somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... বিস্মৃত এক শিল্পী- তুলসী চক্রবর্তী

আজ তুলসী চক্রবর্তী সম্পর্কে একটু জানাতে ইচ্ছে করছে। নিজেকে তিনি –হেঁশেল বাড়ির হলুদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। সত্যজিৎ রায়ের কাছে যিনি ছিলেন ভারতের মরিস শিভ্যালিয়র।

১৮৯৯সালের ৩রা মার্চ কৃষ্ণনগরেরর গোয়ারীতে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা আশুতোষ চক্রবর্তী রেলে কাজ করতেন, ফলে ছেলেবেলা তুলসী চক্রবর্তী অনেক ঘুরেছেন। পরে বাবার অকালমৃত্যুর পর তুলসী অল্প বয়সে পড়াশোনার পাট চুকিয়ে জ্যাঠামশাই প্রসাদ চক্রবর্তীর কাছে কলকাতার জোড়াসাঁকোয় আশ্রয় পান্।

মা নিস্তারিণী দেবীকে নিয়ে কলকাতায় এসে তার প্রথম লক্ষ্যই ছিল একটা ভাল চাকরী খোঁজা। ভাল গান গাইতে পারতেন, বিশেষ করে কীর্তনাঙ্গের গান। গিরিশ পার্কের পার্বতী ঘোষ লেনের ব্যায়ামাগারে নিয়মিত ব্যায়াম ও শরীরচর্চাও করতেন।

জ্যাঠামশাইয়ের অর্কেষ্ট্রা পার্টির গ্রুপ ছিল। কলকাতার বড়লোক রাড়িতে নানা অনুষ্ঠানে তাঁর দল নাটক করত। তুলসী চক্রবর্তীও সে দলে যোগ দিয়ে কীর্তন ও শ্যামা সঙ্গীত গাইতেন। পরে জ্যাঠামশাই স্টার থিয়েটারে যোগ দিলে কলকাতার রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে চিৎপুরের এক মদের দোকানে বয়ের কাজ জোটালেন। জ্যাঠামশাই খবর পেলে কাজ ছাড়তে হল।
এরপর কাজ নিলেন ঘড়ি সারাইয়ের দোকানে। সেখানে বেশিদিন মন টিকল না তাই বাড়ি থেকে পালিয়ে বর্মা গেলেন। যে জাহাজে পালালেন সেটিতে বোসেস সার্কাস পার্টিও চলেছিল। সেখানেই চাকরি নিলেন। মাঝে মধ্যে শোয়ের ফাঁকে জোকারও সাজতেন। এভাবেই তিনি হাস্য-কৌতুকের প্রতি ঝোঁকেন। একথা সত্য যে সারা জীবন হাস্য-কৌতুক করলেও তিনি কখনও ভাঁড়ামো করেন নি।


অ্যান্ড্রু রবিনসন ‘পরশপাথর’-এ তুলসী চক্রবর্তীর অভিনয় সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘chakravarti recalls Chaplin to his best. Instead of moustache, he has a pair of eyes as bulbous as a frog’s which he opens wide with every emotion known to man.’
যদিও চার্লি চ্যাপলিন সম্পর্কে তুলসী চক্রবর্তী খুব বেশি আগ্রহী ছিলেন বলে জানা যায় না। তার সম্পর্কে সৌমিত্র চ্যাটার্জির বলেছেন, ‘তুলসী চক্রবর্তীর অভিনয়ে কোথাও বিদেশের অভিনেতাদের কোনও প্রভাব লক্ষ করা যায় না। সে অভিনয় নিতান্তই দেশজ। দেশের মানুষের চরিত্র লক্ষণের মধ্যেই তার শেকড় খুঁজতে হয়।’

তুলসী চক্রবর্তী সার্কাসে থেকে কিছু খেলা যেমন শিখলেন তেমনি শিখলেন উর্দু ও হিন্দী বলতে। সার্কাসে তিনি ছয়মাস মত ছিলেন। চলে আসার কারণ জিজ্ঞাস করলে বলতেন,‘শরীর থেকে জন্তু জানোয়ারের গন্ধ বেরচ্ছে দেখে চলে এলুম।’

জ্যাঠামশায় তখন ছাপাখানায় কম্পোজিটরের কাজ জুটিয়ে দিলেন। সেখানে থিয়েটারের হ্যান্ডবিল ও পোস্টার ছাপা হত। তা দেখে তার অভিনেতা হতে ইচ্ছে করল। জ্যাঠামশায়কে অনেক অনুরোধ করায় তিনি স্টার থিয়েটারে অপরেশ মুখোপাধ্যায়ের সাহায্যে ঢোকালেন। সে সময় প্রেসে তার মাইনে ছিল ৩২টাকা। স্টারে এলেন ৮ টাকার মাইনেতে!
ত্ৎকালীন ষ্টার থিযেটারের মালিক ছিলেন অপরেশ মুখোপাধ্যায়। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই চোখে পড়ে যান অপরেশবাবুর। সালটা ছিল ১৯১৬। এই অপরেশবাবুই তালিম দেন তুলসী চক্রবর্তীকে। টপ্পা গান, পাখোয়াজ বাজানো সব শিখেছিলেন। ধিরে ধিরে তিনি ‘থেটার’ করার সুযোগও পেলেন। ১৯২০ তে প্রথম ষ্টেজে অভিনয় করেন। নাটকের নাম ছিল ‘দুর্গেশনন্দিনী’। ১৯২৭ সাল পর্যন্ত তিনি ষ্টার থিযেটারেই ছিলেন। পরে যোগ দেন, মনমোহন থিয়েটারে। ১৯৬০ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪২টি নাটকে অভিনয় করেন। শেষ নাটক ছিল- শ্রেয়সী ( ১৯৬০)। তার পর তাঁর শারীরিক অসুস্থতার জন্য ( হৃদযন্ত্র) আর নাটকে অভিনয় করেন নি। মঞ্চে অভিনয় তিনি চুটিয়ে উপভোগ করতেন। অসুস্থ থাকলে কিছুদিন ছুটি নিলে থিয়েটার মালিক বাড়িতে মাইনে পাঠালে আনন্দে বলেন, ‘রোগে শুয়ে থাকলেও থিয়েটারের মালিক মাইনে দেন, এই অভিজ্ঞতা এই আনন্দ নিয়ে আমি চোখ বুজবো।’

থিয়েটারে ঢোকার পর খুব যত্ন করে শেখেন পাখোয়াজ, হারমোনিয়াম, তবলা, ঢোল। সেই সঙ্গে আরেকটা বিষয়েও চর্চা করলেন-নাচ। ‘কবি’ সিনেমায় কবির লড়ায়ে যার পরিচয় পাওয়া যায়।

একবার এক সিনেমা শুটিং–এ অনাহুতের মত হাজির হয়ে বৈষ্ণব সাজার অনুমতি পেলেন। তুলসী চক্রবর্তী বৈষ্ণব সেজে শ্রীখোল হাতে পরিচালকের সামনে যেতেই তিনি তাকে একেবারে সামনের সারিতে দাঁড় করিয়ে দিলেন। তুলসী চক্রবর্তী শট দিলেন, খোল বাজাচ্ছেন, মুখে হরিনাম, চোখের জলে বুক ভেসে যাচ্ছে। পরিচালক এত খুশি হলেন যে দেড় মিনিটের শট তিনি চার মিনিট নিলেন এবং সিনেমায়ও রাখলেন।
একবার ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’ নাটকে তবলিয়ার হঠাৎ কলেরা হলে জহর গাঙ্গুলির কথায় তুলসী চক্রবর্তীকে অনুরোধ করা হলে তিনি ধ্রুপদী গানের সাথে অনায়াসে সংগত করে দিলেন। এভাবে যে যখন যা বলছেন করে দিতেন এক লহমায়।



তুলসী চক্রবর্তীর সিনেমা শুরু ১৯৩২সালে নিউ থিয়েটারের ‘পুনর্জন্ম’ সিনেমায়। পরিচালক ছিলেন সাহিত্যিক প্রেমাঙ্কুর আতর্থী। তাঁর শেষ সিনেমা মৃত্যুর আঠারো বছর পর মুক্তি পায় ১৯৭৯সালে ‘আমি রতন’।
‘শুভদা’য় এক গাঁজাখুড়ের ভূমিকায় অভিনয় করার সময় স্বকন্ঠে গান করেছিলেন।

‘'কবি’'তে কবির লড়াইয়ে নাচ যেমন করছেন তেমনি তিনি গানও করেন।
অভিনেতা তরুণকুমার তাঁর সম্পর্কে লিখতে গিয়ে জানান যে তুলসী চক্রবর্তীর মুখে প্রায়ই শোনা যেত ‘জয় গুরু জয় গুরু দিপম দিপ্পা দিপম দিপ্পা হরিবোল’। দিপম দিপ্পা হল তবলার বোল।

তরুনকুমার তুলসী চক্রবর্তীকে স্মরণ করতে গিয়ে তার নির্লোভ চরিত্রের কথাও বলেছেন। ১৯৫৭ সালে তিনি ‘অবাক পৃথিবী’ প্রযোজনা করেন। সেখানে একটা মুদির চরিত্রে উত্তমকুমারের কথায় তুলসী চক্রবর্তীকে নেওয়া হলে তাকে ডাকতে লোক যায় এবং ট্যাক্সিভাড়া দেওয়া হয়। কিন্তু তুলসী চক্রবর্তী কিছুতেই তা নেবেন না, তার বক্তব্য তিনি ট্রামে-বাসে যাতায়াত করেন। পরেরদিন একবেলা কাজ করে যখন উত্তমকুমারের কথা মত তাঁকে তিনশো টাকা দেওয়া হয়। তখনও তিনি তা নিতে অস্বীকার করেন। কারণ তখন তার রেট ছিল ডেলি একশো পঁচিশ টাকা। এ সময় তিনি উত্তমকুমারের সাথে ‘স্টার’-এ ‘শ্যামলী’ নাটকটি করছিলেন।

সত্যজিৎ রায়ের ‘পরশপাথর’ সিনেমার সময়ও এমন ঘটনা ঘটে। অনেকদিনের কাজ পাচ্ছেন বলে তিনি অসম্ভব কম পারিশ্রমিক চান। সত্যজিৎ রায় জানিয়েছিলেন তিনি তার ছবির নায়ককে এত কম টাকা দিতে পারবেন না। শোনা যায় ‘পরশপাথর’ করে তিনি ১৫০০ টাকা পান।হাওড়ার নিজের বাড়ীতে ট্রাম ধরে ফিরে যেতেন স্যুটিং এর পর। টাক মাথা, ধুতি হাফ ফতুয়া পরা এই ভদ্রলোক পৌরহিত্যও করতে হত টাকার জন্য।



সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় ‘পরশপাথর’ মুক্তি পায় ১৯৫৮সালে। এর আগেও তুলসী চক্রবর্তী ‘পরশপাথর’ নামে ১৯৪৯সালে আর একটি সিনেমায় ছোট্ট একটি চরিত্রে অভিনয় করেন যার পরিচালক ছিলেন অতীনলাল ও ললিতকুমার।

চরিত্র সামান্য হোক বা গুরুত্বপূর্ণ- মনপ্রাণ দিয়ে তিনি অভিনয় করতেন।
তার এই অসামান্য অভিনয় প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে বলতেন,‘আমি একটু চোখ–কান খোলা রাখি, আর সব ধরনের মানুষ দেখে বেরাই। এবার চরিত্র মত তাদের তুলে ধরি। যেখানে যে লাগে আর কি!’
কেউ বাহবা দিলে বলতেন, '‘এই চরিত্র করার জন্য ভাল অভিনয় করার দরকার হয় না কি? তোমার চারপাশে এরা ঘুরে বেরাচ্ছে, একটাকে তুলে এনে নিজের কাঁধে ভর করাও।’'

আসলে তিনি দেখতে জানতেন, যা সকলে পারে না। কেবল ব্যক্তি নয় তিনি সমাজের কাছ থেকেও অভিনয় শিখেছিলেন, তাই তাঁর অভিনয় এত সাবলীল।

সাড়ে চুয়াত্তর’, ‘চাওয়া পাওয়া’, ‘একটি রাত’-তিনটি সিনেমায় কোথাও তিনি মেস মালিক, হোটেল মালিক, সরাইখানা-কাম-ধর্মশালার মালিক-সবকটি চরিত্রে তার স্বকীয়তা বজায় আছে। কখনও অভিনয় এক ছাঁচের হয়ে যায় নি।




'সাড়ে চুয়াত্তর' ’-এ গ্রামের বাড়িতে গিয়ে খালি গায়ে পৈতে পরিমার্জনার দৃশ্য প্রসঙ্গে পরে বলেছিলেন,‘পরিচালক নির্মল দে আমায় বলেছিলেন-আপনি বাড়িতে যেমন করেন, তেমনই করবেন। তাই-ই করেছি।’ এই সিনেমায় মলিনা দেবীর সঙ্গে জুটি বেঁধে দারুন অভিনয় করেন।
তাঁর কাঠ-ঘটির '‘কই, কোথায় গেলে গো!'’-ডাক যেন এখনও কানে বাজে।


ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন নিঃস্বার্থ, পরোপকারী। কাননবালা দেবী, জহর গাঙ্গুলিদের তিনি সাহায্য করেন সিনেমা জগতে আসতে।
জহর গাঙ্গুলি শেষদিন পর্যন্ত সে ঋণ স্বীকারের কথা বলতেন। তিনি সবে গ্রাম থেকে এসে কলকাতার মিত্র থিয়েটারে ভিড়ের দৃশ্যে অভিনয় করতেন এবং অন্যদের কাছে খুব খারাপ ব্যবহার পেতেন। তুলসী চক্রবর্তী তখন স্টারে। তাদের আলাপ হয় ও জহর গাঙ্গুলির দুঃখের কথা শুনে এবং নিজের চোখে তা দেখে এসে তাকে স্টারে পরেরদিন আসতে বলেন। সে সময় নির্দেশক অপরেশ মুখার্জির হাতে–পায়ে ধরে অনুরোধ করেন,‘ 'ওকে যদি একটু জায়গা দেন, তা হলে ছেলেটা বেঁচে যাবে'।’ সেই ছেলে পরে নায়কও হন। অন্যদিকে তুলসী চক্রবর্তী সারা জীবন নায়ক-নায়িকার সঙ্গে অল্প সিনেই জীবন কাটিয়ে দিলেন। এজন্য হয়ত হাল্কা দুঃখ তার মনে ছিল।

তিনি ৩১৬টি বাংলা ও ২৩টি মত হিন্দী সিনেমা করেন। তবে জীবনে সব থেকে বেশি আনন্দ পান সত্যজিৎ রায়ের ‘পরশপাথর’-এ অভিনয় করে। দর্জি তাঁর পাঞ্জাবির মাপ নিতে আসছে নায়কের ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য, তিনি আপ্লুত হয়ে বলছেন, ‘'উফ! এ আমি কখনও ভাবতেও পারিনি!’'

সত্যজিৎ রায় তাঁর অভিনয় প্রতিভা আন্দাজ করতে পেরেছিলেন। পরশুরামের কলম থেকে বেরনো পরেশ দত্তকে কেমন অবলীলায় জীবন্ত করে তুলেছিলেন তুলসী চক্রবর্তী। এই ছবিতে তিনি বড় দড়ের অভিনেতা।

‘পরশপাথর’-এ অভিনয়ের সুযোগ পেলে বন্ধু মহলে বলেছিলেন,‘'আমি ছবির নায়ক, বিশ্বেস হচ্ছে না গো!’'

বিখ্যাত সাংবাদিক রবি বসু লিখেছেন- '‘পরশপাথর ছবি রিলিজের সময় তুলসীদা কেমন উদ্‌ভ্রান্তের মতো হয়ে গিয়েছিলেন। একদিন আমাকে বললেন, এইবারে আমি নির্ঘাৎ পাগল হয়ে যাব। বড় বড় হোর্ডিংয়ে ইয়া বড় বড় মুখ আমার। জীবনে তো কখনও এত বড় বড় মুখ হোর্ডিংয়ে দেখিনি। এর আগে যাও বা দু-চারবার হয়েছে, তা সে সব মুখ তো দুরবিন দিয়ে খুঁজে বার করতে হত। এ আমি কী হনু রে!’'

‘পরশপাথর’ ছাড়া তিনি সে ভাবে আর কোনও সিনেমায় বড় চরিত্র পাননি। তবে নীরেন লাহিড়ীর ‘ভাবীকাল’ ও ফণী বর্মার ‘জনক নন্দিনী’তে সিরিয়াস চরিত্রে অভিনয় করেন। যদিও এ সিনেমাগুলির প্রিন্ট এখন আর পাওয়া যায় না। ‘জনক নন্দিনী’তে সীতা দেবীর বাবার চরিত্র এবং ‘ভাবীকাল’-এ নায়ক অমর মল্লিকের এক সহচরের ভূমিকায়। ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে আদর্শবাদী নায়ক বদলে যায় কিন্তু সহচর বদলায় না, সেখানেই বাধে সংঘাত। দুর্দান্ত অভিনয় করেন তুলসী চক্রবর্তী।


উত্তমকুমার অভিনীত প্রায় তিন ডজন সিনেমায় তুলসী চক্রবর্তী অভিনয় করেছেন। উত্তমকুমার বলতেন,'‘তুলসীদা যেভাবে অভিনয় করেন, আমি তো কোন দিনই পারব না। ওঁর মতো ‘জীবন্ত’ হয়ে ওঠা আমার দ্বারা হবে না।......তুলসী চক্রবর্তীকে প্রণাম জানানোর একটাই পথ আমার কাছে। যখনই কাজ পাই, পরিচালক প্রযোজককে বলে ওঁকে ডেকে নিই। তুলসীদা থাকলে সিনটা দারুনভাবে উতরে যায়। ওঁর ঋণ শোধ তো করতে পারব না, যেটুকু পারি সাহায্য করি।’'

দুঃখের কথা এই যে আমৃত্যু তুলসী চক্রবর্তী সিনেমায় কমেডিয়ান হয়েই বেঁচে ছিলেন, অভিনেতা হয়ে নয়। এমনকী ‘পরশপাথর’-এর পরও। সেই সাথে দারিদ্র ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী।



সংসার পাতেন স্ত্রী ঊষারানী চক্রবর্তীর সাথে ২নং কৈলাস বসু থার্ড লেন-এ, মধ্য হাওড়ার এক সংকীর্ণ গলির দু’কামরার দোতলা বাড়িতে। ঘরে আসবাব বলতে ছিল একটি প্রাচীন পালঙ্ক, একটি কাঠের আলমারি, গোটা কয়েক টুল আর একটা ইজি-চেয়ার। অবসর সময়ে ঘরেই বসাতেন সংগীতের আসর। তাঁর কিছু গান স্বরচিতও ছিল। সেগুলোতে পছন্দ মতো রাগ বসাতেন।
একটি গান তিনি প্রায় গেয়ে শোনাতেনঃ
‘শিবরাত্রির পরের দিন / শিবের হল সর্দিকাশি/ ঘটি ঘটি জল ঢেলেছে/ জ্যেঠি কাকী মামী মাসী/ তাই শিবের হল সর্দিকাশি/ আদা দিয়ে চা করে/ দুগ্‌গা এসে সামনে ধরে/ ‘সিদ্ধি আজকে খেও না, বাপু’/ বললে শিবে মুচকি হাসি/ শিবের হল সর্দিকাশি।’

এই দোতলাবাড়ি যাওয়ার আগে তিনি একটা ‘বারো ঘর, এক উঠোন’-এ ভাড়া থাকতেন। দোতলা বাড়িটা যখন ছ’হাজার টাকায় কেনেন তাঁর স্ত্রী তখন তাকে তার জমানো বেশ কিছু টাকা দিয়েছিলেন। সেই টাকা পেয়ে তিনি যেমন অবাক হন, তেমনি ভয়ও পান। কারণ তাঁর স্ত্রীর কাছে টাকা কি ভাবে এল ভেবে পাচ্ছিলেন না। তিনি অল্প রেটে যা কাজ করে পেতেন বাড়ি ফিরেই স্ত্রীকে দিতেন, তাতেই সংসার চলতো। স্ত্রী যে তার থেকে জমাতে পারেন ভাবতেই পারেন নি। তবু বাড়ি কেনার সময় স্ত্রীকে বলেছিলেন, কেউ জিজ্ঞেস করলে বলবে ‘বাপের বাড়ি থেকে দিয়েচে।’ শুনে স্ত্রী হেসেছিলেন। কারণ বিধবা মা বিয়েই দিয়েছিলেন গোটা দু-তিনটে শাড়ি সম্বল করে।

সাহিত্যিক শংকর তাঁর ‘মানব সাগর তীরে’বইতে লিখেছেন,‘যদি তুলসী চক্রবর্তী, রবি ঘোষ, নৃপতি চ্যাটার্জির মতো অভিনেতা বিদেশে জন্মাতেন, তা হলে তাঁদের স্মরণে এক-একটি সরণি থাকত।’ তুলসী চক্রবর্তীর স্মরণে হাওড়ার মানুষ তাঁর নামে একটি পার্ক গড়ে তুলেছেন।



চক্রবর্তী সম্পতি নিঃসন্তান ছিলেন। সিনেমার লোকজনকে ‘ছেলে’ বলে ডাকতেন। উত্তমকুমার, তরুনকুমারকেও ‘ছেলে’ বলে সম্বোধন করতেন। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে স্বস্নেহে ‘সৌমিত্তির’ বলতেন। এই সব স্বনামধন্য অভিনেতারাও তাঁকে ভীষণ ভালবাসতেন, শ্রদ্ধা করতেন। শোনা যায় শীতে কষ্ট পাচ্ছিলেন বলে, অনুপকুমার তুলসী চক্রবর্তীকে একটা কোট কিনে দিয়েছিলেন। সেটা পেয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন সন্তানহীন তুলসী চক্রবর্তী। অনুপকুমারকে জড়িয়ে ধরেছিলেন ছেলে হিসেবে। “

সবচেয়ে কাছের মানুষ ছিলেন জহর গাঙ্গুলি। ছবি বিশ্বাস, কালী ব্যানার্জি, নৃপতি চ্যাটার্জিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল। কখনও বাড়িতে মদ খেতেন না। ঘরে ঠাকুর থাকায় নেশা কাটলে স্নান করে ঘরে ঢুকতেন।

সেলাইয়ের কাজও ভাল জানতেন। থিয়েটারে একবার অন্যের বদলে ক‘দিন রাজার অভিনয় করতে গিয়ে রাজার নাগরা নেই দেখে মোজার উপর নাগরা এঁকে সেলাই করে, মঞ্চে নেমে পরেন। বড় সরল-সাধারণ ছিলেন মানুষটি। সরল–সাধারণ জীবনের অন্তরালে থেকে অন্তরের দুঃখরূপী গরলকে স্তিমিত রাখতেন। সন্তান না হওয়ার দুঃখ। চিন্তা ছিল তাঁর অবর্তমানে ব্রাহ্মণীর ভবিষ্যতের।
এই বরেণ্য অভিনেতাকে অপেক্ষা করতে হত ছোট্ট মাস্টার বিভু ভট্টাচার্যের জন্য বরাদ্দ গাড়িতে বাড়ি ফেরার জন্য। ছবি বিশ্বাস বলেছিলেন উনি হলিউডে জন্মালে অস্কার পেতেন। শুনে নিশ্চয়ই মুচকি হাসেন ট্রামের সেকেন্ড ক্লাসের এই যাত্রী। প্রথাগত স্বীকৃতি হয়ত পাননি কিন্তু তাঁর অভিনয়, দীর্ঘ সিনেমায় স্বল্প উপস্থিতির পরিসর স্বল্প থাকেনি। বাড়ি ফেরার পথে দর্শকের গল্পের বিষয় হতেন তুলসী চক্রবর্তী।

আর পাঁচজন গৃহস্থের মতো ভালবাসতেন স্ত্রীর হাতের রান্না। ভাল সরু চালের ভাত আর মাছের ঝোল তাঁর প্রিয় ছিল। তাছাড়া পছন্দ ছিল ডাল-ভাত, ঘি, ডিম আর মাংস।

মারা যাওয়ার কিছুদিন আগে অসুস্থ হয়ে পরেন। পয়সাও ছিল না চিকিৎসার জন্য। প্রচণ্ড দারিদ্র তো ছিলই, তার ওপরে নিজের বাড়ীটা দান করেছিলেন এলাকার দরিদ্র পুরোহিতদের জন্য।খানিকটা সেরে উঠেই বাজারে গিয়ে একদিন কিনে আনলেন গলদাচিংড়ি, ফুলকপি, কড়াইশুঁটি। রাতে রান্না হল, খেয়ে শুলেন। ভোররাত থেকে শুরু হল ভেদবমি। ভোরে ডাক্তার আসতে না আসতেই সব শেষ। ১৯৬১-র ১১ই ডিসেম্বর তিনি চলে গেলেন অনন্তলোকে। স্ত্রী উষারাণী দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছেন একমুঠো খাবারের জন্য। দারিদ্রের কারণে স্বামীর সবকটি মেডেল বিক্রী করতে বাধ্য হয়েছেন। এভাবে ৩৫ টা বছর কাটিয়েছেন।

মারা যাবার পর সরকারের তরফ থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোরও কোনও বন্দোবস্ত ছিল না তখন। যদিও তাতে কিছু আসে যায় না । তিনি আছেন বাঙালির অন্তরে, থাকবেনও।



তুলসী চক্রবর্তীকে না পেলে সত্যজিৎ রায় যে ‘পরশপাথর’ করতে পারতেন না, তা তিনি তাঁর অন্তিমজীবনেও স্পষ্ট করে বলে গেছেন। ‘পরশ পাথর’-এর পরেশ বাবু (তুলসী চক্রবর্তী) পরশ পাথরের মাধ্যমে ধনী হয়েও নির্লোভ থেকে যান। হাতের মুঠোয় অতুল ক্ষমতা হঠাৎ পেলেও তার অপব্যবহার করা উচিত নয়- এই রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীই যেন পরেশের চরিত্রে ফুটে ওঠে। ছবিতে তাই ‘টুপি’ একটি চমৎকার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। গান্ধীটুপিতে তার টাক ঢেকে রাখা মন্ত্রীদের পরিহাস করে যেন তৃপ্ত হয়েছিলেন পরেশবাবু। ভোটে নামতে গেলে বিদ্যাবুদ্ধির প্রয়োজন নেই। তাই পরেশবাবু নিজেই ভোটে নামতে দ্বিধা করেন না।এই সিনেমায় তাঁর মাথায় সাদা ‘গান্ধী’ টুপি পরা নিয়েও তর্ক ওঠে সেন্সর বোর্ডে। শেষে নিজের টাক ঢাকতে টুপি পরেছেন এই যুক্তিতে আর বিরোধিতা করেনি সেন্সর বোর্ড।



সত্যজিৎ রায়ের জীবনীকার মারি সিট্‌ন লিখেছেন, ‘thanks to Ray's insight into Chakraborty's untapped talent, the culmination of his career was an interpretation of Dutta reminiscent of the rich performances of Michel Simon in it combination of comic, serious and pathetic elements.’
মৃত্যুর পরে অভিনয়ের জন্য এমন স্বীকৃতিই বা ক’জন পান!

