সোয়াইন ফ্লুর জন্য নাকি পাচ বছরের একটা বাচ্চা দায়ী! প্রথম আলো লিখেছে: "প্রাণঘাতী এই ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার জন্য যাকে দায়ী করা হচ্ছে, সে অবশ্য সোয়াইন ফ্লুর কিছুই বোঝে না। কারণ তার বয়স মাত্র পাচ বছর এবং বাড়ির আঙিনাই তার পৃথিবী। ওয়াশিংটন পোষ্ট পত্রিকা জানিয়েছে, ভেরক্রজ রাজ্যের লা গ্লোরিয়ায় এক কক্ষের একটি খুপরি ঘর দুই সন্তানকে নিয়ে থাকেন মারিয়া। সংবাদপত্র পড়া বা টেলিভিশন দেখা হয়না বলে বর্হিবিশ্বের সঙ্গে তার কোন যোগাযোগ নেই। তাই মেক্সিকো ছাড়িয়ে পুরো বিশ্বে সোয়ান ফ্লুর আতংক ছড়িয়ে পড়লেও এ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না মারিয়া। তাকে অবাক করে দিয়ে গত সোমবার একটি হেলিকপ্টার নামে তার বাড়ির উঠানে। এর যাত্রী ছিলেন ভেরাক্রজের গভর্নর ও শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা। এদগারকে দেখার জন্যই তাদের আগমন। তারাই প্রথম মারিয়াকে জানান, এদগার প্রথম সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয় এবং তার মাধ্যমেই দেশে এটি ছড়িয়ে পড়েছে।" ( সূত্র: প্রথম আলো, ৩০ এপ্রিল, ২০০৯, পৃ: ২৪)
শূয়োরের চেয়েও বড় শূয়র এরা! কাউকে দুশ্চরিত্র ও লম্পট বলে গালি দিতে হলে ব্লাডি সোয়াইন কথাটি বলা হয়- এরা তার চেয়েও বেশী। যে এইচ১এন১ ভাইরাসকে সোয়াইন ফ্লু বলা হচ্ছে তা প্রথম ধরা পরে ১৯৯৮ সালে আমেরিকার নর্থ ক্যারোলিনা রাজ্যের একটা শূয়োরের ফ্যাক্টরী ফার্মে। এবং তখন থেকেই জীবাণুবিদ এবং স্বাস্থকর্মীরা ফ্যক্টরী ফার্মের মাধ্যমে অল্প জায়গায় অধিক পশু পালনের ফলে বিভিন্ন ভাইরাসের বিপদজনক হয়ে উঠার কথা বলে আসছিলেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা- পুজি শুধু মুনাফার কথাই শোনে, অন্যকিছু নয়। ফলে আজকে যখন আমেরিকার একটা শুকরের ফার্ম স্মিথফিল্ড ফুড( বিশ্বে শুকরের সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টরী ফার্ম) এর মেক্সিকোর লা গ্লোরিয়ায় স্থাপিত সাবসিডিয়ারী ফার্ম(Granjas Carroll de Mexico -GCM) থেকে সোয়াইন ফ্লু ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে, তখন তারা রোগ ছড়ানোর জন্য সেই ফ্যাক্টরী ফার্মের বদলে দায়ী করলেন লা গ্লোরিয়ারই এক গ্রামে বসবাস কারী সেই রোগের ভিক্টিম একটা বাচ্চা ছেলেকে!
