আমার প্রিয় পোস্ট
- পাহাড়ি নিপীড়িত জনগোষ্ঠির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বায়ত্তশাসন দাবীর প্রশ্নে শাসকশ্রেণীর বিভিন্ন অংশের রঙ বে রঙের জোড়াতালি তত্ত্বের বিপরীতে একটি বিশ্লেষণ। - মনজুরুল হক
- লাক্স এর চামড়া ব্যবসা , দর্শকের দেহ কামনা আর ব্লগে ধর্ষকামী ভূতের আছর - ১ম পর্ব - রাগ ইমন
- সমূদ্র বক্ষে তেল/গ্যাস অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার ব্যয় সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার কে স্বচ্ছ করার প্রয়াস। - ভিন্ন চিন্তা
- সভ্য বিশ্বের নতুন ডাম্পিং গ্রেভইয়ার্ড-চট্টগ্রামের ভাটিয়ারি > জাহাজভাঙ্গার ভাগাড়ে মানুষ আর প্রকৃতির নিদারুন বিপর্যয়!! - মনজুরুল হক
- সাগর বক্ষে গ্যাস ব্লক ইজারার উদ্দেশ্য গ্যাস সংকট মোকাবেল না রফতানি? - ভিন্ন চিন্তা
- বাংলাদেশে তেল/গ্যাস অনুসন্দ্ধানের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং গ্যাস সংকটের প্রেক্ষিত। - মনোয়ার আহমদ
- বিদেশিদের কাছে বঙ্গোপসাগরে ব্লক ইজারার প্রতিবাদকারীদের উপর পুলিশি নির্যাতনের চিত্র - অণৃণ্য
- পার্বত্য চট্টগ্রাম পাকিস্থানে অন্তর্ভুক্ত হলো যেভাবে : ইতিহাসের পথ ধরে একটি বিশ্লেষণের চেষ্টা - পড়ুয়া_পড়ুয়া
- টিপাইবাঁধ নিয়ে বাদ-প্রতিবাদ ও ভারত রাষ্ট্রের চরিত্র বিচার - ৫/শেষ পর্ব - আবু নাঈম
- হাইব্রীড বীজ নিয়ে আশঙ্কা সত্যি হলো এবার 'সত্যিরা' ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ! - মনজুরুল হক
- বাংলাদেশের জনশক্তি ও আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার আইন - ফকির ইলিয়াস
- শিল্পী এস এম সুলতান ও ভিনসেন্ট ভ্যান গঘঃ জীবন কারিগর - নাস্তিকের ধর্মকথা
- সমাজতন্ত্রে মুক্তির উপায়/ প্রতি শ্রদ্ধেয় দিন মজুর - বিহংগ
- নতুন আমল পার করছি পুরনো শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে - ৪ - অনিশ্চিত
- পুঁজিবাদের থাবা,সমাজতন্ত্রের বাঁধা আর ভাষা দিবসে পুতুলের ধাঁধাঁ! - পুতুল
- নতুন আমল পার করছি পুরনো শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে - ১ - অনিশ্চিত
- দিনমজুরের পোস্ট ধরে সন্ধ্যাপ্রদীপের পোস্ট ,সেখানেই আমার উপলব্ধি,উপলক্ষ সমাজতন্ত্রে মুক্তির উপায়। - বিহংগ
- বিশ্ব মানবতার মুক্তির জন্য সমাজতন্ত্রই একমাত্র পথ ?? - সন্ধ্যাপ্রদীপ
- মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর মাল্টি ডাইমেনশনাল প্রফিট ও আমাদের হতভাগা দেশের লাভ (একটি সহজ-সরল হিসাব) - বহুরূপী মহাজন
- ছাত্ররাজনীতি বা লেজুরবৃত্তির রাজনীতি বন্ধ করিলে কি হইবে??? - অেমাঘ অনল
- টপরেটেড পোস্ট লেখার বুদ্ধি পাইছি-- গ্রামীণ আর সব মোবাইল কোম্পনীগো গালি দিমু - কেএসআমীন
মন্দায় ধান্দা: বাংলাদেশের শিল্পপতিদের আবদার নামা
