আমাদের সংবাদপত্র গুলো দেশের এবং সমাজের দর্পন হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে যাচ্ছে। প্রতিদিন ই সমাজের, দেশের, বিশ্বের ভালো মন্দ প্রচার করছে। সংবাদ মাধ্যম গুলো ইদানিং সমাজের দর্পন না হয়ে গোস্ঠিগত স্বার্থ রক্ষা করে চলছে। যারা নিজেদের একটু অন্যরকম ভাবেন বা ভাবতে চেষ্টা করেন তারা নিজেদের চিন্তা ভাবনা গুলোকে জোর করে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। এবং নিজে নিজে একটা আত্মতৃপ্তি নেন। বিভিন্ন ভাবে নীতিকথা গুলো আওড়িয়ে নিজেকে জাহির করায় লিপ্ত থাকে। নিজেই নিজে দেশের সমাজের দায় নিয়ে শুদ্ধ করার সংগ্রামে নিয়োজিত থাকেন।
আমাদের সংবাদ মাধ্যম এখন জন্ম নেয় ব্যবসায়ীদের গহবর থেকে যারা কিনা দেশও জনগনের সম্পদ লুন্ঠনে নিজেকে নিয়োজিত করেন মহীরুহে পরিনত করেন। টাকার জোরে রাষ্ট্র সমেত কিনে নেয়ার অবিরল চেষ্টায় রত। ব্যবসায়ীদের এই পত্রিকা ব্যবহার করে থাকেন নিজেদের সম্পদ রক্ষায়। কেউ বা কোন ব্যক্তি যদি তার ব্যবসা নিয়ে কোন প্রকার প্রশ্ন তোলে বা স্বার্থে আঘাত করে তাহলে পরের দিন থেকেই শুরু করেন ধারাবাহিক দুনিয়ার আজগুবি রিপোর্টিং করে ঐ ব্যক্তিকে নাস্তানাবুদ করে তবেই ক্ষান্ত দেন সাথে।
এই সংবাদ মাধ্যম গুলো নিজেদের ব্যবসা স্বার্থকে কখোনোই হুমকিতে রাখেন না। বিগ্গাপন দাতা কোম্পানি গুলোর বিরুদ্ধে তাদের কোন রিপোর্টিং নেই। আছে ঐসব কোম্পানীর অপকর্ম ধামাচাপা দেয়ার চেস্টা। কোনদিন ই জানা যায় না ফোন কোম্পানী গুলোর কুকর্মের কথা। জানা যায়না ১ দিনের নোটিশে/বিনা নোটিশে চাকুরি থেকে বিদায় দেয়ার কথা। জানা যায়না ট্যাক্স ফাকি দেয়ার কথা, এটা জানা যায় ধরা খাওয়ার পর দায়সারা ভাবে। তাদের অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার কথা জানতে পারি পুলিশ রেইড দেয়ার পরে। বিশাল ভুমি দস্যুদের বিরুদ্ধে স্পেসিফিক কোন রিপোর্টিং নেই।
সাংবাদিক গন তাদের আইডি এখন ব্যবহার করেন হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজি করার। পুলিশ থেকে তারা চাঁদা নেন বলেও অভিযোগ থাকে। অন্যায় ভাবে প্রভাব বিস্তার করেন তারা। অধিক ক্ষমতাধর মনে করে ধরাকে সরা ভাবেন। বাসা/অফিসে ল্যাপটপে বসে ইদানিং তারা অনুসন্ধানি রিপোর্ট বানান। জনমতের চাপে ক্ষমাও চান, কিন্তু সেটা তারা পত্রিকায়/টিভিতে উল্লেখ করেন না।
পত্রিকায় কাটতি বাড়ানোর জন্য সবসময় নেগেটিভ নিউজের দিকে জোর দেন এবং তিলকে তাল করেন। তালকেও তিল করতে সিদ্ধ হস্ত।
সাংবাদিক/সম্পাদক গন ইদানিং গনহারে নিজেদের মানবতার সোল এজেন্ট মেনে নিয়েছেন। টিভি মিডিয়ার কল্যানে এটা ভুমিকম্পের মত রূপ নিয়েছে। টিভি খুললেই দেখি তারা সকলকে সবক দেন। নিজেদের জন্য কোন সবক নেই। দেশ ও দশের কল্যানে নিত্য সংগ্রাম করেন। গার্মেন্টস খাতে শ্রমিকের নুন্যমজুরী, শিশু শ্রমিক, অমানবিক পরিবেশ এসব দিয়ে সেক্টরকে ও সরকারকে নিত্য গালি গালাজে ব্যস্ত থাকেন।কোথায় কার মানবাধিকার লংগন হলো তানিয়ে অতি উৎফুল্লতার সহিত বয়ান দেন।
কথায় বলে প্রদীপের নীচে অন্ধকার। সংবাদ মাধ্যমে নুন্যতম মজুরী কত? কতজন শিশু শ্রমিক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে এই শিল্পের সাথে জড়িত? মাসে বেতন কত তারিখে প্রদান করা হয়? তাদের বেতন ভাতা কত মাস ধরে প্রদান বাকি থাকে? সংবাদ মাধ্যমের কর্ম পরিবেশ কিভাবে রক্ষা করা হয়? ওখানে ইভাকুয়েশন কেমন। এনটিভি ভবনে আগুন লাগলে কতৃপক্ষের কোন গাফিলতি খোজা হয়না, সবাই সমবেদনা জানাতে যাই। ইত্তেফাক ভবনের কর্মচারিদের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম আমাদের জানা হয়না।যায়যায়দিনের মালিক চুরি করে পালিয়ে যায়। জানা যায়না হঠাৎ বরখাস্ত কৃত কোন পরিবারে দিন কেমন করে যায়। পত্রিকা বিক্রি করতে করতে কোন শিশু গাড়িচাপা পড়ে মারা গেলে তার কোন সংবাদ দেখিনি কখনো, কোন দায়ের কথা জানা যায়না কখনো।
এখনো ছাপা হয় আমাদের সংবাদপত্রে ১০০টাকায় মোটা চিকন হবার বিগ্গাপন। যৌন শক্তি বৃদ্ধির বিগ্গাপন। যাদু, টোনা, সর্পরাজ ভুয়া চাকুরীর বিগ্যাপন। আরো পাওয়া যায় ৩০ফুট পানির নীচে থাকে কোন ভুমি দস্যুর প্লট/ফ্ল্যাট বিক্রির চটক দার অ্যাড। ৭দিনে রং ফর্সা কারিক্রীম, ১৪ দিনে লম্বা হয়ে শিশুর আকাশ ছোয়ার চটকদার ভুয়া বিগ্যাপনে ভরপুর। সংবাদ মাধ্যমের কোন দায় নেই এখানে কারন ব্যবসায়ি লাভ লসের ব্যপার।
সম্পাদক সাংবাদিক, মিডিয়ার কর্মকর্তার কাজের মেয়েটির বয়স , কর্ম ঘন্টা, কাজের ধরন পরিবেশ, কর্মপদ্ধতি, কাজের মাহিনা কি জানা যায়না কখনো, তাদের মাথা ব্যথা নেই এসবে। কারন স্বাভাবিক তাদের বেলায়।
আর আমরা আম-জনতা, আমাদের যাবার জায়গা কোথায়? কোথাও নেই।
মুখোশধারীদের নীতি কথা শুনে চমৎকৃত হই, পুলকিত হই। আমরা চেয়ে থাকি তাদের দিকে কাল কি বয়ান দিবেন।
যারা এর ব্যতিক্রম, তাদের নিকট ক্ষমা প্রার্থী।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



