউলের জায়গায় শুভকে খেলানো যেতে পারে।

তবে, আয়ারল্যান্ডকে হেলাফেলা করা মনে হয় উচিত হবে না। আয়ারল্যান্ড প্রস্তুতি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২৭৯ তুলেছিল, তাও ড্যানিয়েল ভেত্তোরি সেই ম্যাচে বল করছিল। তবে তারা স্পিন ভাল খেলবে বলে মনে হয় না। আয়ারল্যান্ডের দলে ডকরেল নামে উদীয়মান এক স্পিনার আছে, কিছু ভাল পেসার আছে আর ব্যাটিং লাইন-আপ মোটামুটি ভাল। ব্যাটিং এ পোর্টারফিল্ড, ওব্রায়েন, জয়েস ভাল - বোথা ভাল অলরাউন্ডার। এই পিচে বোথা আর ডকরেল ছাড়া বাকিদের সফল হওয়ার কথা না। তবে হ্যাঁ, পরে যদি আয়ারল্যান্ড ব্যাট করে তাহলে সকালে বাংলাদেশ সমস্যায় পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ আগে ব্যাটিং করে রান তুলতে সমস্যায় পড়তে পারে, আয়ারল্যান্ড সুইং বোলিং ভালই করে। তাই এখন বাকি চিন্তা ছেড়ে বাংলাদেশের জয়ের রাস্তায় ফেরার চিন্তাই করা উচিত।

লেখাটা কফি হাউসের আড্ডায় একইসাথে প্রকাশিত। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/29331349 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/29331349 2011-02-21 14:36:04
খেলা দেখছি
তবে পিচ ব্যাটিং এর পক্ষে ভাল নয়, স্লো আর লো আসছে বল। ভারত ভাল ব্যাট করছে - নাহলে এই পিচে এই রান রেট রাখা সহজ হবে না। তবে বাংলাদেশের পেস বোলিং খারাপ হয়েছে, এই পিচে পেসারদের কাছ থেকে কিছু আশা করা যায় না। ভারতের তিন পেসার কোনো কাজের নয়।

লিখতে লিখতে শেহবাগ সেঞ্চুরী করে ফেলল, কোহলি তিনটে চার মারল। বল ভাল হচ্ছে না একদমই। এরকম হলে ৩৫০ এর বেশী স্কোর তোলা কোনো ব্যাপার না। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/29330028 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/29330028 2011-02-19 16:43:58
নয়াদিগন্তের রিপোর্ট
সব থেকে মজার লেখা হল -
"কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ জানাচ্ছেন আমাদের খনিগুলো আর ভারতের খনিগুলো একটি স্তরে অবস্থিত। তবে ভারতের খনিগুলো কিছুটা ঢালু। ফলে আমরা যদি তেল বা অন্যান্য খনিজসম্পদ উত্তোলন না করি, তবে তা গড়িয়ে ভারতে চলে যাবে।"

কোন বিশেষজ্ঞ এটা বলেছেন জানতে ইচ্ছা করে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/29189851 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/29189851 2010-07-01 22:56:06
প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয়ী নিউজিল্যান্ড
নিউজিল্যান্ডের রান তাড়া মোটেও ভাল কিছু হয় নি, স্পিনারদের সামনে হাঁসফাঁস রেচছে আগাগোড়া।

শেষ ৪ ওভারে দরকার ছিল ৪১ রান। ওরাম দুটো ছক্কা মেরে নিউজিল্যান্ডের দিকে আনে। পরের ওভারে মালিঙ্গা আবার দুর্দান্ত বল করে ফিরিয়ে আনে শ্রীলঙ্কাকে। ঊনিশতম ওভারের প্রথম বলে ওরাম আউট হয়ে যাওয়ায় শ্রীলঙ্কার জেতার আশা মজবুত হয়। পরের বলে নিউজিল্যান্ডের আরো একটি উইকেট পড়ে। খেলা যখন সাত বলে ১৩ রান চাই, অনেকেই ধরে নিয়েছেন খেলা শেষ। ওই ওভারের শেষ বলে ম্যাককালাম (ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ভাই নাথান) তিন রান নেন। শুধু তাই নয়, মালিঙ্গার শেষ ওভারে প্রায় ইয়র্কার লেঙথের বলে চার মেরে ইকোয়েশন সহজ করে দেন নয় নম্বরে নামা নাথান। শেষে দু বলে যখন তিন রান দরকার, নাথানের ব্যাট থেকে বেরোয় ছক্কা।

পরের ম্যাচ - ওঃ ইন্ডিজ বনাম আয়ারল্যান্ড]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/29145928 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/29145928 2010-05-01 02:24:14
বিদ্যুত উৎপাদন - ১৯৭১ সালের পরে লেখা পড়লাম বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের বিদ্যুত উৎপাদনের তুলনা নিয়ে। এ বিষয়ে কিছু পরিসংখ্যান দেওয়ার দরকার মনে করি।


১৯৭১ থেকে ২০০৫ সালে পাকিস্তানের বিদ্যুত উৎপাদন


১৯৭১ থেকে ২০০৫ সালে বাংলাদেশের বিদ্যুত উৎপাদন

এবার গোড়ায় ফিরে যান, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানে প্রায় ৮০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন হত যেখানে বাংলাদেশে হত ১০০০ মেগাওয়াটেরও কম। ১৯৭১ সালের পরে ২০০৫ সাল অবধি বাংলাদেশের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ২৫ গুণ, আর পাকিস্তানের বেড়েছে ১০ গুণ। শুধু ১৯৯০ সাল থেকে ধরলে পাকিস্তানের উৎপাদন বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে যেখানে বাংলাদেশের হয়েছে তিনগুণ। ১৯৭১ সালে অর্ধেকের বেশী জনসংখ্যা যেখানে ছিল (পূর্ব পাকিস্তান)সেখানে উৎপাদন হত সংখ্যালঘু (পশ্চিম পাকিস্তান) অঞ্চলের প্রায় আটভাগের একভাগ বিদ্যুত। এই পরিসংখ্যানে কি বোঝা যায়?

পাকিস্তানে গ্যাস আমদানী করা সুবিধা কারণ মূল গ্যাস উৎপাদনকারী অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্য তাদের দেশের কাছেই অবস্থিত, দেশে অনেক জলবিদ্যুত উৎপাদনের সম্ভাবনা আছে কারণ পাহাড়ী অনেক নদী আছে। নিউক্লিয়ার বিদ্যুত অল্প হলেও উৎপাদিত হয়। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের বিদ্যুত সেক্টর পাকিস্তানের তুলনায় বেশী হারে উৎপাদন বাড়িয়েছে। সত্যি কথা বলতে বাংলাদেশে বিদ্যুতের উৎপাদন শুরুই হয়েছে ১৯৭১ সালের পর থেকে - তার আগের হিসাব না করাই ভাল। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/29140240 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/29140240 2010-04-23 01:40:55
ব্রহ্মপুত্রে বাঁধের কথা স্বীকার করল চীন
ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণর চীন সফরকালে এই খবর দেন তাকে চীনা মন্ত্রীরা। তাদের মধ্যে বাঁধের নকশা ও পরিকল্পনাও হস্তান্তর হয়েছে। কৃষ্ণ প্রথমে স্যাটেলাইট ইমেজে নির্মাণকার্যের ছবি দেখালে চীনা কর্তৃপক্ষ বাঁধ নির্মাণের ব্যাপারটি স্বীকার করে। তবে এর সাথে তারা এও জানায় যে সব বাঁধই হবে "রান অব দ্য রিভার" ধরণের অর্থাৎ তাতে জল খুব একটা ধরে রাখা হবে না। শুধু তাই নয়, তারা এও বলেছেন যে ব্রহ্মপুত্র থেকে জল সরিয়ে পূর্বে নিয়ে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনাও তাদের নেই।

বিশ্লেষকদের মতে চীনের সাথে ভারতের নকশা লেনদেন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির আভাষ দিচ্ছে।

সূত্র - টাইমস অব ইন্ডিয়া ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/29139613 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/29139613 2010-04-22 04:17:16
ঘুরে এলাম দেশ থেকে – বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সমস্যা
শুনলাম বাংলাদেশে বিদ্যুত ঘাটতি ২০০০ মেগাওয়াটের মত। মানে, আরো ২০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন বাড়াতে পারলে বিদ্যুত সমস্যা মেটানো যাবে। কিন্তু সত্যি কি তাই? এই বক্তব্যের মধ্যে একটা বড় ফাঁক আছে। কি রকম? ইন্টারনেট ঘেঁটে দেখা যায় বাংলাদেশে মাত্র ৪০% (access to electricity) বাড়িতে বিদ্যুত পৌঁছে গেছে। বাকি ৬০% এর হিসাব কি করা হয় বিদ্যুত ঘাটতি হিসাবের সময়? করা হয় না। অর্থাৎ, আগামী ১০ বছর ধরে পরিকল্পনা করে বিদ্যুত আমদানী করে ও উৎপাদন বাড়িয়েও বিদ্যুত ঘাটতি মেটানো সম্ভব হবে না, যদি বিদ্যুতের কানেকটিভিটি বাড়ানো হতে থাকে। ১০% বিদ্যুত উৎপাদন বাড়িয়ে যদি আরো ১০% বাড়িতে বিদ্যুতের কানেকশন দিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে অবস্থা অপরিবর্তিত থেকে যায়।

এই বিদ্যুত ঘাটতিতে জনগণের যখন নাভিশ্বাস ওঠে, তখন তারা আঙুল তোলে সরকারের দিকে। কিন্তু সরকারের করণীয় কি? প্রথমত, যদি হিসাব অনুযায়ী ধরে নিই দেশের ৬০% লোকের কাছে বিদ্যুত পৌঁছয় নি, তাহলে একই কারণে ধরে নেওয়া যায়, ৬০% মানুষের কাছে বিদ্যুত ঘাটতি ভোটের কোনো ইস্যু নয়। কিন্তু নতুন জায়গায় বিদ্যুতের লাইন পৌঁছে দেবার প্রতিশ্রুতি দিতে পারলে নতুন ভোটব্যাঙ্ক পাওয়া সম্ভব। কারণ যারা একেবারেই বিদ্যুত-বঞ্চিত, তারা দিনে পাঁচ ঘন্টা বিদ্যুত পেলেও বেজায় খুশী হবেন। তাই সরকারের লক্ষ্যই হবে বিদ্যুত উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন কানেক্টিভিটিও বাড়িয়ে ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখা। অর্থাৎ, উৎপাদন বাড়লেও চাহিদাও বাড়বে, মানে ঘাটতিও অপরিবর্তিত থাকবে। এর সাথে যদি জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাৎসরিক দেড় শতাংশ নতুন জনগণ যোগ করেন তো অবস্থা খারাপ ছাড়া আর ভাল হবে না। আর শহুরে জনগণ এসিতে অভ্যস্ত হচ্ছে - তাদের মাথাপিছু বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমবর্ধমান।

আরেকটা ব্যাপার বলতে ভুলে গিয়েছিলাম - সেই প্রসঙ্গে ফিরে আসি। বাংলাদেশে শিল্পায়নের হার অত্যন্ত কম। একমাত্র সফল শিল্প টেক্সটাইল ও গারমেন্টস দেশের রপ্তানী আয়ের ৭৫% এনে থাকে। ঘটনাচক্রে, এই শিল্পেও যথেষ্ট বিদ্যুত (অথবা সরাসরি গ্যাস) লাগে। বাংলাদেশের কোনো সরকারের পক্ষেই শিল্পকে বঞ্চিত করে বিদ্যুত ডোমেস্টিক সাপ্লাই লাইনে দেবার সাহস থাকবে না - কারণ লক্ষ লক্ষ লোকের জীবিকা এই শিল্পের সাথে জড়িয়ে আছে। অর্থাৎ, সময় গেলে, টেক্সটাইল ও গারমেন্টস শিল্প বাড়াতে গেলে আরো বিদ্যুত চাই। বিদ্যুত চাই পরিবহনেও। বাংলাদেশে ঢাকায় ও চট্টগ্রামে মেট্রো রেল চালু করা দরকার। কাছাকাছি কয়েকটা শহর গড়ে তুলে তাদের মধ্যে বৈদ্যুতিক রেল যোগাযোগ দরকার। অর্থাৎ বিদ্যুত চাই। একইভাবে, কৃষিতে সেচের জলের জন্যও বিদ্যুত দরকার। তাহলে, বিদ্যুত উৎপাদন বাড়লে গৃহস্থালীর বিদ্যুত ঘাটতির উন্নতি নাও হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ভারত বা পাকিস্তানে মাথাপিছু বিদ্যুত উৎপাদনের হার বাংলাদেশের প্রায় তিনগুণ - তাও সেখানেও গৃহস্থালীর কারেন্ট না থাকার সমস্যা যথেষ্টই আছে।

এবারে নজর ঘোরানো যাক উৎপাদনের দিকে। বাংলাদেশের ৮০% বিদ্যুত আসে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করে - অর্থাৎ তাপবিদ্যুত। প্রমাণিত মজুদ অনুযায়ী চললে ২০১৫ সালের পরে গ্যাস উৎপাদন কমবে। সরকার বড়জোর উৎপাদন আরো কিছুবছর ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে পারেন, সমুদ্র-বক্ষে গ্যাস অনুসন্ধান করে। যদি অনেক গ্যাস পাওয়া যায় তো ঠিক আছে, না পাওয়া গেলে, বা গ্যাস বিদেশে রপ্তানী করে দিতে হলে? আবার সেই একই গ্যাসে গাড়িও চলে, ফার্টিলাইজারও তৈরী হয়। গ্যাসের ওপর দাবীও কম মানুষের নেই। কার্যত, গ্যাসই হল বাংলাদেশের একমাত্র বিদ্যুতের উৎস, যা দিনে দিনে ফুরিয়ে আসছে।

সব মিলিয়ে আদর্শ টাইম বোমা। মানুষ বাড়ছে, বিদ্যুত চাহিদা বাড়ছে। অথচ বিদ্যুতের উৎপাদনের মূল উৎস প্রাকৃতিক গ্যাস ফুরিয়ে আসছে। সমস্যা জটিল। টেকনলজির কোনো অভূতপূর্ব উন্নতি না হলে কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশকে বিদ্যুত অথবা গ্যাস আমদানী করতে হবে। আর বিদ্যুত আমদানী যদি ভারত থেকে করা হয় তাহলেই রাজনীতি জটিল হবে। একটা পথ হল ভারত/নেপাল/ভুটান থেকে জলবিদ্যুত আমদানী করা। সেক্ষেত্রে টিপাইমুখের মত জলবিদ্যুত প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশের আপত্তিগুলো গুরুত্ব হারাবে। আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাধাও কম আসবে না। আরেকটা হল, মায়ানমার থেকে গ্যাস আমদানী করা। কিন্তু মায়ানমার থেকে গ্যাস কিনতে গেলে একরকম চিনের (বা পরে ভারতের) সাথে সরাসরি বিডের লড়াইতে নামতে হবে। অর্থাৎ সে আশাও কম। মায়ানমার-বাংলাদেশ-ভারত গ্যাস পাইপলাইন হলেও গ্যাসের মূল ক্রেতা হবে ভারত। বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতি পেরিয়ে এই পাইপলাইন বাস্তবায়ন প্রায় অসম্ভব।

আর বাকি থাকে অপ্রচলিত বা নবায়ণযোগ্য শক্তি। একমাত্র এই সম্ভাবনাই এখনও বিতর্কের ঊর্ধ্বে। সৌর-প্রযুক্তি বা বায়ুশক্তি কাজে লাগানোর যথাসম্ভব প্রচেষ্টা করতে হবে। ইন্টারনেট ঘাঁটলে পাই যে যে কোনো নতুন শক্তির উৎস থেকে বিদ্যুত উৎপাদন করে তা থেকে চাহিদা মেটানোর মত অবস্থায় যেতে অন্তত ৫-৮ বছর সময় লাগে। অর্থাৎ, আজ একটা নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টের পরিকল্পনা করলে যথেষ্ট নিউক্লিয়ার বিদ্যুত পেতে ২০১৮ সাল লেগে যাবে। নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট বসানোর ঝক্কিও কম নয়। প্ল্যান্টের আশেপাশের অঞ্চলের লোকজন আপত্তি তুলবে। তাও বিকল্প হিসাবে এটি যথেষ্ট জনপ্রিয়। তাই তাড়াতাড়ির মধ্যে এটাই ভাল সমাধান বলে মনে হয়। আর সেই সাথেই শুরু হয়ে যাক সোলার, উইন্ড, বায়োম্যাস আর টাইডাল পাওয়ার নিয়ে পাইলট প্রোজেক্ট। এগুলো থেকে যথেষ্ট বিদ্যুত পেতে ১০-১২ বছর অপেক্ষা করতে হবে। যখন গ্যাস উৎপাদন কমে আসবে, তখন এগুলো ধীরে ধীরে তার স্থান দখল করে নেবে। তবে সেই সাথে বিদ্যুত আর গ্যাস আমদানীর চেষ্টাও রাখতে হবে।

পরিকল্পনা ঠিকঠাক চললে আগামী দশ-পনেরো বছরের মধ্যে আমি অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হতে পারে। তবে রাতারাতি উন্নতির কোনো সম্ভাবনা নেই বলেই আমার মনে হয়। সরকারকে গালি দিলে সরকার বলবে আগের সরকারে দোষ, আগের সরকার বলবে তার আগের সরকারের দোষ। কার্যত দোষ কারো নয়। আবার অন্যভাবে বললে দোষ সবারই - কেন এই পরিকল্পনা আরো দশ বছর আগে করা হয় নি। সত্যি হল - বাংলাদেশে যা রিসোর্স আছে, তা দিয়ে শিল্প, কৃষি ও পরিবহনের খাত সহ ১০০% লোকের কাছে ২৪ ঘন্টা ধরে বিদ্যুত সরবরাহ করা সম্ভব নয় - প্রযুক্তির বর্তমান অবস্থায় তো নয়ই। মেনে নিতেই হবে এটা আপাতত। সব সমস্যা রাজনৈতিক নয়, তাই সব সমাধানও রাজনৈতিক ভাবে আসা সম্ভব নয়।

