somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুর্খ বউটাকে এতো ভালোবাসি তা বুঝিনি কখনো আগে (প্রথম পর্ব)

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক ব্যক্তিকে প্রশ্ন করা হল. আপনার ৮ টি সন্তান। কাকে সবচেয়ে বেশী ভালোবাসেন? লোকটি উত্তর দিল, সবচেয়ে বেশী ভালোবাসি যে ছোট তাকে, যতদিন না সে বড় হয়। সবচেয়ে বেশী ভালোবাসি তাকে, যে প্রবাসে থাকে। যতদিন না সে বাড়ী ফিরে আসে। আর সবচেয়ে বেশী ভালোবাসি তাকে, যে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। যতক্ষণ না সে সুস্থ হয়ে উঠে।
আসলে এ লোকটি তার কোন সন্তানটিকে বেশী ভালোবাসে তা স্থির করতে পারেনি।
আর এক লোকের কথা। তার ছিল চার স্ত্রী। সে বলতে পারে না কাকে সে সবচেয়ে বেশী ভালোবাসে। সে এটা জানার জন্য এক দরবেশের কাছে গেল। জিজ্ঞাসা করলো, আমার চার বউ। আমি এদের মধ্যে কাকে সবচেয়ে বেশী ভালোবাসি তা জানি না। এটা জানার উপায় কি?
দরবেশ উত্তর দিল, তুমি বিপদে পড়লে বা অসুস্থ হলে যার কথা বেশী মনে পড়ে তাকেই তুমি সবচেয়ে বেশী ভালোবাস বলে জেনে নেবে।
এভাবেই মানুষ কাকে কত ভালোবাসে তা নিজেই জানে না। অনেক সময় মনে হয়, আমি তাকে ভালোবাসি না। আমার হৃদয়ে তার জন্য কোন ভালোবাসা নেই। কিন্তু এমন কিছু ঘটে তখন ভালোবাসা অনুভুত হয় প্রচন্ডভাবে। মনে হয় এতদিন আমি ভুলের মধ্যে ছিলাম। তাকে এতো ভালোবাসি তাতো আমি জানতাম না। অনুভব করতে পারিনি কখনো।
এখানে আমার পারিবারিক জীবনের একটি দু:খজনক ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। যারা আমার পাত্রী দেখার অভিজ্ঞতা-১ ও ২ পাঠ করেছেন তারা বিষয়টি বুঝবেন ভালোভাবে। সেখানে আমার ব্লগারাবন্ধু লেখাজোকা শামীম, মিল্টন, লুথা, নাজনীন-১, নিলাচল আমাকে যে সকল পরামর্শ দিয়েছেন, সেগুলো আমার কাজে লেগেছে। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা রইল। আসলে ব্লগ দিয়ে কত মানুষ যে কতভাবে উপকৃত হয় তা হিসাব করতে পারে কে?
যাক, ঘটনাটা ঘটেছে গত ২৮ শে মে ২০০৯ তারিখে।
ঢাকা থেকে বাড়ীতে গেলাম। সকাল বেলা মামা শ্বশুরের সাথে একলোকের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য গেলাম। তিনি লোকটির সাথে আমার পরিচয় দিয়ে বললেন, এই আমার ভাগ্নি জামাই। অমুক এনজিওর হেড অফিসের টাইপিষ্ট। আমি শুনে আশ্চর্য হয়ে গেলাম। আমি ইউ, কে ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থাটির বাংলাদেশ শাখার কান্ট্রি ডিরেক্টর। আর আমাকে বলে কিনা টাইপিষ্ট। রাগে ও ক্ষোভে অস্থির হয়ে গেলাম। কিছু বললাম না লোকটার সামনে। পরে জিজ্ঞেস করলাম, মামা! আমি যে টাইপিষ্টের কাজ করি তা আপনাকে কে বলল? উত্তরে জানাল, কেন, তোমার বউ সালমা! আমি চুপ হয়ে গেলাম। ঘরে এসে সালমাকে জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা আমি যে সংস্থার অফিসে টাইপিষ্টের কাজ করি এ কথা তুমি কি জাকির মামাকে বলেছো? সে বলল, না তো! আমি এমন কথা বলিনি। আমাকে মামা জিজ্ঞেস করেছে জামাই কি করে? আমি বলেছি অফিসে কম্পিউটারে লেখালেখি করে। আমি বললাম, তুমি তা বললে কেন, তুমি জান না আমি সংস্থার বাংলাদেশ ব্রাঞ্চের ডাইরেক্টর? সে বলল, আমি তো একদিন তোমার অফিসে গেলাম দেখলাম. তুমি কম্পিউটারে লেখালেখি করছ। আমি এটা মামাকে বলেছি, দোষ করেছি কি?
