রাত তখন এগারোটা বিশ। খাওয়া দাওয়ার দিকে কারো কোন খেয়াল নেই। আমি, আমার শ্বশুর, শাশুড়ি, আমার শালা আর বাচ্চা দুটো ঘরে। বাচ্চা দুটো ঘুমিয়ে। আর সবাই বসে বসে কাঁদে। এখনো যখন কোন খোঁজ মিললো না তখন আর বেঁচে নেই। বলতে থাকলো দৃঢ়তার সাথে। আর কান্নার গতি বাড়িয়ে দিল। এরই মধ্যে দেখলাম শ্বশুরের কাছে একটি মোবাইল আসল। উনি রিসিপ করেই জিজ্ঞাসা করলেন। আয়! কি কও? জ্যাতা না মরা? বলেই তিনি বেহুশ হয়ে পড়লেন। আমি বুঝলাম, ভাল একটা খবর এসেছে। বেহুশ হওয়া মানুষটির হাত থেকে মোবাইলটা নেয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু তিনি সেটটি এমনভাবে শক্ত করে ধরলেন, ছাড়িয়ে নিতে পারলাম না। বুঝতে পারলাম না এটা কোন ধরনের বেহুশ। দু মিনিট পর হুশ ফিরে আসল। চিৎকার করে বললেন, আমার মা পাওয়া গেছে। বললাম কিভাবে? কইতে পারি না! কইতে পারি না!! তিনি বললেন।
আবার মোবাইল আসল। তিনি রিসিপ করলেন, বললেন, আমাকে একটু কথা কওয়াইয়া দে! আমার মায়ের সাথে আমারে একটু কথা কওয়াইয়া দে!! তার মায়ের সাথে কথা হওয়া মাত্রই তিনি দরজা থেকে বের হয়ে সিড়ির উপর বেহুশ হয়ে পড়লেন। হুশ ফিরে আসলে সবাইকে খবর দিলেন, আমার মা সুস্থ আছে, বাসায় ফিরে আসছে। এখন তারা সকলে আমার বাড়ি থেকে তাদের বাড়ীতে রওয়ানা দিলো। দুটো মোটর সাইকেল আগেই প্রস্তুত ছিল। দেখলাম, আমার বিষয় কেহ কিছু বলছে না। আমি নিজেই বললাম, আমিও যাবো। বড় ভাই চোখ গরম দিয়ে বললেন, কেন, তুই যাবি কেন? আমি বললাম, তাকে এখুনি বাসায় নিয়ে আসবো। তিনি আরেক দফা চোখ রাঙ্গানি দিলেন। আমি তা বুঝেও এড়িয়ে গেলাম। কি সমস্যা, তাদের কেহ আমাকে নিতে আগ্রহী নয়। তবু জোর করেই গেলাম। যেয়ে দেখলাম, সে কিছুটা ভারসাম্যহীন। আমাকে চিনতে পারল না। মনে দু:খ পেলেও আনন্দের কমতি ছিল না। দেখেই আবার ফিরে আসছিলাম। পথে থাকতেই বড় ভাইয়ের ফোন, এই শোন . . । আমি বললাম পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আমি আসছি। তিনি বললেন, আসো, তারপর বলবো।
রাত প্রায় সাড়ে বারো। ভাত খেতে বসলাম। বড় ভাই বললেন, তুই এত বোকা কেন? আমি বললাম, কেন, কি হয়েছে? বললেন, তুই কি জানিস, আল্লাহ তোকে কত বড় বিপদ থেকে বাঁচিয়েছেন? তুই ঐ চিঠিটি তোর শ্বশুরের কাছে কেন দিলি? মেয়ে ফিরে না আসলে ওটা দিয়ে তোকে তারা ভালোভাবে ফাঁসিয়ে দিতো। এখন না করলেও যা করেছে তা কম কি? যত মানুষ এসেছে সকলকে ঐ চিঠি দেখিয়েছে। তাতে আমাদের ফ্যামিলির বদনাম হয়েছে চরমভাবে। আবার যখন ফিরে আসার খবর শুনলি তখন কারো কথা না শুনে দৌড় দিলি। এতো আবেগপ্রবন হলে এ জগতে কিভাবে চলবি? এখন ঠিক হয়ে যা। যে মেয়ে এতো বড় কাণ্ড ঘটিয়েছে সে তোকে খুন করে তোর সব সম্পদ সম্পত্তি দখল করে নিতে পারে। সাবধান থাকবি। আর ব্যাপারটা একা সামাল দিবি না। আবার বিপদে পড়বি।
তার কথা শুনছিলাম আর ভাত খাচ্ছিলাম। ভাত খাওয়া শেষে নিজ ঘরে ঘুমাতে গেলাম। কিন্তু ঘুম আসে না। গত রাতে ঘুম আসলো না দু:খে, আর আজ রাতে ঘুম আসে না আনন্দে। কি বিচিত্র মন মানুষের!
