somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... আজকে আমি আজিজ!!!
আমি ততোক্ষনে আতেলের সঙ্গা শ্রবণ করতঃ নিজ বিবেচনায় আতেলের সঙ্গা তৈয়ার করতঃ আতেল সন্মেলনের সন্ধানে বাহির হইলাম। শিঘ্রই সন্মেলনস্থল পাইয়াও গেলাম।

.................................

আর এভাবেই আমিও আজিজ সমাজের অন্তর্ভূক্ত হইলাম। লোক মুখে শুনিতেছি আজিজ মার্কেট ভাঙ্গিবার কর্ম শিঘ্রই শুরু হবে এবং ইহার বিরোধীতা করিয়া আতেল সমাজ আন্দেলনের ডাক দিবার পায়তারা ফ্রাই করিতেছে। আমি তাই অতি শিঘ্রই আমার তল্পিতল্পা গুছাইয়া আজিজ মার্কেটের "কমিউনিটি" হইতে পলায়নের তথা "ন দো জ্ঞারা" হইবার পথ খুজিতেছি। কারন দেশ ও জাতির উন্নয়নে আজিজ মার্কেট ও তৎসংলগ্ন আতেলগন যে কী ভূমিকা রাখিবে তাহা আমি এতদিনে বুঝিয়া উঠিতে সক্ষম হইয়া গিয়াছি।

বি: দ্র: আশার কথা হইল, গত ৫ বৎসর অত্র আজিজে থাকিয়া লাভের মধ্যে এই লাভ হইয়াছে যে, অর্ধাহারে থাকার দরুন এবং খাদ্য হিসেবে কেবল চা, সিগারেট এবং "বন রুটি" খাইবার ফলে আমার দেহ হইতে অতিরিক্ত ৭ কিলোগ্রাম চর্বি কমিয়া গিয়াছে এবং চুল ও দাড়ি কামানোর পয়সা তো বাচিয়াছেই, উপরন্তু চেহারায় একটি "বদ-খত" ভাব ফুটিয়া উঠিয়াছে যাহা ব্যাবহার করিয়া আমি আমার স্বপ্নের "গঞ্জিকা ব্যাবসায়" ভালো যশ কামাইতে পারিব বলিয়া আশা করি।

