এক ব্যক্তিকে প্রশ্ন করা হল. আপনার ৮ টি সন্তান। কাকে সবচেয়ে বেশী ভালোবাসেন? লোকটি উত্তর দিল, সবচেয়ে বেশী ভালোবাসি যে ছোট তাকে, যতদিন না সে বড় হয়। সবচেয়ে বেশী ভালোবাসি তাকে, যে প্রবাসে থাকে। যতদিন না সে বাড়ী ফিরে আসে। আর সবচেয়ে বেশী ভালোবাসি তাকে, যে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। যতক্ষণ না সে সুস্থ হয়ে উঠে।
আসলে এ লোকটি তার কোন সন্তানটিকে বেশী ভালোবাসে তা স্থির করতে পারেনি।
আর এক লোকের কথা। তার ছিল চার স্ত্রী। সে বলতে পারে না কাকে সে সবচেয়ে বেশী ভালোবাসে। সে এটা জানার জন্য এক দরবেশের কাছে গেল। জিজ্ঞাসা করলো, আমার চার বউ। আমি এদের মধ্যে কাকে সবচেয়ে বেশী ভালোবাসি তা জানি না। এটা জানার উপায় কি?
দরবেশ উত্তর দিল, তুমি বিপদে পড়লে বা অসুস্থ হলে যার কথা বেশী মনে পড়ে তাকেই তুমি সবচেয়ে বেশী ভালোবাস বলে জেনে নেবে।
এভাবেই মানুষ কাকে কত ভালোবাসে তা নিজেই জানে না। অনেক সময় মনে হয়, আমি তাকে ভালোবাসি না। আমার হৃদয়ে তার জন্য কোন ভালোবাসা নেই। কিন্তু এমন কিছু ঘটে তখন ভালোবাসা অনুভুত হয় প্রচন্ডভাবে। মনে হয় এতদিন আমি ভুলের মধ্যে ছিলাম। তাকে এতো ভালোবাসি তাতো আমি জানতাম না। অনুভব করতে পারিনি কখনো।
এখানে আমার পারিবারিক জীবনের একটি দু:খজনক ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। যারা আমার পাত্রী দেখার অভিজ্ঞতা-১ ও ২ পাঠ করেছেন তারা বিষয়টি বুঝবেন ভালোভাবে। সেখানে আমার ব্লগারাবন্ধু লেখাজোকা শামীম, মিল্টন, লুথা, নাজনীন-১, নিলাচল আমাকে যে সকল পরামর্শ দিয়েছেন, সেগুলো আমার কাজে লেগেছে। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা রইল। আসলে ব্লগ দিয়ে কত মানুষ যে কতভাবে উপকৃত হয় তা হিসাব করতে পারে কে?
যাক, ঘটনাটা ঘটেছে গত ২৮ শে মে ২০০৯ তারিখে।
ঢাকা থেকে বাড়ীতে গেলাম। সকাল বেলা মামা শ্বশুরের সাথে একলোকের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য গেলাম। তিনি লোকটির সাথে আমার পরিচয় দিয়ে বললেন, এই আমার ভাগ্নি জামাই। অমুক এনজিওর হেড অফিসের টাইপিষ্ট। আমি শুনে আশ্চর্য হয়ে গেলাম। আমি ইউ, কে ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থাটির বাংলাদেশ শাখার কান্ট্রি ডিরেক্টর। আর আমাকে বলে কিনা টাইপিষ্ট। রাগে ও ক্ষোভে অস্থির হয়ে গেলাম। কিছু বললাম না লোকটার সামনে। পরে জিজ্ঞেস করলাম, মামা! আমি যে টাইপিষ্টের কাজ করি তা আপনাকে কে বলল? উত্তরে জানাল, কেন, তোমার বউ সালমা! আমি চুপ হয়ে গেলাম। ঘরে এসে সালমাকে জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা আমি যে সংস্থার অফিসে টাইপিষ্টের কাজ করি এ কথা তুমি কি জাকির মামাকে বলেছো? সে বলল, না তো! আমি এমন কথা বলিনি। আমাকে মামা জিজ্ঞেস করেছে জামাই কি করে? আমি বলেছি অফিসে কম্পিউটারে লেখালেখি করে। আমি বললাম, তুমি তা বললে কেন, তুমি জান না আমি সংস্থার বাংলাদেশ ব্রাঞ্চের ডাইরেক্টর? সে বলল, আমি তো একদিন তোমার অফিসে গেলাম দেখলাম. তুমি কম্পিউটারে লেখালেখি করছ। আমি এটা মামাকে বলেছি, দোষ করেছি কি?
