আমার প্রিয় পোস্ট

অ্যাগ্রো-ফুয়েল ও বিশ্ব ক্ষুধা

২৪ শে নভেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১:৫৪

শেয়ারঃ
0 1 0

যেখানে মাত্রাতিরিক্ত মেদ যুক্তরাষ্ট্রের বড় রকমের স্বাস্থ্য-সমস্যা হিসাবে গণ্য, অন্যান্য উন্নত দেশসমূহেও এই সমস্যা বাড়ছে; সেখানে সারা বিশ্বের ৮৫৪ মিলিয়ন লোক ক্ষুধার্ত- জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা(FAO)এর মতে। FAO 'ক্ষুধার্ত'কে এভাবে সংজ্ঞায়িত করে, একজন যে প্রতিদিন বেঁচে/ টিকে থাকার মত খাবারটুকুও পায় না।

অন্যতম প্রধান চিকিত্সা জর্নাল LANCENT এর একটি আর্টিকেল অনুসারে, প্রতিবছর ৫ বছরের কম বয়সী ১০ মিলিয়ন শিশু ক্ষুধায়-অপুষ্টিতে মারা যায়। FAO এর হিসাব অনুযায়ি, বিশ্বের ৬০০ কোটি মানুষের মধ্যে ৩০০ কোটির মানুষই অপুষ্টির দরুন ও পানযোগ্য জলের অভাবে প্রিম্যাচুর মৃত্যুর সম্মুখীন; ২৪০ কোটি লোক রান্নার জন্য কাঠ বা অন্যান্য জৈবিক উপাদানের উপর নির্ভরশীল; ১৬০ কোটি লোক বিদ্যুতের ব্যবহার থেকে বঞ্চিত।

বিগত বছরগুলোতে ক্ষুধার্তের সমস্যা বেড়েছে, বিশেষত সাব সাহারান আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার মত অনুন্নত দেশগুলোতে; কারণ এখানে খাদ্য-শস্যের দাম বেড়েছে, কোথাও কোথাও তা বিগত ১২ মাসে দ্বিগুনের বেশী হয়েছে, গমের দাম গত দশ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। বিশ্বের শস্যের মজুদ এখন ৬০ দিনেরও কম- যা দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন মজুদ এবং গমের মজুদ এখন গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

এর কারণ হচ্ছে, শস্য থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ইথানল প্রস্তুত করার ব্যাপারে বুশ প্রশাসনের গৃহীত সিদ্ধান্ত। ইথানল হচ্ছে, পেট্রোলিয়াম জাত জ্বালানীর একটি বিকল্প।

উন্নত দেশসমূহে খুব বেশী শস্য সরাসরি ভোগ্য নয়। তারচেয়ে বরং, এই শস্য- দুগ্ধ ও ডেইরী উত্পাদনে, ডিম, মুরগী, মাংস, চীনাবাদামের মাখন, কোমল পানীয়, এবং স্ন্যাকস প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়।

কিন্তু মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকায়, যেখানে যদিও উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়- অবশ্যই সেই উন্নতি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপের মত নয়,- শস্যই প্রধান খাদ্য। খাদ্য-শস্যের উপর এখানকার জনগণ নির্ভরশীল।

এ বছরের শুরুতে মেক্সিকো খাদ্য-অভ্যুত্থানের কাছকাছি পৌঁছেছিল, যখন এখানে খাদ্য-শস্যের দাম প্রায় ৪ গুন হয়েছিল। সারাদেশের রাস্তাগুলোতে হাজার হাজার শ্রমিক হাতে ভুট্টার মোচা দুলাতে দুলাতে নেমে এসেছিল। এই শ্রমিকেরা তাদের বেতনের এক তৃতীয়াংশই তাদের খাদ্যবাবদ ব্যয় করতো, এমনকি খাদ্য-শস্যের দামের উঠানামাতেও অভ্যস্ত ছিল; কিন্তু ৪ গুন দাম বাড়াটা ছিল তাদের জন্য আকস্মিক বিপত্তি।