জয়তু আতেলগণ, জয়তু আজিজ মার্কেট..."
ও আজিজ, তুমি না থাকিলে কি যে হইতো...লও হে,লও সালাম,
আমি নইকো নাট্যাভিনেতা আযাদ আবুল কালাম
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digitalboyati/28802336 http://www.somewhereinblog.net/blog/digitalboyati/28802336 2008-05-24 23:16:58
আজিজীয় রিমিক্সের চিপায় রবীন্দ্রনাথ <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_09.gif" width="23" height="22" alt=";)" style="border:0;" /> দেখা হইল চাটুজ্জে কাকুর ই সনে
চাটুজ্জে কে দেখিয়া শুধাই আমি, "হস্তে তোমার কি হে বহনী?"
চাটুজ্জে কহে, "এক কেজি বিদগ্ধ ফসিল খড়িদি আনিলাম গো কত্তা"
নেত্র সরাইয়া চাহিয়া দেখিনু তাহারই হস্ত পানে
দই এর ন্যায় থকথকে ফসিল দর্শনে গোলাদয় লাফিয়ে চলে খচখচ
চন্ডিতে পিন্ডি দিয়া করিনু ব্যাকরনের গুরুচন্ডালী দুষ
স্বীয় হস্তে নোবেল পাইয়িছি, আম্রিকা চালায় বুষ
মৃণালীনি দেবির প্রতি লিখিনু প্রেম পত্র
আজিজ বাজার গমন করিতি, আতেল যত্র তত্র
শিব্দ যাত্রা, আজিজে ফসিল করিনু ভাজন গিড়ি
আজিজে দাড়াইয়া ফুকিছিনু মুই, কমমুল্যের বিড়ি
তীরে আসিছি, তরী ডুবিল, বাংলাদেশেরে মারিছি নিতম্ব
ঢাবি হইতে নাখোশ ছিলাম, তবুও বাংলা আমরি মত্ব
"লবা-লছা" কবিতা রচিনু, গল্প সকলই কমন রচিছি
চামে প্রাপ্ত ১৯১৩
শেষের কবতে মারিছি
বঙ্গীয় হুমায়ুন, আমরি অন্ধ ভক্ত, সহে ভক্ত শশীরও
কর্নধারের বাশন্তি আশনী বানীনু ৯ নম্বরই বিপদী সংকেত
ইত্যাদি উপস্থাপনী, মুছ ওয়ালা হানিফ সংকেত
বঙ্গেতে বসতী, কুষ্টিয়া আস্থানা গাড়িতি
ঢাবি না হইতে হপায় চিক্কুইরিছিনু
বাংগাল তব ছিন্ন করনি আজিজীয় ফসিল বপন করিতেছিনু
মৃণালিনী দেবির পুর্বেও প্রেমিছি শত নারী
বিলেতে শ্বেত নারী প্রায় দিতং হেন এইড্স
ভগবান বাচিয়াছিনু, ও যাত্রা হেন
বর্ষপুর্তিখানে মৃণালিনীকে প্রদান করিনু ইমপোর্টেড নেকলেস
অংবচ্চন্তি ফসিলেরই সম্ভার
হুরুশপাটল মৃণালিনী বোরখা পড়িতু করিছে পুজা অর্চন
তক্ষুনী আমি আজিজীতে অ্যালবাট্রসে করিনু নিতম্ব লাথ্থন
গিড়দিরীবিহারীনি হিংলয় হিং টিং ছট
মৃণালীনি হট ছিল, দেখিনু লাগিত ছটফট <img src=" style="border:0;" />
মেট্রিক আর ইন্টারে খাইতেছিনু সমানে ছাত্রদিগের মস্তক
নিজে চামে ইশ্কুল পলায়তঃ বাচিয়া যাই অস্থিরেনু
আজিজী আজি করিছে মোর সাহিত্য পুনঃমিশ্রন
বলিয়া রাখি, সমকামই করিছিল মোরে সংক্রমন]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digitalboyati/28802292 http://www.somewhereinblog.net/blog/digitalboyati/28802292 2008-05-24 21:45:08
রিমিক্স অব এ কবিতা বাই মুন'স ওল্ড ওমেন<img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_09.gif" width="23" height="22" alt=";)" style="border:0;" /> একে রেডিও টুডে বলে না
ঐ যে টেন্ডুলকারের পেন্ডুলাম ঘুরে চলে অবিরাম
ধোনীর ব্যাট ঘোরে না, শেবাগের বউ কে ভেবে।

বেডরুমে রাখা খাতায় লেখা নিমগ্ন আজিজীয় কবিতা দুই
অনাদিকাল ফসিল নিয়েই করে ধ্যান।
থাক না পরে অথর্ব অ্যালবাট্রস, ছুটি তে যাক সেবিকারা,
আজিজের চা খাওয়া নাই বা হল তার।