একই সাথে কফি হাউসের আড্ডায় প্রকাশিত।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/29130526 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/29130526 2010-04-07 12:53:20
তাজিকিস্তানকে হারালো বাংলাদেশ
বাফুফে সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে, বাংলাদেশের পক্ষে খেলার ৬৮ মিনিটে এনামুল হক এবং ৭৫ মিনিটে আতিকুর রহমান মিশু গোল দুটি করেন।

তাজিকিস্তান এই টুর্নামেন্টের গতবারের রানার্স-আপ আর তার আগেরবারের চ্যাম্পিয়ন। ২০০৭ সালে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনকারী দুই লেগে বাংলাদেশকে ৬-১ গোলে হারিয়েছিল তাজিকিস্তান।

বাংলাদেশ ১৮ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সঙ্গে এবং ২০ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/29099343 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/29099343 2010-02-16 23:32:45
বাংলাদেশে দূতাবাসে ভারতীয় কম্যান্ডো?
মূল খবরটা হল, ভারতীয় কোনো একটি সংবাদপত্রে খবর এসেছে যে ভারত থেকে ৫০ জনের একটি কম্যান্ডো ফোর্স বাংলাদেশে ভারতীয় দূতাবাসে পাঠানো হবে। এর পরে বাংলাদেশে একটি নিউস চ্যানেল ও সংবাদপত্র এই বিষয়টি জনসমক্ষে এনেছেন বাংলাদেশের জন্য হুমকি হিসাবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমি কিছু প্রশ্নের ও অভিযোগের উত্তর দিই।

কেন বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে কম্যান্ডো?
এমনিতে দূতাবাসের নিরাপত্তার দায়িত্ব রিসিভিং দেশের, কিন্তু হাইকমিশনের কর্মীদের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে সেন্ডিং দেশ তাদের নিরাপত্তার জন্য কর্মী পাঠাতে পারে। ঢাকার ভারতীয় দূতাবাস ইতিপূর্বে বেশ কিছু থ্রেট লেটার পেয়েছে [৫], কিছুদিন আগে লস্কর-ই-তৈবার ভারতীয় দূতাবাস আক্রমণের একটি পরিকল্পনার কথা বাংলাদেশের গোয়েন্দা সূত্রে [১] জানা গেছে। এর পরেই নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য এই পদক্ষেপ।

অন্যান্য দেশেও কি এরকম উদাহরণ আছে?
ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের প্রহরায় ১৬ জন কম্যান্ডোকে পাঠানো হয়েছে [২]। পাকিস্তানও একইভাবে দিল্লীতে তাদের এলিট বাহিনীর কিছু নিরাপত্তাকর্মীকে পাঠানোর কথা ভাবছে বলে সংবাদে প্রকাশ[৩]। কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাসে গত পাঁচ বছর যাবত নিরাপত্তাকর্মীরা আছেন। কাবুলে ভারতীয় দূতাবাস প্রহরায় থাকেন ইন্দো-তিবেতান ফোর্সের লোকজন - অর্থাৎ ভারতে মূলত তিব্বতীদের নিয়ে গড়া একটি বাহিনীর সৈন্যরা।

হাইকমিশন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইন কি কোনটি?
বিদেশে হাইকমিশন আন্তর্জাতিক ডিপ্লোম্যাটিক মিশনের অংশ। আন্তর্জাতিকভাবে যে কোনো দেশের ডিপ্লোম্যাটিক মিশন পরিচালিত হয় ১৯৬১ সালের জেনেভা কনভেনশন অন ডিপ্লোম্যাটিক রিলেশনশ [৪] দ্বারা। ভারত ও বাংলাদেশ উভয়েই এই চুক্তি মেনে চলে।

এই আইন বিদেশে কম্যান্ডো পাঠানো সংক্রান্ত বিষয়ে কি বলে?
আর্টিকেল ৭ অনুসারে সেন্ডিং দেশ (এক্ষেত্রে ভারত) দূতাবাসের কর্মী নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাধীন। তবে কোনো নিরাপত্তা কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে আগে থেকে রিসিভিং দেশ প্রয়োজন বোধ করলে তাদের নামগুলো নিতে পারে ও তাদের অনুমতির দরকার পড়তে পারে। (In the case of military, naval or air attachés, the receiving State may require their names to be submitted beforehand, for its approval.) আর্টিকেল ১১ (২) অনুসারে রিসিভিং দেশটি রেসিপ্রোকাল ও নন-ডিসক্রিমিনেটরি বেসিসে সেই অনুরোধ নাও রাখতে পারে। (The receiving State may equally, within similar bounds and on a non-discriminatory basis, refuse to accept officials of a particular category.)

আমার কাছে এর মানে দাঁড়ায় এই যে বাংলাদেশ ইচ্ছা করলে ভারতীয় কম্যান্ডোদের ফেরত যেতে বলতেই পারে কিন্তু সেটা non-discriminatory basis হতে হবে, অর্থাৎ বাংলাদেশে তাদের নিজ-নিজ হাইকমিশনে অবস্থান অন্যান্য দেশের কম্যান্ডোদেরও একই ব্যবহার করতে হবে।

বাংলাদেশের কোন মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে অবহিত করতে হয়?
বাংলাদেশে ভারতীয় দূতাবাসের কর্মীরা সকলেই ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে যান, সুতরাং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের জানা উচিত কে কে বাংলাদেশে আসছেন। আর্টিকেল ১০(১)(এ) একই কথা বলে। তবে এদের মধ্যে কে কে নিরাপত্তাকর্মী তা বাংলাদেশ জানতে না চাইলে ভারত জানাতে বাধ্য নয় (আর্টিকেল ৭)। সুতরাং বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রণালয়ের জানার কথা নয় পঞ্চাশজন কম্যান্ডো না কেরাণী পাঠানো হচ্ছে।

ভারতীয় দূতাবাসের বাইরে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণে ভারতীয় নিরাপত্তারক্ষীরা সমস্যার সৃষ্টি করছেন। এটা কি আইনত সম্ভব?
বাংলাদেশে ভারতীয় দূতাবাসের চত্বর(“premises of the mission”) কতটা তার ওপর নির্ভর করছে। সাধারণভাবে ঘেরা জায়গার বাইরের রাস্তা-ঘাট চত্বরের বাইরে রাখা হয়। সুতরাং, বাইরের ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব বাংলাদেশের পুলিশের হওয়া উচিত। চত্বরের মধ্যে আর্টিকেল ২২ অনুসারে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব সীমিত, অথচ চত্বরের বাইরের রক্ষার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের (আর্টিকেল ২২(২) ও ৪৫(এ) )। দিল্লীতে মার্কিন দূতাবাসের সামনের রাস্তার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল করে দিল্লী পুলিশই। তারাও স্থানীয় বাসিন্দাদের যথেষ্ট হয়রানির কারণ। বাংলাদেশের সংবাদ অনুসারে ভারতীয় দূতাবাসের জন্যও বাংলাদেশের তরফেই প্রচুর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে [৫] - আর নিরাপত্তার ব্যবস্থা মানেই সাধারণ মানুষের হয়রানি।

সূত্র -
১) Click This Link
২) http://www.zeenews.com/news569020.html
৩) Click This Link
৪) Click This Link
৫) Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/29068325 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/29068325 2009-12-30 15:53:11
বাংলাদেশ-ভারত সাফ কাপ সেমিফাইনাল
কালকে এখানে বরফ পড়ার কথা। তাই অফিস নাও যেতে পারি। বাড়ি বসে খেলা দেখতে পেলে মন্দ হয় না। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/29056891 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/29056891 2009-12-11 02:54:10
প্রভাকরণের মৃত্যু ও তামিল ইলম - ফিরে দেখা ইতিহাস আগেই বলে রাখছি - আমি কোনোভাবেই এল-টি-টি-ই ও প্রভাকরণের সমর্থক নই কিন্তু আমি তামিলদের বঞ্চনার ইতিহাসে তাদের সাথে সমব্যথী।

শ্রীলঙ্কায় তামিল-সিংহলী বিবাদ সম্পর্কে অনেকেওই সঠিক ধারণা নেই। প্রভাকরণের মৃত্যুর সাথে সাথে এই বিবাদের আশা করি অন্ত হল। আমি একটা সংক্ষিপ্ত টাইমলাইন দিলাম কিভাবে এই বিবাদের সূত্রপাত তা নিয়ে।

১৮১৫ - ব্রিটিশরা শ্রীলঙ্কা দখলে আনে।

১৮৩৩-১৯৪৮ - ব্রিটিশ শ্রীলঙ্কায় অসংখ্য তামিলদের ধরে এনে চা-বাগানের কাজে লাগানো হয়। এই সময় সংখ্যাগুরু সিংহলীরা তামিলদের বৈরীতার সূত্রপাত কারণ তামিলেরা ব্রিটিশদের হয়ে কাজ করত। এই তামিলেরা সারা শ্রীলঙ্কায় বিচ্ছিন্নভাবে থাকলেও উত্তরাঞ্চলে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। ব্রিটিশরা সুযোগ বুঝে ডিভাইড আর রুল চালিয়ে যায়। (সূত্র ১,২)

১৯৪৮ - সিলোন সিটিজেনশিপ আইনে তামিলদের শ্রীলঙ্কার নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা হয়। এই আইন অনুসারে শ্রীলঙ্কায় জন্ম হলেই কারো শ্রীলঙ্কার নাগরিকত্ব থাকবে তা নয়, বরং তার পিতা অথবা পিতামহেরও শ্রীলঙ্কায় নাগরিকত্ব থাকতে হবে। অপরদিকে ভারত সরকার ১৯৫০ সালে যারা ভারতে বসবাস করে তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। এর ফলে সরকারিভাবেই শ্রীলঙ্কার প্রায় অর্ধেক তামিল জনগণ (সংখ্যায় দশ লক্ষ - মোট জনসংখ্যার ১০%) নাগরিকত্ব বিহীন জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়। পরের বছরের ভোটে নাগরিকত্বকে ভোটার তালিকায় নাম তোলার মূল প্রমাণ হিসাবে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। (সূত্র ১)

১৯৫৪ - তীব্র বিরোধিতার মুখে সিটিজেনশিপ আইনের রদবদল ঘটিয়ে কিছু তামিলদের নাগরিকত্বের ব্যবস্থা হয় নিবন্ধীকরণের মাধ্যমে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে ভারতীয় বা পাকিস্তানী তামিলেরা যদি একটানা ১৩ বছর শ্রীলঙ্কায় আছেন এমন প্রমাণ দেখাতে পারেন, তবে তাদের নাগরিক হিসাবে নিবন্ধন করার সুযোগ দেওয়া হল। আবার অন্যান্য ইচ্ছুক তামিলদের সরাসরি ভারতীয় নাগরিকত্ব পাবার ব্যবস্থা করা হয় কলোম্বোয় ভারতীয় হাইকমিশনে। কিন্তু শ্রীলঙ্কায় এই নিবন্ধন পদ্ধতি অত্যন্ত ধীরে চলতে থাকে - মূলত তামিল-ভাষিদের ১৩ বছর একটানা থাকার প্রমাণ না থাকায়। ১৯৬৩ সাল অবধি আবেদনকারীদের মাত্র ৮ ভাগের ১ ভাগ জনগণ এই পদ্ধতিতে নাগরিকত্ব পায়। অপরদিকে একই সময়ের মধ্যে যতজন ভারতীয় নাগরিকত্বের আবেদন করেছিলেন, তারা সকলেই নাগরিকত্ব পেয়ে গিয়েছিলেন। (সূত্র ১)

১৯৫৬ - সিংহলি ওনলি আইন অনুসারে তামিল ভাষাকে সবরকম স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত করা হল। এই সময় তামিল ভাষাভাষিদের সংখ্যা ছিল ২০%। এমনকি উত্তরাঞ্চলের জন্যও সিঙ্ঘলী ভাষা বাধ্যতামূলক করা হল। এর ফলে তামিল মধ্যবিত্তদের পক্ষে সরকারি চাকরি পাওয়া একরকম অসম্ভব হয়ে গেল। আরো দুবছর পরে সরকার এই আইন প্রত্যাহার করে সিঙ্ঘলীকে মূল ভাষার মর্যাদায় রাখা হলেও তামিল ভাষাকে স্বীকৃতিতে আনা হল। অনেক পরে ১৯৮৭ সালে এই আইন পুনর্বিন্যাস করে উভয় ভাষাকেই জাতীয় মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। (সূত্র ২)

১৯৫৮ - তামিল-সিঙ্ঘলী দাঙ্গায় কয়েকশ তামিলের মৃত্যু। পরবর্তী অধ্যায়ে তামিলেরা শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন অংশ থেকে উত্তরাঞ্চলে চলে আসে।
(সূত্র ২)

১৯৬৪ - দীর্ঘ আলোচনার পরে তথাকথিত নাগরিকত্ব বিহীন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৪:৭ অনুপাতে শ্রীলঙ্কা ও ভারতের মধ্যে নাগরিকত্ব বন্টনের প্রস্তাবনা হয়। এই চুক্তিতে প্রায় তিন লক্ষ তামিলকে শ্রীলঙ্কা নাগরিকত্ব দেবে ভারত দেবে পাঁচ লক্ষ তামিলকে ও তাদের ভারতীয় রাজ্য তামিলনাডুতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবে। বাকি দেড় লক্ষ তামিলকে নিয়ে কোনো সিদ্ধানে পৌঁছন যায় নি। ১৯৮১ সালের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করার কথাও হয়। কিন্তু ১৯৭৪ সালে হিসাবে দেখা যায় যেখানে এক লাখ তামিল ভারতে চলে গেছে ও বাকি এক লাখ ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়ে গেছে, সেখানে মাত্র ৬০ হাজার তামিল শ্রীলঙ্কার নাগরিকত্ব পেয়েছে। (সূত্র ১)

১৯৭০ - ভারত থেকে তামিল বই ও ম্যাগাজিন শ্রীলঙ্কায় আমদানি করা নিষিদ্ধ করা হয়। (সূত্র ২)

১৯৭৪ - ভারত ও শ্রীলঙ্কা বাকি দেড় লাখ তামিলকে সম-অনুপাতে ভাগাভাগি করে নিতে রাজী হয়। (সূত্র ১)

১৯৭৬ - প্রথম তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর আত্মপ্রকাশ। এতকাল ধরে যে তামিলেরা শ্রীলঙ্কার নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন তারা নিজেদের জন্য একটি রাজ্যের দাবী রাখছিলেন। কিন্তু তামিল ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট এই বছরেই প্রথম স্বাধীন তামিল রাষ্ট্র বা তামিল ইলমের প্রস্তাব করে ও একটি ছোটো সংগঠন তৈরী করে। ১৯৭৭ সালের ভোটে এই সংগঠন বেশ কয়েকটি সিটও পায় কিন্তু শ্রীলঙ্কা সরকার তাদের বিচ্ছিন্নতাবাদী দাবীর জন্য তাদের রাজনীতি থেকে বহিষ্কার করে। কার্যত এর পরে এই গোষ্ঠীই জঙ্গী গোষ্ঠীতে পরিণত হয়। (সূত্র ২)
একই বছরে তামিল ইলমের সমর্থকেরা লেবাননের বেইরুটে প্রথম সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে যান। প্রশিক্ষক ছিল ইয়াসর আরাফতের নেতৃত্বে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন। শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ উপেক্ষা করে আরাফত সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ট্রেনিং চালিয়ে যেতে নির্দেশ দেন। (সূত্র ৩)

১৯৮১ - ভারত সরকারের সাথে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। চুক্তিশেষে দেখা যায় শ্রীলঙ্কা কোটার দুই-তৃতীয়াংশ মাত্র জনগণকে নাগরিকত্ব দিয়ে উঠতে পেরেছে। ১৯৮৬ সালে অন্য আরেকটি সংশোধনীর মাধ্যমে এই বাকিদেরও শ্রীলঙ্কার নাগরিকত্ব দেওয়া হয়, কিন্তু ততদিনে ক্ষতি যা হবার তা হয়ে গেছে। একই বছরে শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চলে জাফনা শহরে একটি দাঙ্গায় তামিল গ্রন্থাগার ও ওই শহরের জনপ্রতিনিধির (তামিল) বাড়ি পুড়িয়ে ফেলা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় স্থানীয় পুলিশও দাঙ্গাকারীদের সাথে হাত মিলিয়ে এই কাজে হাত দিয়েছিল। (সূত্র ১,২)

১৯৮৩ - ব্ল্যাক জুলাই মাসে এল-টি-টি-ই ও শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ শুরু। এল-টি-টি-ই প্রথমে আক্রমণ করে ১৩ জন সেনাকে মেরে ফেলে। পালটা আক্রমণ চালিয়ে সেনাবাহিনী প্রায় চারশ (পৃথক হিসাবে তিন হাজার) তামিলকে মেরে ফেলে ও হাজার হাজার লোক গৃহহীন হয়ে ভারতে উদ্বাস্তু হয়ে আসতে শুরু করে। সারা দেশে দাঙ্গা শুরু হয় ও তামিলেরা সব বিভিন্ন প্রতিবেশীদের বাড়িতে বা মন্দিরে আশ্রয় নেয়। (সূত্র ২ http://en.wikipedia.org/wiki/Black_July)