আজও ভোর হলো। তবে প্রত্যাশার চেয়ে বেশ আগে। যে ছেলে দুটোকে ভোরে কোনভাবে ঘুম থেকে জাগানো যায় না তাদের আজ যখন একবার বললাম, তোর আম্মু ফিরে এসেছে দেখতে যাবি না? ওরা লাফ দিয়ে উঠে বসল - আম্মু কোথায়? আমি অবাক হলাম এভাবে ওদের ঘুম ভাঙ্গতে দেখে।
রাত পোহাবার সামান্য পর শ্বশুর ফোন করল। সালমা বাচ্চাদের একটু দেখতে চায়। দেয়া যাবে? আমি বললাম কি বলেন, দেয়া যাবে না মানে? তার সন্তানদের দেখবে তাতে তাকে কে বাধা দেবে? মাসূম-কে হুন্ডা নিয়ে পাঠিয়ে দেন তাড়াতাড়ি। ওরা ওদের মাকে দেখার জন্য অপেক্ষা করছে।
মাসূম হুন্ডা নিয়ে আসলো। তাকে সালমার মোবাইল ফোনটা দিয়ে বললাম, এখন গিয়ে আমাকে কল দিতে বলবে। মাসূম গেল অনেকক্ষণ, কিন্তু কোন কল আসে না। আমিই কল দিলাম। সালমা ফোন ধরল। কিন্তু কোন কথা বলতে পারলো না। শুধু ফুপিয়ে কাঁদার শব্দগুলোই শুনলাম। জিজ্ঞেস করলাম, আমার কথা কি মনে আছে? অনেক কষ্টে উত্তর দিল, আছে।
এ দিকে আমার বাসায় উপস্থিত ভাই বোন অন্যান্য আত্নীয়রা বৈঠকে বসল আমাকে বাদ দিয়েই। তাদের সকলের কথা হল, এ মেয়ে আমাদের বাড়িতে আর আসতে পারবে না। কিন্তু আমার মা -আসলে মা তো মা-ই - বলল, কেন? সালমার অপরাধটা কি? কি দোষে তাকে বিদায় দেয়া হবে? কখনো তোমরা এ চিন্তা করবে না। এ চিন্তা বাদ দিয়ে কিভাবে সংসারটা আবার সুন্দর করে চালু করা যায় সেই ব্যবস্থা করো। দেরী হলে আমি নিজে গিয়ে সালমাকে নিয়ে আসবো।
যাকে হারিয়ে এত খোঁজাখুজি, যাকে পাওয়ার জন্য এত কান্নাকাটি তাকে পেয়েও যেন পাওয়া যায় না। তাকে বাসায় আসতে বারণ করে দেয়া হল আমাদের ফ্যামিলি থেকে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বলবত থাকবে এ নিষেধাজ্ঞা।
সকাল দশটার দিকে আবার ফোন করলাম চুপি চুপি। বাসার কেহ যেন না জানে। বললাম, আজ আমি ঢাকা যাচ্ছি। প্রতিবার তোমাকে ঘরে রেখে যাই। আজকে বাধ্য হয়ে বাহিরে রেখে যেতে হল। খুব খারাপ লাগে। তোমার কি হয়েছিলো আমার একটু শুনতে মনে চায়। কিভাবে শুনবো বল? সে কিছুই বলল না। আমি বললাম, আজ আমি লঞ্চে উঠব তিন ঘন্টা আগে। পারাবত -৭, কেবিন নং ৩৪। তুমি আমার সাথে বিকাল পাঁচটায় ওখানে দেখা করবে, যদি ভাল লাগে। সাবধান! কেহ যেন না জানে।
জীবনে চুপি চুপি কারো সাথে ভাব বিনিময় করিনি, করি নাই প্রেম। আজ নিজ স্ত্রীর সাথে পালিয়ে কথা বলে এর কাফফারা আদায় করতে হচ্ছে।
