somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভারতের টেলিকম কেলেংকারি, স্পেকট্রাম লুট ও বাংলাদেশ প্রসংগ

২৪ শে নভেম্বর, ২০১০ রাত ১০:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


”ওরু কিলো আরিসি ওরু রূপা, ওরু হ্যালো ৫০ পয়সা” অর্থাৎ ”১ কেজি চাল ১ রুপিতে, ১ টা হ্যালো ৫০ পয়সায়”- এই ছিলো ভারতের তামিল নারু রাজ্যের তথাকথিত দলিত নেতা আন্ডিমুথু রাজার নির্বাচনী শ্লোগান। আর নির্বাচনী প্রতিশ্র“তি রক্ষার জন্য জনগণকে কমপয়সায় কথা বলার সুযোগ করে দিতেই নাকি রাজা সাহেবকে কর্পোরেটদের কাছে অতি সস্তায় ২ জি লাইসেন্স ও স্পেকট্রাম বিক্রি করতে হয়েছিল! আহা! যার জন্য করি চুরি সেই বলে চোর। কেবল চোরই না, বলির পাঠাও। তামিল নাড়–র ডিএমকে পার্টির এই দলিত নেতা এখন ভারতের সর্ববৃহৎ আর্থিক ও রাজনৈতিক কেলেংকারির বলির পাঠা। ভারতের কম্পোট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) বা মহা হিসাবনিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বিভাগের রিপোর্টে টেলিকম সেক্টরে ভারতের ইতিহাসের এই বৃহত্তম দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ার পর এবং ভারতের সুপ্রিমকোর্ট থেকে মনমোহনসিং এর দিকে আঙুল উঠানোর পর কংগ্রেস এবং ইউপিএ সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য গত ১৪ নভেম্বর ২০১০ রাজা সাহেব কে তার টেলিকম রাজ্য ত্যাগ করতো হলো।

মূল অভিযোগ
সিএজি এর রিপোর্টে টেলিকম মন্ত্রণালয় ও ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকম(ডিওটি) এর বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো উঠেছে সেগুলো সংক্ষেপে এরকম:

১) টেলিকম লাইসেন্স এবং ফ্রিকোয়েন্সি স্পেকট্রাম বরাদ্দ করার ক্ষেত্রে যথাযথ প্রকৃয়া অনুসরণ করা হয়নি। দক্ষতা যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বদলে ”আগে আসলে আগে পাবেন” ভিত্তিতে লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। নতুন ১২২ টি লাইসেন্সের মধ্যে ৮৫টি কোম্পানিরই লাইসেন্স পাওয়ার কোন যোগ্যতা ছিলনা বলে সিদ্ধান্তে পৌছেছে তদন্ত কমিটি।

২) ২০০৮ সালের নতুন লাইসেন্স প্রদান করার সময় দরপত্রের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণের বদলে লাইসেন্সের দাম ধরা হয়েছে ২০০১ সালের হারে। নতুন লাইসেন্স ছাড়াও পুরাতন ১৩ টি অপারেটরকে বাড়তি ফ্রিকোয়েন্সি প্রদান করার ক্ষেত্রেও ২০০১ সালের হারে ফি নেয়া হয়েছে।

সিএজি’র রিপোর্ট অনুসারে ২০০১ সালের হারে লাইসেন্স বিক্রি করার জন্য ভারতের জনগণের ক্ষতি হয়েছে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার কোটি রুপি আর লাভ হয়েছে Reliance Communications, Tata Teleservices, Shyam Telelink Uninor, Loop Telecom, S-Tel, Datacom (বর্তমানের Videocon), Allianz Infratech (পরবর্তিতে DB-Etisalat এর সাথে একীভূত হয়েছে), Swan Telecom ইত্যাদি দেশী বিদেশী কর্পোরেট কোম্পানির। এই হলো রাজা সাহেব প্রতিশ্রুত ৫০ পয়সায় ১টা হ্যালোর প্রকৃত মূল্য!

