আমার প্রিয় পোস্ট
- পাহাড়ি নিপীড়িত জনগোষ্ঠির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বায়ত্তশাসন দাবীর প্রশ্নে শাসকশ্রেণীর বিভিন্ন অংশের রঙ বে রঙের জোড়াতালি তত্ত্বের বিপরীতে একটি বিশ্লেষণ। - মনজুরুল হক
- লাক্স এর চামড়া ব্যবসা , দর্শকের দেহ কামনা আর ব্লগে ধর্ষকামী ভূতের আছর - ১ম পর্ব - রাগ ইমন
- সমূদ্র বক্ষে তেল/গ্যাস অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার ব্যয় সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার কে স্বচ্ছ করার প্রয়াস। - ভিন্ন চিন্তা
- সভ্য বিশ্বের নতুন ডাম্পিং গ্রেভইয়ার্ড-চট্টগ্রামের ভাটিয়ারি > জাহাজভাঙ্গার ভাগাড়ে মানুষ আর প্রকৃতির নিদারুন বিপর্যয়!! - মনজুরুল হক
- সাগর বক্ষে গ্যাস ব্লক ইজারার উদ্দেশ্য গ্যাস সংকট মোকাবেল না রফতানি? - ভিন্ন চিন্তা
- বাংলাদেশে তেল/গ্যাস অনুসন্দ্ধানের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং গ্যাস সংকটের প্রেক্ষিত। - মনোয়ার আহমদ
- বিদেশিদের কাছে বঙ্গোপসাগরে ব্লক ইজারার প্রতিবাদকারীদের উপর পুলিশি নির্যাতনের চিত্র - অণৃণ্য
- পার্বত্য চট্টগ্রাম পাকিস্থানে অন্তর্ভুক্ত হলো যেভাবে : ইতিহাসের পথ ধরে একটি বিশ্লেষণের চেষ্টা - পড়ুয়া_পড়ুয়া
- টিপাইবাঁধ নিয়ে বাদ-প্রতিবাদ ও ভারত রাষ্ট্রের চরিত্র বিচার - ৫/শেষ পর্ব - আবু নাঈম
- হাইব্রীড বীজ নিয়ে আশঙ্কা সত্যি হলো এবার 'সত্যিরা' ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ! - মনজুরুল হক
- বাংলাদেশের জনশক্তি ও আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার আইন - ফকির ইলিয়াস
- শিল্পী এস এম সুলতান ও ভিনসেন্ট ভ্যান গঘঃ জীবন কারিগর - নাস্তিকের ধর্মকথা
- সমাজতন্ত্রে মুক্তির উপায়/ প্রতি শ্রদ্ধেয় দিন মজুর - বিহংগ
- নতুন আমল পার করছি পুরনো শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে - ৪ - অনিশ্চিত
- পুঁজিবাদের থাবা,সমাজতন্ত্রের বাঁধা আর ভাষা দিবসে পুতুলের ধাঁধাঁ! - পুতুল
- নতুন আমল পার করছি পুরনো শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে - ১ - অনিশ্চিত
- দিনমজুরের পোস্ট ধরে সন্ধ্যাপ্রদীপের পোস্ট ,সেখানেই আমার উপলব্ধি,উপলক্ষ সমাজতন্ত্রে মুক্তির উপায়। - বিহংগ
- বিশ্ব মানবতার মুক্তির জন্য সমাজতন্ত্রই একমাত্র পথ ?? - সন্ধ্যাপ্রদীপ
- মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর মাল্টি ডাইমেনশনাল প্রফিট ও আমাদের হতভাগা দেশের লাভ (একটি সহজ-সরল হিসাব) - বহুরূপী মহাজন
- ছাত্ররাজনীতি বা লেজুরবৃত্তির রাজনীতি বন্ধ করিলে কি হইবে??? - অেমাঘ অনল
- টপরেটেড পোস্ট লেখার বুদ্ধি পাইছি-- গ্রামীণ আর সব মোবাইল কোম্পনীগো গালি দিমু - কেএসআমীন
বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে সেনাপ্রধানের পাঁচালিঃ কৃষির সামরিকীকরণ? (৩য় পর্ব)
১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৯:৩৮
পাম চাষঃ সামরিক বাহিনীর পামপ্রীতি?