দক্ষিণ আফ্রিকার দেশসমূহে বিগত ২ বছরে খাদ্য-শস্যের দাম প্রায় দ্বিগুন বেড়েছে, কারণ বেশিরভাগ দেশে কম ফলন ও চাহিদা-নির্ভর মূল্যনির্ধারণের বিশ্বব্যবস্থা, যা যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক প্রস্তুতকৃত শস্য থেকে ইথানলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এই খাদ্য-শস্যের দাম বাড়াতে বাধ্য করেছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুসারে জিম্বাবুয়ে, স্বোয়াজল্যান্ড, লেসোথো ও দক্ষিণ মোজাম্বিকে 'ফুড ইনসিকিউর' লোকের সংখ্যা ২০০৬ সালের ৩.১ মিলিয়ন থেকে এ বছর ৬.১ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে।

সাম্রাজ্যবাদীরা শস্যকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছেঃ

খাদ্য-শস্যকে জ্বালানীতে পরিণত করার অশুভ পরিকল্পনা হলো নিশ্চিত্ভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির অর্থনৈতিক কৌশল। মোটরগাড়ি কোম্পানীর এক্সিকিউটিভদের সাথে এক বৈঠকে জর্জ বুশ মোটরগাড়ি শিল্পে আমদানীকৃত তেলের উপর নির্ভরতা কমাতে ইথানল ব্যবহারে উপযোগী ইঞ্জিন তৈরির আহ্বান জানান।

প্রেসিডেন্ট বুশ ঘোষণা দিয়েছেন যে ২০১৭ সালের মধ্যে ৩৫ বিলিয়ন গ্যারেল ইথানল উত্পাদনের জন্য তিনি কংগ্রেসে বিল আনতে যাচ্ছেন। এটা সফল করার জন্য বিশাল পরিমাণ বিনিয়োগ প্রয়োজন, যা কেবলমাত্র তখনই সম্ভব যখন সবচেয়ে শক্তিশালী কোম্পানী গুলো এগিয়ে আসবে, আর এই বড় বড় কোম্পানী গুলো বিদ্যুত ও জ্বালানীর উপর নির্ভরশীল।

বুশ দাবী করেছেন যে, জ্বালানীর জন্য পেট্রোলিয়াম থেকে ইথানলে প্রবেশ পরিবেশকে দূষণমুক্ত করবে। কিন্তু, পরিবেশবিদদের গবেষণায় পাওয়া যায় যে, এই বিপুল পরিমাণে ইথানল প্রস্তুতিতে যে পরিমাণ কার্বন বের হবে এবং ইথানলের কাঁচামাল শস্য উত্পাদনে যে বিপুল পরিমাণে কৃত্রিম সার প্রয়োগ করা হবে, তা তেল ব্যবহারে যে কার্বন বের হয় তার চেয়ে অনেক বেশী। ফলে পরিবেশের ক্ষতিও কমবে না বরং বাড়বে।

তেলকে ইথানল দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে বিশাল অংকের খরচ প্রয়োজন, কিন্তু এতে মুনাফার অংকটিও তদোধিক- আর এটাই পুঁজিপতিদের ইথানল উত্পাদনের দিকে ধাবিত করছে। রাজনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের শাসক শ্রণী স্বভাবতই ভেনিজুয়েলা ও ইরানের মত দেশের উপর থেকে তেলের জন্য নির্ভরশীলতা কমাতে চায়।

ব্রাজিল দুনিয়ার অন্যতম প্রধান ইথানল উত্পাদনকারী দেশ। সে ইথানল উত্পাদনে চিনি শিল্পের একধরণের বর্জ্য ব্যবহার করে। ব্রাজিলের মোট জ্বালানীর ৩০% ইথানল। ব্রাজিলের ইথানল উত্পাদকরা কিছুদিন আগে ঘোষণা করেছে যে, উত্পাদন বাড়াতে আরও ৯ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। ব্রাজিলের পরিবেশবাদী কর্মীরা এই ঘোষণায় ভীতি প্রকাশ করেছে যে, এতে ব্রাজিলের আমাজান বনের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ উজাড় হবে।

বেনিন, মালে, নাইজেরিয়া ও সেনেগাল সহ বেশ কিছু আফ্রিকান দেশ ঘানাকে অনুসরণ করে-পরীক্ষামূলকভাবে 'জাত্রোফা' থেকে অ্যাগ্রো-ফুয়েল উত্পাদন শুরু করেছে। এই 'জাত্রোফা' হচ্ছে একধরণের আগাছা যা মাঠকে গবাদি পশুর হাত থেকে রক্ষা করে, কেননা এরা এই আগাছা খেতে পছন্দ করে না।