তুলসী চক্রবর্তী অভিনীত কিছু সিনেমার তালিকাঃ

প্রেমাঙ্কুর আতর্থীর ‘পুনর্জন্ম’ (১৯৩৩) দিয়ে সিনেমা যাত্রা শুরু
শ্রী গৌরাঙ্গ(১৯৩৩)
দক্ষযজ্ঞ (১৯৩৪)
মানময়ী গার্লস স্কুল (১৯৩৫)
কন্ঠহার (১৯৩৫)
প্রবাস মিলন(১৯৩৭)
নর নারায়ণ (১৯৩৯)
জনক নন্দিনী (১৯৩৯)
বামনাবতার (১৯৩৯)
নিমাই সন্যাসী (১৯৪০)
কমলে কামিনী (১৯৪০)
উত্তরায়ণ (১৯৪১)
প্রতিশ্রুতি (১৯৪১)
সৌগন্ধ (১৯৪২)
শেষ উত্তর (১৯৪২)
পাষাণ দেবতা (১৯৪২)
গড়মিল (১৯৪২)
উদয়ের পথে (১৯৪৩)
মেরি বেহেন (১৯৪৪)
হামরাহি (১৯৪৪)
মানে না মানা (১৯৪৫)
কলঙ্কিনী (১৯৪৫)
দুই পুরুষ (১৯৪৫)
ভাবিকাল (১৯৪৫)
প্রতিমা (১৯৪৬)
মন্দির (১৯৪৬)
বিরাজ বৌ(১৯৪৬)
পথের দাবী (১৯৪৭)
ভুলি নাই (১৯৪৮)
সমাপিকা (১৯৪৮)
পুরবী(১৯৪৮)
বঞ্চিতা(১৯৪৮)
অনির্বান(১৯৪৮)
মঞ্জুর (১৯৪৯)
কবি (১৯৪৯)
বিষ্ণুপ্রিয়া (১৯৪৯)
বামুনের মেয়ে (১৯৪৯)
আশাবরী (১৯৪৯)
দেবী চৌধুরানী (১৯৪৯)
শেষবেশ(১৯৫০)
রূপকথা (১৯৫০)
মেজদিদি (১৯৫০)
মানদন্ড (১৯৫০)
জীবন সৈকতে(১৯৫০)
পন্ডিত মশাই(১৯৫১)
আনন্দমঠ (১৯৫১)
মেঘমুক্তি (১৯৫২)
মহাপ্রস্থানের পথে (১৯৫২)
কপালকুন্ডলা (১৯৫২)
দর্পচূর্ণ (১৯৫২)
সাড়ে চুয়াত্তর (১৯৫৩)
নবীন যাত্রা(১৯৫৩)
বনো হংসী(১৯৫৩)
জয়দেব (১৯৫৪)
জদুভট্ট(১৯৫৪)
চাঁপা ডাঙার বৌ (১৯৫৪)
উপহার (১৯৫৫)
শ্রীবৎস চিন্তা (১৯৫৫)
নিষিদ্ধ ফল (১৯৫৫)
কালিন্দী (১৯৫৫)
গোধুলি(১৯৫৫)
দুজনে(১৯৫৫)
ভালবাসা(১৯৫৫)
অপরাধী (১৯৫৫)
পথের পাঁচালী (১৯৫৫)
সাঁঝের প্রদীপ (১৯৫৫)
শাপমোচন (১৯৫৫)
জয় মা কালী বোর্ডিং (১৯৫৫)
সবার উপরে (১৯৫৫)
শ্যামলী (১৯৫৬)
একটি রাত (১৯৫৬)
চোর (১৯৫৬)
সাহেব বিবি গোলাম (১৯৫৬)
চিরকুমার সভা (১৯৫৬)
পৃথিবী আমারে চায় (১৯৫৭)
হরিশচন্দ্র (১৯৫৭)
চন্দ্রনাথ(১৯৫৭)
সোনার কাঠি (১৯৫৭)
আদর্শ হিন্দু হোটেল (১৯৫৭)
অবাক পৃথিবী (১৯৫৭)
রাজলক্ষী ও শ্রীকান্ত (১৯৫৮)
সদানন্দের মেলা(১৯৫৮)
অন্নপূর্ণার মন্দির (১৯৫৮)
ছেলে কার(১৯৫৮)
গৃহ প্রবেশ(১৯৫৮)
পরশপাথর (১৯৫৮)
যৌতুক (১৯৫৮)
জলসাঘর (১৯৫৮)
অযান্ত্রিক (১৯৫৮)
পার্সোনাল এসিস্টেন্ট (১৯৫৯)
গলি থেকে রাজপথ (১৯৫৯)
শুন বরনারী (১৯৫৯)
চাওয়া পাওয়া (১৯৫৯)
দীপ জ্বেলে যাই (১৯৫৯)
নির্ধারিত শিল্পীর অনুপস্থিতিতে (১৯৫৯)
মৃতের মর্তে আগমন(১৯৫৯)
মায়ামৃগ (১৯৬০)
কুহক(১৯৬০)
খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন(১৯৬০)
শেষ পর্যন্ত(১৯৬০)
কেরী সাহেবের মুন্সি(১৯৬১)
স্বয়ম্বরা (১৯৬১)
কাঞ্চনমূল্য (১৯৬১)
সপ্তপদী(১৯৬১)
বিপাশা(১৯৬২)
সূর্যস্নান(১৯৬২)
বেনারসী(১৯৬২)
বিজ্ঞান ও বিধাতা (১৯৭১)
মৃত্যুর আঠেরো বছর পর মুক্তি পায় ‘আমি রতন’(১৯৭৯)

[কৃতজ্ঞঃ গুগুল, ইউটিউব,সংবাদ প্রতিদিনঃ নির্মল ধর, বিশ্বনাথ বসু, বিকাশ মুখোপাধ্যায়]
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29522402 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29522402 2012-01-14 20:25:22
মা

নতুন বছরে সবাইকে জানাই প্রীতি ও শুভেচ্ছা।

আজ আপনাদের আমার মার কথা জানাব।

আমার মাকে আমি খুব ভালবাসি। সবাই তাদের মাকে খুব ভালবাসে!...তবে সবার মত আমি আমার মাকে আমার কাছে পাই না। আমার মা আমাদের থেকে দুরে থাকেন। তাকে ফিরে পাওয়াটা আমাদের উভয়ের কাছে ঈশ্বরের অসীম আশীর্বাদ।

জ্ঞান হওয়ার পর থেকে জেনে এসেছি আমাদের মা নেই-মারা গেছেন। তবে খুব ছোটবেলার কথা ভাবলে স্বপ্নের মত দেখতাম একজনকে যার বয়স্‌কাট চুল, হালকা শাড়ির আঁচল উড়ছে, হিলতোলা জুতো- যা আমার চারপাশের কাকি-পিসিদের সাথে একদম মিলতো না। আমি জানতাম স্বপ্নই। আরো মনে পরত- কাঁচের ঘর, বেতের আসবাব, ছোট্ট কাঠের সিংহাসনের সামনে আমি আর একটি বাচ্চা মেয়ের কোলে বসে -‘ ওম্‌ জয় জগদীশ হরে’ গান গাওয়া হচ্ছে, সুন্দর ধূপের গন্ধ।

একটু বড় হতে পিসির কাছে মাঝে মাঝে শুনতাম আমাদের পাপা নিয়ে আসে যখন, আমরা তখন ছোট্ট পুতুলের মত। দমদম বিমানবন্দরে সবাই নিতে যায়। পাপার কোলে তোয়ালে মোরা ভাই আর একটি কাজের ছেলের কোলে ছোট্ট আমি।

আসতে আসতে জানতে পারি আমার মা বাঙালি ছিলেন না। পাপা আমাদের নিয়ে আসেন। একটু বড় হতে আর একজন মা আসেন।


এভাবে চলছিল। হঠাৎ একদিন সকালে এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটলো। আমি আর ভাই শুয়ে আছি বেল বাজতে উঠে দেখতে গেলাম কে। দেখি বাইরে একটি বড় গাড়ি দাঁড়িয়ে, আর একজন মহিলা হিন্দীতে জানতে চাইছেন পাপা আছে কিনা। আমার তাকে দেখে কি একটা শিহরন লাগলো। চট্‌ করে ঘরে এসে বাপ্পাকে তুলে বললাম বাইরে কারা যেন এসেছেন।

জানলাম সেই মহিলা আমার মাস্‌তুতো দিদি। তিনি তার স্বামীর সাথে আমাদের সাথে দেখা করতে এসেছেন। আমরা সবাই খুব অবাক হয়ে গেছি। দিদি সেটা বুঝতে পেরে খুব ধিরে ধিরে আমাদের সব বলতে লাগলেন। তারা মিজোরাম থেকে এসেছেন। তার স্বামী অফিসের কাজে কলকাতায় এসেছিলেন। এর আগেও কয়েকবার এসে আমাদের খোঁজা হয়। এবার ঠিকানা পাওয়া গেছে। জামাইবাবু শুরু থেকেই একটা মুভি ক্যামেরা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

আমরা সেদিন জানতে পারি আমাদের মা বেঁচে আছেন। পনেরো বছর অসুস্থ ছিলেন।

তার কাছ থেকে টুকরো টুকরো কথা জুরে জামাইবাবু আমাদের খুঁজে বার করেছেন। তার সখই হল পরিবারের যারা দুরে ছরিয়ে গেছে তাদের খোঁজ় করা। দিদি জামাইবাবু আমাদের নিয়ে একটু ঘুরে আসতে চাইলেন। পাপার অনুমতি পাওয়া গেল। সারাদিন আমরা দিদি, জামাইবাবু ও তাদের ছেলে মেয়েদের সাথে আনন্দে কাটালাম।

সেদিন আমার মায়ের সাথে কথা বলতে গিয়ে গলা বুজে আসছিল!...আমার মা আমাদের খোঁজ খবর নিচ্ছিলেন। বাড়ির সবার কথা জিজ্ঞেস করছিলেন। আমাদের তার কাছে যেতে বললেন।

পাপা মারা যাওয়ার কিছুদিন আগে আমাদের আঙ্কেল মানে মেসো আমাদের মার কাছে নিয়ে যান। বিমানবন্দরে যখন নামি তখন আঙ্কেল দেখান কত মানুষ আমাদের নিতে এসেছেন। বেরিয়ে প্রথমেই মাকে দেখি। সবাই ঘিরে আছে আমাদের – কেউই কথা খুঁজে পাই না। গাড়ি গাড়ি করে এত লোক এসেছেন। সবাই মাকে অনেক কিছু বলছেন।

আমরা গাড়ি করে পাহাড়ী পথে রওনা দিলাম। এর আগে অনেক পাহাড় দেখেছি কিন্তু এই সবুজ পাহাড়গুলোকে দেখে মন যে কি আনন্দে ভরে উঠছিল কি বলবো। এরা যেন আমার কত আপন, অথচ কত দুরে ছিলাম আমরা, আজ যেন আমদের জড়িয়ে ধরে আদর করতে চায়।

আমার মা ও আমাদের আদর করত। আমার খুব লজ্জা লাগতো। মা আমায় জিজ্ঞেস করতো কত কথা। কষ্ট হয় কিনা, কেউ বকে কিনা-আরো কত কি!...আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলে মাথায় এত চুল কম কেন। একটু কোথাও কাটা দেখলে আঁতকে ওঠে, বলে কে মেরেছে! আমার কি যে আনন্দ হয়! কিন্তু প্রকাশ করতে পারি না। লজ্জা লাগে। আমার ভাই কিন্তু একদম উল্টো। ও দিব্যি মার কোলে মাথা রেখে সারাদিন ঘুমায়। মা সারাদিন ওর মাথায় বিলি কাটে। আমাদের এক দিদি আছে। যে সরকারী চাকরি করে। একটু গম্ভীর প্রকৃতির, খুব সুন্দরী। সেই আমার স্বপ্নে আসত। তার সাথেও বাপ্পার খুব বন্ধুত্ব। দিদি আর বাপ্পা গাড়ি করে ঘুরে বেড়ায়। আমি মার সাথে থাকি।

একুশদিন মত আমি মাকে কাছে পাই। সেই একুশটি দিন যেন সোনায় মোড়া। প্রতিদিন গির্জা থেকে ফাদাররা আসতেন, প্রার্থনা হত। আঙ্কেল পাঞ্জাবী, তিনি একটি শিব মন্দির করেছেন সেখানেও পুজো হল। কত দুর দুর থেকে আত্মীয়রা দেখা করতে আসতেন। আমারা চারজন তাদের বাড়ি ঘুরতে যেতাম। দিদি খুব জোরে গাড়ি চালাতো।

আমি ছোট থেকে একটু বেশি ভুগী, পাপা সারাদিন আমায় ফোন করত শরীর ভাল আছে কিনা জানতে। মা তাই চিন্তায় থাকতো। আমি সেভাবে কিছু চাইতাম না। কিন্তু একটু কিছু বললে সঙ্গে সঙ্গে সেটা করা চাই। ওখানে সন্ধ্যেবেলায় রাতের খাওয়া হয়ে যায়। তারপর খিদে পেলে ফল খাও। একদিন রাতে কি একটা খুঁজছি, ঘরে নেই-মা সঙ্গে সঙ্গে সেটা আনতে হন্তদন্ত হয়ে মাসির বাড়ি ছুটলো, শত অনুরোধ করেও আটকান গেল না। পাহাড়ি পথ, এত রাত! সামান্য একটা জিনিস মুখ ফুটে চাইতে কেউ এভাবে আমার জন্য করতে পারে, ভাবতে পারিনি! এমন স্নেহ তো কোনদিন পাই নি! পাপার স্নেহ অন্য রকম। পাপা অনেক করতেন কিন্তু মা কি যেন সেদিন বুঝলাম।

আসার সময় মা প্রচন্ড কান্নাকাটি করতেন। বাজে আবহাওয়ার জন্য দু’বার বাড়ি ফিরে যাই-মায়ের সে কি আনন্দ!

আমার মাকে আমি খুব মিস্‌ করি। কিন্তু সেখানে গিয়ে থেকে যাওয়া এখন আর সম্ভব নয়। মাও এখানের পরিবেশে মানাতে পারবেন না।
তাতে কি, আমি জানি মা আমার সাথে সব সময় আছেন। মা আজও সকালে আমাদের জন্য প্রার্থনা করলেন।

মহান প্রভুর কাছে আমার প্রার্থনা মাকে আমার খুব ভাল রেখো ......একদিন আমরা সবাই যেন এক সাথে থাকতে পারি..

উৎসর্গ : সকল মাকে]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29514206 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29514206 2012-01-01 16:48:53
কথাচ্ছলে মহাভারত - ৩৮

বিচিত্রবীর্যের কাহিনী:

সত্যবতীকে পেয়ে রাজা শান্তনু আনন্দিত হলেন এবং তার সঙ্গে অনুক্ষণ ক্রীড়া করেন। দশমাস পর রাণী পরম সুন্দর পদ্মের মত কোমল পুত্রের জন্ম দিলেন। নাম দেওয়া হল চিত্রাঙ্গদ। কয় বছর পর সত্যবতীর দ্বিতীয় পুত্র হল-বিচিত্রবীর্য। এই দুই পুত্রই হলেন পরম সুন্দর, যেন কাম অবতার।


এর কিছুকাল পর শান্তনু দেহত্যাগ করলেন। ভীষ্ম এবং সত্যবতী শোকাকুল হলেন। রাজার মৃত্যুতে প্রজারাও দুঃখী হল। পিতার বিহনে ভীষ্মই দুই কুমারকে পালন করতে শুরু করলেন। চিত্রাঙ্গদকে রাজা করে তিনি রাজ্য শাসন শুরু করলেন।


যুবক বীর চিত্রাঙ্গদ অতিশয় বলশালী ছিলেন। মানুষ, দেবতা, অসুর, গন্ধর্ব সকলকেই নিকৃষ্ট মনে করতেন। একদিন গন্ধর্বরাজ চিত্রাঙ্গদ তাকে বললেন –তোমার ও আমার নাম একই। আমার সঙ্গে যুদ্ধ কর নতুবা অন্য নাম নাও। কুরুক্ষেত্রে সরস্বতী নদীতীরে দুজনের ঘোর যুদ্ধ হল। শেষে গন্ধর্ব নিজ মায়াবলে কুরুনন্দন চিত্রাঙ্গদকে হত্যা করলেন।


ভীষ্ম অপ্রাপ্তযৌবন বিচিত্রবীর্যকে রাজপদে বসালেন। তার যৌবনকাল উপস্থিত হলে বিবাহ দেওয়া স্থির হল। সে সময় কাশীরাজ তার তিন পরমা সুন্দরী কন্যার এক সাথে স্বয়ংবর করছেন শুনে ভীষ্ম মাতা সত্যবতীর আজ্ঞা নিয়ে একাই বারাণসীতে এলেন। স্বয়ম্বরে দেখলেন অনেক রাজা উপস্থিত।


তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বললেন –রাজগণ, বহুপ্রকার বিবাহ প্রচলিত আছে। স্বয়ংবরসভায় বিপক্ষদের পরাভূত করে কন্যা হরণ করাও এক পদ্ধতি। আমি ছোট ভাই শান্তনুপুত্র বিচিত্রবীর্যের জন্য এই তিন কন্যা নিয়ে যাচ্ছি। যার শক্তি আছে তিনি যুদ্ধ করুন।

সকল রাজা অস্ত্র নিয়ে তাকে আক্রমণ করলেন। গঙ্গা পুত্র ভীষ্ম, যিনি বশিষ্টের শিষ্য, সকলকে পরাস্ত করলেন। কেউ নিজের প্রাণ হারায় তো কেউ অঙ্গ। সকলে পরাস্ত হয়ে ভীষ্মের জয়গান শুরু করল।
ভীষ্ম তিনকন্যাকে কনিষ্ঠা ভগিনী বা দুহিতার মত যত্নসহকারে হস্তিনাপুরে নিয়ে চললেন। তাকে যেতে দেখে শাল্বরাজ বাধা দিলেন। শাল্বরাজও বীর ছিলেন। দুজনের প্রচন্ড যুদ্ধ হল। ভীষ্ম শাল্বরাজের সারথীর মুন্ডচ্ছেদ করলেন, চার অশ্বকেও হত্যা করলেন, ধনুক কেটে দিলেন। কাতর শাল্বরাজকে কেবল প্রাণদান করে নিজ রাজ্যে ফিরে গেলেন।


হস্তিনানগর রাজা বিচিত্রবীর্যের বিবাহে সেজে উঠল। বিচিত্রবীর্যের বিবাহকাল উপস্থিত হলে তিন কন্যাকে বরের নিকট আনা হল। বড়কন্যা অম্বা তখন জানালেন শাল্বরাজকে তিনি মনে মনে বরণ করেছেন, শাল্বরাজও প্রস্তুত ছিলেন। তার পিতাও এ বিবাহে সম্মত হয়েছিলেন। সব শুনে ভীষ্ম মন্ত্রণা করে অম্বাকে শাল্বরাজের কাছে পাঠিয়ে দিলেন।
অন্য দুই কন্যা অম্বিকা ও অম্বালিকার সঙ্গে বিচিত্রবীর্যের বিবাহ দিলেন।


ওদিকে শাল্বরাজ অম্বাকে আর গ্রহণ করলেন না। কাঁদতে কাঁদতে অম্বা ভীষ্মের কাছে ফিরে এলেন এবং জানালেন ভীষ্ম হরণ করায় শল্ব আর তাকে গ্রহণ করলেন না। ভীষ্মও তাকে গ্রহণে অসম্মত হলেন। তখন ক্রোধে অগ্নিশর্মা অম্বা প্রতিহিংসা নেওয়ার জন্য জগদগ্নিপুত্র পরশুরামের শরণ নিলেন। কাতরা দেখে পরশুরাম অম্বাকে অভয় দিলেন এবং শিষ্য ভীষ্মকে ডেকে তাকে বিবাহ করার জন্য আজ্ঞা দিলেন। গুরু পরশুরামকে ভীষ্ম বিনয়ের সঙ্গে তার ব্রহ্মচর্য পালনের অঙ্গিকারের কথা বলে বিবাহে অপরাগ জানালেন। শুনে ক্রুদ্ধ জামদগ্ন ভীষ্মকে যুদ্ধে আহ্বান জানালেন।


যুদ্ধে কেউই কাউকে পরাস্থ করতে পারলেন না। দেবতাদের মধ্যস্থতায় পরশুরাম ভীষ্মের বিনয়ে তুষ্ট হয়ে তাকে বুকে টেনে নিলেন এবং তার মত শিষ্য পেয়ে গর্ববোধ করলেন। অম্বার কাছে ক্ষমা চেয়ে তাকে নিজগৃহে ফিরে যেতে অনুরোধ জানালেন।

দুঃখিতা অম্বা ভীষ্মবধের উদ্দেশ্যে দুঃসাধ্য ব্রত গ্রহণ করে কঠোর তপস্যা করতে লাগলেন।

অবশেষে মহাদেব তার উপর তুষ্ট হয়ে আশির্বাদ করলেন –তুমি অন্যদেহে পুরুষত্ব পেয়ে ভীষ্মকে বধ করবে, বর্তমান দেহের সব ঘটনাও তোমার মনে থাকবে। মহাদেব অন্তর্হিত হলে অম্বা নবজন্মকামনায় চিতারোহণ করে দেহত্যাগ করলেন।


এদিকে বিচিত্রবীর্য দুই সুন্দরী পত্নীকে পেয়ে কামাসক্ত হয়ে পড়লেন। অম্বিকা ও অম্বালিকা পরমা সুন্দরী, তাদের রূপের কাছে স্বর্গের বিদ্যাধরীরাও হার মানেন। বিচিত্রবীর্যের সঙ্গে তাদের বিবাহ হল যেন শচী তিলোত্তমা দেবেন্দ্রকে পেলেন। নবীন বয়সে বিচিত্রবীর্য দুই কন্যাকে নিয়ে শৃঙ্গার রসে মত্ত হলেন। অল্পকালে তার যক্ষারোগ ধরল। ভীষ্ম বহু চেষ্টা করলেন কিন্তু আদিত্য যেমন অস্তাচলে যান বিচিত্রবীর্যও সেই রূপে অপুত্রক অবস্থায় যমালয়ে গেলেন। স্ত্রীরা কান্নাকাটি করলেন, সত্যবতীও শোকাতুরা হলেন।

বংশরক্ষার কথা ভেবে সত্যবতী চিন্তিত হলেন এবং ভীষ্মের কাছে গিয়ে তাকে এই বিখ্যাত বংশের অস্তিত্ব রক্ষার অনুরোধ করলেন।
শান্তনুপুত্র ভীষ্ম বলেন –মাতা, ত্রিলোকের সমস্তই ত্যাগ করতে পারি কিন্তু যে সত্য প্রতিজ্ঞা করেছি তা ভঙ্গ করতে পারি না।
সত্যবতী তার কাছে কেঁদে বলেন তিনি সবই জানেন কিন্তু ভীষ্ম ছাড়া তিনি আর কার কাছেই বা যেতে পারেন! ভীষ্মই এখন পথ দেখান।
ভীষ্ম বলেন –কুরুবংশ রক্ষার পথ আছে পূর্বে যখন পিতার কারণে পরশুরাম পৃথিবী থেকে ক্ষত্রিয়দের নির্মূল করেন তখন ক্ষত্রিয় নারীরা ব্রাহ্মণদের ঘরে আশ্রয় নেন। এভাবে পুনরায় ব্রাহ্মণদের সাহায্যে ক্ষত্রিয়বংশ রক্ষা পায়।

.........................................
উৎসর্গ: সকল ব্লগার বন্ধুকে
..........................................
আগের পর্ব:

কথাচ্ছলে মহাভারত - ৩৭
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29510924 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29510924 2011-12-27 15:20:07
<img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /> ছবি ব্লগ <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" />
দুষ্টু -মিষ্টি


লিটল টমি


বন্ধু


সহমর্মী


মা


দোলনা


কৌতুহল


মজা


বিবেকানন্দ রক, কন্যাকুমারী


অসাম্প্রদায়ীক


কুউ-ঝিক্‌-ঝিক্


মর্তে দেব পরিবার <img src=" style="border:0;" />


পামবান ব্রীজ, রামেশ্বরম


ফেসবুক!


মুক্তি


রোপন


কেরালা


‌চেষ্টা


মরু পিপড়ে


শতবর্ষী


ভয়ংকরী


প্রার্থনা


লম্ফ


যোগ-মজা


শান্তি


প্রযুক্তি


পেখম


আলোকিত জীবন


বাউল


হেসেল


শেষ ছবিটা কিসের বলুন দেখি! B<img src=" style="border:0;" />

উৎসর্গ: মাহী ফ্লোরাকে <img src=" style="border:0;" />

[ছবিগুলির নামকরণ প্রয়োজন, সাহায্য করবেন! <img src=" style="border:0;" />]
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29471325 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29471325 2011-10-23 20:16:32
গজল সম্রাট জগজিৎ সিং
আমার প্রিয় গজল গায়ক জগজিৎ সিং আজ চলে গেলেন। তার আত্মার শান্তি কামনা করি। ........

যখন একটু একলা থাকতে ইচ্ছে করে, তখন তাঁর গানগুলি চালিয়ে আলো নিভিয়ে শুয়ে থাকি...অপূর্ব শান্তি পাই। প্রথম টেপ রেকর্ড কিনে তাঁরই ক্যাসেট কিনেছিলাম...কত স্মৃতি! ...

আপনারাও যদি ওঁনার গাওয়া প্রিয় কিছু গান আজ শোনান খুব ভাল লাগবে...

মেঘদূত: পছন্দের কিছু গজল - জগজিৎ সিং

প্রিয় কিছু গানঃ



















]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29463358 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29463358 2011-10-10 14:26:47
স্টিভ পল জবস্: চিরকালের নায়কের কিছু ছবি
স্টিভ পল জবস্: ফেব্রুয়ারি ২৪, ১৯৫৫ - –অক্টোবর ৫, ২০১১


কিশোর স্টিভ


স্টিভ জবস্ ও এ্যাপল


স্টিভ জবস্ ও স্টিফেন ওজনিয়াক









স্ত্রী লরেন পাওয়েলের সাথে


কুপারটিনোর এ স্পেসশিপ আকারের অ্যাপলের হেডকোয়ার্টার


স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে স্টিভ


আইপ্যাড হাতে স্টিভ জবস্

স্টিভ জবস্ আর নেই..... বিদায় বন্ধু..........

ভবঘুরে থেকে করপোরেট সম্রাট

এক অসাধারণ জীবনকথা ..স্টিভ জবস– অ্যাপেল কম্পিউটারের প্রতিষ্ঠাতা

ভালোবাসার কাজটি খুঁজে নিতে হবে” – -স্টিভ জবস এর বিখ্যাত সমাবর্তন বক্তৃতা

ক্ষুধার্ত এবং বোকা’ একজন অসামান্য মানুষ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29461150 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29461150 2011-10-06 17:23:33
বড়চর্চা
খোলা বারান্দায় একটা পুরনো কাঠের চৌকির উপরে বসে শীতের রোদ্দুর পোহাছিলেন অশীতিপর বৃদ্ধ। গেট খোলার শব্দ শুনে আমার দিকে চোখ তুলে তাকালেন। আমি গুটি গুটি পায়ে তাঁর কাছে গেলাম। স্থানীয় পত্রিকার জন্য একটা সাক্ষাৎকার চাই বলতেই একগাল হেসে পাশে বসতে বললেন। বিশিষ্ট দার্শনিক মানবদরদি ভাবনার রূপকার অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম

তখন বেলা ১২টা বাজে। তাঁর নাওয়াখাওয়ার সময়। সে সব ভুলে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা আমার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বললেন। কথা যেন ফুরোতেই চায় না। কথা যখন ফুরোল, তখন ঘড়িতে পাঁচটা বাজে। তাঁর দুপুরের খাবার থাকল পড়ে। মাঝে অবশ্য দু’তিন বার বললেন, ‘একটু চা খাও বাপু।’ তিনি ছিলেন অকৃতদার, সংসারে এক নির্লিপ্ত সন্ন্যাসী।

১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত বহরমপুর গার্লস কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। মাঝে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল কোর্ট, আলিপুর কোর্ট এবং বহরমপুর কোর্ট এবং বহরমপুর কোর্টে ওকালতি করেছেন। ‘গণরাজ’ নামের একটি সংবাদপত্রের সম্পাদক ছিলেন। সাংবাদিকতা করেছেন ‘নবযুগ’ পত্রিকা সহ অন্যান্য পত্রিকায়। ১৯৪৬ সালে কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা থামাতে গিয়ে মারাত্মক ভাবে জখম হয়েছিলেন। পা খোঁড়া হয়ে গিয়েছিল।

সারা জীবন সেই শারীরিক কষ্ট ভোগ করতে হয়েছিল তাঁকে। ১৯৮৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাঁকে সাম্মানিক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ২০টি। নিজে যেহেতু সাংবাদিক ছিলেন, সেহেতু সাংবাদিকতা বিষয়ে ড. রেজাউল করিম সাহেব সে-দিন বলেছিলেন, ‘লেখায় নিজের মতামত নয়, মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁদের অভাব অভিযোগের কথা সহজ সরল ভাষায় লিখতে হবে। মানুষের কাছে যেতে হবে। ঘরে বসে সাংবাদিকতা হয় না।’

-তুষার ভট্টাচার্য
......................