সেনাপ্রধান তার আলোচনায় ভোজ্যতেলের বিকল্প সন্ধানের আহবান জানিয়ে পাম চাষের পক্ষে কিছু যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। তার ভাষায়, "...বাংলাদেশের বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে বার্ষিক ছয় লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে আমদানি খাতে প্রতিবছর ব্যয় হয় ৪০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশে ভোজ্যতেলের এই ঘাটতি মেটাতে পাম চাষ এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ রাখতে পারে বলে আমার বিশ্বাস। অন্যান্য উদ্ভিজ্জ তেলের মতো কোলেস্টেরলমুক্ত এই তেল পুষ্টি বিচারে ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘ই’- এর ঘাটতি পূরণে অবদান রাখতে পারে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষের পাশাপাশি বসতবাড়ির আঙিনায় একটি বা দুটি পামগাছ পরিবারের ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে"। অনেকের কাছেই বাংলাদেশে পামচাষের এই পরামর্শটুকু নতুন মনে হতে পারে। কিন্তু এই প্রচেস্টা আসলে নতুন নয়, এর আগেও সামরিক সরকারের আমলে এখানে পাম চাষের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এবং অবাক হলেও সত্য যে, সেনাবাহিনীর সাথে পাম চাষ বা পাম প্রজেক্টের এক অদ্ভুত সখ্যতা বিদ্যমান।
১৯৭৮-৭৯ সালে সেনাশাসক জিয়াউর রহমানের আমলে প্রথম মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া থেকে পাম বীজ ও চারা আমদানী করা হয় এবং ঢাকার বোটানিকল গার্ডেনে পলিব্যাগে পরীক্ষামূলক চাষ করা হয়। এরপরে ছয়মাস বয়সী গাছ সিলেট, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বনাঞ্চলে লাগানোর জন্য পাঠানো হয়। ১৯৮১ এ এসে মোট ৭৮৪ একর জমি পাম চাষের আওতায় নিয়ে আসা হয়, যার ২৭৯ একর চট্টগ্রাম, ৩২৫ একর কক্সবাজারে এবং ১৮০ একর সিলেটে। পরবর্তীতে পামচাষের আওতাধীন জমির পরিমাণ হাজার একর পার হয়। কিন্তু সেসময়ের সেই প্রজেক্ট ব্যর্থ হয়ে যায়- কেননা এখানকার মাটি-জলবায়ু কোনটাই পামচাষের উপযোগী ছিল না(৪)।
তাহলে, প্রশ্ন হচ্ছে ভোজ্যতেলের বিকল্প খুঁজতে কেন সেনাপ্রধান আবারো পামচাষের কথা বললেন? এখানকার রবিশস্য হিসাবে খ্যাত সরিষা-বাদাম কিংবা আমাদের মানুষ মূলত যেটাতে নির্ভরশীল সেই সয়াচাষের কথা বললেন না কেন? যে সরিষা আমাদের নাইট্রোজেন সাইকেল পূর্ণ করার মাধ্যমে আমাদের জমির উর্বরতা ধরে রাখতে ও বাড়াতে যে বিশেষ ভূমিকা রাখে সেটাকে কেন উপেক্ষা করা হবে?
এর উত্তর খোজার আগে, আরেকটি খবর আমরা দেখে নিই। তা হলো, ৮০ এর দশকের সেই ব্যর্থ প্রজেক্টের পরে সম্প্রতি আবারো আমাদের বন বিভাগ পামচাষের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, বনবিভাগ ইতোমধ্যেই "সবুজ বলয়" নামে একটি নতুন প্রজেক্ট প্রস্তুত করেছে- যার কমপক্ষে ২০ ভাগ থাকবে পামগাছ(৫)।
তাহলে দেখা যাচ্ছে, মঈন উ আহমদ যেটা এখানে পরামর্শ হিসাবে দিয়েছেন, কিছু যুক্তি তুলে ধরেছেন, তা আসলে ইতোমধ্যে সরকারের নেয়া পদক্ষেপ। এখন আসি আগের প্রশ্নটিতে, কেন পামচাষ?
এর উত্তরে একটাই বলা যেতে পারে- তা হলো পামচাষকে কেন্দ্র করে মাল্টিন্যাশনালদের বিশাল বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক। পামচাষ মানেই বিশেষ ধরণের সার, বিশেষ বিশেষ কীটনাশক- বিশেষ সেচ পরিকল্পনা। এবং দুনিয়া জুড়ে এর বাজার। বিস্তারিত অন্যত্র আলোচনা করা যেতে পারে। শুধু এক্ষণে মালয়েশিয়ার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার দিকে তাকাই।
মালয়েশিয়া দুনিয়ার মধ্যে শীর্ষস্থানীয় পামতেল উৎপাদনকারী দেশ, তার মোট জিডিপির এক চতুর্থাংশই আসে ক্রুড ও পাম অয়েল থেকে। মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীন উৎপাদনের ১১ শতাংশ যেখানে সাধারণ কৃষিজাত, সেখানে ৭০ শতাংশই পামচাষ থেকে। আর এ করতে গিয়ে মালয়েশিয়া তার খাদ্যচাহিদার কেবল ৬৫ থেকে ৭০ ভাগই উৎপাদন করতে পারে, বাকিটা করতে আমদানী। সম্প্রতি দুনিয়া জুড়ে খাদ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়া হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে, কেবল জিডিপির পেছনে ছোটার ফল। মালয়েশিয়ার প্রধান চাল আমদানীকারক দেশ থাইল্যাণ্ডও যখন পুরো চাল দিতে অস্বীকার করলো- তখন মরিয়া মালয়েশিয়া চারদিকে হন্যে হয়ে চাল খুঁজতে শুরু করে- "চালের বিনিময়ে পাম অয়েল" প্রাচীণ যুগের এমন বিনিময় প্রথার ঘোষণা দেয়(৬)। আমদের অবশ্য মনে পড়ে ইরাকের ফুড ফর অয়েলের কথা- কিন্তু ইরাক তো যুদ্ধ বিধ্বস্ত- অবরুদ্ধ। আর মালয়েশিয়া?