২৫ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৩৯
যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম বীমা প্রতিষ্ঠান আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ (এআইজি) কে যখন সে দেশের সরকার জনগণের অর্থ দিয়ে দিয়ে কোনরকমে ভাসিয়ে রাখার চেষ্টা করছে, এআইজির মালিক এবং ব্যবস্থাপনা পক্ষ তখন সে টাকায় নিজেদের আখের গুছিয়ে নেয়ার ধান্দায় ব্যস্ত। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দায় ডুবতে বসা এই বীমা প্রতিষ্ঠান কে মার্কিন সরকার গত বছরের সেপ্টম্বর থেকে এ পর্যন্ত ১৭ হাজার কোটি ডলারের সহায়তা দিয়েছে। তারপরও দেখা গেল শীর্ষকর্মকর্তারা মার্চের ১৫ তারিখে শুধুমাত্র বোনাস হিসাবেই নেন ১৬ কোটি ডলার অথচ ঠিক এ সময়েই লাখ লাখ দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত চাকুরী হারিয়ে বেকার হয়ে যাচ্ছে কিংবা তাদের ঘরবাড়ি নিলামে উঠে তারা হয়ে যাচ্ছে গৃহহীন। যখন প্রয়োজন ছিল সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থদের নগদ অর্থসহায়তা দেয়া, তাদের কর্মসংস্থানের নিশ্চায়তা দেয়া, সরকারী খাতে আরো বেশী বেশী কর্মসংস্থান তৈরী করা, সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচী যেমন: শিক্ষা,স্বাস্থ্য ইত্যাদি খাতে সরাসরি রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বাড়ানো তখন মুক্তিবাজার অর্থনীতির মার্কিন সরকার বেসরকারী লস কে সরকারীকরণের প্রকল্প হাতে নেয় এবং সব মিলিয়ে এ যাবত বিপর্যস্ত ব্যাংকগুলোর 'বিষাক্ত সম্পদ' কিনে নিতে এক লাখ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে। এসব নিয়ে মার্কিন মুল্লুকে শুরু থেকেই প্রতিবাদ প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে। সুদুর মার্কিন কিংবা ইউরোপীয় পুজিবাদী অর্থনীতের ভয়ংকরতম সংকটের তাপ-চাপ যখন আমাদের মতো দেশে এসে লাগতে শুরু করেছে- যখন গার্মেন্টস এবং আদম-সন্তান রপ্তানীখাতে মন্দার আচ পাওয়া যাচ্ছে, খোদ মার্কিন মুল্লুকের মতই এখানেও স্থানীয় শিল্পপতিগণ মন্দার সুযোগে কিছু ধান্দাপাতি করে নেয়ার পায়তারা শুরু করেছে।
মামাবাড়ীর যত আবদার
সম্ভাব্য মন্দাকে উপলক্ষ করে ব্যাবসায়ী শিল্পপতিদের বিভিন্ন সংগঠন- বিজেএমই, বিকেএমই, এফবিসিসিআই বিভিন্ন ভাবে তাদের যেসব দাবী দাওয়া হাজির করছে সেগুলোর কিছু উল্ল্যেখযোগ্য অংশ হলো:
# প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে এফবিসিসিআই নগদ ৬০০০ কোটি টাকার জরুরী তহবিল গঠনের প্রস্তাব করেছে যার মধ্যে গার্মেন্টস খাতের জন্য সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা, বস্ত্র ও সূতা খাতের জন্য এক হাজার চারশ কোটি টাকা, বাকি এক হাজার একশ কোটি টাকা হলো পাট, চামড়া, হিমায়িত খাদ্য ও অন্যান্য রপ্তানী খাতের জন্য ব্যবহার করা হবে;
# কালোটাকা