somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাত্রী দেখার অভিজ্ঞতা-১

১৭ ই মে, ২০০৯ সকাল ৯:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যখন বিয়ে নিয়ে ভাবতে শুরু করি তখন থেকে সংকল্প করেছিলাম একটা শিক্ষিতা মেয়ে বিয়ে করব। অনেক কিছু দেখে-শুনে, ভেবে চিন্তেই এ সিদ্ধান্ত। হোক সে শিক্ষিতা মেয়েটি কালো বা দরিদ্র পরিবারের সন্তান। কিন্তু পারলাম না। বিয়ে করার সময় আম্মা বললেন, আমরা সকলে তোর জন্য মেয়ে দেখে ঠিক করে রেখেছি। সকলেরই পছন্দ হয়েছে। আমি বললাম পড়াশুনা কি? আম্মা বললেন, ক্লাস টেনে পড়েছে। পরীক্ষা দেয়নি। আমি বললাম, চলবে না। আমি কমপক্ষে এস এস সি পাশ মেয়ে বিয়ে করব। আম্মা ধমক দিলেন। তোর বাপে কত কষ্ট করে তোকে মাদরাসায় পড়িয়েছে। আত্নীয় স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও স্কুলের সারেরা তোর আব্বার কাছে এসে বলল, আপনার এ ছেলেটা বেশী মেধাবী। আপনি ওকে মাদরাসায় না দিয়ে স্কুলেই রেখে দেন। ও এ লাইনেই পড়াশুনা করুক। অনেক বড় কিছু হতে পারবে। তাদের সকলের কাছে তোর আব্বা বলেছিল, আল্লাহর জন্য কুরবানী দিলে ভালটাই দিতে হয়। সকলে চুপ হয়ে গিয়েছিল। আর এখন তুই কলেজ পড়ুয়া মেয়ে বিয়ে করতে চাষ! আজ যদি তোর বাপ বেচে থাকত তাহলে তুই এ কথা বলতে পারতি? আমরা ধর্মীয় পরিবারের লোক। এখানে কলেজ পড়ুয়া একটি মেয়ে কিভাবে থাকবে? আমরা যে মেয়ে ঠিক করেছি তা তোর পছন্দ না হলে মনে করবি তোর কপালে বিয়া নাই।
যাই হোক চাপে পড়ে মেয়ে দেখতে গেলাম। দেখলাম। বললাম, পছন্দ হয়েছে। পাত্রী-কে ক্লাস ফাইভের প্রশ্ন করলাম। কোন উত্তর দিতে পারল না। আমার মুখের দিকে তাকিয়ে শুধু হাসলো। দেখা-দেখি আর আংটি পরানোর পর্ব শেষ হল। এখন তারিখ ঠিক করার পালা। মেয়ে পক্ষ বলল, বিয়ে হবে ছয় মাস পর। আমি বললাম, এখন ঈদের ছুটি কুরবানীর ছুটিতে আমি বিয়ে করতে চাই। মনে মনে নিয়্যত করলাম, কুরবানীর ছুটিতে আমি বাড়িতেই আসব না। তারপর বিয়ে . .। আমার পরিকল্পনা ছিল নেতিবাচক। মানুষ পরিকল্পনা করে একটা হয়ে যায় অন্যটা। যে দিন মেয়ে দেখলাম সেদিন দুপুরে ভাত খেয়ে ঘুমালাম। বড় ভাই ঘুম থেকে জাগিয়ে বলল, এই তোর আকদ হবে চারটায় সময়। চল। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সাড়ে তিনটা বাজে। আধ ঘন্টা মাত্র বাকী। আম্মুকে বললাম, এগুলো কি হচ্ছে? আম্মু বললেন, মেয়েটি অল্প বয়সী। ষোল বছরের বেশী হবে না। শুভ কাজে দেরী করতে নেই। তোর বাপ-সাপ ভাল ঠ্যাকছে না। ও এক বাপের এক মেয়ে। তুই সংসার বিমুখ মানুষ। সারাদিন বই, খাতা-কলম নিয়ে পড়ে থাকিস। নিজের খাওয়া-দাওয়ার প্রতিও কোন খেয়াল রাখিস না। তোর আদর-যত্ন দরকার। তাই এ বিয়ে করতেই হবে। তোর শ্বশুর বলেছে, সে তার জামাইকে রাজপুত্রের মত করে রাখবে।
অবশেষে গেলাম। বিয়েও করলাম। সে দিন নিজেকে যতখানি পরাজিত মনে হয়েছে জীবনে অন্য কোন দিন নিজেকে এতটা পরাজিত আর অসহায় হয়নি। মন খারাপ করলাম। আম্মু শান্তনা দিয়ে বললেন, এ বিয়েটাতো করলি। বউ যদি তোর সাথে টিকে যায় তাহলে আরো পছন্দ মত বিয়ে করতে পারবি। তোর বউ তোর সাথে দুদিনের বেশী থাকে কিনা দ্যাখ!
