
পুর্নিমা রানী শীল, একজন কিশোরী। ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া। হিন্দু অধ্যুসিত এলাকা। ২০০১ সালের নির্বাচন সম্পন্ন। সকলের চোখ কপালে তুলে নির্বাচনে বিপুল বিজয়ী চারদলীয় নির্বাচনী জোট(বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী ঐক্যজোট, আর জাতীয় পার্টি)। আর এ বিজয়ে দেশব্যাপী নেমে আসলো এক অমানিশার ঘোর অন্ধকার। হিংস্রতা ভর করলো বিজয়ী গোষ্ঠীর উপর। নেমে পড়লো প্রতিশোধ নিতে। খুঁজে খুঁজে বের করা হচ্ছে হিন্দু ,বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান দের যারা তাদের কথা না মেনে নৌকায় ভোট দিতে গিয়েছে। হানা দেয়া হচ্ছে আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের বাড়ি। নিহত / আহত করা হচ্ছে একে একে। জ্বালিয়ে দেয়া হলো ঘর বাড়ি, ফসলের মাঠ। বিষ ঢেলে দেয়া হয় মাছের খামার। লুট করা হল অর্থ সম্পদ, গবাদি পশু পাখি। তার চেয়েও বেশী যন্ত্রনার ছিলো বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিশোরী, যুবতী, কিংবা মায়ের বয়সী নারিদের উপর নির্মম পৈশাচিক নির্যাতন। ধরে ধরে পরিবারের মায়ের সামনে, পিতার সামনে কিংবা স্বামীর সামনে ধর্ষন। উঠে আসে সেই চিত্র যা এদেশ আরো একবার দেখেছিলো ১৯৭১সালে।
এমনি এক কালোরাতে হায়েনার দল উপস্থিত সদ্য কৈশোরে পা পড়া পুর্নিমা রানী শীলের বাড়ি। যার বাবা, মা নৌকায় ভোট দিয়েছিলো বলে কথিত। এটা ছিলো হায়েনাদের চোখে অপরাধ। ১০/১২জনের জামাত বিএনপির দল পুর্নিমার বাড়িতে আসলে তাদের উদ্দেশ্য আর গোপন থাকে না। পুর্নিমার অসহায় বাবা মা বাধা দিবে এমন শক্তি কোথায়। পুর্নিমার মা হায়েনার দল দেখে ছোট মেয়েটার জীবন নিয়ে শংকিত। একদল কুকুরের হিংস্র মুর্তি দেখে পুর্নিমার মা কুকুর গুলোকে অনুরোধ করেছিলো বাবা সম্বোধন করে।
বারা, আমার মেয়েটা ছোট তোমরা একজন একজন করে এসো, মরে যাবে।
পুর্নিমা অবশ্য মরেনাই, মরে গেলেই মনে হয় ভালো হতো। তাহলেই সমস্ত ল্যাঠা চুকে যেত।
একজন ওয়াহিদুল হককে বিনম্র শ্রদ্ধা যিনি পুর্নিমাকে নিজের মেয়ে হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে নিজের বাসায় ঠিকানা করে দিয়েছিলেন।
সুদীর্ঘ ১১ বছর পর আজ এই পৈশাচিক ধর্ষন মামলার বিচারের রায় আসলো। গণধর্ষণের দায়ে ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে।
অনেকে যারা সবকিছু থেকে সব সময় নিজেকেই বাঁচিয়ে রাখে তারা এসব ভুলে যেতে পারে কিন্তু আমরা, পুর্নিমারা এসব ভুলে যাবে কেমন করে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