এই জাত্রোফার বীজ থেকে এক ধরণের তেল পাওয়া যায়, যা অনেকদিন ধরেই সাবান প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এখন দেখা গেছে যে, অন্য শস্য বা সয়াবিনের চাইতে জাত্রোফা থেকে তুলনামূলক কম খরচে অ্যাগ্রো-ডিজেল তৈরি করা যায়। এবং পেট্রোলিয়াম জাত ডিজেল পুড়ালে যে কার্বন বের হয় তার এক পঞ্চমাংশ বের হয় জাত্রোফা জাত অ্যাগ্রো-ডিজেল পুড়ালে। এই অ্যাগ্রো-ডিজেল উত্পাদনে প্রাপ্ত উপজাত সার হিসাবে ব্যবহার করা যায় ও এই উপজাত থেকে সাবান প্রস্তুত করা যায়।

যেহেতু এটি বারোমেসে আগাছা, তাই জাত্রোফা শুষ্ক ও অনুর্বর ভূমিতেও সেচ ও সার ছাড়াই জন্মায়। এর মূল/ শিকড় মাটির উপরিভাগের কাছাকাছি অবস্থান করে ও মাটিকে দৃড় ভাবে আটকে ধরে রাখে। তাই, মাটির বাঁধসমূহে জাত্রোফা চাষ করা হয়। সাথে সাথে এও বলা হচ্ছে যে, জাত্রোফা চাষ করে একজন দরিদ্র কৃষক একইসাথে নিজের ডিজেলের চাহিদা মেটাতে পারবে ও আর্থিকভাবেও স্বচ্ছল হতে পারবে।

এসব অনেক উত্সাহ ব্যঞ্জক চিত্র নিসন্দেহে, কিন্তু দূর্ভাগ্য যে- প্রকৃত চিত্র দরিদ্র কৃষকদের জন্য এত আশাদায়ক নয়। আফ্রিকা ও এশিয়ায় জাত্রোফার পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মারাত্মক। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় জাত্রোফা মানুষ ও গবাদী পশুর জন্য বিষাক্ত বিধায় এর উত্পাদন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যে প্রচারণা চালানো হয় - কৃষক সেচ ছাড়াই অনুর্বর জমিতে জাত্রোফা চাষ করতে পারবে, তাতেও ফাঁকি আছে। ভারতের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সেচ ছাড়া ৫ বছরে হেক্টর প্রতি জমিতে জাত্রোফা উত্পাদন ১.১ থেকে ২.৭৫ টন; যেখানে সেচ সহ উত্পাদন ৫.২৫ থেকে ১২.৫ টন। এবং, এ থেকে বুঝা যায়- জাত্রোফা উত্পাদন শুধু পতিত অনুর্বর ভূমিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সেচের আওতাধীন উর্বর জমিতে সাধরণ শস্য উত্পাদনকেও জাত্রোফার সাথে প্রতিযোগীতায় লিপ্ত হতে হবে। এবং আফ্রিকা, এশিয়া ও ল্যাটিন আমেরিকার উদাহরণে আমরা তাই দেখি।

আর যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের লাভোবান হবার কথা বলা হচ্ছে, আসলে কিন্তু এর মূলে আছে বিভিন্ন কর্পোরেট হাউসগুলোর স্বার্থ তথা তাদের মুনাফা। ভারত সরকার ২০১২ সালের মধ্যে ১৩.৫ মিলিয়ন হেক্টর পতিত জমিতে জাত্রোফা চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছে; এবং ভারতের কর্পোরেট কোম্পানী গুলো এরই মধ্যে চাষীদের জমি হস্তগত করার জন্য চাষীদের চাপ প্রয়োগ করছে বলে খবরে প্রকাশিত হয়েছে। বালাঙ্গি, উড়িষ্যার কৃষকেরা তাদের ১৩৮ হেক্টর জমি 'তাজ গ্যাস লিমিটেডে'র প্রতারণায় হারিয়ে নিঃস্ব।

আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া সহ প্রযুক্তিগতভাবে অনুন্নত দেশসমূহের মূল সমস্যা তাদের দারিদ্র। তাদের উন্নত হবার মত অর্থ নেই, খাবার-পরার মত অর্থ নেই। সেইসাথে নেই জনগণের প্রকৃত সরকার; ফলে নেই সুনির্দিষ্ট কোন পরিকল্পনা। আর অন্য দিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপের সর্বগ্রাসী এনার্জী পলিসি, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সমস্যা সমাধানের নামে, এসব দেশসমূহকে বাধ্য করছে আরো দারিদ্রের শেষসীমায় পৌঁছতে।




