বাংলাদেশ কি সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন প্রভুর ভক্ত কুকুর যে চাইলেই তাকে আফগান জনগণের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়া যাবে? বাংলাদেশের শাসক শ্রেণী বোধ হয় তাই মনে করে। নইলে বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণের ইরাক ও আফগানিস্তান সহ সমস্ত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের সুস্পষ্ট বিরুদ্ধাচারণ সত্ত্বেও কেন রিচার্ড হল ব্র“কের বাংলাদেশী সৈন্য পাঠানোর আহবানের প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মণি সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করে “বাংলাদেশের পক্ষে যতটা সম্ভব সহায়তা” করার কথা বলবেন! গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিপু মণির হোটেল স্যুটে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত রিচার্ড হলব্র“ক আফগানিস্তানে ”নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার কাজে” সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশী সেনা পাঠানোর আহবান জানায়। এর জবাবে দীপু মণি মার্কিন দূতকে ”যতটা সম্ভব সহায়তা” করার এই কথা বলেন। (সূত্র: Click This Link) এরপর গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মার্কিন চার্জ দ্য এফেয়ার্স নিকোলাস ডিন এক সংবাদ সন্মেলনে জানান: “বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় আফগানিস্তানের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে।” (সূত্র: Click This Link)
য্ক্তুরাষ্ট্রের সহায়তার মুলা, তালেবান হুমকি ও জনগণের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চেতনা:
যে সংবাদ সম্মেলনে নিকোলাস ডিন বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান বিষয় আলোচনা চলার ঘোষণা দিয়েছেন সেই একই সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূত আর্থার কাজিন কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য খাত ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় “বড় ধরনের” সহায়তার মুলা ঝুলিয়েছে।(সূত্র: Click This Link) যদিও সংবাদ সন্মেলনে আর্থার কাজিন এ বিষয়ে কোন সুস্পষ্ট স্বীকারোক্তি দেননি, তথাপি আফগানিস্তানে সৈন্য পাঠানোর প্রস্তাব আর যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সহযোগিতার আশ্বাসকে আলাদা করে দেখার কোন সুযোগ নেই। প্রভু দাসকে কেবল হুমকি-ধামকিই দেন না, কাজ আদায় করার জন্য মাঝে মাঝে মাথায় হাতও বুলিয়ে দেন!
আফগানিস্তানে সৈন্য পাঠানোর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও আশ্বাসের বিপরীতে যুক্ত হয়েছে আফগানিস্তানের তালেবানদের হুমকি। যুক্তরাষ্ট্রের আহবানে সাড়া দিয়ে আফগানিস্তানে বহুজাতিক বাহিনীর সহায়তার জন্য সেনা পাঠানোর ব্যাপারে বাংলাদেশকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে তালেবান জঙ্গিরা। তারা সেনা পাঠানোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে বাংলাদেশকে পরামর্শ দিয়েছে। তালেবানরা বলেছে: “আফগানিস্তানে কয়েক’শ সেনা পাঠিয়ে ইসলাম ও আফগান জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে না জড়ানোর মতো প্রয়োজনীয় ইসলামি জ্ঞান ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা বাংলাদেশের নেতাদের আছে বলেই আমাদের বিশ্বাস।” ( সূত্র: Click This Link)
আমাদের বিবেচনায় বাংলাদেশের জনগণ মার্কিন হুমকি-ধামকি কিংবা সাহায্য-সহযোগিতার মুলাকে থোড়াই কেয়ার করে। আবার জনগণের কাছে আফগানিস্তানে সৈন্য পাঠানো না পাঠানোটা ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কিংবা ইসলামি জ্ঞানের বিষয়ও নয়। এদেশের জনগণ চিরকালই সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী চেতনার জায়গা থেকে যে কোন দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে শুরু করে ইরাক-আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধাচারণের ভিত্তিও এই সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরোধিতা। শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বের জনগণের কাছেই এটা পরিস্কার যে, ২০০১ এর ১১ সেপ্টেম্বরের টুইন টাওয়ার হামলাকে কাজে লাগিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরাক-আফগানিস্তানে যে দখলদারিত্ব চালিয়ে আসছে তার সাথে সন্ত্রাস দমন কিংবা ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কোন সম্পর্ক নেই, বরং ইসলামি জঙ্গী দমনের নাম করে ইরাক-আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদ দখল ও ভূ-রাজনৈতিক অঞ্চল হিসেবে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ইরাক ও আফগানিস্তানে তাবেদার পুতুল শাসকের মাধ্যমে গোটা অঞ্চলে মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই এসবের মূল লক্ষ্য।