আমি রওয়ান দিলাম। কতদূর যাওয়ার পর দেখি, সে তার ছোট ভাইয়ে সাথে একটি মটর সাইকেলে যাচ্ছে একই গন্তব্যে। আওয়ায দিলাম না। দেখলাম, কিন্তু ভাব করলাম যেন তাকে আমি দেখিনি। মনটা খারাপ হয়ে গেল। এতটা দিন এক সাথে থাকার পর আমি তাকে চিনেও না চেনার ভান করলাম। এমনি কি মানুষের সাংসারিক জীবন? দীর্ঘ দিন এক সাথে থাকার পর যখন বিচ্ছেদ হয়ে যায় কোন দুর্ঘটনায় তখন যেন একে অপরকে চিনতে চায় না। আসলে কি ওরা কেউ কাউকে ভুলতে পারে? আমার মনে হয়, শুধু ভুলে যাওয়ার অভিনয় করে। আর বাস্তবে একে অপরের জন্য কাঁদে চুপি চুপি।
আমার পৌছার আগেই জায়গা মত এসে অপেক্ষা করতে লাগলো। আমি আসার পর বসালাম কেবিনে। শুধু দু চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে যাচ্ছে। গোলাপী ঠোট দুটো সে জলে ভিজে যাচ্ছে বার বার। শুরু করল কথা বলা, আমি এ কী করলাম! এত সুন্দর সূখের সংসারটা ভেঙ্গে দিলাম? এত আদরের স্বামীটাকে হারালাম। বাচ্চাদের বা কি হবে?
আমি বললাম, সব ঠিক হয়ে যাবে হয়ত। আগে বল, আসলে ঘটনাটা কি ঘটেছিল? তুমি কোথায় গিয়েছিলে আর কিভাবে?
ও বলা শুরু করল। যতক্ষণ বলল, ততক্ষণ কাঁদলো। বলা শেষ হওয়ার পরেও কাঁদলো। আসলে মেয়েদের কাঁদতেও কোন নোটিশের প্রয়োজন হয় না, আর হাসতেও কোন পূর্ব প্রস্তুতি লাগে না।
বলে চলল এভাবে : তোমার বকাবকি শুনে আমার বিশ্বাস হল, আসলে তুমি আমাকে নিয়ে খুব অসুখী। তোমার জীবনটা আমিই নষ্ট করেছি। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম, তোমার যাতে সূখ হয় সে জন্য আত্নহত্যা করবো। তাহলে তুমি একটি শিক্ষিতা মেয়ে বিয়ে করে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে পারবে। সেদিন তুমি বাজারে যাওয়ার পর ঘরে বসে আমি বিদ্যুত গায়ে লাগিয়ে আত্নহত্যা করার চেষ্টা করেছিলাম। যতবার নেল কাটারটি প্লাগের মধ্যে ঢুকিয়েছি ততবার বিদ্যুত আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। আর নেল কাটারটি দু টুকরো হয়ে গেছে। আমি মনে করলাম, এভাবে আত্নহত্যা করা যাবে না। নিয়ত করলাম, ঢাকাগামী লঞ্চে উঠে মেঘনা নদীতে ঝাপ দিয়ে আত্নহত্যা করবো। তোমাকে চা দিয়ে আমি শুধু পনের টাকা সাথে নিয়ে ঘর থেকে বেরুলাম। গেটের সামনে বেশ কিছুক্ষণ দাড়িয়ে ছিলাম, দেখি তুমি আমাকে খোঁজ করতে আসো কি না। দেখলাম, তুমি আসলে না। আমি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য রিকসা নিয়ে লঞ্চ ঘাটে গিয়ে একটি লঞ্চে উঠে পড়লাম। লঞ্চ ছাড়ার অনেক পর যখন বড় নদী আসলো তখন আমি নীচ তলার দেয়াল ডিঙ্গিয়ে পাশে গেলাম নদীতে ঝাপ দেব বলে, অমনি এক আনছার আমাকে ডাক দিল। বলল, এ আপা আপনি ওখানে কি করেন? পড়ে যাবেন। আনছারের ডাক শুনে ভিতরে আসলাম। ডেক শ্রেনীতে এক মহিলার সীটে বসলাম। প্রচন্ড খিদে ছিল। দুপুরে কিছু খাইনি। মহিলা