সাদা করার সুযোগ এবং এ লক্ষে পাচ বছর মেয়াদী ইনভেষ্টমেন্ট বন্ড এর সুবিধা;
# বিজেএমই এবং বিকেএমই নগদ ১০ শতাংশ নগদ সহায়তার দাবী জানাচ্ছে;
# মোট রপ্তানী আয়ের ৩০% এর উপর প্রতিডলার রপ্তানী আয়ের জন্য ১০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেয়া, যেটাকে বলা হচ্ছে "বিশেষ বিনিময় হার" এর সুবিধা;
# মেয়াদী ঋণের পুন:তফসিলীকরণ করণ করে ঋণপরিশোধের সময় আরও তিন বছর বাড়িয়ে দেয়া;
# ঋণের সুদের হার হ্রাস করে ৭% এর নীচে নিয়ে আসা;
# পোষাক খাতে ভ্যাট প্রত্যাহার;
# জেনারেটরের জন্য ডিজেলে ভর্তুকি;
# কর মওকুফের যোগ্য আয়ের সীমা ১.৬৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকায় উন্নীত করা ইত্যাদি।
ভর্তুকী কার জন্য:
বিশ্ব মন্দায় বিশ্ববাজারে রপ্তানী পণ্যের মূল্য কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন রপ্তানীকারী দেশগুলোকে পরস্পরের সাথে এক ভয়ংকর প্রতিযোগীতায় লিপ্ত হতে হচ্ছে। এ প্রতিযোগীতা আগেও ছিল।মন্দায় তার তীব্রতা বেড়েছে কেবল। কোন দেশের বেসরকারী শিল্পমালিকদের মধ্যে যারাই কম মূল্যে পণ্য সরবরাহ করবে তারাই এই বাজারে টিকতে পারবে- পুজিবাদী অর্থনীতিতে এটা অন্যসব সময়ের মতোই এই মন্দার সময়েও সত্যি। প্রতিযোগীতামূলক বাজারে পণ্যের বাজার রক্ষার জন্য পণ্যমূল্য কম রাখার অর্থনৈতিক উপায় হলো উতপাদনশীলতা বাড়ানোর মাধ্যমে কমখরচে অধিক পণ্য উতপাদন করা, কোন খাতকে নগদ ভর্তুকী দিয়ে নয়। তবে যদি শিল্পটি সরকারী অর্থাত জনগনের হয় কিংবা কৃষির মতো দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবিকা এবং খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোন খাত হয় তাহলে সেখানে জনগনের করের টাকা ব্যায় করা যেতে পারে, তবে অবশ্যই মেকানিজমটি এমন হতে হবে যেন জনগনের করের টাকায় গুটি কয়েক ধনপতি লাভবান না হয়।
কাজেই প্রশ্ন হলো বেসরকারী পুজিমালিকের উতপাদিত পণ্যের মূল্য কমানোর জন্য সরকার অর্থ্যাত জনগনের করের টাকা কেন ব্যয় করা হবে? সেই শিল্পমালিক কি তার লাভের টাকা জনগণকে প্রদান করে? তাহলে তার লসের ব্যয়ভার কেন জনগণ বহন করবে? আর যদি ভর্তুকি দেয়া হয়, তাহলে তার ফলাফল হলো অন্য একটি দেশের নাগরিক যারা এই পণ্যটির ক্রেতা তাদের কে ভর্তুকী দেয়া কারণ তারা উতপাদন খরচের চেয়ে কম দামে পণ্যটি কিনতে পারছে। আমরা কেন উন্নত দেশের ভোক্তাদের কম দামে পণ্য পেতে আমাদের করের টাকা খরচ করব--- সে চেষ্টাতো তাদের দেশের সরকারেরই করা উচিত, তাই না?