(সূত্রঃ G. Dunkel রচিত 'Workers World' এ প্রকাশিত "Bio fuels & world hunger" আর্টিকেল ও 'Seedling' এর জুলাই, ০৭ সংখ্যায় প্রকাশিত "Jatrofa- the agrofuel of the poor?" আর্টিকেল)

 

সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৮:৪৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৭ দুপুর ২:০৭
অনিশ্চিত বলেছেন: অনেক পরিবেশবাদী বায়োফুয়েল নিয়ে মহা উচ্ছ্বসিত। কিন্তু তাদেরকে বুঝিয়ে দেয়ার কেউ নেই যে, পেট আগে না গাড়ি আগে।
২. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৭ দুপুর ২:০৭
অেমাঘ অনল বলেছেন: ৫

অসাধারণ.............

@দিনমজুর
এতদসংক্রান্ত কিছু লিংক দিলে বাধিত হইব।
আরো জানিতে চাই।
৩. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৭ দুপুর ২:১২
িনরুেদ্দশ নীহািরকা বলেছেন: ব্রিটিশদের নীল চাষ আমরা ভুলি নি।
৪. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৭ দুপুর ২:২১
সত্যদা বলেছেন: ধন্যবাদ চমতকার একটি সময়োপযোগী তথ্যবহুল প্রবন্ধের জন্য।....
৫. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৭ দুপুর ২:২৪
এবিএম গিয়াসউদ্দিন (শামীম) বলেছেন: দিনমজুর
ধন্যবাদ!! এরকম একটা গুরুত্বপুর্ণ ইস্যু নিয়ে পোস্ট দেবার জন্য। ইদানিং USA এর গবেষকরা মাইক্রোএলজি এর মাধ্যমে বায়োফুয়েল উতপাদনের চেষ্টা করছেন যাতে বায়োফুয়েলের উতপাদনে ভোগ্যপন্যের উপর কোনো রকমের কু-প্রভাব না পড়ে। যদিও এখন পর্যন্ত এটা অনেক ব্যয়বহুল মনে হচ্ছে, তবে গবেষনা চলছে কিভাবে এক্সেপ্টেবল পর্যায়ে নিয়ে আসা যায়।
৭. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৭ দুপুর ২:৫২
নাজিম উদদীন বলেছেন: বায়োফুয়েল হালে পানি পাবে না।
৮. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:০৬
অনিশ্চিত বলেছেন: একটু ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে কিন্তু তারপরও বলা দরকার- জ্বালানি হিসেবে পেট্রোল-ডিজেল ইত্যাদির চাইতে বায়োফুয়েল চমৎকার। বায়োফুয়েলকে জ্বালানি হিসেবে আমার কোনো আপত্তি নেই। বরং একে উৎসাহিতই করবো আমি। কিন্তু যতোদিন পর্যন্ত একটি মানুষ একবেলা না খেয়ে থাকবে, ততোদিন খাদ্যশস্য দিয়ে জ্বালানি উৎপাদনের ঘোর বিরোধী আমি।
৯. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:২৪
মাদারি বলেছেন: বাংলাদেশে কৃষি জ্বালানী নিয়া তোড় জোড় শুরু হইয়া গেছে শুনতাছি।হোন্ডা-ডাংকি নামের একটা কোম্পানী নাকি কি একটা প্রাথমিক চুক্তিও কইরা ফালাইছে?
কেউ জানেন নাকি কিছু?
আরেকটা কথা, বায়োফুয়েল বা জৈব জ্বালানী না কইয়া
আন্দোলন কাির রা সারা বিশ্বেই এইটারে কৃষি জ্বলানী
বা এগ্রো ফুয়েল বলা শুরু করছে এই কারনে যে এর মাধ্যমে কৃষির সাথে এর বিরোধ টা নামের মধ্যে চইলা আসে অন্যদিকে "জৈব" শব্দটির যে একটা পরিবেশ বান্ধব ভাবমূর্তি আছে, সেইটার অপব্যবহারের মাধ্যমে
জনগণকে বিভ্রান্ত করার সুযোগটাকে গোড়াতেই নষ্ট করে দেওয়ার সুযোগ থাকে। যাই হোক, দিনমজুর ভাইরে ধন্যবাদ। ৫
১২. ২৫ শে নভেম্বর, ২০০৭ সকাল ১১:০৩
অেমাঘ অনল বলেছেন: মাদারি বলেছেন :
২০০৭-১১-২৪ ২৩:২৪:৪৪
বাংলাদেশে কৃষি জ্বালানী নিয়া তোড় জোড় শুরু হইয়া গেছে শুনতাছি।হোন্ডা-ডাংকি নামের একটা কোম্পানী নাকি কি একটা প্রাথমিক চুক্তিও কইরা ফালাইছে?