আমাদের এখানে পামচাষের এলাকাও দেখা যায় মূলত বনাঞ্চলে। সে সম্পর্কিত ইন্দোনেশিয়ার অভিজ্ঞতাটাও দেখি। ১০০ বছর আগেও ইন্দোনেশিয়ার মোট ভূমির ৯০% ছিল রেইন ফরেস্ট, ৫০ বছর আগেও তা ছিল ৭৭ শতাংশ- আর আজ এই রেইনফরেস্ট কমে হয়েছে অর্ধেকেরও কম- যার প্রধানতম কারণ পামচাষ(৭)। এর জলবায়ুগত প্রভাব নিয়ে এর মধ্যেই পরিবেশবিদেরা নানা প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করেছেন। প্রশ্ন হলো, আমাদের বর্তমানে বনভূমির পরিমাণ কতখানি?
সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা আজকে মালয়েশিয়াকে নতুন করে ভাবাচ্ছে- কৃষি জমির পরিমাণ বৃদ্ধির দাবী উঠছে (যদিও কর্পোরেট বিনিয়োগ এত সহজেই পামকে ছাড়বে এমন কোন লক্ষণও নেই)। আর আমাদের এখানে নতুন করে পাম প্রজেক্ট নেয়া হচ্ছে! আমাদের সেনাপ্রধান তার খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রবন্ধটিতে পামচাষের পক্ষে প্রচারণা চালান!
আলোচ্য প্রবন্ধটি শেষ হয় আশাবাদের কথা শুনিয়ে, "দেশের আপামর জনসাধারণের মতো আমিও অপেক্ষায় আছি সেই সোনালি দিনের"। সেনাপ্রধানের ন্যায় দেশের আপামর জনসাধারণ অবশ্যই সোনালি দিনের প্রত্যাশা করে, তবে নিশ্চিতভাবেই এটুকু বলতে পারি যে- সেনাপ্রধানের "সোনালি দিন" আর আপামর জনসাধারণের "সোনালি দিন" মোটেও এক নয়, বরং সম্পূর্ণ বিপরীত ও বিরোধাত্মক।
প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় পর্ব
তথ্যসূত্রঃ
১। প্রথম আলো বিশেষ ক্রোড়পত্র, ডিসেম্বর ২০০৬
২। ETV (একুশে টিভি) এ ১০ মার্চ, ২০০৮ তারিখে প্রচারিত টকশো
৩। ঐ
৪। Oil palm plantation plan comes under criticism- by Pinaki Roy
Click This Link
৫। ঐ
৬। "Malayasia's Rice Diplomacy" - by Abdul Ruff
Click This Link
এবং
"The Price of Malayasia's Palm Oil Expansion" - Arun Bhattyacharya
Click This Link
৭। "Palm Oil's Impact on Ecosystem" - Dawn M. Smith
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
আমি হনুমান বলেছেন:
সোনা প্রধানরে জাতীয়আলুউপাধি দেয়া হোক...
লেখক বলেছেন:
পড়ছি মানে? এই সিরিজটি তো এখানেই শেষ!
...............................................................................................
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ভিন্ন প্রসঙ্গ: ফাহমিদুল ভাইয়ের ব্লগে আপনার/আপনাদের সম্পাদিত পত্রিকার কথা বলেছিলেন। পত্রিকাটির নাম কি জানতে পারি????????????
লেখক বলেছেন: আপনার আলোচনার জন্য ধন্যবাদ।
পত্রিকার নাম নাইল্যাকাডা। প্রথম সংখ্যা এখনো আজিজে পেতে পারেন। দ্বিতীয় সংখ্যাটি পরবর্তী সপ্তাহে আজিজে পাবেন আশা করি।
এখানে নাইল্যাকাডার ব্যাপারে জানতে পারবেন। (১ম সংখ্যার সূচিপত্র, প্রাপ্তিস্থান এবং নাইল্যাকাডা শব্দটির মানে)
Click This Link
Click This Link
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