এখন এর উত্তরে যদি বলা হয়, বেসরকারী পুজিমালিক তো তার লাভ একা খায় না, সেটার বিনিময়ে লাখ লাখ শ্রমিকের তো কর্ম সংস্থান হয়, সেই পুজিপতি যদি নি:স্ব হয়ে যায়, তাহলে সেই শ্রমিকদের কি হবে, তাহলে আমাদের বলবার কথা হলো--প্রথমত, গার্মেন্টস খাতের মত একটা লাভজনক খাতের লাভের মাত্র এক শতাংশ শ্রমিকদের কাছে যায়- অন্যান্য খাতেও লাভের খুব সামন্য অংশই শ্রমিকের হাতে যায়, দ্বিতীয়ত: শিল্প বন্ধ হয়ে শ্রমিকের চাকরী হারানোর যুক্তিই যদি দেয়া তাহলে তো সে শিল্পকে নগদ অর্থ ভর্তুকী দেয়ার বদলে চাকুরীচ্যুত শ্রমিকদের আশু সংকট মোকাবেলা করার জন্য তহবিল গড়ে তোলা প্রয়োজন, বেকারত্ব ভাতার জন্য সে অর্থ ব্যয় করা প্রয়োজন এবং দীর্ঘ মেয়াদে যেন তারা সমস্যায় না পড়ে তার জন্য সরকারী ভাবে নতুন নতুন কলকারখানা নির্মান করার মাধ্যমে কিংবা বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা জাতীয়করণের মাধ্যমে সেগুলোতে নগদ অর্থবিনিয়োগ করে নতুন নতুন স্থায়ী কর্মস্থান তৈরী করা প্রয়োজন। এর ফলে ছাটাই হওয়া দেশীয় শ্রমিক যেমন কর্মসংস্থান পাবে তেমনি বিদেশে কর্মরত শ্রমিকরাও ছাটাই হয়ে দেশে ফিরলে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।
শ্রমিকের দায়দ্বায়িত্ব কার
শ্রমিক ছাটাই প্রসংগে একটা কথা পরিস্কার করা দরকার- সুসময়ে যে পুজিমালিক শ্রমিকের ঘামের বিনিময়ে বিত্তের পাহাড় গড়ে তোলে, মন্দা কিংবা লসের সময় সে সেই শ্রমিকদের কোন দায়দায়িত্ব নেয়না, খুব সহজেই যখন তখন শ্রমিক ছাটাই করে দেয়। আসন্ন সংকটেও আমরা তাই ঘটতে দেখব- শিল্পমালিকেরা ভর্তুকীর কথা তোলার সময় আমাদেরকে এই ভয়ই দেখাচ্ছে যে, দেখ সরকার যদি আমাদের নগদ সহায়তা না দেয়, তাহলে আমার ইচ্ছামত শ্রমিক ছাটাই করতে শুরু করব- যেন শ্রমিকদের ওয়েলফেয়ার বিষয়ে তাদের কোন দায়ভার নেই! আমরা শিল্পমালিকদের এ অবস্থানের তীব্র বিরোধীতা করছি এবং শিল্পমালিকরা যেন যখন তখন যেন তেন ভাবে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ না দিয়ে শ্রমিক ছাটাই করতে না পারে সে জন্য সরকারের নজরদারীর দাবী জানাচ্ছি।
প্রয়োজন জনকল্যাণ মূলক খাতে রাষ্ট্রীয় ব্যয় বৃদ্ধি:
আরেকটা বিষয় হলো মন্দায় সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ কিন্তু পুজিমালিকেরা নয় বরং দেশের বৃহত্তর দরিদ্র জনগোষ্ঠী। মন্দায় পুজিমালিকের কারখানা বন্ধ হলেও তার ভাতের হাড়িতে টান পড়বেনা, বাসস্থানের অভাব ঘটবে না, চিকিতসায় ব্যাঘাত ঘটবে না কিংবা তাদের পোষ্যদের লেখাপড়াও বন্ধ হয়ে যাবে না। কিন্তু এর সবকটিই ঘটবে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্যে। কাজেই মন্দার সময় সর্বাগ্রে এদের ভাবনাটাই ভাবা প্রয়োজন। মন্দায় যেসব শ্রমিক চাকরী হারাবে, যেসব কৃষক ফসলের উতপাদন খরচটুকুও তুলতে না পেরে নি:স্ব হয়ে যাবে তাদের ভাতের হাড়িটা কিভাবে চলবে, তাদের স্বাস্থ্য-চিকিতসা-বাসস্থানের কি ব্যাবস্থা হবে কিংবা তাদের সন্তানের পড়াশোনার খরচটা কেমন করে চলবে সে চিন্তা সর্বাগ্রে করা প্রয়োজন- প্রয়োজন তাদের জন্য একটা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা।