এর পরবর্তী ঘটনা বহুল-প্রচারিত ও সকলেই জানে, তাই আর আলাদা করে লিখছি না।

সূত্র -
১) Nationality and international law in Asian perspective By Swan Sik Ko
২) Wikipedia - Click This Link
Click This Link
৩) http://www.atimes.com/ind-pak/DC09Df04.html
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28952622 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28952622 2009-05-19 04:09:47
আবার বিশ্বকাপ এসে গেল
আগের বারে বিশ্বকাপের আগে ফেভারিট ছিল অস্ট্রেলিয়া। ভারত বা পাকিস্তান ধর্তব্যের মধ্যেই ছিল না। অস্ট্রেলিয়ার টিমে গিলক্রিস্ট আর হেডেনের মত প্লেয়ার ছিল যারা ২০-২০ খেলার জন্য আদর্শ। তাদের ছাপিয়ে টুর্নামেন্টে হিরো হয়ে গেলেন যুবরাজ, মিশবা, উমর গুল বা ইরফান পাঠান।

এবারে খেলছে মোট ১২টা দল - ৩টি করে প্রতি গ্রুপে। প্রথম পর্যায়ে খালি গ্রুপ-লিগ। পরের পর্যায়ে যাবে প্রতি গ্রুপের প্রথম ও দ্বিতীয়। পরের পর্যায়ে খেলা প্রত্যেকে প্রত্যেকের সাথে খেলবে। পয়েন্টের ভিত্তিতে প্রথম চার দল যাবে সেমিতে। সেখান থেকে ফাইনাল। গ্রুপ লিগে খুব একটা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে হয়না। পরের পর্যায়েই আসল খেলা।

এবারে টুর্নামেন্টে আমার মতে ফেভারিট হল পাকিস্তান। কালকেও ওরা যেভাবে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল তা দেখে দলের শক্তি সম্পর্কে ধারণা করা যায়। আফ্রিদি আর উমর গুল - দুজনেই ২০-২০ খেলার জন্য আদর্শ। অস্ট্রেলিয়ার দল এবার তুলনামূলকভাবে অনভিজ্ঞ কিন্তু তাও দলটা অস্ট্রেলিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকাও অন্যতম ফেভারিট - গ্রেম স্মিথ আর নতুন আবিষ্কার ডুমিনি ছাড়াও দলে আছেন মরকেল। আগের বারের চ্যাম্পিয়ন ভারতের সমস্যা প্লেয়াররা অতিরিক্ত ক্রিকেট খেলে ক্লান্ত হতে পারে। ইংল্যান্ড ঘরের মাটিতে ভাল খেলতেই পারে - দলে আছে মারকুটে পিটারসন আর ফ্লিন্টফ (খেলবেন কিনা নিশ্চিত নয়)। শ্রীলঙ্কার ভরসা জয়সূর্য, মুরলী-অজন্তার স্পিন আর মালিঙ্গা। নিউজিল্যান্ড ঘরের মাঠে সম্প্রতি ভারতকে পরপর ২ বার ২০-২০ ম্যাচে হারিয়েছে - ম্যাককালাম আর রাইডার দুজনেই ২০-২০ ম্যাচে অত্যন্ত ভাল খেলোয়াড়। ওয়েস্ট ইন্ডিসের ব্র্যাভো আর স্মিথ উভয়েই ভাল খেলে। কিন্তু শ্রীলংকা, ওয়েস্ট ইন্ডিসের সাথে অস্ট্রেলিয়া এবার বিশ্বকাপের গ্রুপ অব ডেথে পড়েছে - তাদের পরের রাউণ্ডে যেতেই কষ্ট করতে হতে পারে। বাংলাদেশ এবারে আয়ারল্যান্ডের সাথে একই গ্রুপে পড়েছে। বাংলাদেশের মূল প্লেয়ার মাশরাফি কিন্তু আমার মতে রাসেলও ইংল্যান্ডের আবহাওয়ায় ভাল বল করবে। আয়ারল্যান্ড কোয়ালিফায়ারে ভাল খেলেছে - আগের বিশ্বকাপে পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল। আয়ারল্যান্ডের ঘরের কাছে খেলা - এটাও ওদের সুবিধা। হল্যান্ডের একজন প্লেয়ার আই-পি-এলে সাড়া জাগিয়েছেন - ফাস্ট বোলার ন্যানেস যাকে ম্যাকগ্রাথের পরিবর্তে খেলানো হচ্ছে। আর আছে স্কটল্যান্ড - তাদেরও খেলা ঘরের কাছে। এই দলের গাভিন হ্যামিল্টনের ভাল খেলার কথা।

ভাল খেলা হোক এই আশায় থাকি।
উইকির পেজ -
Click This Link

ক্রিকইনফোর পেজ -
Click This Link

আই-সি-সির পেজ -
http://icc-cricket.yahoo.net/wt20-2009/]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28948233 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28948233 2009-05-09 01:47:40
রবীন্দ্রসঙ্গীত - আনন্দলোকে


যাদের ইউটিউব ব্যান্ডউইথের কারণে দেখার সমস্যা তারা ই-স্নিপ্সে গানটা শুনতে পারেন। ই-স্নিপ্সের লিঙ্ক দিলাম।

Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28947929 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28947929 2009-05-08 13:32:01
মহাকর্ষের করালগ্রাসে আমাদের সংষ্কৃতি
আমি এখন পাশ্চাত্য সভ্যতার এক অন্ধকারাচ্ছন্ন দিকের বিষয়ে আলোকপাত করব। বিজ্ঞানকে এই সভ্যতা একটি অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে আমাদের সাংস্কৃতিক উপনিবেশ বানাতে চায়। আমাদের দীর্ঘদিনের সভ্যতা আজ এই সভ্যতার হাতে ক্ষতবিক্ষত। কিভাবে আমাদের সভ্যতা বিজ্ঞানের করালগ্রাসে পড়েছে তার একটা নমুনা তুলে ধরব এবার।

যেমন ধরা যাক মহাকর্ষ সূত্র। এই সূত্রের কোনো প্রমাণ নেই, আদপে সূত্র শুরুই হয় কিছু স্বতঃসিদ্ধ দিয়ে যেগুলোকে কেউ কোনোদিনও প্রশ্ন করতে পারবে না। দুটি মহাজাগতিক বস্তু একে অপরকে নাকি নিজের দিকে টেনে নেবার চেষ্টা করে। কেন করে তার কোনো উত্তর নেই। অথচ সেই অর্ধসত্যই বছরের পর বছর ধরে আমাদের স্কুলে ক্লাসে পড়ানো হয়ে চলেছে। এইভাবে আমরা আমাদের প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে ঈশ্বরের বাণী ভুলে তারই পেছনে পড়েছি।

মহাকর্ষ সূত্র নিয়ে সংশয়ের শেষ নেই। আপেল পৃথিবীর মাটিতে পড়লে পৃথিবীরও তো আপেলের দিকে কিছুটা এগোনোর কথা – কিন্তু আমরা কি সেটা দেখতে পাই, বিজ্ঞানীরা কি সেটা মাপতে পারেন? বললে তো তারা হাস্যকর দাবী জানান, পৃথিবীর বিচ্যুতি নাকি এতই কম হয় যে তা মাপাই যায় না। শুধু তাই নয়, বলা হয় দুটো এরকম বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ বল নাকি তাদের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক। এও এক মজার গল্প – আসলে বল মাপার কোনো যন্ত্রই তো আবিষ্কৃত হয় নি, তাই এই ভাওতাবাজী চলবেই। তাই বল মেপে এই সূত্রকে রিফিউট করার কোনো সম্ভাবনাই নেই। এরপরে আসে এই কাল্পনিক মহাকর্ষ বল নাকি বস্তুদ্বয়ের দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক। বাঃ, ভরের বেলায় সোজাসুজি, আর দূরত্বের সময় বর্গ কেন? কোন উত্তর নেই।

সবথেকে বড় জালিয়াতি তো সেই বল মাপার সময়। কি একটা ধ্রুবক দিয়ে গুণ করে বল মেপে ফেলা হচ্ছে। এর মানে কি? ইচ্ছা হলেই কি কোনো প্রাকৃতিক রাশিকে এভাবে গুণ করে ফেলা যায়? বাঃ, তাহলে তো আমিও এবার থেকে দূরত্বকে একটা ধ্রুবক দিয়ে গুণ করে বলব। আমার বাড়ি থেকে অফিস পাঁচ মাইল রাস্তা পাঁচ গজ হবে – কি মজা।

আরও বড় প্রশ্ন সময়কাল নিয়ে। আজকে দুটো বস্তু নাহয় একে অপরকে আকর্ষণ করে – কালকে তা নাও করতে পারে। আর কে দেখেছে আজ থেকে কয়েক হাজার বছর আগে যে এই বলের অস্তিত্ত্ব ছিল? শুধু তাই নয়, কয়েক বছর পরে তথাকথিত মহাকর্ষ বল দূরত্বের সমানুপাতিক হয়ে যেতে পারে, সে নিয়ে কি কেউ গবেষণা করছে?

মহাকর্ষ সূত্র একটা হাইপোথিসিস মাত্র যা দিয়ে সৌরজগতের কিছু গ্রহের আর চাঁদ-তারার অবস্থান সঠিকভাবে জানা যায় আপাতত। তাও সেই হাইপোথিসিসও সর্বজনগ্রাহ্য নয়, ইলেক্ট্রিকাল চার্জ বা ম্যাগনেটিজমের জন্যও আপাত-মহাকর্ষ প্রভাব হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু পশ্চিমারা আমাদের এমনই অন্ধ করে রেখেছে যে আমরা ঈশ্বর-বিশ্বাস দূরে থাক, বিজ্ঞানের অলটারনেটিভগুলোও ভেবে দেখাও ভুলে গেছি।

তবে পশ্চিমাদের এই অপবিজ্ঞান আর বেশীদিন ধামাচাপা দিয়ে তারা রাখতে পারছেনা। এখন আবিষ্কৃত হয়েছে ডার্ক ম্যাটার – ঈশ্বরের নবতম সৃষ্টি। ডার্ক ম্যাটার এতদিনের বিজ্ঞানীদের সব হিসাবনিকেশ উলটে দিতে পারে। ঈশ্বর মনে হয় যেন মানুষকে শিক্ষা দেবার জন্যই এর উপস্থাপনা করেছেন। ঈশ্বরের সৃষ্ট জগতের রুলস শুধু তিনিই জানতে পারেন – তিনি সর্বশক্তিমান। শুধু তাই নয়, তিনি কিছুদিনের মধ্যেই মহাকর্ষ সূত্র পালটে ফেলে সারা পৃথিবীর মানুষকে শিক্ষা দিতে চান। আমরা যারা ঈশ্বরের মহিমায় বিশ্বাসী – তারাই কেবলমাত্র বেঁচে যাব। যারা অবিশ্বাসী তারা মহাকর্ষ সূত্র মেনে চলে এমন যন্ত্রে (যেমন স্পেশশিপ বা এরোপ্লেন) চড়তে যাবে আর ধুপধাপ পড়ে মরবে। এখনও সময় আছে আমাদের নিজেদের পথে ফেরার। এ জন্য দরকার রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ আর ধর্মের প্রতি আস্থা ফেরানো।

সবশেষে মহাকর্ষ-বিশ্বাসীদের প্রতি একটা শেষ চ্যালেঞ্জ। পৃথিবীর কোনো জায়গায় দুটো বস্তু রেখে তাদের মধ্যে ন্যূনতম আকর্ষণ মেপে দেখাতে পারবেন কি তারা? না পারলে কে তাদের অধিকার দিয়েছে এই আজগুবি মহাকর্ষ সূত্র আমাদের ওপর চাপিয়ে দেবার? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28946407 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28946407 2009-05-04 23:43:11
কেন মাশরাফি কোলকাতার দলে নেই
নিয়মানুসারে, প্লেয়িং ইলেভেন এ ৪ জন পর্যন্ত বিদেশী প্লেয়ার রাখার অনুমতি আছে আই-পি-এল এ। এখন কোলকাতার টিমের বিদেশী প্লেয়ার অনেক - গেল (স্পিনার-অলরাউন্ডার), ম্যাককালাম (ক্যাপ্টেন), হজ (ব্যাটসম্যান), এনরিকে (ফাস্ট বোলার-অলরাউন্ডার), ডেভিড হাসি (ব্যাটসম্যান), অজন্তা মেন্ডিস (স্পিনার), মাশরাফি(ফাস্ট বোলার-অলরাউন্ডার) আর ল্যাঙ্গভেল্ট (ফাস্ট বোলার)। গেল-ম্যাককালাম খেলবেই। বাকি রইল পাঁচ জন। এদের মধ্যে অজন্তা মেন্ডিস মনে হয় নেই এখন আর বাকিদের মধ্যে বুকাননের পাল্লা ভারী অস্ট্রেলিয়দের দিকেই। টিম কেনার দায়িত্বে সৌরভ-শাহরুখ থাকলেও খেলানোর সময়ে সবই বুকানন। তাই এই সিজনে অস্ট্রেলিয়ানরা থাকতে থাকতে মাশরাফির খেলার সম্ভাবনা কম।

তবে বাংলা মিডিয়া দুই ম্যাচের পরে মাশরাফির জন্য গলা ফাটাচ্ছে। এনরিকে-কে কাররই মনে ধরে নি। পর্তুগীজ বংশোদ্ভূত এই অস্ট্রেলিয় অলরাউণ্ডারের ব্যাটে-বলে আহামরি কোনো পারফরমেন্স নেই। বরং প্র্যাকটিস ম্যাচে মাশরাফিই ভাল বল করেছে। আনন্দবাজারের বক্তব্য আমার মতের সাথে মেলে -

"মোজেস হেনরিকে-কে ঘটা করে নিয়ে আসা হয়েছে দলে। অবশ্যই বুকাননের সুপারিশে। কিন্তু তাঁর পারফরম্যান্স দেখে তো কপিল দেবের ফেভারিট উক্তিটাই মনে পেড় যাবে। জঙ্গলে নাকি ময়ূর নেচেছে। কিন্তু কে দেখেছে? মোজেস হেনরিকে নাকি দুর্ধর্ষ টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট অষ্ট্রলীয় ক্রিকেটে। সমস্যা হল কে দেখেছে? অষ্ট্রলীয় বলে তিনি খেলবেন আর মাশরফি মর্তুজা বাইরে বসে থাকবেন?"

তবে চার-বিদেশীর নিয়মটা প্রায় সব দেশের ঘরোয়া লিগে আছে। আসলে এই যুগে ভুলেই গেছি যে আই-পি-এল আসলে ভারতের ঘরোয়া ২০-২০ টুর্নামেন্ট। সবই প্যাকেজিং আর অ্যাডভার্টাইসমেন্টের কল্যাণে ... ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28941579 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28941579 2009-04-23 10:22:08
কাবুলিওয়ালার ক্রিকেট
যা লেখার জন্য ভণিতা, আজকে আফগানিস্তান একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তবে, এমন নয় যে তারা অনেককাল হল ক্রিকেট খেলে আসছে। যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশটার অধিকাংশ খেলোয়াড়ের ক্রিকেট পরিচিতি পাকিস্তানে রিফিউজি হিসাবে বসবাসকালে আর তাদের ক্রিকেট-যাত্রার শুরু ১৯৯২ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিজয়ের উল্লাস শুনে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হাতেখড়ি বলতে ২০০৮ সালের আই-সি-সি পরিচালিত পঞ্চম ডিভিশনের ক্রিকেট থেকে। লক্ষ্য ২০১১র বিশ্বকাপ ক্রিকেট। আর অভিষেকেই বিজয়। ফাইনালে আয়োজক জার্সিকে হারিয়ে চতুর্থ ডিভিশনে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে আফগানিস্থান। একই বছরের শেষের দিকে তারা ফাইনালে হংকং-কে হারিয়ে জিতে দেয় চতুর্থ ডিভিশনের শিরোপাও। এরপরে বুয়েনস আইরেসে তৃতীয় ডিভিশন ও প্রথম দুয়ের মধ্যে শেষ করে তারা বিশ্বকাপের কোয়ালিফাইং রাউন্ডে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।

বিশ্বকাপের কোয়ালিফাইং খেলা খুব একটা সহজ ছিল না। প্রতিপক্ষে অনেক দেশই আগে বিশ্বকাপে খেলেছে বা অনেকদিন ধরে বিশ্বকাপে খেলার দাবীদার। ওমান, আফগানিস্তান, উগান্ডা আর ডেনমার্ক ছাড়া বাকি সবাই একবার না একবার বিশ্বকাপে খেলেছে। বিশেষজ্ঞদের মত ছিল, এই চার দলই প্রাথমিক পর্যায়ের গণ্ডি পেরোতে পারবে না। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের ভুল প্রমাণ করে বারমুডাকে হারিয়ে সুপার এইটে উঠে গেল আফগানিস্তান। চারটি দেশ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করবে, আর একদিনের আন্তর্জাতিক খেলার যোগ্যতা পাবে ছ'টি দেশ। সুপার এইটে স্কটল্যান্ড এমনকি আয়ারল্যান্ডকেও হারিয়ে দেয় তারা অথচ কানাডার কাছে হেরে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের দৌড় থেকে বিদায় নেয়। শেষ ম্যাচে নামিবিয়াকে হারিয়ে দৌড়ে ষষ্ঠ স্থান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের। বিশ্বকাপে যেতে না পারলেও আগামী চার বছরের জন্য তারা একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার যোগ্যতা অর্জন করল। আর সামনের এ-সি-সি কোয়ালিফায়ারে জিতে ২০-২০ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ আছে এখনও।



যুদ্ধবিদ্ধস্ত এই দেশের কিছু রিফিউজির এই যাত্রা নিয়ে একটা ডকুমেন্টরি বানাচ্ছেন ইউরোপীয় তিন সাংবাদিক। তারা আফগান দলের সাথে সাথে আছেন পঞ্চম ডিভিশনের ম্যাচ থেকেই। তাদের ডকুমেন্টরীর ট্রেলার দেখতে পারেন, আমার খুব ভাল লেগেছে তাদের এই উদ্যোগ। বেশ কিছু মজার ঘটনা বলা হয় এই টিমের সম্পর্কে। দলের সকলেই খুব ধার্মিক হওয়ায় বাইরে কোথাও গিয়ে খাওয়া-দাওয়ার অসুবিধা। তাই টিমের এক ফাস্ট বোলার হস্তি গুল টিমকে রান্না করে খাওয়ানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। আরেক ক্রিকেটার বলেন যে তার ছোটবেলায় তারা একটা ফেলে যাওয়া হেলিকপ্টারকে ড্রেসিংরুম হিসাবে ব্যবহার করেই খেলতেন। টিমের সবথেকে প্রতিশ্রুতিমান ক্রিকেটার ফাস্ট বোলার হামিদ হাসান নিয়মিত ব্লগ লেখেন। পারলে তাকে একটু উৎসাহ দিয়ে তার ব্লগে কমেন্ট করতে পারেন। উনি কিন্তু সব কমেন্ট পড়ে দেখেন।

