somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চাইছি তোমার বন্ধুতা।

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ১১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হোস্টেলে আমার এক রুমমেট পরিচয় করিয়ে দেয় তার আর এক বন্ধুর সাথে।ধরি তার নাম"ম"। আমি অনার্স করি , সে পাস কোর্সে। আমার বিজ্ঞান বিষয়ে , সে বানিজ্য। আমি নিয়মিত ক্লাস করি, সে করে রাজনীতি। আমি ধর্ম করি সে করে অধর্ম। কিন্তু এই "ম"ই আমার ক্রমে হয়ে উঠে কাছের মানুষ। এখনো পর্যন্ত যার উপর আমার সবচেয়ে বেশি আস্থা আছে তার নাম" ম"। কিন্তু যার মাধ্যমে ঐ "ম" এর সাথে পরিচয়,তার সাথে আমার কখনোই মতের মিল হয়নি।সে পাশা পাশি থাকলেও কাছা কাছি ছিলনা। চেনা জানা থাকলেও জানা-শোনা ছিলনা। প্রতিদিন গায়ে গা লাগলেও কখনো বন্ধু হয়ে উঠেনি। তার সাথে এখন কোন যোগাযোগ নেই। যোগাযোগ করার ইচ্ছাও নেই। কাকতালীয় ভাবে না হলে হয়তো আর কোন দেখা সাক্ষাতও হবেনা। এমনই হয়।
বন্ধুতা কি ভাবে গড়ে উঠে তার মনে হয় কোন নীয়ম নীতি নেই। কোন সূত্র নেই।

"চাইছি তোমার বন্ধুতা"


আমি যখন অনার্স করতে বাড়ির চেনা গন্ডি থেকে বের হই। তখন একাই বের হয়েছিলাম। কোন চেনা-জানার হাত ধরে তা হয়নি। কলেজে এসে যাদের পেলাম তারা সবাই অচেনা। কলেজে পূর্বসূত্র ধরে কাউকে চিনতাম না। নতুন করে একটা পরিবার,একটা মহল্লা বা একটি রাজ্য তৈরি করে নিয়েছিলাম।
রাজ্য বলাটা বোধ হয় বেশিই বলা হলো? আমি তো আর আওয়ামিলীগ বা বিএনপি করি না যে নিজস্ব এলাকা দখল করে নেব। তবু কিছুটা এলাকা কিছু মানুষজনকে আপন করেই নিয়েছিলাম,নিচ্ছি এবং নিব। এভাবেই বেড়ে যাচ্ছে আমার বৃত্ত। এভাবেই বেড়ে যাচ্ছে আমার চেনা জানার গন্ডি।

এই বৃত্তের চার ধারে আমাকে কত জন চিনলো? আর আমি কতজনকে চিনলাম?

আমি আসলে বলতে চাই। জীবনের মাস, দিন, ঘন্টা,সেকেন্ট যে অতিক্রম করছি এই সময়ে কত জন মানুষের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে। একটা মানুষের জীবনে কত জন মানুষকে সে আপন করে নেয় । হোক সেটা কাজের জন্য অকাজের জন্য।
কত জন মানুষের সাথে আমার সম্পর্ক হয়? সম্পর্ক বলাটাই মনে হয় যুক্তি যুক্ত।

নিয়মিত টিকিট কাটতে গিয়ে বাস কাউন্টারের লোকের সাথে, সবজি কিনতে গিয়ে সবজীওয়ালার সাথে, ফ্লেক্সি করতে গিয়ে মোবাইল ওয়ালার সাথে। এই পরিচয়টা আমাদের খুবই কমন।
লেখাপড়ার সম্পর্ক,চাকরির সম্পর্ক,খেলাধুলা সম্পর্ক,আড্ডা সম্পর্ক,সংগঠন সম্পর্ক।এমনই সম্পর্কের জালে আমরা জড়াতে থাকি। সম্পর্কের জাল ছড়িয়ে দিতে থাকি চার দিকে।

একটা শিশু জন্ম সূত্রে কিছু মানুষকে পায়। বাবা-মা, ভাই-বোন,দাদা-দাদী,নানা-নানী,চাচা-চাচি,ইত্যাদি। এবং তাদের চেনা জানা আরো অনেক কেই। বেড়ে উঠার সাথে সাথে এই পরিচয় বড় হতে থাকে। উত্তরাধিকারের গন্ডি পেরিয়ে প্রতিটি মানুষ নতুন নতুন যে বলয় তৈরি করে আমি তার কথাই বলছি।

ফেসবুক, ব্লগ,টুইটার এর কল্যানে অনেকের সাথেই সম্পর্ক হচ্ছে। অদেখা অচেনা অনেক কেই খুব আপন বলে মনে হয়। এই যে অচেনার মাঝে চেনা, অজানার মাজে জানা এও কম কিসে?

এও এক ধরনের বন্ধুতা।


একটা মানুষের জীবনে এমন কতজন মানুষের সাথে কম করে সম্পর্ক করতে হয়? এবং সর্বোচ্চ এই সম্পর্কিত মানুষের সংখ্যা কত?
এই সম্পর্কিত মানুষ থেকেই,বন্ধু নির্বাচন করে, আপন জন নির্বাচন করে, কাছের মানুষ নির্বাচন করে। অনেক বার , অনেক বার। স্বপ্ন দেখে। আবার স্বপ্ন ভঙ্গও হয়। আমি আশাবাদী মানুষ নিরাশার গান তাই গাইনা।

বন্ধু আমার মন ভালনেই তুমার কি মন ভাল?


আমার পরিচত আমার বয়সি এক ব্যবসায়ীর কাছে জানতে চাইলাম। আচ্ছা আপনার পরিবারের বাইরে এমন কি কোন ব্যক্তি আছে যার উপর আপনি একশত ভাগ নির্ভর করতে পারেন? যে কোন বিপদে আপনার উদ্ধারে এগিয়ে আসবে এমন এমন আস্থাভাজন কি কেউ আছে? সে খুব চিন্তা করে বলল।আসলে আমি খুব কম লোকের সাথেই মিশেছি। তাকে খুব অসহায় দেখাল। এত টাকা,এত সময়, এত মানুষের সাথে সম্পর্ক করেও এমন একজন আস্থাভাজন মানুষ তৈরি করতে পারে নি সে। কেন পারেনি? সে কি চায়নি কেউ তার চরম বিপদগ্রস্থ মুহূর্তে তার পাশে এসে দাঁড়াক,তার পরিবারের পাশে এসে দাঁড়াক? অবশ্যই চায়। হয়তো এমন মুহূর্তে কেউ না কেউ দাঁড়াবে। কিন্তু সেই লোকটা কে, সে তা জানেনা। সে কারো উপরই আস্থা রাখতে পারছেনা। সে কি তবে কারো আস্থা ভাজন হতে পেরেছে?

জীবনে এমন কোন অস্থার জায়গা যদি তৈরি না করা যায় তবে জীবনের স্বার্থকতা কোথায়? এত ভাল ব্যবহার,এত নৈতিকত,এত শিক্ষার ফলাফল তবে কি?

আমি যেখানেই গিয়েছি,যে খানেই হাত বাড়িয়েছি ,বন্ধুত্বপূর্ন সহযোগিতা পেয়েছি সব খানে। কলেজে পেয়েছি চমৎকার বন্ধুদের। যারা নিজের স্বার্থ জলাঞ্জলী দিয়ে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বিপদের সময়ে। তারা তো বন্ধু তাই বিনিময় কিছু চায়নি, আর আমি প্রতিদান কি-ইবা দিতে পারতাম?
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×