প্রশ্ন করেছিলাম ( Click This Link) :টেলিটক যদি ফুল সুইং এ নামতো- জিপি/বিএল/একটেল রা কেউ টিকতে পারতো??
পাল্টা প্রশ্ন আসে:টেলিটক কেন ফুল সুইং এ নামতে পারছে না? সাথে সাথে এর জবাবে বলা হচ্ছে: গ্রামীণ ফোন অলরেডি ৩০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে- আমরা কি পারবো একটা খাতে এত টাকা বিনিয়োগ করতে পারতে?
.........>>>
কয়েকটি বিষয়ে প্রথমেই দৃষ্টি দেইঃ
১। এখানে বিনিয়োগ সামর্থ্যের বিষয়টি গৌন।
২। টেলি কমিউনিকেশনে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা এত এগ্রেসিভলি কেন এখানে বিনিয়োগ করেছে? একটাই কারণ এই সেক্টর থেকে রিটার্ণের দারুন ও নিশ্চিন্ত সুযোগ। আমার আগের একটি পোস্ট ( Click This Link) দ্রষ্টব্য।
৩। গ্রামীণ ফোন তার ইনিশিয়াল ইনভেস্ট বছর খানিক আগেই তুলে নিয়েছে। সেটা এখানকার জনগণের পকেট থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার মধ্য দিয়েই। ফলে চিন্তা করুন- আপনি যে ৩০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা বলছেন, সেই টাকার বেশী টাকা অলরেডি আমাদের দেশের মানুষের পকেট থেকে অলরেডি খোয়া গেছে!!
৪। কয়েক বছর থেকেই- গ্রামীণ তার টার্ণ ওভারের বড় অংশ এখানে বিনিয়োগ করছে। অর্থাৎ, এই বিনিয়োগ তারা বাইরে থেকে আনছে না। এটা এ দেশের মানুষের পকেট থেকে হাতিয়ে নিয়ে এখানেই বিনিয়োগ করছে- উদ্দেশ্য আরো বেশী টাকা হাতিয়ে নেয়া।
৫। বাংলালিংকও এতদিনে তার ইনিসিয়াল ইনভেস্ট তুলে ফেলতে পারতো, (বর্তমানে সে মার্জিনের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে)- কিন্তু কমপিটিশনে খুব ভালোভাবে থাকার উদ্দেশে সে তার টার্ণ ওভারের পুরোটাই এখন পর্যন্ত রিইনভেস্ট করছে- সেটারো উদ্দেশ্য আরো বেশী টার্ণ ওভার।
৬। বেশী বিনিয়োগ করা মানে বেশী টার্ণ ওভার। মানে- বেশী সুইচ-বিটিএস-বিএসসি- টিআরএক্স- মানে বেশী কল ক্যাপাসিটি- বেশী গ্রাহক- বেশী কল- বেশী টাকা।
৭। গ্রামীণ ফোনের ইয়ারলি অপারেটিং প্রোফিট (খরচাপাতি বাদে) ৮০০ মিলিয়ন ইউএসডি , আর বাংলালিংক ও একটেলের প্রত্যেকের প্রায় ২০০ মিলিয়ন ইউএসডি। ৪/৫ বছর আগে (৭টাকা/মিনিটের যুগে) গ্রামীণ ফোনের মান্থলি অপারেটিং প্রোফিটই ছিল প্রায় ২০০ মিলিয়ন ইউএসডি। (ভিতরে ভিতরে যে আরো অনেক বেশী আয় এদের ছিল এবং এখনো আছে- ভিওআইপির ট্যাক্স ফাঁকির মত- সেটা সাম্প্রতিক ঘটনায় স্পষ্ট )।
এবারে আসি টেলিটকের ব্যাপারে......