এবং তীব্র প্রতিরোধ:
পুজিবাদ এমন এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যে ব্যবস্থায় পুজিপতি ক্রমাগত মুনাফা অন্বেষণ করতে করতে অর্থনৈতিক, সামাজিক, পরিবেশগত নানান সংকট ডেকে আনে এবং সে সংকট কে পুজিকরে আবার মুনাফার ধান্দা করে। আবার এ ব্যবস্থায় যখন পুজিপতির নিজের মুনাফার সংকট থাকে না, তখনও কিন্তু শ্রমিক-কৃষক সংকট মুক্ত থাকে না। মন্দা পুজিপতির জন্য একটা ব্যবসায়িক চক্র হলেও শ্রমিক-কৃষকের কিন্তু নিত্য বাস্তবতা। তবে সংকটের সময় সে বাস্তবতা আরো বেশী প্রত্যক্ষ আরও বেশী নির্মম। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটেও হয়তো এর ব্যাতিক্রম ঘটবে না। কাজেই আসন্ন সংকটে পুজিপতিরা যেন তাদের উপর আরও বেশী চেপে বসতে না পারে, যেন তাদের যথাযথ প্রাপ্য তাদের কে দিতে বাধ্য হয়, তাদেরকে যেন যখন তখন ছাটাই করতে না পারে, সরকার যেন তাদের টাকায় পুজিপতিদের কর রেয়াত কিংবা নগদ সহায়তা না দিতে পারে বরং যেন তাদের কর্মসংস্থান সহ তাদের পরিবার পরিজনের খাদ্য-বস্ত্র,বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিতসা ইত্যাদির যথাযথ নিশ্চায়তা দিতে বাধ্য হয় সে লক্ষে শ্রমিক-কৃষক এবং তাদের পক্ষের শক্তিকে আরো বেশী সজাগ, সংঘবদ্ধ এবং সোচ্চার থাকতে হবে।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): মন্দা, বাংলাদেশে মন্দা, অর্থনৈতিক মন্দা ;
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১:৪১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
রাতমজুর বলেছেন:
এর থেকে বরং রাস্ট্র পর্যায়ে দেশের কর্মক্ষম বেকারদের কর্মসংস্থান আর একটা স্ট্যান্ডার্ড অব লিভিং টাইপ কিছু মেজরমেন্ট করে দেশের গরীব মানুষগুলোকে নাগরিক ভাতা টাইপ কিছু দেওয়া ভালো। বেনিয়াদের পকেট ভারি করে লাভ কি?
শেরজা তপন বলেছেন:
ওদের এই তথাকতথিত মামা বাড়ির আব্দার দেখে আমারও মেজাজ সপ্তমে চড়েছে।ফাইজলামীর একটা সীমা আছে!
টোনাটুনি বলেছেন:
দুনিয়ায় যাগো ট্যাকা আছে তাগো কথাই সবাই শুনে
পাগল কবি বলেছেন:
লেখকের সাথে আমি পুরোপুরি একমত।
কারও পৌষমাস, কারও সর্বনাশ।
রাজন সান বলেছেন:
চমৎকার লিখেছেন। প্লাস দিলাম।
শাহ্ আসাদুজ্জামান বলেছেন:
পোস্টের মূল বক্তব্যের সাথে পুরোপুরি একমত। ধান্দাবাজেরা মন্দা নিয়াও একদফা ব্যবসা করতে ছাড়বে না। তবে কথা হল, অর্থনীতির চাকা সচল রাখাটাও জরুরী, শুধু ওয়েলফেয়ার দিয়ে তো আর চলবে না। যে খাতে ভর্তুকি দিলে কর্মসংস্থান বাড়ে, সেটা করতে হবে।
মজার ব্যাপার হল, যে দেশের কৃষক শ্রমিক না খাইয়া মরে, সেইখানে কোটিপতিরা এসে ভর্তুকি চায়! সরকারের কথা আর কি বলব, ওরা তো দুই দিনে ভুলে যায় যে ভোট দিয়ে জনগণ ওদেরকে বসিয়েছে। আসলে তো মালিকদের টাকায় ভোট কিনিয়াই উহারা ক্ষমতা পাইয়াছে, জনগণের কথা ভাবিবে কেন?