সোয়াইন ফ্লুর নাম পরিবর্তনের আবদার:
গভর্নর সাহেবেরা স্বীকার না করলেও কিংবা ঘটনা ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে চাইলেও শুয়োরের বহুজতিক ফ্যাক্টরী ফার্মগুলোর অবস্থা কিন্তু আমার ঘরে কে রে- আমি কলা খাইনা অবস্থা- তারা সোয়াইন ফ্লুর নাম পরিবর্তনের আবদার করছে! আর বিশ্ব স্বাস্থের সোল এজেন্সি WHO অমনি তাতে রাজী হয়ে গেছে- সংস্থাটির মুখপাত্র ডিক থমপসন গত বৃহস্পতিবার(৩০ এপ্রিল) জানিয়েছে: তারা বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্য সোয়াইন ফ্লু নামটি আর ব্যবহার করবে না বরং তারা এর টেকনিক্যাল নাম H1N1 influenza A ব্যবহার করবে।
সূত্র: আইপিএস নিউস http://www.ipsnews.net/news.asp?idnews=46690
Pew Commission এর রিপোর্ট
২০০৫ সালে আমেরিকায় একটি ইন্ডিপেন্ডেন্ট কমিশন গঠিত হয়েছিল যার কাজ ছিল গত ৪০ বছরে পশুপালনের যে বিবর্তন ঘটেছে তার ইমপেক্ট বা ফলাফল স্টাডি করা। কমিশনের ১৫ সদস্যরা এসেছেন ভেটেরিনারী মেডিসিন, কৃষি, জনস্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, সংশ্লিষ্ট সরকারী প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন পশু-কল্যাণ সংস্থা থেকে। আড়াই বছরের অনুসন্ধানের পর কমিশন ২০০৮ সালের এপ্রিল মাসে একটা রিপোর্ট পেশ করে, রিপোর্টটির নাম- Putting Meat on The Table: Industrial Farm Animal Production in America. রিপোর্টটিতে বলা হয়:
"Due to the large numbers of animals housed in close quarters in typical (industrial farm animal production) facilities, there are many opportunities for animals to be infected by several strains of pathogens, leading to increased chance for a strain to emerge that can infect and spread in humans,"
রিপোর্টটিতে আরও বলা হয়:
"the continual cycling of viruses…in large herds or flocks (will) increase opportunities for the generation of novel virus through mutation or recombinant events that could result in more efficient human-to-human transmission.....Reassortant influenza viruses with human components have ravaged the modern swine industry. Such novel viruses not only put the workers and animals at risk of infections, but also potentially increase zoonotic disease transmission risk to the communities where the workers live. For instance, 64% of 63 persons exposed to humans infected with H7N7 avian influenza virus had serological evidence of H7N7 infection following the 2003 Netherlands avian influenza outbreak in poultry. Similarly, the spouses of swine workers who had no direct contact with pigs had increased odds of antibodies against swine influenza virus. Recent modeling work has shown that among communities where a large number of CAFO workers live, there is great potential for these workers to accelerate pandemic influenza virus transmission."
সূত্র: http://www.ncifap.org/index.html
