প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে চতুর্থ শ্রেণী পাশ করে যখন একটি কওমী মাদরাসার হিফজ বিভাগে ভর্তি হওয়ার জন্য গেলাম তখন পনের ইঞ্চি দীর্ঘ উর্দুতে লেখা একটি ভর্তি ফরম আমার হাতে দেয়া হল। আমি আব্বাকে বললাম -যিনি ঐ মাদারাসায় শিক্ষকতা করতেন- ফরমটা উর্দুতে কেন? বাংলাতে করা যায় না? তিনি আমাকে বললেন, উর্দু ভাষা সৃষ্টি করেছে মুসলমানেরা। উর্দু ভাষা আরবীর মত ডান দিক দিয়ে লেখা হয় . . . । যা-ই হোক মাদরাসা জীবনে উর্দু ও ফারসী ভাষা শিক্ষার জন্য বহু সময় ব্যয় করেছি। আজকে কর্মস্থলে এসে আফসোস করছি, যদি সেই সময়টা ইংরেজী শিক্ষার পিছনে ব্যয় করা যেত তাহলে নিজেকে গ্লোবালী প্লেস করার জন্য আরো বেশী যোগ্য করে তুলতে পারতাম। ইংরেজী কম জানার কারণে পথে থমকে দাড়াতে হয় কখনো কখনো। মাদরাসার ছাত্র জীবনে দেখেছি বহু ছাত্র বাংলা পড়তে পারে না। কিন্তু উর্দু ও ফারসী ভাষায় সে একজন সাহিত্যিক। এটা বেশী দিন আগের কথা নয়। ১৯৮২ সালের কথা।
যাক এখন মনে হয় সে অবস্থা বদলে যাচ্ছে। কয়েকদিন আগে একজন হাফেজ ছাত্রকে ভর্তি করার জন্য শুপারিশ করতে গিয়েছিলাম এক মাদরাসায়। অধ্যক্ষ বললেন, আমাদের প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হতে হলে তাকে কমপক্ষে ক্লাস ফাইভের অংক, বাংলা, ইংরেজীর মান নিয়ে আসতে হবে। কারণ আমরা প্রথম শ্রেণীতে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ইংরেজী, অংক, বাংলাসহ জেনারেল সাবজেক্টগুলো পড়িয়ে থাকি। আপনি এসেছেন বলে তাকে থাকা-খাওয়ার ব্যাপারে কনসিডার করতে পারব। কিন্তু কিন্তু এ বিষয়গুলোতে দুর্বল থাকলে তাকে ভর্তি করা যাবে না কোন ভাবেই। শেষ পর্যন্ত সেখানে ভর্তিতে চান্স না পেয়ে অন্য এক মাদরাসায় গেলাম। সেখানেও একই কাহিনী। যদিও আমি আমার মিশনে ব্যর্থ হলাম তবুও ভাল লাগল এ পরিবর্তন দেখে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