একটু পয়েন্ট বাই পয়েন্ট দেখি -
# প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে এফবিসিসিআই নগদ ৬০০০ কোটি টাকার জরুরী তহবিল গঠনের প্রস্তাব করেছে যার মধ্যে গার্মেন্টস খাতের জন্য সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা, বস্ত্র ও সূতা খাতের জন্য এক হাজার চারশ কোটি টাকা, বাকি এক হাজার একশ কোটি টাকা হলো পাট, চামড়া, হিমায়িত খাদ্য ও অন্যান্য রপ্তানী খাতের জন্য ব্যবহার করা হবে;
আপনার বর্ণনামতে এই অর্থ রপ্তানিপণ্যের মূল্যহ্রাসের কাজে ব্যবহারের প্রস্তাব ওদের। কিন্তু কেমনে কি হবে তার বিস্তারিত নাই। আসল উদ্দেশ্য এই চান্সে কিছু হাতিয়ে নেয়া।
এব্যাপারে আপনার মন্তব্যের সাথে একমত, উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমেই মূল্য কমাতে হবে। সেক্ষেত্রে অধিক জনবল নিয়োগের শর্তে সরকার কিছু ভর্তুকি দিতে পারে, যেটা কেবল অতিরিক্ত জনবলের খাতেই ব্যয় হতে হবে। এতে প্রবাস ফেরতদের সাময়িক একটা ব্যবস্থাও হয়।
# কালোটাকা সাদা করার সুযোগ এবং এ লক্ষে পাচ বছর মেয়াদী ইনভেষ্টমেন্ট বন্ড এর সুবিধা;
এইটা মন্দা কমাবে কেমনে? অর্থনীতির নিয়মে একটু ব্যাখ্যা করুন। বুঝলাম না। বিনিয়োগে অর্থসরবরাহ বাড়বে, এটা ঠিক। সেক্ষেত্রে বন্ড কেন, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, বিশেষত অভ্যন্তরীণ খাদ্য উৎপাদন/ প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে বিনিয়োগ করার শর্তে কাল টাকা ব্যবহার করতে দেয়া হোক না?
# বিজেএমই এবং বিকেএমই নগদ ১০ শতাংশ নগদ সহায়তার দাবী জানাচ্ছে;
সহায়তা কোন খাতে ব্যয় হবে?
# মোট রপ্তানী আয়ের ৩০% এর উপর প্রতিডলার রপ্তানী আয়ের জন্য ১০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেয়া, যেটাকে বলা হচ্ছে "বিশেষ বিনিময় হার" এর সুবিধা;
মানে ডলারের দাম বাড়ানোর চেষ্টায় সফল না হইয়া অন্য চিপা খোঁজা।
# মেয়াদী ঋণের পুন:তফসিলীকরণ করণ করে ঋণপরিশোধের সময় আরও তিন বছর বাড়িয়ে দেয়া;
কিছু শর্ত সাপক্ষে এইটা করা যেতে পারে। কিন্তু শর্ত মূল্যায়ন করবে কে?
# ঋণের সুদের হার হ্রাস করে ৭% এর নীচে নিয়ে আসা;
বাংলাদেশে কি আসলেই তারল্যের কোন সংকট আছে? ব্যবসায়ীরা বলুন দেখি?
# পোষাক খাতে ভ্যাট প্রত্যাহার;
কেন্? আবার টাকা?
# জেনারেটরের জন্য ডিজেলে ভর্তুকি;
কৃষিখাতে ডিজেলে ভর্তুকি দেয়ার পরে যদি সম্ভব হয় এটা করা যেতে পারে।
# কর মওকুফের যোগ্য আয়ের সীমা ১.৬৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকায় উন্নীত করা ইত্যাদি।
এইটাও করা যেতে পারে। কর হ্রাসের চাইতে ভাল প্রস্তাব।
লেখক বলেছেন: @শাহ্ আসাদুজ্জামান
আপনার মূল্যবান মতামতের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার পয়েন্ট বাই পয়েন্ট আলোচনাটা খুবই ভালো লেগেছে। এ প্রসংগে আমরা কিছু কথা যোগ করতে চাই-
আপনি বলেছেন:
"# কালোটাকা সাদা করার সুযোগ এবং এ লক্ষে পাচ বছর মেয়াদী ইনভেষ্টমেন্ট বন্ড এর সুবিধা;
এইটা মন্দা কমাবে কেমনে? অর্থনীতির নিয়মে একটু ব্যাখ্যা করুন। বুঝলাম না। বিনিয়োগে অর্থসরবরাহ বাড়বে, এটা ঠিক। সেক্ষেত্রে বন্ড কেন, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, বিশেষত অভ্যন্তরীণ খাদ্য উৎপাদন/ প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে বিনিয়োগ করার শর্তে কাল টাকা ব্যবহার করতে দেয়া হোক না?"