নৌকা তৈরির পীঠস্থান বলাগড় আমার বাসস্থান হওয়ায় এবং ফ্রি-লান্স সাংবাদিকতার সূত্রে নৌকা নিয়ে লেখালেখি ও তথ্যচিত্র বানিয়ে একটা ধারণা হয়েছিল, বলাগড়ের নৌকা সম্পর্কে আমার থেকে বেশি বা ভাল তথ্য কেউ দিতে পারবে না।

এই সময় এক দিন দুপুরে খবর পেলাম এক বিখ্যাত সাংবাদিক কাম চিত্রপরিচালক এসেছেন, বলাগড়ের নৌকা সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে। কৌতূহলী হয়ে নৌকা কারখানায় যেতেই কারখানার মালিক আমার সঙ্গে তাঁর পরিচয় করিয়ে দিলেন। আমার থেকে প্রায় ১৪-১৫ বছরের বড় সেই ভদ্রলোক শিক্ষানবিশের মতো সব জানলেন শুনলেন, আমার কাছ থেকে। সত্যি কথা বলতে কী, মাস্টারি করার সুযোগ পেয়ে মনে মনে বেশ গর্বিত হচ্ছিলাম। এর পর তাঁর অনুরোধে অন্যান্য কারখানাতেও ঘুরলাম। লক্ষ করলাম, বড় কারখানাগুলোর থেকে ছোট ছোট এবং শ্রমিক-কাম-মালিকের ঘরোয়া কারখানাগুলিতে বেশি গুরুত্ব দিয়ে খবরাখবর নিলেন। এক শ্রমিক তাঁর বাড়ির উঠোনে নিজেই নৌকা বানিয়ে, নৌকার চোখ আঁকছিলেন বাটালির নিপুণ দক্ষতায়। ভদ্রলোক তন্ময় হয়ে দেখছিলেন। এক সময় বললেন, ‘নৌকার চোখ বড্ড ছলছলে তাই না?’ শ্রমিকটিও রসিকতায় জবাব দিলেন, ‘হ্যাঁ বাবু, আমাদের মতোই অবস্থা আমাদের নৌকারও।’ এর কিছু দিন পরেই প্রথম শ্রেণির একটি দৈনিক সংবাদপত্রের কোনও এক হেডলাইনে চোখ আটকে গেল।

‘বলাগড়ে নৌকার চোখে জল।’ লেখাটা পড়ে ফেললাম একনিশ্বাসে। আমার এত দিনের অহংকার মুহূর্তে চুরমার হয়ে গেল। আমার লেখালেখি এবং তথ্যচিত্রে দেখানো বলাগড় নৌ-শিল্পের ঐতিহ্য, মহিমা, আধিপত্য সব ম্লান মনে হতে লাগল। অসাধারণ দূরদৃষ্টি সম্পন্ন দরদি লেখাটি পড়ে, মহান শিল্পী- কবি- সাংবাদিক- চিত্রপরিচালক পূর্ণেন্দু পত্রীর প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে এল।

-তপন পাল
...................


সম্ভবত সালটা ১৯৬১-৬২। আমাদের পাড়ায় (বখতিয়ার শাহ রোড)-এ একতলা গোলাপি রঙের বাড়িটা ভাড়া নিয়ে এলেন বাংলা সিনেমার এক জন উদীয়মান অভিনেতা দু’টি ফুটফুটে ছেলে ও সুন্দরী স্ত্রীকে নিয়ে। পাড়ায় সঙ্গে সঙ্গে খবর হয়ে গেল, বেশ খানিক উত্তেজনা।
খবরটা জানতে পেরে অভিনেতাকে দেখব বলে ঘন ঘন ওই বাড়ির সামনে দিয়ে আসা-যাওয়া করতে লাগলাম। কিন্তু তাঁকে দেখতে পেতাম না।

মাসখানেক বাদে এক দিন দেখি পাজামা আর গেরুয়া রঙের পাঞ্জাবি পরা সুদর্শন অভিনেতা তাঁর বাড়ির রোয়াকে বসে পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন। পাড়ার বয়স্করা কিছু দিনের মধ্যেই তাঁর দাদা হয়ে গেলেন। রবীন্দ্রজয়ন্তীতে ক্লাবঘরে গান গাইতে গিয়ে দেখলাম তিনি বসে গান শুনছেন।
আমাকে ডেকে বললেন, ‘বেশ ভাল গান গাইলি তো তুই, কার কাছে শিখিস?’ পর্দায় যাঁকে দেখি তিনি কী সহজে ডেকে কথা বললেন। একটু ভয়ে ভয়েই যেন বললাম, ‘সুরঙ্গমায়।’ এর পর বাবার সঙ্গে এক দিন সকালে ফিরছি। তিনি বারান্দায় দাঁড়িয়েছিলেন। জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী রে, এত সকালে কোথা থেকে?’ প্রণাম করে বললাম, ‘আজ আমি কলেজে ভর্তি হলাম।’ সঙ্গে সঙ্গে তিনি বললেন, ‘বাঃ, ভাল খবর। মন দিয়ে পড়াশোনা করবি আর বেশি সিনেমা দেখবি না।’ বলে হো হো করে হেসে উঠলেন। ছায়াছবির জগতের মানুষটিকে সে-দিন খুব আপনজন মনে হয়েছিল। বছর চারেক বাদে তিনি অন্য জায়গায় নিজের বাড়িতে চলে গেলেন।

অনেক যশস্বী পরিচালকের ছবিতে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে তাঁর সাবলীল অভিনয়, নিখুঁত চরিত্রচিত্রণ বাংলা ছবির জগতে তাঁকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে। পোশাক চালচলন কথাবার্তায় সাধারণত্বটাই ছিল তাঁর বৈশিষ্ট্য। তাঁর নাম অনিল চট্টোপাধ্যায়

-গায়ত্রী সেন
....................



আমি তখন কলকাতার একটি সংবাদপত্রে সদ্য ঢুকেছি। জীবনে প্রথম জ্যোতিবাবুর জনসভা ‘কভার’ করার সুযোগ পেয়েছি। উৎসাহ তুমুল।

সকাল সকাল পৌঁছে গেলাম দুর্গাপুরের সেচ বাংলোয়। যেখানে উঠেছেন মুখ্যমন্ত্রী। গেটে প্রহরায় থাকা পুলিশকর্মীদের নজর এড়িয়ে দোতলায় উঠে এলাম। কিন্তু কোন ঘরে আছেন তিনি? এ-দিক ও-দিক তাকাতেই নজরে পড়ল এক ঝাড়ুদার। তাঁর কাছে জানতে চাইলাম, কোথায়, ঠিক কোন ঘরে আছেন তিনি? ঝাড়ুদার একটা দরজার দিকে আঙ্গুল দেখালেন।
আমি ঘরটার দিকে এগোতে থাকলাম। বড় ইচ্ছে, একান্তে প্রবাদপ্রতীম নেতা কী করছেন, তার একটা এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট কাল বের করার। আলতো করে টোকা মারলাম দরজায়। খানিক অপেক্ষা। তার পরে দরজা খুলে উঁকি মারল যে মুখটি, গোটা বাংলা তাঁকে চেনে।

জ্যোতিবাবু বললেন, ‘বাথরুমে জল নেই। একটু জলের ব্যবস্থা করতে পারেন?’ আমি ঘাবড়ে গিয়ে বললাম, নিশ্চই। এক্ষুনি জল পাঠাচ্ছি। দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে গেটের পুলিশকর্মীদের বললাম, বাথরুমে জল নেই। সিএম দাঁড়িয়ে আছেন। এক্ষুনি জল পাঠান! আমার কথা শুনে পুলিশকর্মীরা ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। শুরু হল দৌড়ঝাঁপ। শেষে এক পুলিশকর্মী বালতি ভর্তি জল নিয়ে ছুটলেন ওই ঘরের দিকে।

মন বলল, বাথরুমে জল বাড়ন্ত। সাংঘাতিক ঘটনা। নিশ্চয়ই অনেকের চাকরি যাবে। সেটাই হবে আমার বিশেষ প্রতিবেদন। সেই বিশেষ কপির আশায় সারাদিন পড়ে রইলাম ওই সেচ বাংলোয়। জ্যোতিবাবু স্নান করলেন। লাঞ্চ সারলেন। তার পর জনসভার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। বারবার খবর নিলাম, কী ঘটতে চলেছে। জ্যোতিবাবু জল না থাকা নিয়ে উচ্চবাচ্য পর্যন্ত করলেন না।
আমার এক্সক্লুসিভ রিপোর্টটা মাঠে মারা গেল।

-রানা সেনগুপ্ত
..............................



পঞ্চাশের দশকের কবিকুলের অন্যতম তিনি। বাংলা সাহিত্যে তোলপাড় করা লিটল ম্যাগাজিন, সেই ‘কৃত্তিবাস’-এর প্রায় সূচনা থেকেই পাঠকমহলের চোখ টেনেছিলেন নিজের দিকে। বাংলা কবিতায় (পড়ুন পদ্যে), তাঁর মতো শব্দকে নিয়ে তুমুল পরীক্ষানিরীক্ষা সম্ভবত তাঁর সমসাময়িক আর কেউ করেননি।

স্বভাবে দারুণ বোহেমিয়ান, সাধারণের চোখে আপাত এলোমেলো, অথচ সাহিত্যে স্থির, জীবদ্দশাতেই ভারতীয় কাব্য-সাহিত্যে লেজেণ্ড সেই তিনি, তাঁর সর্বগ্রাহ্য মান্যতা ভুলে অফিসে, টেবিলের নীচে ফেলে দেওয়া লেখা ও চিঠিপত্রের ধুলোমাখা ছেঁড়া খাম কুড়োচ্ছেন, ছেলেমানুষের মতো প্রায় হামাগুড়ির ভঙ্গিতে! আমরা তো অবাক! এমন হয় নাকি? হইহই করে উঠি তাই— এ কী করছেন? কিছু খুঁজছেন? পড়ে গেছে নাকি কিছু? সমবেত এমন সব প্রশ্নে হঠাৎ যেন সংবিৎ ফিরে সটান হয়ে যান তিনি।
তার পর চেয়ারে বসতে বসতে বলেন, ‘কিছু না। তোমাদের দফতরে প্রত্যেক দিনই তো খামবন্দি কত লেখা আসছে ডাকে। এ বার থেকে লেখা বা চিঠিপত্র বার করে খামগুলো ফেলে দিও না। পারো তো, কোথাও গুছিয়ে রেখো।’
আমাদের কেউ হয়তো জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিলেন, কী হবে সে সব খাম নিয়ে। কিন্তু, তেমন কোনও প্রশ্নের সুযোগ না দিয়ে পর মুহূর্তেই তিনি জানান, ‘এদের গায়ের স্ট্যাম্পগুলো আমার দরকার হয়।’ স্ট্যাম্প! ডিপার্টমেন্টের প্রায় সকলেই সমবেত স্বরে বিস্ময় প্রকাশ করি। আর, তিনি, রাশভারী চেহারার, খ্যাতনামা দৈনিকের প্রাজ্ঞ সাংবাদিক, বিভাগীয়
সম্পাদকের টেবিলের উল্টো দিকের চেয়ারে নিষ্পাপ শিশুর মতো হাসতে হাসতে তাঁর গমগমে স্বরে জানান, ‘আরে, এ সব আমার জন্যে নয়, আমার জন্যে নয়, আমার ছেলের জন্যে। ও স্ট্যাম্প জমাতে খুব ভালবাসে কিনা।’ কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কথা নতুন করে আর কী বলার আছে! কিন্তু, তাঁর এই অপার পিতৃস্নেহের কথা আমরা জানি ক’জন?

-প্রমোদ বসু
............................


একটি নামী কিশোর সংগঠনের বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে স্মারকপুস্তিকা প্রকাশিত হবে। তার জন্য বিভিন্ন লেখক-লেখিকার থেকে লেখা সংগ্রহের ভার পড়েছিল আমার ওপর।
এরই মধ্যে এক পরিচিতের পরামর্শে বিখ্যাত এক লেখিকার দক্ষিণ কলকাতার বাড়িতে এক দিন হাজির হলাম। ভয় ছিল, কোনও অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া আমার মতো অর্বাচীন কিশোরকে তিনি আমল দেবেন কি না।

কিন্তু আর্জি নিয়ে যখন তাঁর কাছে দাঁড়ালাম, তিনি সস্নেহে আমাকে ভেতরে নিয়ে গিয়ে বসিয়ে এ-কথা সে-কথার পর একটা প্লেটে নিজ হাতে কিছু মিষ্টি এনে দিলেন। যেন অনেক কালের চেনা। এমন ভাবে বললেন, ‘বিজয়ার পর এসেছ, একটু মিষ্টিমুখ করো।’ মিষ্টি খাওয়া হলে একটি লেখা আমায় দিয়ে বললেন, ‘ভাল লাগলে এটা ছাপতে পারো।’

তাঁকে প্রণাম করে আমি বাইরের দিকে পা বাড়ালাম। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হল, স্মারকপুস্তিকা প্রকাশের দায়িত্বে যিনি ছিলেন, তাঁর অনবধানতার কারণে লেখাটি পুস্তিকায় সে যাত্রায় প্রকাশিত হল না।

যা-ই হোক, দিন কয়েক বাদে বোলপুরে আমাদের সম্মেলন চলাকালীন এক দিন দূর থেকে লক্ষ করলাম, ভিড়ের মধ্যে এক পাশে দাঁড়িয়ে সেই লেখিকা হাতে আমাদের স্মারকপুস্তিকার একটি কপি নিয়ে উল্টেপাল্টে দেখছেন। আমি আর থাকতে পারলাম না। তাড়াতাড়ি তাঁর কাছে গিয়ে মুখ কাঁচুমাচু করে বললাম, কিছু মনে করবেন না, একটা ভুল হয়ে গিয়েছে, আপনার লেখাটা...। আমার কথা শেষ হওয়ার আগেই তিনি ক্ষমাসুন্দর চোখে আমার দিকে তাকিয়ে স্মিত হেসে বললেন, ‘তাতে কী হয়েছে, এ বার হল না, পরের বার না হয় ছাপিয়ো।’

ইনিই আশাপূর্ণা দেবী, বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য যিনি জ্ঞানপীঠ-সহ নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন।

-সঞ্জীবকুমার ঘোষ
.............



পড়ি রবীন্দ্রভারতীতে। থাকি সীতারাম ঘোষ ষ্ট্রিটের এক বোর্ডিং হাউসে। পথে পড়ে মুক্তারামবাবু ষ্ট্রিট। এক দিন সাহস করে ঢুকে পড়লাম শিবরাম চক্রবর্তীর মেসবাড়িতে। আলাপ হল। তার পর থেকে সেই মেসবাড়ি প্রায় টানতে লাগল।

এক দিন শিবরাম বললেন, শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় খুব অসুস্থ। পুরনো বন্ধুকে দেখতে চান। কিন্তু একা এত দূর যাওয়া অসম্ভব তাঁর পক্ষে। এক দিন সকালে তাঁকে নিয়ে গেলাম টালা পার্কে। অসুস্থ বন্ধুর হাত ধরে শিবরাম বসে রইলেন কিছুক্ষণ। টুকটাক কথা। ফেরার পথে বললেন, ‘শৈলজাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে পারলে ভাল হত।’

শিবরামদার নির্দেশে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে একটা চিঠি লিখলাম। সেই চিঠিতে বিখ্যাত লেখকদের সই দরকার। আনন্দবাজারের সন্তোষকুমার ঘোষ অন্নদাশংকর রায়ের কাছে যেতে বললেন। প্রথম সই তাঁরই হবে। তার পর সই করলেন আরও অনেকে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উদ্যোগে সে চিঠি বক্স করে ছাপা হল আনন্দবাজার পত্রিকায়। কাজও হল। তথ্যমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় শৈলজানন্দকে নিয়ে এসে পিজি-র উডবার্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করিয়ে দিলেন।

শিবরামের বড় বড় চোখে খুশির ঝিলিক। বললেন, ‘প্রেমেনকে এক বার খবর দিতে পারো! একটা দিন ঠিক করে তাকে হাসপাতালে আসতে বলো। আমিও যাব সে-দিন।’ প্রেমেন্দ্র মিত্র তখন চোখের অসুখে ভুগছেন। হরিশ চ্যাটার্জী ষ্ট্রিট থেকে তাঁকে নিয়ে এলাম ট্যাক্সি করে। শিবরামদাকে নিয়ে এল আমার এক বন্ধু। উডবার্ন ওয়ার্ডের একটি ঘরে জীবন্ত হয়ে উঠল বিশ শতকের তিরিশের দশক।

ব্যক্তিগত জীবন বলতে যাঁর কিছুই ছিল না, সেই শিবরাম চক্রবর্তীর সহৃদয়তার স্পর্শ পেয়েছি সেই এক বার এবং তার পর অনেক বার।

………….


১৯৬৮ সালের অক্টোবর নাগাদ সদ্য প্রকাশিত ‘বুলবুল’ পত্রিকার জন্য লেখা সংগ্রহের তাগিদে অগ্রজ প্রয়াত কবি আবু আতাহার-এর সঙ্গে টালা থেকে টালিগঞ্জ ছুটোছুটি করছি। এক দিন দু’জনেই টালা পার্কের কাছেই বাংলা সাহিত্যের প্রবাদপ্রতিম কথাসাহিত্যিকের বাড়িতে হঠাৎই হাজির। উনি কিছু ক্ষণ পর এসে ওঁর জন্য রাখা চেয়ারে বসে বললেন, ‘কী করতে পারি বলো তোমাদের জন্য।’ পত্রিকার একটি কপি ওঁর হাতে দিয়ে বললাম, একটি লেখা চাই। পত্রিকাটা একটু উল্টেপাল্টে দেখে লেখা দেব বলেই একটি নির্দিষ্ট দিনের কথা বলে দিলেন।

নির্দিষ্ট সেই দিনে আবার ওঁর বাড়ি গেলাম এবং পূর্বের মতোই বসার ঘরে আমাদের বসিয়ে একটু পরেই লেখা হাতে আমাদের সামনে এসে তাঁর বসার চেয়ারে বসে বললেন, ‘তোমাদের লেখা তৈরি। তবে একটু পড়ে দিই।’ বলেই মুক্তোর মতো হস্তাক্ষরে নিজের লেখাটি পড়ে শোনাতে লাগলেন। মন্ত্রমুগ্ধর মতো তাঁর জলদগম্ভীর কণ্ঠস্বর শুনতে লাগলাম। পড়তে পড়তে লেখাটির এক জায়গায় এসে ভাইয়ে ভাইয়ে বাড়ি বখরার জন্য উদ্যোগ নিতে গিয়ে যখন পাথরের একটা টুকরোয় এক ভাইয়ের কপালে রক্ত ঝরতে শুরু করল এবং বড় ভাই তা দেখে সহ্য করতে না পেরে সহোদরকে বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলছে, তোর লাগেনি তো? তখন দেখি স্বয়ং লেখক ডুকরে ডুকরে কাঁদছেন এবং তাঁর চোখ থেকে নেমে আসছে অজস্র অশ্রুর ধারা। আমরা হতচকিত এবং কিংকর্তব্যবিমূঢ়। একটি লেখার সঙ্গে লেখকের কতটা অন্তরের যোগ থাকলে এটা ঘটে, তা ভেবে উঠতে না উঠতেই তিনি পড়া শেষ করে কান্না সংবরণ করে আমাদের হাতে লেখাটি তুলে দিয়ে বললেন, ‘বাবা, তোমরা ভাইয়ে ভাইয়ে যেন ঝগড়া কোরো না কখনও, মিলেমিশে থেকো।’ চোখ বুজলেই আজও তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই কান্না এবং আর্তি শুনতে পাই।

-এস এম সিরাজুল ইসলাম
...................



শ্রদ্ধেয়া বিপ্লবী বীণা দাশ আমাদের সঙ্গে কাজে যোগ দেওয়ার অল্প দিনের মধ্যেই তাঁর সস্নেহ ব্যবহার দিয়ে আমাদের সকলের মন জয় করে নেন। বিকেলে একসঙ্গে বাড়ি ফিরতাম। নানা বিষয়ে ওঁর সঙ্গে যেমন আলোচনা করতাম, তেমনই কখনও কখনও তর্কও জুড়তাম।

উনি খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে দিয়ে তর্কের সমাপ্তি টানতেন। এক দিন তর্ক জুড়েছিলাম গাঁধীজিকে নিয়ে। সে-দিন উনি একটু ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। তবু স্বভাবসিদ্ধ মধুর ভাবেই বলেছিলেন, ‘এত বড় এক জন মানুষের বিচার এ ভাবে কোরো না।’ বলে গাঁধীজি সম্বন্ধে এমন অনেক কথা বললেন যে,
আমার মনে হল ভাল করে না জেনে আমরা কত ভুল ধারণা করে থাকি। অথচ গাঁধীজি আর ওঁর মত ও পথ ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত।
উনি ছিলেন নিঃসন্তান। কিন্তু প্রতি বছর পুজোর আগে দেখতাম জামাকাপড় কিনছেন। জিজ্ঞেস করলে হেসে বলতেন, ছেলেমেয়েদের জন্যই কেনা। পরে শুনেছিলাম, উনি ওগুলো ফুটপাথবাসী বাচ্চাদের দিতেন। আমি মাঝে মাঝে ওঁর বাড়ি যেতাম। উনি খুব খুশি হতেন। এ রকমই এক দিন ওঁর বাড়িতে গিয়েছি। উনি দরজা খুলেই অনাবিল হেসে বললেন, ‘আমি সয়াবিনের দুধ দিয়ে দই পেতেছি। কী ভাল হয়েছে! ভাবছিলাম, তুমি এলে খুব ভাল হয়।’ এমনই শিশুর মতো ব্যবহার ছিল তাঁর।

অবসর নেওয়ার পর সামান্য কারণে ওঁর পেনশনটা আটকে গেল। আমরা বহু চেষ্টা করেছি। তখন ওঁর আর্থিক অবস্থাও বিশেষ ভাল ছিল না। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বরাদ্দ ভাতাও উনি নিতেন না। এক দিন ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছিলাম, আপনি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বরাদ্দ ভাতা না নিয়ে ভুল করেছেন। এ দেশ ত্যাগের মর্যাদা দেয় না। বীণাদি বলেছিলেন, ‘এমন কথা আর বোলো না। কোনও প্রত্যাশা নিয়ে তো আমরা দেশসেবা করিনি।’ এ বছর এই মহান ব্যক্তিত্বের জন্মশতবর্ষ।

-মায়া ঘোষ
.........................



৩৩ বছর আগে ‘শঙ্কর স্কোপ’ দেখে বাড়ি ফিরে একটা চিঠি লিখে তাঁর সাক্ষাৎকার প্রার্থী হয়েছিলাম। তখন ফুলিয়ায় থাকি। ‘সাহিত্য সৈকত’ নামে একটি লিটল ম্যাগাজিন বের করি।

৮ দিনের মাথায় জবাব এল। ইংরেজিতে লেখা। বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায়: ...আপনি হয়তো জানেন আমি হার্টের রোগী, অত্যন্ত নিয়মবদ্ধ জীবন যাপন করছি। বিশেষ প্রয়োজনীয় না হলে সাক্ষাৎকার দেওয়া চিকিৎসকেরও বারণ। তা সত্ত্বেও আগামী ১৩ অগস্ট ’৭৭
শনিবারে বেলা দুটোর সময় আপনার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ-পরিচয় ঘটলে খুশি হব। তা যদি ১৫ মিনিটের জন্য হয়। ভগবান আপনার মঙ্গল করুন। শ্রদ্ধাসহ— উদয়শঙ্কর

চিঠিটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম। উদয়শঙ্করের চিঠি, তাঁর ইন্টারভিউ এবং তা আগামী কালই! সারা রাত জেগে কিছু প্রশ্ন তৈরি করলাম।
পর দিন নির্দিষ্ট সময়ে তাঁর ম্যাণ্ডেভিল গার্ডেনস-এর ফ্ল্যাটে গিয়ে হাজির। কেয়ারটেকার দরজা খুলে ড্রয়িং রুমে নিয়ে গিয়ে বসালেন। অল্প কিছু সময়ের মধ্যে আলখাল্লা পরিহিত, সৌম্যদর্শন অপরূপ সেই মানুষটি— যেন এক দেবদূত— অনেকটা দূর থেকে হাত তুলে নমস্কার জানাতে জানাতে আমার দিকে এগিয়ে এলেন।

দু’জনে মুখোমুখি বসলাম। নৃত্যের আনন্দ ও জীবনের সুখ-দুঃখের কত কথা। দুঃখ ও যন্ত্রণায় দিশেহারা উদয়শঙ্কর যে এক অন্ধকার ভোরে লণ্ডনের টেমস নদীর ব্রিজের উপর থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করতে যাচ্ছিলেন, আর এক পুলিশ সার্জেন্ট তাঁকে ধরে ফেলে বাঁচিয়ে দিলেন, এ গল্প তাঁরই মুখে শোনা। ১৫ মিনিট কখন ৪৫ মিনিটে গড়িয়ে গেছে সে হিসেবও ছিল না কারও।

ফিরে আসছি। উনি লিফ্‌ট অবধি আমাকে এগিয়ে দিলেন। এর পর তিনি আর মাত্র ৪৪ দিন বেঁচে ছিলেন।

-মাধব ভট্টাচার্য
......................



পঁয়ত্রিশ বছর আগে লিটল ম্যাগাজিনে ফিল্ম ইণ্ডাষ্ট্রির সঙ্কট নিয়ে উত্তমকুমারের ইন্টারভিউ দরকার ছিল।
এক রবিবার দুপুরে গিয়ে ধরলাম তাঁকে— ফিল্ম ইণ্ডাষ্ট্রির সমস্যা নিয়ে একটা ইন্টারভিউ চাই। সাত-আট জন স্তাবক ছিলেন, তারা সমস্বরে বললেন, না না, ওই তো পুঁচকে কাগজ...। উত্তম একটু চুপ করে থেকে বললেন, ‘আগামী রবিবারের পরের মঙ্গলবার সকাল ন’টায় বাড়িতে আসুন, পনেরো মিনিট পাবেন'।
উত্তম চলে গেলে সেই স্তাবকদেরই অন্য রূপ, দেখলেন কেমন স্মুদলি অ্যাভয়েড করল। আগামী রবিবারের পরের মঙ্গলবার ডায়েরিতে লেখা নয়, সেক্রেটারি নেই, দশ দিন পরে সকাল ন’টা, মনেই রাখবে না। আমিও বেশ সন্দেহাকুল হলেও গেলাম সেই নির্ধারিত দিনে সকাল ন’টায় ময়রা ষ্ট্রিটে।

পনেরো মিনিট নয়, দেড় ঘণ্টা আলোচনা হল। উত্তম দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘আপনি যে আমার পার্সোনাল লাইফ, হিরোর ব্যাপার-স্যাপার জানতে না চেয়ে ইণ্ডাষ্ট্রি নিয়ে ভাবছেন, সেটা খুব ভাল লাগল। আবার আসবেন। রোববার সকালটা ফ্রি থাকি'।
আমি মুগ্ধ নয়, মন্ত্রমুগ্ধ। পত্রিকা বেরোল, প্রশংসিত হল।

তার পরে ছ’মাস কেটে গেছে। ‘স্ত্রী’ ছবির প্রি-রিলিজ শো হবে স্টুডিয়োর ছোট হলে। আমিও একটা পাস পেয়েছি। এমন সময় চার দিকে নীরব সাড়া ফেলে সাদা অ্যাম্বাসাডার থেকে নেমে এলেন উত্তম এবং সুপ্রিয়া। ওঁরা সোজা চলে গেলেন সৌমিত্রের দিকে। হঠাৎ দেখি উত্তম হাতের ইশারায় আমাদের দিকে কাউকে ডাকছেন। আমি তো প্রায় দৌড়ে গিয়ে হাজির। ভ্রু কুঁচকে রাগত মুখে উত্তম বললেন, ‘পত্রিকা তো কবেই বেরিয়েছে, কই আমাকে তো দিলেন না?’ আমি প্রতিবাদে উদ্যত হতেই হেসে ফেলে বললেন, ‘পেয়েছি এবং পড়েওছি। খুব ভাল হয়েছে। আরও লিখুন এই হতভাগ্য ইণ্ডাষ্ট্রিটাকে নিয়ে। আমি তো আছিই।’ স্তম্ভিত হয়ে গেলাম।

-সুজন বন্দ্যোপাধ্যায়
...................