ফলে পরিস্কার ভাবেই রিপোর্টটিতে সোয়াইন ফ্লুর মতো ভাইরাসের কারখানা হিসেবে ফ্যাকটরী ফার্মগুলোকে নির্দেশ করা হয়েছিল। তখন সে বিষয়ে কোন গা করা হয়নি- কিন্তু এখন যখন সারা বিশ্বের জনজীবন হুমকী গ্রস্থ তখন জাতিসংঘের Food and Agriculture Organisation (FAO) থেকে এই মহামারীর সাথে শুকরের ফার্মের সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে অনুসংন্ধান চালানোর জন্য বর্তমানে মেক্সিকোতে একটা মিশন পাঠানো হয়েছে।
লা গ্লোরিয়াবাসী এবং সোয়াইন ফ্লু:
পাচ বছরের বালক এদগার হার্নান্দেজ ১২ এপ্রিল সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হলেও অফিসিয়ালী সোয়াইন ফ্লুর কথা স্বীকার করা হয় ২৭ এপ্রিল। অথচ এরও কয়েক মাস আগে থেকেই লা গ্লোরিয়ার অধিবাসীরা বিশেষ ধরনের শ্বাস-প্রশ্বাসের অসুখের ব্যাপারে কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে আসছিল। তারা জোর দিয়ে বলছিল যে ইদানিং যেসব বড় বড় শুকরের ফার্ম ব্যাঙের ছাতার মত তাদের এলাকায় গজিয়ে উঠছে সেগুলোর দ্বারা যে দূষণ হচ্ছে তার সাথে অবশ্যই এর সম্পর্ক আছে। দীর্ঘ সংগ্রামের পর, যে সংগ্রামের ফলে তাদের বেশ কয়েকজন নেতা গ্রেফতার হয়েছেন এবং তাদেরকে মেরে ফেলারও হুমকী দেয়া হয়েছে- স্থানীয় হেলথ অফিসিয়ালদের পাঠানো হয় পরিক্ষা-নিরীক্ষার জন্য। ২০০৮ সালের শেষের দিকে চালানো পরীক্ষায় দেখা যায় এই সম্প্রদায়ের ৩০০০ সদস্যের শতকরা ৬০ ভাগই শ্বাসতন্ত্রের একটা রোগে আক্রান্ত- ২৭ এপ্রিলের আগপর্যন্ত তারা জানায়নি রোগটির নাম-পরিচয় কি।
বার্ড ফ্লু এবং সোয়াইন ফ্লু:
কেবল মাংস উতপাদনের জন্য পালিত শুকরের ফার্ম থেকে উদ্ভব সোয়াইন ফ্ল কে হাইব্রিড ভাইরাস বলা যায়- কেননা এটি মুরগী-শুকর-মানুষের ইনফ্লয়েঞ্জা ভাইরাসের জিনগত কম্বিনেশানেরই ফলাফল। কারখানা পদ্ধতির শুকরের খামার আর পোল্ট্রি খামার একসাথে থাকার মানেই হলো ভাইরাসের রিকম্বনিশেন এবং তার ফলে নতুন স্ট্রেইনের উদ্ভবের সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়া। যেমন ইন্দোনিশিয়ায় মুরগীর খামারের পাশের শুকরের খামারে বার্ড ফ্লুর একটা উপজাত ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়ে পড়ে। ফলে বিজ্ঞানীরা সাবধান করেছিল- "বার্ড ফ্লুর সম্ভাবনা আছে এমন মুরগীর খামারের আশেপাশে সোয়াইন ফ্লুর সম্ভাবনা আছে এমন শুকরের খামার অস্তিত্বের মানে হলে নতুন ধরনের মহামারীর সম্ভাবনা।"
( সূত্র: Mary J. Gilchrist, Christina Greko, David B. Wallinga, George W. Beran, David G. Riley and Peter S. Thorne, "The Potential Role of CAFOs in Infectious Disease Epidemics and Antibiotic Resistance," Journal of Environmental Health Perspectives, 14 November 2006.)
ঘটনা চক্রে লা গ্লোরিয়া অঞ্চলে শুকুরের খামারের পাশাপাশি মুরগীর খামারও আছে যেখানে ২০০৮ সালের সেপ্টম্বর মাসে বার্ডফ্লু মহামারীও দেখা দিয়েছিল, কর্তৃপক্ষ তখন বলেছিল এটা তেমন কিছু নয়, বন্য পাখীর দ্বার ছড়ানো নিম্নতর পর্যায়ের ফ্লু। কিন্ত ভেরাক্রজ স্টেট এর পরিবেশ কমিশনের প্রেসিডেন্ট নুনেজ লোপেজ এর বরাতে আমরা এখন জানি লা গ্লোরিয়া থেকে ঠিক ৫০ কিমি দূরের একটা ফ্যাক্টরী ফার্মে(Granjas Bachoco'র খামার- মেক্সিকোর বৃহত্তম পোল্ট্রি খামার) বার্ডফ্লু মহামারী হয়েছিল।
ফলে এরকম একটা হতদরিদ্র এলাকা যেখানে ফ্যাক্টরী ফার্মে ভর্তি, যে ফ্যাক্টরী ফার্মগুলো মুনাফা ছাড়া আর কিছু বুঝে না, স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্য পরিবেশ ইত্যাদিকে যারা থোড়াই তোয়াক্কা করে- সেখানেই সোয়াইন ফ্লুর জন্ম হওয়াটাকি খুব অস্বাভাবিক?