আমি বললাম তুমি আমার মোবাইল নম্বর জানো, মানে না দেখে বলতে পারো? আমার অফিসের ঠিকানা তোমার জানা আছে? তুমি আমার ঢাকার বাসার ঠিকানা জানো? আমি কি চাকুরী করি তা কি তুমি বলতে পারো? এ সকল প্রশ্নের উত্তরে সে শুধু না এবং না বলল।
আমি নিজেকে যেন আর ধরে রাখতে পারলাম না। অনেক কঠোর ভাষায় বকাবকি করলাম। তার মুর্খতার প্রতিবাদ করলাম চরম ভাষায়। অপমান করার মত কোন কথা বলতে যেন কৃপণতা করলাম না তখন। অবশ্য সে কথাগুলো আমি আপনাদের শুনাব না। ইতিহাসে অনেক কিছুই লেখা হয় না। আর তার এ ধরনের মুর্খতায় আমি অনেকবার বিব্রত হয়েছি। অনেকের কাছে ছোট হয়েছি। তার এ ধরনের মুর্খতাসুলভ আচরনের কারণে প্রয়োজন সত্বেও আমি তাকে কাছে রাখতে পারিনি। বাড়ীতে রেখে এসেছি। চার বছর ঢাকাতে এক সাথে ছিলাম। অবশ্য বিরক্ত হয়েছি এরচেয়ে বেশী। বন্ধুরা বলেছে, মনে হয় টাকার লোভে এমন অশিক্ষিত মেয়েকে বিয়ে করেছে।
আমি তাকে এ বকাবাকি করেছি ঐ দিন দুপুর দু টায়।
বকাবকি করার পর দেখি সে অন্য রকম হয়ে গেছে। দুপুরে ভাত খায়নি। সুন্দর সর্বদা হাসিখুশী মুখটা হয়ে গেছে কালো। আমি জিজ্ঞেস করলাম ভাত খেয়েছো? বলল, হ্যা। আমি বললাম, সে রকম তো মনে হয় না। আসলে ও সত্য বলেনি। আমি দুপুরে ভাত খেয়ে শুয়ে পড়লাম। দেখি রুমের দরজায় দাড়িয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে অন্যভাবে। তাকানোর মধ্যে আছে কিছুটা বিরক্তি। আছে কিছুটা ভালোবাসা। আরো ছিল অন্য কোন অনুভুমতি। তা আমি তখন বুঝতে পারিনি। আমার দিকে এভাবে কখনো তাকাতে দেখিনি। আমি তার দিকে তাকাতেই সে চলে গেল। আবার দরজায় এসে আমার দিকে এমনভাবে তাকিয়ে থাকল, যেন আমি টের না পাই, সেই আগের ভংগিমায়। আমি তাকাতেই আবার সরে পড়ল। এভাবে করল অনেকবার। আমি ভাবি, এমন করে কেন? কিছু কি বলতে চায়? যাক রাতে আমি তাকে জিজ্ঞেস করব। যা বলেছি তা মিটমাট করে নেব। বুঝাব। ও মনে খুব ব্যাথা পেয়েছে। পাওয়া দরকারও ছিল। আসলে তখনও আমি বুঝতে পারিনি এ বকাবাকি আর অপমানটা তাকে মারধোর করার চেয়েও বেশী ছিল। ঐ যে জসীমুমদ্দিন বলেছিল :
এত আদরের বুজিরে তাহারা ভালবাসিত না মোটে,
হাতেতে যদিও না মারিত তারে শত যে মারিত ঠোঁটে।
আজ এ পর্যন্ত। দ্বিতীয় পর্বে থাকবে তার হারিয়ে যাওয়া ও আত্নহত্যা প্রচেষ্টার বিবরণ। (চলবে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