ট্রেলার - ১


ট্রেলার - ২


লম্বা ট্রেলার (৯ মিণিট)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28939562 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28939562 2009-04-18 09:40:45
বিডিআর-এর তৌহিদুল আলম সম্পর্কে
কিছু বিডিআর ও বহিরাগত ব্যক্তির যোগসাজেশে বাংলাদেশ আর্মির কিছু উচ্চপদস্থ অফিসারের হত্যার পর কয়েকদিন হয়ে গেল। অত্যন্ত ঘৃণ্য এই হত্যার পরে ক্রমেই বিভিন্ন নিউস মিডিয়া দাবী জানাচ্ছে যে বিডিআর আর ডিএডি তৌহিদুল আলম ছিলেন এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম হোতা। ডেইলি স্টারের ভাষ্যমতে - তিনি ৩০০০ বিডিআর জওয়ানের এই "বিদ্রোহে"র শুরুতে দরবার হলে উস্কানিমূলক কথাবার্তা শুরু করেন। পরে এই ব্যক্তিই সরকারের সাথে আলোচনায় বিদ্রোহীদের নেতৃত্ব দেন। আরো একই পত্রিকার আরো একটি খবরে জানা যাচ্ছে যে ইনি এখন পুলিশের হেপাজতে। মজার কথা হল, তার কাছ থেকে কি কি জানা গেছে তা নিয়ে কোনো বাংলাদেশের পত্রপত্রিকায় কোনো সংবাদ পেলাম না।

গত কয়েকদিন ধরে কিছু কাল্পনিক খবর পরিবেশন করে চলেছে বেশ কিছু ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম। খবরে অধিকাংশ সময়েই হলুদ সাংবাদিকতার ট্রেডমার্ক "গোপন সূত্র" বা "বিশ্বস্ত সূত্র" থেকে পাওয়া বিভিন্ন খবরে পাকিস্তান, আই-এস-আই সহ বাংলাদেশের উগ্রপন্থী কিছু সংগঠনকে দায়ী করা হয়।

আজকের আনন্দবাজারে তৌহিদ আলমকে নিয়ে অনেক কিছু বেরিয়েছে। সবথেকে ইন্টারেস্টিং হল - "পুলিশ জানতে পেরেছে, বিডিআরের মাঝারি স্তরের অফিসার তৌহিদ কিশোর বয়সেই জামাতে ইসলামির ছাত্র শাখা ‘ছাত্র শিবির’-এর সদস্য হয়। পরে এই সংগঠনের স্থানীয় স্তরের নেতাও হয়। নির্বাচনের সমেয়ও সে জামাতের হেয় কাজ করত।"

শুধু তাই নয়, এবার গোপন বা বিশ্বস্ত সূত্রের উল্লেখ না করে সরাসরি বাংলাদেশের এক ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে -
"বাণিজ্যমন্ত্রী কর্নেল (অব) ফারুখ আজ বলেছেন, বিদ্রোহ চলার সমেয় ও তা শেষ হওয়ার পরে তৌহিদের মোবাইলে বহু এসএমএস আসে। সেই সব এসএমএসের বক্তব্য এবং প্রেরকের পরিচয় সরকারের হাতে এসেছে। এই তথ্য থেকে বিদ্রোহে ইন্ধনদাতাদের পরিচয় অনেকটাই স্পষ্ট হেয়ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।"

ঘটনা হল, এইসব উদ্ধৃতিগুলো যদি আনন্দবাজারেই আসতে পারে তাহলে বাংলাদেশের মিডিয়াতে আসছে না কেন? তৌহিদ আলমকে ধরার পরে জেরায় কি কি জানা গেছে তা নিয়ে কোনো প্রতিবেদন নেই কেন? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28918873 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28918873 2009-03-02 08:52:02
বিপা নিয়ে আমার দু'পয়সা
দিনমজুরের ব্লগে বিপা নিয়ে অনেকটা পড়লাম। চুক্তির ভাষ্যও ডেইলি স্টারের কল্যাণে পড়লাম। আরো অনেকের ব্লগেই পড়লাম। সবাইকে ধন্যবাদ এই বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য।

বিভিন্ন লেখায় চুক্তিটার বিপক্ষে যে যে অভিযোগগুলো উঠে এসেছে সেগুলো এরকম -
১) চুক্তিতে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সমান সুযোগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে - এতে দেশীয় শিল্প মার খাবে।
২) শিল্প জাতীয়করণের প্রতিবন্ধকতা
৩) সন্ত্রাস বা যুদ্ধ-বিগ্রহের শিকার হলে তার ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা - এতে বিনিয়োগের ঝুঁকি বাংলাদেশ সরকারের ঘাড়ে চাপে।
৪) বিনিয়োগ তুলে নিয়ে যাবার স্বাধীনতা থাকায় দেশ থেকে হঠাৎ পুঁজি বেরিয়ে অর্থনৈতিক ডামাডোলের সৃষ্টি হতে পারে।

এর সাথে এ বিষয়ে অনেকগুলো উদাহরণও পড়েছি। তবে একটা উদাহরণ প্রদত্ত বিষয়ের সাথে মানায় না - সেটা ভারত সরকারের ডাভোলকে দেওয়া ক্ষতিপূরণের উদাহরণ, কারণ আমেরিকার সাথে ভারতের কোনো দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নেই।

আমি অভিযোগগুলো পড়ে প্রথমেই অন্যান্য দেশের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিগুলোর খোঁজ করলাম। জাতিসংঘ পরিচালিত একটি সংস্থার সাইটে বাংলাদেশের অনেকগুলো দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির বয়ান পাওয়া গেল। তার মধ্যে কয়েকটা পড়ে দেখলাম। চুক্তি নিয়ে একটা অভিযোগ হল বড় দেশের সাথে এরকম চুক্তি করে কোনো লাভ নেই, লোকসানই বেশী। তাই আমি আগে আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিটা পড়লাম। চুক্তিটা কোনোভাবেই ভারত-বাংলাদেশ চুক্তির থেকে আলাদা নয়। একই ছাঁচে ফেলে তৈরী উভয় চুক্তিই। আর উপরোক্ত অভিযোগগুলো আমেরিকার সাথে বিরুদ্ধেও খাটে। মজার কথা, এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ১৯৮৬ সালে আর তা কার্যকর হয়েছে ১৯৮৯ সালে। মানে, চুক্তিটা এখন ২০ বছর বলবৎ আছে, অথচ এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের প্রচুর ক্ষতি হচ্ছে - এমন কথা আমি কোথাও পেলাম না। একই ধরণের চুক্তি বাংলাদেশের সাথে কোরিয়া, ফ্রান্স, ব্রিটেন, ইরান, ফিলিপাইন্স, ইন্দোনেশিয়া সহ অন্তত ১৬টি দেশের সাথে আছে। অথচ তাতে দেশীয় শিল্প মারও খাচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছেনা, বাংলাদেশ ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে বলেও কথা উঠছেনা। ব্রিটেনের সাথে চুক্তিটা আরেকটু পুরোনো - ১৯৮০ সালের। তাতে প্রথম সমস্যাটা নেই, দেশীয় শিল্পকে বিদেশী শিল্পের সাথে সমগুরুত্ব দেবার কথা বলা নেই।

এরপরে আমি আরো কিছুটা খুঁজতে দেখি মোটামুটি সব দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিরই বয়ান একই রকম - সে ভারত-শ্রীলঙ্কাই হোক, বা পাকিস্তান-উজবেকিস্তানই হোক - মূল বিষয় এগুলোই। সাইটে খুঁজে দেখে নিতে পারেন কয়েকটা চুক্তির বয়ান। সাধারণত, দুপক্ষের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অনেক বেড়ে গেলে এ ধরণের চুক্তি করা হয়ে থাকে। আমার ধারণা, বাংলাদেশের সাথে পরবর্তী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি হবে চিনের।

তাহলে সমস্যাটা ঠিক কোথায়? আমেরিকার সাথে চুক্তির ফলে যদি দেশীয় শিল্প মার না খায়, সেই চুক্তি নিয়ে যদি ঝামেলা না হয়, তাহলে ভারতের সাথে চুক্তি হতে গেলেই সমস্যার তো কোনো কারণ আমি দেখি না। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28909600 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28909600 2009-02-11 13:15:14
মুম্বই হামলাকারীদের মধ্যে একজন বাংলাদেশী - পাকিস্তান
পাকিস্তানের ডন পত্রিকা অনুসারে, প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে দশজন হামলাকারীর মধ্যে অন্তত একজন বাংলাদেশী বা বাংলাদেশ বংশোদ্ভূত ব্যক্তি ছিলেন। রিপোর্টে এও বলা হয়েছে, হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল দুবাইতে এবং আল-কায়দা ও হুজির বাংলাদেশ সংগঠনও এর সাথে জড়িত। পাকিস্তানী, বাংলাদেশী ও ভারতীয় কিছু ব্যক্তি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই হামলার সাথে জড়িত।

রিপোর্টটি এখন জনসমক্ষে আসার অপেক্ষায় আছে। এ সপ্তাহেই এটি ভারতের হাতে তুলে দেবার কথা পাকিস্তান সরকারের। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে এর আগে ভারত দাবী জানিয়েছিল যে হামলাকারীরা সকলেই পাকিস্তানী ও ঘটনার পেছনে মূল পরিকল্পনাকারী পাকিস্তানী জঙ্গী গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈবা।

রিপোর্ট পড়ুন ডনটাইমস অব ইন্ডিয়া থেকে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28907028 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28907028 2009-02-05 12:30:45
ভারত বাংলাদেশ সমুদ্রসীমা বিতর্ক
যে অঞ্চলে ভারতীয় সার্ভেয়ার (কোনো যুদ্ধজাহাজ নেই বলেই জানি ) ও নৌবাহিনীর জাহাজগুলো আছে সেটাকে ওভারল্যাপিং ওয়াটার্স বলে। এর মানে হল, এই অঞ্চলের ওপর একাধিক রাষ্ট্রের দাবী আছে। বাংলাদেশ সাম্য (equity) নীতি মেনে নিজের সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করে, কারণ এছাড়া বাংলাদেশের জলসীমা আন্তর্জাতিক জলপথ অবধি পাওয়া যায় না। ভারত ও মায়ানমার সমদূরত্ব (equidistant) নীতি অনুসারে সমুদ্রসীমা আঁকে। এখন, কিছুটা অংশ আছে যা উভয়েরই দাবীতে পড়ে। এরকম ওভারল্যাপিং অংশের পরিমাণ মায়ানমারের সাথে অনেক বেশী, ভারতের সাথে অনেক কম। এসব সত্ত্বেও উভয় দেশই ওই অংশে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান কাজে উৎসাহী ও সংশ্লিষ্ট ব্লক নিলামে তুলেছে। এই হল ঘটনা। (একটা লিঙ্ক একটা সাক্ষাৎকার )

এখন বাংলাদেশ পক্ষের দাবী হল যতদিন পর্যন্ত সীমা নির্ধারণ করা হয় নি ততদিন ভারত ওই ওভারল্যাপিং অংশে অনুসন্ধান কাজ বন্ধ রাখুক। ভারতের দাবী হল, ওভারল্যাপিং হলে উভয় দেশই তাতে সার্ভের কাজ চালাতে পারে।

এরই মধ্যে সামনের বছর ভারত ও মায়ানমার জাতিসঙ্ঘে নিজেদের মত সমদূরত্ব নীতিতে আঁকা সমুদ্রসীমা পেশ করবে। বাংলাদেশকেও নিজের দাবী পেশ করতে হবে ২০১১ সালের মধ্যে , নাহলে কোনো আলাদা চুক্তির অনুপস্থিতিতে সমদূরত্ব নীতিতেই সীমা চিহ্নিত হবে। জাতিসঙ্ঘের সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত আইনের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে, কোনো আলাদা চুক্তির অনুপস্থিতিতে সমদূরত্ব আইনেই সীমা চিহ্নিতকরণ করা হয়। সেদিক থেকে ভারতের অবস্থানে আমার কোনো ভুল ধরা পড়ে না।

কদিন আগে ঝামেলার পরে বাংলাদেশের সাথে মায়ানমারের আলোচনা কোনো সমাধানসূত্র ছাড়াই শেষ হয় । মায়ানমার বাংলাদেশকে একটা করিডর (ছোটো অঞ্চল যেখান দিয়ে আন্তর্জাতিক জলপথ অবধি যাবার ব্যবস্থা থাকবে) দিতে সম্মত হলেও বাংলাদেশ তাতে রাজী হয়নি।

বাংলাদেশ সরকার যদি সমদূরত্বের পরিবর্তে সাম্য নীতিতে ভারত ও মায়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা নির্ধারণে উদ্যোগী হয়, তাহলে প্রথমেই উচিত আন্তর্জাতিক বিচারালয়ে ব্যাপারটা নিস্পত্তির জন্য আবেদন করা। কারণ, বাংলাদেশের সাথে মায়ানমার ও ভারত উভয়ের আলোচনাই ফলপ্রসূ হয়নি। আর, ২০১১ অবধি স্থিতাবস্থা চললে এমনিতেই সমদূরত্ব নীতিতে সমুদ্রসীমা চিহ্নিত হবে। তাই, বাংলাদেশের উচিত কোর্টে যাওয়া, কোর্টে এখন এরক্কম অসংখ্য মামলা চলছে , কোর্টে গেলে সবার মেনে নেবার মত কোনো সমাধানসূত্র পাওয়া যাওয়া উচিত।

আপডেট
বাংলাদেশের এক উচ্চপদস্থ সমুদ্র বিশেষজ্ঞের সাক্ষাতকার (লিঙ্ক কাজ করছে না বলে ক্যাশ থেকে নিলাম) থেকে কিছু অংশ তুলে দিলাম। সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে ২৮ নভেম্বর ২০০৮।

"সমুদ্র-সীমানা নির্ধারণে কারিগরি দক্ষতা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

আসলে পুরো ব্যাপারটিই কারিগরি। সুতরাং এখানে কারিগরি বিষয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনার দাবি রাখে যা নতুনভাবে বলার প্রয়োজন নেই। বস'ত এর জন্য আনক্লস-১, আনক্লস-২ ও আনক্লস-৩ সম্যকভাবে বুঝতে হবে। এর ফলে আমরা এক্ষেত্রে বিশেষায়িত হয়ে উঠব। নইলে প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র সীমানা নিয়ে আমরা আলোচনা তো দূরের কথা প্রাথমিক আলোচনাও করতে পারব না।"

"নিয়ম অনুযায়ী ২০১১ সালের মধ্যে সমুদ্র-আইন রিভিউ বা আপডেটেড করে তা জাতিসংঘে পেশ করতে হবে। আসলে আমরা কী আন্তর্জাতিক সমুদ্র-আইন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতিসংঘে পেশ করার যোগ্যতা অর্জন করেছি?

সমুদ্রসীমা নির্ধারণে উপকূলীয় এলাকায় চার্ট তৈরির জন্যে ১৯৯০ সালের দিকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বিদেশিরা ১০-১২ মিলিয়ন ডলার সাহায্য দিয়েছিল। ওই প্রকল্পে হাজার খানেক চার্টও প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন সম্পর্কে সম্যক ধারণার অভাব ও কারিগরি বিষয়ে অজ্ঞতার কারণে সেগুলো সমুদ্রসীমা নির্ধারণে কোনও কাজেই আসেনি। সমুদ্রসীমা নির্ধারণে কারিগরি দক্ষতার মিশেলে কোনও জরিপ করার প্রাথমিক কর্মকান্ডেও আমরা এখনও শুরু করতে পারিনি।"

"মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সামপ্রতিক উত্তেজনা কী সমুদ্র সীমানা নির্ধারণের বিষয়টি অমীমাংসিত রাখার অনিবার্যতা নয়? এবং প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গেও এ নিয়ে বিরোধের আশঙ্কা কতখানি?

খুর্শেদ আলম : হ্যাঁ, বিষয়টি অবশ্যই সমুদ্রসীমা নির্ধারণ অমীমাংসিত রাখার অনিবার্যতা। এ নিয়ে ভারতের সঙ্গেও আমাদের বিরোধ দেখা দিতে পারে। এ বিরোধের মীমাংসা তথা বঙ্গোপসাগরে আমাদের সমুদ্র অধিকার প্রতিষ্ঠা নির্ভর করছে এ বিষয়ে আমাদের কারিগরি দক্ষতা কত হালনাগাদ হলো তার ওপর।

আপডেট ২
ভারতীয় জাহাজগুলো সমীক্ষা শেষে জায়গা ছেড়ে চলে গেছে। (প্রথম আলো )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28888745 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28888745 2008-12-27 18:24:58
পারভেজ হুদভয়ের চোখে আজকের পাকিস্তান
নিচের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ক্রিশ্চিনা ওটেন, জার্মান ফোকাস পত্রিকার জন্য। এটা প্রকাশিত হয়েছে কাউন্টারকারেন্টসে, গত ১৫ই ডিসেম্বর।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক মুম্বই হামলার পরে ক্রমাগত খারাপ হয়েই চলেছে। যুদ্ধ লাগার সম্ভাবনা কতটা?