সম্পদ ও সার্বভৌমত্বের এই লড়াইয়ে ইরাকের মতো আফগানিস্তানেও দখলদার মার্কিন বাহিনী ব্যাপক প্রতিরোধ ও বিপুল ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। এর মধ্যেও দখলদার বাহিনী আফগানিস্তানে লোহা, তামা, সোনা, লিথিয়ামসহ ১ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্ভাব্য খনিজ সম্পদের হিসেব কষে ফেলেছে।(সূত্র: Click This Link ) আবার মার্কিন দখলদারিত্বের সুযোগে আফগানিস্তানের উপর দিয়ে মার্কিন বহুজাতিক ইউনোকল তার বহুল আকাঙ্খিত তুর্কিমেনিস্তান-আফগানিস্তান-পাকিস্তান-ইন্ডিয়া (TAPI) গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের কাজ গুছিয়ে এনেছে। এ বছর চার দেশের মধ্যে এ বিষয়ে একটি কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি অনুসারে এ বছরের শেষের দিকে এই পাইপ লাইনের কাজ শুরু হয়ে ২০১৪ সাল নাগাদ শেষ হবে। ইরানকে বাইপাস করা এই পাইপ লাইন মার্কিন বহুজাতিকের জন্য ভীষণগুরুত্বপূর্ণ।(সূত্র:http://www.globalpost.com/dispatch/afghanistan/100929/afghanistan-pipe-dreams-peace) ফলে যতই দিন যাচ্ছে এসব বিষয় নিয়ে আফগানিস্তানে সম্পদ ও সার্বভৌমত্বের লড়াইও তীব্র হচ্ছে, মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে, জনমতের প্রবল চাপে বিভিন্ন দেশ সৈন্য প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এরকম একটা পরিস্থিতিতেই ন্যাটো বাহিনীর জন্য নতুন করে আরও সৈন্যের দরকার হয়ে পড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের জন্য বাংলাদেশের কাছে সেনা সহায়তা চাইছে হচ্ছে এরকমই একটা প্রেক্ষাপটে।
এর আগেও ইরাক যুদ্ধের সময় ২০০৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেনা চাওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশের সম্মতি আদায় করতে সেসময় ঢাকায় আসে তৎকালিন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েল ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ড। সেসময়কার ক্ষমতাসীন চারদলীয় জোটসরকার যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক আগ্রাসন বিষয়ে কোন নিন্দা না জানালেও এবং চিকিৎসক পাঠিয়ে হলেও ইরাক যুদ্ধে প্রতীকি সম্মতি প্রদান করতে চাইলেও এদেশের জনগণের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন বিরোধী মনোভাবের কারণে শেষ পর্যন্ত ইরাকে বাংলাদেশী সেনা পাঠাতে সাহস করেনি। বর্তমান শাসক শ্রেণীরও আফগানিস্তানে সেনা পাঠানোর ব্যাপারে কোন নীতিগত বিরোধ নেই বলেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মণি রিচার্ড হলব্র“কের সেনা পাঠানোর আহবানের বিপরীতে শুধু “যতটা সম্ভব সহায়তা” দেয়ার কথাই বলেন নি, সেই সাথে আফগানিস্তানে শিক্ষক ও চিকিৎসক পাঠানোর প্রস্তাবের কথাও বলে এসেছেন।
প্রভু ও তার দোসরদের শিক্ষা:
কেউ শিখে ঠেকে আর কেউ শিখে দেখে । নেদারল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, কানাডা কিংবা অষ্ট্রেলিয়ার শাসক শ্রেণী যুক্তরাষ্ট্রের “শান্তি রক্ষার” আহবানে সাড়া দিয়ে আফগানিস্তানে সৈন্য প্রেরণ করলেও সেসব দেশের জনগণের তীব্র বিরোধিতা, আফগান জনগণের তীব্র প্রতিরোধ, একের পর এক ভাড়াটে সৈন্যের প্রাণহানি ইত্যাদি পরিস্থিতিতে অবশেষে তারা ঠেকে শিখতে শুরু করেছে, তারা এখন একে একে সৈন্য প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এমনকি খোদ দখলদার যুক্তরাষ্ট্র্রও ২০১১ সালের মধ্যে সৈন্য প্রত্যাহারের কথা বলছে।