উত্তর এসেছিল পোস্টকার্ডে। দিল্লি থেকে লেখা। পর পর চারটি তারিখ উল্লেখ করে লেখা— আপনার সুবিধামত যে কোনও দিন নিমতৌড়ির স্মৃতিসৌধে এলে দেখা হতে পারে।

প্রথম তারিখটিকে বেছে নিয়েই নির্দিষ্ট সময়ে বিকাল ৪টায় স্মৃতিসৌধে পৌঁছে শুনতে পাই, রাইটার্সে একটা জরুরি মিটিংয়ে মন্ত্রী ডেকেছেন তাই চলে গেছেন। কখন ফিরবেন কিছু ঠিক নেই। হতাশই হলাম। স্মৃতিসৌধর ভেতরটা ঘুরে দেখতে লাগলাম। ঘড়িতে তখন ৫টা বেজে ৫ মিনিট।
আমি যাঁর সাক্ষাৎপ্রার্থী তিনি এসে আমার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বারবার দুঃখ প্রকাশ করতে লাগলেন। আমি কুণ্ঠিত হচ্ছিলাম। করজোড়ে নমস্কার জানাতে তিনি আমার হাত দু’টি টেনে ধরে বুকের কাছে নিয়ে বলতে লাগলেন, ‘আপনি আসবেন আমার মনে ছিল। রাইটার্সে মিটিং সেরে বাস ধরে আসতে দেরি হয়ে গেল।’

আমি বিস্মিত চোখে তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। আমার মতো এক জন অতি সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর এই আন্তরিক ব্যবহার আমাকে মুগ্ধ করেছিল। এই মানুষটিই হলেন সদ্য প্রয়াত সুশীলকুমার ধাড়া

সে-দিন মুখোমুখি বসেছিলাম আমরা দু’জন। স্মৃতিসৌধ নির্মাণে তাঁর উদ্যোগ ও পরিকল্পনার কথা শুনেছিলাম। শুনেছিলাম বিয়াল্লিশের অন্দোলন, ব্রিটিশদের নির্যাতন, তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের পত্তন, বিদ্যুৎবাহিনীর কার্যকলাপ— এ সবের অজানা অনেক কথা। সে-দিন তিনি তাঁর লেখা আত্মজীবনীমূলক একটি বই ‘প্রবাহ’ যার পাণ্ডুলিপি তৈরি হয়েছিল কলকাতার প্রেসিডেন্সি ও বহরমপুর জেলে বসে, সেটি স্বাক্ষর করে আমাকে উপহার দিয়েছিলেন। নিমতৌড়ির সন্দেশ আনিয়ে খাইয়েছিলেন; রাতে তাঁর বাড়িতে থেকে যাওয়ার জন্য বারবার বলছিলেন।

থাকা হয়নি। ফিরে আসছি। হাঁটতে হাঁটতে বাসস্ট্যাণ্ড পর্যন্ত এসে আমাকে বাসে তুলে দিয়ে তবে ফিরে গেলেন।

-মাধব ভট্টাচার্য
…………………….
[আনন্দবাজার পত্রিকা থেকে নেওয়া]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29459427 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29459427 2011-10-03 17:11:31
সবুজ বাড়ি <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" />


বর্ণনা, সংযুক্তা আর আরভ টানটিয়া <img src=" style="border:0;" />


রাঘভ আগরওয়াল


স্বাধীনতা দিবসে


ঋষিকা আর ঋষভ

জন্মাষ্টমীতে:



সংযুক্তা


আয়ুষ


ঋষিকা আর ঋষভ


আরভ


ময়ূখ


বালকৃষ্ণ, মনোদীপ আর ঋষভ

ঈদঃ-

ঈদেরদিন অমৃতার সাথে লালরেমপুঁই, ঋষিকা, ঋষভ, মনোদীপ, দর্শিল আর সাঘনিক


ছোট্ট রিধান


শিক্ষকদিবসের উপহার


রাঘভের জন্মদিন


টগ্‌বগ্‌...টগ্‌বগ্‌


হলুদ দিবসে ছোট্ট সোনারা



৩০.৯.১১ ....ফ্যাশন শোয়ে যাওয়ার আগে <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29459302 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29459302 2011-10-03 12:47:15
কথাচ্ছলে মহাভারত - ৩৭
সত্যবতীর বিবাহঃ

জন্মেজয় জিজ্ঞাসা করেন –ভীষ্ম পিতামহকে ধীবররাজ কি বলেছিলেন!

মুনি বলেন – দাসরাজ বিনয়ের সঙ্গে দেবব্রতকে বলেন তার পিতা শান্তনুও পূর্বে এসেছেন।

দাসরাজ বলেন -তোমার পিতা কামদেবের তুল্য, বিখ্যাত কুরু কূলপতি। তাকে কন্যা দেওয়া ভাগ্যের ঘটনা। কিন্তু অভয় দিলে কিছু নিবেদন করি।

দেবব্রত বলেন তিনি নির্ভয়ে সকল কথা বলুন, সাধ্য হলে অবশ্যই তিনি তা দান করবেন।

ধীবররাজ বলেন –তুমি রাজার যোগ্য বীরপুত্র কিন্তু পরবর্তীকালে কলহ অবশ্যম্ভাবী। তুমি গঙ্গার পুত্র, দেব-দানব তোমার পক্ষে। তোমার সামনে আমার কন্যার পুত্রদের স্থান কি হবে!


সব শুনে দেবব্রত বলেন -আমি থাকতে আপনার কন্যার কোন দুঃখ হবে না। এখানে আমি সকলের সামনে প্রতিজ্ঞা করছি রাজ্যে আমার কোন অধিকার নেই। আমার পিতা ও আপনার কন্যার গর্ভের সন্তানই রাজ্যভার পাবে।

দাসরাজ বলেন –তোমার বচন অব্যর্থ। কিন্তু আরেকটা নিবেদন আছে। তুমি রাজ্য ত্যাগ করলে কিন্তু তোমার পুত্ররা যদি দ্বন্ধ করে!

দেবব্রত বলেন –আমি যখন রাজ্যভার ত্যাগ করেছি তখন সে ভয় আপনার সঙ্গত নয়। তবু আমি সকলের সামনে প্রতিজ্ঞা করছি বিবাহ করবো না। আজ থেকে আমি ব্রহ্মচর্য অবলম্বন করলাম, আমার পুত্র না হলেও আক্ষয় স্বর্গ লাভ হবে।


দেবব্রতের এই বাক্যে দেবতা-গন্ধর্ব-নর সকলে বিস্মিত হলেন। ধন্য ধন্য রবে চারদিক পূর্ণ হল। অপ্সরারা স্বর্গ থেকে পুষ্পবৃষ্টি করলেন।


ভয়ঙ্কর এই প্রতিজ্ঞা করার জন্য শান্তনু ও গঙ্গার পুত্রের নাম হল ভীষ্ম।


ভীষ্মের সত্যবচনে মুগ্ধ রোমাঞ্চিত দাসরাজ নিজের কন্যাকে ভীষ্মের হাতে তার পিতার জন্য দান করলেন। সত্যবচন থেকে ভীষ্মের এই জননীকে সত্যবতী নাম দেওয়া হল।

সত্যবতীকে ভীষ্ম যোড়হাতে বলেন –মাতা রথে উঠুন এবং নিজগৃহে চলুন।

সত্যবতীকে রথে আরোহণ করিয়ে ভীষ্ম হস্তিনানগরে প্রবেশ করলেন। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শুদ্র সকলে দেখতে এলো। সকলে ধন্য ধন্য করল। “ভীষ্ম, ভীষ্ম” রবে ভুবন পূর্ণ হল।


ভীষ্ম সত্যবতীকে নিয়ে পিতা শান্তনুর সামনে উপস্থিত হলেন। সকল ঘটনা শুনে শান্তনু বিস্মিত হলেন এবং তুষ্ট হয়ে পুত্রকে বর দিলেন –তুমি যতদিন বাঁচতে ইচ্ছা করবে ততদিন তোমার মৃত্যু হবে না, তোমার ইচ্ছা মৃত্যু হবে।

ভীষ্মের জন্ম এবং কর্ম আর গঙ্গার চরিত্রের অপূর্ব কথন যে শোনে তার শরীর নির্মল হয় এবং জ্ঞান তত বাড়ে।

.........................................
উৎসর্গ: সকল ব্লগার বন্ধুকে
..........................................
আগের পর্ব:
কথাচ্ছলে মহাভারত - ৩৬
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29458969 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29458969 2011-10-02 20:40:39
কথাচ্ছলে মহাভারত - ৩৬
মৎস্যগন্ধার উৎপত্তিঃ

বিশ্বম্পায়ন জন্মেজয়কে বলেন –মাছের গর্ভে এই ব্যাস জননীর জন্ম এবং তিনি পরাশর মুনির দয়া লাভ করে সুগন্ধী হন।


দ্বাপর যুগে এক ধার্মীক সত্যশীল রাজা ছিলেন–পরিচয়। তিনি সবকিছু ত্যাগ করে বনে কঠিন তপস্যা শুরু করেন। শিরে জটা, বৃক্ষের বাকল(ছাল) পরিধান, কখনও ফল-মূলাহার করেন, কখনও বা কেবল জল। কখনও গলিত পত্র, কখনও কেবল বাতাস-এভাবে রাজা অনাহারে তপ করতে থাকেন।

গ্রীষ্মকালে চারদিক যখন জ্বলছে তখন রাজা উর্দ্ধপদে তপ করেন। তার তপ দেখে ইন্দ্র ভয় পেলেন এবং ঐরাবতে চেপে রাজার কাছে উপস্থিত হলেন এবং অনুনয় করলেন তপ ভঙ্গের।

শেষে তাদের বন্ধুত্ব হয়। ইন্দ্র নিজের গলার বৈজয়ন্তীমালা খুলে রাজার গলায় পরালেন। তাকে স্ফটিকময়(স্বচ্ছ ও শুভ্র প্রস্তর বিশেষ)বিমান ও একটি বংশদন্ড দিয়ে ইন্দ্র চেদি রাজ্যের রাজা করে ফিরে গেলেন।

রাজা পরিচয় অঘ্রাণ মাসে উৎসব করে সেই দন্ড রাজপুরীতে এনে ইন্দ্রপূজা করলেন। পরেরদিন নানা অলংকারে সজ্জিত হয়ে চেদিরাজ পরিচয় নিয়ে নানা দান, যজ্ঞ করলেন। শেষে অযোনিসম্ভবা এক কন্যা গিরিকাকে পর্বতে দেখতে পেলেন এবং সেই পরমাসুন্দরীকে বিবাহ করলেন।

রাজা স্ত্রীর সঙ্গে নানা ক্রীড়া করে আনন্দে দিন কাটান। কিছুকাল পর ঋতুকাল এলে ঋতুস্নান করলেন পাটেশ্বরী এবং দান ধ্যান করে পবিত্র হলেন।

সেদিন মৃত পূর্বপুরুষরা স্বপ্নে রাজাকে বললেন মৃগ মাংসের শ্রাদ্ধ কর।
পিতৃগণের আজ্ঞা পেয়ে পরিচয় মৃগয়া করতে অরণ্যে গেলেন। কিন্তু ঋতুমতী স্ত্রীর কথা কিছুতেই ভুলতে পারলেন না। মৃগয়া করতে তার মন লাগে না। সব সময় স্ত্রীকে তিনি স্মরণ করেন। এভাবে কামের উত্তেজনায় তার বীর্য স্খলিত হল। দেখে রাজা চিন্তিত হলেন। হাতে তার পোষা পাখি ছিল। একটি পাতায় বীর্য দিয়ে পক্ষীকে তার পাটেশ্বরীর কাছে প্রেরণ করলেন। পাখি রাজার আজ্ঞায় উড়ে চললো। পথে আরেক পাখি খাদ্যদ্রব্য ভেবে তা কেড়ে নিতে গেল। দুই পাখির যুদ্ধ শুরু হল। এদিকে পাতাটি আকাশ থেকে যমুনা নদীতে পড়ল।


দীর্ঘিকা নামে এক স্বর্গের বিদ্যাধরী(গায়িকা) মুনিশাপে মাছরূপে যমুনা নদীতে অবস্থান করত। সে ঐ বীর্যটি ভক্ষণ করল। দশমাস পর ধীবরের জালে মাছটি ধরা পড়ল। কূলে এসে মাছটি প্রসব করে মুনিশাপ মুক্ত হয়ে নিজ দেশে গেল।

ধীবররা দেখল একটি পুত্র ও একটি কন্যা। তারা অবাক হল। ধীবররাজ সন্তান দুটি নিয়ে চেদিরাজের কাছে গেলেন। অপুত্রক রাজা সন্তান দুটি দেখে আশ্চর্য হলেন। পুত্রটিকে নিয়ে কন্যাটিকে ধীবর রাজাকে দিলেন। পরে পুত্রটি মৎসরাজ রূপে নাম করেন।

কন্যাকে নিয়ে ধীবররাজ নিজ গৃহে আসলেন এবং বহু যত্নে তাকে পালন করতে লাগলেন। নাম হল তার সত্যবতী।

রূপে তার সমান কেউ নেই। কিন্তু কন্যার দুর্গন্ধে কেউ তার কাছে যায় না। সে জন্য তার অন্য নাম মৎসগন্ধা। ধীবররাজ চিন্তিত হলেন। ভাবলেন যমুনা নদী দিয়ে কত মুনি যাতায়াত করেন।
কন্যাকে বললেন –ধর্মের কারণে তুমি পার কর মুনিদের।
পিতৃ আজ্ঞায় কন্যা সেখানে থাকে এবং মুনিদের পারাপার করে।


মহামুনি পরাশর, যিনি শক্ত্রির পুত্র, তীর্থযাত্রা করতে গেলে হঠাৎ সেই পথে যান এবং কৈবর্তের সুন্দরী কন্যাকে দেখে মোহিত হন।

তিনি বলেন –সুন্দরী, নৌকার কর্ণধার কোথায়!

কন্যা বলেন তার পিতা দাস রাজা। পুত্র না থাকায় তিনিই সকলকে পার করেন। তার নাম মৎস্যগন্ধা।

নৌকায় যেতে যেতে পরাশর বলেন কন্যার জন্মবৃত্তান্ত জানেন। তিনি কন্যার থেকে বংশধর পুত্র কামনা করেন।

কন্যা যোড়হাতে বলেন তিনি নীচজাতির কুমারী। সর্বোপরি তিনি দুর্গন্ধা। তার কাছে মুনি কিভাবে আসবেন। আর মুনি বিবাহ না করলে কন্যা কি ভাবে তাকে কামনা করবেন!

মুনি হেসে বলেন তিনি পরাশর মুনি। তিনি বর দেবেন তাই কন্যার কোন ভয় নেই। মৎসের দুর্গন্ধ দুর হয়ে তিনি পদ্মগন্ধা হবেন। প্রথম যৌবনে তিনি যেমন অনূঢ়া আছেন সর্বদা তিনি এরূপই থাকবেন মুনির আশিষে। কেউ পরিচয় জানতে চাইলে বলবেন তার জন্ম কৈবর্ত্তের ঘরে। মুনির বরে মহারাজই তাকে বিবাহ করবেন।


একথা বলতে বলতে কন্যার দুর্গন্ধ দুর হল এবং তিনি সুগন্ধি হলেন। তিনি গন্ধবতী নামে খ্যাত হলেন। এক যোজন দূর থেকে তার সুগন্ধ পাওয়া যেত তাই লোকে তাকে যোজনগন্ধাও বলত। সুন্দরী কন্যা মুনির বরে অতীব সুন্দরী হয়ে উঠলেন। নিজেকে দেখে কন্যা হরষিত হলেন।

পুনরায় যোড়হাত করে বলেন, মুনির বাক্য খন্ডন হয় না। কিন্তু যমুনার দুই তটে কতো লোকজন, জলেও অগণিত নৌকা, তাই লোক প্রচারিত হতে বাকি থাকবে না কিছুই।

শক্ত্রি-পুত্র পরাশর মহা তপধন। মুহূর্তে তিনি চারদিকে কুজ্ঝটি বা কুয়াশায় পূর্ণ করলেন। যমুনার মধ্যে একটি দ্বীপের সৃষ্টি হল। পদ্মগন্ধা কন্যার সাথে মুনি সেথায় রমণ করলেন।

কন্যা গর্ভবতী হলেন এবং তার গর্ভে বিখ্যাত ব্যাসদেব জন্মগ্রহণ করলেন। দ্বীপে জন্মগ্রহণ করায় তার নাম হল দ্বৈপায়ন। তিনি বেদের চারটি ভাগ করে ব্যাস নামে খ্যাত হন। পুত্র শুক ও বৈশম্পায়ন ও অন্যান্য শিষ্যদের চতুর্বেদ ও মহাভারত অধ্যয়ন করান। তাঁরাই মহাভারতের রচনাগুলি পৃথক ভাবে প্রকাশ করেন।

জন্মমাত্র ব্যাস জননীকে বলেন -আজ্ঞা করুন মা, এক্ষুনি তপোবনে যাই।
কথা দিলেন যখনই জননী ডাকবেন তখনই তিনি উপস্থিত হবেন। জননীর আজ্ঞা নিয়ে ব্যাস তপোবনে তপস্যায় রত হলেন।
..........................................
উৎসর্গ: সকল ব্লগার বন্ধুকে
..........................................
আগের পর্ব:
কথাচ্ছলে মহাভারত - ৩৫
Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29386884 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29386884 2011-05-27 12:42:16
কথাচ্ছলে মহাভারত - ৩৫
দেবব্রতের যুবরাজ হওনঃ

গঙ্গার বিরহে শান্তনু কাতর হলেন। সর্বদা স্ত্রীর গুণের কথা ভাবেন। গঙ্গার কথা ভেবেই তার যৌবন গেল। তিনি আর বিবাহ করলেন না। দান, ধ্যান, যজ্ঞ করে জিতেন্দ্রিয়, সত্যবাদী রাজা রাজ্য শাসন করেন। এভাবে কিছু বছর গেল।

একদিন রাজা মৃগয়া করতে ভাগীরথী তীরে যান এবং গঙ্গার কূলে বসে তার রূপ দেখতে থাকেন। হঠাৎ তার দৃষ্টি যায় এক অপরূপ যুবার উপর। কামদেবের মত রূপ, হাতে ধনুঃশর। মহাবীর শরজালে গঙ্গার জল বেঁধে ফেলেন। রাজা দেখেন যুবা গঙ্গায় প্রবেশ করলেন। তিনি চিন্তিত মুখে সেখানেই বসে রইলেন। তাকে দেখে গঙ্গা প্রসন্ন হলেন এবং নারীরূপে রাজার সামনে পুত্রকে নিয়ে আবির্ভূতা হলেন।


রাজাকে ডেকে গঙ্গা বলেন –কি কারণে চিন্তা কর, রাজন! এই তোমার কুমার, নাম দেবব্রত। এর গুণ বর্ণনা করা যায় না। বশিষ্ঠের কাছে এর অস্ত্রশিক্ষা, দেবগুরু-দৈত্যগুরুর সমান এর শাস্ত্র জ্ঞান। অস্ত্রবিদ্যা জানে ভৃগুরাম/পরশুরামের সমান। সংসারে যত বিদ্যা নীতিশাস্ত্র ধর্ম, এ পুত্রের অগোচরে নহে কোন কর্ম। একে তোমার হাতে সপে দিলাম। তুমি একে যুবরাজরূপে অভিষেক করো। এত বলে গঙ্গা অন্তর্ধান হলেন।

পুত্রকে পেয়ে রাজা আনন্দিত হলেন। রাজ্যে এসে শুভক্ষণ দেখে তার অভিষেক সুসম্পন্ন করলেন।

প্রজারা আনন্দিত হল। রাজ্যের ভার যুবরাজের হাতে দিয়ে রাজা মৃগয়া গেলেন।

একদিন রাজা যমুনার তীরে উপস্থিত হলেন। কালিন্দীর তীরে হরিণ খুঁজছিলেন, সে সময় এক অপূর্ব সুগন্ধে সে স্থানের বাতাস আমোদিত হল।
কিসের সুগন্ধ অনুসন্ধান করতে করতে শান্তনু এগিয়ে গিয়ে দেখেন নৌকায় এক পরমা সুন্দরী যুবতী বসে আছেন। তার রূপে চারদিক আলোকিত। কন্যার চোখ দুটি অতি চঞ্চল, বিকশিত পদ্মের মত তার তনু, বচন যেন কোকিলের কুহু তান, কুসুমে করবী ভার সুচারু-সুকেশা।
কন্যাকে দেখে শান্তনু কামে পীড়িত হলেন। এগিয়ে এসে রাজা কন্যার পরিচয় জানতে চাইলেন।

কন্যা বলেন -আমি দাস রাজার কন্যা। ধর্ম রক্ষার্থে পিতা নৌকা বাইতে আজ্ঞা করেছেন।

কন্যার কথা শুনে রাজা দ্রুত কন্যার পিতার কাছে গমন করলেন।

রাজাকে দেখে মীনজীবী(জেলে) ধীবর দাসরাজা দ্রুত উঠে এসে নিজের রত্ন সিংহাসনে তাকে আহ্বান জানালেন। তার আগমনের কারণ জানতে চাইলেন।

শান্তনু তার কন্যাকে বিবাহ করার অনুমতি চাইলেন।

দাসরাজা বলেন যদি তিনি কন্যার যোগ্য হন তবেই তার হাতে কন্যাদান করবেন। শান্তনু কুরুবংশের শ্রেষ্ঠ, তথাপি তাকে কথা দিতে হবে তার কন্যার সন্তানরাই রাজ্যের অধিকার পাবে।

শান্তনু বলেন একাজ তিনি কখনই করতে পারবেন না। কারণ দেবব্রত যোগ্য এবং তার অভিষেকও হয়ে গেছে। এই বলে তিনি সে স্থান ত্যাগ করে চলে যান।

কিন্তু রাজ্যে ফিরেও রাজা মন থেকে সে কন্যার চিন্তা দুর করতে পারেন না। সব সময় তার স্মৃতিতে মগ্ন থাকেন। অধোমুখে মনের দুঃখে দিন কাটান।
পিতার দুঃখে পুত্র চিন্তিত হন। এর কারণ জানতে চান। তিনি জানান পিতার আজ্ঞায় দেব-নর-দানব সকলকে বশ করে তিনি তার মনের দুঃখ দুর করবেন।

পুত্রের কথা শুনে শান্তনু বলেন –তুমি কুরুকূলের একমাত্র সন্তান। কিন্তু তোমার যদি কিছু হয় তাহলে বংশের কি হবে। সে কথা চিন্তা করে আমি দুঃখ পাচ্ছি।

বুদ্ধিমান দেবব্রত পিতার কথা শুনে মন্ত্রীদের কাছে গেলেন।
সব শুনে মন্ত্রীরা বলেন –মৃগয়া করতে গিয়ে রাজা গন্ধকালী কন্যার দেখা পান। কিন্তু তাকে বিবাহ করতে চাইলে দাসরাজা তোমার কারণে কন্যা দিতে চাননি।

এত শুনে দেবব্রত রথে চড়ে দাসরাজার সামনে উপস্থিত হলেন এবং পিতার জন্য তার কন্যাকে প্রার্থনা করলেন।

দাসরাজা বলেন –আমার কন্যা জগৎ বিখ্যাত।

এত শুনে জন্মেজয় ধীবরবংশে ঐ সুন্দরী কন্যার জন্মের কারণ জানতে চাইলেন।
..........................................
উৎসর্গ: সকল ব্লগার বন্ধুকে
..........................................
আগের পর্ব:
কথাচ্ছলে মহাভারত - ৩৪
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29377731 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29377731 2011-05-08 21:09:35
<img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_05.gif" width="23" height="22" alt=":D" style="border:0;" />বন্ধুদের কিছু সংবাদ<img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_05.gif" width="23" height="22" alt=":D" style="border:0;" /> সদ্যোজাতকে উদ্ধার করে ‘হিরো’ টনি


কুকুরের তৎপরতায় শুকনো নয়ানজুলি থেকে উদ্ধার হল এক সদ্যোজাত। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বসিরহাট থানার চাঁপাপুকুর পঞ্চায়েতের উত্তর দেবীপুর গ্রামে।

ওই গ্রামেরই বাসিন্দা পেশায় কৃষক জাফর মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী রেহানা বিবির বাড়িতে থাকে টনি। পাড়ার সকলের প্রিয় কুকুর ছানা। শুক্রবার রাতে বাড়ি না ফেরায় কুকুরটিকে খুঁজতে বেরিয়েছিলেন রেহানা ও তাঁর দুই ছেলে মিনারুল-রাকিবুল। তাঁরা দেখতে পান, রাস্তার ধারে শুকনো নয়ানজুলির মধ্যে এক সদ্যোজাতকে আগলে বসে আছে টনি। চিৎকার করছে পাড়ার আরও একটি কুকুর। খবর ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। গ্রামের মানুষ উদ্ধার করেন দিন কয়েকের শিশুটিকে। তাকে কোলে নিয়ে বাড়ি ফেরেন রেহানা। তিনি জানালেন, স্বামী আর দুই ছেলেকে নিয়ে অভাবের সংসার। তবুও তাঁর দুই সন্তানের সঙ্গেই তিনি মানুষ করবেন কুড়িয়ে পাওয়া এই নবজাতককে।

জাকিরের প্রতিবেশী রাকিব হোসেন, আনোয়ার হোসেন মোল্লারা জানান, ইতিমধ্যেই গ্রামের মানুষ শিশুটির নামকরণ করেছেন আসলাম। অর্থাৎ ‘শান্তি'’। অনেক নিঃসন্তান দম্পতি শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার জন্য আবেদন করলেও রেহানা বিবি ও গ্রামের বয়ঃজ্যেষ্ঠরা শিশুটিকে অন্য কারও হাতে তুলে দিতে নারাজ। ইতিমধ্যেই শিশুটির জন্য দুধ, শীতবস্ত্রের ব্যবস্থাও করেছেন তাঁরা। গ্রামের বাসিন্দা হাজি মওলানা আমজাদ হোসেন বলেন, “আমাদের এই এলাকায় প্রচুর শিয়াল। তা সত্ত্বেও শিশুটিকে যখন জীবিত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে, তখন আমরা প্রয়োজনে চাঁদা তুলে ওর ওষুধ-পথ্যের খরচ বহন করব। কিন্তু উপরওয়ালার পাঠানো এই শান্তির এই দূতকে কোনও ভাবেই পরের হাতে তুলে দেব না। আসলাম আমাদের গ্রামেই থাকবে।”

শিশুটিকে নিয়ে গ্রামের মানুষের কৌতুহল তো আছেই, তার থেকেও বেশি আদর পেতে শুরু করেছে টনি। কুকুর আর মানুষের বাচ্চা দেখতে গ্রামে ভিড় উপচে পড়ছে জাফরের বাড়িতে। টনিও খেলা করছে নবজাতকের সঙ্গে, পাহারাও দিচ্ছে তাকে।

জাফর গোটা বিষয়টি জানিয়েছে পঞ্চায়েতকে। কোথা থেকে শিশুটি এল, তার হদিস করতে পারেননি কেউ। কিন্তু খোঁজ পাওয়া গেলেও শিশুটিকে এখন ছাড়তে নারাজ রেহানারা। বললেন, “বড্ডো মায়া পড়ে গিয়েছে।”
-নির্মল বসু • বসিরহাট[সোমবার ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১১]
........................................................

ভবঘুরের সঙ্গে ‘মেয়ে’র প্রেম, ‘বাবা’র শাস্তি কমাল হাইকোর্ট

বাধাবিপত্তি পেরিয়ে যুগলমিলন হল বটে! কিন্তু তার কোপ এসে পড়ল অভিভাবকের উপরে!

ঠিক যেন হিন্দি সিনেমা। বড়লোকের মেয়ে আর গরিবের ছেলের মধ্যে ভাব-ভালবাসা। সাধারণত এ সব ক্ষেত্রে মেয়ের বাবা ছেলের উপরে এক হাত নিতে খেপে ওঠেন! এখানে বিষয়টা ঘটেছে অন্য রকম। মেয়েকে ঠিক মতো শাসন করতে না পারার অপরাধে শাস্তি পেয়েছেন মেয়ের অভিভাবকই।

কেঁদেকেটে আদালতে গিয়েছেন সুনীল কুমার। আদালত সব শুনেটুনে বলেছে, মিঞা-বিবি রাজি তো কেয়া করেগা কাজি! অন্যের প্রেমের জেরে সুনীল কুমারকে যেন অযথা বেশি শাস্তি দেওয়া না হয়! আদালত জিজ্ঞেসও করেছে, মেয়ের ছানাপোনারা এখন ভাল আছে তো?

মেয়ের নাম, মাস্তা। উচ্চ বংশীয় ল্যাব্রাডর। দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে যে সিআইএসএফ বাহিনী, তার ডগ স্কোয়াডের খাস সদস্য সে। মাস্তার দেখভালের দায়িত্ব কনস্টেবল সুনীল কুমারের। কিন্তু অভিভাবকের রক্তচক্ষু কবেই বা প্রেমের পথ আটকাতে পেরেছে? সুনীলও মাস্তাকে বেঁধে রাখতে পারেননি। রাস্তার তাগড়া জোয়ান এক নেড়ির প্রেমে হাবুডুবু খেয়ে গেল মাস্তা। অচিরেই সন্তানসম্ভবা হয়ে পড়ল সে।

আদালতে সুনীল জানিয়েছেন, রাস্তার কুকুরের সঙ্গে মিলমিশ যে ঠিক নয়, সেটা তিনি বিলক্ষণ জানতেন। মাস্তা গর্ভবতী হওয়ার পরপরই তিনি তাকে পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়েও গিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশের কুকুর বলে গর্ভপাতের ঝুঁকি নেননি চিকিৎসক। যথাসময়ে দশ-দশটি সন্তানের জন্ম দিল মাস্তা। খুদে ‘ল্যাব্রানেড়ি’রা ভাল দামে বিক্রিও হয়ে গেল! কিন্তু বিপদ ঘনিয়ে এল সুনীলের জীবনে।

কী ভাবে রাস্তার কুকুরের সঙ্গে মিশতে পারল মাস্তা?
সিআইএসএফ কর্তৃপক্ষ সুনীলের গাফিলতিকেই এর জন্য দায়ী করলেন। শাস্তি হিসেবে সুনীলের বেতন কমিয়ে দিলেন ডিআইজি। তাঁর পদোন্নতি এবং বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিও বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হল। সিআইএসএফ-কর্তৃপক্ষের ওই নির্দেশের বিরুদ্ধেই কলকাতা হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন সুনীল কুমার। অভিযোগ, লঘু পাপে গুরু দণ্ড দেওয়া হয়েছে। সুনীলের আইনজীবী কে বি এস মহাপাত্র সওয়াল করেন, দীর্ঘ চাকরি জীবনে সুনীল কুমারের নামে অন্য কোনও কাজে গাফিলতির অভিযোগ নেই। একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার জেরে তাঁকে এত কঠোর শাস্তি দেওয়া যায় না। আর বিচ্ছিন্ন ঘটনাটিও বা কী? আইনজীবীর ভাষ্যে, “মাস্তার প্রেম অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা। এই কারণেই সময় মতো বাবা-মায়েরা ছেলেমেয়ের বিয়ে দিয়ে দেন।” প্রেমের ফলে কি মাস্তার কোনও ক্ষতি হয়েছে? আদালতে সুনীল জানান, মাস্তার শরীরের কোনও ক্ষতি হয়নি। মাস্তার বাচ্চাগুলিকে ভাল দামে বিক্রি করেছে সিআইএসএফ।

তা হলে?
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয়ন্ত বিশ্বাসও সুনীলের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছেন। রাস্তার কুকুরের সঙ্গে ডগ স্কোয়াডের মেয়ের প্রেমকে তেমন বড় কোনও অপরাধ বলে মনে করেননি তিনি। বিচারপতি বলেন, “সুনীল কুমারের কাজকে ঠিক গাফিলতি বলা যাবে না। বাচ্চাগুলো যেখানে রয়েছে, আশা করি ভালই আছে। সুনীল কুমারের বিরুদ্ধে যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা লঘু করে দেওয়া হোক।”

ঠিক যেন হিন্দি সিনেমা। শত কাঁটা পেরিয়ে প্রেমের জয় হবেই!
-অরুণোদয় ভট্টাচার্য • কলকাতা[বৃহস্পতিবার ২৪ মার্চ ২০১১]
...................................................................