@মাদারি

একটু বিস্তারিত বলিবেন কি?
১৩. ২৫ শে নভেম্বর, ২০০৭ সকাল ১১:৪৭
দিনমজুর বলেছেন: @মাদারি
আপনার সাথে একমত।
বায়ো-ফুয়েলের জায়গায় অ্যাগ্রো-ফুয়েল করা হলো।
১৪. ২৫ শে নভেম্বর, ২০০৭ সকাল ১১:৫৩
ফাহমিদুল হক বলেছেন: দিনমজুর, আবারও ৫। আপনার তথ্যবহুল বিশ্লেষণ বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরে।
১৫. ২৫ শে নভেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:০৩
মদনবাবু বলেছেন: অনেকদিন ধরে বায়োফুয়েল সম্পরকে বিস্তারিত জানার ইচ্ছে ছিল।প্রিয় পোস্টে যোগ করলাম। রেটেড ৫।
১৬. ২৫ শে নভেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:৩০
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন: @এবিএম গিয়াসউদ্দিন (শামীম)

যুক্তরাষ্ট্রের কোন গবেষণার প্রতি কোনরূপ আগ্রহ নেই, কেননা আখেরে তাতে আমাদের তথা বিশ্বের সাধারণ মানুষের কোন লাভ নেই। তাদের সমস্ত গবেষণাই তাদের মুনাফা কেন্দ্রিক বলেই মনে হয়।
১৭. ২৫ শে নভেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:৪৫
এবিএম গিয়াসউদ্দিন (শামীম) বলেছেন: নাস্তিকের ধর্মকথা
আপনার কথাটা অনেকটা ঠিক থাকলেও পজিটিভলি চিন্তাকরলেও কিন্তু করা যায়। ধরেন এরা সহজলভ্য কোনো উপায় বের করলো। প্রথমে হয়ত নিজেরা লাভবান হবার চেষ্টা করবে। কিন্তু গবেষণার রেজাল্ট সবার জন্য উন্মুক্ত। একটু সময় নিলেও দেখবেন একসময় ঠিকই বিশ্বের সকল দেশ বা দেশের গবেষকরা সেই প্রযুক্তি আয়ত্ব করে ফেলবে।
১৯. ২৫ শে নভেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:৫৮
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন: @এবিএম গিয়াসউদ্দিন (শামীম)

সে আশায় গুড়ে বালি।
তারা গবেষণাই করে মুনাফার কথা চিন্তা করে, মানুষের জন্য সেখানে কিছু থাকে না।
জানেন বোধ হয়, বর্তমান দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশী গবেষণা বরাদ্দ অস্ত্র গবেষণায়!!

আর গবেষণার রেজাল্ট সবার জন্য উন্মুক্ত হলেও পেটেন্ট ল এর কারণে- পদ্ধতি সর্বদাই টপ সিক্রেট।
২০. ২৮ শে নভেম্বর, ২০০৭ রাত ২:১৭
নীলকন্ঠ_৭৯ বলেছেন: জটিল......এদ্দিন কই আছিলেন ভাই ?
২১. ৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:১৫
নরাধম বলেছেন: পোস্টকে প্রিয়তে রাখলাম।
২২. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৪৫
বিবর্তনবাদী বলেছেন: না জেনে না শুনে অনেকেই সরাসরি বায়োফুয়েলের বিরুদ্ধে পাওয়া এই পোস্টে অতিউৎসাহিত হয়ে উঠেছেন।

মাটির নিচে গ্যাস, সেই গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ, রাস্তার ভর্তুকি দেওয়া জ্বালানীতে গাড়ি চলা ইত্যাদির কারনে আমরা বাংলাদেশীরা এক অবাস্তব জগতে বাস করছি। গ্যাস যখন থাকবে না বিদ্যুৎ আসবে কোথা হতে, সার উৎপাদিত হবে কেমনে?? আর কত ভর্তুকি দিয়ে গাড়ি চালানো। ফসিল ফুয়েলে যে পরিবেশের বারোটা বাজছে তার কি হবে??