সত্যি তুমি আজিজ নও! তুমি সাত্তার।
জেল পেনে লেখা ফসিলের ছবি
তুমি নও বড়লোকী ময় আরেকজন।
তুমি তৃতীয় ডাইমেনশন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digitalboyati/28802199 http://www.somewhereinblog.net/blog/digitalboyati/28802199 2008-05-24 17:44:47
বিদগ্ধ ফসিলের চিপায় নজরুল<img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_25.gif" width="23" height="22" alt=":P" style="border:0;" /> সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মুই তপ্ত ফসিল বান ডাকে
মুখ ফুটে তাও বুক ফাটে না, আজিজ মার্কেট ডাক পারে
আমি বিদ্রোহি আমি কান্ডারী
গরম কালেও চাদর গায়ে, আজিজে মুই ভাব মারি
পিনাক পানির তুন ধরিয়া, তপ্ত ফসিল পান করি
বুরা বয়স তাহার পরেও (আজাইরা) যৌবনেরও গান করি
ইন্টারের বাংলা বইয়ে, "যৌবনের গান" জালাচ্ছে সব পুলাপান
আজিজ মার্কেট, বিদগ্ধ ফসিল, গলা টিপে নিল প্রান
বুক ফাটে তাও জিন্স ফাটে না, ফুটপাত থেকে খরিদি
ফুটপাতের মাল টিকে বেশি, ভক্ত জনে তরিতি
বিয়ে করছি যথায় তথায়, ছিলাম আমি ক্যাসানোভা
ফাতরামীর সাজা সরুপ, শেষ কালেতে হইছি বোবা
জিলাপির প্যাচ, বুক ডলা খুন, অঞ্জলীতে ফসিলের ধুন
আজিজ মার্কেট অ্যালবাট্রসে, কুঞ্ঝটিকায় বান ডাকে
বিদ্রোহের গান ধরি, তপ্ত ফসিল রক্তের মত পান করি
কান্ডারী আর ভান্ডারীতে, পিড়িত করে বান্দরী
তাই দেখে আজ বক্ষে আমার, হুরুশপাটল চিকা মারে
অক্ষিগোলকে "যৌবনের গান", এইচ এস সি ফেল করে
মোর কবতে বুজে না কেউ, হুদায় তারা মুখস্ত করে
কাটা হেরি ক্ষান্ত কেল, পটল তুলিতে
মুখ বিনা চাপাবাজী হয় কি মহিতে?
"বিদগ্ধ ফসিল" বিনা হয় না আজিজিও কবতে
ছ্যারা জিন্সে ফুটপাতে ঘুরি, ক্যাসানোভার পিড়িতি
ঐ কপোত কোপের তুন ধরি, আজ আসলো যত সুন্দরী
কবিতা লেখা পাঞ্জাবীতে, আজিজেতে ভাব মারি
নজরুল গিতি, রিমিক্সিতি
রঅ্যাপ যুক্তিতে
পিনিক চান ফিউশন করি, দিল মোর আত্না মুক্তিতে
আজকে আমার রুদ্ধ প্রাণের পল্বলে,
আজিজ মার্কেট ঝড়িয়ে পরে, তৃতীয় বউয়ের গাল বেয়ে
আসল উদাস, শ্বসল হুতাশ
ফসিলের তৃষ্নায়, করি হাস ফাস
তুন মারে খুন ভাঙা যবন
ইটিভি তে দেখায় প্যাচালী মদন
তাদের কথা শোনাই তাদের
আমার চোখে জল আসে
বিদগ্ধ ফসিলের চিপায় পরে
আমার কবিতার গা ভাসে
ধন্যবাদ হে ব্যাভিচারী, রিমিক্স করিতি মোর কবিতা
ইয়ো ইয়ো এর যুগ একন, যৌবনের গান গাই আমি আর ববিতা
করহ করহ রিমিক্স, ফিউশন করতঃ মোর কবিতা
আজিজ মার্কেট জ্বালায়া খায়, বিদগ্ধ ফসিলের পিটিশ পিটিশ