>> আমরাও এইটা বুঝতে অক্ষম। কোন অর্থনৈতিক নিয়মে মন্দা কমাবে এই ব্যাখ্যাটা তাদের কাছেই চাওয়া উচিত। আর কালো টাকা মানেই হলো অবৈধ পথে অর্জিত টাকা-- সে টাকা তো পুরোটাই জনগণের টাকা। নীতিগত ভাবে আমরা পুরোটাকাটাই উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় খাতে ব্যয় করার পক্ষপাতী। তবে শাসকশ্রেণী সে পথে না গিয়ে সেটাকাকে বিনিয়োগ চ্যানেলে আনার অনেক চেষ্টাই করেছে। প্রায় প্রতিটি সরকার বিভিন্ন ভাবে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ার পরও তাতে সাড়া মিলেছে খুব কমই। কারণ লুটপাটের সহজ পথ ছেড়ে এর মালিকেরা উতপাদনের কষ্টকর নিয়ম তান্ত্রিক পথে আসতে রাজি নয়। এ কারণেই বদরুদ্দীন উমর এদেশের পুজিপতিদের বলেছে লুটেরা পুজিপতি। আমরা মনে করি কালো টাকা সাদা করার একটাই উপায়- সেসবকে সরাসরি রাষ্ট্রায়াত্ব খাতে অধিগ্রহণ করা এবং ভবিষ্যতে যেন এরকম আর না ঘটে তার পাকাপাকি ব্যবস্থা করা। মন্দা রাষ্ট্রের জন্য এ কাজের ক্ষেত্র হিসাবে একটা ভালো সুযোগ- অবশ্য যদি রাষ্ট্র চায় বা তাকে বাধ্য করা যায়।
আপনি বলেছেন:
"# কর মওকুফের যোগ্য আয়ের সীমা ১.৬৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকায় উন্নীত করা ইত্যাদি।
এইটাও করা যেতে পারে। কর হ্রাসের চাইতে ভাল প্রস্তাব।"
>> এইটা করলে মধ্যবিত্ত উচ্চবিত্তের জন্য সুবিধা হবে কিন্তু তাতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মন্দা মোকাবেলার ক্ষেত্রে কোন সুবিধা হবে কি?
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন:
++
বাঙ্গাল বলেছেন:
প্রিয়তে রাখলাম...মাথা ঠান্ডা কইরা পইড়া কমুনে। ভালাই মনে লইতাছে।-----------------------
ব্যানানা বাংলাদেশ-১ (ইকোনমিক হিটম্যান)
Click This Link
বাঙ্গাল বলেছেন:
মন্দাটাকে ক্রনিক আকারে ছড়ায়া দিতাছে জি-২০ খ্যাত দেশের নেতারা...যারা সবাই ব্যাংকার শিল্পপতিদের টাকায় মনোনিত।আসল সমস্যা টাকা/ডলার বানানোর ক্ষমতাটা এখন বেসরকারী ব্যাংক মালিকদের হাতে...তাই এরা যত খুশি ডলার ছাপছে...আরো ১.২ট্রিলিয়ন ডলার দিচ্ছে আইএমএফ,ওয়ার্ল্ড ব্যাংক্কে আমাদের মত পিচ্চি দেশগুলাকে ধার দিয়ে...দেনার দায়ে আটকাইতে। কেউ কি বলবেন...এই ট্রিলিয়ন ডলার কোথেকে আসবে? কোন সম্পদের বিপরীতে এই ডলার ছাড়া হবে? নাই।ফাকা। এই ট্রিলিয়ন ডলার শুন্য থেকে আসবে...ছাপ্তেও হবে না...গোল্ড রিসার্ভও লাগবে না...জাস্ট কম্পিউটার ডিজিট। হাস্যকর...মনিটারী পলিসি।
বাঙ্গাল বলেছেন:
প্রথম আলোর রিপোর্টারকে চাটুকার বলার জন্য আমার লেখা প্রথম পাতায় যাচ্ছে না। তীব্র প্রতিবাদ জানাই।ব্যানানা বাংলাদেশ-২ (প্রথম আলোর ইহুদীডিম্ব!)
রাগ ইমন বলেছেন:
ভালো লাগলো পর্যালোচনা ।আইনের বই আর অর্থনীতি -- এই দুইটাকেই কঠিন আর দুর্বোধ্য করে রাখার উদ্দেশ্য কখনোই ভালো হতে পারে না , যেইটা দেখি চারিপাশে ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















টেক্স দেওয়ার বেলায় নাই কিন্তু ভুয়া কারন দেখিয়ে আরো মুনাফা করতে চায়।