আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং ইসলামিক স্টাডিজের বিশ্বখ্যাত অধ্যাপক জন এসপোজিতোর সম্পাদনায় প্রায় ২০০ পৃষ্ঠার একটি বই প্রকাশ করেছে আমেরিকার জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির ‘‘দ্য প্রিন্স আলওয়ালিদ বিন তালাল সেন্টার ফর মুসলিম-ক্রিশ্চিয়ান আন্ডারস্ট্যান্ডিং’’। এই বইতে বিশ্বের ৫০০ জন সর্বাধিক প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্বের নামের তালিকায় সর্বশীর্ষে রয়েছেন সৌদি আরবের বাদশা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আল সউদ।
তালিকায় শীর্ষ ৫০ এর মধ্যে ৪৩তম স্থানে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী। এছাড়া সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৫০০ জনের তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন ক্যাটাগরিতে রয়েছেন নোবেল বিজয়ী গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দক্ষ প্রশাসক ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের মধ্যে রয়েছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মদ ফজলুর রহমান।
মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী সম্পর্কে বলা হয়, তিনি বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল এবং বৃহত্তম ইসলামী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর। তিনি বাংলাদেশে সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কার এবং ইসলামী শিক্ষা বিস্তার, ইসলাম প্রচারে অবদান রেখেছেন। জামায়াতের অভ্যন্তরে ও বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক চর্চায় অবদান রাখায় মাওলানা নিজামীর প্রশংসা করা হয়। মাওলানা নিজামীকে বাংলাদেশের ১৪ কোটি মানুষের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পথপ্রদর্শক হিসেবেআখ্যায়িতকরাহয়।
আরো বলা হয়েছে, সক্রিয় রাজনীতিবিদ মাওলানা নিজামী জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরে এবং বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায় গণতন্ত্রের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক। জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে ইসলামী আদর্শই রাজনীতির পথপ্রদর্শক হওয়া উচিত এবং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রাখতে সরকারকে ইসলামী আদর্শ অনুসরণ করা উচিত।
নতুন সরকার কর্তৃক ধর্মীয় শিক্ষা বাদ দেয়ার অপচেষ্টা এবং দেশের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের প্রতিবাদ করে যাচ্ছেন মাওলানা নিজামী। জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের আলোকে বাংলাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পরিবেশ রক্ষা আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণের জন্য আশু পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মাওলানা নিজামী সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশের মহিলা প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্টের কন্যা।
গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে বলা হয়েছে, মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ক্ষুদ্র ঋণের ধারণার উদ্ভাবক। দারিদ্র্য বিমোচনে এবং সামাজিক উন্নয়নে ঋণ দিয়ে তিনি অবদান রেখেছেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক মহাপরিচালক ফজলুর রহমান সম্পর্কে বলা হয়, ধর্মমন্ত্রণালয়ের অধীনে ইসলামিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন গবেষণা, প্রকাশনা এবং বিভিন্ন স্কলারশীপ প্রদানে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। প্রতিষ্ঠানটি ৬টি ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ২৯টি দাওয়া কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে।
‘‘সেন্টার ফর মুসলিম-ক্রিশ্চিয়ান আন্ডারস্টান্ডিং’’ রাজনীতিবিদ, পন্ডিত, ইসলাম প্রচারক, জনসেবা, উন্নয়ন ও সংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয়ে ৫০০ প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্বকে বাছাই করেছে। এই তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছেন সৌদি বাদশাহ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ আল সউদ, দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তৃতীয় স্থানে রয়েছেন মরক্কোর বাদশা ৬ষ্ঠ মোহাম্মদ, চতুর্থ স্থানে রয়েছেন জর্দানের বাদশা আবদুল্লাহ বিন আল হোসাইনী, পঞ্চম স্থানে রয়েছেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রেসিপ তায়্যিপ এরদোগান, ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন ওমানের সুলতান কাববুস বিন সাঈদ আল সাঈদ, সপ্তম স্থানে রয়েছেন ইরাকের নাজাফের শিয়া সর্বোচ্চ নেতা সায়্যিদ আলি হুসেইন সিসতানি, অষ্টম স্থানে রয়েছেন মিশরের আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যান্ড শেখ ড. মোহাম্মদ সাইয়্যেদ তানটাওয়াই, নবম স্থানে রয়েছেন ড. ইউসুফ আল কারযাভী, দশম স্থানে রয়েছেন মিশরের গ্র্যান্ড মুফতি ড. আলী গোমা, ১১তম স্থানে সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ আলে আল শাইখ।
লিংক..

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