দেখুন বাস্তবতা হল, আমরা (শুধু বাংলাদেশ না সারা বিশ্ব) এক কঠিন বাস্তবের মুখে দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করে বসে আছি। জ্বালানী শেষ হয়ে যাচ্ছে দ্রুত। আমাদের শীঘ্রই চিন্তা করতে হবে বিকল্প ব্যবস্থার। আমাদের সামনে দুটি পথ খোলা: এক, বায়ো ফুয়েল, দুই সৌরশক্তি। আমাদের ব্যালেন্স করতে হবে খাদ্য, জ্বালানি সব ক্ষেত্রে।

গবেষণা চলছে সব দিকে এবং সেটা উন্নত বিশ্বের দেশগুলোই করছে। বিশেষ করে ওদের বড় বড় কম্পানী গুলো। আমরা গবেষণা না করে বসে আছি, ওদের গালাগালি করছি। ওরা পয়সা খরচ করে গবেষণা করছে, আপনি আমি কোন অধিকারে সেই গবেষণার ফল মাগনা চাইব। ওরাতো আর এমনি এমনি গবেষণা করছেনা, করছে মুনাফার জন্য। ব্যবসায়ী মুনাফাতো করবেই।


তাই বলি, নিজেদের চিন্তা নিজেরা করতে হবে। সামনে খুব কঠিন দিক আসছে।
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:১২

লেখক বলেছেন:
আপনার মন্তব্য দেখে মনে হয়েছে- আপনি পোস্ট ভালো করে না পড়েই, অ্যাগ্রো-ফুয়েল সংক্রান্ত মোহে এই মন্তব্যটি করেছেন।

উপরের অনিশ্চিতের মন্তব্যটিও পড়ার জন্য আহবান জানাচ্ছি........


যাদেরে টাকা আছে- তারা ব্যবসা করবে- গবেষণা করবে- মুনাফা করবেই, এসব বলার অর্থ কি??? বাস্তবতা হলো- তারা গবেষণা করবে- তাদের নিজেদের স্বার্থে এবং তাদের স্বার্থেই অ্যাগ্রো-ফুয়েল চাষাবাদের জন্য আসবে আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশসমূহে- ব্রাজিলের আমাজান ফরেস্ট হবে উজাড়, কৃষকদের আবাদযোগ্য জমি নিবে কেড়ে- আর যদি আসা করেন- সেই ফুয়েল ব্যবহার করবো আমরা- তবে বলতেই হবে- দিবাস্বপ্ন দেখছেন!!!!!!!

শেষ লাইনটি অবশ্য ভালো বলেছেন- সেই নিজেদের চিন্তা নিজেরা করার উদ্দেশ্যেই তো এই পোস্ট- দেশের জন্য দেশের উপযোগি প্রযুক্তি আগে তৈরি করা দরকার- হতে পারে সেটা অ্যাগ্রো ফুয়েলের প্রযুক্তি- ......
কিন্তু অন্যদের ব্যবসার- অন্যদের মুনাফার উদ্দেশ্যে নিজেকে ধনীদের হাতে তুলে দেয়ার মত বোকামি আর কিছুই হতে পারে না!!

২৩. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৫৫
বিবর্তনবাদী বলেছেন: কে মুনাফা করছে তার থেকে বড় চিন্তা থাকতে হবে, আমাদের প্রযুক্তি দরকার। শুন্য থেকে শুরু করা বোকামী। আমাদের উচিত বিদেশী কোম্পানীদের আমন্ত্রন জানানো। ওদের সাথে সাথে আসবে প্রযুক্তি। অতঃপর নিজেদের মত গড়ে নিতে হবে, ওদের কাছ থেকে শেখা প্রযুক্তিকে। কারন একটাই. . . . . . সময় নেই।
১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১:১৮

লেখক বলেছেন:
বিদেশি কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানানোর দরকার নেই- তারাই আমাদের বাজার ও সস্তা শ্রমের লোভে চলে আসবে-.......

যাহোক, আপনি আমার বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে পোস্ট দুটি পড়লে আমার অবস্থানটি বুঝতে পারবেন।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯০৭২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
নাইল্যাকাডা ১ম বর্ষ, ২য় সংখ্যার প্রাপ্তিস্থানঃ
আজিজ সুপার মার্কেট
১। বইপত্র/ ২। জনান্তিক/ ৩। শ্রাবণ/ ৪। প্রথমা (একুশে)/ ৫। তক্ষশীলা/ ৬। লিটল...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই