১৯শে ফেব্রুয়ারি থেকে কলকাতা হস্তশিল্প মেলা শুরু হয়েছে।
সায়ন্সসিটির উল্টোদিকে আইটিসি সোনার বাংলার পাশে মিলনমেলা প্রাঙ্গণে।
চলবে ১৪ই মার্চ পর্যন্ত।
ঘুরে এলাম মেলায়। খুব ভাল লাগলো। ব্লগে দেব বলে অনেক ছবি তুললাম। প্রায় ৩৫০০স্টল। একদিনে সবটা ঘোরা গেল না।
আমি গেছি পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বর্ধমান, কুচবিহারের স্টলে।
মিলনমেলা প্রাঙ্গণটা দারুন সুন্দর সাজান হয়েছে।
সল্টলেকে এখন মেলাগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, ফলে ভিড় তুলনামূলক ভাবে কম।
ঘুরতে ঘুরতে কিছু শিল্পীর সাথেও কথা হল। তারা আপনমনে পসরা সাজিয়ে কাজ করছেন, গল্প করছেন।
বারাসাত থেকে এসেছেন এমনই এক শিল্পী কমল সরকার, চিনামাটির দারুন সব পাত্র, ঘর সাজানোর সামগ্রী নিয়ে। তার সাথে বেশ খানিক্ষণ গল্প হল।
সরকারদা যা জানালেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাহায্যে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলার শিল্পীরা এখানে দোকান দিয়েছেন।
এর জন্য সরকার প্রতি পরিবারের একজন সদস্যকে দিনে ১০০ থেকে ১৫০টাকা দিচ্ছেন।
শিল্পীদের সামগ্রী মেলায় আনতে হয়েছে নিজের খরচায়। প্রাঙ্গণে দোকান দেওয়ার জন্য কোন খরচ লাগছে না।
দুর থেকে আগত শিল্পীরা রাতে এখানেই থেকে যাচ্ছেন।
তবে শহরতলি থেকে যারা আসেন তারা মেলা শেষে বাড়ি ফিরে যান।
যেমন সরকারদা নিজে দুপুর ২টো নাগাদ প্রাঙ্গণে আসেন, রাতে ৯টায় আবার ট্রেন ধরে বাড়ি ফেরেন। মালপত্র মেলাতেই থাকে।
ওনার সাথে ওনার জীবিকা নিয়ে কথা হল। ওনার ছোট্ট চিনেমাটির কারখানা আছে বাড়িতে। চারজন কর্মচারী আছে। প্রতিটি সামগ্রী পরম যত্নে বানান।
জিজ্ঞেস করলাম এতে সারা বছর চলে যায়!
বললেন মিলনমেলায় এখনও তেমন ভিড় হচ্ছে না। এই মেলা ছাড়াও বিভিন্ন মেলায় তিনি পসরা নিয়ে যান। কারখানা থেকেও কিছু রুচিসম্পন্ন মানুষ নিয়মিত তার সামগ্রি কেনেন।
এছাড়া একটি এন.জি.ও-র সাথে যুক্ত থাকায় তাদের মাধ্যমে বাইরে প্রচুর মাল সরবরাহ হচ্ছে। এভাবে তাদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলে যাচ্ছে।
শুনে বেশ ভাল লাগল।
আবার মেলায় যাবার ইচ্ছে আছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