কর্পোরেট বলির পাঠা
এখন এই সব অভিযোগে শুধু রাজাকে পদত্যাগ করানোর মধ্যদিয়েই কংগ্রেস এবং মনমোহন সিং রক্ষা পেতে চাইছেন। কিন্তু এই দুর্নীতির অভিযোগটি কিন্তু আজকের নয়, এটি প্রথম উঠে ২০০৮ সালে লাইসেন্স দেয়ার পরপরই। রাজা তখন টেলিকম মন্ত্রী। এসময় যখন ’আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে ১২২ টি কোম্পানিকে নতুন লাইসেন্স এবং ৩৫ টি পুরাতন অপারেটর কোম্পানিকে ডুয়েল টেকনোলজি(জিএসএম এবং সিডিএমএ) লাইসেন্স দেয়া নিয়ে সমালোচনা হলো, তখন তার বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা নেয়া হলো না। শুধু তাই না, এক বছর আগেই ভারতের ইনকাম ট্যাক্স বিভাগ থেকে রাজার সাথে ভারতের কুখ্যাত কর্পোরেট লবিইস্ট নিরা রাদিয়ার সাথে রাজা এবং সংশ্লিষ্ট অনন্য কর্পোরেট যেমন রতন টাটা, কর্পোরেট মিডিয়ার সাংবাদিক বীর সাংভি বা বারখা দত্ত’র কথোপকথন সহ একটি টেপ সিবিআই এর কাছে জমা দেয়া হয়েছিল। সেই সাথে এই টেপের কপি মনমোহন এবং সনিয়া গান্ধি সহ আরো অনেক রথি মহারথির কাছেও পাঠানো হয়েছিল বলে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু তখন এসবের বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা নেয়া হয়নি। উল্টো ভারতের টেলিকম সেক্টরে বিপ্লব করার জন্য আন্ডিমুথু রাজাকে ২০০৯ সালের নতুন মন্ত্রীসভাতে আবারও টেলিকম মন্ত্রাণালয়ের দ্বায়িত্ব দেয়া হলো। গত ২০০৮ এর নভেম্বরে জনতা পার্টির চেয়ারম্যান সুব্রামনিয়াম স্বামী টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজার বিরুদ্ধে মামলা করা অনুমতি চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি দেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সে অনুমতি প্রদান করেন নি। এখন যখন সুপ্রিম কোট এ বিষয়ে মনমোহন সিংকে কারণ দর্শাতে বলেছে(গত ২৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং কে নির্দোষ দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি এফিডেভিট দাখিল করা হয়েছে, (এফিডেভিট টি এখানে পাওয়া যাবে Click This Link) এবং যখন সংসদে উপস্থাপনের জন্য তৈরী কম্পট্রলার এন্ড অডিটর জেনারেল(সিএজি) এর তদন্ত রিপোর্ট ইন্টারনেট ও মিডিয়ায় ফাঁস হয়ে গিয়েছে এবং কথোপকথনের টেপের কপি আদালতেও জমা দেয়া হয়েছে, তখন সব কিছু ধামা চাপা দেয়ার উদ্দেশ্যে কেবল টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজাকে পদত্যাগ করানো হলো!

স্পেকট্রাম লুট, বাংলাদেশ প্রেক্ষিত
বাংলাদেশেও মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোর কাছে বিটিআরসি কর্তৃক লাইসেন্স বিক্রির প্রকৃয়া, লাইসেন্স ও ফ্রিকোয়েন্সি স্পেকট্রামের মূল্য, সরকারের প্রাপ্য ট্যাক্সের হার ইত্যাদি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এসব কোম্পানিকে শুরুতে নাম মাত্র মূল্যে লাইসেন্স ও ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। ঠিক কোন নীতিমালার ভিত্তিতে এবং কি কি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তখন কত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল সেটা কখনই জনগণের সামনে পরিস্কার করা হয় নি। এবং এসব নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোন তদন্তও হয় নি। আবার সামনে ২০১১ সালের ১১ নভেম্বর গ্রামীণ ফোন, বাংলালিংক, রবি এবং সিটি সেলের ১৫ বছর মেয়াদি লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হবে। জানা গেছে, এ চার বেসরকারি মোবাইল অপারেটরের লাইসেন্স নবায়ণের বিষয়টি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে(বিটিআরসি) প্রকৃয়াধীন। বিটিআরসির কাজ শেষ হওয়ার পর ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় তা বিবেচনা করে দেখবে। তাছাড়া এসব কোম্পানির কাছে সামনে ৩ জি (তৃতীয় প্রজন্ম) লাইসেন্সও বিক্রির কথাবার্তা চলছে। পত্রপত্রিকার খবর থেকে জানা গেছে লাইসেন্স নাবায়ণের নীতিমালায় প্রতি বছরের জন্য লাইসেন্স নবায়ণ ফি মাত্র ৫ কোটি রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে এবং প্রতি সাড়ে সাত বছরের জন্য ফ্রিকোয়েন্সির ফি ধরা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা করে। (সূত্র: সমকাল ১৯ সেপ্টম্বর ২০১০) ভারতের সা¤প্রতিক টেলিকম কেলেংকারির বেলায় আমরা দেখি, ভারতকে মোট ২৩ টি ইউনিফাইড সার্ভিস এরিয়া(ইউএসএ) তে ভাগ করে প্রতিটি সার্ভিস এরিয়ার জন্য ২০০১ সালের হারে প্রতিটি লাইসেন্স (৪.৪ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম সহ) ফি রাখা হয়েছিল ২০ বছরের জন্য ১৬৫৮ কোটি রুপি করে। কিন্তু সিএজি রিপোর্ট এটিকে বর্তমান বাজার দর হিসেবে কয়েকগুণ অবমূল্যায়িত বলে আখ্যায়িত করে। রিপোর্ট টিতে ভারতের বাজারে মোবাইল টেলিকম লাইসেন্সের বর্তমান সম্ভাব্য মূল্য হিসেবে ৭,৭৫৮ কোটি থেকে ৯,১০০ কোটি রুপি অর্থাৎ ১২,০২৫ কোটি থেকে ১৪,১০৫ কোটি টাকা ধরা হয়। বাংলাদেশের প্রস্তাবিত লাইসেন্স নবায়ন ও স্পেকট্রাম ফি ধরলে প্রতি ২০ বছরের জন্য লাইসেন্স নবায়ন ও ৪.৪ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম এর খরচ দাড়াবে (৫০ কোটি + ১১৭৩ কোটি) অর্থাৎ ১২২৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ সিএজি রিপোর্টের হিসেবে ভারতের লাইসেন্স মূল্যের ১০ গুণেরও কম মূল্যের বিনিময়ে লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে বাংলাদেশে।