হারানো টিয়াপাখি খুঁজে দিলে ইনাম পুরো দু’হাজার

শুধু পুলিশে ডায়েরি হয়নি এই যা। হারানো টিয়ার খোঁজে কী না করেছেন খড়দহের কৃষ্ণা দাশগুপ্ত। ওঝা, গুনিন, জলপড়া, তেলপড়া, কেবল টিভিতে বিজ্ঞাপন, ইনাম ঘোষণা...। নাহ্‌ সে পাখি ফেরেনি।

রাস্তার দেওয়ালে পোস্টার সেঁটেছেন। দু’হাজার টাকা পুরস্কার। তা দেখে কেউ কেউ দু’একটা টিয়া ধরেও এনেছেন। কিন্তু তারা কেউ ‘রানি’ নয়। রানি হলে ‘মা মা’ ডাকত। কিন্তু কেউ ডাকেনি। সে হতচ্ছাড়ারা শুধু ড্যাবড্যাব করে চেয়ে থেকেছে। কৃষ্ণাদেবী অতঃপর নাওয়া-খাওয়া ভুলেছেন। রানির ফিরে আসার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হচ্ছে।

টিয়াটার নাম রানি। দিন বারো আগে সে আলমারির মাথায় বসে ছিল। তার পর খাটে নেমে এল। তার পর খাট থেকে মেঝেতে। তার পর সে হাঁটতে হাঁটতে মহানিষ্ক্রমণের দিকে চলে গেল। রানির ‘শকতি নাহি উড়িবার।’ কৃষ্ণাদেবী তাই ভাবলেন, কার্নিশ গলে পড়ে গেছে। নীচে নেমে কত খুঁজলেন। নাম ধরে ডাকলেন। কিন্তু কোথায় রানি?


কৃষ্ণাদেবীর চার বছরের সঙ্গী রানি। একেবারে ছোট থাকতে এনেছিলেন। ড্রপারে করে দুধ খাওয়াতেন। একটু বড় হলে ‘সলিড ফুড।’ সকালে চা-বিস্কুট, দুপুরে স্নান, তার পর মাছ-ভাত সহযোগে আহার, বিকেলে ফের চা-বিস্কুট, রাতে দুধের সর। তার পর কৃষ্ণাদেবীর সঙ্গেই লেপের নীচে ঘুম। তোফা রুটিন।
তবু সে পালাল। ‘তোতাকাহিনী’র পাখির মতোই তার যে ‘কেবল আক্কেল নাই তা নয়, কৃতজ্ঞতাও নাই।’

তবে শুধু রানি নয়, কৃষ্ণাদেবীর পুষ্যি অগুন্তি। অ্যাকোরিয়ামে রঙ-বেরঙের মাছ, খাঁচাভর্তি পাখি, দু’টি কুকুর।

কৃষ্ণাদেবীর কথায়, “রানি চলে যাওয়ার পর একটা কুকুর তো মরেই গেল। আর একটা খায়দায় না, শুধু ঝিমোয়। কাঁদেও।” কুকুরের জন্য অত মায়া নেই, টিয়াটা কেন পালাল? কৃষ্ণাদেবীর চোখে সন্তান হারানোর ব্যথা। বললেন, “কুটনো কুটতে বসলে আমার পাশে বসত। কাঁচা সব্জি খেয়ে নিত। আমি যে ওকে ছাড়া থাকিনি কখনও।”

কৃষ্ণাদেবী বি টি রোডের উপর তিনতলা আবাসনে থাকেন। কেয়ারটেকার অলোক রায় বললেন, “ফাঁকা ফাঁকা লাগে। ওর ডাক নীচে বসে শুনতাম। ও-ই ছিল পাহারাদার।” পছন্দের লোক বাড়িতে এলে সে মিষ্টি শিস দিত। অপছন্দের লোক এলে চেঁচামেচি। কৃষ্ণাদেবী জানান, একবার এক জ্যোতিষীকে চেঁচিয়ে বাড়িছাড়া করেছিল রানি।

মোটেই শান্ত ছিল না রানি। খাটের পায়া ঠুকরে খাবলা করে দিয়েছে। কৃষ্ণাদেবী বলেন, “আমার গয়নাও ঠুকরে খেয়েছে। কুকুর দুটোকে তো রানিই দাবড়ে রাখত। ওরা রানিকে ভয় পেত। ঘরটাও গমগম করত। রানি চলে যাওয়ায় সংসারটা শ্মশান হয়ে গেল। যে কোনওদিন এক পা হাঁটেনি, সে কী করে নিরুদ্দেশ হয়ে গেল।”

পাশের ফ্ল্যাটেই থাকেন কৃষ্ণাদেবীর বোন শুক্লা সরকার। তিনি বললেন, “দিন কয়েক আগে দিদি বকাবকি করেছিল রানিকে। সেই অভিমানেই চলে গেল না তো!’’

কৃষ্ণাদেবী কিছুই বুঝতে পারেন না। তাঁর চোখ আকাশের দিকে।
-বিতান ভট্টাচার্য • কলকাতা
………….

গ্রাম ছেড়েই বাঁচুক মোতি, চায় বিরাহিমপুর

ওর নাম মোতি।
গায়ের রং ধবধবে সাদা। ঠিকানা বিরাহিমপুর গ্রামে একটি ক্লাবের সামনে খানিকটা ফাঁকা জায়গা। যে কোনও দিন হয়তো বদলে যাবে তাও।
মাস দেড়েক আগের কথা।

গ্রামের তালবোনা পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় সাদা রঙের একটি ঘোড়াকে। পর পর তিন দিন ঘোড়াটিকে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে খটকা লাগে স্থানীয় যুবক নবকুমার দাসের মনে । তিনি কাছে গিয়ে দেখেন ঘোড়াটি কাঁপছে। চোখ দিয়ে জল পড়ছে। হাঁটার শক্তিও হারিয়েছে। তিনিই ঘোড়াটিকে গ্রামের ভিতর নিয়ে চলে আসেন। বুঝতে পারেন দৃষ্টিশক্তিও হারিয়ে ফেলেছে ঘোড়াটি। মুক্তোর মত গায়ের রং, তাই আদর করে বাসিন্দারা নাম রাখলেন মোতি।

মোতিকে সুস্থ করে তুলতে সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন নবকুমার। এগিয়ে আসেন গ্রামের অনেকেই। কেতুগ্রাম-২ প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের সঙ্গেও বেশ কয়েক বার তাঁরা যোগাযোগও করেন। সেখানকার পরামর্শে মাস খানেক ধরে ওষুধ খাওয়ানোর পরে এখন সে মোটামুটি সুস্থ। হাঁটতে পারে। একটি চোখে অল্প দেখতেও পাচ্ছে বলে গ্রামবাসীদের দাবি।

মোতি কী খায়?
জবাবে নবকুমার বলেন, “দিনে তিন বার খাওয়ানো হয় ওকে। ভাত-ডাল, ঘাস, গুড়, আর কুড়ো (দানের তুষ)।” গ্রামের অন্যদের সঙ্গে মোতির জন্য খাবারের জোগান দেন তিনিও। রোজ এই খাবারের জোগান দিতে নাভিশ্বাস উঠছে গ্রামবাসীর। তাই মোতির বাসস্থান বদলে দিতে চান তাঁরা। নতুন বাসস্থান চেয়ে স্থানীয় বিডিও-র দ্বারস্থ হয়েছেন। কয়েক দিনের মধ্যে বাসস্থান না পেলে মোতিকে নিয়ে ধর্নায় বসবেন বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। কেতুগ্রাম-২-এর বিডিও হেমন্ত ঘোষ বলেন, "বিএলডিও-কে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।”

নবকুমার বলেন, “খাবার পিছু প্রতি দিন খরচ ৫০-১০০ টাকা। টাকা ও সময় দু’টোতেই আর কুলিয়ে উঠতে পারছি না আমরা।”

মোতি সুস্থ হওয়ার পর থেকেই এলাকার শিশুরা তার পিঠে চেপে প্রতি দিন বিকালে রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। স্কুল ছাত্র সব্যসাচী দাস, গৌরহরি দাস বলে, “মোতির পিঠে চেপে প্রতি দিন রাস্তায় ঘুরে বেড়াই। কিন্তু তাতে মোতির কষ্ট হয় বুঝতে পারি।” গ্রামের বাসিন্দা পার্থ চট্টোপাধ্যায় মোতিকে আদর করতে করতে বলেন, “মুক্তোর রং সাদা। আমাদের ঘোড়াও সাদা। সে জন্য মোতি নাম রেখেছি। ওর প্রতি আমাদের একটা মায়া পড়ে গিয়েছে।”

এত ভালোবাসেন, তবুও অন্য জনের হাতে দিয়ে দিতে চাইছেন কেন? মোতি যদি খেটে খেতে পারত, চাইতেন ওকে তাড়িয়ে দিতে?
“ভালোবাসলেই হয় না, ও যাতে দুধে ভাতে থাকে তার কথাও চিন্তা করতে হয়। সরকারি পশুশালায় ও অনেক ভাল থাকবে”— জবাব দিল বিরাহিমপুর।
-সৌমেন দত্ত • কেতুগ্রাম [বুধবার ৯ মার্চ ২০১১]
……………………………….]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29363351 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29363351 2011-04-15 20:29:36
<img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /> আমাদের মাউ <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" />
আজ আমাদের বিড়াল ‘মাউ’-এর সাথে সবার পরিচয় করাতে চাই।
আমাদের মাউ-এখন একজন খুব মমতাময়ী মা।


তার দুটি ছানা। একটি পুর সাদা, মায়ের প্রায় অবিকল, লেজটি কেবল হলুদ। আর বড়টি মনে হয় বাবার মত হয়েছে, গায়ে অল্পবিস্তর কালো লোম আছে। মুখটা একটু থ্যাবড়া, বেশ একটা গম্ভীর গম্ভীর ব্যাপার আছে। হুলো হতে হতে মেনি হয়ে গেছে। মাঝে একটু অসুস্থ হয়েছিল।


প্রথমদিনে আমাদের মাউ

আজ থেকে প্রায় ন’মাস আগে যখন ফুটবল বিশ্বকাপ চলছিল তখন মাউয়ের আগমন ঘটে আমাদের বাড়িতে। পস্ট মনে আছে সেদিনগুলোর কথা। একদিন সন্ধ্যেবেলা আমাদের বারান্দায় দেখি একটা পুঁচকে বিড়াল ছানা মিউ-মিউ করছে।


বিড়াল কখনও আমাদের বাড়ি পোষা হয়নি। আর বিড়ালের বেশ বদনাম। তাও, জলপাইগুড়ির বাড়িতে দু-একবার যে বিড়ালছানা তুলে আনিনি, তেমন না। কিন্তু কোনবারই বাঁচে নি। তাছাড়া ভুলো ছিল তাই বিড়াল পোষা সম্ভব হত না।

কলকাতায় বছর খানেক আগে একটি বিড়ালছানা এসেছিল দু’দিনের জন্য। এত ছোট ছিল যে সারারাত খুব কাঁদল। পরদিন রাগ করে বারান্দায় ঝুড়ির উপর বসান থাকল। ভাই ভাবছে আমি তুলবো, আমি ভাবছি ও ঘরে আনবে। এই করতে করতে ঘণ্টাখানিক পর গিয়ে দেখি তিনি নেই। ভাই সারা পাড়া ঘুরে বেরাল দুদিন ধরে। এস্মৃতি আমাদের দুজনকে বেশ কষ্ট দেয়।

মাউও খুব ছোট্ট এলো। সারা সন্ধ্যে-রাত খেললো, খেল। কিন্তু বাড়িতে বিড়াল পোষার একটু সমস্যা ছিল। তখন আমাদের সঙ্গে ছিলেন আমার কোকিলা। তিনি তো বিড়াল দেখে খুব রেগে গেলেন! তাই পরদিন ভোরবেলা ভাই কাছেই কালী মন্দিরে ওকে ছেরে এলো।

ওমাঃ, সেদিন সন্ধ্যেবেলা ঠিক তিনি আবার মিউ মিউ করে হাজির! এবার আর তাকে দূরে সরান গেল না। থেকে গেলেন আমাদের সঙ্গে। এতে একজন দুঃখ পেল বেশ। তিনি হলেন আমার কোকিলা।


আমার কোকিলা

এখানে কোকিলার কথা আগে বলতে হবে। আমার সব সময় দেখেছি জীবজন্তু খুব ভাল সঙ্গী হয়ে যায় বা আমি তাদের। খুব একটা মানসিক কষ্টের সময় কোকিলা আমার কাছে এলো। ওকে পেয়ে নিজে যেন অনেকটা অবলম্বন খুঁজে পেলাম।

খুব রাগী ছিল সে। তবে আমি রাগ করলে আবার ধিরে ধিরে ‘কুউ-কুউ’ করে আমায় ডাকতোও! খুব বেশি ওড়াউড়ি বা নড়াচড়া করতে পারত না। বসে বসে খেত, গান গাইত, একটু একটু থুপ্‌থুপ্‌ করে লাফিয়ে বেড়াত। অল্প অল্প উড়তেও শিখল। দুধের সর খেতে আর ফল খেতে খুব ভালবাসত। আর চা কেউ বললে হল! বিস্কুট খাওয়ার জন্য ছটফট্‌ করত। আমি কোকিলার সাথে খুব কথা বলতাম। ও আমায় খুব ঠোঁকরাতো- এটা ওর ভাল লাগত।

কিন্তু বিল্লু আসার পর তার আদরে ভাগ বসল। খানিকটা কোকিলা সরে গেল। ওযে এমন চলে যাবে চট করে ভাবিও নি। আমার কোকিলার কাছে ক্ষমা চাওয়ার ছিল। এই বসন্তে কোকিলা অবশ্যই আকাশে ডানা মেলে খুব উড়ছে। আমার কথা কি তার মনে আছে! হয়ত নেই! তবু আজ যে সুখি-এই ভেবে আমার খুব ভাল লাগছে। আগেও কোকিলের ডাক শুনতে ভাল লাগত। এখন শুনতে পেলে বড্ড আপনজনের ডাক মনে হয়, খুব ভাল লাগে।

আবার মাউয়ের কথায় আসি। তিনি কোকিলার মত শান্ত, অভিনামী মোটেও নন। তার অনেক দাবী। প্রথমে তো দুধ খেতে দিচ্ছি, অল্প খেয়ে আর খেতেই চায় না। এদিকে খালি কাঁদে। শেষে একদিন বাজার থেকে মাছ আসলে দেখি খুব চন্‌মন্‌ করছে। ভাই ছোট্ট মাছের টুকরো দিতে দিব্যি ঝাঁপিয়ে পরে খেলেন। তারপর থেকে তার মাছ ছাড়া আর কিছু মুখে রোচে না। সারা সপ্তাহের মাছ সংগ্রহ করে রাখতে হয়।

বাপ্পা মানে ভাইয়ের সাথেই সে খায়, শোয়, ওঠে, বসে। আর আমি তার আয়া। হাগু-হিসু করে সারা বাড়ি। শেষে অনেক ধম্‌কে ধাম্‌কে তাকে বাতরুমে টয়লেট করা শেখান হয়েছে। তবে তিনি এমনই বিজ্ঞ যে সারা পাড়া চরে এসে বাতরুমে যান টয়লেট করতে। অথচ মানুষের সে বুদ্ধি অনেক সময়ই থাকে না!

বাতরুমে মাউ

এরপর তার দুষ্টুমীর কথায় আসি। ছোট্ট মাউয়ের প্রথম লক্ষ্যই হল আমার কোকিলা। তাকে এদিক ওদিক দিয়ে ছুঁতেই হবে-এটা তার কাছে খেলা। কিন্তু কোকিলা তা মানবে কেন! তিনিও দিলেন একদিন ঠূঁকড়ে! ছোট্ট মাউ তো ভড়কে গেল! ব্যাস! দুজনের বন্ধুত্বের পথ বন্ধ হল।

এরমধ্যে মাউ কিছুটা বড় হয়েছে। যারাই বাড়ি আসে বিড়াল পোষার জন্য বকে। ইঞ্জেকসন দেওয়া হল, ভ্যাকসিন করা হল! এত আঁচড়াল কেন! বিষ হবে যে! -ভয়ে ভয়ে আছি।

মিঃ কর ও তার পুষ্যিরা
ব্লগের দুই বন্ধু আশ্বাস দিলেন এসব ভয়ের ব্যাপার নয়। এসময় মিঃ করের সাথে পরিচয় হল। রিটায়ার মানুষ, পেনসনের টাকা চলে যায় ছয়-সাতটি বিড়ালের পরিচর্চায়। এখন আবার দু-তিনটি কুকুরও জুটেছে। ওনার স্ত্রী আবার এসব পছন্দ করেন না। বয়েস হলেও মিঃ করের মনে কখনও কোন দুঃখ দেখি না। তিনি বড্ড ব্যাস্ত তার পুষ্যিদের নিয়ে। তিনটি চোখ-না-ফোঁটা বিড়ালছানা তুলে এনে তাদের এই তাগড়াই করে তুলেছে। এর মধ্যে অন্য দুটি বিড়াল হারিয়ে গেছে। তাদের খুঁজে দিলে পুরস্কার ঘোষনা করেছেন ১০০টাকা। পাড়ার কচিকাচারা খুব জোড়তাড় লেগেছে। এখনও খোঁজ় মেলেনি।


তার কাছ থেকে মাউয়ের পরিচর্চার পাঠ নিচ্ছি, আমাদের মাউও কোকিলার মত খাই খাই স্বভাবের হচ্ছে শুনে উনি বললেন, বিড়ালের কেজি প্রতি ৫গ্রাম খাওয়াবে।

এদিকে, মাউয়ের পাড়া ঘোরা স্বভাব হল। ভাই ঘরে আটকে রাখে, সে কুঁই কুঁই কাঁদে। বিড়াল যে কুকুর নয়, তাকে যে আটকে রাখা যাবেনা, অনেক কষ্টে বোঝান হল। তারপরের দু-তিনদিনের জন্য মাউ নিখোঁজ। একটু-আধটু বোকুনিও খেতে হল। আমরা ভাবছি মরে গেল নাতো! শেষে তিনি রোগা-নোংরা হয়ে ফিরলেন। তারপর প্রায়ই এই কান্ড! মিঃ কর বললেন চিন্তা নেই এক বছরের আগে বিড়াল মা হয়না। কিন্তু ভাই একদিন বললো মাউ মা হবে। পেটটা একটু উঁচু। আমি বল্লাম পেট ঠুসে খাওয়ার ফল। কিন্তু ধিরে ধিরে বোঝা গেল আমাদের মাউ মা হচ্ছেন!

শেষে জানুয়ারীর বারো তারিখ, দিনটা মনে আছে কারণ স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন, দুপুরে মাউ মা হল। [তার ক’দিন পরে আঠারো তারিখ কোকিলা চলে গেল।]

ছোট্ট ছানারা
সে এক অভিজ্ঞতা! সেদিন আর মাউ অন্যদিনের মত করছিল না। খালি আমার পায়ে পায়ে ঘুরছে, ঘ্যান ঘ্যান করে কাঁদছে। খেতে দিলে খাচ্ছে না। চারদিকে ঝুড়ি, বাক্স ভাই সাজিয়ে রেখেছে, সব নিজের গরম জামা দিয়ে।

দুপুরে আমার কোলে মাউ শুয়ে। হঠাৎ ব্যাথায় খিঁচিয়ে উঠল। কি প্রচন্ড কষ্ট! আমার জীবনে এই প্রথম কাউকে এত সামনাসামনি মা হতে দেখলাম। কি করবো বুঝতে পারছি না। এ্যানিমেল প্ল্যানেটে এসব দেখেছি। খাটেই চাদর পাতলাম। মাথায় হাত বোলাচ্ছি। কষ্টে মাউ বেঁকে বেঁকে যাচ্ছে। আমি ভাবছি এত ছোট! মরেই না যায়। এক সময় খুব জোর কোৎ দিয়ে উঠল আর পিছন থেকে একটা কালো সরু লেজ আর একটু মাংসপিন্ড বেরিয়ে এলো। মাউ আর খাটে থাকল না। লাফিয়ে মাটিতে নামলো। খাটেরতলায় বড় একটা কাঠের বাক্স ওর জন্যই রাখা ছিল। সেটায় গিয়ে ঢূকলো। আমি ভয়ে আর কাছে যেতে পারলাম না। তারমধ্যেই তিনবার আর্তচিৎকার শুনে আন্দাজ করলাম তিনটি বাচ্চা হয়েছে। ভাইকে ফোন করে তাইই বল্লাম। রাতে ভাই বাক্স টেনে বার করে দেখে দুটি শিশু!

ছোটটির দশদিনে চোখ ফুটেছিল, বড়টির চোদ্দদিনে। তারা এখন বাড়ি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বড়টি বেশ গুবলু। মাকে পেলেই দুধ খায়। ছোটটি মায়ের মত সুন্দরী। কিছুটা ভাবুক। বড়টিকে মুটকি আর ছোটটিকে শুটকি বলতাম। একমাস হয়েই মাউ ছোট ছোট ইঁদুর ধরে আনতো। বড়টি তাই বেশ গপ্‌গপ্‌ করে খেত। আবার কি রোয়া ফুলিয়ে গড়গড়ানি! মাও পালাত! সেইটি ক’দিন কেন যেন খাওয়া ছেরে দিল। আমি ভাবলাম মরে না যায়। মায়ের দুধ আর জল খালি খেত। এখন একটু ভাল আছে। এই সুযোগে ছোটটি বেশ লম্বা হয়ে গেছে আর বড়টি সাইজ়ে ছোট। তারা সারাদিন মারামারি করছে। মাও তো ছেলে মানুষ! তিনিও যোগ দিতে চান। কিন্তু মেয়েরা নেয় না। মা ভেবলু হয়ে যায়। আমার কাছে চলে আসে।

তবে মা হিসেবে মাউ খুব দায়িত্ববান! কোথা থেকে কোথা থেকে আরশোলা ধরে আনে। এখন আবার ধেড়ে ইদুঁর ধরে আনছে, সেটা খুবই বিরক্তিকর! তো, মাউ দেখি মেয়েদের গাছে চড়াও শেখাচ্ছে! আবার গাছে মেয়েরা চড়ে বসে থাকলে আমার কাছে এসে কাঁদছে! ছেলেমানুষ মাউ মাঝে মাঝে মেয়েদের কথা ভুলে যায়। আবার, মনে পরলেই দৌড়ে দৌড়ে আসে।

এখন কথা হচ্ছে তিনটি মেয়ে বিড়াল নিয়ে কি করা যায়! এখন ওদের বয়স দু’মাস হয়েগেছে। আমি বলছি আমাদের বাজারে ছেরে আসতে বাচ্চাদুটোকে, কিন্তু ভায়ের বড্ড মায়া। কিন্তু তিন মাস হয়ে গেলে আমাকেই মনে হয় চুপচাপ দুটিকে ছেড়ে আসতে হবে। আমাদের বাড়িতে এতগুলো বিড়াল রাখা সম্ভব না। একটির জন্যই অনেক কথা শুনতে হয়। দেখা যাক কি হয়। আমারও খুব কষ্ট হবে, কিন্তু ওদের ভালর জন্যই ওদের ছাড়তে হবে। ফ্রিএডে বিজ্ঞাপনও দিয়েছি- কিন্তু কিছুই হল না!