৮। টেলিটক/বিটিটিবি মোবাইল মার্কেটে আসার আগেই এর খুব গুরুত্বপূর্ণ দুটি সুবিধা ছিলঃ
ক) অলরেডি প্রিপায়ারড একটা মার্কেট- টেলিটক সিম বাজারে আসার ঘোষণার আগে থেকে সিম কেনার লম্বা লাইন দ্রষ্টব্য, যেটা অন্যান্য অপারেটরদের অর্জন করতে বেশ কিছু বছর পার করে দিতে হয়েছিল।
খ) বিটিটিবির অলরেডি প্রিপায়ারড একটা অবকাঠামো- যা তার ইনিসিয়াল বিনিয়োগকে অর্ধকের বেশী কমাতে সক্ষম।
৯। বাংলাদেশের মার্কেট পোটেনশিয়াল উপরের আলোচনায় যদি বুঝতে পারেন, তবে এটাও বুঝার কথা যে, কলের টাকা থেকেই রিইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে এই খাতে টেলিটক/বিটিটিবি আগাতে পারতো।
১০। একটেল, গ্রামীণ ফোন, বাংলা লিংক এরা যেসব ভেণ্ডর থেকে ইকুয়েপমেন্ট নেয় তার বড়ই অংশই নেয় বাকিতে। হুওয়াই এর সাথে একটেলের চুক্তি বা রিসেন্ট জিপির সাথে হুওয়াইয়ের চুক্তি দেখলে বুঝবেন। ফলে ইনিসিয়াল ইনভেস্টমেন্ট এখন আরো কম, কেননা- এর মানে দাঁড়ায় ব্যবসা করার পর- মুনাফা থেকে ইকুয়েপমেন্টের মূল্য পরিশোধ করার সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। টেলিটক এ ধরণের কন্ট্রাক্টে গেলে, তার জন্য ইনিসিয়াল ইনভেস্টমেন্ট তাহলে কতখানি দরকার?
১১। এখনো এই ঢিলেতালে চলার মধ্যেও টেলিটক কিন্তু প্রতিবছর ভালোই আর্ণ করছে।
ফুল সুইং এ চলে না মানে.....
১২। সরকার থেকে এক্সট্রা এলোকেট নয়- তার ইয়ারলি টার্ণ ওভারকেই রি ইনভেস্টই এরা ঠিক ভাবে করে না।
১৩। যতখানি নেটওয়ার্ক তারা গড়ে তুলেছে, সেটিকেও ঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করে না- এতদিনেও নিজস্ব এক্সপার্টিজ গড়ে তোলেনি।
১৪। বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে লসের পরিমাণ বাড়িয়েছে। তার মধ্যে একটি উদাহরণ দেইঃ সিমেন্স বাংলালিংকে যে দামে ইকুয়েপমেন্ট বেচে- একই ইকুয়েপমেন্ট তার কয়েকগুনে টেলিটকের কাছে বেচে।
প্রশ্নগুলোর জবাব কি হতে পারে ভেবেছেন কি?
১৫। কেন- ফুল সুইং এ চালানো হয় না?
১৬। কেন, টেলিটক সিম বাজারে আসতে এত সময় নেয়া হয়? গ্রামীণ ফোন ও বাংলালিংক মার্কেটে একটা স্ট্যাবলিশড কণ্ডিশনে যাবার পরেই কেন টেলিটক বাজারে আসবে?
১৭। এসবে কাদের লাভ হয়েছে বা এখনো হচ্ছে?
এমন হলে জিপি/বিএল রা কোথায় যেত?
১৮। সিটিসেল/জিপি যে সময় মার্কেটে এসেছিল- সে সময় থেকেই যদি বিটিটিবি মোবাইল মাঠে নামতো?
১৯। বিটিটিবির প্রস্তুত অবকাঠামোতে খুব অল্প খরচে নেটওয়ার্ক স্ট্যাবলিশ করতে জিপি বা বি এল এর তুলনায় অনেক কম সময় কি লাগতো না? (যেখানে জিপি বিটিটিবির- রেলওয়ের ব্যাকবোন নামমাত্র মূল্যে লীজ নিয়ে সেখান থেকে বেআইনি ভাবে সাবলিজ দিয়ে ব্যবসা করতে পারে!)
২০। গুড উইল ধরে রাখার জন্য সামান্য চেস্টা করা কি যেত না?
পরিশেষে.....
২১। জিপি/বিএল রা টেলিটকের সাথে প্রতিযোগীতায় টিকতে পারতো না।
২২। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা সবসময়ই এটাই চায়- একটা অবাধ প্রতিযোগীতাহীন মার্কেট।
২৩। সেজন্যই তাদের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান নিয়ে এত এলার্জী।
২৪। সেকারণেই বিশ্বব্যাংকের প্রথম ও প্রধান শর্তই থাকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকে বেসরকারী করতে হবে। গ্যাটস চুক্তিরো মূল ধারাই প্রাইভেটাইজেশন!
২৫। এখানে নোবেল বিজয়ী, আমাদের তথাকথিত গর্ব (!!) ইউনুস, মোর্শেদ সহ বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নানাধরণের দালালেরা, সরকারে থাকা সুবিধাভোগীরা, ওদের কেনা গোলাম আমলারা- তাদের হয়ে একাজটি সহজ করে দিয়েছে; ওদের কারণেই টেলিটক বাজারে আসতে এত দেরী হয়, জিপি-বিএল রা এত সহজে আরামে এবং এত সুবিধা নিয়ে এখানে অবাধে ব্যবসা করে যেতে পারে!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

