গত ২০ জানুয়ারি-২০১০ হামাসের সামরিক শাখার প্রধান মাহমূদ আল মাবহুহ দুবাইয়ের একটি হোটেল ইসরাইলী গোয়েন্দাদের হাতে নিহত হন।
এটা যেন গত ২০০৮ এর ডিসেম্বরে শুরু হওয়া হামাসের সাথে যুদ্ধে পরাজয়ের নির্মম প্রতিশোধ নিল ইসরাইল। এ ঘটনায় আমাদের সামনে কয়েকটি প্রশ্ন এসে যায়:
এক. এ ধরনের একটি কাজ যদি ইরান, সুদান অথবা পাকিস্তান দ্বারা সম্পন্ন হত, তাহলে বিশ্ব মোড়লগণ কি ভূমিকা নিতেন? আমাদের দেশের সুশীল সমাজ ও তাদের পরিচালিত মিডিয়ার লোকজন তখন কত কেজি নিন্দা জানাতেন? আর এখন তারা কি করছেন?
দুই. দুবাইয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অনেককে গর্ব করতে শুনেছি। বাহির থেকে এগারজন লোক এসে একটা মানুষকে হত্যা করে দেশ থেকে বের হয়ে চলে গেল, তখন শেখেরা কি করছিলেন? তাদের ক্যামেরাগুলো কি একমাস পর পর তথ্য দেয়, না প্রতি মুহুর্তে?
তিন. আমাদের দেশের অনেক সুশীলকে দেখেছি তারা বিভিন্ন সময় বিশেষ করে টিভি টকশোতে ইসরাইলের সাথে বন্ধুত্ব করার নসীহত করেন। তারা বলে থাকেন, ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক না করলে অর্থনৈতিকভাবে আমরা পিছনে থাকব। তারা কি এখনো চাইবেন ইসরাইলের সাথে বন্ধুত্ব করতে?
চার. দুবাইয়ের এয়ারপোর্টের কম্পিউটারগুলো কি ভুয়া পাসপোর্ট সনাক্ত করতে পারে না?
পাঁচ. ইউরোপ বা পশ্চিমাদের সম্পর্কে আরব ও মুসলমানরা দূর্বলতা ও ভয় কবে ত্যাগ করতে পারবে? আমাদের ভিসা দিতে আরবদের কত কষ্ট হয়, আর যাদের ভিসা দিতে ইসলাম নিষেধ করে তাদের ভিসাও দেয়, সাথে চুমো দেয় ফ্রি। যার পরিণতিতে আজকের এই পরিণতি। এগারো জন্য লোকের একজনকেও তারা আটকাতে পারল না।
ছয়. ইহুদীদের সাথে সম্পর্ক করার ক্ষেত্রে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ না করলে সামনে আরো বড় মাশুল দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ইহুদীরা তাদের নিজেদের ছাড়া অন্য কারো বন্ধু নয়। আজ আমাদের সমাজে যারা ইহুদীভক্ত, তারা না জানে তাদের ইতিহাস, না পড়েছে তাদের সম্পর্কে ইসলামী ধ্যান-ধারনা। কিছু খুদ-কুড়া পেলেই হল, ওদের পক্ষে শুরু করে দেয় প্রচরনা। অনেক সময় শুধু খুদ কুড়ার লোভ দেখালেই কাজ করে।
সাত. মুসলমানরা ইসলামের সবকিছু বর্জন করেও যদি বন্ধুত্ব ও শত্রুতার ইসলামী নীতি অনুসরণ করে তাহলে তারা মান-মর্যাদা নিয়ে টিকে থাকতে পারবে। এর সুন্দর দৃষ্টান্ত হল, আজকের ইরান। যদিও ইরানের সব পলিসি আমার কাছে ভাল লাগে না, কিন্তু পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে তারা কঠোরভাবে ইসলাম অনুসরণ করে বলে আমি মনে করি। তাই তারা এখনো পশ্চিমা মোড়লদের চোখে চোখ রেখে তর্জনী উচু করে কথা বলে। যতদিন তারা এ নীতি ধরে রাখবে ততদিন তারা নিরাপদ থাকবে।
আট. মাবুহকে হত্যা করা হল। সৌদী আরবে ইরানী পরমানু বিজ্ঞানী নিখোজ হল। সিরিয়ার পরমানু বিজ্ঞানী গায়েব হয়ে গেল। পাকিস্তানী পরমানু বিজ্ঞানীকে গৃহবন্দি করা হল। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে মুসলিমরা আগাবে কিভাবে?