মুনাফা-ভাইরাস-মুনাফা চক্র:
যে কোন সংকটেরই আবার একটা বাজার আছে। পুজিপতিরা অধিক মুনাফা করতে গিয়ে সংকট তৈরী করে আবার সেই সংকটকে কাজে লাগিয়ে অধিক মুনাফা তৈরী করে। এবারের সোয়াইন ফ্লুর বেলাতেও সেরকমই ঘটছে। ফুড ইন্ডাস্ট্রির মুনাফাখোরীর ফলাফল হিসাবে যে সোয়াইন ফ্লুর পয়দা হয়েছে তার চিকিতসা এবং প্রতিষেধক নিয়ে চলবে আরেক দফা মুনাফাখোরী- এক্ষেত্রে লাভবান হবে ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির মনোপলি প্রতিষ্ঠানগুলো। ইতিমধ্যেই আমেরিকার সরকার বার্ড ফ্লুর ঔষধ টামিফ্লু এবং আরেকটি এন্টি-ভাইরাল রিলাক্সিন বিক্রির উপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করেছে- এগুলোই সোয়াইন ফ্লুর চিকিতসায় আদৌকাজ করবে কিনা তা নিশ্চিত না করেই টামিফ্লু এবং রিলাক্সিনের অবাধ বিক্রয়ে আমেরিকার জনগণ কতটুকু লাভবান হবে সে প্রশ্নে না গিয়েও বলা যায় এ ঔষধ দুটোর উপর একচ্ছত্র মালিকানার অধিকারী রোশে এবং গিলেড এবং গ্ল্যাক্স স্মিথ ক্লাইনের যে পোয়াবারো হবে তা নিসন্দেহেই বলা যায়। এই বড় বড় ঔষধ কোম্পানী ছাড়াও অপেক্ষাকৃত ছোট বায়োক্রাইষ্ট এবং নোভাভাক্স এর মত কোম্পানীগুলোর শেয়ারের মূল্য হুহু করে বাড়ছে কেননা এরা আমেরিকা এবং মেক্সিকোর সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যদি ঔষধ উতপাদনের এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার নিয়মকানুন আরো শিথিল করা হয় তাহলে তারা ১২ থেকে ১৪ সপ্তাহের মধ্যেই সোয়াইন ফ্লুর প্রতিষেধক আবিস্কার করে ফেলতে পারবে!
সূত্র: http://www.grain.org/nfg/?id=642
অথচ ১৯৭৬ সালে এই আমেরিকাতেই H 1N 1 এর একটা স্ট্রেইন যেটাকে বলা হয় A/New Jersey/1976 (H1N1) তার প্রতিষেধক হিসাবে যে ভ্যাকসিন ১৯৭৬ এর ১ অক্টোবর থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১১ দিন ধরে সেদেশের মোট ২৪ ভাগ লোককে খাওয়ানো হয়ে যাওয়ার পর সরকারী ভাবে স্বীকার করা হলো যে এর পাশ্বপ্রতিক্রিয়া হিসাবে মারাত্মক স্নায়ুবিক সমস্যা (Guillain-Barré syndrome -GBS) ধরা পড়ায় এ ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হলো।
সূত্র: http://en.wikipedia.org/wiki/Swine_influenza
এবারও কি তাই হতে যাচ্ছে?
এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রী:
আমেরিকা মেক্সিকো ইত্যাদি দেশ গুলোতে এখন ফ্লুর সিজন না হওয়া স্বত্ত্বেও যে ভাবে এ ফ্লু ছড়াচ্ছে তাতে বাংলাদেশের মতো দেশ যেখানে এখন ফ্লুর সিজন সেখানে একবার কারো মাধ্যমে এ জীবাণু প্রবেশ করলে কি অবস্থা হবে তা বলাই বাহুল্য। তার উপর আমাদের আবার টামিফ্লুর মতো ঔষধ উতপাদনেরও অধিকার নাই যে আমেরিকার মতো ঠেকা দিয়ে হলেও কাজ চালানোর চেষ্টা করা যাবে। যদিও আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রী রুহুল হক বলে বসেছেন বাংলাদেশে সোয়াইন ফ্লুর চিকিতসার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ঔষধ আছে( ৩০ এপ্রিল, প্রথম আলো)- পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে, পর্যাপ্ত চাল-গম মজুদ আছে বলতে এদের অভ্যাস কোথায় এসে দাড়িয়েছে দেখুন- দুনিয়ার কোথাও এখন পর্যন্ত যে ফ্লুর চিকিতসা আবিস্কার হয়নি-আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেছেন বাংলাদেশে তার পর্যাপ্ত মজুদ আছে!
প্রাথমিক ভাবে আকাশপথ এবং সমুদ্রপথে বিদেশ থেকে আগতদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তারপর দেশে ঢোকার ব্যবস্থা নিলেও আমরা মনে করি শুধু এটুকুই যথেষ্ট নয়। বার্ড ফ্লুর বেলায় জৈব নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হলেও তা কাজে আসেনি- বার্ড ফ্লুতে না হয় খামারের পর খামার মুরগী নিধন করে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেছে সরকার- সোয়াইন ফ্লুর বেলায় সেরকম হলে তখন কি করা হবে? সোয়াইন ফ্লুর ছড়ানোর আশংকা বেশী কারণ এরোগের জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে তার লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই তা সেই ব্যাক্তির নিশ্বাসের মাধ্যমে আরেক ব্যাক্তির শরীরে ঢুকে যেতে পারে। কাজেই সমুদ্র বন্দর আর বিমান বন্দরের চেকিং কতটা কাজে আসবে তা প্রশ্ন সাপেক্ষ।
কাজেই স্বল্পমেয়াদে মেক্সিকো কিংবা আমেরিকায় ওয়ার্ক অ্যারাউন্ড বা কাজ চালানোর জন্য যে ধরণের ঔষধ ব্যাবহার করা হচ্ছে আমাদেরকেও সেগুলো সম্ভব হলে উতপাদন বা অন্যদেশ থেকে আমদানীর ব্যাবস্থা করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে, হু এর কাছ থেকে সোয়াইন ফ্লুর নমুনা নিয়ে যে ভাবে আমেরিকার বায়োক্রাইষ্ট এবং নোভাভাক্স এর মতো কোম্পানীগুলো প্রতিষেধক আবিস্কারের গবেষণা চালাচ্ছে, আমাদের দেশে ব্যাবসা করছে এরকম দেশী-বিদেশী ঔষধ কোম্পানীকে বাধ্য করতে হবে সেরকম গবেষণা চালাতে । এভাবে হু এর সহায়তা নিয়ে যেসব কোম্পনী টামিফ্লুর মতে ঔষধগুলো আবিস্কার করেছে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে সাথে নিয়ে সেসব কোম্পনীকে বাধ্য করতে হবে এসবের পেটেন্ট উন্মুক্ত করতে নইলে ব্যাবসা-বাণিজ্য এবং খনিজসম্পদ তেল-গ্যাস রপ্তানী বন্ধকরে দেয়ার হুমকী দিতে হবে।
আমরা চিরকাল প্রযুক্তি এবং চিকিতসার জন্য বিদেশী প্রভুর দয়ার উপর নির্ভর করে থাকব না এরকমটাই যদি মনে করি এবং যদি যে কোন রোগবালাই মহামারীর কালে আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রীর মতোই পর্যাপ্ত প্রতিষেধক মজুদ আছে বলে ঘোষণা দিতে চাই, তাহলে অবিলম্বে সে ধরণের গবেষণা অবকাঠামো গড়ে তোলার কোন বিকল্প নাই। সোয়াইন ফ্লর উপলক্ষে আমরা এ কাজটি তো শুরু করতে পারি!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

