চার বছর আগের কথা বলছি। যে ফ্লাটে থাকতাম, তার পাশে একটি পাচ কক্ষের তিন শেড ঘর। শুনলাম, ওখানে দু জন রাজমিস্ত্রী আর দু জন গার্মেন্টস মেয়ে কর্মী বসবাস করে। স্বামী-স্ত্রীর মত করেই। কিন্তু তারা স্বামী-স্ত্রী নয়। তাদের মধ্যে চুক্তি হল, মেয়ে দুটো ঘর ভাড়া বহন করবে এবং রান্না-বান্না করবে। আর পুরুষ দুটো খাবার খরচ বহন করবে আর বাজার-সদায় করবে। এতে করে মেয়ে দুটোর খাবার খরচ সেভ হবে, বাজার করার ঝামেলা কমবে। আর পুরুষ দুটোর থাকার ব্যবস্থা হবে বিনা পয়সায়, আর রান্না-বান্নার চিন্তা করতে হবে না। বাকী অন্য সব ভোগ-উপভোগ বোনাস। যতক্ষণ না কোন দুর্ঘটনা হানা দেয়।
ভাড়াটিয়াদের একজন বাড়ীওয়ালাকে বলল, ওরা অন্যায়ভাবে বসবাস করছে। বাড়ীর মালিক হিসাবে আপনার কিছু করার আছে। বাড়ীর মালিক বলল, আমার ওখানে নাক-গলানোর কী দরকার? তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে ঠিকঠাক মত ঘর ভাড়া নিয়েছে। আর মাস শেষে ভাড়া দিচ্ছে। আমার সমস্যা কী? আমি কি ওদের কাবিন-নামা চেক করতে যাবো? আপনাকে যখন ঘর ভাড়া দিয়েছি তখন কি আপনাদের নিকাহ-নামা আমি চেক করেছি?
আমি জানি না, ওরা জানত কি না ওদের এ ধরনের বসবাস করার নামটা কি? শিক্ষিত মানুষেরা এটাকে নাম দেবেন লিভটুগেদার। বাংলায় এর একক প্রতিশব্দ আমার জানা নেই। কেহ জানলে আমাকে আমাকে বলে দেবেন।
এ ধরনের কত লিভটুগেদার যে আমাদের ভোগবাদী নগর সভ্যতার বিভিন্ন অলি-গলি, মহাসড়কে পাওয়া যাবে তার সঠিক পরিসংখ্যান বা আনুমানিক পরিসংখ্যানও আমাদের জানা নেই। খবরে যে সব ঘটনা প্রকাশ পায় এর চেয়ে যা প্রকাশ পায় না তার সংখ্যা অনেক বেশী।
গরীবদের খবর আমরা রাখি কজনে। বড় লোকেরা যখন এ কাজ করে বিপদে পড়ে তখন আমরা কিছুটা জানতে পারি মিডিয়ার বরকতে।
এ রকম একটি ঘটনা হল রাজধানীর উত্তরায় কনিকার আত্নহত্যা :
Click This Link
আরেকটি ঘটনা হল, জাবির ছাত্রী রুহির আত্নহত্যা :
Click This Link
লিভটুগেদার সমাজ ও রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে কতটা অন্যায় তা আমি পরিমাপ করতে পারবো না। ভারতের সুপ্র্রিমকোর্ট তো হিন্দু ধর্মের রেফারেন্সে ফতোয়া দিয়ে বলেছে, এটা বিলকুল জায়েয।
Click This Link
আশা করা যায় আমাদের কোর্টও কোন এক সময় লিভটুগেদার-কে কল্যাণকর বলে ঘোষণা দেবে।
লিভটুগেদার সম্পর্কে কোন ধর্মে কি বিধান আছে আমার জানা নেই। তবে ইসলাম যা বলেছে তা স্পষ্ট। আল কুরআনে একাধিক স্থানে বলা হয়েছে, . . .ব্যভিচারিনী বা গোপন যৌনসঙ্গীনি হিসাবে নয়। (৪:২৫)
ইসলাম এ সম্পর্কে কি বলে তা আলোচনা করার প্রয়োজন নেই। প্রতিটি মুসলিম জানে যে, বিষয়টি বৈধ নয়। এমনকি যে সকল মুসলিম ইসলামের ঘরে জন্ম নিয়ে নিজেদেরকে হতভাগা মনে করে বা ইসলামের নাম শুনলে বিব্র্রতবোধ করে তারাও জানে, ইসলাম এ সম্পর্কে কি বলে। ইসলামের একটি বড় সফলতা এখানে যে, সে তার অনুসারীদের জানাতে পেরেছে তার দৃষ্টিতে কোনটি ভাল ও কোনটি খারাপ। লিভটুগেদার ইসলামের দৃষ্টিতে এতটা মন্দ যে, যদি একজন নারী ও একজন পুরুষ এ নিয়্যতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, কয়েক বছর পর প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলে আমরা পরস্পরে আলাদা হয়ে যাবো, তাহলে এ বিবাহটিও বৈধ হবে না।
অনেকে বলতে পারেন, লিভটুগেদার মানুষের প্রয়োজনের জন্য। এখানে ইসলামের হস্তক্ষেপ করাটা ঠিক হয়নি।
তাদের বলা যায়, ইসলাম তার অনুসারীদের-কে সকল মন্দ ও নোংড়ামী থেকে সেভ করার চেষ্টা করবেই। এ ক্ষেত্রে সে কোন নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করে না। কোন জাহেলের জাহেলিয়্যাতের দাম দেয় না।
আমরা যখন একটি ছোট প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করি তখন তার সদস্যদের সেভ করার জন্য কিছু বিধি-নিষেধ প্রনয়ণ করি। যা অন্য প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যায় না। ইসলাম নামক একটি বিশাল প্রতিষ্ঠান তার অনুসারীদের রক্ষার জন্য কেন এ রকম করবে না?
যদি কোন কিছুতে মানুষের উপকার থাকে সেটা ইসলাম নিষিদ্ধ করবে না, এ ধারনা ঠিক নয়। এখানে ইসলামের নীতি হল, কোন একটি বিষয়ে মানুষের উপকার আছে আবার আছে তাতে ক্ষতিও। আর ক্ষতির পরিমাণটা বেশী। তাহলে ইসলাম ক্ষতির দিকটি বিবেচনা করতে বলে। মদ নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে এ নীতির কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে। (২:২১৯)
আলোচ্য ঘটনা দুটোতে আমরা দুটি মুল্যবান প্রাণকে আত্নাহুতি দিতে দেখলাম। এ দুটো ক্ষতি হাজার হাজার লিভ টুগেদারের উপকারভোগীদের উপকারের তুলনায় কত মারাত্নক! জীবন বাচানোর জন্য লিভটুগেদার জরুরী নয়। কিন্তু জীবন বাচানোর জন্য লিভটুগেদার থেকে দুরে থাকা কতখানি জরুরী?
এখানে যে বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই তা হল, লিভটুগেদারের মেয়ে যাত্রীটি কেন বার বার আত্নহত্যা করে? পুরুষ যাত্রীটি একবারও কেন আত্নহত্যা করে না?
অনেকে বলবেন, মেয়েটি কোন একটি দুর্ঘটনার আভাস পেয়েছিল। এতে করে নিজ মান সম্মানের প্রশ্ন জড়িত ছিল। তাই সে আত্নহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।
তাদের এ কথা আমি মেনে নিতে পারছি না। কারণ, মেয়ে দুটো এমন পরিবারের নয়, যেখানে এ ধরনের ঘটনাকে খুব খারাপ চোখে দেখা হয়। তা ছাড়া সেই দুর্ঘটনা তাদের জীবনকে তেমন সমস্যায় ফেলে দিত বলে ধারনা করা যায় না।
আমি মনে করি, মেয়েদের মধ্যে নৈতিকতাবোধ পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশী। যত দিন যায়, অপরাধ বোধ তাদের তত নাড়া দেয়। ফলে তারা এ অপরাধ থেকে মুক্তির জন্য এ পথ বেছে নেয়। বাস্তবতায় প্রমাণ, মেয়েরা পুরুষদের তুলনায় অনেক কম দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে থাকে।
আপনাদের কাছে হয়ত এ প্রশ্নের আরো ভাল কোন উত্তর আছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