আমাকে বসতে দিলো না। আমি মনে মনে বললাম, আসলে ডেক আমার স্থান নয়। আমি যতবার ঢাকা গিয়েছি ততবার কেবিনে গিয়েছি। আমাকে কেবিনে যেতে হবে। কেবিনের সামনে ব্যালকনিতে একটি চেয়ারে বসে থাকলাম। রাত তখন আনুমানিক এগারটা হবে। আমি যখন কুল কিনারাহীন নদী দেখলাম, তখন ঝাপ দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিলাম। রেলিং বেয়ে উপরে উঠে যখন ঝাপ দিতে গেলাম তখন এক জন পুরুষ লোক আমাকে ডাক দিল। তাড়াতাড়ি এসে আমার হাত ধরে ফেলল। সে বলল, আপনি কি করতে যাচ্ছেন? আমি বললাম আমি আত্নহত্যা করতে যাচ্ছি। বলল, কেন? আমি তাকে বললাম যতটা পারা গেল। সে বলল, আপনি আপনার যে স্বামীর সূখের জন্য এ কাজ করতে যাচ্ছেন আপনার এ কাজে সে কি সূখী হতে পারবে? আমি বললাম, সে আরেকটি বিয়ে করে সুখী হবে। সে বলল, আপনি কি জানেন আপনি তার কতটা সর্বনাশ করতে যাচ্ছেন? আমি বললাম, কিভাবে? সে বলল, আপনাকে না পেয়ে আপনার পরিবারের লোকেরা তাকে জেলে ঢুকাবে। তার ফাঁসিও হতে পারে। সারা জীবন জেলে থাকতে হতে পারে। আর আপনার ছেলে দুটোর কি হবে? আমি বললাম, আপনি কি সত্যি বলছেন? সে বলল, আমি সত্যি বলছি। আমি শিক্ষক মানুষ। আমি বললাম, তাহলে এখনই আমি যেন বাড়ী যেতে পারি আপনি একটু সেই ব্যবস্থা করে দিন। সে বলল, আপনার আব্বার মোবাইল নম্বর দিন। না হয় আপনার স্বামীর বা অন্য কোন আত্নীয়ের নম্বর দিন। বললাম, মনে নেই। আপনার নিজের মোবাইল কোথায়? প্রশ্ন করল লোকটি। আমি বললাম, ওটা আমার স্বামীর বাড়ীতে রেখে এসেছি। লোকটি বলল, তাহলে আপনার নম্বরটি দিন। আমি বললাম, কোন নম্বর আমার মুখস্থ নেই। লোকটি বলল, তাহলে কি করবেন? আগামী কালকে গাবতলী যেয়ে আমি আপনাকে বাসে উঠিয়ে দেব। বরিশাল নেমে আপনি বাড়ীতে চিনে যেতে পারবেন? আমি বললাম পারবো। লোকটি পরের দিন সকালে আমাকে বাসে টিকেট কেটে উঠিয়ে দিল। আমি রাত ন টার দিকে বরিশাল পৌছলাম। বাস ষ্টান্ড থেকে দুই শত টাকা দিয়ে রিকসা ভাড়া করে বাড়ীতে গেলাম।
এ হল আমার মূর্খ বউটার জবানবন্দি।
আমি তাকে বললাম, তুমি আমাদের বাসার সামনে দিয়ে গেলে অথচ বাসায় ঢুকলে না কেন? সে বলল, দেখলাম বাসায় অনেক লোকজন আছে তাই ঢুকতে সাহস পায়নি। আমি আরো বললাম, তুমি কি জানো যে ব্যক্তি সাঁতার কাটতে জানে সে পানিতে ঝাপ দিয়ে আত্নহত্যা করতে পারে না? বলল, আসলে আমি পাগল হয়ে গেছি। আমি বললাম, আচ্ছা নদীতে ঝাপ দিয়ে আত্নহত্যা করার এ আইডিয়াটা কোথা থেকে পেলে? আমি তোমাকে কয়েকবার টাইটানিক মুভিটা দেখিয়েছিলাম, সেখান থেকে? কেন তোমার একটি ফোন নম্বরও মনে নেই? নিজেরটাও মনে রাখতে পারো না?
