somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মহাষ্টমীর শুভ সন্ধ্যায় সবাইকে শুভেচ্ছা :)

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমাদের পাড়ার ঠাকুর...

আজ মহাষ্টমী, ভোগ–প্রসাদ খেয়ে চলে এলাম। সকালে উঠে অঞ্জলী দিয়েছি। তারপর পাড়াতেই বসে আড্ডা। রাতে আবার সন্ধিপূজো আছে।

কাল সপ্তমী সকালে আটটায় বাড়িতে থেকে বেড়িয়ে ছিলাম। রাত সাড়ে দশটায় বাড়ি ফিরেছি। পিসির সাথে দক্ষিণেশ্বর, বেলুড় গেছিলাম।
সারাদিন খুব ভাল ঘুরেছি। রাতে ফেরাটাই একটু কষ্টের হয়। সারা শহরে রাস্তায় এত জ্যাম! কালকের দিন কি ভাবে কাটলো সেটাই এখন বলি।

এমনিই আমি ভিষণ ঘরকুনো! পরশু পিসি রাতে বলল কাল বেলুড় যাবি। ঘুরতে কিন্তু বেশ লাগে! তার উপর ট্রেনেতো শহরে তেমন চরা হয় না! ভোরে উঠে গুছিয়ে-গাছিয়ে বেরতে বেরতে আটটা। ট্রেনে তেমন ভিড়ও ছিল না। ট্রেনের ওই ঝিকির ঝিকির্‌-ঝিক ঝিক আওয়াজ আর দুলুনী খুব ভাল লাগে। লেডিস কমপার্টমেন্টে উঠলাম খানিক পরে যমজ দু’টি ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে একজন মা উঠল। একটি উঠেই আমার সামনে জানলার ধারে এসে গম্ভীর মুখে দাড়িয়ে পরল। পরে আদ্যাপীঠেও এদের সাথে দেখা হয়।


শিয়ালদায় ট্রেন বদলালাম। এবার আমাদের সামনে একজন মা তিনটে বাচ্চাকে নিয়ে বসল। তারাও দক্ষিণেশ্বর যাচ্ছে। আমি বাইরের ভিডিও তুলছি। ছোট মেয়েটি অনেকক্ষণ ধরেই আমায় লক্ষ করছিল। পরে আমাদের বেশ বন্ধুত্ব হয়ে যায়। নামার জন্য সবাই উঠতেই সে এসে আমার হাত ধরে দারায়।

আমার ছোট্ট বন্ধু...



আদ্যাপীঠ...

দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে অনেকবার গেলেও আদ্যাপীঠে কখন যায়নি। এসব কথা হচ্ছিল। পিসি বললো চল ওখানেই আগে যাই। ট্রেন থেকে নেমে বাচ্চা মেয়েটির সাথে গল্প করতে করতে রওনা দিলাম। তার অনেক কথা! স্কুল যাচ্ছে কিন্তু ক্লাস হচ্ছে না! ক্লাস টুতে পড়ে। পূজ়োয় কি কি হল জিজ্ঞেস করতে বললো শাড়ি হয় নি। মা তিনটেই জামা দিয়েছে। দিদিটি খুব শান্ত। মা ছোটভাইকে সামলাচ্ছে। দিদিটি এইটে পড়ে সেই বোন, মা-ভাই সবাইকে চোখে চোখে রাখছে।



ওরাও আদ্যাপীঠে এলো। আমরা প্রথমে ওখানে দুর্গা ঠাকুর দর্শন করে নিলাম। তারপর পূজো দেওয়ার বিশাল লাইনে। আমি আর আমার ছোট্ট সঙ্গিটি যদিও চারপাশ একবার দেখে নিলাম।


আদ্যাপীঠ খুব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। দেখে খুব ভাল লাগল। মূল বড়মন্দিরে মার কাছে যাওয়া যায় না। মন্দিরের উল্টো দিকে নাটমন্দির সেখানে সামনে বসে সবাই মাকে দর্শন করছেন। এখানে প্রতিমা একটু অদ্ভূত ভাবে সাজান। সবার উপরে রাধাকৃষ্ণের যুগল মূর্তি, তারপরের ধাপে আদ্যামার বিগ্রহ। শেষের ধাপে রামকৃষ্ণদেব।

পূজোয় সবাই প্রায় মাকে কাপড় দিয়েছেন। ঠাকুরমশায়রা মাকে তা পরাচ্ছেন। যারা কাপড় দিয়েছেন তারা নাটমন্দির থেকে তা দর্শন করছেন।

সারদামঠের পাশের পূজো...

