ব্যাংক থেকে টাকা আনতে গিয়ে দেখি টাকার সাথে একটা লটারির টিকেট। দশটাকা ভেবে ভুল করে দেয়নি তো? আমি বল্লাম একটা তো লটারির টিকেট? ক্যাশিয়ার বলল এটা আপনাকে দিলাম। আমি ভেবেছিলাম সোনালী ব্যাংক মনে হয় তার গ্রাহকে বছর একটা লটারির টিকিট গিফ্ট করে। কিন্তু টাকা হিসেব করে দেখি দশ টাকা কম?
নাহ। ফ্রি দেয় নাই। ক্যাশিয়ার চেনা বলে আমার অনুমোতি নেয়ার প্রয়োজন মনে করে নাই। সময়টা খুবই টানাটানি( কোন কিছু লিখতে গেলেই নিজের পরিস্থিতির কথা চলে আসে, ভাবছি এই নিয়ে ছোট্ট করে একটা পোষ্ট দেব) করে চলছে তবু দশটাকায় ধনী হওয়ার বাসনা নাই। টিকেট কিনলেই তো আর ধনী হয়ে যাচ্ছেন না? কপালও ভাল থাকতে হয়।
আমি জানি আমার কপাল ভাল(আগের চেয়ে কপালে ভ্রুনের পরিমান কমেছে)। ভাগ্য বিশ্বাসি নই। তবু টিকেটটা নেড়ে চেড়ে দেখলাম। কি আর করা যাবে। আবার কাঁচের ছিদ্র দিয়ে হাত ঢুকিয়ে লটারির টিকেটটা দিলাম। ক্যাশিয়ার : কি ব্যপার ফিরিয়ে দিচ্ছেন কেন? আমি সহাস্যে বল্লাম ফিরিয়ে দিচ্ছি না আপনাকে গিফ্ট করছি। আমার জীবনে তো আর এমন সময় আসবে না। তাই সুযোগ মতো ২৫লাখ টাকাই আপনাকে দিয়ে দিলাম।
লটারি নিয়ে একটা জোক্স আছে।
এক ব্যক্তি আল্লার কাছে প্রতিদিন নামাজ পড়ে দোয়া করে আল্লা আমারে ধনী বানিয়ে দাও, ধনী বানিয়ে দাও। কিন্তু কোন কাজ হয়না। কিন্তু লোকটাও হাল ছাড়েনা। আল্লা আমারে একটা লটারি পাইয়ে দাও। এইবার সুযোগ বুঝে সবে-কদরের রাতে আল্লার কাছে কেঁদে কুটে চাইল। আল্লা আমাকে ধনী বানিয়ে দাও। আমাকে একটা লটারি পাইয়ে দাও ।আল্লা আমাকে একটা সুযোগ দাও। অন্তত একটা সুযোগ দাও। আল্লা আমাকে কম করে একটা সুযোগ দাও।
হঠাৎ আকাশ বাতাশ কাপিয়ে গায়েবি আওয়াজ আসলো। আল্লা বল্ল শুন তুমিও আমাকে একটা সুযোগ দাও। অন্তত একটা লটারি কিন।
আমার রুমের নিচেই রাতের এগারটা পর্যন্ত লটারি বিক্রি করে। প্রাইভেট কারে হলুদ একটা ভেনার লাগিয়ে। ক্যাসেটে আধ্যাতিক গান বাজে। মনির খান গায়" টাকা সঙ্গে যাবে না ,পয়সা সঙ্গে যাবে না।" এন্ডুকিশোরে কন্ঠে একটা গান বাঁজে" বড়াই করিস নারে মানুষ বড়াই করিস না,এই দুনিয়া........ এমন একটা গান"
আমি ভেবে পেলাম না কেন এই আধ্যাতিক গান গুলো বাজে? টাকা পয়সা যদি সঙ্গেই না যাবে তবে লটারির ২৫ লক্ষ টাকা পেয়ে কি হবে? কেনইবা ২৫ লক্ষটাকার জন্য লটারি কিনতে যাবে?
কিন্তু আমার সকল আসংঙ্কা বাতিল করে দিয়ে মানুষ লাইন দিয়ে লটারি কিনছে। দশটাকয় ধনী হয়ে যাওয়ার জন্য সবাই উন্মোখ।
মরার পরে যেহেতু কোন কিছুই থাকবেনা তাই টাকা জমিয়ে কি হবে, অতএব লটারি কিন। কথার ধরনে মনে হয় টাকা পয়সা কবরে না গেলেও লটারি কিন্তু ঠিকই যাবে। তাই কোন সঞ্চয় না করে লটারির টিকেট কিনে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ধর্মের সুবিধাটা এখানেই, যে কাজই হোক, যেমন কাজই হোক তাতে ধর্ম ব্যবহার করে ধার্মিকদের কাছ থেকে ফায়দালোটা সম্ভব।
প্রতিটি লটারির ফলাফল ঘোষনার পরের দিন পত্রকার একটা চাহিদা থাকে। সবাই তার ভাগ্যটা যাচাই করতে যায়। আমি এখনো পর্যন্ত এমন একজনের সাথে পরিচিত হতে পারলাম না যে লটারির টাকা জিতেছে। লক্ষ টাকার পুরস্কারটা কারা পায় আমার কাছে এটা এক রহস্য। এটা আমার জানার ব্যর্থতাও হতে পারে।
আমার আরো কিছু জানার ব্যর্থতা আছে লটারির যে সংস্থা থেকে ছাড়া হয়, ক্রিড়া উন্নয়ন তহবিল, ক্যন্সার হাসপাতা, চক্ষু হাসপাতা, ইত্যাদি। লটারির পরে আসলেই কি উক্ত প্রতিষ্ঠান গুলো তৈরি হয়?
আরো একটা ব্যপার জানার আগ্রহ আছে। এই লটারি পদ্ধতিটা অর্থনৈতিক ভাবে কি প্রাভাব ফেলবে? এই যে জনগণের কাছ থেকে দশ টাকা করে নেয়া হচ্ছে, কিছু লোক তা একটা কমিশনের বিনিময়ে বিক্রি করছে, আবার কিছু টাকা পুরস্কার হিসেবে জনগনের কাছে ফিরিয়ে দিচ্ছে। তার পরেও নিশ্চয় লাভ হচ্ছে। লাভ না হলে লটারি ছাড়বে কেন? লাভ যেহেতু হচ্ছে তাই এটা একটা লাভ জনক ব্যবসা বলা যেতে পারে। যদিও এর পেছনে জনকল্যানের একটা উদ্দেশ্য দেখানো হচ্ছে।
এই প্রক্রিয়াটা যদি ভাল হয় তবে পদ্মা সেতুর জন্য বিশ্ব ব্যাংকের কাছে ঋণ না চেয়ে লটারি বিক্রি করলেই তোহয়। এক বছরে না হোক পাঁচ বছর, পাঁচ বছর না হলে দশবছর। যদি এক বিলিয়ন টাকা জেতার লোভ লেখানো হয় আমার ধারনা তবে এই গরিব দেশ থেকেও এই টাকাটা ওঠানো সম্ভব।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