আমাদের ইন্দি-বিন্দি, উঁকি মারে গাছের আড়াল থেকে<img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29350017 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29350017 2011-03-23 22:52:27
কথাচ্ছলে মহাভারত - ৩৪ অষ্টবসুর জন্ম–বিবরণঃ


হস্তিনানগরের রাজা শান্তনু, তার গুণে পৃথিবী পূর্ণ।
ধার্মিক, মহাধনুর্দ্ধর রাজা বনে মৃগয়া(শিকার) করতে যান।


একদিন একা ভ্রমণ করছেন গঙ্গার তীরে, হঠাৎ সেখানে দেবী গঙ্গা উপস্থিত হলেন। পদ্মের কেশরের মত বর্ণ, শ্বেতবস্ত্র পরিধানে, অপরূপ লাবণ্য-দেখে শান্তনু আশ্চর্য হলেন।

তিনি কন্যার কাছে গিয়ে তার পরিচয় জানতে চাইলেন।
তার রূপে রাজা মুগ্ধ। তিনি তাকে তার নারী হতে অনুরোধ করলেন।

কন্যা বলেন –রাজা, আমি তোমার স্ত্রী হবো, কেবল একটি নিবেদন। আমার কোন কাজে তুমি বাধা দেবে না, নিষেধও করবে না। যেদিন তুমি এর বিরোধীতা করবে, সেদিনই আমি তোমায় ত্যাগ করবো।


রাজা সকল শর্ত মেনে নিলেন। এভাবে শান্তনু ও গঙ্গার বিবাহ হল।
রাজা দিব্যরত্ন ভূষণে স্ত্রীকে সাজালেন। সর্বদা তাকে তুষিলেন। এভাবে মহাসুখে শান্তনু গঙ্গার সাথে অবস্থান করলেন।

ধিরে ধিরে অষ্টবসু শান্তনুর গৃহে পূর্ণশশীরূপে জন্ম নিতে লাগল। পুত্রের রূপ দেখে শান্তনু খুশি হলেন। নানা দান, যজ্ঞ করলেন।


এদিকে গঙ্গা পুত্র নিয়ে জলে ভাসিয়ে আসেন। দেখে শান্তনু কষ্ট পান। এভাবে এক এক করে পুত্র জন্মায় এবং গঙ্গা সকলকে ভাসিয়ে দেন। পূর্ব সত্যের ভয়ে রাজা গঙ্গাকে কিছু বলতে পারেন না। কিন্তু প্রতি মুহুর্তে তিনি পুত্রশোকে জ্বলতে থাকেন। এভাবে সাত পুত্র জন্ম নেয় এবং গঙ্গায় ভেসে যায়। পুত্রশোকে শান্তনু গুমড়ে ওঠেন।

শেষে আবার তার পুত্র জন্মায়। এই অষ্টম পুত্রকে নিয়ে গঙ্গা জলে নামেন।
ক্রুদ্ধ হয়ে শান্তনু গঙ্গাকে বলেন –কে তুমি মায়াবী! কোথা থেকে এলে! তোমার মত নিন্দিতা পৃথিবীতে দেখা যায় না, যে নিজ গর্ভের সন্তানকে নিজে হত্যা করে। কিভাবে তুমি নিজের সন্তানদের হত্যা করো, হে পাষানী!
এতো বলে নিজপুত্রকে কোলে তুলে নিলেন।

গঙ্গা বলেন –রাজা, পুত্র বাঞ্ছা করলে! তুমি আর আমায় চাও না। এই পুত্রটিকে তুমি যত্ন করে পালন করো। এবার আমি তোমায় নিজ পরিচয় দেবো।

আমি জাহ্নবী। তিনলোক আমায় পূজা করে। আমার গর্ভে যে পুত্রগুলি জন্মাল তারা সব অষ্টবসু। বশিষ্টের শাপে তারা কাতর হয়ে আমায় প্রার্থনা করেন। আমি তাদের অঙ্গীকারে সম্মত হই এবং সে কারণে তোমার স্ত্রী হই।

রাজা বলেন -পূর্বের কথা বলো। কি কারণে বসুদের বশিষ্ট শাপ দিলেন।

জলাধিপতি বরুণ

গঙ্গা বলেন –বরুণের পুত্র বশিষ্ট মুনি। হিমালয় পর্বতে তার তপোবন। নানা ফলফুলে তার বন শোভিত। দক্ষ-কন্যা সুরভি তার গৃহিনী। কামধেনু তাদের কন্যা।

বশিষ্ট মুনি
একদিন অষ্টবসুরা(ভব, ধ্রুব, সোম, বিষ্ণু, অনিল, অনল, প্রত্যুষ ও প্রভব-এরা দক্ষের কন্যা বসুর পুত্র)তাদের স্ত্রীদের সাথে সেই বনে উপস্থিত হলেন। তারা মুনির তপোবনে স্ত্রীদের সাথে ভ্রমণ করছিলেন।

প্রভব বা দিব্যবসুর স্ত্রী কামধেনুকে দেখে মুগ্ধ হলেন। স্বামীকে এই গাভীটি সম্পর্কে জানতে চাইলেন।


কামধেনু

দিব্যবসু বলেন এটি মুনি বশিষ্টের গাভী। এর অনেক গুণ। এর একপলা দুধও যদি নরলোক পায় তবে তা পান করে দশ সহস্র বছর বাঁচা যায় এবং চির যৌবন প্রাপ্ত হয়।


স্বামীর কথায় স্ত্রী বলেন তার নরলোকে সখী উশীনর-কন্যা জিতবতীর জন্য তিনি কামধেনুর দুগ্ধ চান।

স্ত্রীর বশ হয়ে বসু গাভীটি নিয়ে নিজ গৃহে যান।

এ সময় বশিষ্ট আশ্রমে ফিরে এসে গাভী দেখতে না পেয়ে তাকে খুঁজতে বের হন। অনেক খুঁজেও যখন পেলেন না, তখন চিন্তিত হয়ে ধ্যানে বসে জানতে পারেন অষ্টবসুর গৃহে তার গাভী হরণ করে নিয়ে গেছে।

ক্রোধে বশিষ্ট শাপ দেন তারা মনুষ্যলোকে জন্মাবেন। বসুরা এই শাপের কথা শুনে মুনিকে স্তব করতে থাকেন।

মুনি বলেন –আমার বাক্য খন্ডন হবে না। প্রতি বছর একজন করে মুক্তি পাবে। তবে যে গাভীটি চুরি করেছে সেই দিব্যবসু পৃথিবীতে থেকে যাবে। সে ধার্মিক, সর্বশাস্ত্রবিশারদ, পিতার প্রিয়কারী এবং স্ত্রীসম্ভোগত্যাগী হবে। পরে যদিও মুক্তি পাবে।

এরপর গঙ্গা বলেন -মুনির শাপে কাতর বসুরা আমাকে স্তব করল এবং প্রার্থনা করল জন্ম মাত্র যেন তাদের ভাসিয়ে দেওয়া হয়, তবেই তারা মুক্তি পাবে। সে কারণেই আমার মর্তে তোমার স্ত্রী রূপে আগমন।

রাজা, এই পুত্র অবতার। তবে মায়ের বিহনে পুত্র দুঃখ পাবে তাই এই পুত্র আমার সাথে এখন যাবে। পুত্র সুশিক্ষিত ও যৌবনপ্রাপ্ত হলে আবার তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দিয়ে যাবো।

এত বলে গঙ্গা পুত্রকে নিয়ে অন্তর্ধান হলেন।
রাজা শান্তনু স্ত্রী ও পুত্র শোকে কাঁদতে কাঁদতে নিজ গৃহে ফিরে গেলেন।
..........................................
উৎসর্গ: সকল ব্লগার বন্ধুকে

পাদটীকাঃ
জাহ্নবী = জহ্নুমুনির কন্যা-গঙ্গা,
[জহ্নুমুনির যজ্ঞস্থল প্লাবিত করার অপরাধে ইনি গঙ্গাকে পান করে ফেলেন এবং পরে ভগীরথের অনুনয়ে কর্ণপথে মতান্তরে জানু ভেদ করে গঙ্গাকে আবার মুক্ত করে দেন।]
..........................................
আগের পর্ব:
কথাচ্ছলে মহাভারত - ৩৩
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29345641 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29345641 2011-03-16 22:51:35
নারী দিবসে কিছু অনন্যা
মা মেরী


সারদা দেবী ও ভগিনী নিবেদিতা


স্বর্ণকুমারী দেবী


কাদম্বরী দেবী


সরলা দেবী


বেগম রোকেয়া


নটি বিনোদিনী


মঞ্জু দে


অমৃতা শেরগিল


সুচিত্রা সেন


সুচিত্রা মিত্র


ত্রিনিনাদে এক বধু, ১৯১৩সাল



অসমিয়া রমণী


৩৬গড়ের আদিবাসী মুর্গ রমণী, ১৯৫০সাল






১৮৬০ সালে তোলা পূর্ব বাংলার মেয়েরা




মাদার টেরিসা


মহিলা পাইলট সরলা ঠাকরাল, ১৯৩৬সাল


মহিলা পাইলট দূর্বা বন্দ্যোপাধ্যায়


জয় এডামসন ও এলসা


প্রথম আন্তর্জাতিক মহিলা দিবস




















আন সাং সু কি


কিরণ বেদী


মহাশ্বেতা দেবী


নন্দিতা দাস



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29340667 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29340667 2011-03-08 19:26:59
কলকাতা হস্তশিল্প মেলা, ২০১১
১৯শে ফেব্রুয়ারি থেকে কলকাতা হস্তশিল্প মেলা শুরু হয়েছে।
সায়ন্সসিটির উল্টোদিকে আইটিসি সোনার বাংলার পাশে মিলনমেলা প্রাঙ্গণে।
চলবে ১৪ই মার্চ পর্যন্ত।


ঘুরে এলাম মেলায়। খুব ভাল লাগলো। ব্লগে দেব বলে অনেক ছবি তুললাম। প্রায় ৩৫০০স্টল। একদিনে সবটা ঘোরা গেল না।


আমি গেছি পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বর্ধমান, কুচবিহারের স্টলে।


মিলনমেলা প্রাঙ্গণটা দারুন সুন্দর সাজান হয়েছে।


সল্টলেকে এখন মেলাগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, ফলে ভিড় তুলনামূলক ভাবে কম।


ঘুরতে ঘুরতে কিছু শিল্পীর সাথেও কথা হল। তারা আপনমনে পসরা সাজিয়ে কাজ করছেন, গল্প করছেন।


বারাসাত থেকে এসেছেন এমনই এক শিল্পী কমল সরকার, চিনামাটির দারুন সব পাত্র, ঘর সাজানোর সামগ্রী নিয়ে। তার সাথে বেশ খানিক্ষণ গল্প হল।


সরকারদা যা জানালেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাহায্যে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলার শিল্পীরা এখানে দোকান দিয়েছেন।


এর জন্য সরকার প্রতি পরিবারের একজন সদস্যকে দিনে ১০০ থেকে ১৫০টাকা দিচ্ছেন।


শিল্পীদের সামগ্রী মেলায় আনতে হয়েছে নিজের খরচায়। প্রাঙ্গণে দোকান দেওয়ার জন্য কোন খরচ লাগছে না।


দুর থেকে আগত শিল্পীরা রাতে এখানেই থেকে যাচ্ছেন।


তবে শহরতলি থেকে যারা আসেন তারা মেলা শেষে বাড়ি ফিরে যান।


যেমন সরকারদা নিজে দুপুর ২টো নাগাদ প্রাঙ্গণে আসেন, রাতে ৯টায় আবার ট্রেন ধরে বাড়ি ফেরেন। মালপত্র মেলাতেই থাকে।


ওনার সাথে ওনার জীবিকা নিয়ে কথা হল। ওনার ছোট্ট চিনেমাটির কারখানা আছে বাড়িতে। চারজন কর্মচারী আছে। প্রতিটি সামগ্রী পরম যত্নে বানান।

জিজ্ঞেস করলাম এতে সারা বছর চলে যায়!


বললেন মিলনমেলায় এখনও তেমন ভিড় হচ্ছে না। এই মেলা ছাড়াও বিভিন্ন মেলায় তিনি পসরা নিয়ে যান। কারখানা থেকেও কিছু রুচিসম্পন্ন মানুষ নিয়মিত তার সামগ্রি কেনেন।


এছাড়া একটি এন.জি.ও-র সাথে যুক্ত থাকায় তাদের মাধ্যমে বাইরে প্রচুর মাল সরবরাহ হচ্ছে। এভাবে তাদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলে যাচ্ছে।



শুনে বেশ ভাল লাগল।
















আবার মেলায় যাবার ইচ্ছে আছে। <img src=" style="border:0;" />

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29338962 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29338962 2011-03-06 00:27:59
কথাচ্ছলে মহাভারত - ৩৩ মহাভিষ রাজার প্রতি ব্রহ্মার অভিশাপ এবং শান্তনুর উৎপত্তিঃ


ব্রহ্মা

জন্মেজয় বলেন –মুনি খুব সংক্ষেপে সমস্ত বর্ণনা করলেন।
তিনি শুনে অবাক হলেন ত্রৈলোক্যপাবনী গঙ্গা বিষ্ণু অংশে যার জন্ম, তিনি শান্তনুর স্ত্রী হলেন কি রূপে!

মুনি বলেন –তবে শোন সকল কথা।

মহাভিষ নামে ইক্ষাকুবংশীয় এক রাজা ছিলেন। তিনি ইন্দ্রের সম্মতিতে সহস্রবার অশ্বমেধ যজ্ঞ করেন। দেবতা, ব্রাহ্মণ, দরিদ্র সকলকে তিনি তুষলেন। তার দানে পৃথিবী পূর্ণ হল।

যজ্ঞের পূণ্যফলে তিনি ব্রহ্মলোকে গেলেন। ব্রহ্মার সাথে তার সাক্ষাৎ হল। তিনি সেখানে বহুকাল অবস্থান করলেন।

একদিন রাজা দেখেন ব্রহ্মা ধ্যানে বসে আছেন এবং মুনিরা তাকে ঘিরে আছেন। ব্রহ্মার সভায় দক্ষাদি, প্রজাপতি, ইন্দ্র সবাই আসেন। দেব-ঋষি-মুনিরা নিত্য সেবা করছেন।
সভা আলো করে মুনিরা বসে আছেন এবং ব্রহ্মা যেন সেখানের মহারাজ। সে স্থানে মহাভিষও ছিলেন।


এ সময় গঙ্গাদেবী সেখানে ব্রহ্মার কাছে সাক্ষাৎ করতে এলেন। হঠাৎ প্রচন্ড বায়ু বইতে শুরু করল। বাতাসে দেবী গঙ্গার বসন উড়ে গেল। তা দেখে সকলে মাথা নিচু করে নিলেন।

কিন্তু গঙ্গার অপূর্ব দেহসৌষ্টব দেখে মহারাজ মহাভিষ মুগ্ধ হলেন এবং নিশ্চল নয়নে তাকে দেখতে থাকলেন। মহাভিষ রাজাও অতি রূপবান ছিলেন, গঙ্গাদেবীও তাকে দেখতে লাগলেন।

দু’জনকে মহামতি প্রজাপতি অবলোকন করেন এবং বলেন –আমার লোকে এসে রাজা অনীতি করলেন।

ব্রহ্মলোকে এসে তুমি মনুষ্য আচরণ করায় পুনরায় মর্তে জন্ম গ্রহণ কর। পুনরায় নিজ পূণ্যবলে তুমি এখানে আসবে।

সোমবংশে জন্মগ্রহণের আজ্ঞা পেয়ে চিন্তিত মহাভিষ মর্তে পতিত হলেন এবং সোমবংশের রাজা প্রতীপের গৃহে জন্মগ্রহণ করলেন।

গঙ্গাও ব্রহ্মাকে প্রণাম করে ফিরলেন। পথে তার সাথে অষ্টবসুর দেখা হল। তারা বিরস বদনে ফিরছিলেন। গঙ্গা তাদের দুঃখের কারণ জিজ্ঞাসা করলেন।

তারা জানালেন বশিষ্টের অভিশাপে তাদের পৃথিবীতে জন্মাতে হবে-এই ভেবে তারা দুঃখিত। তারা আনন্দিত হলেন গঙ্গাকে দেখে। কারণ গঙ্গাই পাপীদের উদ্ধার করেন। তারাও গঙ্গাকে উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা করলেন। গঙ্গা আশ্বাস দিলেন তিনি তাদের জন্য যথাসাধ্য করবেন। তারাই বলুন তিনি কি করতে পারেন।

অষ্টবসুরা অনুরোধ করলেন গঙ্গা মনুষ্যলোকে রাজরাণী হয়ে যান এবং তাদের সবাইকে গর্ভে ধারণ করুন। আরেকটি নিবেদন, তাদের জন্মমাত্র যেন গঙ্গা তাদের ভাসিয়ে দেন।


বসুদের কথায় গঙ্গা সম্মত হলেন। বসুরাও আনন্দিত হলেন।

কুরুবংশের ধার্মীক মহাতেজা রাজা ছিলেন প্রতীপ। তার প্রথম সন্তান দেবাপি অল্পবয়সে সন্ন্যাসী হলে তিনি দুঃখীত হন এবং গঙ্গাজলে প্রবীণ বয়সে তপ, জপ, ব্রত ও বেদ অধ্যয়ন করতে থাকেন।


বৃদ্ধ বয়সেও রাজার মদনের মত রূপ। তার রূপে মুগ্ধ হয়ে গঙ্গা জল থেকে উঠে এসে রাজার ডান কোলে বসলেন। গঙ্গার রূপেরও শেষ নেই। যেন দ্বিতীয় চন্দ্রের কিরণ। দেখে কৌরবকুমার বিস্মিত হলেন।

রাজা বলেন –কি তব ইচ্ছা কন্যা আমায় বল।

গঙ্গা বলেন –তুমি কুরু শ্রেষ্ঠ। তোমায় আমি ভজনা করছি তুমি আমার পতি হও। স্ত্রী হয়ে পুরুষে যে নারী ভজনা করে, পুরুষ না ভজনা করলে পাপকারী হয়।

রাজা বলেন –আমি পরের স্ত্রীকে ভজনা করতে পারি না। পরের স্ত্রীকে কামনা করলে নরকে যেতে হয়।

গঙ্গা বলেন –আমি পরের স্ত্রী নই। আমি দেবকন্যা। তুমি আমায় কামনা করো।

রাজা বলেন –কন্যা এমন বাক্য বোল না। দক্ষিণ উরুতে তুমি এসে বসেছ, যেখানে পুত্র, কন্যা আর পুত্রবধূর স্থান। তাই তুমি আমার পুত্রবধূ হবে। পুরুষের বাম উরু স্ত্রীর আসন। ডান উরুতে বসেছ তাই তুমি কন্যা স্থানীয়া।
তিনি অন্যায় কর্ম করতে পারবেন না।

গঙ্গা বলেন –মহারাজ তুমি ধর্ম অবতার। তোমার বচনে আমি সম্মত হলাম। তোমার পুত্রকেই আমি বরণ করবো।
তবে আমারও কিছু অনুরোধ আছে। আমার প্রিয় কাজে কেউ বাধা দেবে না।

তবেই তিনি তার পুত্রকে গ্রহণ করবেন, এই বলে গঙ্গা অন্তর্ধান হলেন।
কন্যার বচনে রাজা প্রীত হলেন এবং স্ত্রীকে নিয়ে ব্রতাচার শুরু করলেন। দশমাস দশদিন পর রাজীব লোচন, চন্দ্রের মত মুখ, শান্তশীল পুত্র জন্মাল। নাম রাখা হল শান্তনু। তার ছোট ভ্রাতা হলেন বাহ্লীক। দিনে দিনে দুই ভ্রাতা বড় হন।


শান্তনু যখন যুবক তখন প্রতীক তাকে রাজনীতি, ধর্ম শিক্ষা দিলেন।
এবং একদিন তাকে ডেকে বললেন –আমার কথায় বিস্মিত হয়ো না। একদিন এক কন্যা আমার কাছে এলে আমি তাকে পুত্রবধূ করার অঙ্গীকার করি। পরিচয়ে যানি তিনি দেবকন্যা। তিনি যদি পুনর্বার তোমার কাছে আসেন তাকে তুমি গ্রহণ করো। তাকে কখনো তার কর্মে বাধা দিও না।

পিতার বাক্যে পুত্র সম্মত হলেন। শান্তনুকে রাজ্য দিয়ে রাজা বনে গেলেন।
..........................................
উৎসর্গ: সকল ব্লগার বন্ধুকে
..........................................
আগের পর্ব:
কথাচ্ছলে মহাভারত - ৩২
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29327473 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29327473 2011-02-15 22:23:37
অনুপ্রেরণা
তাঁত বুনতে ব্যস্ত দীপালিদেবী

দলের তাঁতেই গরিবি জয়, স্বপ্ন বুনছেন দশ সাহসিনী

দশ জন গরিব বধূর প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রমের কাছে হার মানল দারিদ্র্য।

বছর আটেক আগেও যাঁরা ছিলেন নেহাতই তাঁতশ্রমিক, এখন তাঁদের প্রত্যেকের নিজস্ব তাঁতঘর হয়েছে। নিজেদের সংসারে স্বচ্ছলতা তো এসেইছে, অন্যদেরও কাজ দিচ্ছেন।

গত এক দশক ধরেই মহিলাদের ‘স্বনির্ভর গোষ্ঠী’ গড়ে তোলার উপরে জোর দিচ্ছে রাজ্য প্রশাসন। মিড-ডে মিল রান্না থেকে নানা ছোট ব্যবসায় উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। স্বল্প সুদে ঋণ দিচ্ছে গ্রামীণ ব্যাঙ্ক। পূর্বস্থলীর ‘কাকলি স্বনির্ভর গোষ্ঠী’ সেই দলেই পড়ে। আবার ঠিক ‘দলে’ পড়েও না।

আট বছর আগের কথা। ২০০২ সালে বর্ধমানের পূর্বস্থলী ১ ব্লকে যখন একের পর এক স্বনির্ভর গোষ্ঠী গড়ে উঠছে, স্থানীয় শ্রীরামপুর পঞ্চায়েতের গঙ্গানন্দপুর গ্রামের ১৩ জন সেই দলে নাম লেখান। তাঁরা হয় তাঁতির বাড়ির মেয়ে, নয় তাঁতির বাড়ির বউ। ইচ্ছে, তাঁত-গোষ্ঠী গড়ে লুঙ্গি-গামছা বুনবেন।

কিন্তু গোড়াতেই বিপত্তি। সবচেয়ে বেশি দূর পড়া, ক্লাস এইট পাশ দীপালি দেবনাথ না হয় গোষ্ঠীর সম্পাদক হলেন। কিন্তু বাকিদেরও তো অন্তত সই করতে জানাটা দরকার। এ দিকে কয়েক জনের অক্ষর পরিচয়ই নেই। অবশ্য তাতে কী? কুমেদি দেবনাথ, ললিতা দেবনাথেরা সোজা স্কুলে গিয়ে নাম লেখালেন। ‘নিরক্ষর’ নাম ঘুচে গেল।

পরের ধাক্কাটা এল মাস পাঁচেকের মধ্যে। পরিস্থিতি প্রতিকূল দেখে তিন জন পিছিয়ে গেলেন। বাকিদের একটু মনখারাপ হল। কিন্তু তত দিনে তাঁরা লক্ষ্য স্থির করে ফেলেছেন। সংসারে হেঁসেল ঠেলে, কখনও গঞ্জনা শুনে, নিন্দুক পড়শির কটূক্তি সহ্য করে তাঁরা উদয়াস্ত খাটতে শুরু করলেন। ঠিক হল, ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খুলে প্রত্যেকে মাসে ২০ টাকা জমা করবেন। তিল তিল করে গড়ে তুলবেন মূলধন।

কথায় বলে, ভাগ্য সাহসীর সহায় হয়। প্রমীলাবাহিনীকে অসীম সাহসে আগুয়ান হতে দেখে পরের বছরই এগিয়ে এল রাজ্যের গ্রামীণ ব্যাঙ্ক। দৈনন্দিন খরচ-খরচার জন্য তাঁরা যাতে যে কোনও সময়ে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত তুলতে পারেন, তার জন্য স্বল্প সুদে ঋণের খাতা খুলে দেওয়া হল (সেই অঙ্কটা এখন বেড়ে সওয়া দু’লক্ষে পৌঁছেছে)। চাকা ঘুরে গেল।

দশ সদস্যার প্রত্যেকের বাড়িতে বসল তাঁত। বুনতে শুরু করলেন লুঙ্গি, গামছা, এমনকী মাঠা শাড়িও। ব্যাঙ্ক ঋণ দিয়েছিল বছরে ৯% সুদে। সেই টাকা থেকে প্রত্যেকে কিছুটা নিলেন, আর তার বিনিময়ে বছরে ২৪% সুদ ফিরিয়ে দিতে লাগলেন গোষ্ঠীকে। বাড়তি সুদের টাকা গোষ্ঠীর তহবিলে জমতে লাগল। পাশাপাশি, রোজগার বাড়তে থাকায় ব্যাঙ্কে মাসে ২০ টাকার বদলে ৬০ টাকা করে জমানো শুরু হল। দু’বছর পরে তা থেকেও ঋণ নিতে শুরু করলেন সদস্যারা। টাকা ঘুরিয়ে টাকা বাড়তে লাগল।

কিন্তু গোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা বলছিল, শুধু টাকায় ব্যবসা বাড়বে না। বাজার কী চায়, তা জানা জরুরি। সেই চাওয়া মেটাতে শিখে ফেলা দরকার নতুন কারিগরিও। কাছে-দূরের নানা বাজার ঘুরে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করলেন দশ গোয়েন্দা।

এর পরে ২০০৯ সালে ব্লক অফিস চত্বরে যখন কম্পিউটারে নকশা (কম্পিউটর এডেড ডিজাইন বা ‘ক্যাড’) তৈরি শেখার ‘স্কুল’ হল, দীপালি গিয়ে সেখানে ভর্তি হলেন। তাঁর কথায়, “ঘর আর তাঁত সামলে সাত মাস শিখেছি। ওখানে যাতায়াত করতে করতে কম্পিউটারও শিখে নিয়েছি কিছুটা। সেই শিক্ষা গোষ্ঠীর সকলে ভাগ করে নিয়েছি।”

শুধু দীপালির নিজের বাড়িতেই এখন চারটি তাঁত। চমৎকার বালুচরী বোনা হচ্ছে। কাজের চাপ সামাল দিতে রাখতে হয়েছে চার কর্মী। দলের বাকিরাও কেউ কম যাচ্ছেন না। বাড়ির মহিলাদের কাজে বেরনো নিয়ে যাঁদের এক সময়ে প্রবল আপত্তি ছিল, দেখে-শুনে তাঁদেরও চোখ খুলে গিয়েছে। স্ত্রীদের তাঁতে গড়া জিনিস নিয়ে এখন হাটে-বাজারে বিক্রি করে আসছেন নারায়ণ, মন্টু, দিলীপ দেবনাথেরা। এক কথায় স্বীকারও করছেন, “ওরা কী করতে চাইছে, আগে বুঝিনি। ভাবলে এখন খারাপ লাগে।”

কিন্তু তাঁত-কন্যাদের স্বপ্ন আরও বড়। এখন তাঁরা চান, নিজের নিজের বাড়িতে বসে স্বপ্ন বুনে চলার বদলে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘তাঁত-বাড়ি’ গড়ে উঠুক। সেখানে সকলে মিলে হইহই করে কাজ হবে। গোষ্ঠীর সভাপতি আরতি দেবনাথ হাসিমুখে বলেন, “গ্রামেই তিন কাঠা জমি লিজে নেওয়া হয়েছে। সেখানে আমাদের বাড়ি তৈরি হবে।” যার জন্য ইতিমধ্যেই আড়াই লক্ষ টাকা ঋণ মঞ্জুর করেছে গ্রামীণ ব্যাঙ্ক। তার মধ্যে এক লক্ষ টাকা সরকারি ভর্তুকি!

শুধু শ্রীরামপুর পঞ্চায়েতেই আরও প্রায় আড়াইশো স্বনির্ভর গোষ্ঠী আছে। আশপাশের এলাকাতেও আছে বহু। কিন্তু এই চোখধাঁধানো সাফল্য ক’টিই বা পেয়েছে? পূর্বস্থলী ১ ব্লকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘রিসোর্স পার্সন’ সবিতা মজুমদারের মতে, “অন্যদের চেয়ে ওঁরা বেশি উদ্যমী ও সচেতন। করুণ আর্থিক অবস্থা থেকে ঘুরে তো দাঁড়িয়েইছেন, এখন গ্রামবাসীর বিপদ-আপদেও ওঁরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।” আর, পঞ্চায়েতের উপপ্রধান দিলীপ মল্লিকের আশা, “ওঁদের লড়াই অন্যদেরও প্রেরণা দেবে।”

আশা করাই যায়। ওঁরা তোশুধু দশের এক নয়। অন্তত হাজারে এক।

-কেদারনাথ ভট্টাচার্য • গঙ্গানন্দপুর (পূর্বস্থলী)
.........................................
হাত না-পেতে কর্মেই স্বনির্ভর গাঁধীবাদী আশ্রম


‘বড়দি’ বেলা বন্দ্যোপাধ্যায়
সাহায্যের জন্য পরমুখাপেক্ষী হওয়া নয়। আত্মনির্ভরতাই এখানে মূলমন্ত্র।

পশ্চিমবঙ্গের সীমানা শেষ হয়ে ঝাড়খণ্ডের সূচনা। পুরুলিয়া থেকে ৪৫ কিলোমিটার রেল-দূরত্বে এই নিমড়ি স্টেশনের গায়েই ‘নিমড়ি লোকসেবায়তন।’ গাঁধীবাদের পুঁজি নিয়ে স্বাধীনতার এক বছর পরে যাত্রা শুরু করে এখনও যা জ্বলছে প্রদীপের অনির্বাণ শিখার মতো। রুখু জমিতে দিয়েছে সবুজের ছোঁয়া। দারিদ্রে জর্জরিত মানুষকে জীবিকার সংস্থান। নিরক্ষর শিশুদের সাক্ষরতার আলো।

আর এ সবের জন্য টাকা চেয়ে বাইরের লোকের কাছে হাত পাতেনি লোকসেবায়তন। “স্বাধীনতার ছ’দশক পরেও গাঁধীবাদকে এ দেশে প্রতিষ্ঠা করতে দেশ-বিদেশ থেকে অর্থ আমদানি করতে হলে গাঁধীজিকেই অপমান করা হবে।”— সকালের প্রার্থনা শেষে আশ্রম প্রাঙ্গণে বসে দৃঢ় প্রত্যয়ে বললেন আশ্রমের বর্তমান সম্পাদক দীপঙ্কর রায়, এলাকায় যিনি ‘দুনিদা’ নামে পরিচিত। তাঁর মা-বাবার হাতে প্রতিষ্ঠিত এই আশ্রম। কে তাঁরা?