কবির বক্তব্য: কমেন্ট পাইলে খুশি হইতাম। জানি আজিজের আতেলরা এই কবিতা নিয়ে হৈচৈ করবে...তাও।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digitalboyati/28794430 http://www.somewhereinblog.net/blog/digitalboyati/28794430 2008-05-05 13:03:51
মদুসুদনীয় মদনামী <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_25.gif" width="23" height="22" alt=":P" style="border:0;" /> আসমান হইতে পাতলা ফসিলের তপ্ত রস যে টপ টপ পড়িতেছে
হায় রে ফসিল! আজিজিও দিগের মস্তক ছিন্ন করিতি ক্ষীণ তোর ঝঞ্চা
তব কেন হানিলি মস্তিষ্ক মোর তীব্র উগ্রদিড়ী
অঞ্জলী মোর ক্ষীন তপোবন
নেত্র দিয়ে পরছে কুৎসীত ক্যাবলা কোলাব্যাঙ
আমি যে তোর বিদগ্ধ ফসিল
তপোবনে হেথায় যে জন্মিল ঝঞ্জা
অ্যালবাট্রস ফিঙে ঘন কালো এটো কেশ
প্রেয়সী হারায় যবন দাশের পিঙ্গল শিখলিত পরিশীলন
পাঙতেও চর্বনের চিরিরীত কিশলয়
তব কেন হানিছিস সিক্ত ফসিল
ফসিল আমি করিছি হাসিল, তব ধারা ঝঞ্চা
বাতাসের তরে শ্রোতস্বীনি কেন্দ্রিয় ধারায় পিঙ্গল নেত্র
মধ্য গগনে ভাসিছে পান্ডুব্যারামের ক্যাতা
পাংশুবর্ন প্রেয়সীর মুখবর্ন পিওর ছাই
কৃপাণ পাণি হন্তা ছুটিছে ঘোরসওয়ারের কান্ধা ভাঙ্গায়
হুরুশপাটল সিন্গ্ধ সেবিকার চার্চিল চে চৌবন
তুই বলিছিস "কস কি রে মুমিন?"
আমি উত্তরী "যাহা কৈচি সত্ত কৈচি স্বেয়তং"
স্বীয় নেত্র যূগল উহার তব ধারা জন্মিল স্বেতন
হুরুশপাটল প্রেয়শী মনোপটে চিকা মারে
চিকা মারা শ্রেয় হৈনি হরিণী তপ্বস্বীণী হিমাগ্রী মোদীনি
গিরীদড়িবিহারীনি তব কেন কুবলয়?
মাছের তারনে পদ্ম কেল্লাই কুবলয়?


বি: দ্র: কবিতাক্ষানী রচনা করিবার সময় কবি কিরন বারী পৃত (পান কৃত) ছিলেন তথা পিণিকে ছিলেন এবং যথারীতি "কিরন বারীর বোতল মানে কিরন বারীর বোতলের সাথে ব্যাভিচার" ধরনের আজিজিও ডায়লগ উদগীরন করিতেছিলেন। তবে উল্লেখ্য যে উক্ত সময় উনি কোনরুপ অশ্লীল গালাগাল করিতেছিলেন না, হই সত্য।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digitalboyati/28793946 http://www.somewhereinblog.net/blog/digitalboyati/28793946 2008-05-04 01:20:24
স্বীয় ও তাহার - শেষ পর্ব
তবে আজকের ব্যাপার ভিন্ন। এমনিতেই আজকে গরম টা একটু বেশি, তাই চাদরের নিচে পরা সেলিমের পাঞ্জাবীটা (এটাও কবিতা সমৃদ্ধ) ঘেমে তার গায়ের সাথে পলিথিনের মত লেগে আছে। রুপা এসে এরকম দেখলে খুব রাগ করবে, খুবই রাগ করবে।

এলিফ্যান্ট রোডের বাসাটায় সেলিম মূলত এসেছিল কিছু টাকা জোগাড় করতে। তার এক দুঃসম্পর্কের চাচী থাকেন এখানে। এই চাচীর বড় মেয়েকে ইন্টারমিডিয়েট এর সময় সেলিমই ইংলিশ পড়িয়েছে। তবে তার পড়ানোতে খুব একটা লাভ হয় নি। ইংলিশে মাত্র ৬৩ পেয়ে সেই মেয়ে ইন্টার পাশ করে। মেয়েটার নাম ছিল শিলা। ওকে নিয়ে সেলিমের লেখা একটা কবিতা সাহিত্য সৌরভে ছাপা হয়েছিল প্রায় ৭ মাস আগে। আশ্চর্য ব্যাপার! নামের শেষে "আ" যুক্ত মেয়েদের সাথেই সেলিমের প্রেম হয়। শিলা, আরিফা, শান্তা, তনিমা, রুপা...এইসব ভাবতে ভাবতে সেলিম এলিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে বের হয়। টাকা পাওয়া যায় নি, তবে তাতে সেলিমকে খুব বিচলিত মনে হচ্ছে না। কে জানে, হয়তো সে আগেই জানতো টাকা পাওয়া যাবে না, কিংবা হয়তো শিল্পি সাহিত্যকরা এমনই হয়। অর্থের মতো "সেকুলার" বিষয় তাদের কে তেমন নাড়া দেয় না হয়তো।

