somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মূর্খ বউটাকে এতো ভালোবাসি তা বুঝিনি কখনো আগে (দ্বিতীয় পর্ব)

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তারিখটা ২৮ শে মে ০৯। আছরের পরে গেলাম বাজারে। বাসায় ফিরে আসলাম সন্ধ্যার পর পরই। এসে দেখি আমার শ্বশুর এসেছে। তিনি প্রতিদিনই এ সময়ে বাসায় আসেন। দৈনিক তিনবার। সকালে, দুপুরে ও রাতে। শহরে দোকান ও তার বাড়ীর মধ্যে দূরত্ব ৮-১০ কিলোমিটার। আমার বাড়ী শহরে, তার পথের উপরেই। তাই যাওয়া আসার পথে একবার করে দুবার আর দুপুরে বাসায় ভাত খেতে আসেন একবার। এভাবে মোট তিনবার মেয়ে ও নাতীদের খোজ খবর নেন। একটি মাত্র মেয়ে আর তার দুটো ছেলে, এদের আদর যত্ন করেই দিন কাটে তাদের। ঘরে ঢুকে দেখলাম ছেলে দুটোকে খুব সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা হয়েছে। আমাকে বলা হল, ওরা ওর নানার সাথে যেতে চায় বেড়াতে। আমি বললাম, যেতে দাও। তারা দুজনে তাদের নানার সাথে চলে গেল। এখন আমরা দুজনই ঘরে। আমাকে চা দিল। কখন যে বিদ্যুত চলে গেছে টের পেলাম না। কারণ পুরো ঘরটাই আই পি এস এর অধীন। বাহিরে তাকিয়ে বুঝলাম বিদ্যুত নেই। আমি চা খেতে থাকলাম। খাওয়া শেষ। সে কাপ নিয়ে গেল। দেখলাম দরজার পর্দাকে আড়াল করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে খুব নিবির ভাবে। পর্দার নীচে তার পা দুটো দেখলাম। আমি একটু শুয়ে পড়লাম। কিছুক্ষণ পরে তাকে ডাক দিলাম। কোন সাড়া নেই। মনে করলাম উত্তর পাশে আমার বড় ভাইয়ের বাসা, সেখানে আড্ডা দিতে গেছে হয়ত। চিন্তা করলাম, কিন্তু কখনো তো আমাকে না বলে যায় না। আজ না বলে গেল? মনে হয় রাগ করেছে তাই। নিজেই জবাব দেই। যাক, বিদ্যুত আসুক তারপরে খোজ নেব। বিদ্যুত আসল, তখন বাজে রাত ৮-৪৫। ভাইয়ের ঘরে গেলাম। তোমার কাকী এসেছে? জিজ্ঞেস করলাম ভাতিজি সারা-কে। বলল, না তো, আমাদের বাসায় কাকী আসেনি। গেলাম দক্ষিণ পাশে আমার বোনের ঘরে। জিজ্ঞেস করলাম। না সেখানেও নেই। তাহলে গেল কোথায়? মুখ থেকে বেড়িয়ে আসল ইন্না লিল্লাহ . . ।
বড় ভাইকে ঘটনা বললাম। আমার বকাবকির কথাও গোপন রাখলাম না। তিনি বললেন, সম্ভবত বাপের বাড়ীতে গেছে ওখানে মোবাইল কর। মোবাইল করলাম শ্বশুরের কাছে, সালমা কি আপনাদের বাসায় গেছে? সে শুনে তো হতবাক। বলল, না। তাকে ঘটনা জানালাম। শ্বশুরের না উত্তর শুনে খূব অস্থির হয়ে উঠলাম। খোজাখুজি শুরু করে দিলাম। ছাদে, বারান্দায়, পানির ট্যাংকির মাঝে, পুকুরের পাড়ে সবখানে। এমনি সময় ঘরের মধ্যে সুকেচের উপর তাকাতেই দেখি সেখানে দুটো চিঠি পড়ে আছে। হাতে নিলাম। একটি আমার উদ্দেশ্যে লেখা আর অন্যটি তার পিতার উদ্দেশ্যে। আমার কাছে যা লিখেছে তা হল:
প্রিয় সখী
আজ এগার বছর হল তোমার সাথে একত্রে। আমাকে নিয়ে তুমি সুখী হত পারোনি। আমি তোমার সূখের জন্য অনেক বড় বাধা। আর বাধা হয়ে থাকতে চাই না। আমি আজ চললাম। চোখ দুটো যতদূর যায় আমি ততদূর যাবো। তোমার কোন কিছুই আমি নিলাম না। সোনার অলংকার আর টাকা পয়সাগুলো স্টীলের আলমারীর ডেস্কে রাখলাম। আর ছেলে দুটো বড় হলে আমার কথা বলবে যে, তোমাদের একটি খুব খারাপ মা ছিল। ওদের আদর যত্ন করবে। কখনো মারবে না।
ইতি
তোমার মূর্খ সাথি।।
তার পিতাকে যা লিখল তা হল:
আব্বা
আপনি বলতেন, এক মেয়ে যার হাজার লানত তার। আমি আর লানত হবো না। আপনার জামাই বিয়ে করেছে বা বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে। এখন আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে যেন আমি চলে যাই। গত এগারো বছরে সে আমার উপর অনেক অত্যাচার করেছে। আমি তা আপনাদের বলি নাই। আপনি কেন আমাকে পড়াশুনা করালেন না।
আমি এখন আত্নহত্যা করবো। এমনভাবে আত্ন হত্যা করবো যে, কেহ আমার লাশও পাবে না। আম্মাকে আমার সালাম বলবেন। আর কান্নাকাটি করতে নিষেধ করবেন।
ইতি
আপনার মেয়ে।।
চিঠি দুটো আমি হুবহু কপি না করে আমার ভাষায় এডিট করে লিখলাম।
চিঠি দুটো পেয়ে আমার মাথায় আকাশ ভেংগে পড়ল। কান্না জুড়ে দিলাম। কেন আমি তাকে শান্তনা দিতে দেরী করলাম। চিৎকার করে কাদতে চাইলাম।
খুজতে বের হলাম। কোথাও দু তিন বার করে তালাশ করলাম। মনে করলাম প্রথমবার তালাশে হয়ত ত্রুটি ছিল। পাশের বাসার বোনকে জিজ্ঞেস করলাম, তুই কি জান? ও কোথায় যেতে পারে? সে বলল, তিন/চার দিন আগে একটি স্বর্ণের চেইন বিক্রি করার জন্য আমার কাছে এসেছিলো। বললো, এটার দাম ত্রিশ হাজার টাকা। তুমি যদি কিনতে চাও সাতাশ হাজার টাকা দিলে চলবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তুমি বিক্রি করবে কি কারণে? সে বলেছিল, তোমার ভাই যদি আরেকটি বিয়ে করে তাহলে আমার তো একদিকে চলে যেতে হবে। তাই টাকা পয়সার দরকার। সে আরো বলেছিলো, তোমার ভাই বিয়ে করতে যাচ্ছে। আমি যে কি করি, কার কাছে পরামর্শ চাই? এ কথা শুনে বোনকে আমি বকা দিলাম। কেন তুমি আমাদের কাছে ঘটনাটা বললে না।
একটা মোটরসাইকেল নিয়ে বের হলাম। নদীর পারে, খালের মধ্যে, হাসপাতালে খুঁজতে থাকলাম আর থাকলাম কাঁদতে। সে কি কাঁদা! জীবনে এতো কাঁদিনি কখনো। এভাবে রাত বারোটা বেজে গেল তবুও খোঁজা শেষ হয় না। তার চাচাত ভাই আসলো। এসে শুধু খোঁজ করল, আমাদের বাসার মধ্যে। তাদের ধারনা আমি তাকে হত্যা করে লাশটা লুকিয়ে রেখেছি ঘরের মধ্যে কোথাও।