ওয়ার্ধার গাঁধী আশ্রমের কর্মী ছিলেন বাসন্তী দাশগুপ্ত। তাঁর স্বামী সুবোধকুমার রায় ছিলেন ইলাহাবাদ আর্ট কলেজের শিক্ষক। স্বাধীনতার পরে গাঁধীজির নির্দেশে চার বছরের দীপঙ্করকে কোলে নিয়ে ওঁরা চলে এসেছিলেন নিমড়িতে। উদ্দেশ্য, গাঁধীজির আদর্শে এমন এক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যা মানুষকে স্বনির্ভর হতে শেখাবে। জমিদার অমূল্য জানা ও পড়শি গ্রামবাসীরা পতিত পাথুরে জমি দান করেন। পত্তন হয় নিমড়ি লোকসেবায়তনের।

সেই থেকে শুরু। ’৯৮-এ আশ্রমের সুবর্ণজয়ন্তী পার হয়েছে। সত্তর ছুঁইছুঁই দীপঙ্করবাববু স্ত্রী শ্রীপর্ণাকে নিয়ে আজও সেই আদর্শে অবিচল। পুত্র দেবদীপ কলেজের পড়াশোনার পাশাপাশি আশ্রমের কাজ করেন। চাষ, সাফাই, ঝাড়াইবাছাই— যখন যেখানে দরকার, মায়ের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে নেমে পড়েন। আছেন তাঁর মাসি সুলেখাও। এঁরা সকলে লোকসেবায়তনের স্থায়ী আবাসিক ও কর্মী। কোনও কাজ ওঁদের কাছে অচ্ছুত নয়।

কী আছে আশ্রমে? দূষণহীন পরিবেশে অসংখ্য বনস্পতি ঘেরা একাধিক টালির ঘর। আশ্রমের লাগোয়া অংশে দু’টো মাত্র পরিবারের বাস। পরের জনপদ এক-দেড় মাইল দূরে। আশ্রমের জমিটা এমন ভাবে ঢালু যে, বর্ষায় গড়ানি জল (রেন ওয়াটার হারভেস্টিং) জমা হয় বাঁধে। সেই জলে মাছ-চাষ, কৃষিকাজ। পাশে ঘাঘরা নদী। এ বছরের খরায় শুকিয়ে কাঠ।
আর আছে স্কুল। খোলা মাঠের স্কুল। বন্ধ হয়ে যাওয়া ছোট হাসপাতালটি আপাতত ছাত্রাবাস। এ তল্লাটে বাংলা পাঠ্যবইয়ের চল নেই বলে হাতে লিখে পাঠ্যাংশ তৈরি করেন দীপঙ্কর, তাতে ছবি আঁকেন শ্রীপর্ণা। খুদেরা তিনটে ভাষাই শেখে— বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি। স্কুল বসার আগে গাছ-গাছ খেলাও তাদের কাছে মস্ত আকর্ষণ। কেউ সাজে অর্জুন, কেউ বট, কেউ নিম, কেউ শিমূল।

প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে জীবনের পাঠ। সঙ্গে থাকেন তিন দিদিমণি। ‘বড়দি’ বেলা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়স তিরাশি। সঙ্গী পানুদি ওরফে স্নেহলতা ঘোষ আশি ছুঁতে চলেছেন। মমতাদি আটাত্তর। রান্নাবান্না-সহ নিজেদের যাবতীয় কাজ আপন হাতে করেন ওঁরা। কর্মই ধর্ম। স্বনির্ভরতার পথ বেয়ে চলেছে নিমড়ি লোকসেবায়তন।

-অশোককুমার কুণ্ডু • নিমড়ি (ঝাড়খণ্ড)
.........................................
মহিলার দেওয়া জমিতেই মেয়েদের স্কুল হবে নিরোলে


নীলকমল মণ্ডল ও বাসন্তীদেবী

দশ বছরের লড়াই এ বার শেষ।

মেয়েদের জন্য যাতে গ্রামেই একটি স্কুল তৈরি হয়, সেই চেষ্টার শুরু তখন থেকেই। অবশেষে গ্রামের বধূর দান করা জমিতেই গড়ে উঠতে চলেছে সেই স্কুল। কেতুগ্রামের নিরোলে সোমবার দুপুরে তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন বর্ধমানের অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) পূর্ণচন্দ্র শীট। ছিলেন সর্বশিক্ষা অভিযান প্রকল্পের আধিকারিক তুষারকান্তি পাঠকও। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুল তৈরির জন্য সর্বশিক্ষা অভিযান প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৮ লক্ষ টাকা ইতিমধ্যেই মঞ্জুর করা হয়েছে।

বছর তিনেক আগে স্কুল গড়ার জন্য ৩৭ শতক জমি দান করেছিলেন ৪৯ বছরের বাসন্তী মণ্ডল। জমির আনুমানিক মূল্য বেশ কয়েক লক্ষ টাকা। কিন্তু সরকারি নিয়ম মেনে জমি দান না করায় স্কুলের অনুমোদন পেতে দেরি হয়ে যায়। বছর খানেক আগে ফের তিনি ‘নিয়ম মেনে’ ওই একই জমি দান করেন বর্ধমানের জেলাশাসকের নামে। কেতুগ্রাম ২ পঞ্চায়েত সমিতি তখন সরকারের কাছে চিঠি পাঠায়। ২০০৯ সালের ২০ অক্টোবর ‘নিরোল জুনিয়র হাই স্কুল’ তৈরির জন্য অনুমোদন দেয় সরকার। কিন্তু অনুমোদনের সেই চিঠি এসে পৌঁছয় গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে।

গ্রামের ভিতরে উচ্চ বিদ্যালয় ও পঞ্চায়েত অফিসের মাঝে তৈরি হবে ওই স্কুল। উচ্চ বিদ্যালয়ে এখন ছাত্র-ছাত্রীরা এক সঙ্গেই পড়াশুনা করে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিজনবান্ধব দাসের কথায়, “আমাদের স্কুলে পড়ুয়ার চাপ খুব বেশি। বালিকা বিদ্যালয় তৈরি হলে সেই সমস্যা দূর হবে।”
গ্রামে অবশেষে মেয়েদের নিজস্ব স্কুল হবে জেনে খুবই আনন্দিত বাসন্তীদেবী। বললেন, “গ্রামে মেয়েদের জন্য এত দিন আলাদা কোনও স্কুল ছিল না। অনেককেই গ্রামের বাইরে গিয়ে অন্য স্কুলে পড়াশোনা করতে হত। এখন তারা নিজেদের গ্রামেই পড়তে পারবে। এটা কত আনন্দের ব্যাপার। আমার স্বামী যখন জানালেন, মেয়েদের স্কুল তৈরির জন্য জমি খোঁজা হচ্ছে, তখনই আমি ওই জমি দান করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি।” গ্রামেরই এক বাসিন্দা কল্যাণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “দশ বছর ধরে যে লড়াই চলছিল, তার একটা ধাপ শেষ হল।”

শাশুড়ি কনকলতাদেবীর নামে স্কুলের নামকরণ করার প্রস্তাব দিয়েছেন বাসন্তীদেবী। জমি দান করার এই সিদ্ধান্তে খুশি তাঁর স্বামী নীলকমলবাবু ও ব্যবসায়ী পুত্র আশিসবাবুও।

গ্রামেরই বাসিন্দা তথা স্কুলের উদ্যোক্তাদের অন্যতম মহাদেব গুঁই বলেন, “নীলকমলবাবু প্রান্তিক চাষি ছিলেন। পরে তিনি পরিবহণ দফতরে চাকরি পান। তিল তিল করে টাকা জমিয়ে ওই জমি কেনেন। কিন্তু স্কুলের কথা শুনে এক কথায় ওঁরা সেই জমি দান করে দিলেন। গ্রামের মানুষ চিরকাল ওঁদের ত্যাগের কথা মনে রাখবে।” স্কুল তৈরির জন্য যে কমিটি হয়েছে, তার সম্পাদক ধনঞ্জয় গুঁই বলেন, “বিশিষ্ট সমাজসেবী হরমোহন সিংহের সাহায্য ছাড়া স্কুলের অনুমোদন মেলা সম্ভব ছিল না। তিনিই রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ করিয়ে দেন।”
কেতুগ্রাম ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মৃণালকান্তি সিংহের আশা, শীঘ্রই স্কুল তৈরির কাজ শেষ হবে। ফলে চলতি মরসুমেই স্কুলে পঠনপাঠন শুরু করা সম্ভব হবে।

বেলা শেষে বাসন্তীদেবীর মুখে তখন যেন এক নতুন প্রভাতের আলো।

-কেতুগ্রাম; মঙ্গলবার ১৮ জানুয়ারি ২০১১
...................... ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29322320 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29322320 2011-02-08 00:45:50
কথাচ্ছলে মহাভারত - ৩২
পুরু বংশ কথনঃ

জন্মেজয় বলেন –যযাতি স্বর্গে গেলেন, পুরু রাজা হলেন। কিন্তু আর চারপুত্রের কি গতি হল!

মুনি বলেন –পিতার শাপে চারপুত্র থেকে জন্মালো, যদুর বংশ থেকে যাদবরা। তুর্বসুর থেকে যবনরা, দ্রুহ্যু থেকে ভোজবংশ, অনুর ঔরসে ম্লেচ্ছ অবতংস।

অন্যদিকে শ্রেষ্ঠ পুরুর ঔরসে পৌরবরা, যার বংশ থেকে জন্মেজয়ের জন্ম।
তপ-জপ, যজ্ঞ-ব্রত ধর্মেতে তৎপর পুরুর সব কর্মই লোকের অগোচরে।

পুরুর রাজ পাটেশ্বরী পৌষ্ঠী। তাদের তিনটি সন্তান হয়।

প্রধান পুত্র প্রবীর রাজ্যভার পান। শূরসেনী হলেন তার স্ত্রী।

তাদের পুত্র মনস্থ্য এরপর রাজা হলেন। তারও তিন পুত্র হল।

সংহনন সিংহাসনে বসেন। রাণী হলেন মিশ্রকেশী। তাদের দশটি সন্তান হয়।

অনাবৃষ্টি রাজা হলে তারপর আসেন পুত্র মতিনার। তার চারপুত্রের মধ্যে তংসু উল্লেখযোগ্য।

ঈলিন হলেন তার পুত্র। তার পাঁচ পুত্র সন্তান।

এই ঈলিন ও রতনতারার প্রধান পুত্র হলেন বিখ্যাত দুষ্মন্ত মহারাজা। শকুন্তলা তার ভার্যারূপে পৃথিবী বিখ্যাত।

ভরত হলেন তাদের সন্তান। ভরতের গুণের শেষ নেই।

তার পুত্র হলেন ভূমন্যু।

ভুমন্যুর সন্তান সুহোত্র।

সুহোত্রের পুত্র হলেন হস্তী। ইনিই পত্তন করেন হস্তীনাপুর।

আজমীঢ় মহারাজ হস্তীর পুত্র।

তারপর রাজা হলেন আজমীঢ় পুত্র সম্বরণ। সম্বরণ রাজা হলে রাজ্যে অনাবৃষ্টি দেখা দেয়। শুরু হয় দুর্ভিক্ষ। এতে প্রচুর লোক মরতে থাকে। পাঞ্চালরাজ তখন তার রাজ্য জয় করে নেন। সম্বরণ পালিয়ে বনে আশ্রয় নেন। সিন্ধুনদীর কূলে হিমালয়ের কাছে সহস্র বছর লুকিয়ে থাকেন। শেষে বশিষ্ট মুনির কৃপায় আবার রাজ্য ফিরে পান। রাজা তখন নানা যজ্ঞ করেন, প্রচুর দান করেন।

রাজা সম্বরণ সূর্যেরকন্যা তপতীকে বিবাহ করেন। তাদের পুত্র হলেন কুরু। তাঁর নামানুসারে কুরুজাঙ্গল দেশ খ্যাত হয়। তিনি যেখানে তপস্যা করেছিলেন সেই স্থানই পবিত্র কুরুক্ষেত্র।

কুরুর পাঁচ পুত্রের মধ্যে জন্মেজয় রাজা হন।

তার পুত্র ধৃতরাষ্ট্র।

প্রতীপ তার সন্তান।

প্রতীপের তিন পুত্র-দেবাপি, শান্তনু ও বাহ্লীক। দেবাপি জ্যৈষ্ঠপুত্র সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ করেন। শৈশবেই তিনি অরণ্যে গমন করেন।

দ্বিতীয় পুত্র শান্তনু রাজা হলেন। তার স্ত্রী দেবী গঙ্গার গর্ভে ভীষ্মের জন্ম।

বিবাহ না করে ভীষ্ম বংশবিস্তার করলেন না এবং সত্যবতীর সঙ্গে পিতার বিবাহ দিলেন।

তাদের পুত্র চিত্রাঙ্গদ ও বিচিত্রবীর্য। বীর চিত্রাঙ্গদকে গন্ধর্বরা হত্যা করে।

ফলে অপ্রাপ্তযৌবন বিচিত্রবীর্য রাজা হন। কিন্তু সন্তান না হতেই তিনি মারা যান। শেষে ব্যাসমুনির কৃপায় তিন পুত্রের জন্ম হয়-ধৃতরাষ্ট্র, পান্ডু ও বিদুর।

ধৃতরাষ্ট্রের একশ পুত্রেরা ভাতৃ বিবাদে মারা গেল। বংশরক্ষার্থে পান্ডুর কুমাররা রাজা হন।

পান্ডুর পাঁচ সন্তান দেবতার বরে জন্মান। এদের মহিমা জগৎ বিখ্যাত।

পঞ্চপান্ডবরা হলেন-যুধিষ্ঠির, ভীম, ধনঞ্জয় অর্জুন, নকুল ও সহদেব।

অর্জুনের পুত্র সুভদ্রার গর্ভে জন্মান -অভিমন্যু। তিনি যৌবনে ভারত সমরে প্রাণ দেন। তখন তার স্ত্রী উত্তরা গর্ভবতী ছিলেন।

তাদের পুত্র হলেন পরীক্ষিত।

তার পুত্র মহারাজ জন্মেজয়। রাজার দুই পুত্র, শতানীক ও শঙ্কু।

শতানীকের পুত্র হলেন অশ্বমেধদত্ত।


এই পুরুবংশের কথা যে জন শুনে, তার পূণ্যে আয়ু বারে ক্ষণে ক্ষণে।
..........................................
উৎসর্গ: যৌথ ভাবে সকল ব্লগার বন্ধুকে ও আমার মাউ ও তার যমজ সন্তানকে
..........................................
আগের পর্ব:
কথাচ্ছলে মহাভারত - ৩১
Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29307669 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29307669 2011-01-14 21:51:53
ঘুরে এলাম ‘বাংলাদেশ উৎসব’ থেকে <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" />
বিজয় দিবসের দিন তারা টিভিতে ‘আজ সকালের আমন্ত্রণে’ শাহিন সামাদ ও ডালিয়া নওসীনের গান শুনে ও ওঁনাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী শুনে খুব ভাল লেগেছিল।

আজ সকালেও টিভিতে বাংলাদেশ উৎসবের বিজ্ঞাপন দেখে হঠাৎ দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সরণিতে অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস প্রাঙ্গনে হাজির হলাম।

দারুন সব শাড়ি দেখলাম, বিরিয়ানী খেলাম, পদ্মার নরম তুল্‌তুলে ইলিশ চাখ্‌লাম, চারদিক ঘুরে ঘুরে দেখলাম।

তারপর শুরু হল সান্ধ্য অনুষ্ঠান। তপন রায় গাইলেন লালন ফকির ও হাসন রাজার গান।

শামা রহমানের অনুষ্ঠান মিস্‌ করে গেছি, তাই সিডি কেনেছি। এখন শুনছি, খুব ভাল লাগছে।

বেশিক্ষণ থাকতে পারিনি যদিও! তাও কিছু ছবি তুলেছি, দেখুন...

বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সরণি, কলকাতা


অনুষ্ঠানমালা




বিভিন্ন স্টল


জামদানী শাড়ি


ফ্যাশন শোয়ের প্রস্তুতি


এঁর তত্ত্বাবধানে ফ্যাশন শো হবে রাতে


সন্ধ্যেবেলা অনুষ্ঠান শুরু হল শ্রাবণী মজুমদারের গান দিয়ে


তারপর এলেন সৈকত মিত্র


খুব ভাল লাগল ইন্দ্রানী সেনের গান


সমরেশ মজুমদারকে সংবর্ধনা দিলেন বাংলাদেশ হাই কমিশনার


আসার সময়ও জম্পেশ আড্ডা চলছিল


পথে একটা পুরন বাড়ি দেখে ছবি তুলতে ইচ্ছে করল

আকাশের চাঁদ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29293306 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29293306 2010-12-21 00:48:11
কথাচ্ছলে মহাভারত - ৩১
যযাতির স্বর্গ গমনঃ
নৃপতি যযাতি রাজ্য ত্যাগ করে মুনিদের সঙ্গে বনে গেলেন। সেখানে কঠিক তপস্যা শুরু করলেন।

বনের ভিতর ফলমূলাহার করেন, অতিথি সেবা করেন। এভাবে সহস্র বছর কেটে যায়। শেষে তিনি সব কিছু পরিহার করে একমনে তপস্যা শুরু করেন এবং অস্তিচর্মসার হয়ে যান। এভাবে আরো দুই সহস্র বছর যায়।


শেষে যোগের মাধ্যমে তিনি শরীর ত্যাগ করে দিব্যরথে চড়ে ইন্দ্রের সভায় উপস্থিত হন। সেখান থেকে যান ব্রহ্মলোকে। দশলক্ষ বর্ষ সেখানে অবস্থান করে আবার ইন্দ্রের সভায় ফিরে আসেন।

ইন্দ্র হেসে জিজ্ঞেস করেন প্রিয় পুত্রকে তিনি কি শিক্ষা দিয়েছেন। আর তিনি ব্রহ্মার সমাজ থেকে ফিরে এলেন কেন।


রাজা বলেন তবে অবধান কর পুত্রকে কি কি শিক্ষা দিলামঃ

শাস্ত্রানুসারে বিধি মতে রাজনীতি শিক্ষা দিয়ে তাকে বলি পৃথিবীতে তারাই শ্রেষ্ঠ, যারা ক্রোধ করালেও ক্রোধী নয় না, গালি দিলেও কিছু বলে না, পরের দুঃখে যে পরোপকারী, মধুর কোমল বাক্য বলে মৃদু স্বরে।

নিজের অন্তরের দুঃখের কথা পরকে বলে না, কপটতা কুবৃত্তি করে না, সদা সত্য বাক্য বলে।
নিজেকে কষ্ট দিয়ে সেই পরিত্রাণ পাবে। পৃথিবীতে তার সমান শ্রেষ্ঠ কেউ হবে না। এমন ব্যক্তিদের বাক্যশুনে পুত্রের মত প্রজাদের পালন করবে।

দরিদ্রের দুঃখ বিনাশ করবে সাধ্য মত, ব্রাহ্মণদের শ্রদ্ধা করবে। বন্ধুদেরও সন্তুষ্ট করবে। চোর-দস্যুদের রাজ্যে স্থান দেবে না। বৃদ্ধদের পালন করবে। অতিথিদের অবহেলা করবে না।

এসব শিক্ষাদান করে রাজা রাজ্য ত্যাগ করেন ও বনে তপস্যা করতে যান।

ইন্দ্র বলেন –রাজা, তুমি পরম পন্ডিত। তোমার মত ধার্মীক কেউ নেই। তুমি নিজ ইচ্ছায় ইন্দ্রলোক, ব্রহ্মলোক ভ্রমণ করতে পারো। তুমি কি পূণ্য করলে ধরায় জন্মগ্রহণ করে!

রাজা বলেন –আমি বৃষ্টিধারা গুণতে পারি। আমার পূণ্য কথা অশেষ। স্বর্গ, মর্ত, পাতালে আমার তুল্য কাউকে দেখি না।

শুনে ইন্দ্র হেসে বলেন –অহংকার করে তুমি দেবতাদের সমাজকে নিন্দা করলে। এই পাপে তুমি ক্ষীণপূণ্য হলে। তাই তোমায় আর স্বর্গে স্থান দেওয়া যায় না।

এতে রাজা অবাক হলেন।
বললেন –আমার কপালে এই কর্মই ছিল। পাপের শাস্তি আমি নেব। কিন্তু আমার একটা প্রার্থনা আছে। পূণ্যবান লোকরা যে পথে আছেন সেই পথ দিয়েই যেন আমি পতিত হই।

ইন্দ্র বলেন –নিজ গুণে তুমি পুনরায় স্বর্গে আসবে।


এরপর রাজা যযাতি নিচে পতিত হলেন, যেন আকাশ থেকে সূর্য পতিত হলেন।

এই সময় শূণ্যে চারজন ডাক দিয়ে বলেন –কে পতিত হন!
পূণ্যবানের আজ্ঞায় রাজা শূণ্যে আটকে যান।

সেই অষ্টকরা বলেন –তুমি কোন মহাজন! কার পুত্র, সূর্য-অগ্নি-চন্দ্রের মতো তোমার তেজ। তুমি স্বর্গ থেকে চ্যুত হলে কেন!

রাজা বলেন –আমি যযাতি, পুরুর পিতা, নহুষের পুত্র। পূণ্যবানদের অবজ্ঞা করায় আমি ক্ষীণপূণ্য হয়ে স্বর্গচ্যুত হলাম। ধনহীনে যেমন পৃথিবীতে বন্ধুরা ত্যাগ করে, পূণ্যহীনে তেমনি স্বর্গ থেকে দেবতারা ত্যাগ করেন।

অষ্টক বলেল –কোথায় তুমি ছিলে! কেনই বা এরূপ হল!

রাজা বলেন –পৃথিবীর রাজারূপে অবস্থানকালে লক্ষ রাজা আমায় পূজা করেন। পুত্রকে রাজ্য দিয়ে বনে তপস্যা করতে গেলাম। শেষে স্বর্গে আমার স্থান হলো। স্বর্গসুখ বর্ণনাতীত! সহস্র বছর স্বর্গসুখ ভোগ করে ইন্দ্রের সভায় যাই। সেখানেও মহাসুখে সহস্র বছর অবস্থান করি। সেখান থেকে আবার ব্রহ্মলোকে। নন্দনকাননের কথা কি আর বর্ণনা করবো! অপ্সরীদের সাথে ক্রীড়া করলাম, কামরূপী হয়ে বেরালাম।


দৈবের নির্দেশে একদিন ইন্দ্র প্রশ্ন করলেন তার উত্তরে নিজ পূণ্যের গান গাইলাম। সে দোষেই আজ স্থানচ্যুত।

অষ্টকরা প্রশ্ন করলেন -স্বর্গ থেকে যারা পতিত হন তাদের কি গতি হয়!

রাজা বলেন –ক্ষীণপূণ্য করে সেইজন নরকে পতিত হন। তারা পুনরায় দেহ ধারণ করেন দ্বিপদ-চৌপদ প্রাণীরূপে। পশু, কীট, পতঙ্গ বিভিন্ন রূপ পান। শকুন, শেয়াল তাদের খায়। তারা বারবার জন্মায়, বারবার মরে। নিজের কর্মফল খন্ডন করতে পারে না।

অষ্টকরা শুনে দুঃখিত হন এবং এর প্রতিকার জানতে চান।

রাজা বলেন –যজ্ঞ, হোম, ব্রত, অতিথি সেবা, গুরু ব্রাহ্মণের সেবা, দেবতার আরাধনা, সুখদুঃখে সমান থাকা-এসবের মাধ্যমেই নরক থেকে পরিত্রাণ সম্ভব।

অষ্টকরা বলেন –রাজা, তুমি পূণ্যবান। তোমার সমান কেউ নেই। তুমি এখানে নিশ্চিন্ত হয়ে অবস্থান কর। এখানে ইন্দ্রের ভয় নেই।
রাজা জানান তিনি ক্ষীণপূণ্য তাই স্বর্গে আর তার স্থান নেই।


শুনে অষ্টক, শিবি, বসু, প্রতর্দন রাজাকে ডেকে বলেন –আমাদের চারজনের যা পূণ্য আছে তা নিয়ে তুমি হেথায় অবস্থান করো।

রাজা বলেন –আমি কৃপণের মতো পরের দ্রব্য গ্রহণ করতে পারবো না।

শিবি বলেন –রাজা তুমি কিছু তৃণ দিয়ে আমাদের পূণ্য ক্রয় করো।
রাজার তাতেও ঘোর আপত্তি। ছেলেমানুষের মতো বাক্য। তৃণ দিয়ে পূণ্য ক্রয় করে লোকের উপহাস তিনি গ্রহণে অপরাগ।

এত শুনে তারা বলেন –রাজা তুমি আমাদের বাক্য না শুনলে আমরাও তোমার সাথে তুমি যেখানে যাবে সেখানে যাবো।

এতসব কথোপকথন যখন হচ্ছে সে সময় পাঁচটি দিব্যরথ সেথায় উপস্থিত হল। তাদের সে রথে করে ইন্দ্রের অমরাবতীতে আনা হল।

বৈশম্পায়ন বলেন –শুন মহারাজ, জন্মেজয়! সেই চারজন রাজা যযাতির কন্যার পুত্র। কন্যার পুত্রের পূণ্যে যযাতি মুক্ত হলেন। পুনরায় তিনি স্বর্গে অবস্থান করলেন।

..........................................
উৎসর্গ: সকল ব্লগার বন্ধুকে
..........................................
আগের পর্ব:
কথাচ্ছলে মহাভারত - ৩০
Click This Link


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29289788 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29289788 2010-12-14 22:48:00
মহিষাসুর পালা<img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_09.gif" width="23" height="22" alt=";)" style="border:0;" />
2D এ্যানিমেশনের দারুন মজার কার্টুন পেলাম, সবাইকে দেখাতে ইচ্ছে করল, তাই...<img src=)" style="border:0;" />









]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29276172 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29276172 2010-11-23 00:42:52
আমরা ঘাসের ছোট ছোট ফুল, হাওয়াতে দোলাই মাথা...তুলোনা মোদের, দলোনা পায়ে, ছিঁড়োনা নরম পাতা
আজ ১৪ই নভেম্বর, শিশু দিবস।

স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু বাচ্চাদের খুব ভালবাসতেন, তাই তাঁর জন্মদিনটি আমাদের দেশে শিশু দিবস হিসেবে পালিত হয়।

১৯৫৪ থেকে আন্তর্জাতিক শিশু দিবস পালিত হয় ২০শে নভেম্বর।

শিশুদের বড় করে তোলা, তাদের জন্য সুস্থ সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলা আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ...

আসুন সেই অঙ্গীকার করি
























]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29271685 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29271685 2010-11-14 00:55:51
<img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /> শুভ দীপাবলীতে দীপান্বিতার শুভেচ্ছা <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" />


















]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29266751 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29266751 2010-11-04 18:13:03
আজ ভগিনী নিবেদিতার ১৪৪তম জন্মজয়ন্তী

কল্যাণ ও শিক্ষা আজীবন এই লক্ষ্যে
-স্বামী আত্মবোধানন্দ

১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দ। স্বামী বিবেকানন্দ তখন লন্ডনে বেদান্ত প্রচারে রত।
সে সময় মার্গারেট নোবলও এসেছেন লন্ডনে শিক্ষিকার চাকরি নিয়ে। ছোটদের পড়িয়ে বড় আনন্দ পান তিনি। কয়েক বছর চাকরির পর নিজেই একটা স্কুল খুললেন। শুধু পড়াশোনা নয়, তাঁর মনে হল, শিশুমনের সর্বাঙ্গীণ বিকাশে অঙ্কনশিল্পেরও প্রয়োজনীয়তা আছে। তাই রং-তুলি নিয়ে ছোটদের সঙ্গে ছবি আঁকাতেও মেতে ওঠেন তিনি।

স্কুলের কার্য পরিচালনা ও পড়াশোনার পাশাপাশি মার্গারেট চালিয়ে যাচ্ছিলেন শিল্প ও সাহিত্যচর্চাও। লন্ডনের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তাঁর রচনা প্রকাশিত হতে থাকে। শিক্ষা সম্বন্ধে সংবাদপত্রে প্রবন্ধ লিখলেন তিনি, সকলকে শিক্ষার আদর্শ বিষয়ে অবহিত করার জন্য। লেখার সঙ্গে সমান তালে চলছিল বক্তৃতাও। শিশুশিক্ষণ ও নারীর অধিকার বিষয়ে তাঁর মনোজ্ঞ আলোচনা আকৃষ্ট করে বহু গুণিজনকে। মার্গারেট পরিচিত হয়ে উঠলেন আদর্শ শিক্ষাব্রতী রূপে।

নিবেদিতা হয়ে ওঠার অনেক আগেই সুশিক্ষিত, মার্জিত রুচির মার্গারেট আপন অন্তরে অনুভব করেছিলেন যে, প্রকৃত শিক্ষার ভিত্তি হল ত্যাগ ও সেবা। বিশ্বমানবের জন্য আশৈশব তাঁর আকুল আকুতি। এমনকী গির্জার সঙ্গেও মার্গারেট যুক্ত হয়েছিলেন মানবসেবার জন্যই।
তবু, শিক্ষিত ইউরোপীয় স্বাধীনচেতা এই নারীর মন নানা সময়েই ভারাক্রান্ত হত সদুত্তর না পাওয়া নানা বিচিত্র প্রশ্নে। বইয়ের পাতায় বা গির্জার যাজকদের কাছ থেকে সে প্রশ্নের উত্তর পাননি তিনি। অন্তরে আকুল প্রশ্ন জাগত, মানুষের মুক্তি কোথায়? কে দেখাবে সেই আলো?