আমি তাকে বললাম, দেখ এতদিন তোমার ব্যাপারে ভাই-বোনদের কোন কথায় কান দেইনি। আমি আর তুমি ছিলাম সবকিছু। এখন আর সে অবস্থা নেই। তোমার সৃষ্ট বিপদে তারা আমার পাশে দাড়িয়েছিল। এখন মনে না চাইলেও তাদের কথা শুনতে হয়, মানতে হয়। তুমি কয়েকটা দিন বাপের বাড়ীতে থাকো। দেখি কি করা যায়।
ও দিকে ভাবী দুজন সারাদিন টিটকারী মারে। বলে ভাইয়া কত বড় বাহাদুর! দেখলামতো। একটা মূর্খ স্ত্রীর কাছে পরাজিত হয়ে এখন দাসখত দেয়ার অবস্থা।
আমি বললাম, দুনিয়ার অনেক বড় বড় দিগ্বীজয়ী বীর যারা কারো কাছে পরাস্ত হয়নি কিন্তু মেয়ে লোকের কাছে ঠিকই পরাজিত হয়েছে। এখনো হচ্ছে। তারপরও তারা বীর হিসাবেই টিকে গেছে ইতিহাসে। সালমা বাপের বাড়ীতে থাকে আর প্রতিদিন ফোনে কান্নাকাটি করে। এভাবে আর কতদিন সহ্য করা যায়? অসহ্য হয়ে পনের দিন পর সালমাকে বললাম, আগামী কাল আমি বরিশাল আসবো। তুমি পালিয়ে সকালে আমার বাসায় চলে আসবে। তারপর দেখা যাক কি হয়। কথা মত তাই হল। ও আসলো দরজা খুলে দিলাম। তবে ভাই বোনের অনেকে বলল, তোমার সাথে আমাদের কোন বিবাদ নেই কিন্তু তোমার বউকে রিটার্ণ পাঠাও বাপের বাড়ীতে। আমি বলি কি করবো, বুঝতে পারছি না। পাঠাতাম ঠিকই, যদি সাথে দুটো বাচ্চা না থাকতো।
দু দিন পর সালমা বলল, আচ্ছা বলতো, তুমি মানুষ না অন্য কিছু? আমি বললাম, কেন, কি হয়েছে? এত কিছুর পর তুমি আমাকে নিয়ে আবার সংসার করতে রাজী হলে? আমি কি মারত্নক একটি কাজ করলাম, তুমি তারপরেও. . .। আমাদের বাড়ীর সকলে তোমার কথা বলে, জানতাম ও ভালো ছেলে, অনেক ভালো। কিন্তু সে যে এতো ভাল তা আমরা জানতাম না। এর আগে বাড়ীর সকলে বলেছে, ওরা আলেম পরিবার। অনেক কঠোর। তোমাকে আর নেবে না। তুই কেন সংসারটা ভাঙলি? এখন তার সকলে তোমার আচরনে আশ্চর্য হয়ে গেছে।
আমি বললাম, আসল কথা হল, তুমি যদি এ কর্মটি না ঘটাতে তাহলে আমি কখনো বুঝতাম না তোমাকে আমি এত ভালোবাসি।
আসলে আমি তোমাকে মনে করেছিলাম তুমি গ্রামের একটি বোকা মেয়ে। এখন দেখি তুমি বোকা নও। তুমি অনেক বুদ্ধিমান। কিভাবে আমাকে সোজা করে ফেললে . . বাড়ীর সবাইতো এটাই বলে।
পাশে ছিল ছয় বছরের ছোট ছেলেটা। ও যে কোন কথা-বার্তা কান লাগিয়ে শোনে ও আর বোঝে বড়দের চেয়েও বেশী। আমার কথা শুনে বলে উঠল, তাহলে আম্মুকে এখন থেকে তুমি আর মূর্খ অশিক্ষিত বলতে পারবে না। মনে থাকে যেন। তার কথার কোন উত্তর আমরা দিলাম না, শুধু মনের মত হেসে নিলাম।
সমাপ্ত

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

