কথাটি আমার নয়। আমাদের মহানবী সা. এর একটি হাদীস। জানি না আমাদের জীবনে এর বাস্তবায়ন কতদুর।
অনেকদিন আগে টিভিতে একটি নাটক দেখছিলাম। নায়িকা তার ভালোবাসার নায়ক-কে বলছে, আমি তোমাকে ভালোবাসি, এ জন্য তোমাকে আমার বিয়ে করতে হবে কেন? তোমাকে ভালোবাসি বলে, তোমার সাথে আমার জীবন কাটাতে হবে কোন যুক্তিতে? আচ্ছা চাদ-কে আমরা ভালোবাসি, সে জন্য কি চাদের বুকে আমাদের ঘর বাধতে হবে?
নায়িকার ডায়ালগটি যুক্তিকে নাড়া দেয় বটে, কিন্তু তার মধ্যে একটি কৃত্রিমতার আভাস আছে। আমার কাছে তাই মনে হয়েছে, জানি না আপনাদের কাছে কেমন মনে হয়।
মহানবী সা. এর এ বাণীটি শুধু একটি বাণী নয়। ইসলামী কালচারের একটি মুলনীতিও।
কিভাবে?
চতুর্থ খলীফা আলী রা. এর খেলাফত কাল। রাতের বেলা রাজধানী কুফার অভিজাত এলাকার একটি বাড়ীতে এক যুবক ধরা পড়ল। সন্দেহ কর হল, সে চুরি করার জন্য বাড়ীতে ঢুকেছে। আলী রা. এর দরবারে তাকে উপস্থিত করা হল। জিজ্ঞাসাবাদে যুবকটি বলল, আমি আসলে চুরি করতে আসিনি। এ বাড়ীর একটি মেয়েকে আমি ভালোবাসি। তাকে একটু দেখার জন্য পালিয়ে বাড়ীতে ঢুকেছি। এ উদ্দেশ্যে আরো কয়েকদিন এসেছিলাম, ঢুকতে পারিনি।
আলী রা. তার কথা শুনে মেয়ের বাবাকে বললেন, তোমার মেয়েকে হাজির করো। মেয়েকে হাজির করা হল। তাকে প্রশ্ন করা হল, এ যুবককে তোমার পছন্দ হয়? সে চুপ থাকল। আলী রা. বললেন, তাদের উভয়কে একত্র করে দাও। কেননা রাসূল বলেছেন, যে যাকে ভালোবাসে সে তার সাথে থাকবে।
মুয়াবিয়া রা. এর শাসন আমল। তার ঘরের এক ক্রীতাদাসী গান গাচ্ছিল : তোমার থেকে আমাকে এমন নির্দয়ভাবে ছিন্ন করা হল, যেমন কুঠারী গাছ থেকে ডাল-কে আলাদা করে দেয়. . ..।
মুয়াবিয়া রা. তার গানটা শুনে ফেললেন। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার এ গানটি কার জন্য? সে বলল, আমি আমার অমুক মনিবকে ভালোবাসতাম। তার জন্য এ গান। মুয়াবিয়া রা. তাকে তার ভালোবাসার মনিবের কাছে ফিরিয়ে দিলেন। আর বললেন, যে যাকে ভালোবাসে তার অধিকার হল, তার কাছে থাকার। আল্লাহর রাসূল আমাদের এটা বলে গেছেন।
ঘটনা দুটো ইমাম ইবনুল কায়্যিম রহ. এর রোগ ও চিকিতসা (আদ দা ওয়াদ দাওয়া) গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে। ওখানে এ রকম আরো অনেক ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।
ইসলাম এভাবেই ভালোবাসাকে মুল্যায়ন করতে ও সম্মান করতে শিখিয়েছে।
টিভিতে দেখা নায়িকার সেই ভালবাসার ডায়ালগ আর এ ঘটনা দুটো দ্বারা আমরা ইসলামী সমাজের ভালোবাসা আর ভোগবাদী সমাজের ভালোবাসার মধ্যে একটি পার্থক্য খুজে পাই।
ইসলাম বলে, যাকে ভালোবাসবে তার জন্য ত্যাগ করতে হবে- তার জীবনের ভাল-মন্দের দায়িত্ব নিতে হবে। আর আমাদের পাশ্চাত্য প্রভাবিত সমাজ মনে করে, যাকে ভালোবাসবে তাকে ভোগ করতে হবে। ভোগ না করলে ভালোবাসা হয় কিভাবে?
এ হাদীস থেকে আমরা আরো একটি নির্দেশনা পাই। তা হল, কোন ব্যক্তি কাউকে অকৃত্রিমভাবে ভালোবাসল। কিন্তু সামাজিক, ধর্মীয় বা অন্য কোন বাধা-বিপত্তির কারণে তাদের পরস্পরে মিলন সম্ভব হলো না। তার জন্য পরকালে একত্রে থাকার সুসংবাদ আছে এ হাদীসে।
উতসর্গ : ভালোবাসার মানুষকে ভালোবাসা জানাতে গিয়ে ভ্যালেন্টাইন ডে ধার করার জন্য পাশ্চাত্যের কাছে যাদের হাত পাততে হয়, সে সব আদর্শিক মিসকীনদের জন্য।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