অবশেষে বউ থেকেই গেল। এখনো আছে। কিভাবে? দু চারটি ঘটনা শুনুন।
এক. আমি ঢাকা থাকি। বউ চিঠি লিখত। চিঠি পড়ে আমার মাথা খারাপ হয়ে যাওয়ার পালা। বানানে ভুল। পঞ্চাশ শব্দের রচনার বানানে নব্বইটি ভুল। আর ভাষায় যা ভুল তা না-ই বললাম। বলে দিলাম, হাতের লেখা সুন্দর করো। বানান ঠিক করো। ভাষা ঠিক করো। না পারলে চিঠি লিখবে না। আমি একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা বিভাগের প্রধান। আমার বউয়ের এ চিঠি অফিসের কারো হাতে পরলে আমার পদ নিয়েই কিনা প্রশ্ন উঠে।
দুই. পরে একদিন চিঠি আসল। দেখি হাতের লেখাও সুন্দর। ভাষাও মার্জিত। বানানে তেমন ভুল নেই। আশ্চর্য হলাম। এত তাড়াতড়ি কিভাবে বদলে গেল গ্রাম্য মেয়েটি? চিঠি পড়ে দেখি সর্বনাশ। সে লিখেছে, আমি এই শ্রাবণ নিশিথে বৃষ্টির টাপুর টুপুর শব্দের কোলাহলে তোমাকে লিখতে বসলাম। তোমাকে এখন খুব মনে পরে . . । অথচ তিন দিন আগের লেখা চিঠি। আর এখন পৌষ মাস। বৃষ্টি হয়নি প্রায় দু মাস হয়ে গেছে। তখন মোবাইলের প্রচলন ছিল না তেমন। কার্ড ফোন সেন্টারে গিয়ে টেলিফোন করে পেলাম শ্বশুর-কে। বললাম, আপনার মেয়েকে বলবেন, সে যেন কখনো আমার কাছে চিঠি না লেখে। কোন কথা থাকলে অফিসে টেলিফোন করবে।
সে নিজে কষ্ট করে ভাষা না শিখে বাজার থেকে প্র্রেম-পত্র কিনে তা কপি পেষ্ট করে আমাকে পাঠিয়েছে। তাই তার চিঠিটি মৌসুম হারিয়েছে। পৌষ মাসে পাঠিয়েছে শ্রাবন মাসের চিঠি।
বড় ভাই ও আম্মাকে এ ঘটনা বললাম। জানতে চাইলাম, কি দেখে আপনারা এ মেয়েটিকে আমার গলায় ঝুলিয়ে দিলেন? আম্মা ও ভাই উপদেশ দিলেন, বউ হল ঘরের লক্ষী। নিজের বউয়ের বদনাম করা ঠিক নয়।
দুই. সিদ্ধান্ত নিলাম কষ্ট করে হলেও আমার বউকে কম্টিউটার শিখাবো। এ জন্য দেশের বাড়ীতে হাই ফাই কম্পিউটারও কিনলাম। ইন্টারনেটের লাইনও নিলাম। আমি বউকে শিখাবো আর সে আমার দু ছেলেকে শিখাবে। আমিতো বাড়ীতে থাকি না। শিখাতে বসলাম। বললাম, স্টার্টে ক্লিক করো। ও মা সে স্টার্ট লেখাটি চোখেই দেখে না। বললাম, এখানে দুটো কথা লেখা আছে; ইয়েস আর নো। তুমি ইয়েস লেখাটির উপর ক্লিক করো। সে ইয়েস লেখা কোনটি নির্ধারণ করতে পারে না। কয়েকবার বুঝিয়ে দিলাম, কোনটা ইয়েস কোনটা নো। তারপরও সে বুঝে না। খুব রেগে গেলাম, রুম থেকে তাকে জোর করে বরে করে দিলাম। দরজা লাগালাম। কতক্ষণ মন খারাপ করে বসে থাকলাম। আসলে সে দিন আমি খুব ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছিলাম।
তিন. একদিন বললাম, সুকেচে দশটি ডায়েরী সাজানো আছে। তার থেকে ২০০২ লেখা ডায়েরীটি নিয়ে আস। কিন্ত সে সব ডায়েরীগুলো হাজির করল আমার কাছে। বললাম, সবগুলো কেন আনলে? সে বলল, একটা আনলে তুমি বলবে এটা আনতে বলিনি। তাই সবগুলো নিয়ে আসলাম। তোমার যেটা লাগে নাও। আমি বললাম, ঠিক আছে। ডায়েরীর একাট স্থান দেখিয়ে দিয়ে বললাম, এখানে দেখবে যে ডায়েরীতে ২০০২ লেখা সেটা আমার হাতে দিবে।
