
উৎসমুখে ফিরে যেতে গিয়ে আজ কৈশোরে বাঁধা পড়ে গেলাম। অতি সংবেদনশীল সেই রূপকথাসময়! যখন টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে ৩৫ টাকা দিয়ে প্রিয় শিল্পীদের এ্যালবাম শুনতে শুনতে আমাদেরও সাধ জাগে গান করার। আমি এবং রানা ভাইয়া দুজনেই ছিলাম সেই স্বপ্নের সারথী। তখন কলেজে উঠেছি কেবল, রানা ভাইয়া রাজশাহী বিআইটিতে। হারম্যান মেইনার কলেজের একঘেঁয়ে জীবন, বন্ধুবান্ধব হয় নি তেমন। স্কুলের বন্ধুদের সাথে কদাচিৎ দেখা হয়। বাকি সময়টা কাটে গান শুনে আর ক্রিকেট খেলা দেখে। রানা ভাইয়া ঢাকায় এলে খুব ভালো কাটতো সময়টা। দুজনে মিলে একটা গিটার আর কিবোর্ড দিয়ে কত গান রেকর্ড করেছি ক্যাসেট প্লেয়ারে! রানা ভাইয়া তখন সবে গান লেখা শুরু করেছে, আমিও তার দেখাদেখি দুয়েকটা লেখার চেষ্টা করি। সেসব নিজেরাই সুর দেই, গাই। সেই ৯৭/৯৮ সালের কথা। এতদিনে হারিয়ে গেছে অনেক সুর, নষ্ট হয়ে গেছে টেপরেকর্ডার। কিন্তু একটা চমৎকার গান এখনও মনে আছে। আজ রানা ভাইয়ার বাসায় যাওয়ার পর গিটার নিয়ে কয়েকটা গান গাইবার পর ডুবে গেলাম নস্টালজিয়ায়। মনে হল আমাদের উচ্ছল আবেগের সেই সময়ের একটা সুর জমা রাখি সময়ের দেরাজে! এই লিরিকটা রানা ভাইয়ার লেখা এবং সুর করা। মুখস্থ ছিলো, একটা কাগজে লিখে ফেললাম। তারপর রানা ভাইয়া গিটার বাজালো, দুজনে মিলে গাইলাম। ইচ্ছে হল অন্যদেরও শোনাই। গানটার নাম,
উৎসমুখে
আমি যাকে ভালোবাসি
তার নয়নে অন্য ছবি
যে আমাকে ভালোবাসে
হৃদয় হাসে হৃদয় কাঁদে
দুঃখ ঝরে অঝোরধারায়
বাস্তবতা পথটি হারায়...
"উৎসমুখে আসতে হলে
ভিজতে হবে চোখের জলে"
জল কি খুব প্রিয় তোমার?
সানাই সুরে চলে কাহার
সব ভিজে যায় চোখের জলে
নষ্ট আমি তোমার ছলে
কী আর হত মেনে নিলে!
হঠাৎ তুমি চলে গেলে...
আমি একা আঁধার রাতে
কল্পলোকে তোমার সাথে
এ যে আমার শেষের বেলা
এক জীবনের রঙ্গমেলা
"উৎসমুখে আসতে হলে
ভিজতে হবে চোখের জলে"
ডাউনলোড লিংক
শুভ নস্টালজিয়া!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