জনগণের দাবী সত্ত্বেও মনমোহন সরকার সীমান্ত পেরিয়ে কোনো আক্রমণ করেনি। দেশে অনেকের সমালোচনা সত্ত্বেও পাকিস্তান সরকার লস্কর-ই-তৈবার বিরুদ্ধে কিছু ব্যবস্থা নিচ্ছে। হয়ত এখন আর কিছু হবে না, তবে এখনকার মত কোনো সম্ভাবনা না থাকলেও আরো একবার একই রকমের হামলা হলে ব্যাপারটা যুদ্ধের আকার ধারণ করতেই পারে।

লস্কর-ই-তৈবার সাথে আর সন্ত্রাসী দলগুলোর তফাৎ কোথায়? পাকিস্তান কি সত্যিই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে?

আজ থেকে বছর পনের আগে আই-এস-আই আর আর্মির হাত ধরে কাশ্মীরে ভারতীয় সেনার বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম করার জন্য লস্করের গোড়াপত্তন। আজকের দিনে এরা খুব বিরল প্রজাতির সন্ত্রাসী দল যাদের পাকিস্তানী রাষ্ট্র বা সেনাবাহিনী সম্পর্কে কোনো অভিযোগ নেই, কিন্তু বাকি সকলেই এদের শত্রু হয়ে গেছে। এখন শুনছি পাকিস্তান কিছু লস্কর সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। সময়ই বলে দেবে এটা আন্তর্জাতিক চাপ কমানোর চেষ্টা না সত্যিকারের সন্ত্রাসদমন প্রচেষ্টা। যদি সত্যিকারের প্রচেষ্টা হয়ে থাকে, তাহলে কিছু সময়ের মধ্যেই আর্মি আর আই-এস-আই এর সাথে এদের শত্রুতা দেখা দেবে, যেমনটা হয়েছিল জৈশ-ই-মহম্মদের ক্ষেত্রে।

মুম্বাই গণহত্যা সম্পর্কে পাকিস্তানের জনগণের প্রতিক্রিয়া কি?

৯/১১ এর পরে যেমন আনন্দোৎসব দেখা গিয়েছিল, সে জায়গায় মুম্বই হামলার পরে পাকিস্তানি জনগণ প্রাথমিকভাবে ভারতের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল। কিন্তু ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলো যখনই পাকিস্তানকে দোষ দেওয়া শুরু করল, তখন প্রথমে ক্রোধ ও পরে অস্বীকারের রাস্তায় হাঁটতে থাকে সবাই। পাকিস্তানের মাটি থেকেই আক্রমণের ছক কষা হয়েছে – এ দাবী তারা মানতে নারাজ। জনপ্রিয় টিভি-নিউজ ব্যক্তিত্বরা সবাই টিভিতে এসে একের পর এক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব খাড়া করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বছর কয়েক আগে এই ব্যক্তিত্বরাই কান্দাহার বিমান ছিনতাই মামলায় র’-এর ছায়া দাঁড় করিয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দাঁড় করিয়েছিল, যার কোনোটাই ধোপে টেঁকেনি। পাকিস্তান যে কারগিলের ঘটনায় জড়িত, তা-ও এরা হেসে উড়িয়ে দিয়েছিল। সমঝোতা এক্সপ্রেসের বোমা হামলার উল্লেখ করে এখন তারা একে একে হিন্দু জঙ্গী গোষ্ঠী, আমেরিকা বা ইহুদীদের দোষারোপ করে।

পাকিস্তান অনেককাল ধরেই বলে আসছে যে ভারতের দিক থেকে হামলার আশঙ্কা করলে তারাই প্রথম নিউক্লিয়ার হামলা করবে। পাকিস্তানে সেরকম কোনো সম্ভাবনা দেখছেন আপনি?

মুম্বাই হামলার সপ্তাহখানেক আগে জারদারি আশ্বস্ত করেছেন যে পাকিস্তান কখনই প্রথমে নিউক্লিয়ার আক্রমণ করবে না। ভারতও বছর দশেক আগেই এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে জারদারির এই দাবী ভিত্তিহীন কারণ পাকিস্তান আর্মির পক্ষ থেকে এরকম কোনো বক্তব্য রাখা হয় নি। সবাই জানে, পাকিস্তানে আর্মির হাতেই নিউক্লিয়ার বোমা আছে। অনেকদিন ধরেই বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের সিমুলেশন করে সিদ্ধান্তে এসেছেন যে কোনোভাবে যুদ্ধ শুরু হলে নিউক্লিয়ার বোমাতে গিয়েই যুদ্ধ শেষ হবে।

সন্ত্রাসীরা আফগানিস্থান আর সেখানের পশ্চিমি সেনাদের ছেড়ে কেন ভারতকে লক্ষ্য হিসাবে বেছে নিল?

লস্করের মূল ঘাঁটি হল লাহোরের কাছে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে অবস্থিত মুর্দিকে শহরে। এই শহরে এদের আছে একটা বড় ট্রেনিং ক্যাম্প আর সমাজসেবক সংস্থা। লস্করের অধিকাংশ সদস্যই পাঞ্জাবী, তাই এরা আফগানিস্থানে লড়াই করার পক্ষে অনুপযুক্ত, কারণ এরা সহজে পাশতুন বা আফগানদের সাথে মিশে যেতে পারে না। লস্কর হল ভারতমুখী ও কাশ্মীরমুখী একটি সন্ত্রাসী দল। কিন্তু, পাকিস্তানের অন্যান্য জঙ্গীগোষ্ঠীদের মতই এরাও ভারত, আমেরিকা আর ইসরায়েলের মধ্যে বোঝাপড়া আছে বলে মনে করে। তাই, এরা সবাই এই দেশগুলোর শত্রু।

মুম্বই-সন্ত্রাসীদের হামলার দাবী কি ছিল?

সব জিম্মিদের হত্যা করা হয়েছে আর কোনো দাবী সরকারীভাবে প্রকাশিত হয় নি। লস্কর বা সমধর্মী পাকিস্তানি জঙ্গীগোষ্ঠীদের উদ্দেশ্য খুবই পরিষ্কার। এই ক্ষেত্রে, ভারতের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কেন্দ্রস্থল হিসাবে মুম্বইকে আক্রমণ করা হয়েছে, হয়ত ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বাধিয়ে দেওয়াও উদ্দেশ্য ছিল। ভারত-সীমান্তে পাকিস্তানী সেনা সরালে তাদের দলের তালিবানদের সুবিধা হবে। ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে হিন্দু দক্ষিণপন্থীদের হাত শক্ত করাও এদের লক্ষ্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, কারণ এর ফলে এদের দলে আরো নতুন মুখ পাওয়া সোজা হবে। সবেশেষে, অমুসলিমদের বিরুদ্ধে ক্ষোভের উদ্গিরণও ঘটেছে এই আক্রমণে।

পশ্চিমা সাংবাদিকেরা বলছেন আল-কায়দা আর লস্কর-ই-তৈবা এখন যৌথ কার্যক্রম চালাচ্ছে, এ বিষয়ে আপনার মত কি?

এদের উদ্দেশ্য একই রকম হলেও সামান্য কিছু মতাদর্শগত তফাৎ থাকতেই পারে। সন্ত্রাসীদের দুনিয়ায় সামান্য মতাদর্শের পার্থক্যই দুই দলের মিলিত কার্যক্রমের জন্য যথেষ্ট প্রতিবন্ধকতা হয়ে দেখা দিতে পারে। এখনও অবধি এদের যৌথ কার্যক্রমের কোনো পরিচয় পাওয়া যায় নি, তাই এই ধারণাকে আমি এখনও সন্দেহাতীত বলে মনে করি না।

এই সন্ত্রাসে কাশ্মীরের ভূমিকা কতটা?

কাশ্মীরে ১৯৮৭ থেকেই বিপ্লব চলছে। ১৯৮৭ সালের ভোটে ব্যাপক আকারে কারচুপির ফলে এক গণবিক্ষোভ সৃষ্টি হয় যা ভারত সেনা পাঠিয়ে বলপূর্বক দমন করে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এই সুযোগে এক গোপন যুদ্ধ শুরু করে ভারতের বিরুদ্ধে। ইউনাইটেড জিহাদ কাউন্সিল বলে এক ২২টি পাকিস্তানী সংগঠনের সমবায় সংস্থা সেনা ও আই-এস-আই-এর সহায়তায় তাদের কার্যকলাপ চালিয়ে যায়। এদের সহায়তায় জেনারেল মুশারফ ১৯৯৯ সালে কারগিলে যুদ্ধ শুরু করেন। এতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্ষতি হলেও পাকিস্তানও শেষমেষ সেনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। জেনারেল মুশারফ যুদ্ধে বিজয়ীর মর্যাদা পান, আর ভীরু বলে চিহ্ণিত হন নওয়াজ শরিফ। এর পরের ঘটনা সবারই জানা।

পাকিস্তানি সমাজের কোন অংশ আল কায়দা আর ওসামা বিন লাদেনকে সমর্থন করে?

বালুচিস্তান আর সিন্ধে ওসামার প্রতি সমর্থন পাঞ্জাব আর উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের তুলনায় অনেক কম। মজার কথা হল পাকিস্তানের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী নিজেরা পশ্চিম-ঘেঁষা জীবনযাপণ করেন আবার ওসামার প্রতি সমর্থন বা পশ্চিম-বিদ্বেষও তাদের মধ্যেই বেশী। আমি খুবই অবাক হই যখন তালিবান আত্মঘাতী ঘাতকেরা দেশের মসজিদ, শোকসভা, হাসপাতাল, মেয়েদের স্কুল আক্রমণ করে বা নিরীহ পুলিশদের মেরে ফেলে অথচ তাদের বিরুদ্ধে কিছু শোনা যায় না। জনগণ এতটাই আমেরিকা-বিরোধী যে এই ঘটনাগুলোও তাদের মনে দাগ কাটে না। অনেক সময় পাকিস্তানী বামপন্থীরাও তালিবানদের সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী শক্তি বলে ভুল ভেবে বসে।

এ বিষয়ে আপনার মতামত কি? এই তালিবানদের কি সত্যিই পাকিস্তান-সমাজে কিছু অবদান আছে?

পৃথিবীর সর্বত্র মানুষ যা চায় পাকিস্তানীদেরও তাই দাবী। খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান, চাকরি-বাকরি, উন্নত বিচারব্যবস্থা ও উন্নয়নমুখী সরকার আর সুরক্ষা। এর সাথে আছে শিক্ষা ও চিন্তা ও ধর্মাচরণের স্বাধীনতা যা ইউনিভার্সাল হিউম্যান রাইটস ডিক্লারেশনে আছে। এর পরে আসে দেশের সার্বভৌমত্ব, বিদেশনীতি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু। এ কারণে, পাকিস্তানে এই তালিবান-গোত্রীয়রা কোনো অবদান রেখেছে বলে মনে হয় না। তারা পরিবার-পরিকল্পনা-বিরোধী, সংখ্যালঘু-বিরোধী, নারীশিক্ষার বিরোধী। বহির্বিশ্ব সম্পর্কে এদের কোনো জ্ঞান নেই, জানার কোনো ইচ্ছাও নেই। তারা শুধু যুদ্ধের মাধ্যমেই সমাধান খোঁজে। পাকিস্তানে এবারের ভোটে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে জনগণ এদের পছন্দ করে না।

২০০২ এর জানুয়ারীতে পারভেজ মুশারফ ঘোষণা করেছিলেন যে পাকিস্তানের জমি ব্যবহার করে কেউ সীমানা পেরিয়ে আক্রমণ চালাতে পারবে না। সেই প্রতিশ্রুতি কি রাখা হয়েছিল?

এই ঘোষণার পরে সত্যিই সীমানা পেরিয়ে আক্রমণ অনেকটা কমে গিয়েছিল, কিন্তু কোনোভাবেই নির্মূল হয়ে যায় নি। অক্টোবরের ভূমিকম্পের পরে আমি নিজে ত্রাণের কাজে আজাদ কাশ্মীরের বিভিন্ন অংশে ঘুরে এসেছি। দেখেছি – লস্কর-ই-তৈবা, জৈশ-ই-মুহম্মদ বা সিপাহী-ই-সাহেবা আর অন্যান্য নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন ত্রাণ বিলি করছে। এদের ত্রাণ বিতরণের পরিকল্পনা পাকিস্তান সরকার বা আর্মির চেয়ে অনেকগুণ উন্নত – এমনকি আহত সেনাদেরও এরা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। অথচ, পারভেজ মুশারফকে কয়েক মাস পরে এ কথা বলাতে দেখলাম উনি রেগে যাচ্ছেন, যেন এই দলগুলো নিয়ে আলোচনাও নিষিদ্ধ।

পাকিস্তানে কিছু গোষ্ঠী আছে যারা আমেরিকা-বিরোধী ও কড়া ধর্মীয় আইন প্রবর্তন করার পক্ষে, আর উল্টোদিকে দেশের সরকার আমেরিকার বন্ধুদেশ বলে নিজেদের দাবী জানায়। এই মেরুকরণের কারণ কি? পাকিস্তানে উগ্রবাদের উত্থানে এই মেরুকরণের ভূমিকা কতটা?

পাকিস্তানে মৌলবাদী শক্তির উত্থানের মূলে আছেন আমেরিকা ও রোনাল্ড রেগানের সমর্থিত পাকিস্তানী জেনারেল জিয়া উল হক। আজ থেকে বছর পঁচিশেক আগে, এই দুই নেতা হাত মিলিয়ে আফগানিস্তানে সোভিয়েতদের তাড়ানোর জন্য দেশে উগ্রবাদী শক্তির বীজ বপন করেন। সেই সময়ে মৌলবাদের প্রসারে আমেরিকা খুশীই হত, কারণ সেই প্রসার তাদের লক্ষ্যপূরণের মাধ্যম হিসাবে কাজ করত। সেই একই সময়ে, জেনারেল জিয়ার আমলে সারা দেশে একটা সামাজিক পরিবর্তন দেখা দেয়। সব সরকারি অফিসে নামাজ পড়া বাধ্যতামূলক করা হল, জনসমক্ষে অপরাধীদের বেত্রাঘাত করা শুরু হল, রমজানে উপোস না করলে শাস্তির ব্যবস্থা করা হল, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের সময় ইসলাম সম্পর্কিত জ্ঞানেরও পরীক্ষা নেওয়া শুরু হল এবং সব মুসলিমদের জন্য জিহাদ বাধ্যতামূলক করা হল। কিন্তু আজকে সেই উগ্রবাদীদের সাথেই সরকারের লড়াইতে যেতে হয়েছে, আবার সেই আমেরিকারই নির্দেশে। দেশের আর্মি ও সরকার আমেরিকার সাথে থাকলেও তাই জনগণ স্বাভাবিকভাবেই আমেরিকা বিরোধী।

প্রেসিডেন্ট জারদারি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে উনি উগ্রবাদীদের খুঁজে তাদের ট্রেনিং ক্যাম্প ধ্বংস করবেন। কিন্তু কাজে সেরকম কোনো লক্ষণ দেখছি না। উনি কি এর চেয়ে বেশী কিছু করতে চান না? নাকি এর থেকে বেশী কিছু করার ক্ষমতাই ওনার নেই?

আসল ক্ষমতা পাকিস্তানের আর্মির হাতে। এই উগ্রবাদীদের সাথে লড়াইতে দু’হাজার সেনা মারা পড়েছে। তাও আর্মি ভেতর থেকে নিশ্চিত নয় যে এই উগ্রবাদীরা পাকিস্তান দেশটাকে বাঁচিয়ে রাখার পরিপন্থী। আমি এদের এই দ্বিধার কারণ বুঝি। বছরের পর বছর ধরে আর্মিতে এই বুঝিয়ে লোক নেওয়া হয়েছে যে তারা ভারতের সাথে যুদ্ধ করবে ও ইসলামকে রক্ষা করবে। কার্যত, এখন তারা লড়াই করছে এমন এক দলের সাথে যারা ইসলামের আরো বড় রক্ষক। শুধু তাই নয়, আর্মিকে এখন ভারতের সাথে যুদ্ধও করতে হচ্ছে না। এই ধোঁয়াশা থেকেই তাদের ডিমরালাইজেশন আর তার সাথে যোগ হয়েছে গণসমর্থনের অভাব। উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে পাকিস্তানী সেনাদের অনেকেই তাই যুদ্ধের আগেই আত্মসমর্পণ করে দিচ্ছে।

সরকারের উগ্রবাদ-বিরোধী যুদ্ধ কি আপনি সমর্থন করেন?

জীবনে এই প্রথমবারের মত আমি মনে করি আর্মিকে সমর্থন করা দরকার, যতক্ষণ তারা নিরীহ লোকদের ছেড়ে শুধু উগ্রবাদীদের খুঁজে মারতে পারবে। দুঃখের বিষয়, নিজেদের কাজ কমানোর জন্য আর্মি এখন কোনো গ্রামে কিছু উগ্রবাদী আছে বলে সন্দেহ করলেই গোটা গ্রামশুদ্ধু উড়িয়ে দিচ্ছে। এরকম নিরীহ মানুষ হত্যা করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

পাকিস্তান একসময় তালিবানদের অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছে। আল-কায়দার সদস্যদের ধরে দেবার জন্য সদস্যপিছু পাকিস্তানকে সি-আই-এ টাকা দেয়। সেই টাকা নাকি পাকিস্তান উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে তালিবানদের সাহায্য করার জন্য ব্যবহার করে?

