আমার প্রিয় পোস্ট

আমাদের কৃষি, আমাদের প্রাণ

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৮:৩২

শেয়ার করুন:                   Facebook

ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। যে দেশের মোট জনসংখ্যার ৭৬% বাস করে গ্রামাঞ্চলে। আবার গ্রামাঞ্চলের ৯০% মানুষ জীবিকার জন্য সরাসরি কৃষি খাত ও কৃষিসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের উপর নির্ভরশীল।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে সর্বাধিক কর্মসংস্থানের খাতটি হচ্ছে কৃষি। বিগত ২০০৫-০৬ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ি দেশের মোট কর্মসংস্থানের ৫১.৬৯%-ই হয়েছে কৃষিখাতে এবং মোট দেশজ উতপাদনে (জিডিপি) কৃষি খাতের অবদান হচ্ছে ২১.৭৭%। সবচেয়ে বড় কথা- দেশের মানুষের অন্ন জোগাতে এই খাতটিই প্রধান ভূমিকা রাখে। তো, বর্তমানে এহেন গুরুত্বপূর্ণ খাতের অবস্থাটি কেমন??

কৃষি খাত অলাভজনক খাত, কৃষকের মাথায় হাতঃ

আমাদের কৃষি, সরকারের বিমাতাসুলভ আচরণে দারুন সংকটে নিমজ্জিত, কিন্তু এই নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা সবচেয়ে কম। সার ও ডিজেল সংকটে কৃষকের আন্দোলনের সময় ব্যতিত এবং সম্প্রতি খাদ্য ঘাটতির সময় ব্যতিত সাধারণত আমরা কৃষি নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাতে চাইনি কখনই। অথচ, আমাদের অর্থনীতির প্রাণ এই কৃষি ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাচ্ছে। আমাদের কৃষকেরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে- রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে প্রচণ্ড পরিশ্রম করে যে উতপাদন করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার উতপাদন খরচ-ই সে তুলতে পারে না। অব্যাহত ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে- ঋণের দায়ে পড়ে, সে শেষ পর্যন্ত তার শেষ অবলম্বন এক টুকরো আবাদী জমি বিক্রি করে সর্বসান্ত হয়ে বেকার হয়ে পড়ে, বাঁচার তাগিদে শহরে পাড়ি জমায়।

নিচের সারণীতে এক পলক চোখ বুলালেই আমরা দেখতে পারবো, কিভাবে ধীরে ধীরে কৃষি একটি অলাভজনক খাতে পরিণত হয়েছে।

সারণী-বিভিন্ন ফসলের প্রাপ্তি/ব্যয় অনুপাত

শস্য/বছর--------১৯৮১/৮২-১৯৮৬/৮৭-১৯৯১/৯২-১৯৯৬/৯৭-২০০১/০২-২০০৫/০৬
আউশ (দেশীয়)--০.৯৬------১.০৪------১.০৯------০.৬৬------০.৭৬------০.৬২
আউশ (উফশী)--১.২৮------১.৩৩------১.৩৬------০.৮২------০.৭৬------০.৮১
আমন (এলটি)---১.৪৯------১.৮৫------১.৪৮------১.০৬------১.০৬------০.৯৬
আমন (এম)-----১.২২------১.৭৯------১.৬৫------১.০৯------১.২৭------০.৯৯
বোরো (এলটি)--১.৪৬------১.১৩------০.৯৮------০.৬৫------০.৮৩------০.৭০
বোরো (এম)-----১.৪৪------১.৬৯------১.৩২------০.৯৮------১.০২------০.৮৯
গম (এম)---------১.৩৩------১.১৪------১.১৬------১.০৯------১.০৪------১.০৭

লাভজনক না হওয়ার কারণগুলোঃ
প্রথমত, ফসল উতপাদন বৃদ্ধির তুলনায় উপকরণ খরচের হার বেড়েছে।
দ্বিতীয়ত, উতপাদিত পণ্যের দাম বাড়ার হার উপকরণের দাম বাড়ার হারের চেয়ে কম হয়েছে।
তৃতীয়ত, উপকরণ ব্যয় বাড়ার হার অত্যন্ত উচ্চ ও দ্রুত হয়েছে বাজারবিরোধী ততপরতায় (যেমন মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, কালোবাজারি ও মজুদদারি)।
চতুর্থত, কৃষি উদারীকরণের কারণে বাজার এমনভাবে নিয়ন্ত্রণহীন করা হয়েছে যে বাজার থেকে উতপাদকরা কম ও ব্যবসায়ীরা অধিক লাভ পেয়েছে। যেহেতু বাজারে ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণের কোনো ব্যবস্থা নেই, সেহেতু ব্যবসায়িরা কৃষক তথা উতপাদকের কাছ থেকে তুলনামূলক কম দামে পণ্য কিনে নেয়। আর ব্যবসায়িদেরই বাজারে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে, যা উতপাদকের নেই।

.....(চলবে)

 

 

  • ১৩ টি মন্তব্য
  • ২৪৮ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১২ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৮:৩৭
comment by: মুকুল বলেছেন: গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট... চলুক...

*****
২. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৮:৩৮
comment by: মুন্নাভাইএমবিবিএস বলেছেন: ব্যপক।
৩. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৮:৪০
comment by: বিহংগ বলেছেন: গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট... চলুক...

*****
৪. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৮:৫৫
comment by: সত্যদা বলেছেন: ধন্যবাদ... পোষ্টের জন্য.....

অপেক্ষায়....
৫. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:২৩
comment by: রাশেদ বলেছেন: ভালো পোস্ট। চলুক...
৬. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৩০
comment by: মিরাজ বলেছেন: চলুক ।
৭. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৩৭
comment by: মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন:
কমেন্ট না করলেও আপনার বিশ্লেষণ ধর্মী পোস্টগুলো নিয়মিত পড়ি ,

চলুক........।
৮. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৩৮
comment by: মেন্টাল বলেছেন: সমাধানগুলাও যেন থাকে। সবাই দেখি সমস্যা চিহ্নিত কইরা যায় গা।
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১:১০

লেখক বলেছেন:
সমস্যা সঠিকভাবে চিহ্নিতকরণের মাঝেও কিন্তু সমাধানের ছোঁয়া থাকে। রোগ নির্মূল করতে চাইলে প্রথমে তো দরকার রোগের মূলটি বের করা- তা না হলে টিউমারে মলম লাগানোর মত চিকিতসা হতে পারে!!!!!
যাহোক, পরের পর্বে আপনার উদ্দেশ্যে দুটি কথা লিখেছি- সমাধানকল্পে কি করা যেতে পারে সে সম্পর্কে। আশা করি পড়বেন।

আপনাকে ধন্যবাদ।

৯. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৪৮
comment by: মাহিরাহি বলেছেন: আমাদের প্রধান একটি খাতের ব্যাপারে বিস্তারিত জানার প্রয়োজন রয়েছে।
১০. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:৫০
comment by: ফাহমিদুল হক বলেছেন: গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট... চলুক...
১১. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৫০
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: চলতে থাকুক।
১২. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৫:১৩
comment by: নেমেসিস বলেছেন: +

ভাল বিশ্লেষন।

 

 


নাইল্যাকাডা ১ম বর্ষ, ২য় সংখ্যার প্রাপ্তিস্থানঃ
আজিজ সুপার মার্কেট
১। বইপত্র/ ২। জনান্তিক/ ৩। শ্রাবণ/ ৪। প্রথমা (একুশে)/ ৫। তক্ষশীলা/ ৬। লিটল...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ৩০৭৬২