কিন্তু আজকের ব্যাপার টা নাড়া দেওয়ার মতই। আজকে এই টাকা গুলো আসলেই দরকার। সেলিম মোবাইলটা বের করে রুপা কে কল করার জন্য, কিন্তু মোবাইলটা চার্জের অভাবে মরে গেছে অনেক আগেই। বাধ্য হয়ে সেলিম কে একটা "এখানে মোবাইল করা যায়" দোকানের দিকে পা বাড়াতে হল।

ফোন ধরেই বোঝা গেল কোন সমস্যা আছে। রুপার গলা কেমন ভারী ভারী লাগছে। বোঝাই যাচ্ছে সে এতক্ষন কাঁদছিল।

সেলিম: এ্যই তুমি আসছো তো?
রুপা: ....
সেলিম: কি হল?
রুপা: তুমি টাকা জোগাড় করতে পেরেছ?
সেলিম: ...হ্যা...কিন্তু...তুমি...
রুপা: আচ্ছা শোন, এবোশন করিয়ে ফেলেল কেমন হয়? না মানে, একবার ভেবে দেখ...
সেলিম: কি বলছ এইসব? আমি তো বলেছিই বাচ্চা পালার মত ক্ষমতা আমার আছে, কি ভাব তুমি আমাকে?
রুপা: না, একবার ভেবে দেখো না? এখন...
সেলিম: আচ্ছা তুমি আসছো কখন সেটা বল
রুপা: মমম...তুমি...৫ টার দিকে থেকো, আমি আসবো
সেলিম: আচ্ছা আমি ঠিক পাঁচটায় ই থাকবো, দেরি হয় না যাতে, রাখি...
রুপা: টাকা জোগাড় হয়েছে তো? আমার কাছে জমানো টাকা গুলো আছে...
সেলিম: হুম, বললাম তো ঐটা কোন প্রবলেম না...তুমি চলে এস, আর শোন, আমার গায়ে যেহেতু সাদা পাঞ্জাবী, তুমি কিন্তু একটা সাদা শাড়ী পরে আসবা।
রুপা: কি? সাদা শাড়ী
সেলিম: হ্যা, সমস্যা কি? আমাদের টা একটু ভিন্ন হবে...

বিকাল পাঁচটা বাইশ মিনিটের সময় সেলিম কে হাজিপারায় একটা ছোট দোতলা বাসার নিচে দেখা গেল। বাসার গেটের মধ্যে কালো সাইন বোর্ডে সাদা রং দিয়ে "অত্র এলাকার নির্ধারিত কাজী অফিস" লেখা ঝুলছে।

সন্ধ্যা ৭ টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত সেলিম কে ঐ বাসাটার সামনেই ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেল। এর মধ্যে দুইবার সে মোরের চায়ের দোকানে গিয়ে একদিনের বাসী গোল বণ রুটি আর চা খেয়ে আসল। চা খাওয়ার সময় তার চোখ বার বার "অত্র এলাকার নির্ধারিত কাজী অফিস" সাইনবোর্ড ঝোলানো বাসাটার দিকে যাচ্ছিল।

দ্বিতীয় দফা চা ও বণরুটি খাওয়া পর্ব শেষ করে সে প্রায় পৌনে এক ঘন্টা ঐ দোতলা বাসাটার সামনে বসে থাকল। এর মধ্যে একবার সে তার অনাগত সন্তানটির কথা ভাবল। সে কি ছেলে হবে না মেয়ে? সেলিমের শখ সে মেয়ে হবে। এ ব্যাপারে অবশ্য রুপার সাথে কথা বলার সুযোগ হয় নি। কারন রুপা অন্তঃসত্বা হওয়ার রিপোর্ট আসার পর মাত্র দুইবারই তার সাথে দেখা হয়েছে। সেই সময় এই ধরনের রোমান্টিক আলাপ করার মত মেজাজ ওদের ছিল না।

আচ্ছা...শিলা কি শেষ পর্যন্ত তার বাচ্চাটিকে নষ্ট করতে পেরেছিল? নিশ্চই পেরেছে, নইলে চাচীর বাসায় আজকে ঢোকাই যেত না, আর চাচীও নিশ্চই ভদ্রতা করে পায়েশ খাওয়াতেন না, আজকে যেমন খাইয়েছেন। আচ্ছা, সেই বাচ্চাটা কি ছেলে হত না মেয়ে হত? কে জানে...

কেন যেন সেলিমের চোখ ভিজে উঠে। সে একটা অশ্বস্তি নিয়ে গায়ের চাদর টা খুলে হাতে নেয়।

রাত ৭ টা ২৩। রুপা একটা হাসপাতালের ওয়েটিং রুমের ভিতরে বসে আছে। তার পাশে বোরখা পরা এক বৃদ্ধা পান চিবুচ্ছেন এবং সঙ্গে থাকা তার নাতনীর সাথে কথা বলছেন। বৃদ্ধার নাতনীটির বয়স বেশি না, ৪-৫ হবে, কিন্তু সে বড়দের মত করে খুব গম্ভির ভাবে বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলছে, যেন সে দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট কিভাবে মোকাবেলা করা যায় সে বিষয়ে সিরিয়াস আলাপ করছে। রুপার চোখেও কেন যেন পানি চলে আসলো। এই সময় একজন নার্স এসে রুপা কে জিজ্ঞেস করল, "আপনিই কি নার্গিস আক্তার?" রুপা কি হ্যা বলবে কিনা ভেবে পেল না।

(সমাপ্ত)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digitalboyati/28792745 http://www.somewhereinblog.net/blog/digitalboyati/28792745 2008-04-30 03:28:27
স্বীয় ও তাহার - প্রথম পর্ব
সেলিমও তাদের মতই, কিন্তু তবুও নিজের নাম টা নিয়ে কি কারনে যেন তার মধ্যে একটু খচখচানি আছে। "সেলিম", কেমন সেকেলে শোনায় না নামটা? বাবা মা কি আর কোন আধুনিক নাম পেল না? আর তাছাড়া সেলিম নামটা শুনলেই ওর মুখের সামনে অভিনেতা শহিদুজ্জামান সেলিম এর চেহারা ভেসে ওঠে। তাই সে মনে করে অন্যরা হয়তো তার নাম শুনলেও শহিদুজ্জামান সেলিম ধরনের কাউকেই ভাবে। কিন্তু তার নিজের চেহারা মোটেও অভিনেতা সেলিমের মত না। লম্বা চুল, খোঁচা খোঁচা দাড়ি আর শুকনো শরীর, তাছাড়া গায়ের রংটাও বেশ কালো, ঐসব টিভি তারকাদের মত ফর্সা না।

তার তুলনায় রুপার নাম টা তার চেহারার সাথে খুব গেছে। রুপা!, নামটা শুনলেই সেলিমের চোখে ভেসে উঠে গোল ধরনের একটা মুখ, যেই মুখটা আবার ঠোটের কোন দিয়ে মিটি মিটি হাসছে। ওকে সব চেয়ে বেশি সুন্দর দেখা যায় যখন ও মুদ্রাদোষের কথা "ঠিক আছে ভালো কথা" বলে। যতবারই সে এই কথাটা বলত সেলিম চেষ্টা করত ওর দিকে তাকিয়ে থাকতে। যদিও প্রতিবার সেটা সম্ভব হত না, কারন ওর দিকে বেশিক্ষন তাকিয়ে থাকলে রুপা একটা কপট রাগ ভাব এনে বলত, "এভাবে কি দেখ? এত দেখার কি আছে? অন্য দিকে তাকাও, তাকাও বলছি"

এইসব কথা ভাবতে ভাবতে সেলিম চায়ে সল্ট টেস্ট বিস্কিট ডুবিয়ে খাচ্ছিল, বিস্কিট গলে কাপের মধ্যে পরে যাওয়ায় তার ভাবনায় একটু বিঘ্ন ঘটে। সে দোকানদার কে বলে, "মামা চামিচ দেন তো একটা"।

চা শেষ করে সে পকেট থেকে মোবাইল ফোনটা বের করে সময় দেখার জন্য। মোবাইলের চার্জ শেষ দাগে এসে পৌছেছে, সেলিম সেইদিকে চোখ না দিয়ে ঘড়ির দিকে দেখল, ন'টা বিশ। এখন তাকে যেতে হবে মনির ভাইয়ের বাসায়। টাকাটা আজকেই আনতে হবে। মনির ভাইয়ের "নটনন্দন" পত্রিকায় সেলিমের একটা রিভিউ ছাপা হয়েছে। চলচ্চিত্র সমালোচনা। ছবির নাম "প্রেমনগর", পরিচালক সিদ্দিকুর রহমান সুমন। ছবিতে যায়গায় যায়গায় ডায়লগের মাধ্যেমে নানা পন্যের প্রচার করায় সেলিম বেশ প্রতিবাদী ভাষায়ই রিভিউটা লিখেছিল, তারপরও মনির ভাই কিভাবে ছাপলেন কে জানে? সিদ্দিকুর সুমন আবার হালের নাম করা পরিচালক, সেই তুলনায় মনির ভাইয়ের "নটনন্দন" পত্রিকার জনপ্রিয়তা শুন্যের কোঠায়, এটাই বোধহয় কট্টর ভাষার লেখা ছাপা হওয়ার কারন। নটনন্দন পত্রিকা সিদ্দিকুর সুমন কোনদিন চোখেও দেখবেন সেই সম্ভাবনা সেলিম যেই চায়ের দোকানের সামনে, তার পাশ দিয়ে চলে যাওয়া ড্রেনের মতই ক্ষীণ। কিন্তু তারপরও নটনন্দন পত্রিকা নিয়ম করে প্রতি মাসে দুবার বের হচ্ছে। আজিজ মার্কেট আর চারুকলায় বটগাছের মত শক্ত শিকড় গেড়ে বসে থাকা "এসপায়ারিং ফিল্মমেকার" আর তথাকথিত সর্ব বিষয়ে জ্ঞানী "বড় ভাই" রা পেটে ভাত না ফেলতে পারলেও কিভাবে কিভাবে যেন এই পত্রিকা যোগার করছে এবং এতে ছাপা সিনেমা-নাটকের খবর গুলো নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা গলাবাজী করে যাচ্ছে। এদের মধ্যে যারা আবার দুয়েকটা ছোটখাট শুটিং সামনা সামনি দেখেছে তাদের তো এ সময় মাটিতে পা ই পরেনা। যা জানে তা তো বলেই, যা জানে না তাও ধ্রুব সত্যর মত বলার আর্ট টা এরা ভালই জানে। তাই নটনন্দন হাতে নিয়ে যেসব আড্ডা হয় সেগুলোতে এদেরকে আসরের মধ্যমনি হিসেবেই দেখা যায়।

প্রায় এক ঘন্টা হতে চলল সেলিম মনির ভাইয়ের বাসায় বসে আছে। মনির ভাইয়ের পিচ্চি ছেলেটা কার্পেটে বসে তার দুই পায়ের পাতা এক সাথে লাগিয়ে হাতটাকে কড়াতের মত ঘসে ঘসে সেই পায়ের জোড়া কেটে ফেলছে আর প্রতিবারই হাসতে হাসতে গড়িয়ে পরছে। সেলিম প্রথম দিকে এই খেলা বেশ আগ্রহ নিয়েই দেখছিল। লেখক হতে হলে ভালো পর্যবেক্ষন ক্ষমতা থাকা লাগে। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও বাচ্চাটা এই সামান্য খেলায় কেন এত আনন্দ পাচ্ছে তা বুঝে উঠতে না পেরে সে কিছুটা নেতিয়ে পড়ল। তবে লাভ এই হল যে তার মনে কবিতার নতুন একটা লাইন এসে পরল

"শিশু খেলে মাঠে, যুবক খেলে খাটে"