আর্মি তালিবানদের হাতে পর্যুদস্ত হলেও তারা এখনও “ভাল” আর “খারাপ” তালিবানদের মধ্যে তফাৎ করে। “ভাল” তালিবানেরা শুধু আমেরিকা, ন্যাটো ও ভারতীয়দের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়, আর “খারাপ” তালিবানেরা পাকিস্তানের আর্মির বিরুদ্ধেও আক্রমণ চালিয়ে যায়। যখন আমেরিকানরা আফগানিস্তান থেকে চলে যাবে, এই “ভাল” তালিবানেরা তখন আফগানিস্তানের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্কে সাহায্য করবে। জালালুদ্দিন হাক্কানি এরকমই এক “ভাল” তালিবান নেতা। আবার মৌলানা ফজলুল্লাহের মত নেতা হলেন “খারাপ” তালিবান কারণ এরা পাকিস্তান আর্মিকেও ছেড়ে কথা বলেন না। আর্মি সাধারণত এদের “ভারতের চর” আখ্যা দিয়ে প্রচার চালায়।

পাকিস্তান নিউক্লিয়ার স্টেট। এই নিউক্লিয়ার বোমা তালিবান বা আল কায়দার হাতে চলে যাবার সম্ভাবনা কতটা?

আমি বেশী চিন্তিত এই ভেবে যদি কোনোভাবে কিছু নিউক্লিয়ার বোমা তৈরীর অন্তর্বর্তী পদার্থ (সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম) তাদের হাতে চলে যায়। মজার কথা পশ্চিমের দেশগুলো আজকাল নিউক্লিয়ার অস্ত্র তৈরীতে ততটা মনযোগী নয়। নিউক্লিয়ার বোমা আজ আর ক্ষমতার মেরুকরণ করে না, কারণ সুস্থচিন্তার কোনো রাষ্ট্র কখনই এই বোমা ব্যবহার করতে পারবে না। এর ফলে আজকে নিউক্লিয়ার বোমা পৃথিবীর সব প্রান্ত থেকেই সম্পূর্ণ দূর করা সম্ভব। জঙ্গীদের হাত থেকে বোমা বাঁচানোর এই একটা পথই খোলা আছে।

আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষার্থে ভারত কি করতে পারে?

ভারতের কোনোমতেই পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধে যাওয়া উচিত নয়। এমনকি যদি ভারত জেতেও, তাহলেও তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিশাল হবে। কোনো ছোটো হামলাও আঞ্চলিক স্বার্থবিরোধী হবে, কারণ এর ফলে জঙ্গীদের সাথে আর্মির আঁতাত আবারও মজবুত হবে। আর কোনো ছোটো হামলার প্রতিক্রিয়া অনেক বড় হয়ে দেখা দিতে পারে। পাকিস্তানে জঙ্গীঘাঁটি বন্ধ করে দেবার দাবী আমি সমর্থন জানাই, কিন্তু সেই কাজটা পাকিস্তানের নিজেরই করা উচিত। আঞ্চলিক ভারসাম্যের জন্য, পাকিস্তান ও ভারত, উভয় দেশেরই উচিত নিজের নিজের দেশ থেকে দক্ষিণপন্থী ও মৌলবাদী শক্তিকে কড়া হাতে উচ্ছেদ করা।

এই লড়াই-এর অন্তিম ফলাফল সম্পর্কে আপনার ভবিষ্যৎবাণী কি? পাকিস্তানে উগ্রবাদীরাই জিতবেন, না পশ্চিমারাই আর্মির সাহায্যে তাদের পরাজিত করতে সক্ষম হবেন?

সমস্যা খুবই গুরুতর কিন্তু সমাধান অসম্ভব কিছু নয়। গত এক দশকে আমেরিকার সাম্রাজবাদী নীতি ও ইরাক আক্রমণের ফলে জনমানসে আমেরিকা বিরোধী এক মনোভাব তৈরী হয়েছে যার ফলে যারাই আমেরিকার বিরোধিতা করছে তাদেরই তারা সমর্থন করতে পিছপা হচ্ছে না। পাকিস্তানীরা তালিবানদের সামাজিক ও আচার-আচরণগত নীতি সমর্থন করে না। অথচ তারা আমেরিকা-বিরোধী বলে গণসমর্থন পায়। আমি আশা রাখছি বারাক ওবামা ক্ষমতায় এলে আমেরিকা পাকিস্তানের যে ক্ষতি করেছে তার কিছু ক্ষতিপূরণ করবে। কিন্তু মূল কথা হল, পাকিস্তানীদের নিজেদেরই এই সমস্যা সমাধান করতে হবে, বুঝতে হবে কোনো সভ্য দেশ হিসাবে দাঁড়াতে গেলে এসব চলে না। পাকিস্তানকে পশ্চিমা সমর্থন কিছুটা গোপন রাখতে হবে হয়ত। একই ভাবে, পাকিস্তানকে আলাদা করে শাস্তি দিলে বা কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে তালিবান বা সমগোত্রীয়রা রাষ্ট্রের আরো বেশী ক্ষমতা দখল করে ফেলবে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এর চেয়ে বড় কোনো দুশ্চিন্তার কারণ নেই।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28887098 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28887098 2008-12-24 04:34:00
মুম্বই সন্ত্রাসের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ
আজকে ভারতে ভোটগণনার চলছে। চারটি উত্তর-ভারতীয় রাজ্যে ভোট ছিল। এই রাজ্যগুলোতে বিজেপির যথেষ্ট শক্ত ঘাঁটি বলে মানা হত। মুম্বই ঘটনার পরে অনেকেই মনে করেছিলেন এই ভোটে বিজেপি খুব সহজেই জয়লাভ করবে। উলটে দেখা গেল, চারটের মধ্যে দুটোতে কংগ্রেস জিতছে, আর একটাতে উভয়পক্ষই খুব কাছাকাছি। আরো মজার কথা হল, যে দুটো রাজ্যে কংগ্রেস জিতছে, উভয় রাজ্যেই ভোট হয়েছে মুম্বই ঘটনার পরে (রাজস্থানে ২৬-২৭ তারিখ আর দিল্লীতে ২৯ তারিখ)। সিএনএন-আইবিএন এর সমীক্ষায় প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুসারে দুই রাজ্যে এই ঘটনা প্রভাব ফেলেছে ১ শতাংশেরও কম ভোটে। রাজস্থানে মূলত মেয়েদের ভোটে বিজেপি পরাস্ত হয়েছে, কারণ মেয়েরা হয়ত ধর্মবাদী দলকে পছন্দ করে নি। উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের ভোটও কংগ্রেসের পক্ষে গিয়েছে।

অন্যদিকে, মুম্বই হামলায় ধরা পড়া একমাত্র সন্ত্রাসী আজমল কাসব জেরার মুখে জানিয়েছিল যে সে পাকিস্তানের পাঞ্জাবের ফরিদকোটের বাসিন্দা। তার বক্তব্য প্রকাশ হবার পরেই সাংবাদিকেরা এই গ্রামে গিয়ে ভিড় করতে থাকেন এবং ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হন। বিবিসি উর্দুর সাংবাদিক আলি সলমন রিপোর্ট করেন যে আজমলের পরিবারকে কিছু নিরাপত্তা রক্ষীরা ধরে নিয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, গ্রামে নিরাপত্তা বেষ্টনীও জোরদার করা হয়েছে। ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য অবসার্ভারের রিপোর্টার সাঈদ খান আরো এক গ্রামবাসীর সাথে কথা বলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই গ্রামবাসী জানান -
"মুম্বই হামলার ঘটনা টিভিতে প্রথম দিন থেকেই আমরা দেখেছি। টিভিতে দেখেই আজমলকে চিনতে পেরেছিলাম। ওর মা তো টিভিতে ছেলের ছবি দেখার পর থেকেই হাউহাউ করে কাদছিলেন।"
আরও একজন বলেছেন -
"ফরিদকোট থেকে ছেলেদের লস্কর-ই-তইবায় নিয়োগ করা হত। জেহাদের জন্য এই গ্রামেই ছোট ছোট ছেলেদের মগজধোলাই করে লস্কররা। ফরিদকোটের খুব কাছেই দিপালপুরে তো শ’য়ে শ’য়ে সমর্থক রয়েছে লস্করের। লস্কর-প্রধান হাফিদ সইদ নিজেও এসেছিলেন তাদের সঙ্গে কথা বলতে।"
শুধু তাই নয়, সাঈদ খান আরো অনুসন্ধান করে আজ বলেছেন, ফরিদকোট গ্রামে ৪৭৮ জন স্বীকৃত ভোটার রয়েছেন। তাতে নাম রয়েছে কাসবের বাবা-মার। এবং সরকারি তথ্যে আজমল আমির-নুরের ছেলে। কাসবের বাবা-মায়ের ভোটার আইডিও তিনি জোগাড় করেছেন।

সাঈদ খানের রিপোর্ট প্রকাশ হবার পর থেকেই স্থানীয় নেতারা গ্রামের লোকজনকে বাইরের কারও সাথে কথা না বলতে নির্দেশ দেন। এর পরে দলে দলে সাংবাদিক গ্রামে গিয়ে ভিড় করা শুরু করায় তাদের মারধোর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

খবরের লিঙ্ক -
১) দ্য অবসার্ভার
২) বিবিসি উর্দুর রিপোর্ট - আসল লিঙ্ক
৩) দ্য হিন্দুর রিপোর্ট
৪) আনন্দবাজার ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28880078 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28880078 2008-12-08 14:31:26
নাস্তিকতার বিরুদ্ধে কিছু মিথ লেখা খুব ভাল লাগল। অনেকেই নাস্তিকতাকে দেশের ও সমাজের পক্ষে সর্বনাশা বলে মনে করেন। তার অনেকগুলো কারণও তারা দর্শান। তবে যেহেতু আমাদের সমাজে সামগ্রিকভাবে ধার্মিক লোকের প্রাধান্য সেহেতু এই যুক্তিগুলো খন্ডানোর মত লোকজনের যথেষ্ট অভাব বলে মনে করি। যার ফলে, নিত্যনতুন অভিযোগ শোনা যায় নাস্তিকদের বিরুদ্ধে। এই নাস্তিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর অধিকাংশই এরকম - অমুকে নাস্তিক ছিল সে এই ওই করেছে, সুতরাং নাস্তিকেরা খারাপ। কিন্তু আরো দশজন নাস্তিক যদি উপকার করে থাকেন তাহলেও সে নিয়ে কোনো বিশেষ উচ্চবাচ্য নেই।

কিছুদিন আগেও এক ধর্মব্যবসায়ীর ভিডিওতে দেখলাম যে তিনি বলছেন নাস্তিকদের কোনো জীবনদর্শন থাকে না। যে জীবনদর্শন মানুষ ধর্মগ্রন্থ পাঠ করে আয়ত্ত করে, বা যে আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা ধার্মিকেরা অর্জন করে থাকে - নাস্তিকেরা তাকে অপছন্দ করে। কিন্তু আমার বক্তব্য হল নাস্তিকেরাই প্রকৃত জীবন-দর্শন অর্জন করে থাকে। আস্তিকদের জীবন তো পরকালের জন্য প্রস্তুতি-মাত্র। তাহলে সে জীবনে মানে কি? যদি জীবন-দর্শনের মানে এই হয় যে নিজেকে পরলোকে ভাল অবস্থানের বা স্বর্গলাভের জন্য প্রস্তুত করা - তবে তাকে জীবন-দর্শন না বলে তো পরলোক দর্শনই বলা ভাল - তাই না? আর আধ্যাত্মিকতার সাথে ঈশ্বরে বিশ্বাস করার কোনো সম্পর্ক নেই। বুকভরা ভালবাসা, চমকে ওঠার আনন্দ, বিষাদভরা কান্না -এইসব আবেগও নাস্তিকদের আর দশটা মানুষের মতই থেকে থাকে। শুধু নাস্তিকেরা কোনো কাল্পনিক বা পূর্বপরিকল্পিত সর্বশক্তিমানের সাহায্য নেয় না সেই অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যার জন্য। তারা তাকে বাস্তবের সীমার মধ্যে রেখে পর্যবেক্ষণলব্ধ সূত্র থেকে ব্যাখ্যার চেষ্টা করে। এটাই পার্থক্য। তাই অভিজ্ঞতায় কোনো ভেদাভেদ নেই, বিভেদ শুধু আছে ব্যাখ্যায়।

মানুষের বোধশক্তির বাইরেও যে কিছু আছে - তা নিয়েও নাস্তিক আস্তিক বিবাদ দেখি। অনেক সময়েই আস্তিক ঈশ্বর-পন্থীরা দাবী জানান যে যেহেতু আমরা অমুক-তমুক জানি না, তাই আমাদের প্রচলিত ধারণা মেনে চলতেই হবে যতদিন না ওগুলো আবিষ্কার হয়। বকলমে বক্তব্য হল ঈশ্বরের অস্ত্বিত্ত্ব ভুল প্রমাণ করার দায়িত্ব নাস্তিকদেরই। সেখানে নাস্তিকদের অবস্থান অনেক সহজবোধ্য - তারা যেটা জানেননা - সেটাকে জানিনা বলতেই অভ্যস্ত। পরীক্ষার দ্বারা যা প্রতিষ্ঠিত হয় না, তারা তাকে মেনে নেন না। অন্যভাবে বললে - যেকোনো বিষয়ে নাস্তিকদের তিনরকম অবস্থান সম্ভব - ঠিক, ভুল ও জানিনা। কিন্তু আস্তিকদের ক্ষেত্রে - ঠিক আর ভুল। কারণ তাদের ঠিক-ভুলের গন্ডীটা কেটে দিয়ে যায় ধর্ম।

আমার আত্মীয়স্বজনের অনেকেই বলেন নাস্তিকেরা ধর্মকে ও তার অবদানকে তুচ্ছজ্ঞান করে। এটা আরো একটা ভুল ধারণা। ধর্মকে তুচ্ছজ্ঞান করা আর ঈশ্বরকে অবিশ্বাস করা একই ব্যাপার নয়। এটা সত্যি যে কোনো একটা বিশেষ ধর্মের সমস্ত কিছু নাস্তিকেরা মেনে চলে না, বরং নিজস্ব বিবেক বা চিন্তাই তাদের পরিচালিত করে। কিন্তু আমাদের সমাজে অনেক ভালো কাজের পেছনে যে ধর্মের বড় ভূমিকা আছে তাকে অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই। আবার উল্টোদিকে ধার্মিকেরা তাদের ধর্মের প্রতিটি পঙতিকে সঠিক ও নির্ভুল বলে দাবী জানিয়ে প্রতিনিয়ত নতুন ব্যাখ্যা এনে তার সত্যতা প্রতিষ্ঠার যে ব্যর্থ প্রচেষ্টা করে - নাস্তিকেরা তা থেকে বিরত থাকে।

প্রচলিত আরেকটি ভুল ধারণা হল নাস্তিকতার সাথে বিজ্ঞানের কোনো সম্পর্ক নেই। কথাটা আক্ষরিক অর্থে সত্যি হলেও বাস্তবে এর ব্যতিক্রম খুব কমই দেখা যায়। আমেরিকা ও ব্রিটেন - এই দুটি দেশই বর্তমানের আধুনিক বিজ্ঞানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সবথেকে বেশী সাহায্য করছে। আমেরিকার ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সের মধ্যে ভোটে ৯৩%-ই দাবী জানিয়েছেন যে তারা নাস্তিক। যেখানে আমেরিকার জনসংখ্যার ৯০%ই আস্তিক। তাহলে, বিজ্ঞানী হওয়ার সাথে নাস্তিকতাবাদের সম্পর্ক খুবই গভীর – নব্বই শতাংশ আস্তিকের জনতা থেকে বিজ্ঞানীদের মধ্যে উলটো নব্বই শতাংশ নাস্তিক হওয়া এই দৃঢ় সম্পর্কেরই পরিসংখ্যান।

আমি ব্লগে সাধারণভাবে দেখে এসেছি অনেক ধার্মিকই নাস্তিক বলতেই হিটলার, স্ট্যালিন, মাও আর পল পটের মত দাম্ভিক ডিক্টেটরের কথাই বলে থাকেন। এখানে একটা ব্যাপার বলে রাখা ভাল, ব্যক্তির ব্যাপারে পরিসংখ্যান কখোনো সামগ্রিক পরিসংখ্যানের জায়গা নিতে পারে না। দক্ষিণ এশিয়ায় মহিলা রাষ্ট্রপ্রধানের সংখ্যা বিশ্বের অন্য জায়গার থেকে বেশী বলে দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েরা অন্য জায়গার থেকে বেশী অগ্রসর - এটাও যেমন ভুল ধারণা, তেমনই কয়েকজন বিচ্ছিন্ন নাস্তিক ডিক্টেটরের আচরণ থেকে বাকি নাস্তিক বিজ্ঞানীদের মাপা যায় না। নিজ দেশ বা জাতির শ্রেষ্ঠত্বে অন্ধ অনেক ডিক্টেটর যেমন অন্য দেশ বা জাতির ওপর অত্যাচার চালিয়েছেন তেমনই নিজ ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর অত্যাচারের নমুনাও ইতিহাসে কম কিছু নেই। তাই আলাদা করে নাস্তিকদের এ জন্য দায়ী করার কোনো কারণ দেখি না।

সবশেষে আসা যায় বিবেকের কথায়। এটা খুব প্রচলিত যে নাস্তিকেরা বিবেকদংশনে জর্জরিত হন না। কারণ নাস্তিকদের কাছে তাদের নৈতিকতার জন্য কোনো ভিত্তি নেই - আস্তিকদের কাছে ধর্মগ্রন্থ যেমন। এমন ভাব যেন - খুন, জখম বা ডাকাতির অভিযোগে যারা অভিযুক্ত হয় তারা অধিকাংশই নাস্তিক। বাস্তবে, যে নাস্তিকেরা কোনো বইকে ধর্মগ্রন্থ স্বরূপ গণ্য করে নিজ মত প্রতিষ্ঠা করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, তারাই বরং অনৈতিক কাজ করে এসেছে। আস্তিকদের দাবীমত যদি ধর্মগ্রন্থই তাদের নৈতিকতার ভিত্তি হয় - তাহলে সময়ে সময়ে ধর্মগ্রন্থের ব্যাখ্যা পরিবর্তিত হয় কেন? কেনই বা সমস্ত ধর্মপরিচালিত সমাজেও দাসপ্রথা, জাতিভেদ আর লিঙ্গবৈষম্য জায়গা করে নেয়? নাস্তিকদের নৈতিকতার ভিত্তি মানুষের স্বতস্ফূর্ত বিবেক, যে পরিবেশে বড় হয় তার শিক্ষা আর জাতিগত চেতনা। তাই একই ধর্মের বিভিন্ন রূপ দেখা যায় বিভিন্ন অঞ্চলে। আমার নৈতিকতার একটা বড় ভিত্তি আছে আমাদের জিনে - তাই বিচ্ছন্নভাবে বা একাকী বেড়ে ওঠা মানুষও অনৈতিক না হতেই পারে - যতটা একজন তথাকথিত নৈতিক বা ধার্মিক মানুষ হতে পারে।

সামগ্রিকভাবে দেখলে ভাল আর খারাপ এই দুটো বিশেষণ নাস্তিক আর আস্তিকতার সাথে জুড়ে দেওয়াটা ঠিক নয়। ধর্মের অন্ধ সমর্থকেরা নিজের ধর্ম আর বিশ্বাস বাঁচিয়ে রাখতে সদা-সচেষ্ট বলে তারাই এই ভাল-খারাপ ধার্মিকতা দিয়ে বিচার করার স্কেলটা আবিষ্কার করেছেন। নাস্তিকেরা বেশী প্রশ্ন করে বলে দুর্নাম আছে। আমি নাহয় কয়েকটা প্রশ্নের উত্তরই দেবার চেষ্টা করলাম। আমার ব্যক্তিগত মতামতে মানুষকে বিচার করতে গেলে তার মানবিক গুণাবলীর দিকে তাকানোই ভাল - বিশ্বাস নিজস্ব। নাস্তিকদের ঈশ্বর-অবিশ্বাস যদি নতুন নতুন বিজ্ঞানের তত্ত্ব উদ্ভাবনে সাহায্য করে তাহলে ঈশ্বর অবিশ্বাস করে ক্ষতিটা কি হয়?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28773065 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28773065 2008-02-22 16:59:03
পাকিস্তানের ভোটের ফলাফল ১) পি-পি-পি (ভুট্টোর পার্টি) - ৮৬
২) পি-এম-এল (এন) (নওয়াজ শরিফ) - ৬৪
৩) পি-এম-এল (কিউ) (মুশারফ-পন্থী) - ৩৬
৪) এম-কিউ-এম (সিন্ধের মোহাজিরদের পার্টি) - ১৯
৫) এ-এন-পি (সেক্যুলার পাশতুন পার্টি) - ১০
৬) নিরপেক্ষ - ২৭

মোট সিট ২৭২টি, তার মধ্যে ভোট গ্রহণ হবে ২৬৯টিতে। ১৮১ টির ভোট গণনা চলছে। সবগুলোতে গণনা শুরু হয় নি এখনো।

মোটামুটি একটা ব্যাপার পরিষ্কার, মুশারফের পক্ষে জনসর্থন নেই। এবার মুশারফ নিজের এর কি প্রতিক্রিয়া দেখান সেটাই এখন দেখার বিষয়। তাছাড়া, দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে শরিফ আর ভুট্টো মিলে মুশারফকে ইমপিচ করার কথাও ভাবতে পারে। আমেরিকা আর অন্যান্য পশ্চিমা দেশদের প্রতিক্রিয়াও দেখার বস্তু। তবে যেভাবে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়েছে, তাতে মনে হয় দেশটা এবার শান্তির পথে এগোবে।
সূত্র - বিবিসি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28772046 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28772046 2008-02-19 17:59:45
সুস্বাগতম কসোভো!! কসোভো !! নতুন আরেকটি দেশ পথচলা শুরু করল গতকাল। সংবাদটা পাবার পর থেকে বেশ ভাল লাগল, অবশেষে কিছু একটা পজিটিভ বেরিয়ে এলো মীমাংসা হিসাবে। অনেকদিন ধরেই আমি নজর রেখে চলেছি এই ছোট্ট ভূখন্ডের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ওপর। যুগোশ্লাভিয়ার স্বৈরাচারী শাসক, তারপরে আলবেনিয়ানদের বিতাড়িত করা, শেষে ন্যাটো আর কসোভো লিবারেশন আর্মির হাত ধরে উলটো কসোভোর সার্বদের ওপর প্রতি-আক্রমণ এবং সব শেষে প্রেসেডিন্ট নির্বাচন ও স্বাধীনতা ঘোষণা।

২০০৬ থেকেই বিভিন্ন টানাপোড়েন চলছিল কসোভোর স্বাধীনতা নিয়ে। জাতিসংঘ কিছুতেই মীমাংসায় পৌঁছতে পারছিল না চিন ও রাশিয়ার বিরোধিতার কারণে। এর মাঝেই ফেব্রুয়ারিতে হল প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ডেমোক্রাটিক পার্টির হয়ে ভোটে জিতলেন লিবারেশন আর্মির পুরোনো কম্যান্ডার হাসিম থাচি। উল্টোদিকে চাপ আসছিল সার্বিয়া থেকেও। তারাও স্বাধীন কসোভোকে কোনোভাবেই মেনে নেবেনা বলে দাবী জানিয়েছিল অনেকদিন ধরেই।

এরকম জটিল প্রেক্ষাপটে গতকাল ঘোষণা হয়েই গেল কসোভোর স্বাধীনতা। কিন্তু সাথে সাথেই টানাপোড়েন শুরু হয়ে গেল আন্তর্জাতিক মহলে - কে কে কসোভোকে স্বীকৃতি দেবে আর কে কে দেবে না - তা নিয়ে। মূলত আমেরিকা, ব্রিটেন আর ফ্রান্স স্বীকৃতি দিতে রাজি, আর অরাজী চিন ও রাশিয়া। এ ছাড়া যারা স্বীকৃতি দিতে পারে তাদের মধ্যে আছে সৌদি, পাকিস্তান, ইটালী, জাপান, আলবেনিয়া, জার্মানী, টার্কি ও সুইজারল্যান্ড। আর দেবে না বলে মনে করা হচ্ছে বসনিয়া, সাইপ্রাস, গ্রিস, রোমানিয়া, চেক রিপাবলিক, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, স্পেন, শ্রীলঙ্কা, জর্জিয়া ইত্যাদি অধিকাংশ দেশ। ভারত সরকারও ধীরে চল নীতি অবলম্বন করছে। শ্রীলঙ্কার বিরোধিতার কারণ উত্তরাংশে অবস্থিত তামিল ভুখণ্ড - যা একই ভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করতে পারে ভবিষ্যতে।

সার্বিয়ার প্রস্তাবিত পতাকাটা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পতাকার সাথে মেলে - ম্যাপ আঁকা আছে পতাকায়।

কসোভোতে সংখ্যালঘু সার্বদের কি হবে সে নিয়ে অবশ্য সবারই মাথাব্যাথা চলছে। আসলে সারা যুগোস্লাভিয়াতেই বিভিন্ন জাতির লোকজনে পকেট-টেরিটরিতে বসবাস করে - অনেকটা স্বাধীনতা পূর্ববর্তী ভারতীয় উপমহাদেশের মত। তাদের মধ্যে জাতিগত দাঙ্গার ঘটনাও কম নয়। তাই এরকম একটা পার্টিশনের ফলে উদ্বাস্তুর সংখ্যা বাড়বে ছাড়া কমবে বলে মনে হয় না। অনেক সার্বরা আগেই উতখাত হয়েছে বসনিয়া আর ক্রোয়েশিয়া থেকে, এবার বাকিরা ফিরবে কসোভো থেকেও। তবে কোনো অবস্থাতেই স্বাধীন কসোভো থেকে ফিরে যাওয়া আর সম্ভব নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সার্বরা এবার আবার ঘরে ফেরার জন্য বাক্স গূটোতে শুরু করে দিয়েছে। আর আলবেনিয়ানদের মার খাবার দিন শেষ - এখন তারা আনন্দের সাথে নতুন দেশ গড়ার কাজে জেগে উঠবে।

বিস্তারিত এখানে]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28771749 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28771749 2008-02-18 19:05:59
গড ডিলিউশন নিয়ে ডকিন্সের উত্তর
আপনার বই দ্য গড ডিলিউশন সম্পূর্ণ ঈশ্বরবিশ্বাস নিয়ে লেখা। ঈশ্বরবিশ্বাস নিয়ে আলোচনা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

আমার মনে হয় এটা একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কারণ সারা পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই কোনো না কোনো উপায়ে কোনো ঈশ্বর নামক কোনো এক মহান শক্তিকে বিশ্বাস করে থাকে। আমার মনে হয় তাদের এরকম ধারণা ভুল। আমার বইতে আলোচনা করেছি এরকম প্রমাণ-বিহীন বিশ্বাস কিভাবে মানুষের ক্ষতিও করতে পারে।

ঈশ্বরবিশ্বাস কি বিজ্ঞানের এক্তিয়ারে পড়ে?

আমার বইয়ের একটি মুখ্য আলোচ্য বস্তু ছিল যে কেন ঈশ্বরবিশ্বাস বিজ্ঞানের এক্তিয়ারে আসা উচিত। কারণ বিজ্ঞানের কাজ হল বিশ্ব-ব্রহ্মান্ড সম্পর্কে সমস্ত তথ্য আর সূত্র উন্মোচন করা। এখন, যদি আমরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করি তাহলে আমাদের বিশ্ব-ব্রহ্মান্ড সম্পর্কে তত্ত্বগুলোই অন্য চেহারা নেবে। ঈশ্বরবিহীন এক দুনিয়া, যাতে আমি বিশ্বাস করে থাকি, শুরু হয়েছে খুব সরল অবস্থা থেকে এবং ক্রমাগত জটিল অবস্থার দিকে এগিয়ে গেছে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে (যেমন বিগ ব্যাং বা বিবর্তন)। অন্যদিকে, ঈশ্বরযুক্ত একটা দুনিয়া শুরুই হয় এক জটিল ও বুদ্ধিমান সত্ত্বার উপস্থিতিতেই - বা তার প্রচেষ্টার ফল হিসাবে। সুতরাং, সরল থেকে জটিল হবার পদ্ধতি দ্বিতীয় ক্ষেত্রে একেবারেই জরুরী নয়।

বিবেকবান হতে গেলে ধর্মের প্রয়োজন - একে কি আপনি অস্বীকার করেন?

এটা একটা অদ্ভূত ধারণা যে বিবেক বিকাশের জন্য ধর্মের প্রয়োজন। সহজ কথায় বললে, দুভাবে ধর্ম আমাদের বিবেকবান হতে সাহায্য করে থাকতে পারে - ধর্মীয় বই পড়ে বা ঈশ্বরের ভয়ে। প্রথম ক্ষেত্রে বলতে পারি যে অক্ষরে অক্ষরে কেউই এখন আর ধর্মীয় বই ব্যবহার করে না নিজের বিবেক বিকাশের জন্য - বরং বেছে বেছে বলে ধর্মে এই লেখা আছে, ওই লেখা আছে ইত্যাদি ইত্যাদি। সেই বাছাবাছির কাজে তারা আবার নিজেদের বিবেক ব্যবহার করে - কোনটা উদ্ধৃতি দেওয়া উচিত আর উচিত না তা এভাবেই ঠিক করে। সুতরাং তারা নিজেদের বিবেক - যা সব মানুষের মধ্যেই জন্ম থেকে বড় হবার সময় পারিপার্শ্বিক পরিবেশের কল্যাণে তৈরী হয় - তাকেই ব্যবহার করে চলে। সে জন্যই একই ধর্মাবলম্বী সবার বিবেকও একইরকম হয় না - সবাই নিজের নিজের মত আলাদা হয়।

দ্বিতীয় ক্ষেত্রে বলা যায় যে আমরা বিবেকবান হতে বাধ্য হই ঈশ্বর বা সর্বশক্তিমানের ভয়ে - যে আমরা তার কথামত না চললে তিনি আমাদের নরককুন্ডে নিক্ষেপ করবেন। অন্যভাবে বললে, স্বর্গের লোভেই আমরা বিবেকবান হই। আমার তো মনে হয় কারোর ভয়ে বিবেকবান না হয়ে নিজের উদারতার গুণে বিবেকবান হওয়াই প্রশংসাযোগ্য। রাজার ভয়ে আইন যে মানে সে তো রাজার অনুপস্থিতিতে চুরি করে, কিন্তু যে স্বঃপ্রণোদিত হয়ে আইন মানে তার আইন ভাঙার প্রশ্নই নেই। তাই বিবেকবান হবার জন্য ঈশ্বরে বিশ্বাস না করে বা ধর্মীয় বই না পড়ে সরাসরি মানবিকতার বিকাশে নজর দিলেই হয়।

[শেষ প্রশ্নের উত্তর পরিবর্ধিত ডকিন্সের আগের প্রশ্নোত্তরের ভিত্তিতে ... নিচে দেখুন ভিডিও]

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28770565 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28770565 2008-02-14 17:55:17
প্রতিকৃতি বিতর্ক বর্ণিত ("সকল চিত্রকরই নরককুন্ডে ...")। তা এখানে সকল চিত্রকরকেই দোষারোপ করা হয়েছে, তাই আলাদা করে নবীর ছবি আঁকার বিষয়ে কোনো রেফারেন্স পাওয়া গেল না।

আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টে মহম্মদের খোদাই করা মূর্তির হাতে কোরাণ - এ নিয়ে কিছু গোষ্ঠী এককালে অ্যাপিল করেছিল কোর্টে। তখন তাদের বক্তব্য ছিল যে মূর্তি আঁকা বা খোদাই করা গ্রাহ্য করা হলে মহম্মদের মূর্তিপূজা শুরু হয়ে যেতে পারে যা সম্পূর্ণ ইসলাম-বিরোধী। সুপ্রিম কোর্ট এই বক্তব্য খারিজ করে দিয়ে বলেছিল যে মহম্মদের মূর্তি রাখা হয়েছে কারণ আইনের ইতিহাসে মহম্মদ একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব - হামুরাবি বা কনফুসিয়াসের মত তার মূর্তিও তার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে। তবে দাবী মেনে মূর্তির সাথে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে যে এই ছবির সাথে বাস্তব নবীর কোনো সাদৃশ্য নাও থাকতে পারে (কনফুসিয়াসের ছবির ক্ষেত্রেও একই স্বীকৃতি আছে)।

এখন আমার প্রশ্ন হল কোনো অমুসলিম যদি মহম্মদের মূর্তি তৈরী করে, তবে তাকে কি শাস্তি দেওয়া যায়? যদি তাই হয় তবে ইসলামে যে বিশ্বাসগুলো আছে তার যে কোনোটিই না মানার জন্য একই শাস্তি প্রযোজ্য হবার কথা। যেমন মূর্তিপূজা ইসলামে নিষিদ্ধ - কিন্তু কোনো অমুসলিম মুর্তিপূজা করলে তা নিয়ে কোনো ক্ষোভের কারণ নেই। আর শাস্তি দিতে হলে সব মূর্তিপূজারীকে একই শাস্তি দিতে হয়। একই ভাবে, কোরাণ যে ঈশ্বরের দান - এটাও অমুসলিমদের মানার কোনো কারণ নেই। যে যে নিজ নিজ ধর্মে বিশ্বাসী। তাদের নিজের ধারণার বশবর্তী হয়ে তারা যদি নবীর প্রতিকৃতি আঁকে তবে তাতে ক্ষতি কোথায়?