আমি বললাম তুমি আমার মোবাইল নম্বর জানো, মানে না দেখে বলতে পারো? আমার অফিসের ঠিকানা তোমার জানা আছে? তুমি আমার ঢাকার বাসার ঠিকানা জানো? আমি কি চাকুরী করি তা কি তুমি বলতে পারো? এ সকল প্রশ্নের উত্তরে সে শুধু না এবং না বলল।
আমি নিজেকে যেন আর ধরে রাখতে পারলাম না। অনেক কঠোর ভাষায় বকাবকি করলাম। তার মুর্খতার প্রতিবাদ করলাম চরম ভাষায়। অপমান করার মত কোন কথা বলতে যেন কৃপণতা করলাম না তখন। অবশ্য সে কথাগুলো আমি আপনাদের শুনাব না। ইতিহাসে অনেক কিছুই লেখা হয় না। আর তার এ ধরনের মুর্খতায় আমি অনেকবার বিব্রত হয়েছি। অনেকের কাছে ছোট হয়েছি। তার এ ধরনের মুর্খতাসুলভ আচরনের কারণে প্রয়োজন সত্বেও আমি তাকে কাছে রাখতে পারিনি। বাড়ীতে রেখে এসেছি। চার বছর ঢাকাতে এক সাথে ছিলাম। অবশ্য বিরক্ত হয়েছি এরচেয়ে বেশী। বন্ধুরা বলেছে, মনে হয় টাকার লোভে এমন অশিক্ষিত মেয়েকে বিয়ে করেছে।‌
আমি তাকে এ বকাবাকি করেছি ঐ দিন দুপুর দু টায়।
বকাবকি করার পর দেখি সে অন্য রকম হয়ে গেছে। দুপুরে ভাত খায়নি। সুন্দর সর্বদা হাসিখুশী মুখটা হয়ে গেছে কালো। আমি জিজ্ঞেস করলাম ভাত খেয়েছো? বলল, হ্যা। আমি বললাম, সে রকম তো মনে হয় না। আসলে ও সত্য বলেনি। আমি দুপুরে ভাত খেয়ে শুয়ে পড়লাম। দেখি রুমের দরজায় দাড়িয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে অন্যভাবে। তাকানোর মধ্যে আছে কিছুটা বিরক্তি। আছে কিছুটা ভালোবাসা। আরো ছিল অন্য কোন অনুভুমতি। তা আমি তখন বুঝতে পারিনি। আমার দিকে এভাবে কখনো তাকাতে দেখিনি। আমি তার দিকে তাকাতেই সে চলে গেল। আবার দরজায় এসে আমার দিকে এমনভাবে তাকিয়ে থাকল, যেন আমি টের না পাই, সেই আগের ভংগিমায়। আমি তাকাতেই আবার সরে পড়ল। এভাবে করল অনেকবার। আমি ভাবি, এমন করে কেন? কিছু কি বলতে চায়? যাক রাতে আমি তাকে জিজ্ঞেস করব। যা বলেছি তা মিটমাট করে নেব। বুঝাব। ও মনে খুব ব্যাথা পেয়েছে। পাওয়া দরকারও ছিল। আসলে তখনও আমি বুঝতে পারিনি এ বকাবাকি আর অপমানটা তাকে মারধোর করার চেয়েও বেশী ছিল। ঐ যে জসীমুমদ্দিন বলেছিল :
এত আদরের বুজিরে তাহারা ভালবাসিত না মোটে,
হাতেতে যদিও না মারিত তারে শত যে মারিত ঠোঁটে।
আজ এ পর্যন্ত। দ্বিতীয় পর্বে থাকবে তার হারিয়ে যাওয়া ও আত্নহত্যা প্রচেষ্টার বিবরণ। (চলবে)

২২টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×