রাত বারোটার পর বড় ভাই এসে বলল, তুই এখন আমার ঘরে চল, ওখানে ঘুমাবি। আমি বললাম, না। আমি ঘরেই থাকবো। যদি রাতে ফিরে আসে তবে তাকে কে দরজা খুলে দেবে? মনে মনে বলি। ভাই বলল, তাহলে রাতে আবার খোঁজাখুঁজি করতে কিন্তু বের হবি না। আমি বললাম, ঠিক আছে। রাত একটার বেশী বাজে। ঘুম আমাকে ছেড়ে নিজেও কোথাও যেয়ে ঘুমোচ্ছে। আমি বের হলাম। দেখি রাস্তার কোথাও সে হাটছে কিনা। যাবার দু ঘন্টা আগে আমাকে প্রশ্ন করেছিলো, আচ্ছা, ইদুর মারার ঔষধ যদি মুরগীতে খায় তাহলে কি মুরগী মরবে? আমি বলেছিলাম, মরবে। সে কি ইদুরের বিষ খেয়ে রাস্তার কোথাও পড়ে আছে? থাকতেও পারে। একটু দেখি না। রাত দেড়টায় বের হলাম। খোঁজাখুঁজি করলাম। বড় ভাই দেখলেন। তিনি বললেন, তুই ঘরে যা। আমি ঘরে ঢুকলাম। সে বলল, চাবিটা দে। তিনি চাবিটা নিয়ে আমাকে ভিতরে রেখে বাহির থেকে কলাপসিবল গেট তালা দিয়ে চলে গেলেন। মানে আমি যেন রাতে বের হতে না পারি। ঘুম আসল না। চেষ্টা করলাম, কাজ হলো না। ভোর হওয়ার অপেক্ষা করতে থাকলাম। জীবনে যত রাত এসেছে প্রতি রাতেই কামনা করতাম ভোর যেন দেরীতে হয়। যে দু তিনটি রাতে ভোরের অপেক্ষা করেছি তার মধ্যে এ রাতটি ছিল সবচেয়ে দীর্ঘ। সবচেয়ে দু:খময়। পূবের জানালা খুলে বার বার তাকাই সুবহে সাদেক, কম হলেও সুবহে কাজেব দেখা যায় কিনা। ভোর হলেই আবার খুঁজবো। কিছুই বাদ রাখবো না। তাকে পেয়েই যাবো। ভোর হলো সেদিন অনেক দেরীতে। আজান হলেই খুঁজতে বের হলাম। ভাই আজানের কিছু আগেই তালাটা খুলে দিলেন। বের হলাম, এখন শুধু তাকে খুঁজি না। খুজি তাকে ও তার লাশ। বিষ খেলে এখন সে আর বেঁচে নেই।
প্রিয় জনের লাশ খোঁজা যে কত কষ্টের তা সেদিন বুঝে ছিলাম। হাসপাতালের মর্গে গেলাম। জানতে চাইলাম, কোন বেওয়ারিস লাশ আছে কিনা? বলল, একজন মহিলার লাশ আছে। শুনে আঁতকে উঠলাম। প্রশ্ন করল, বয়স কত? বললাম, সাতাশ/ আটাশ। বলল, না, যে আছে তার বয়স হবে ৪৫-৫০। শুনে কষ্ট লাগল। স্বামীর কথায় কষ্ট পেয়ে ঘর ছেড়ে সে লাশে পরিণত হয়নি তো আবার?
হাসপাতালের পঙ্গু সেক্টরে গেলাম। গেলাম মেয়েদের ওয়ার্ডে। মহিলা গার্ডরা বলল, হ্যা, সালমা নামে এক রোগী আছে। বয়স সাতাশ/ আটাশ হবে। শুনামাত্র সব লজ্জা রেখে তাদের ধাক্কা দিয়ে ঢুকে গেলাম ওয়ার্ডে। হাজির হলাম সেই সালমার কাছে। দেখি নাম ও বয়স দুটোই ঠিক আছে। তবে চেহারা ঠিক নেই। সালমাকে ভালমত দেখে আশাহত মনে চলে আসলাম। আহ! এই সালমা যদি আমার সালমা হত! সময় যত যাচ্ছে লাশ খোঁজার আবেদন ততই জোরদার হচ্ছে।
শুধু আমিই খুজি না। খুজে আত্নীয় স্বজনের অনেকে।