এ প্রসঙ্গে বলে রাখা ভাল, কার্টুন বা ব্যঙ্গচিত্র এই শ্রেণীতে পড়ে না, কারণ ব্যঙ্গচিত্রগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ছোটো করার লক্ষ্য নিয়ে আঁকা - সুতরাং তার প্রতিবাদ অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু সাধারণ ছবি কি ভাবে ও কি কারণে অন্যের ধর্মবিশ্বাসে আঘাত করতে পারে তা আমার ধারণায় আসছে না - বিশেষত যেখানে সেটা কারো ধর্মবিশ্বাসকে ছোটো করে দেখানোর কাজে ব্যবহার হচ্ছে না।

আলোচনা কাম্য ...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28767721 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28767721 2008-02-06 22:10:27
ব্যবসা যেভাবে চলে
ভারতে মূলত প্রথম ধরণের ব্যবসা বেশী করে চলে, কারণ এই ব্যবসার জন্য দরকার পড়ে প্রচুর দক্ষ শ্রমিক - যাদের মান খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয় বা নতুন কোনো অভিনব কাজও তাদের করতে হয় না। এতে কোম্পানী কনট্রাক্ট বা চুক্তি করে তার গ্রাহক কোম্পানী বা ব্যক্তির সাথে সার্ভিসের ব্যাপারে। ধরা যাক এ-বি-এন আম্রো ব্যাঙ্ক (হল্যান্ডের একটি নামকরা ব্যাঙ্ক) টি-সি-এস এর সাথে চুক্তি করল যে আগামী পাঁচ বছর তাদের কম্পিউটার সংক্রান্ত সার্ভিস দেবার জন্য। এর মধ্যে আছে কোনো সমস্যা এলে সমাধান, কিছু টুকরো আপগ্রেড বা ইন্সটলেশন, নতুন সেন্টারের সবকিছু সেটাআপ করে দেওয়া ইত্যাদি কাজ। আবার অনেক সময় টুকরো কাজের ভিত্তিতেও চুক্তি হয়। চুক্তিমত ঘন্টাপিছু টাকা দেওয়া হয় কোম্পানীকে। যেমন ধরুন, মাথাপিছু ঘন্টায় ৪৫ ডলার দেয় এ-বি-এন আম্রো। এদের মধ্যে কিছু লোকজনে কোম্পানীর সাইটে বসে থাকে - সরাসরি সাহায্য দেবার জন্য। আর কিছু লোকে ব্যাকএণ্ডে বসে সাপোর্ট দেয়। এই প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর লোকজন যথাক্রমে অনসাইট টিম আর অফশোর টিম বলে। বেশী বেশী ছেলে অফশোরে রেখে কাজ করাতে পারলে কোম্পানীর মুনাফা বাড়ে। কিন্তু অনসাইটে থাকলে টাকা বেশী মেলে বলে (টি-সি-এস মাসে ৩২০০ ডলার দেয় আমেরিকায়), সকলে অনসাইটে যেতে চায়। এই দুপক্ষকে সামাল দিয়ে মোটামুটি ৩০-৭০ থেকে ১০-৯০ অনুপাতে লোকজন রেখে কাজ চালানো হয়।

এইখানে আরেকটা মজার কনসেপ্ট আছে - সেটা হল বেঞ্চ। এদের ভূমিকা অনেকটা রিজার্ভ ফুটবলার বা আরো ভাল বললে রিজার্ভ পুলিশবাহিনীর মত। এসব সার্ভিস কোম্পানীতে অনেক লোকজন আছে যারা শুধু কাজ না করে সই করেই মাইনে পায়। মূলত এক প্রোজেক্টের শেষে আরেক প্রোজেক্টের শুরুতে এরকম ঘটনা ঘটে। অলাভজনক হলেও সব কোম্পানী বেঞ্চে এরকম কিছু কর্মীকে রাখতে চায়। কারণ, নতুন প্রোজেক্ট ধরার সময় গ্রাহককে বোঝানো হয় যে তাদের কর্মীর কোনো অভাব পড়বে না - এই বেঞ্চের কর্মীদেরই সরাসরি কাজে লাগানো যাবে সহজে।

এবার আসা যাক দ্বিতীয় ধরনের কোম্পানীর কথায়। প্রোডাক্ট কোম্পানী উলটোভাবে কাজটা করে। এরা আগে কাজ করে, তারপরে সে জিনিস বেচে মুনাফা অর্জন করে। প্রোডাক্টের ঝুঁকি বেশী, তাই খুব অভিনব কিছু না বের হলে এই বাজারে টিঁকে থাকা দুষ্কর। প্রোডাক্ট কোম্পানী উঠে যাবার সম্ভাবনাও তাই অনেক বেশী। উদাহরণ দেওয়া যায় মাইক্রোসফট আর গুগলের। মাইক্রোসফট বাজারে আনে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম - যা ঘরে ঘরে কম্পিউটার পৌঁছে দিতে সাহায্য করেছে। এর পরে একে একে এনেছে মাইক্রোসফট অফিস আর ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার। গুগল বাজার ধরেছে তাদের যুগান্তকারী সার্চ-এর সাইট দিয়ে। এ ব্যাপারে বলে রাখা ভাল, ওর্যা কল বা মাইক্রোসফটের মুনাফা আসে মূলত প্রোডাক্টের লাইসেন্স বেচে - মানে আপনি এম-এস অফিস কিনলেন পয়সা পেল মাইক্রোসফট। কিন্তু গুগল মুনাফা করে অনলাইনে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। সে আরেকটা ব্যবসার উপায়। আপনার সাইটে বেশী বেশী লোকে আসে বলে আপনার সাইটের বিজ্ঞাপন বেশী হারে সবার চোখে পড়বে। আর সেই বিজ্ঞাপন দিয়ে ঢুকে জিনিস কিনলে তার লভ্যাংশ পাবে গুগল। ভারতে বিশেষ একটা প্রোডাক্ট কোম্পানী নেই, তবে আই-ফ্লেক্স বলে একটি কোম্পানী সম্প্রতি নাম করেছে।

একটা ব্যাপার এখানে বুঝে নেওয়া যায় যে আপনি যখন প্রথম প্রোডাক্ট তৈরী করতে বসেন, তখন আপনি জানেন না যে জিনিসটা চলবে কিনা। আর আপনার অর্থ-সংস্থানও করতে হবে সেই সময়ের জন্য। তাহলে কি ভাবে প্রথম প্রোডাক্ট তৈরী হয়? এটার মধ্যেও আছে একটা ব্যবসার সুন্দর মারপ্যাঁচ। কিছু কিছু ব্যক্তি বা সংস্থা আছে যারা শুধু মাত্র এইরকম ব্যবসায় টাকা খাটিয়েই কোটিপতি হয়ে গেছেন - এদের বলে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট বা সংক্ষেপে ভিসি। ব্যাপারটা দাঁড়ায় এরকম -
১) এক উদ্ভাবক আইডিয়া বা প্ল্যান করল কোনো নতুন প্রোডাক্টের - ধরা যাক সে কপর্দকশূন্য।
২) সেই আইডিয়া নিয়ে সে গেল কোনো ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট-এর কাছে।
৩) ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট তাকে জানালো যে সে এই আইডিয়া থেকে বাস্তবায়িত করে প্রোডাক্ট বানানোর জন্য টাকা দিতে প্রস্তুত। কিন্তু বিনিময়ে প্রস্তাবিত কোম্পানীর ৫০ শতাংশ মালিকানা দিতে হবে।
৪) দরাদরির পরে অবশেষে উভয়েই রাজী হল টাকার পরিমাণ আর মালিকানার শতাংশে।
৫) প্রোডাক্টের কাজ শুরু হল।
৬) প্রোডাক্টের প্রথম ভার্সন বাজারে এল।
এখানে বলাই বাহুল্য যে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টকে যেমন ভাল বাজার বুঝতে হয়, তেমনই যে বিষয়ের প্রোডাক্টটি - সেই ক্ষেত্রেও তার জ্ঞান থাকা দরকার। আর প্রোডাক্ট একবার বাজারজাত হলে অনেকসময় কোম্পানীটাকে বেচে দিয়ে ভিসি আর আর উদ্ভাবক টাকা ভাগাভাগি করে নেন। অনেক সময় শেয়ার মার্কেটে কোম্পানীর কিছু অংশ বেচে টাকা তুলে আরো বড় করে ব্যবসা শুরু করেন। ওয়ারেন বাফেট এরকমই এক সফল ভিসি, যিনি এককালে পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্পদের অধিকারী ছিলেন। ভারতে ভিসিদের লগ্নির পরিমাণ সম্প্রতি ৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

এবারে সবশেষে আসা যাক কিছু নিচুতলার কথায়। ব্যবসা সবাই যখন করছে তখন নিচুতলার সাইবারক্যাফে-রাই বা বাদ যাবে কেন? ব্যক্তিগত সাইবারক্যাফে শুরু হয় সাধারণত বড় ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের ফেলে দেওয়া কম্পিউটার সুলভে কিনে নিয়ে। আপাতদৃষ্টিতে গ্রাহককে ইন্টারনেট সার্ভিস দিয়ে টাকা আয় করে বলে মনে হলেও এদের মূল আয়ের উতস কিন্তু অন্য জায়গায়। এখানে সাইবারক্যাফে থেকে রাতের বেলায় চলে ডাটা এন্ট্রির আর কনটেন্ট ভরার কাজ। ধরা যাক কোনো এক ব্যাঙ্কের অজস্র তথ্য কাগজের ফাইলবন্দী হয়ে আছে। কিন্তু তারাও প্রতিযোগিতার বাজারে সব কিছু ইন্টারনেটে তুলতে চায়, ডেটাবেস বানিয়ে তা থেকে সহজে তথ্য আদান-প্রদান করতে চায়। তারা শরণাপন্ন হয় এই সাইবারক্যাফেগুলোর। এরা রাতের বেলায় ওই ফাইল থেকে ডেটা পড়ে অনলাইনে তুলে দেয়। এখন অবশ্য ধীরে ধীরে স্ক্যান করে কোনো বিশেষ সফটওয়ারের সাহায্যে সেগুলো পড়ার ব্যবস্থাও হচ্ছে, কিন্তু কম মূল্যে ম্যানুয়াল আর রিপিটেটিভ কাজ করে সহজে মুনাফা লাভ করে থাকে সাইবারক্যাফেগুলো।

অনেক কথা লিখে ফেললাম। জানিনা কতটা বোঝাতে পারলাম। তবে এই ব্যবসা চালানো ব্যাপারটা যতটা সোজা বলে বাইরে থেকে মনে হয় ততটা সোজা নয়। সবথেকে বড় সমস্যা হল কর্মীদের নিয়ে। অখুশী হলেই তারা ছেড়ে অন্য কোম্পানীতে যোগদান করবে। তাদের খুশী করে আটকে রাখার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা থাকে। একজন কর্মী ছেড়ে গেলে তার শূন্যস্থান পূরণ করা দুঃসাধ্য। কোম্পানীর মুনাফা অনেকসময়েই নির্ভর করে কি ধরণের কর্মীকে কোম্পানী কাজে লাগাতে পেরেছে তার ওপর। আর কর্মীদের ছলে-বলে-কৌশলে টেনে ধরে রাখাই একটা ব্যবসার খেলা - বেড়াল-ইঁদুরের খেলার মত। খেলাটা কিন্তু বেশ মজার ...

সাথে দেখুন -
বিশ্বের সবথেকে বড় সফটওয়ার কোম্পানীর তালিকা
কিছু সার্ভিস কোম্পানী ও তাদের কর্মীসংখ্যা
(সচলায়তনে আগে প্রকাশিত)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28763865 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28763865 2008-01-24 18:53:56
ধর্মব্যবসায়ীদের কথা
তা প্রথমে নজর দেওয়া যাক ভারতের আপাতত সফলতম ধর্মব্যবসায়ীর দিকে। তিনি হলেন বিশ্বশান্তির উদ্যোক্তা শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর। আর্ট অব লিভিং বলে একধরণের যোগক্রিয়ার কোর্সের উদ্ভাবক এই স্বনামধন্য গুরু হলেন কর্নাটকের লোক। আর্ট অব লিভিং একটি অদ্ভুত কোর্স যার মূল লক্ষ্য হল হতাশা দূর করা ও মানসিকভাবে মানুষকে চাঙ্গা করে তোলা। রবিশঙ্করের মূল দাবী - নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস হল মন আর শরীরের যোগসূত্র। সুদর্শন ক্রিয়া নামক একটি যোগক্রিয়ার মাধ্যমে উনি এই দাবীকেই জনসমক্ষে এনেছেন। আমেরিকায় একটি আর্ট অব লিভিং কোর্সের খরচা $৩৭৫। তবে শোনা যায় যে সংগৃহীত এই টাকার সবটাই জনকল্যাণে ব্যবহৃত হয়।

কতটা বড় রবিশঙ্করের বৃত্ত? ২০০৭ সালে ইরাকের জনগণের হতাশা দূর করতে উনি ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে ইরাকে গিয়ে শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সাথে দেখা করেন। ২০০৬ সালে আর্ট অব লিভিং-এর রজতজয়ন্তী বর্ষ উপলক্ষে উপস্থিত হয়েছিলেন ভারতের প্রেসিডেন্ট, হল্যান্ডের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী আর ঘানার রাজা।

এহেন রবিশঙ্করের উদ্ভাবিত সুদর্শন ক্রিয়া যতক্ষণ মানসিক সমস্যার বৃত্তে আবর্তিত হয় ততক্ষণ নাহয় তা গ্রহণযোগ্য থাকে, কিন্তু যখন তা দুরারোগ্য ক্যান্সার বা এইডসের মত রোগ নিরাময়ের আশ্বাস দেয় তখনই ধর্মব্যবসার স্বরূপ উন্মোচিত হয়। ভারতের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরোসায়েন্সের দাবীমতে, সুদর্শন ক্রিয়া হতাশা কাটানোর জন্য বড়জোড় ধ্যানের মত আরেকটি যোগক্রিয়া হিসাবে স্বীকৃতি পেতে পারে। তা কি ভাবে সেই এইডসের মত রোগ নিরাময় ঘটে? খুবই সহজ পদ্ধতি - রবিশঙ্করের মতে, আমরা জীবনে আমাদের ফুসফুসের ক্ষমতার ক্ষুদ্র ভগ্নাংশমাত্র ব্যবহার করি। আর আমরা ফুসফুস যত ভাল ভাবে ব্যবহার করতে শিখব, তত আমাদের শরীরে অক্সিজেনের যোগান বাড়বে আর সেই বাড়তি অক্সিজেন শরীরের জীবাণুনাশক হিসাবে কাজ করবে (!!)। এই দাবীর ওপর ভিত্তি করে উনি জানিয়েছেন, এইডসের জীবাণুও নাকি এরকম অক্সিজেন-প্রধান শরীরে বেঁচে থাকতে পারে না। সুতরাং, এটাই এইডস নিরাময়ের আদর্শ পথ। একই কথা ক্যান্সারের জন্য প্রযোজ্য। এই দাবী অবশ্য ফুতকারে উড়িয়ে দিয়েছে আমেরিকার স্বাস্থ্য-বিভাগ। তাদের মতে যোগক্রিয়া হিসাবেও এই সুদর্শন ক্রিয়া খুব একটা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। আর প্রদত্ত প্রমাণাদি থেকে কোনো রোগ নিরাময়ের সাথেই এই যোগক্রিয়ার বৈজ্ঞানিক সম্পর্কস্থাপন করা সম্ভব নয়। সম্প্রতি আরো ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এ নিয়ে, আশা করা যায় অদূর ভবিষ্যতে আরো সত্য বেরিয়ে আসবে এ বিষয়ে।

রোগ-নিরাময়ে সিউডো-সায়েন্সের প্রয়োগ এক নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছেন শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর। মামুলী রোগ বা সাময়িক হতাশা নয়, উনি "ব্যক্তিগত বিজ্ঞানের" হাত লাগিয়েছেন সোজা দুরারোগ্য ব্যাধিতে। আর ধার্মিক দেশে অন্ধবিশ্বাসীদের প্রকোপে তার জনপ্রিয়তাও গগনচুম্বী।

জনপ্রিয়তার কথা যদি বলতেই হয় তবে আরেক ভারতীয়র নাম না বলে থাকা যায় না। উনি হলেন পিস টিভির প্রতিষ্ঠাতা জাকির নায়েক। ডাক্তারী পাশ করা এই শান্তি-প্রচারক ধর্মব্যবসায়ী বিভিন্ন মঞ্চে ইসলাম ও শারিয়া সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করেন। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে তিনি যা তথ্য ব্যবহার করেন তার অধিকাংশই তার নিজস্ব।

কেমন তার তথ্যভান্ডার? একটু উদাহরণ দেওয়া যাক। এক জায়গায় দেখলাম পুরুষের বহুবিবাহের স্বপক্ষে উনি দাবী জানিয়েছেন পৃথিবীতে মহিলার সংখ্যা পুরুষের থেকে বেশী (দক্ষিণ এশিয়াতে ভ্রূণহত্যার কারণে ব্যাপারটা উলটো)। আমেরিকায় ওনার দাবী মতে পুরুষের সংখ্যা মহিলার তুলনায় সাড়ে সাত মিলিয়ন কম, রাশিয়ায় সংখ্যাটা নয় মিলিয়ন। কিন্তু আমেরিকার সরকারি (সি-আই-এ) তথ্যসূত্র থেকে দেখা যায় আমেরিকায় মহিলার সংখ্যা ৫ মিলিয়ন বেশী বটে কিন্তু তার জন্য দায়ী হল ৬৪ বছরের বেশী বৃদ্ধারা। ০-৬৪ বছর পর্যন্ত পুরুষের সংখ্যা বেশী (জন্মাবস্থায়ও তাই)। আর মহিলার সংখ্যা বেশী বয়সে বাড়ার কারণ তাদের গড় আয়ু পুরুষদের তুলনায় ৫ বছর বেশী। তাহলে কি ভাবে এই তথ্য বিবাহের কাজে ব্যবহার করা যায়, যেখানে বিশ্বে ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ ব্যতিরেকে বাকি বিবাহ ৬৪ বছরের নিচেই সম্পন্ন হয়?

এরপরে আসা যাক শূকরের মাংসের (পর্ক) ব্যাপারে ওনার মতামত সম্পর্কে। ওনার দাবি হল শূকর প্রাণী হিসাবে অত্যন্ত নোংরা বলে তার মাংস খাওয়া নিষেধ - কিন্তু নোংরা জীবের মাংসও যে নোংরা হবে সে নিয়ে (এমনকি সেদ্ধ করার পরেও) কোনো বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ তার কাছে নেই। সবথেকে মারাত্মক তুলনা উনি শুরু করেছেন শেষ অনুচ্ছেদে গিয়ে। তার দাবী শূকরের মাংস খেলে নাকি মানুষ শূকরের মত ব্যবহার করে (পত্নী-পরিবর্তন করতে শুরু করে)। শুধু তাই নয় উনি এ বিষয়ে আমেরিকানদের শূকরের সাথে তুলনা করেছেন, যেটি শুধু জাতিবিদ্বেষ সৃষ্টিকারীই নয়, নিজের মত প্রচারের জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতও বটে (লক্ষ্যণীয় সবথেকে বেশী পর্ক খাওয়া হয় চিনে, উনি চিন নিয়ে কিন্তু কিছু বলেননি)।

এছাড়াও উনি মুসলিমদের সুদ-লেনদেন করে এমন ব্যাঙ্কে কাজ করতে নিষেধ করেন, দত্তক সন্তানকে আপন সন্তানের মত সমানাধিকার দিতে বারণ করেন আর বিশেষ কয়েকটি বাদ্যযন্ত্র ব্যতিরেকে গান বা সঙ্গীতচর্চা থেকে বিরত থাকতে বলেন।
এগুলোর যে কোনোটিই সাধারণ মানবাধিকারের সরাসরি পরিপন্থী এবং এর পক্ষে সমাজ বা বিজ্ঞানের দিক থেকে কোনো সায় নেই।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা একটি মহান উদ্যোগ। তার জন্য নিজ নিজ পথও তারা বেছে নিতে স্বাধীন। কিন্তু বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা বা মানবমুক্তির জন্য এত মিথ্যার আশ্রয় কেন নিতে হবে সেটাই আমার প্রশ্ন।
(ছবি - উইকিপিডিয়া)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28762901 http://www.somewhereinblog.net/blog/digantablog/28762901 2008-01-21 15:34:18