টেলিকম সেক্টর বেসরকারিকরণ ও লুটপাট
ভারত ১৯৯৪ সালে জাতীয় টেলিযোগাযোগ নীতিমালার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে টেলিকম সেক্টর বেসরকারি করণের সিদ্ধান্ত নেয় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নীতিমালার মাধ্যমে ভারতীয় ফিকোয়েন্সি স্পেকট্রাম দেশি-বিদেশী কোম্পানির হাতে তুলে দেয়ার কাজটি চালিয়ে যায়। বেসরকারি করণের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্র কর্তৃক দেশি বিদেশী পুজিপতিদের স্বার্থে কাজ করার ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম টেলিকম সেক্টর বেসরকারীকরণ শুরু করে। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ টেলিকম (প্রাইভেট) লিমিটেড বা বিটিএল কে লাইসেন্স দেয়ার মাধ্যমে এ কাজটি শুরু হয়। বাংলাদেশ এরপর আরো ৫টি লাইসেন্স দিয়েছে মোবাইল কোম্পানিকে। সবগুলোর লাইসেন্স প্রদান প্রকৃয়া, লাইসেন্স ফি, সরকারের সাথে রেভিনিউ ভাগাভাগির হার ইত্যাদি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকটি অভিযোগ সংক্ষেপে এরকম:

এক. ১৯৮৯ সালে বিটিএল এর লাইসেন্স দেয়া হয় কোন ধরণের নীতিমালা ও বিডিং ছাড়াই। হুসেন মুহম্মদ এরশাদ যখন সেনা অফিসার তখন বিটিএল এর মালিক শাজাত আলির সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে এরশাদ ক্ষমতায় থাকাকালীন সেই যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি এই লাইসেন্সটি বাগিয়ে নেন। পরবর্তীতে ঐঁঃপযরংড়হ এর সাথে জয়েন্ট ভেঞ্চারের মাধ্যমে এর নাম হয় এইচবিটিএল। এরশাদের পতনের পর বিএনপি সরকারের সময় ১৯৯৩ সালে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে এইচবিটিএল কে মোবাইল টেলিকম অপারেশনের লাইসেন্স মোরশেদ খানের পেসিফিক টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটিডে (পিবিটিএল) কে হস্তান্তরে বাধ্যকরা হয় এবং সে সময় থেকে কোম্পানিটি সিটিসেল ব্র্যান্ড নাম নিয়ে ব্যাবসা করছে।

দুই. ১৯৯৫ সালে বিডিং আহবান করে ১৯৯৬ সালের দিকে আরো তিনটি কোম্পানিকে লাইসেন্স দেয়া হয়। এগুলো হলো টেলিকম মালয়েশিয়া বাংলাদেশ লিমিটেড(ব্র্যান্ড নাম প্রথমে একটেল, বর্তমানে রবি), সেবা টেলিকম প্রাইভেট লিমিটেড(বর্তমানের বাংলালিংক) এবং গ্রামীন ফোন । এই লাইসেন্সগুলো বিডিং এর মাধ্যমে হস্তান্তর করা হলেও লাইসেন্স গাইড লাইন বা পলিসি প্রকাশ করা হয়নি, কোন কোন মানদন্ডের মাধ্যমে বিডিং এ কোম্পানিগুলো যোগ্য বলে বিবেচিত হলো সেটাও অস্বচ্ছ, লাইসেন্স ফি ইত্যাদি বিষয়ে দুর্নীতি হয়েছে । যেমন: গ্রামীণ ফোন সম্পর্কে অভিযোগ হলো কোম্পানিটি প্রৃাথমিক বাছাই পর্বেই অযোগ্য বলে বিবেচিত হলেও পরবর্তীতে ড.ইউনুস, টেলিনর সহ দেশি বিদেশী লবিং এর চাপে গ্রামীণ ফোনকে মোবাইল লাইসেন্স প্রদান করা হয়।