সবাই পরামর্শ দিল থানাতে একটি ডায়েরী করার। শ্বশুরকে নিয়ে থানায় গেলাম। তখন ২৯ শে মে শুক্রুবার। দেখলাম কয়েকজন মহিলা পুলিশ ডিউটি করছে। তাদের ঘটনা বললাম। নতুন যে আসল, আমাদের দিকে ইঙ্গিত করে জিজ্ঞেস করল কলিগের কাছে, উনাদের সমস্যা কি? বলল, আংকেলের বউ পালিয়ে গেছে। খোঁজার জন্য আসছে। আমার ব্যথা নিয়ে তাদের কিছুটা বিদ্রুপ। মুখে দাড়ি আছে বলে আংকেল হতে পেরেছি এ বয়সে। নয়তো এ পুলিশ মেয়েদের বয়সি ভাতিজি আমার নেই। জিডি লেখল এক মেয়ে পুলিশ। ভাগ্য আমার ভাল, পুরুষ পুলিশ হলে অনেক প্যাঁচাপ্যাচি করতো। আচ্ছা আংকেল আপনার স্ত্রীর সাথে অন্য কোন পুরুষের ভাব ছিল? আমি বললাম, না। কখনো নয়। সে ও রকম মেয়ে নয়।
আশ্চর্য হলাম, তার ঘনিষ্ট আত্নীয়রাও সন্দেহ করতে শুরু করলো হয়ত কারো সাথে ভাব ছিল। তাকে খোঁজো। অমুককে খোঁজো কাজ হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বললাম, শুনেন, তাকে আমি ভাল করে চিনি। তাকে জানি আপনাদের সকলের চেয়ে বেশী। তার সাথে আমি ছাড়া আর কারো ভাব ছিল না। সাবধান, কারো সাথে তার ভাব ছিল, এমন কথা আর কেহ মুখে আনবেন না।
এভাবে জুমার নামাজের সময় হয়ে গেল। সজাগ থাকার বয়স হল ৩২ ঘন্টা। একটু ঘুমও হয়নি চেষ্টা করেছি বহু। শুধু খোঁজাখুঁজি আর কাঁদাকাঁদি। আমি, তার পিতা-মাতা, তার ভাই, আমার ছয় বছরের ছোট ছেলে সবাই মিলে কাঁদি। সবচেয়ে ব্যথা পাই যখন ছোট ছেলেটা আম্মু কোথায়, কখন আসবে বলে কাদা শুরু করে তখন। বড় ছেলেটার বয়স আট। ও কেমন যেন স্বাভাবিক। কিন্তু ছোট ছেলেটা যেন আমাদের চেয়েও বেশী বোঝে। শুধুই কাঁদে। দুপুরে ভাত খেয়েছিলাম কিনা মনে নেই।
কি কারণে এতো কাঁদলামঁ নিজের কাছেও স্পষ্ট জবাব নেই আজ। শুধু মনে পড়ে তার ভালোবাসাগুলো। কখনো সে খারাপ আচরণ করেছে এমন কিছুই মনে পড়ে না এখন। বরং তার অন্যায় অনাচারের সব ঘটনাগুলোকে এখন ভালোবাসার কাহিনী বলে মনে হয়। তার বিরক্তিকর আচারগুলোকে এখন মনে হয়, ওগুলোতো ছিল সব ভালোবাসা আর আদর-যত্নের কলাকৌশল। সেই পঁচিশ আর সতের বছর বয়স থেকে একত্রে চলা শুরু। আজ হঠাত করে মাঝ পথে এসে পথটা শেষ হয়ে গেল?
মনে পড়ে যায়, একত্রে নিজ বাসা থেকে যেতাম শ্বশুরবাড়ি। নদীর তীরে তীরে পাঁচ কিলোমিটার পথ। রিকসায় যেতাম দুজেন। কখনো দু হাত দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরত। লোকে দেখলে কি বলবে? বলে নিষেধ করলে অবশ্য এক হাত সরিয়ে নিত, পিঠের উপর অন্য হাত দিয়ে আমাকে ধরে রাখতো এমন ভাবে, যেন আমি পড়ে না যাই রিকসা থেকে। বিরক্ত হতাম। যখন রাস্তা একটু ফাকা হত, চুমো দিত। ভাবতাম, ভালোবাসতে চায়, বাসুক। এভাবে করে শান্তি পায়, পাক। একবার দুটো মেয়ে দেখেই ফেলেছিল। খুব লজ্জা পেয়েছিলাম। ঐ দুষ্ট দুটো চুপ থাকল না। বলে উঠলো, আপা বোরকার মধ্যেও এই কাম?!