পুজোর পর আমার ছোট্ট বন্ধুটি মা, দিদি, ভায়ের সাথে মামার বাড়ি চলে গেল। আমি-পিসি ওখানেই ভোগ খেলাম। একটু ঘুরে সারদামঠের উদ্দেশ্য রওনা দিলাম। কিন্তু যানতাম না মিশন সাড়ে এগারোটায় বন্ধ হয়ে যায়। তবে ছোট গেট দিয়ে সারদামঠে ঢুকেই একটা অদ্ভূত স্নিগ্ধ ভাব, দেখে মনটা এক অন্য ধরনের আনন্দে ভরে ওঠে। ওখানে পিসির কিছু অফিসিয়াল কাজ ছিল, বলতে ক’জন কাছেই অন্য একটি অফিসে নিয়ে চললো। বেরিয়ে দেখি একটা বড় গাড়িতে করে সন্যাসিনীরা যাচ্ছেন। হঠাৎ আমার নিলিমাদির কথা মনে পরল। কতদিন দেখিনি! উনি নিবেদিতা স্কুলে সেলাই বিভাগের দায়িত্বে আছেন। একটু উঁকি মারতেই দেখি ড্রাইভারের পাশে বসে! আমি তো ওনার নাম ধরে ডেকে উঠলাম। উনিও আমাদের দেখে অবাক হয়ে গেলেন। আমার খুব আনন্দ হচ্ছিল। মঠে ঢুকতে পারলাম না তো কি! ওনার সাথে তো দেখা হয়ে গেল। প্রণাম করলাম।



এরপর আবার দক্ষিণেশ্বর ফিরে এলাম। তখন খুব বৃষ্টি শুরু হয়েছে! আর মার দর্শনও খানিক্ষণ বন্ধ! আমরা পঞ্চবটী ঘুরে ঘাটে গেলাম। বেলুড় যাব। নৌকায় করে যাত্রা শুরু হল। কোনদিন নৌকার একদম ধারে বসার সুযোগ হয় নি। ওখানে বসেও ভয়ে ভয়ে ভিডিও তুলেছি। দুটি মেয়ে সামনে বসেছিল। আমি একটু ছাতা নামাতে বললে, তাদেরও ফটো তুলে দেবার আবদার জুরলো।

বেলুড়ের পূজো...

বেলুড়ে পৌঁছে চারদিক সবুজ়ে সবুজ দেখে খুব ভাল লাগল। কত্তোলোক এসেছে! আমরা কিছু বই কিনেছিলাম, সে সব একটু পড়লাম গঙ্গার ধারে বসে। তারপর বেলুড়ে একটু ঘুরলাম। মন্দিরে প্রবেশের বড় লাইন! পিসিকে এক যায়গায় বসিয়ে লাইনে দাড়ালাম। আজ আরাত্রিক শুনেই যাব, মনে মনে ঠিক করেছি।

মন্দিরটির আর্কিটেক্টটাও দুর্দান্ত। কোন আড়ম্বর নেই, ছিমছাম। মন্দিরে রামকৃষ্ণদেব দর্শন করে ওখানেই বসে আমরা বই পড়ছিলাম। হঠাৎ বাইরে তাকিয়ে বেরিয়ে পরলাম। তখন একাই চারদিক ঘুরে, বেলুড়ের দুর্গাপ্রতিমা দর্শন করে আবার ভিডিও তুলতে সাধ হল। কিন্তু বেটারী একদম লো! তুলতে তুলতে গঙ্গার দিকে যেতে যেতেই অফ হয়ে গেল।

আবার মন্দিরে ফিরে এলাম। সন্ধে হচ্ছে। ছ’টা নাগাদ আরাত্রিক শুরু হল।

সামনে রামকৃষ্ণের মর্মর মূর্তি। গেরুয়া বস্ত্র পরিহিত। সামনের সারিতে সন্যাসীরা বসেছেন। তার পিছনে ব্রহ্মচারীরা। কিছুটা ছেরে পুরুষ ভক্তরা। তার পিছনে মহিলাদের বসার ব্যবস্থা। শেষে তো পরে সবাই ভীড় করে যে যেখানে পারে বসে। ভীড় গেট ছারিয়ে সিড়ি ছাড়িয়ে বাইরেও চলে যায়! এর আগে একবার তেমনি বাইরে থেকে শুনেছিলাম।
চারদিক শান্ত। তার মাঝে সন্যাসী ও ব্রহ্মচারীরা উদাত্তকন্ঠে যখন ভজন শুরু করলেন তখন মনে হল যেন অন্য জগতে চলে গেছি। আমিও গলা মেলালাম।
Click This Link Bandhana Jaga
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৩২
১৫টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×