এমন সংশয়দীর্ণ সময়েই যেন দৈবযোগে স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গে মার্গারেটের সাক্ষাৎ হল এক আলোচনাসভায়। তারপর মার্গারেটের জীবনধারার অভিমুখটিই গেল আমূল বদলে। ভারতীয় এক তরুণ সন্ন্যাসীর কাছেই মার্গারেট পেয়ে গেলেন বহু অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর।


কাশ্মীর, ১৮৯৮; বাম দিক থেকে ডান দিকে-জোসেফিন ম্যাকলিওড, ওলি বুল(বসে), স্বামী বিবেকানন্দ ও ভগিনী নিবেদিতা

স্বামী বিবেকানন্দের কাছে মার্গারেট পেলেন অমৃতের সন্ধান। ভারাক্রান্ত হৃদয় ভরে উঠল আনন্দের উচ্ছ্বাসে। স্বামীজির বক্তৃতায় তিনি শুনলেন –‘মানুষের মধ্যে যে পূর্ণতা আছে, তাকে প্রকাশ করার নামই হল শিক্ষা’।' মানুষকে মানুষ হয়ে উঠতে হলে শিক্ষার সোপান বেয়ে এগিয়ে যেতে হয়। সেই শিক্ষা মানুষের মধ্যেই সুপ্তাকারে থাকে-তাকে জাগ্রত করতে হয়।
মার্গারেটও এই শিক্ষায় বিশ্বাসী ও আগ্রহী। স্বামীজি তাঁর আগ্রহ দেখে অনুভব করলেন, ভারতবর্ষে শিক্ষার আলো ছড়াতে ও বিশেষ করে ভারতীয় নারীর মধ্যে অশিক্ষা, কুসংস্কার আর দুঃখদৈন্য দূর করতে একান্ত প্রয়োজন এমন মহীয়সী নারীর।

১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে স্বামীজি ফিরলেন ভারতে। এসময় মার্গারেটও আসার জন্য স্বামীজির কাছে অনুমতি চান। জানান যে, প্রাণ দিয়ে ভারতবর্ষের সেবা করতে চান তিনি।
প্রতি উত্তরে স্বামীজি জানালেন, ‘ঝাঁপ দেওয়ার আগে ভাল করে ভেবে দেখ। যদি কাজে নামার পর ব্যর্থ হও, বা যদি বিরক্তি আসে, তবে আমার দিক থেকে অবশ্যই জেনো আমি আমরণ তোমার পাশে থাকব। তুমি ভারতবর্ষের জন্য কাজ করো বা নাই করো।’

মনস্থির করে ফেললেন মার্গারেট, যাবেন তিনি ভারতে। প্রতীক্ষায় রইলেন, কবে ডাকেন স্বামীজি।
অবশেষে এল স্বামীজির আশ্বাসঃ ‘ভারতবর্ষের সেবার জন্য, কাজের জন্য পুরুষ অপেক্ষা নারীর প্রয়োজন বেশি, যে হবে একজন সিংহী। ভারত এখনও মহীয়সী নারীর জন্ম দিতে পারেনি। তাই বিদেশ থেকে ধার নিতে হচ্ছে। তোমার শিক্ষা, পবিত্রতা, অসীম ধৈর্য, দৃঢ়তা ও প্রীতি তোমাকে উপযুক্ত নারীরূপে গঠন করেছে। এদেশের দুঃখ, কুসংস্কার, জাতিভেদ, ছোঁয়াছুঁয়ি সম্বন্ধে তুমি ধারণা করতে পারবে না...যদি সব কিছু উপেক্ষা করে এগিয়ে আসতে পার, তবে স্বাগত।’

এমন সাবধান বাণী সত্ত্বেও সাত সাগর পেরিয়ে মার্গারেট এলেন ভারতবর্ষকে অন্তর থেকে ভালবেসে। তেজস্বিনী মার্গারেট হয়ে উঠলেন মানবসেবায় উৎসর্গিত ভগিনী নিবেদিতা। ভারতীয় নারীর শিক্ষার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়লেন। বাগবাজারে স্কুল খুললেন নারীকে সুশিক্ষিত ও স্বনির্ভর করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু পরিবেশ ছিল ভয়ঙ্কর রকম প্রতিকূল। নিবেদিতার হাতে তখন একটাই অস্ত্র, তা হল এদেশের প্রতি অকুন্ঠ ভালবাসা।


সারদামার সঙ্গে ভগিনী নিবেদিতা

নিবেদিতার সেই সংগ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী স্বামী অসিতানন্দ জানিয়েছেন –“তখনকার হিন্দু সমাজ বাড়ির মেয়েদের লেখাপড়া শেখানোয় উৎসাহী ছিল না। নিবেদিতা খালি পায়ে পথ হেঁটে, বাড়ি-বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের ধরতেন, যাতে তাঁরা বাড়ির মেয়েদের স্কুলে পাঠান। ওদিকে রক্ষণশীল পরিবারের লোকেরা ম্লেচ্ছ অহিন্দুর সঙ্গে মেলামেশা পছন্দ করত না। নিবেদিতার অপূর্ব ভালবাসায় এই বাধাও ক্রমে দূর হল।”
তাঁর এই সাফল্যের মূলে ছিল নিষ্ঠা ও ভালবাসা। সগর্বে ও সানন্দে নিজের পরিচয় দিতেন তিনি, ‘আমি একজন শিক্ষয়িত্রী।’

শিক্ষিকা নিবেদিতার শিক্ষা পদ্ধতি ছিল সত্যই অভিনব। ছাত্র-ছাত্রীদের সৃজনীশক্তির প্রতি গুরুত্ব দিতেন, জাগিয়ে তুলতেন ভারতীয় অধ্যাত্ম-প্রাণসত্তাকে। নিবেদিতার শিক্ষানীতি বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌহদ্দির মধ্যেই আবদ্ধ ছিল না, শিক্ষাকে তিনি সর্ব শ্রেণির মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। মানবকল্যাণমুখী এই শিক্ষাদর্শ তাঁর সময়কালকে পেরিয়ে বর্তমান অস্থির সময়েও তাই অনুসরণযোগ্য।

[আনন্দবাজার, ২৮/১০/১০]


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29263174 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29263174 2010-10-28 17:54:09
কথাচ্ছলে মহাভারত - ৩০
পুরুর জরাগ্রহণ ও যযাতির যৌবন-প্রাপ্তিঃ

দেশে ফিরে রাজা সিংহাসনে বসলেন এবং জ্যৈষ্ঠপুত্র যদুকে ডেকে বললেন শুক্রশাপে জরা তাকে আক্রমণ করেছে কিন্তু যৌবনভোগে তার মন এখনও শান্ত হয় নি। যদু তার জ্যৈষ্ঠ সন্তান এবং পরম পন্ডিত। সেই তার দুঃখ দুর করতে পারে, পিতার জরাগ্রহণ করে। এভাবে যযাতি পুত্রের কাছে পুত্রের যৌবন ভিক্ষা করলেন।

পিতার বাক্য শুনে যদু বিরস বদনে বললেন –জরার মত দুঃখ সংসারে আর কিছু নেই। শরীর শক্তিহীন হয়, দেহ হয় কুৎসিত, লোকে উপহাস করে।



তাই যদু পিতার জরা নিতে প্রস্তুত নন জানান। পিতার আরো চার পুত্র আছে তাদের এই প্রস্তাব দেওয়া হোক।

একথা শুনে রাজা ক্রোধ ভরে বললেন –জ্যৈষ্ঠ পুত্র হয়ে যদু পিতার বাক্য অমান্য করলেন তাই তার বংশের কেউ কোনদিন রাজা হবে না।

যযাতি এরপর তুর্বসুকে ডেকে সব বললেন এবং সহস্র বছর পর তিনি তাকে যৌবন দান করে জরা গ্রহণ করবেন–এ অঙ্গীকারও করলেন।

তুর্বসুও জরাগ্রহণে অপারগ হলেন। যযাতি তাকেও শাপ দিলেন পিতৃবাক্য অমান্য করায় তুর্বসু নীচজাতিদের রাষ্ট্রের দন্ডধর হবেন এবং তার বংশে যত পুত্র জন্মাবে তারা সকলে মূর্খ হয়ে অভক্ষ্য ভক্ষণ করবে।



এভাবে দেবযানীর দুই পুত্র কেউই যখন পিতার জরাগ্রহণ করলেন না, তখন রাজা শর্মিষ্ঠার পুত্রদের ডাকলেন।

শর্মিষ্ঠার জৈষ্ঠ্যপুত্র দ্রুহুও পিতার জরাযন্ত্রণা সহ্য করতে পারবেন না বললেন।
একথায় যযাতি তাকেও শাপ দিলেন যে দেশে চারজাতির ভেদ নেই সেই দেশের রাজা হবে তার ঔরসে। দ্রুহু যা আশা করবে সব নৈরাশ্যে ডুববে, তার মনকামনা কখনো পূর্ণ হবে না।

তারপর রাজা অনুকে ডাকলেন এবং তার যৌবন প্রার্থনা করলেন।

অনু বললেন –রাজন, জরাসম দুঃখ জগতে আর কিছু নেই। সদা অশুদ্ধ দেহ, অনাচার, কিছু খেলে উদরে তা জীর্ণ হয় না।

তাই সেও জরাগ্রহণ করতে পারবে না। রাজা ক্রোধে বললেন পিতার বাক্য অমান্য করায় অনু জরার যে যে দোষের কথা বলেছে সব ভোগ করবে এবং তার পুত্রেরা যৌবনে সবাই মারা যাবে।



এবার রাজা যযাতি চিন্তিত হয়ে সর্ব কনিষ্ঠ পুরুকে ডেকে পাঠালেন। বললেন সেই রাজার সর্বপ্রিয় পুত্র, সেই এখন তাকে সুখি করতে পারে।

পিতার বাক্য শুনে যোড়করে পুরু বলেন পিতার বাক্য লঙ্ঘনের সাহস তার নেই। যে জন পিতৃবাক্য রক্ষা করে না সে ইহলোকে অপযশ পায় এবং নরকে গমন করে। তিনি পিতার কাছে জরা প্রার্থনা করলেন এবং তার যৌবন পিতাকে ভোগ করতে বললেন।

পুত্রের এই বাক্যে রাজা আনন্দিত হন। তার মুখ চুম্বন করে বলেন –ধর্ম পথে পুরুর বংশবৃদ্ধি হবে, তার বংশধররাই রাজা হবে।

তারপর তিনি শুক্রাচার্যকে স্মরণ করেন এবং পুরুকে জরাদান করে যৌবনপ্রাপ্ত হন।



এরপর যযাতি ধর্মকর্মে লিপ্ত হন। যজ্ঞহোমে দেবতাদের তুষ্ট করেন।

শ্রাদ্ধাদি তর্পণের দ্বারা পিতৃপুরুষদের সন্তুষ্ট করেন।
দরিদ্র ভিক্ষুকদের দান করেন, প্রজাদের প্রতি যতার্থ সেবা করেন, অতিথি অভ্যাগতদের সেবা করেন।
তার প্রতাপে দুষ্টেরা রাজ্য ত্যাগ করে।
রাজা কামরসে কামিনীদের তুষ্ট করেন, প্রিয় ভাষণে বন্ধুবান্ধব-মন্ত্রীদের তুষ্ট রাখেন।


এভাবে যযাতি সহস্র বছর রাজত্ব করেন। এসময় তার পূর্ববাক্য স্মরণে আসে। জরা পীড়িত পুত্রকে দেখে রাজা আপনাকে ধিক্কার করেন।
ভাবেন নিজের জরার জন্য তিনি পুত্রকে দুঃখ দিলেন, ভোগে মত্ত হয়ে তিনি পুত্রের দুঃখ দেখলেন না।


ভাবলেন কামুকের কাম কখনো পূর্ণ হয় না, যত ইচ্ছা করে তত তা বাড়ে, মন কখনও তৃপ্ত হয় না।

এসব কথা চিন্তা করে রাজা পুত্রকে ডেকে বলেন –বহু ভোগ আমি করেছি তোমার যৌবন নিয়ে। তুমি প্রকৃতই পুত্রকর্ম করে আমায় সন্তুষ্ট করেছ। তোমার মহিমা সংসারে প্রচারিত হবে। এখন তুমি আমায় জরাদান করে যৌবন গ্রহণ করো।

রাজা তাকে ছত্রদন্ড দান করবেন কথা দিলেন।
এতকথা বলে যযাতি জরাগ্রহণ করলেন এবং পুরুকে যৌবন ফিরিয়ে দিলেন। পুরু আপন যৌবন প্রাপ্ত হলেন।
রাজা পাত্র, মিত্র, অমাত্যদের ডেকে ঘোষণা করলেন পুরুই পরবর্তি রাজা হবেন।

ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র-রাজ্যের সকলকে রাজা আমন্ত্রণ জানালেন।
পুরুর অভিষেক দেখে প্রজারা রাজাকে প্রশ্ন করলেন বিজ্ঞ রাজা জ্যৈষ্ঠ পুত্র বিদ্যমান থাকতে কনিষ্ঠকে রাজা করলেন কেন!

রাজা বলেন -যে পুত্র পিতামাতার বাক্য অমান্য করে সে কোন শাস্ত্রমতেই পুত্রের যোগ্য নয়। পুরুই কেবল আমার প্রকৃত পুত্র-অন্যরা অকারণ। পুরু পরম পন্ডিত, সেই কেবল পুত্রের কর্ম করেছে। জরা পীড়িত পিতাকে যৌবন দিয়েছে। অন্য চারপুত্র পিতার বাক্য মানেনি। পিতৃ আজ্ঞায় পুরু সহস্র বছর জরাগ্রহণ করলেন সে কারণেই সে প্রকৃত রাজ্যের উত্তরাধিকারী।


প্রজারা বলেন শুক্র তার দৌহিত্রদের এই বঞ্চনা সহ্য করবেন না, আর শুক্রের ক্রোধ সকলেই অবদিত।

রাজা বলেন শুক্র নিজেই এই আশির্বাদ করেছেন যে পুত্র তার জরাগ্রহণ করবেন সেই হবে রাজ্যের প্রকৃত দাবিদার। প্রজারা একথায় সন্তুষ্ট হয়।


সকলের সহমতে পুরুর অভিষেক সম্পন্ন হয়।

যযাতি পুত্রকে রাজনীতির শিক্ষা দান করেন।
..........................................
উৎসর্গ: সকল ব্লগার বন্ধুকে
..........................................
আগের পর্ব:
কথাচ্ছলে মহাভারত - ২৯
Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29261126 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29261126 2010-10-25 17:17:05
শুভ বিজয়ার প্রীতি ও শুভেচ্ছা<img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /> পূজোর কিছু মুহূর্ত:




শক্তিরূপী মা




জয়দুর্গা






তুলির টানে




আগমনী


জগদ্ধাত্রী


ষষ্ঠীতে মার দোলায় আগমন


মঙ্গলঘট


সপ্তমীর সকালে কলাবউ স্নান


মহামায়া


বেলুড়মঠে শারদামা


মহিষাসুরমর্দিনী


গন্ধেশ্বরী আবাহন




চুঁচুড়ার শীলবাড়ির ৩৫০বছরের উৎসব


আদিবাসীরূপে মা বনদুর্গা


শঙ্খধ্বনি


পদ্মডালা






ঢাকি


অষ্টমীতে বেলুড়ে কুমারীপূজা






অঞ্জলীর প্রস্তুতি


ছোট্ট উমা বাবার কোলে


নবমীর আড্ডা


চণ্ডী






ক্ষুদেরদল


দশমীতে দেবী বরণ




দর্পণে মার প্রতিবিম্ব




সিঁদুর খেলা


ভবানী

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29257855 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29257855 2010-10-19 18:16:12
কথাচ্ছলে মহাভারত - ২৯

যযাতির প্রতি শুক্রের অভিশাপঃ

একদিন যযাতি দেবযানীর সঙ্গে বনবিহারে এলেন, নানা বৃক্ষে সুশোভিত অশোক বনে। শর্মিষ্ঠা সেখানে উপস্থিত হলেন। তার তিনপুত্রও পিতাকে দেখে ছুটে এলো। তিন সুন্দর পুত্র দেখে দেবযানী রাজাকে জিজ্ঞাসা করলেন এদের পিতা কে!
রাজা নিরুত্তর থাকলে তার সন্দেহ হল। তিনি পুত্রদের সত্বর আত্মপরিচয় জানাতে চাইলেন এবং এস্থানে তারা কি কারণে এসেছে জিজ্ঞাসা করলেন।


তিনকুমার এত কথা শুনে বললো তাদের মার নাম শর্মিষ্ঠা এবং রাজাকে দেখিয়ে বললো ইনিই তাদের পিতা-এই বলে তারা রাজাকে প্রণাম করলো।
দেবযানীর ভয়ে রাজা বিরস বদনে শিশু তিনটিকে কোলে নিলেন।


সবকথা শুনে দেবযানী ক্রোধিত হয়ে শর্মিষ্ঠাকে ডেকে পাঠালেন। তাকে বললেন আগে সে বলেছিল এরা ঋষিকুমার অর্থাৎ সে মিথ্যাবাক্য বলেছিল!


একথা শুনে শর্মিষ্ঠা অবাক হলেন। করজোড়ে বললেন ধর্ম মতে তিনি মিথ্যা বলেন নি। দেবযানী তার ঈশ্বরী হওইয়ায় রাজাই ধর্মত তার পতি-সে কারণে তার পুত্রদের দেখে দেবী যেন ক্রোধ না করেন।


দেবযানী বললেন সেবিকা হয়ে শর্মিষ্ঠার সাহস দেখে তিনি স্তম্ভিত! কি সাহসে সে তার স্বামীকে ভোগ করে!

দেবযানী রাজাকেও ক্রোধের সঙ্গে বলেন –রাজা শুক্রাচার্যের বাক্য লঙ্ঘন করে সেবিকা গমন করেছেন-এ ঘোর পাপ কর্ম।

তাই তিনি আর রাজার সঙ্গে থাকবেন না।
এত বলে দেবযানী কাঁদতে কাঁদতে পিতৃগৃহে গমন করেন। রাজা বিনয়ের সাথে তাকে বুঝাতে থাকেন, কিন্তু তার ক্রোধ দেখে তিনি ভয় পান। রাজাও তার সঙ্গে চললেন।

পিতার সামনে উপনিত হয়ে দেবযানী স্বামীর চরিত্রবর্ণনা করেন –অধর্মে প্রবৃত্ত হয়ে রাজা শুক্রের বাক্য লঙ্ঘন করে বৃষপর্বের কন্যা শর্মিষ্ঠার সঙ্গে রমণ করেছেন।

একথা শুনে শুক্র ক্রোধের সঙ্গে রাজাকে বলেন –রাজা সর্বধর্মজ্ঞাত পরম পন্ডিত হয়েও তার বাক্য লঙ্ঘন করলেন! গুরুবাক্য লঙ্ঘন করার অপরাধে তাকে জরা অঙ্গে ধারণ করতে হবে।

গুরুর শাপে রাজা কম্পিত হৃদয়ে করজোড়ে বললেন, প্রভুবাক্য লঙ্ঘনের সাহস তার নেই। তিনি কামভাবে শর্মিষ্ঠাকে গ্রহণ করেন নি। ঋতুদানে শর্মিষ্ঠা বারবার প্রার্থনা করায় তিনি তার ঋতু রক্ষা করেন। এই প্রার্থনা না শুনলে তিনি মহাপাপে পতিত হতেন, নপুংসক হয়ে জন্মাতেন এবং নরকে যেতেন। ধর্মের ভয়েই তিনি ঋতুদান করেন। আর রাজার কাছে যে যা প্রার্থনা করে তা তিনি পূরণ করতে বাধ্য সে কারণেও এই কর্ম।

শুক্র বলেন -ধর্মের ভয়ে তুমি এ কাজ করলে, আমার ভয় তোমার ছিল না - এতো তোমার অহংকার!
এত কথা বলার সাথে সাথেই জরা এসে রাজাকে আক্রমণ করল।

নিজের এই বৃদ্ধ বেশ দেখে রাজা হতবুদ্ধি হলেন এবং দুঃখের সঙ্গে শুক্রকে বললেন এখনও তিনি যুবক রূপে সব কামনায় তৃপ্ত হননি এবং শুক্রের কন্যা দেবযানীও প্রথম যৌবনা, এভাবে বৃদ্ধ হয়ে তিনি সংসারের সব সুখ থেকে বঞ্চিত হলেন। প্রভু যদি কৃপা করেন তবে তিনি এই শাপ থেকে মুক্ত হন।



শুক্র বলেন, তার বাক্য খন্ডন হওয়ার নয়, যদি রাজার মন এখনো ভোগে আসক্ত থাকে তা হলে তিনি নিজের জরা অন্য কাউকে দিয়ে তা ভোগ করতে পারেন।

রাজা বলেন তার পাঁচ পুত্র যে তার জরা গ্রহণ করবে তাকেই তিনি রাজ্যভার দান করবেন।

শুক্র আশির্বাদ দিয়ে বলেন যে জন রাজার জরা গ্রহণ করবেন সে দীর্ঘায়ু হবেন রাজ্যের কল্যানে। তার বংশ বৃদ্ধি ঘটবে। সে জন পরম পন্ডিত ও মহাতেজা হবেন।


শুক্রের বাণী শুনে রাজা যযাতি দেবযানীকে নিয়ে নিজ রাজ্যে গমন করেন।
..........................................
উৎসর্গ: সকল ব্লগার বন্ধুকে
..........................................
আগের পর্ব:
কথাচ্ছলে মহাভারত - ২৮
Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29253906 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29253906 2010-10-13 00:29:29
আজ মহালয়া - মার ঘরে ফেরা <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" />




বাজে ওই আগমনি গান ঝরে শেফালি দোলে কাশের গুচ্ছ
মধুর বায়ে হল উতলা পরাণ
শুভ্র মেঘের ভেলা সুনীল আকাশে
ধানের মঞ্জরী দোলে বাতাসে
পুলকে জেগে ওঠে আনন্দ তান।
শারদ অজ্ঞলী বাঁশির সুরে আনে আশার বাণী হৃদয় জুরে
শিশির ভেজা ঘাসে ঝরা মালতী
আসিবে ঘরে চির চেনা অতিথি
বনে মর্মরে শুনি তারি আহ্বান।



মা মেনকাঃ
বর্ষা গেল আশ্বিন এল উমা এল কই
শূন্য ঘরে কেমন করে পরাণ বেঁধে রই!
ও গিরিরাজ সবার মেয়ে মায়ের কোলে এলো ধেয়ে
আমারি ঘর রইল আধাঁর আমি কি মা নই!
নাই শাশুড়ি ননদ উমার আদর করার নাই
কেউ আদর করার নাই।
অনাদরে কালি মেখে বেড়ায় পথে তাই,
মোর গৌরী বড়ই অভিমাণী সে বুঝবে না মা কান পোরানি
আনতে তারে সাধতে হবে ওর যে স্বভাব ওই।


যাও যাও গিরিরাজ আনিতে গৌরী,
উমা আমার ওগো কেমনে রয়েছে।
এক বছর গত হল কৈলাশে গিয়াছে।
শুনেছি নারদের মুখে উমা আছে বড়ই দুখে,
তার কাছে নাকি উমা ‘মা’ বলে কেঁদেছে।
ভাঙ্গেতে ভোলা জামাই তো তোমার,
সোনার প্রতিমা গৌরী আমার।
ভাঙ্গে মত্ত হয়ে জামাই তো তোমার
বসন ভূসন বেচে ভাঙ্গ খেয়েছে।


আর না রাখিব গিরি প্রাণের গৌরী শিবের ঘরে
এবারে আসিলে তারে পাঠাবো না পুন ফিরে।
নির্গুণ জামাতা হেরে, সমর্পিলে গিরিজারে
সেও তো পালিতে নারে, শুনি গৌরী পালে তারে।
নহে শিব পালনকারী, কহে তায় সংহারকারী
জেনে শুনে সে ভিখারী কেন কন্যা দিলে তারে
মনেতে রহিল কালি, গৌরী নাকি হল কালী
দুঃখে কাটে চিরকালি, সুখ নাহি দিনেরও তরে।।


হে গিরি শোন ধরি দুটি পায়।
এনে দাও উমারে আমায়
স্বপনে দেখেছি তারে লুটাতে ধুলায়।
লোকে বলে উমা নাকি উন্মাদিনী
ঘর ছেরে হয়েছে সে শ্মশানবাসিনী।
বসন ভূষণ নাই, অঙ্গে মেখেছে ছাই
আপনি নাচিয়া সে যে ভোলারে নাচায়।
কেমনে বোঝাই গিরি তুমি যে পাষাণ
উমারে দেখিতে বুঝি আছে এ পরাণ।
চেয়ে দেখ ওগো নাথ ঘরে ঘরে ওই
মায়ের বুকেতে শিশু, আমাদেরর উমা কই।
আত্মঘাতিনী হয়ে এ জ্বালা জুড়াই
স্ত্রী বধের পাপ আমি দেবো গো তোমায়।


উমাঃ
হর কর অনুমতি যাই হিমালয়ে
জনক জননী বিনে বিদি মরি হৃদয়ে।
এ জানা কি জানি ওমনি, আমি মা একা কমনি
গিয়ে তিন দিন জন্যে রব পিত্রালয়ে।
গণপতি লয়ে সপ্তমী প্রবেশা হয়ে
আসিব ওই নাশি গুণে নবমী উদয়
জানি মা মেনকা অন্ধ হল কেঁদে কেঁদে
মরেছে কি আছে বেঁচে হতেছে সংশয়।।


বাবা গিরিরাজঃ
গিরি রাণী, রাণী এই নাও তোমার উমারে।
ধর ধর হরের জীবন ধন।

কত না মিনতি করি, তুষিয়ে ত্রিশুলধারী
প্রাণ উমা আনিলাম নিজ পুরে।
রাণী এই নাও তোমার উমারে।

দেখ মনে রেখ ভয়, সামান্যা তো নয় আর নয়।
যারে সেবে বিধি বিষ্ণু হরে।
রাণী এই নাও তোমার উমারে।

ও রাঙা চরণ দুটি হৃদে রাখে মধুর জ্যোতি।
কি আদ্র বিচ্ছেদ নাহি করে।
রাণী এই নাও তোমার উমারে।

তোমার উমার মায়া, নির্গুণের স্বগুণ কায়া,
ছায়া মাত্র জীবে নামে ধরে।
রাণী এই নাও তোমার উমারে।

অসংখ্য তাপেরই ফলে কপোত তনয়া ছলে
মা বলে তোমারে মেনকা রাণী,
এই নাও তোমার উমারে।

কমলাকান্তের বাণী, ধন্য ধন্য গিরিরাণী।
তব পূণ্য কে কহিতে পারে।
এই নাও তোমার উমারে।
ধর ধর হরের জীবন ধন।
এই নাও তোমার উমারে।।


মাঃ
বোঝাবো মায়েরই ব্যাথা গনেশ তোর আটকে রেখে।
মায়ের প্রাণে বাজে কেমন বুঝবি তখন আপনি ঠেকে।
মা গো......
তবু দেখে আছে আমার, গিরিপুরী ছিল আধাঁর।
আমি পাঠাবো না তোরে তো আর লিখতে গেলে কৈলাশ থেকে।
জামাই সে তো পেটের ছেলে, দোষ কি হবে হেথায় এলে।
বেড়ান তিনি নেচে খেলে, রাজা গিয়ে আনবে ডেকে।
বেড়ায় তো সে যেথায় সেথায়, যে ডাকে সে তার কাছে যায়।
মাগো, রাজার জামাই থাকবে হেথায় প্রাণ জুড়াবে জুগল দেখে।


উমাঃ
মা, কোলে তুলেনে গো মা উমারে তোর
বড় ক্লান্ত হয়েছি পথে জেগেছে মা ঘোর।
এসেছি মা শিবে ছেরে তাতে যে মন পড়ে
তার উপরে তোরি তরে হয়েছি যে কাতর।
জগতেরই নাথ মা গো মোর ভোলানাথ
দেবাদিদেব সে যে, তবু যে অনাথ।
যেন মা শিশুর প্রাণ, আঁচল ছারেনা হায়
আমি তার সে আমার বুকেরই পাঁজড়।


মাঃ
আয় মা উমা রাখব এবার ছেলের সাজে সাজিয়ে তোরে,
মার কাছে তুই থাকবি নিতুই, যাবিনে আর শ্বশুড় ঘরে।
মা হওয়ার মা কি যে জ্বালা বুঝবি না তুই গিরিবালা,
তোরে না দেখিলে শূন্য এ বুক, কি যে হাহাকার করে।
তোর টানে মা শংকর শিব আসবে নেবে গভির রাতে,
মাগো আনন্দেরই হাট বসাবো নিরানন্দ পৃথিবীতে।
দেখব বলে মা তোর লীলা পরে আছি পাষাণ শিলা,
ওমা কৈলাসে তুই নাচবি এবার বৃন্দাবনের নুপুর পড়ে।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29250980 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29250980 2010-10-07 18:09:39
আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস
আজ গান্ধী জয়ন্তী।


"God is truth. The way to truth lies through ahimsa (non-violence)"- Sabarmati 13 March 1927


মহাত্মা গান্ধীজি আজকের দিনে ১৮৬৯সালে বম্বেতে জন্মগ্রহণ করেন।

ভারতের এই জাতির জনক ছিলেন সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা।


দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকাকালিন তিনি নিপীড়িত ভারতীয়দের অধিকার আদায়ে অহিংস আন্দোলন শুরু করেন।


ড্যাণ্ডিতে লবণ মার্চের শেষে ৫ এপ্রিল ১৯৩০ তারিখে


পরে ভারতে ফিরে যা ভারত স্বাধিনের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে ওঠে।


বাংলাদেশের নোয়াখালিতে, ১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারী


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে মহাত্মা


কুষ্ঠরোগীর সেবায়, ১৯৪০সালে


২০০৭ সালের ১৫ জুন জাতিসংঘ ২রা অক্টোবর দিনটি অহিংসা দিবস হিসেবে বেছে নেয়।


"I want world sympathy in this battle of right against might" - Dandi 5th Apr 1930


আজকের হানাহানির যুগে আবার তাঁকে স্মরণ করে তার দেখান পথ সকলকে অনুসরণের আহ্বান জানাই।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29248572 http://www.somewhereinblog.net/blog/dipanwita2000/29248572 2010-10-02 17:59:31