যখন বাহিরে বের হতাম, সব সময় আমি সানগ্লাস পড়তাম এখনো পড়ি। তাকেও বলতাম পড়ার জন্য। কিন্তু শুনাতে পারিনি কখনো। বরং রিকসায় উঠে আমার সানগ্লাসটি খুলে নিয়ে ব্যগে রেখে দিত। বকাবকি করেছি কম না। কাজ হয়নি। এভাবে করে একটা দামী সানগ্লাস হারিয়ে ফেলল। নালিশ দিলাম একদিন তার মায়ের কাছে। নালিশ শুনে সালমা খুব হাসল। আমাকে এসে বলল, আরে বলদ! সানগ্লাসটা কেন খুলি তা জানো না? সানগ্লাসটা চোখে থাকলে চুমো দিতে পারি না। গুতা লাগে। তাই ওটা খুলে রাখি।
আমি যে কথা পছন্দ করি না অনেক সময় সে কথা আমাকে বলে হি হি করে হাসত। আর আমি রাগ করতাম। এ অবস্থা দেখে একদিন তার মা তাকে বকা দিয়ে বলল, তুই খামাখা ওকে ক্ষাপাও ক্যান? সে বলল, মা, যখন ও রাগ করে বকাবকি করে তখন চোখ দুটো বড় করে আর নাক ফুলায়। দেখতে ভালো লাগে। তাই মাঝে-মধ্যে একটি ক্ষাপাই। মা তাকে বললেন, তুই একটা পাগল। বিয়ের আগে ছিলি অর্ধেক আর বিয়ের পর হয়ে গেছ পুরো পাগল। আমার কপাল। মনে করেছিলাম বিয়ে দিলে তোর পাগলামিটা কমবে।
এভাবেই এখন তার সব বিরক্তিকর আচরণগুলো আমার কাছে ভালোবাসার কৌশল হিসাবে পরিণত হতে লাগলো।
ঘরে ঢুকি আর ভাবি, সে যদি ফিরে না আসে, এ ঘরে তার স্থানে অন্য এক মেয়ে আসবে। সে তার স্থানে বসবে। হাটবে তার হাটার জায়গায়। না, আমি তা কখনো সহ্য করবো না। কখনো তার স্থানে কোন মেয়ে আসতে দেব না। হাজার বছর বেঁচে থাকলেও আসতে দেব না তার স্থানে কোনো মেয়েকে। কিন্তু আত্নীয় স্বজনরা কি মেনে নেবে আমার এ সিদ্ধান্ত? এমনি ভাবতে থাকি আর কাঁদি। এভাবে করে সন্ধ্যা হয়ে গেল। আমার কাছে মনে হল, একদিন নয়, চলে গেছে কয়েক বছর। সন্ধ্যার পর বের হয়ে দু একটি পত্রিকায় নিখোজ বিজ্ঞাপন দিলাম।
রাত যত গভীর হয়ে আসে আমাদের কান্নাকাটি যেন তত গতি লাভ করে। যারা শান্তনা দেবার জন্য এসেছিল তারা ভোর থেকে রাত পর্যন্ত শান্তনা দিতে দিতে তাদের পুঁজি শেষ করে ফেললো। এখন তাদের বলার আর কিছু নেই। ফলে তারাও আমাদের সাথে যোগ দিল কান্নাকাটিতে।
মনে পড়ে গেল গতকাল এমন সময় না আমাকে চা খাওয়ালো! আজ সে কেন চা দেয় না? আজ সে এখন কোথায় লাশ হয়ে পড়ে আছে? আল্লাহ কি এতো নিষ্ঠুর, তার মত একটি মেয়েকে বে ওয়ারিশ লাশ বানিয়ে কোথাও ফেলে রাখবেন? হতে পারে না। আবার হতেও পারে, আমাদের শাস্তি হিসাবে।
ভাইকে বললাম, আমি মনে হয় এক্সিডেন্ট করতে যাচ্ছি। আমার হৃদপিন্ড বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ভাই বলল, তোর ঘর ছেড়ে আমার ঘরে একটু বিশ্রাম নে। পারলাম না তার কথা রাখতে।
ভাই বললেন, দেখ! তোর কথা-বার্তায় বুঝতাম, তুই তো ওকে মানুষই মনে করতি না। এখনতো বুঝেছিস, আল্লাহ একটা মানুষকে কত মুল্যবান করে সৃষ্টি করেছেন? কত তার দাম? এভাবে করে রাত এগারটা বেজে গেল। বাচ্চারা কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়ল। বড়টা কিছু খেল। ছোটটাকে খাওয়ানো গেল না কিছুই।
(চলবে)

২৩টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×