আমাদের সমাজের অনেক সুশীল, তথ্য-প্রযুক্তি, জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলমানদের পিছনে পড়ে থাকার জন্য মোল্লা-মৌলভীদের চৌদ্দগোষ্ঠি উদ্ধার করে থাকেন। আর বিধর্মীদের তারা ফেরেশতা মনে করে থাকেন। তাদের মুখস্থ কথাগুলো পরিহার করে এ সকল ঘটনাবলী নিয়ে ভাবা উচিত।
নয়. ইহুদী গোয়েন্দারা কিভাবে মুসলিম জনপদে ঢুকে গেছে। শুধু ঢোকা বললে ভুল হবে বরং কিলবিল করছে। সাম্প্রতিককালের গুপ্ত হত্যাগুলো এ সবেরই প্রমাণ। নয়তো হামাসের একজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কম সিকিউরিটি ও গোপনীয়তা নিয়ে চলাফেরা করে না। ইহুদীদের কাছে তার চলাচলের নিখুতভাবে সকল তথ্য পৌছে গেল কিভাবে? ইসরাইলী চরেরা কত গভীরে গেলে পরে এটা সম্ভব? আজ যে সকল মুসলিম নেতা মনে করেন, আমাদের দেশের উন্নতি করতে হলে বিধর্মী ও বিদেশীদের জন্য সবগুলো জানালা-দরজা খুলে দিতে হবে, তারাও বিষয়টি নিয়ে আরেকবার ভাবতে পারেন।
দশ. মুসলিম দেশগুলোর গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এ খাতটি উন্নয় না করে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-প্রযুক্তিতে উন্নয়ন ঘটালে তেমন লাভ নেই। যুদ্ধ শুধু রাজনীতিতে নয়। ব্যবসা-বাণিজ্যেও।
এগার. আমাদের মধ্যে যারা নিজেদের উদারপন্থী ভাবেন। বিধর্মীদের হাতে হাত রেখে মুসলিম চরমপন্থী দমন করেন তাদের বুঝা উচিত, ওদের শত্রু শুধু চরমপন্থী মুসলিমরা নয়। ওদের শত্রু হল আসলে আপনার মত শক্তিশালী মুসলিমরা। মনে করুন আপনাদের ও আপনাদের বিধর্মী বন্ধুদের প্রচেষ্টা আল্লাহ কবুল করে নিলেন। পৃথিবী থেকে সকল চরমপন্থী নির্মূল হয়ে গেল। এরপর কারা তাদের শত্রু হবেন? আপনারাই। ইরাক ও সাদ্দাম হোসেন চরমপন্থী ছিল না। তবে বিধর্মী বন্ধুরা তাকে যথেষ্ট শক্তিশালী বলে ধারনা করেছিল। এমনিভাবে তালেবান আর আল কায়েদা তো এক সময় তাদের বন্ধুই ছিল। কন্ধুদের ব্যবহার করে যখন কমিউনিযমের পতন ঘটানো হল, তখন বন্ধুরাই শত্রুতে পরিণত হল।
আসল কথা হল আমাদের বিশ্বাসের বড় অভাব। আদর্শে আমরা বস্তুবাদী আর বিশ্বাসে আমরা চরম ভোগবাদী।
আল্লাহ তো বলেই দিয়েছেন : বিধর্মীরা কামনা করে যদি তোমরা কুফরী করতে যেমন তারা কুফরী করেছে। অত:পর তোমরা তাদের সমান হয়ে যেতে। সুতরাং তোমরা তাদের বন্ধু রূপে গ্রহণ করো না। (৪: ৮৯)
তাই একেবারে তাদের মত না হয়ে গেলে তাদের থেকে নিস্তার পাবেন না। হয়ত পুরোপুরি তাদের মত হয়ে যান, নয়ত পুরোপুরি শত্রুতার ঘোষণা দিয়ে দেন। মাঝামাঝি পথটাই বিপজ্জনক।
মুনফিকদের সুসংবাদ দাও যে, নিশ্চয় তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। যারা মুমিনদের পরিবর্তে বিধর্মীদের বন্ধু রূপে গ্রহণ করে। তারা কি তাদের কাছে সম্মান ও শক্তি চায়? অথচ যাবতীয় সম্মান আল্লাহরই। (৪: ১৩৮-১৩৯)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