না না, বেশি অশ্লিল হয়ে যাচ্ছে। অবশ্য অসুবিধা নেই, "সাহিত্য সৌরভ" পত্রিকার আনোয়ার ভাই তো নিজেই ঐদিন বলছিলেন, "কি মিয়া তুমরা দ্যাশাক্তবোদক কবিতা লেইহা লইয়াও, আরে মিয়া...কিষ্ন রাদার লিলা খ্যালা লয়া কিসু ল্যাকতে পারো না? পাবলিক তো আইজকাইল ঐগুলাইনই খায়"। যদিও এখানে "পাবলিক" বলতে আনোয়ার ভাই ঠিক কাদের বোঝাতে চেয়েছেন তা সেলিম ঠিক বুঝতে পারে না। কারন জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে সাহিত্য সৌরভ নটনন্দন এরও নিচে।

এই সব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতেই মনির ভাই চলে এলেন। তার মুখ হাসি হাসি। আজকালের দিনে বাজার করে বাড়ি ফিরে কেউ অমন মুখ হাসি করে রাখতে পারে তা বিশ্বাস করা কষ্টকর। তবে যাক, মুখ যেহেতু হাসি আছে, টাকাটা পেতে সেলিমের কষ্ট হবে না। সে মুখে তেলতেলে ভাব নিয়ে মনির ভাইয়ের দিকে এগিয়ে গেল।

(চলবে)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digitalboyati/28791268 http://www.somewhereinblog.net/blog/digitalboyati/28791268 2008-04-26 02:13:21
প্রেম ও পিণিক<img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_09.gif" width="23" height="22" alt=";)" style="border:0;" /> সুদ্ধ লেটুশ পাতার চিপা দিয়ে প্রথম দেখেছিলাম তোমায়
কিন্তু হায়! শালগমের চিপা দিয়ে দেখলে হয়ত বুঝতাম তোমার হৃদয়
আলোকচ্ছটার কুঞ্জটিকায়
ভেসে বেড়ায় একদল অন্ধ সাইলেন্ট হিল
তোমায় নিয়ে দেখেছিলাম "এল. ও. সি. কার্গিল"
সিদ্ধ আলুর অ্যালবাট্রসের রজ্জুতে,
দানবের তরে উরে আসে সেবিকার পাল
লেটুশ পাতার চিপা দিয়ে চলে যায় হাতির দাত
দাত বেয়ে আমার এই সুরিয়াল কবিতার কবি চাঙ্গে উঠে
ওরা বলে আমায় চাঁদে পেয়েছে
ওগো প্রেয়সী, চাঁদে পাওয়া বলেই কি আমি তোমার প্রেমে?
কিরন বারী পান করে কাব্য তুলে ঝংকার
এক টুকরো বিদগ্ধ ফসিল আন্দোলন করে টেও টেও ঝংকারে
আজিজ মার্কেট বাতাসে উড়ে শিমুল তুলার মত
বেগুন গাছের চিপা দিয়ে তা দেখেছি আমি
চারুকলায় গাঁজা সম্রাট "শিরাজ স্যার" ভুড়ি দুলিয়ে ব্যাবসা চালায় চার্চিলে
ফুলকপির পাতার ছিদ্র দিয়ে দেখেছি আমি
পকেটে ছিল বিদগ্ধ কোলাব্যাং আর কীরণ খের নির্মিত কিরন বারী
তোমায় নিয়ে বলধা গার্ডেনে চ্যাং ব্যাং এর নৃত্য দেখে পেট চিড় মিড়
পিপরার দল মাথায় নিয়ে ফসিলের পুডিং
চুন্নু মুন্নু সিস্টেম ক্লোজ করল
সানডে মানডে করল কোলোজ
ডিপজলের পিপ শো
স্ট্যপলারে যায় বেলাজ


বি: দ্র: উপরোক্ত কবিতাখানি আজিজ মার্কেটের কবি কমিটি হইতে "অ্যবস্ট্রাক্ট রত্ন" পদক পেয়েছে ২০০১ সালে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/digitalboyati/28791116 http://www.somewhereinblog.net/blog/digitalboyati/28791116 2008-04-25 16:30:17