সে এক ঘন্টা পর্যন্ত সবগুলো দেখল, উলট-পালট করল কিন্তু ২০০২ চিনে বের করতে পারল না।
এ হল মাত্র তিনটি ঘটনা। এ রকম ঘটনা আমাদের জীবনে অসংখ্য। একদিন আমার এক বস আমার বউটিকে দেখার জন্য তার স্ত্রীকে পাঠিয়েছেন আমার বাসায়। দেখে গেল। পরদিন আমি বসকে জিজ্ঞেস করলাম, ম্যাডাম তো তাকে দেখে গেলেন। কি বললেন, পছন্দ হয়েছে? বস কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, আসলে ভাল লোকে বউ পায় না। একটা কথা আছে না, বউ পায় পাগলে।
এতক্ষণ আমার প্রথম পাত্রীটির দোষের দিকগুলো বললাম। তার গুণও আছে। সে ভাল রাধতে পারে। কাপড়-চোপর ধৌত করতে পারে। ঘর মুছতে পারে। ত্রিশ বছর বয়স ঘারে নিয়েও এখন সে আম গাছে, জাম গাছে আর আমরুল গাছে উঠে। ফল পেরে নীচে দাড়িয়ে থাকা স্বামী ও ছেলেদের দিকে ফেলে দেয় চরম আদরে। যে গুলো পাকা তা ফেললে কিনা নষ্ট হয়ে যায়, সে ভয়ে ওগুলো পরম যত্নের সহিত আচলে করে বুকের সাথে লাগিয়ে রাখে।
আর যতক্ষণ আমি তার কাছে থাকি ততক্ষণ শুধু হাসতেই থাকে। আমি বিরক্ত হয়ে যাই। আর যখন কাছে থাকি না, তখন শুধু আমার জন্য কাদে আর কাদে।
আমার উপর চাপিয়ে দেয়া এ পাত্রীটি একদিন অস্বাভাবিক ভাব-গাম্ভীর্য নিয়ে কাছে আসল। বলল, আমি তো তোমার জীবনটা নষ্ট করে দিলাম। আমি আসলে কখনো মনে করি না, আমি তোমার স্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা রাখি। তুমি মনের মত করে বিবাহ করতে পারোনি বলে অনেকে আফসোস করে। তোমার আচার আচরণেও আমি বুঝি তোমার মনের ব্যাথা। থাক সে কথা। এখন তুমি ঢাকাতে একা থাকো। আমাকে রাখলে না ঢাকাতে। দেশে পাঠিয়ে দিলে। কখনো হোটেলে খাও, কখনো থাকো না খেয়ে। আমি তোমার ওখানে যেয়ে বহু চেষ্টা করেও কাজের বুয়া পেলাম না। তারা কেহ একজন ব্যাচেলারের পাক করতে রাজী হয় না। তোমার শরীরে কোন রোগ ছিল না। এখন দেখি দিনে তুমি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে যাচ্ছ। আমার মুখের দিকে আর তাকিয়ে থেকো না। তুমি ওখানে একটা বিবাহ করে ফেল। পাত্রী দেখ। আমিও পাত্রী দেখতে থাকি। আমি শুধু অনুমতি নয়, যা লাগে সব করব। আমার অলংকারগুলো অর্ধেকটা তোমার নতুন বউকে দিয়ে দেব। তুমি বললে দেব পুরোটাই। তবুও তুমি বিবাহ কর। নিজের জীবনটা এভাবে নষ্ট করো না।‌
এভাবে বহু দিন বলে বলে সে আমার অন্তরে দ্বিতীয় পাত্রী খোজার প্রোগ্রাম ইনষ্টল করে দিল।
এক মনীষি বলেছেন, মানুষ যখন একটা কল্পনা করে তখন সেটাকে দূর করার ব্যবস্থা করা উচিত। যদি না করে, সেটাকে লালন করে, তবে কল্পনাটা তার পরিকল্পনায় রূপ নেয়। এরপরও যদি এর চিকিতসা না করা হয়, তবে তা বাস্তবায়নের পথে এগুতে থাকে। আমার বেলায় এর ব্যতিক্রম হল না। দ্বিতীয় পাত্রীর খোজে নেমে গেলাম। পাত্রী খুজতে নেমে যা দেখলাম, শুনলাম ও বুঝলাম তা আগামী কালের পর্বে লেখার আশা রাখি। আজকের লেখাটি অনেক বড় হয়ে গেল বলে দু:খিত।

৪৬টি মন্তব্য ৪৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×