১) নেদারল্যান্ড ২০১০ এর জুলাই মাসে আফগানিস্তানের ন্যাটোর আন্তর্জাতিক শান্তি সহায়তা বাহিনী বা ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এসিস্টেন্স ফোর্স(আইএসএএফ) থেকে সেদেশের সমস্ত (প্রায় ২০০০) সৈন্য প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর আগে সৈন্য প্রত্যাহার করা না করা নিয়ে সে দেশে এমনকি সরকার পর্যন্ত পতন হয়েছিল। ২০১০ সালের ফেব্র“য়ারি মাসে লেবার পার্টি ন্যাটোর প্রস্তাব অনুসারে সৈন্য আরো বেশিদিন রাখার বিরোধিতা করে কোয়ালিশান থেকে বের হয়ে আসলে সেই কোয়ালিশান সরকারের পতন ঘটে। আফগানিস্তানের উরুজঘান অঞ্চলে নেদারল্যান্ডের চার বছরের উপস্থিতিকালে ২৪ জন ডাচ সৈন্য নিহত হয় এবং ১৪০ জন আহত হয়। আফগানিস্তানে ন্যাটোর সহোযোগিতায় মার্কিন দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে দেশের ভেতরে জনমত প্রবল হয়ে উঠলে অবশেষে নেদারল্যান্ড সরকার আফগানিস্তান থেকে সমস্ত সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়।
(সূত্র: Click This Link)
২) এর আগে ২০০৮ সালের মার্চ মাসে সুইজারল্যান্ড তার দেশের বাহিনী প্রত্যাহার করে নেয়। সুইজারল্যান্ড ন্যাটোর সদস্য না হলেও “শান্তি রক্ষার্থে” প্রতীকি অর্থে আইএসএএফ এ দুই জন অফিসার আফগানিস্তানে পাঠায়। এরা জার্মান বাহিনীর সাথে কুন্দুজ প্রদেশে কাজ করছিল। কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল স্মিড এর বক্তব্য অনুসারে আফগানিস্তানে তাদের এই অফিসারদের উপস্থিতি যদিও প্রতীকি কিন্তু “আর সম্ভব নয় কারণ এটি সংবিধানের মূল মন্ত্র এবং আইনের বিরোধী।”
(সূত্র: Click This Link)
৩) অষ্ট্রেলিয়ার ১৫৫০ জন সৈন্য নিয়োজিত রয়েছে আফগানিস্থানের উরুজগান প্রদেশে। ২০০২ সালে অষ্টেলিয়া তার জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার কারণ দেখিয়ে আফগানিস্থানে সৈন্য পাঠায়। কিন্তু ক্রমশ জনগণের কাছে তৎকালীন হাওয়ার্ড সরকারের এই মিথ্যাচার স্পষ্ট হয়ে উঠতে থাকে এবং সৈন্য প্রত্যাহারের জন্য জনমত প্রবল হতে থাকে। অষ্ট্রেলিয়ার এক এমপি এন্ড্রু উইল্কি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আফগানিস্থান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের আহবান জানিয়ে বলেন: “এর আগের নির্বাচনে লেবার পার্টি আর লিবারেল পার্টি উভয়ের পক্ষ থেকে যে প্রচারণা চালনা হয় তার মধ্যে সবচেয়ে বড় মিথ্যাটি হলো- অষ্ট্রেলিয়ার জাতীয় নিরাত্তার জন্য আফগানিস্থানে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে।... যত দ্রুত সম্ভব সেখান থেকে আমাদের বের হয়ে আসা উচিত।”
(সূত্র: Click This Link) জনমতের চাপে অবশেষে অষ্ট্রেলিয়ার সরকার আগামী দুই বছরের মধ্যে সৈন্য প্রত্যাহারের একটা রোড ম্যাপ ঘোষণা করেছে। (সূত্র: Click This Link)
৪) কানাডা আফগানিস্তানের আইএসএএফ বাহিনীতে সর্বপ্রথম সৈন্য পাঠালেও এখন দেশের ভেতরে বিরূপ জনমতের চাপে ২০১১ সালের জুলাই মাসের মধ্যে সমস্ত সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। (সূত্র: Click This Link) বর্তমানে কানাডার প্রায় ২৮০০ সৈন্য আফগানিস্তানের বিপদজনক প্রদেশ কান্দাহারে মোতায়েন রয়েছে। এ যাবত কানাডার সৈন্য নিহত হয়েছে ১৪০ জন। সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কানাডায় বিপুল জনমত গড়ে উঠে। গত এপ্রিল মাসের এক জরিপে দেখা যায় কানাডার ৫৪ শতাংশ মানুষ আফগানিস্তানে সৈন্য পাঠানোর বিরুদ্ধে ছিল এবং বর্তমানে ৬০ ভাগ মানুষ মনে করে ২০১১ সালের পর আর আফগানিস্তানের সৈন্য মোতায়েন রাখা যাবে না। অবশেষে সংসদে সিদ্ধান্ত হয় কানাডা ২০১১ সালের জুলাই মাসের মধ্যে সমস্ত সৈন্য প্রত্যাহার করবে।(সূত্র: Click This Link)
বাংলাদেশের শাসক শ্রেণী কি এসব দেখেও কিছু শিখেছে? সাম্রাজ্যবাদী প্রভুর প্রতি অন্ধ ভক্তি বাংলাদেশের শাসক শ্রেণীকে কতটা অন্ধ করে দিলে , খোদ প্রভু ও তার দোসররাই যখন একে একে আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হচ্ছে, তখনও তারা প্রভুকে “যতটা সম্ভব সহায়তা” করার আশ্বাস দেয় কিংবা “আফগানিস্তানের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার” আলোচনা চালায়!
আমরা বাংলাদেশের জনগণের অর্থে লালিত সেনাবাহিনীকে দখলদার মার্কিন বাহিনীর ভাড়া খাটা মার্সেনারি হিসেবে আফগানিস্তানের জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার সাম্রাজ্যবাদী পাঁয়তারার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