তিন. রাষ্ট্রায়াত্ত কোম্পানি টেলিটকের যাত্রার শুরুতে বাধা দেয়া এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন ভাবে বহুজাতিক মোবাইল কোম্পানিগুলোর স্বার্থে টেলিটককে দুর্বল রাখার অভিযোগ আছে। টেলিটক এর লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০০১-২০০২ সালে। কিন্তু ৩-৪ বছর ধরে চেষ্টা করার পর তৃতীয় বারের মাথায় টেলিটককে লাইসেন্স দেয়া হয়। বর্তমানে ইচ্ছাকৃত ভাবে নেটওয়ার্ক স¤প্রসারণ করতে না দেয়া, অর্থায়ন ও যন্ত্রাপাতি কেনায় বিলম্ব ও দুর্নীতির অভিযোগ আছে।

চার. সর্বশেষ ২০০৫ সালের ২০ ডিসেম্বর ৬ ষ্ঠ মোবাইল অপরাটের ওয়ারিদ কে লাইসেন্স দেয়া হয়েছে পানির দরে। মাত্র ৫ কোটি ডলারের বিনিময়ে কোন ধরণের বিডিং ও নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই কোম্পানিটিকে লাইসেন্স প্রদান করা হয়। এই লাইসেন্সের জন্য ওয়ারিদ কে খরচ করতে হয়েছিল ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার যা তৎকালিন সরকারের ক্ষমতাবানদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়েছিল বলে পত্রিকায় খবরও প্রকাশিত হয়েছে। শুধু তাই না, ২০১০ এর জানুয়ারিতে সরকারকে লাইসেন্স হস্তান্তর ফি কম দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ওয়ারিদের মূল্য মাত্র ১ কোটি টাকা দেখিয়ে ভারতীয় টেলিকম জায়ান্ট ভারতী এয়ারটেল মাত্র ৭০ লক্ষ টাকা বা ১ লক্ষ ডলারের বিনিময়ে ওয়ারিদ টেলিকম এর ৭০% শেয়ার কিনে নিয়েছে।

কাজেই অন্যান্য সেক্টরের মতোই দুর্নীতি কথা বলে রাষ্ট্রায়াত্ত সেক্টরকে বেসরকারি করণের ফলে টেলিকম সেক্টরও জন্ম দিয়েছে সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা । লুটপাটের এ প্রকৃয়া এখনও জারি আছে। আমরা মনে করি, এ অবস্থায় ভারতের মতো বাংলাদেশেও বেসরকারি বিদেশী প্রতিষ্ঠানের কাছে মোবাইল টেলিকম লাইসেন্স বরাদ্দের যৌক্তিকতা, উদ্দেশ্য ও প্রকৃয়া , দেশীয় কোম্পানি টেলিটক কে দুর্বল ও অকার্যকর করে রাখা, লাইসেন্স নবায়ণের প্রকৃয়া, মূল্য নির্ধারণ, সস্তায় ফ্রিকোয়েন্সি স্পেকট্রাম বরাদ্দ ও লুটপাট ইত্যাদি বিষয়ে শক্তিশালি তদন্ত হওয়া দরকার।

তথ্য সূত্র:
১)CAG Report on 2G Spectrum Scam
Click This Link Report.pdf

২)Some Telephone Conversations
Click This Link

৩)CAG Report on the Telecom Sector
http://www.ias100.in/news_details.php?id=185

৪)10 companies being probed in Rs60k cr telecom scandal
Click This Link

৫)Politics, Accumulation and Mobile phone licensing- an untold story by
Mohammad Abu Yusuf, Quamrul Alam & Coghil
Click This Link

৬)মোবাইল অপারেটরদের লাইসেন্স নবায়ন, বাড়ছে ফ্রিকোয়েন্সির দাম, সমকাল, ১৯ সেপ্টম্বর ২০১০
Click This Link

৭) ওয়ারিদের লাইসেন্স এক নামে, ব্যাবসা চলছে আরেক নামে- প্রথম আলো, ৩১ জানুয়ারি , ২০১০।
Click This Link

৮) Politics, Accumulation and Mobile phone licensing- an untold story by Mohammad Abu Yusuf, Quamrul Alam & Coghil
Click This Link

২৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×